
১৫ জুন, ২০২৫ ১৬:১২
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ অবশেষে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধ্বংসপ্রায় বিশালাকায় প্রাসাদটিকে আদিরূপ দেওয়াসহ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ বছরের পুরানো এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্প না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে এক চিঠিতে জমিদারবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার ও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কন্যা আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি ভবনটিকে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি রাখেন। তার ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনে বাড়িটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয় হয়নি। বরং জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) বিশালাকায় দুটি গুদাম ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বে হলেও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলপনা রায় ভিষণ খুশি হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বাড়ি সংরক্ষণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে সংস্কারে কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় ছিল না। এখন সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে, যা শুনে ভালা লাগছে এবং তার জন্য সরকার প্রশংসার দাবিও রাখে।
বরিশাল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ মে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়ায় অবস্থিত জমিদারবাড়ির সংরক্ষণে কাজ চলছে।
দোতলা ভবনটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ছাদ, সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলত ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ‘পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে ভবনটিকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, জমিদারবাড়ির উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ মিটার, দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ২০ মিটার। দোতলা ভবনটিতে আছে মোট ৯টি কক্ষ। জমিদারবাড়িটির চারপাশে আছে তিনটি বাঁধানো পুকুর, যেগুলো ‘বাবুবাড়ি পুকুর’ নামে পরিচিত।
ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত, জমিদার রূপচন্দ্র রায় ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে তিনি প্রায় ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রজাদরদি হিসেবে খ্যাত রূপচন্দ্র রায়ের আমলেই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়। রূপচন্দ্রের দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী। প্যারীলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও সমাজসেবক, তাঁর দুই পুত্র বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং নামকরা বক্সার পরেশলাল রায় তাঁদের কীর্তির ইতিহাস সুদীর্ঘ। এই জমিদার পরিবারের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কবিগুরুর বড় ভাই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের দুই নাতনি সুশীলা এবং চারুবালাকে। পরবর্তী সময়ে জমিদার দেবেন লাল রায় চৌধুরী ভারতে থিতু হন এবং কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় বরিশালের কাশীপুরের মুখার্জি পরিবারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জনদরদি জমিদারবংশের উদ্যোগেই রাজচন্দ্র কলেজ এবং পুষ্পরাণী চৌধুরী ইনস্টিটিউশন (পিআরসি স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলটি সক্রিয় আছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে জমিদারের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেওয়া লাকুটিয়া গ্রামের মানুষও সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তিবিষয়ক কৌশলি সুভাষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানাভুক্ত প্রায় আট একর জমি এবং একটি বড় পুকুরের মালিকানা পেয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ধ্বংসপ্রায় জমিদার রূপচন্দ্র রায়ের বাড়িটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে।’
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ অবশেষে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধ্বংসপ্রায় বিশালাকায় প্রাসাদটিকে আদিরূপ দেওয়াসহ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ বছরের পুরানো এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্প না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে এক চিঠিতে জমিদারবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার ও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কন্যা আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি ভবনটিকে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি রাখেন। তার ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনে বাড়িটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয় হয়নি। বরং জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) বিশালাকায় দুটি গুদাম ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বে হলেও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলপনা রায় ভিষণ খুশি হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বাড়ি সংরক্ষণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে সংস্কারে কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় ছিল না। এখন সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে, যা শুনে ভালা লাগছে এবং তার জন্য সরকার প্রশংসার দাবিও রাখে।
বরিশাল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ মে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়ায় অবস্থিত জমিদারবাড়ির সংরক্ষণে কাজ চলছে।
দোতলা ভবনটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ছাদ, সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলত ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ‘পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে ভবনটিকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, জমিদারবাড়ির উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ মিটার, দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ২০ মিটার। দোতলা ভবনটিতে আছে মোট ৯টি কক্ষ। জমিদারবাড়িটির চারপাশে আছে তিনটি বাঁধানো পুকুর, যেগুলো ‘বাবুবাড়ি পুকুর’ নামে পরিচিত।
ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত, জমিদার রূপচন্দ্র রায় ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে তিনি প্রায় ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রজাদরদি হিসেবে খ্যাত রূপচন্দ্র রায়ের আমলেই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়। রূপচন্দ্রের দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী। প্যারীলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও সমাজসেবক, তাঁর দুই পুত্র বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং নামকরা বক্সার পরেশলাল রায় তাঁদের কীর্তির ইতিহাস সুদীর্ঘ। এই জমিদার পরিবারের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কবিগুরুর বড় ভাই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের দুই নাতনি সুশীলা এবং চারুবালাকে। পরবর্তী সময়ে জমিদার দেবেন লাল রায় চৌধুরী ভারতে থিতু হন এবং কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় বরিশালের কাশীপুরের মুখার্জি পরিবারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জনদরদি জমিদারবংশের উদ্যোগেই রাজচন্দ্র কলেজ এবং পুষ্পরাণী চৌধুরী ইনস্টিটিউশন (পিআরসি স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলটি সক্রিয় আছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে জমিদারের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেওয়া লাকুটিয়া গ্রামের মানুষও সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তিবিষয়ক কৌশলি সুভাষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানাভুক্ত প্রায় আট একর জমি এবং একটি বড় পুকুরের মালিকানা পেয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ধ্বংসপ্রায় জমিদার রূপচন্দ্র রায়ের বাড়িটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে।’

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১৭

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৪
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ বিএনপিপন্থী ৯ আইনজীবী মঙ্গলবার হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারা একটি ফৌজদারি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়ায় আদালতকক্ষে ভাঙচুর এবং সংশ্লিষ্ট বিচারক সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওই বেঞ্চ তাদের বিরুদ্ধে এর আগে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছিল।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তাদের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করে আদালত তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
বাকি আট আইনজীবী হলেন বরিশাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, পিপি আবুল কালাম আজাদ ও নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আবদুল মালেক, সায়েদ এবং হাফিজ উদ্দিন বাবলু।
২৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর থেকে পাঠানো একটি চিঠি এবং বরিশাল মহানগর দায়রা জজ মীর মো. আমতাজুল হকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলে আইনজীবীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না। এবং এই ধরনের অপরাধের জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না।
বরিশাল আইনজীবী সমিতি সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন মঙ্গলবার হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’

১১ মার্চ, ২০২৬ ১৫:৫৩
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টুন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’র দেওয়া এই খেজুর জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব খেজুর বিতরণ করা হবে।
বরাদ্দ অনুযায়ী বরিশালে ২৩৪, পটুয়াখালীতে ২০২, ভোলায় ১৮৭, পিরোজপুরে ১৩৯, বরগুনায় ১১০, ঝালকাঠিতে ৮২, সিলেটে ২৯০, হবিগঞ্জে ২০৬, মৌলভীবাজারে ১৭৮ এবং সুনামগঞ্জে ২৩৪ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলায় ২৯৭ কার্টুন, নারায়ণগঞ্জে ১০১, গাজীপুরে ১০৩, মুন্সিগঞ্জে ১৮০, মানিকগঞ্জে ১৭১, নরসিংদীতে ১৮৮, টাঙ্গাইলে ৩১৮, কিশোরগঞ্জে ২৮৭, ফরিদপুরে ২১৪, গোপালগঞ্জে ১৭৫, মাদারীপুরে ১৫৭, শরীয়তপুরে ১৭৩ এবং রাজবাড়ীতে ১১০ কার্টুন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ময়মনসিংহে ৩৮৪, নেত্রকোনায় ২২৬, জামালপুরে ১৭৭, শেরপুরে ১৩৭, চট্টগ্রামে ৫১৮, কক্সবাজারে ১৮৭, রাঙ্গামাটিতে ১৩০, খাগড়াছড়িতে ৯৭, বান্দরবানে ৯০, কুমিল্লায় ৫২০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬৭, চাঁদপুরে ২৩৫, নোয়াখালীতে ২৪৩, লক্ষ্মীপুরে ১৫৪ এবং ফেনীতে ১১২ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৬, নওগাঁয় ২৫৯, নাটোরে ১৩৫, পাবনায় ১৯৬, সিরাজগঞ্জে ২২১, বগুড়ায় ২৯১ এবং জয়পুরহাটে ৮১ কার্টুন খেজুর দেওয়া হয়েছে। রংপুরে ২০১, কুড়িগ্রামে ১৯২, নীলফামারীতে ১৬১, গাইবান্ধায় ২১৪, লালমনিরহাটে ১১৬, দিনাজপুরে ২৭৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪১ এবং পঞ্চগড়ে ১১২ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
খুলনায় ১৮২, বাগেরহাটে ২০৩, সাতক্ষীরায় ২০৭, যশোরে ২৪৭, ঝিনাইদহে ১৭৫, মাগুরায় ৯২, নড়াইলে ১০১, কুষ্টিয়ায় ১৭৪, মেহেরপুরে ৫১ এবং চুয়াডাঙ্গায় ১০৫ কার্টুন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে ঢাকায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ১৮৫, ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসকে ৫০ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
ঈদের আগে বেতনসহ বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এই কর্মবিরতির ফলে নগরজুড়ে আবর্জনা জমে সৃষ্টি হয়েছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে শহরের অলিগলি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে নগরীর নতুনবাজার, চৌমাথা, বটতলা, রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশ ও ডাস্টবিনে ময়লার স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় নগরবাসীকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানায়, তারা মাসে ৩০ দিন কাজ করলেও বেতন পান মাত্র ২২ দিনের। আগে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে ভাতা ও ইফতারের জন্য আলাদা অর্থ দেওয়া হলেও এবার ঈদের আগে শুধু বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কোনো বোনাস বা উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকদের দাবি, কম বেতনে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ঈদের আগে বোনাস না পেলে পরিবার নিয়ে উৎসব করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সিটি কর্পোরেশন ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শ্রম অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে ওই গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো ধরনের উৎসব ভাতা পাবেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এনিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে শহরের বাসিন্দারা বরিশালটাইমসকে জানান, ডাস্টবিন ও রাস্তার পাশে ময়লা উপচে পড়ছে। দুর্গন্ধে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে, জনসাধারণকে নাক-মুখ ঢেকে পথ চলছে দেখা যায়। