কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) পুকুর দখল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার ঘটেছে। এসময় একপক্ষের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভাড়রা ও যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের একাংশের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্দিয়ারা-লাহিনীপাড়া সড়কের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির পুকুর রয়েছে পাউবোর। যা স্থানীয় নামমাত্র খাজনা দিয়ে ‘সুফলভোগী ’ সংগঠনের নামে ভোগ করার কথা।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় এমপি ডিও লেটারের মাধ্যমে চাপড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম রাশেদ টোটো তার সমর্থিতদের মাধ্যমে ভোগ করতেন। তিনি প্রতিবছরে সরকারে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতেন। আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তা দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গেল বছর আওয়ামী লীগ নেতা টোটো ৭ লাখ টাকায় যদুবয়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেত্রী সাজেদা খাতুনের কাছে পুকুরটি হস্তান্তর করেন।
এ নিয়ে ভাড়রা ও উত্তর চাঁদপুর এই দুই গ্রামবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে যদুবয়রা ইউএনপির সার্চ কমিটির সাবেক সদস্য ফারুক হোসেন, বিএনপির কর্মী আসাদ, মতিয়ারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে ওই পুকুর এলাকায় যান।
এসময় ভাড়রা গ্রামবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মী মসজিদের মাইকে ‘সন্ত্রাসীরা পুকুরে মাছ মেরে নিচ্ছে, সবাই আসুন’ এমন ঘোষণা দেন। তখন কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁঠা, দা, বটি, হাঁসুয়া নিয়ে ধাওয়া করলে প্রতিপক্ষরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়ক ঘেঁষে বড় পুকুর। পাড়ে পড়ে আছে একটি মোটরসাইকেল। তাতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকশ মানুষ ছোটাছুটি করছেন। এসময় ভাড়রার লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার চিত্র ধারণে বাধা দেন ও ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি পুকুর নিয়ে অনেকদিন ধরে ঝামেলা চলছে। উত্তর চাঁদপুরের কিছু লোক এসেছিল। তখন ভাড়রার লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করেন। তখন পালিয়ে গেলে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
কিছুক্ষণ পরে ফের সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভাড়রা ও চাঁদপুর বাজারে দুই গ্রামের লোকজন জড়ো হয়েছে। এসময় চাপড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পুকুর ভোগ করবে ভাড়রাবাসী। ৩৩ জনের কমিটি করে বছর খানেক আগে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ দেওয়া হয়েছে পুকুরে।
কিন্তু উত্তর চাঁদপুর গ্রামের ফারুক, আসাদ, মতিয়ারসহ সন্ত্রাসী বাহিনী জোর করে মাছ ধরতে নেমেছিল। আমরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী ছুটে আসেন। আর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু ভাঙচুরের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।
তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। ফোনে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম রাসেদ টোটো জানান, ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তার।
প্রতিবছরই প্রায় ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি। পুকুরে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর নানান ঝামেলা হচ্ছিল। সেজন্য ইউপি সদস্য সাজেদার কাছে তিনি ৭ লাখ টাকায় হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু ওই ইউপি সদস্য তাকে কোনো টাকা দেননি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, পুকুর নিয়ে দুইপক্ষের দ্বন্দ্বে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। তবে তার মালিক পাওয়া যায়নি এখনও। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে অবৈধভাবে ইউরিয়া সার মজুদের দায়ে মনিরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক সার ডিলারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মনিরুল ইসলামের বাড়ি থেকে ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অবৈধভাবে সার মজুদের খবর পেয়ে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, মনিরুল ইসলাম তার গুদাম থেকে বাড়িতে নিয়ে সার মজুদ করছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সার ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরিদ হোসাইন ও কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদক সেবনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. নাজমুল ঠাকুরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রাতুল নাহিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাজমুল ঠাকুরের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দলের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দারের পরামর্শে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবিরের নির্দেশক্রমে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এনসিপির কিশোরগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক শেখ খায়রুল কবির বলেন, নাজমুল ঠাকুরের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি দলের নজরে আসে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে নাজমুল ঠাকুরের ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি ভিডিওটিকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে বলেছেন, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি তিনি নন। বিষয়টি যাচাই করতে ভিডিওটি বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০২
