বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও রাজি হয়েছি। তারা এখন গণভোট আগে চায়। তাহের সাহেব বলেছেন, আমরা নির্বাচনে বাধা দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত যত বাঁধা এসেছে, সব আপনারা দিয়েছেন। জনগণকে বোকা বানাবেন না।’
শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটা শক্তি বাংলাদেশের যারা ১৯৭১ সালে বিরোধিতা করেছিল, তারা ১৯৭১ কে এখন নিচে নামিয়ে দিতে চায়। তারা শুধুমাত্র ২৪-এর জুলাইয়ের যে আন্দোলন তাকে বড় করে দেখাতে চায়। একদিন নয়, আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করার জন্যে হাসিনাকে উৎখাত করার জন্যে আমরা কিন্তু ১৫ বছর সংগ্রাম করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা সংগ্রাম করেছেন। আজকে যদি কেউ দাবি করেন, এককভাবে তারা নেতৃত্ব দিয়েছে— আমরা সেটা মানতে রাজি নই।
তিনি বলেন, আমাদের ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমাদের পার্টির প্রধান ও দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। মিথ্যা মামলায় সাজা হয়েছিল ১০ বছর। বিএনপির এমন একজন ব্যক্তি নাই— হাফিজ ভাইসহ এখানে যারা আছেন, তাদের নামে শত শত মামলা ছিল। আমাদের ইলিয়াস ভাইসহ ১ হাজার ৭শ মানুষকে গুম করে দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার মানুষকে খুন করে একটা ফ্যাসিবাদী দানবীয় রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমরা সেটার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা বিভক্তি আনতে চাই না, কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কিছু কিছু শক্তি বিভক্তি আনতে চায়। ১৯৭১ সালকে যারা ভুলিয়ে দিতে চায়, তাদের লক্ষ্য একটাই— তারা ১৯৭১ কে অস্বীকার করতে চায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের হত্যা করছিল, তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে আপনারা এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছিলেন। আমাদের বহু জ্ঞানী-ব্যক্তিকে সেদিন হত্যা করে বদ্ধভূমিতে নিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন— আমরা এগুলো ভুলিনি। ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পরে ৭ নভেম্বরের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংস্কার শুরু করেছিলেন। প্রথমে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার, একদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিলেন। শেখ মুজিবের সেই ভয়াবহ পাঁচ বছর দুঃশাসনের পরে জিয়াউর রহমানই আমাদের নতুন একটা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট ফ্রম গভর্মেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফ্রর্ম গভর্মেন্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নতুন নির্বাচন করে তিনি সেদিন তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিধান চালু করেছিলেন। যার অধীনে প্রায় চারটা নির্বাচন হয়েছে। অত্যন্ত সুন্দরভাবে সবাই গ্রহণ করেছিল। এই শেখ হাসিনা সেটাকে বাতিল করে মানুষের যে ভোট প্রয়োগের অধিকার সেটাকে খর্ব করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল, প্রথম থেকে আমরা নির্বাচনের কথা বলছি। গণঅভ্যুত্থানের পর চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সভা করে আমরা বলেছিলাম তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন চাই। কেন বলেছিলাম? নির্বাচনের মাধ্যমে একটা পার্লামেন্ট গঠিত হলে আজকে যে অপশক্তিগুলো মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সে অপশক্তিগুলো দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ পেত না। আপনারা যেভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, জনগণকে বোকা বানিয়ে এই সংস্কার করতে চান সেটা অবশ্যই আমাদের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই যে সনদ আমরা পাস করেছি, আমাদের মনে আছে— পার্লামেন্টের সামনে বৃষ্টি হচ্ছিল। ছাতা ধরে পাস করেছি, সই করেছি। ওইখানে আমরা যে বিষয়গুলো সই করেছি, সেখানে বলা হয়েছিল যে, সব রাজনৈতিক দল যেগুলোতে একমত সেগুলো সব সই হয়ে গেল। এমনকি যে সমস্ত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে না, সেটাকে নোট অব ডিসেন্ট লিপিবদ্ধ করা হবে। আর এখন উনারা যেটা প্রস্তাব উত্থাপন করলেন প্রধান উপদেষ্টার কাছে, সেখানে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কথাই নাই। তারপরও দেখেন, একটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা একটা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছি। আমরা রাস্তায় যাইনি। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো প্রতিবাদ করিনি, প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি ঘেরাও করিনি বা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করিনি। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা যেটা সই করেছি সেটার দায় দায়িত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করব। কিন্তু যেটা আমরা সই করিনি সেটার দায় দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করব না।
পিআর হবে কিনা, সেটা আগামী পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যেটা ঘোষণা করেছেন (প্রধান উপদেষ্টা) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, তখনই নির্বাচন হতে হবে। পিআর হবে কি হবে না, ওটা আগামী পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। গণভটের কথা বলেছে, আমরা রাজি হয়েছি। গণভটের কোনো প্রয়োজন ছিল না, তারপর আমরা রাজি হয়েছি। আমরা বলেছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে। আলাদাভাবে গণভোট করতে হলে প্রায় হাজার কোটি টাকার উপরে খরচ হবে। নির্বাচনে দুটো ব্যালট থাকবে। একটি ব্যালটে গণভোটের কথা থাকবে। আরেকটি সংসদ নির্বাচন হবে। এটা একটা সুন্দর কথা। এটা না করে এখন আবার তারা বলছে গণভোট আগে হতে হবে। তারপরে নির্বাচন হবে। এটা আপনারাই বলছেন। আমরা নির্বাচনের পেছানোর কথা একবারও বলিনি। আমরা বারবার বলছি, নির্বাচনটা অতি দ্রুত করতে হবে। মানুষকে মিথ্যা কথা বলে প্রতারণা করবেন না।
