প্রতীকী ছবি
সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো থাকা একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পরিচালনা ও কর্মসূচি পালনে বছরে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হলে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৫৩২ থেকে ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। অথচ সদস্যদের চাঁদা থেকে এ ব্যয়ের সামান্য অংশই সংগ্রহ করা সম্ভব। ফলে দলগুলোর অর্থায়নে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের এমন চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী মনোনয়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্য দলগুলোকে ব্যবসায়ী এবং বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। এর ফলে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার ঘাটতি রয়েছে।
সাংগঠনিক ব্যয় হাজার কোটি ছাড়ায়
গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো পরিচালনার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব করেছে টিআইবি। এতে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে ন্যূনতম ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতেই একটি দলের বছরে প্রায় ১৪ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
অন্যদিকে, সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তৃত থাকলে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক শাখা বিস্তৃত হলে এ ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৫৩২ থেকে ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এত বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় মাত্র ১১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় শুধু সদস্যদের চাঁদার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অর্থের অন্যান্য উৎস এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরতা
টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও কার্যক্রম পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করছে। ফলে দলগুলো নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্যের কারণে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থেকে শুরু করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হওয়ায় দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এ ধরনের অর্থায়ন রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত করছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে ঘাটতি
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের আর্থিক নীতিমালা ও কার্যপ্রণালি বিধি নেই। অনেক দলের গঠনতন্ত্রে সদস্যদের পদভেদে চাঁদার হার, অনুদান গ্রহণের শর্ত, মনোনয়ন ফরমের ফি, হিসাব সংরক্ষণ, আর্থিক লেনদেন ও নিরীক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
এ ছাড়া দলগুলো নিয়মিত বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না। দলগুলোর প্রকৃত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনও দল বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থের প্রকৃত উৎস, সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ব্যয়ের খাত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত।
নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রেও ঘাটতি পেয়েছে টিআইবি। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ দল জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় প্রধান নির্বাচন করলেও গোপন ব্যালটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নির্বাচন করে। দলীয় প্রধান পদে একাধিক ব্যক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার চর্চাও খুব সীমিত। মাত্র দুটি দলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি রাজনৈতিক দলে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে একজন ব্যক্তি কতবার বা কত মেয়াদে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করা নেই।
এ ছাড়া তিনটি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এবং একটি দলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। ১৬টি দলের জাতীয় কাউন্সিলও অনিয়মিত। এসব কাউন্সিলে সাধারণত আগে থেকে নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
প্রার্থী মনোনয়নেও অর্থের প্রভাব
নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত স্পষ্ট নয়। ছয়টি দলের গঠনতন্ত্রে জনপ্রিয়তা, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্যের মতো বিষয় উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
গবেষণায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রার্থী মনোনয়নে অর্থ-প্রতিপত্তি ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনটি প্রভাবশালী দলে প্রার্থী বাছাইয়ে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগও পেয়েছে গবেষক দল। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ী প্রার্থী ও ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা হয়েছে।
১২ দফা সুপারিশ
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন; রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক হিসাব যাচাই ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা, নিয়মিত কাউন্সিল আয়োজন, প্রতিটি পর্যায়ের নেতৃত্ব গোপন ভোটে নির্বাচন এবং দলীয় প্রধানসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও প্রার্থী মনোনয়নে নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। এ সংস্কারের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দলগুলোকে নিজেদের মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
গবেষণার আওতায় ৪২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিআইবি। এর মধ্যে ৩৭টি নিবন্ধিত ও পাঁচটি অনিবন্ধিত দল। ৩২টি দল গবেষকদের তথ্য দিয়েছে। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬
ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন তরুণদের জয়জয়কার। সাধারণ একটি স্মার্টফোন আর এক বুক সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বদলে দিচ্ছেন বিনোদন ও তথ্যের সংজ্ঞা, তাদেরই একজন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রায়হান আবির। নিজের অনন্য নির্মাণশৈলী, চিন্তাভাবনা আর পরিশ্রমের জোরে তিনি এবার জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘গেট দ্য চ্যালেঞ্জ’র ফাইনাল রাউন্ডে।
সারাদেশের হাজারো প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পেছনে ফেলে সেরা ২৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া রায়হান আবিরের এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরিশালের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
