দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়েছে। এদিন নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
নির্বাচনে সকাল ১০টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে নিজের ভোট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ইসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। আসন সংখ্যা ২৯৯টি (একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত)। নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৫১টি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে ২ হাজার ২৮ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।
দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জামায়াতের ২২৯ প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ প্রার্থী। আর ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ দেশি পর্যবেক্ষককে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন।
আর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক।
নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি (এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে)। মোট বুথ (ভোটকক্ষ) রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি।
আর নারী বুথ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। এবার সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা অন্যান্য আসনের তুলনায় অনেক বেশি।
সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তাকে চূড়ান্ত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন (প্রতিটি ভোটকক্ষের বা বুথের জন্য ১ জন)। আর পোলিং অফিসার হিসেবে রয়েছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন (প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য ২ জন)।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে। একটিতে রয়েছে সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে রয়েছে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ।
ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
এর বাইরে ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) দায়িত্ব পালন করছেন। নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলায় ও দুটি সিটি করপোরেশনে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ২ হাজার ১০০ জন। আর ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। বিচারিক হাকিমরা দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ বিচারার্থে আমলে নিলে যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার (সামারি ট্রায়াল) নিষ্পত্তি করবেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১ শাখা) বরাবর নির্দিষ্ট ছকে পাঠাবেন।
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১৩
চাঁদা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা চালানোর হুমকি। এমনকি হামলা করতে লোক পাঠাতে হলে খরচ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। চট্টগ্রাম নগরের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ফোন করে এভাবে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, সাব্বির চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করেন সাব্বির। শওকতের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফও প্রবাসী। ফোনে সাব্বির তাঁকে চাঁদার টাকা পরিশোধের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকিও দেন।
ফোনালাপে সাব্বিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’ একই কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। হুমকির পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকেই সাব্বিরকে খুঁজছিল পুলিশ। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে তাঁকে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে চাঁদা চাইতেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, যেসব ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাঁদের সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা থাকত। এরপর সাব্বির ফোন করে টাকা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলি করার হুমকি দিতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সশস্ত্র হামলাও চালানো হতো।
সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেননি।
এদিকে গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় সাব্বিরের অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ৩৭ সেকেন্ডের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে পিস্তল তাক করে গুলি ছুড়ছেন তিনি। পরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়।
চাঁদা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা চালানোর হুমকি। এমনকি হামলা করতে লোক পাঠাতে হলে খরচ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। চট্টগ্রাম নগরের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ফোন করে এভাবে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, সাব্বির চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করেন সাব্বির। শওকতের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফও প্রবাসী। ফোনে সাব্বির তাঁকে চাঁদার টাকা পরিশোধের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকিও দেন।
ফোনালাপে সাব্বিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’ একই কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। হুমকির পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকেই সাব্বিরকে খুঁজছিল পুলিশ। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে তাঁকে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে চাঁদা চাইতেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, যেসব ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাঁদের সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা থাকত। এরপর সাব্বির ফোন করে টাকা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলি করার হুমকি দিতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সশস্ত্র হামলাও চালানো হতো।
সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেননি।
এদিকে গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় সাব্বিরের অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ৩৭ সেকেন্ডের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে পিস্তল তাক করে গুলি ছুড়ছেন তিনি। পরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:১১
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়েছে। এদিন নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
নির্বাচনে সকাল ১০টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে নিজের ভোট দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ইসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। আসন সংখ্যা ২৯৯টি (একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত)। নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৫১টি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
এবারের নির্বাচনে ২ হাজার ২৮ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮১ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি।
দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জামায়াতের ২২৯ প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ প্রার্থী। আর ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ দেশি পর্যবেক্ষককে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৭ জন।
আর বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় ছড়িয়ে থাকা ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন পর্যবেক্ষক স্থানীয়ভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। দেশীয় পর্যবেক্ষকদের পাশাপাশি এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক।
নির্বাচনের মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি (এর মধ্যে স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় কিছু অস্থায়ী কেন্দ্রও রয়েছে)। মোট বুথ (ভোটকক্ষ) রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি।
আর নারী বুথ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। এবার সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গাজীপুর-২ আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা অন্যান্য আসনের তুলনায় অনেক বেশি।
সারা দেশে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তাকে চূড়ান্ত নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন ৪২ হাজার ৭৭৯ জন। সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন (প্রতিটি ভোটকক্ষের বা বুথের জন্য ১ জন)। আর পোলিং অফিসার হিসেবে রয়েছেন ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন (প্রতিটি ভোটকক্ষের জন্য ২ জন)।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হয়েছে। একটিতে রয়েছে সংসদীয় আসনের পছন্দের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে রয়েছে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ।
ইসি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের নির্বাচনী দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য।
এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের তিন হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
এর বাইরে ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) দায়িত্ব পালন করছেন। নৌবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন উপকূলীয় ১৭টি আসনের ২৪টি উপজেলায় ও দুটি সিটি করপোরেশনে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ২ হাজার ১০০ জন। আর ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। বিচারিক হাকিমরা দায়িত্ব পালনকালে কোনো নির্বাচনী অপরাধ বিচারার্থে আমলে নিলে যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার (সামারি ট্রায়াল) নিষ্পত্তি করবেন এবং এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১ শাখা) বরাবর নির্দিষ্ট ছকে পাঠাবেন।
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৫৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৫
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১