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারতে বসে বিভিন্ন মিডিয়াকে শেখ হাসিনা ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করতে চাই। কারণ তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:০৭
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইশরাকের দাবি, তাঁকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। এর পরপরই তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, এসব আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকে এসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা-৬ এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।’
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যে তাঁর এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ইশরাকের দাবি, তাঁকে টার্গেট করে হেয় করা হয়েছে। দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না বলেই তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাতে সম্মতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আজকের দিন থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি। পুরো সময়টা ঢাকা-৬ আসন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার জন্য যেন কাউকে বিব্রত হতে না হয়।’
সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নামার ঘটনায় আলোচনায় আসেন ইশরাক হোসেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও আলোচিত হয়। এর পরপরই তাঁর মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সামনে আসে।
এর আগে রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দেন।
গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইশরাক বলেন, গত দুই-তিন দিন ধরে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে কিছু সত্যের পাশাপাশি অতিরঞ্জিত তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কল্পকাহিনি তৈরি করা হয়েছে এবং তাঁকে হেয় করার চেষ্টা হয়েছে।
ইশরাকের অভিযোগ, এসব আলোচনায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন এবং এতে দলও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ঢাকা-৬ আসন ও আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিত্বের বাইরে থেকে এসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে চান তিনি।
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণার মধ্য দিয়ে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এখন তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ঢাকা-৬ এলাকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।’

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৭
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। আইনগত কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ঘটনার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে পদত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন।
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান। সেখানে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক হোসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্য নিয়ে আপত্তি না থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, ইশরাকের অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে। আইনগত কোনো ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে।
ঘটনার পরদিনই প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। তবে পদত্যাগের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস, কালবেলা, প্রথম আলো ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৪৫
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'
বরিশাল জেলা ও মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদকসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, শারদীয় দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা জোরদার, নদীভাঙন প্রতিরোধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠাসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ১০ দফা দাবিতে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের হাতে রোববার ওই স্মারকলিপি তুলে দেন এবি পার্টির জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ। এসময় এবি পার্টির ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের জেলা ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ওই স্মারকলিপিতে বরিশালের জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, মাদক ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, নদীভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর তদারকির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ এবং কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগরের সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিব হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব রাকিব সিকদার, শাকিল হাওলাদার, সদস্য জসিম উদ্দিন, বাহারুল গাজী, নারী নেত্রী নাজমুন নাহার বেবী ছাড়াও বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের বরিশাল জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জি.এম রাব্বী বলেন, 'জনগণের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ, জবাবদিহিতা ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বরিশাল জেলা ও মহানগরের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনস্বার্থ রক্ষায় এবি পার্টি সর্বদা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।'

০১ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫৪
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের কোনো সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রয়োজন ছিল না। তারপরও রাজি হয়েছি। তারা এখন গণভোট আগে চায়। তাহের সাহেব বলেছেন, আমরা নির্বাচনে বাধা দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত যত বাঁধা এসেছে, সব আপনারা দিয়েছেন। জনগণকে বোকা বানাবেন না।’