বরিশালের স্থানীয় আবহাওয়া ও সংস্কৃতিতে বড় হওয়া রায়হান আবির সবসময় একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে ভালোবাসতেন। চারপাশের চেনা গল্পগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার নেশাটা তার বেশ পুরোনো। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় একাডেমি বা দামি গ্যাজেট ছাড়াই কেবল মেধা ও একাগ্রতাকে পুঁজি করে শুরু হয়েছিল তার এই যাত্রা। ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণের কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
দেশের সম্ভাবনাময় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের পেশাদারিত্বের আঙিনায় দক্ষ করে তুলতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজন করে এই রিয়েলিটি শো। কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন জটিল টাস্ক বা ‘চ্যালেঞ্জ’ পার হয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখেন আবির। স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে অনন্য উপস্থাপনা-সবখানেই বিচারকদের মন জয় করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব নিয়ে দারুণ আশাবাদী রায়হান আবির। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে শেখার দারুণ এক সুযোগ। ফাইনাল রাউন্ডে আরও চমকপ্রদ ও সৃজনশীল কনটেন্ট উপহার দিয়ে তিনি কেবল বরিশাল নয়, পুরো দেশের দর্শকদের মন জয় করতে চান।
নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখার প্রত্যাশা করছেন রায়হান আবির।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এখন তরুণদের জয়জয়কার। সাধারণ একটি স্মার্টফোন আর এক বুক সৃজনশীলতা নিয়ে যারা বদলে দিচ্ছেন বিনোদন ও তথ্যের সংজ্ঞা, তাদেরই একজন বরিশালের তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রায়হান আবির। নিজের অনন্য নির্মাণশৈলী, চিন্তাভাবনা আর পরিশ্রমের জোরে তিনি এবার জায়গা করে নিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজিত জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘গেট দ্য চ্যালেঞ্জ’র ফাইনাল রাউন্ডে।
সারাদেশের হাজারো প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের পেছনে ফেলে সেরা ২৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া রায়হান আবিরের এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরিশালের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা।
বরিশালের স্থানীয় আবহাওয়া ও সংস্কৃতিতে বড় হওয়া রায়হান আবির সবসময় একটু ভিন্নভাবে চিন্তা করতে ভালোবাসতেন। চারপাশের চেনা গল্পগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার নেশাটা তার বেশ পুরোনো। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো বড় একাডেমি বা দামি গ্যাজেট ছাড়াই কেবল মেধা ও একাগ্রতাকে পুঁজি করে শুরু হয়েছিল তার এই যাত্রা। ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণের কঠিন প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
দেশের সম্ভাবনাময় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের পেশাদারিত্বের আঙিনায় দক্ষ করে তুলতে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আয়োজন করে এই রিয়েলিটি শো। কয়েক হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে ধাপে ধাপে বিভিন্ন জটিল টাস্ক বা ‘চ্যালেঞ্জ’ পার হয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রাখেন আবির। স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ভিডিও এডিটিং থেকে শুরু করে ক্যামেরার সামনে অনন্য উপস্থাপনা-সবখানেই বিচারকদের মন জয় করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব নিয়ে দারুণ আশাবাদী রায়হান আবির। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি জানান, এটি তার জন্য একটি বড় পরীক্ষা এবং একই সাথে শেখার দারুণ এক সুযোগ। ফাইনাল রাউন্ডে আরও চমকপ্রদ ও সৃজনশীল কনটেন্ট উপহার দিয়ে তিনি কেবল বরিশাল নয়, পুরো দেশের দর্শকদের মন জয় করতে চান।
নিজের মেধা, সৃজনশীলতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে আরও বড় পরিসরে অবদান রাখার প্রত্যাশা করছেন রায়হান আবির।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১
বিয়ের মাত্র ১৭ দিন। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ ঘিরে নানা প্রত্যাশা। এর মধ্যেই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নববধূর। বরিশালের বাকেরগঞ্জে ওই নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর দুলাভাই ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী গ্রামের মো. ইমরান প্যাদা ও রাকিব প্যাদা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে নববধূকে বাজারে নিয়ে যান ইমরান প্যাদা। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে ইমরান ও রাকিব মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনার পর আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৩০ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিয়ের অল্প দিনের মাথায় এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নববধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
বিয়ের মাত্র ১৭ দিন। নতুন সংসার, নতুন স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ ঘিরে নানা প্রত্যাশা। এর মধ্যেই ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নববধূর। বরিশালের বাকেরগঞ্জে ওই নববধূকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁর দুলাভাই ও চাচা শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী গ্রামের মো. ইমরান প্যাদা ও রাকিব প্যাদা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার কথা বলে নববধূকে বাজারে নিয়ে যান ইমরান প্যাদা। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে ইমরান ও রাকিব মিলে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনার পর আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৩ অক্টোবর বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ৩০ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশের অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিয়ের অল্প দিনের মাথায় এমন অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী নববধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৮
পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এ বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ এলেও সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে জাহাজের সংখ্যা কমেছে ৮২টি। বন্দরের নাব্যতা সংকট, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে এর অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ আসে। পরের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩টিতে। তবে এরপর থেকেই জাহাজের আগমন কমতে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৫টি এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ বন্দরে আসে।