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক ও আট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃতদের তালিকা প্রকাশ করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।
এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, হাফিজুর রহমান, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহবুবার রহমান ওরফে বাবু, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া, এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন এবং প্রক্টর দপ্তরের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৯ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
তার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তী সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৫৪
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) পুকুর দখল নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার ঘটেছে। এসময় একপক্ষের একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় ভাড়রা ও যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের একাংশের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলার এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব দেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্দিয়ারা-লাহিনীপাড়া সড়কের ভাড়রা বাজার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১২ বিঘা জমির পুকুর রয়েছে পাউবোর। যা স্থানীয় নামমাত্র খাজনা দিয়ে ‘সুফলভোগী ’ সংগঠনের নামে ভোগ করার কথা।
কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় এমপি ডিও লেটারের মাধ্যমে চাপড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম রাশেদ টোটো তার সমর্থিতদের মাধ্যমে ভোগ করতেন। তিনি প্রতিবছরে সরকারে ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করতেন। আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তা দখল করে নেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গেল বছর আওয়ামী লীগ নেতা টোটো ৭ লাখ টাকায় যদুবয়রা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও বিএনপি নেত্রী সাজেদা খাতুনের কাছে পুকুরটি হস্তান্তর করেন।
এ নিয়ে ভাড়রা ও উত্তর চাঁদপুর এই দুই গ্রামবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার দুপুরে যদুবয়রা ইউএনপির সার্চ কমিটির সাবেক সদস্য ফারুক হোসেন, বিএনপির কর্মী আসাদ, মতিয়ারসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে ওই পুকুর এলাকায় যান।
এসময় ভাড়রা গ্রামবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মী মসজিদের মাইকে ‘সন্ত্রাসীরা পুকুরে মাছ মেরে নিচ্ছে, সবাই আসুন’ এমন ঘোষণা দেন। তখন কয়েকশ মানুষ দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁঠা, দা, বটি, হাঁসুয়া নিয়ে ধাওয়া করলে প্রতিপক্ষরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাকা সড়ক ঘেঁষে বড় পুকুর। পাড়ে পড়ে আছে একটি মোটরসাইকেল। তাতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়েছে। দেশীয় অস্ত্র হাতে কয়েকশ মানুষ ছোটাছুটি করছেন। এসময় ভাড়রার লোকজন গণমাধ্যমকর্মীদের ঘটনার চিত্র ধারণে বাধা দেন ও ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি পুকুর নিয়ে অনেকদিন ধরে ঝামেলা চলছে। উত্তর চাঁদপুরের কিছু লোক এসেছিল। তখন ভাড়রার লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে হামলা করেন। তখন পালিয়ে গেলে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
কিছুক্ষণ পরে ফের সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভাড়রা ও চাঁদপুর বাজারে দুই গ্রামের লোকজন জড়ো হয়েছে। এসময় চাপড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পুকুর ভোগ করবে ভাড়রাবাসী। ৩৩ জনের কমিটি করে বছর খানেক আগে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ দেওয়া হয়েছে পুকুরে।
কিন্তু উত্তর চাঁদপুর গ্রামের ফারুক, আসাদ, মতিয়ারসহ সন্ত্রাসী বাহিনী জোর করে মাছ ধরতে নেমেছিল। আমরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিলে গ্রামবাসী ছুটে আসেন। আর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। কিন্তু ভাঙচুরের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি তিনি।
তবে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা। ফোনে আওয়ামী লীগ নেতা এস এম রাসেদ টোটো জানান, ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে তার।
প্রতিবছরই প্রায় ৪০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন তিনি। পুকুরে তার প্রায় ১৫ লাখ টাকার মাছ ছিল। কিন্তু সরকার পতনের পর নানান ঝামেলা হচ্ছিল। সেজন্য ইউপি সদস্য সাজেদার কাছে তিনি ৭ লাখ টাকায় হস্তান্তর করেছিলেন। কিন্তু ওই ইউপি সদস্য তাকে কোনো টাকা দেননি।
কুমারখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, পুকুর নিয়ে দুইপক্ষের দ্বন্দ্বে একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়েছে। তবে তার মালিক পাওয়া যায়নি এখনও। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:০১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০২:৩১
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ০১:৫২