শনিবার (১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযোদ্ধা দলের এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটা শক্তি বাংলাদেশের যারা ১৯৭১ সালে বিরোধিতা করেছিল, তারা ১৯৭১ কে এখন নিচে নামিয়ে দিতে চায়। তারা শুধুমাত্র ২৪-এর জুলাইয়ের যে আন্দোলন তাকে বড় করে দেখাতে চায়। একদিন নয়, আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পরাজিত করার জন্যে হাসিনাকে উৎখাত করার জন্যে আমরা কিন্তু ১৫ বছর সংগ্রাম করেছি। মুক্তিযোদ্ধারা সংগ্রাম করেছেন। আজকে যদি কেউ দাবি করেন, এককভাবে তারা নেতৃত্ব দিয়েছে— আমরা সেটা মানতে রাজি নই।
তিনি বলেন, আমাদের ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। আমাদের পার্টির প্রধান ও দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। মিথ্যা মামলায় সাজা হয়েছিল ১০ বছর। বিএনপির এমন একজন ব্যক্তি নাই— হাফিজ ভাইসহ এখানে যারা আছেন, তাদের নামে শত শত মামলা ছিল। আমাদের ইলিয়াস ভাইসহ ১ হাজার ৭শ মানুষকে গুম করে দেওয়া হয়েছে। ২ হাজার মানুষকে খুন করে একটা ফ্যাসিবাদী দানবীয় রাষ্ট্র কায়েম করা হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমরা সেটার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আমরা বিভক্তি আনতে চাই না, কিন্তু অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কিছু কিছু শক্তি বিভক্তি আনতে চায়। ১৯৭১ সালকে যারা ভুলিয়ে দিতে চায়, তাদের লক্ষ্য একটাই— তারা ১৯৭১ কে অস্বীকার করতে চায়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমাদের হত্যা করছিল, তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে আপনারা এই দেশের মানুষকে হত্যা করেছিলেন। আমাদের বহু জ্ঞানী-ব্যক্তিকে সেদিন হত্যা করে বদ্ধভূমিতে নিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন— আমরা এগুলো ভুলিনি। ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পরে ৭ নভেম্বরের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংস্কার শুরু করেছিলেন। প্রথমে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার, একদলের শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় শাসন ব্যবস্থা করেছিলেন। শেখ মুজিবের সেই ভয়াবহ পাঁচ বছর দুঃশাসনের পরে জিয়াউর রহমানই আমাদের নতুন একটা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেন্ট ফ্রম গভর্মেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফ্রর্ম গভর্মেন্ট নিয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নতুন নির্বাচন করে তিনি সেদিন তত্ত্ববধায়ক সরকারের বিধান চালু করেছিলেন। যার অধীনে প্রায় চারটা নির্বাচন হয়েছে। অত্যন্ত সুন্দরভাবে সবাই গ্রহণ করেছিল। এই শেখ হাসিনা সেটাকে বাতিল করে মানুষের যে ভোট প্রয়োগের অধিকার সেটাকে খর্ব করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল, প্রথম থেকে আমরা নির্বাচনের কথা বলছি। গণঅভ্যুত্থানের পর চার-পাঁচ দিনের মধ্যে সভা করে আমরা বলেছিলাম তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন চাই। কেন বলেছিলাম? নির্বাচনের মাধ্যমে একটা পার্লামেন্ট গঠিত হলে আজকে যে অপশক্তিগুলো মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সে অপশক্তিগুলো দাঁড়ানোর কোনো সুযোগ পেত না। আপনারা যেভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করে, জনগণকে বোকা বানিয়ে এই সংস্কার করতে চান সেটা অবশ্যই আমাদের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই যে সনদ আমরা পাস করেছি, আমাদের মনে আছে— পার্লামেন্টের সামনে বৃষ্টি হচ্ছিল। ছাতা ধরে পাস করেছি, সই করেছি। ওইখানে আমরা যে বিষয়গুলো সই করেছি, সেখানে বলা হয়েছিল যে, সব রাজনৈতিক দল যেগুলোতে একমত সেগুলো সব সই হয়ে গেল। এমনকি যে সমস্ত বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে না, সেটাকে নোট অব ডিসেন্ট লিপিবদ্ধ করা হবে। আর এখন উনারা যেটা প্রস্তাব উত্থাপন করলেন প্রধান উপদেষ্টার কাছে, সেখানে নোট অব ডিসেন্টের কোনো কথাই নাই। তারপরও দেখেন, একটা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা একটা প্রেস কনফারেন্স করে বলেছি। আমরা রাস্তায় যাইনি। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো প্রতিবাদ করিনি, প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি ঘেরাও করিনি বা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করিনি। আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা যেটা সই করেছি সেটার দায় দায়িত্ব অবশ্যই আমরা গ্রহণ করব। কিন্তু যেটা আমরা সই করিনি সেটার দায় দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করব না।
পিআর হবে কিনা, সেটা আগামী পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, যেটা ঘোষণা করেছেন (প্রধান উপদেষ্টা) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, তখনই নির্বাচন হতে হবে। পিআর হবে কি হবে না, ওটা আগামী পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে। গণভটের কথা বলেছে, আমরা রাজি হয়েছি। গণভটের কোনো প্রয়োজন ছিল না, তারপর আমরা রাজি হয়েছি। আমরা বলেছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট করতে হবে। আলাদাভাবে গণভোট করতে হলে প্রায় হাজার কোটি টাকার উপরে খরচ হবে। নির্বাচনে দুটো ব্যালট থাকবে। একটি ব্যালটে গণভোটের কথা থাকবে। আরেকটি সংসদ নির্বাচন হবে। এটা একটা সুন্দর কথা। এটা না করে এখন আবার তারা বলছে গণভোট আগে হতে হবে। তারপরে নির্বাচন হবে। এটা আপনারাই বলছেন। আমরা নির্বাচনের পেছানোর কথা একবারও বলিনি। আমরা বারবার বলছি, নির্বাচনটা অতি দ্রুত করতে হবে। মানুষকে মিথ্যা কথা বলে প্রতারণা করবেন না।
শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভারতে বসে বিভিন্ন মিডিয়াকে শেখ হাসিনা ইন্টারভিউ দিচ্ছেন। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারকে অনুরোধ করতে চাই। কারণ তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৩১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:০১