প্রতিবেদনে পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাবনাবাদ চ্যানেলের পলিপ্রবণতা, নাব্যতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, পণ্য খালাসে শুল্কায়ন জটিলতা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাবনাবাদ চ্যানেল অত্যন্ত পলিপ্রবণ হওয়ায় এর নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে চ্যানেলটিতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, পণ্য ছাড়করণের কার্যক্রম শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে কাস্টম হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং লাইনগুলো সম্পৃক্ত। বর্তমানে পায়রা বন্দরের ব্যবহারকারীদের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বরিশাল ও খুলনা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে বন্দরসংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকেও বন্দরের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দুই লেনের। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা রুটে ছয়টি স্থানে টোল আদায়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, যা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে সব কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যবধান, বিদ্যমান সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেশের ১৭টি স্থলবন্দরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ টন পণ্য।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টনে। তবে এ সময়ে রপ্তানি কমে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ২২৩ টন পণ্য আমদানি এবং ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, কমিটির সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, মো. নাজমুল হুদা ও আবদুল হান্নান মাসউদ।
পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজের আগমন ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে এ বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ এলেও সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এসেছে মাত্র ২৯টি। অর্থাৎ তিন বছরের ব্যবধানে জাহাজের সংখ্যা কমেছে ৮২টি। বন্দরের নাব্যতা সংকট, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার জটিলতা ও সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকে এর অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রোববার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে পায়রা বন্দরে ১১১টি বিদেশি জাহাজ আসে। পরের অর্থবছর ২০২৩–২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩টিতে। তবে এরপর থেকেই জাহাজের আগমন কমতে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৫টি এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মাত্র ২৯টি বিদেশি জাহাজ বন্দরে আসে।
প্রতিবেদনে পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাবনাবাদ চ্যানেলের পলিপ্রবণতা, নাব্যতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, পণ্য খালাসে শুল্কায়ন জটিলতা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্বলতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাবনাবাদ চ্যানেল অত্যন্ত পলিপ্রবণ হওয়ায় এর নাব্যতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরাপদে নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে চ্যানেলটিতে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পণ্য খালাসের ক্ষেত্রেও জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, পণ্য ছাড়করণের কার্যক্রম শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল নয়। এর সঙ্গে কাস্টম হাউস, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপিং লাইনগুলো সম্পৃক্ত। বর্তমানে পায়রা বন্দরের ব্যবহারকারীদের এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম বরিশাল ও খুলনা কাস্টম হাউসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে বন্দরসংলগ্ন এলাকায় একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
সড়ক যোগাযোগের সীমাবদ্ধতাকেও বন্দরের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো দুই লেনের। ফলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে নির্বিঘ্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা-পায়রা রুটে ছয়টি স্থানে টোল আদায়ের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় বাড়ছে, যা বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় কমিটির পক্ষ থেকে সব কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, সতর্কতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও রপ্তানি পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের ব্যবধান, বিদ্যমান সম্ভাবনা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থলবন্দরগুলোর বাণিজ্যসংক্রান্ত চুক্তির বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে দেশের ১৭টি স্থলবন্দরের কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ১ কোটি ৫২ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৬ টন পণ্য আমদানি করা হয়। বিপরীতে রপ্তানি হয় ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩২৮ টন পণ্য।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার ৫৪৭ টনে। তবে এ সময়ে রপ্তানি কমে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টনে নেমে আসে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এসব স্থলবন্দর দিয়ে ৩৯ লাখ ৮৬ হাজার ২২৩ টন পণ্য আমদানি এবং ৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৮ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি জয়নুল আবদিন ফারুক। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, কমিটির সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম, আনিছুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, সানজিদা ইয়াসমিন, মো. নাজমুল হুদা ও আবদুল হান্নান মাসউদ।

০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৫৫
সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো থাকা একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় পরিচালনা ও কর্মসূচি পালনে বছরে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত হলে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে ১ হাজার ৫৩২ থেকে ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। অথচ সদস্যদের চাঁদা থেকে এ ব্যয়ের সামান্য অংশই সংগ্রহ করা সম্ভব। ফলে দলগুলোর অর্থায়নে ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের এমন চিত্র উঠে এসেছে।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, নেতৃত্ব নির্বাচন, প্রার্থী মনোনয়ন এবং অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্য দলগুলোকে ব্যবসায়ী এবং বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল করে তুলছে। এর ফলে ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক রাজনীতির বিকাশ ঘটছে। একই সঙ্গে দলগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক চর্চার ঘাটতি রয়েছে।
সাংগঠনিক ব্যয় হাজার কোটি ছাড়ায়
গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাংগঠনিক কাঠামো পরিচালনার সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব করেছে টিআইবি। এতে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করে ন্যূনতম ২২টি জেলা ও ১০১টি উপজেলায় কার্যালয় এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতেই একটি দলের বছরে প্রায় ১৪ থেকে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।
অন্যদিকে, সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কার্যক্রম বিস্তৃত থাকলে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে ৩০২ থেকে ৩৯৩ কোটি টাকা। আর ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত সাংগঠনিক শাখা বিস্তৃত হলে এ ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৫৩২ থেকে ২ হাজার ১৮৮ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
এত বিপুল ব্যয়ের বিপরীতে সদস্যদের চাঁদা থেকে সম্ভাব্য আয় মাত্র ১১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় শুধু সদস্যদের চাঁদার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় অর্থের অন্যান্য উৎস এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরতা
টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ও কার্যক্রম পরিচালনার বিদ্যমান ব্যবস্থা প্রতিযোগিতামূলক পৃষ্ঠপোষকতা তৈরি করছে। ফলে দলগুলো নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক অর্থায়নে ব্যক্তিনির্ভরতা ও অনানুষ্ঠানিক উৎসের প্রাধান্যের কারণে প্রভাবশালী দলগুলোতে ক্ষমতার অপব্যবহার, কালো টাকার প্রভাব, দুর্বৃত্তায়ন ও অন্তর্দ্বন্দ্ব বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন থেকে শুরু করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ অতিমাত্রায় অর্থনির্ভর হওয়ায় দলগুলো ব্যবসায়ী ও বিত্তশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এ ধরনের অর্থায়ন রাজনৈতিক দলগুলোকে ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিজনেস মডেলে পরিণত করছে।
আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশে ঘাটতি
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের আর্থিক নীতিমালা ও কার্যপ্রণালি বিধি নেই। অনেক দলের গঠনতন্ত্রে সদস্যদের পদভেদে চাঁদার হার, অনুদান গ্রহণের শর্ত, মনোনয়ন ফরমের ফি, হিসাব সংরক্ষণ, আর্থিক লেনদেন ও নিরীক্ষার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
এ ছাড়া দলগুলো নিয়মিত বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করে না। দলগুলোর প্রকৃত বার্ষিক আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনও দল বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থের প্রকৃত উৎস, সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ব্যয়ের খাত সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানার সুযোগ সীমিত।
নেতৃত্ব নির্বাচনে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব
রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রেও ঘাটতি পেয়েছে টিআইবি। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ দল জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলীয় প্রধান নির্বাচন করলেও গোপন ব্যালটের পরিবর্তে কণ্ঠভোটে নির্বাচন করে। দলীয় প্রধান পদে একাধিক ব্যক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার চর্চাও খুব সীমিত। মাত্র দুটি দলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ১০টি রাজনৈতিক দলে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে একজন ব্যক্তি কতবার বা কত মেয়াদে দলীয় প্রধান থাকতে পারবেন, তা নির্দিষ্ট করা নেই।
এ ছাড়া তিনটি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ এবং একটি দলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই। ১৬টি দলের জাতীয় কাউন্সিলও অনিয়মিত। এসব কাউন্সিলে সাধারণত আগে থেকে নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
প্রার্থী মনোনয়নেও অর্থের প্রভাব
নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি। অধিকাংশ দলের গঠনতন্ত্রে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত স্পষ্ট নয়। ছয়টি দলের গঠনতন্ত্রে জনপ্রিয়তা, সততা ও দলের প্রতি আনুগত্যের মতো বিষয় উল্লেখ থাকলেও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
গবেষণায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি প্রার্থী মনোনয়নে অর্থ-প্রতিপত্তি ও ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনটি প্রভাবশালী দলে প্রার্থী বাছাইয়ে মনোনয়ন-বাণিজ্যের অভিযোগও পেয়েছে গবেষক দল। বিগত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ী প্রার্থী ও ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা হয়েছে।
১২ দফা সুপারিশ
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে ১২ দফা সুপারিশ করেছে টিআইবি। এর মধ্যে রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, ২০০৮-এর প্রয়োজনীয় সংশোধন; রাজনৈতিক দলগুলোকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আনা এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক হিসাব যাচাই ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানো।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের তালিকাভুক্ত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমে দলগুলোর আর্থিক লেনদেন নিরীক্ষা, নিয়মিত কাউন্সিল আয়োজন, প্রতিটি পর্যায়ের নেতৃত্ব গোপন ভোটে নির্বাচন এবং দলীয় প্রধানসহ নেতৃত্বস্থানীয় পদে একই ব্যক্তির দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নির্দিষ্ট করার সুপারিশ করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব ও প্রার্থী মনোনয়নে নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ সংস্কার অপরিহার্য। এ সংস্কারের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে। গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ ও জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য দলগুলোকে নিজেদের মৌলিক সংস্কারের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
গবেষণার আওতায় ৪২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করে টিআইবি। এর মধ্যে ৩৭টি নিবন্ধিত ও পাঁচটি অনিবন্ধিত দল। ৩২টি দল গবেষকদের তথ্য দিয়েছে। ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে।
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৮
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:৫৫