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না হলে পুরো শহর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী রহিম মিয়া বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘বেতন বাড়লেও যদি ঈদের সময় বোনাস না পাই, তাহলে আমাদের উৎসবের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে। এটা আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’
বরিশালে শ্রমিক এবং দিনমজুরদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন জেলা বাসদের সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন ও ঈদ বোনাস অবশ্যই দেওয়া উচিৎ। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বোনাস পেয়ে আসছেন। হঠাৎ করে ঈদের আগে বোনাস বা বেতন না দিলে তারা ঈদের বাজার করা কিংবা সন্তানদের জন্য কাপড়-চোপড় কিনতে পারবেন না। এটি অত্যন্ত অমানবিক সিদ্ধান্ত।’
তবে সিটি করপোরেশনের সচিব রুম্পা সিকদার বরিশালটাইমসকে বলছেন, ‘যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন তাদের আইনে বোনাস ভাতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে শ্রমিকরা মানবিক কারণে বিষয়টি দাবি করছেন। প্রশাসক এ বিষয়ে অবগত আছেন এবং বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
ঈদের আগে বেতনসহ বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী। এই কর্মবিরতির ফলে নগরজুড়ে আবর্জনা জমে সৃষ্টি হয়েছে দুর্ভোগ। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে শহরের অলিগলি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে নগরীর নতুনবাজার, চৌমাথা, বটতলা, রুপাতলীসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার পাশ ও ডাস্টবিনে ময়লার স্তূপ জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় নগরবাসীকে পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানায়, তারা মাসে ৩০ দিন কাজ করলেও বেতন পান মাত্র ২২ দিনের। আগে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে ভাতা ও ইফতারের জন্য আলাদা অর্থ দেওয়া হলেও এবার ঈদের আগে শুধু বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কোনো বোনাস বা উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকদের দাবি, কম বেতনে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে ঈদের আগে বোনাস না পেলে পরিবার নিয়ে উৎসব করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সিটি কর্পোরেশন ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শ্রম অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যৌথ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দৈনিক মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকদের বেতন ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে ওই গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, মজুরি ভিত্তিক শ্রমিকরা কোনো ধরনের উৎসব ভাতা পাবেন না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
এনিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করে শহরের বাসিন্দারা বরিশালটাইমসকে জানান, ডাস্টবিন ও রাস্তার পাশে ময়লা উপচে পড়ছে। দুর্গন্ধে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে, জনসাধারণকে নাক-মুখ ঢেকে পথ চলছে দেখা যায়। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না হলে পুরো শহর ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী রহিম মিয়া বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘বেতন বাড়লেও যদি ঈদের সময় বোনাস না পাই, তাহলে আমাদের উৎসবের আনন্দ মাটি হয়ে যাবে। এটা আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মবিরতি চলবে।’
বরিশালে শ্রমিক এবং দিনমজুরদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করেন জেলা বাসদের সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন ও ঈদ বোনাস অবশ্যই দেওয়া উচিৎ। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বোনাস পেয়ে আসছেন। হঠাৎ করে ঈদের আগে বোনাস বা বেতন না দিলে তারা ঈদের বাজার করা কিংবা সন্তানদের জন্য কাপড়-চোপড় কিনতে পারবেন না। এটি অত্যন্ত অমানবিক সিদ্ধান্ত।’
তবে সিটি করপোরেশনের সচিব রুম্পা সিকদার বরিশালটাইমসকে বলছেন, ‘যারা দৈনিক ভিত্তিতে কাজ করেন তাদের আইনে বোনাস ভাতা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে শ্রমিকরা মানবিক কারণে বিষয়টি দাবি করছেন। প্রশাসক এ বিষয়ে অবগত আছেন এবং বিষয়টি দেখা হচ্ছে।’
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ বিএনপিপন্থী ৯ আইনজীবী মঙ্গলবার হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তারা একটি ফৌজদারি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুসকে জামিন দেওয়ায় আদালতকক্ষে ভাঙচুর এবং সংশ্লিষ্ট বিচারক সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ওই বেঞ্চ তাদের বিরুদ্ধে এর আগে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছিল।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, তাদের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করে আদালত তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।
বাকি আট আইনজীবী হলেন বরিশাল বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজুল ইসলাম, পিপি আবুল কালাম আজাদ ও নাজিমুদ্দিন পান্না, অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আবদুল মালেক, সায়েদ এবং হাফিজ উদ্দিন বাবলু।
২৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর থেকে পাঠানো একটি চিঠি এবং বরিশাল মহানগর দায়রা জজ মীর মো. আমতাজুল হকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (সুয়োমোটো) তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। রুলে আইনজীবীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না। এবং এই ধরনের অপরাধের জন্য কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে না।
বরিশাল আইনজীবী সমিতি সূত্র জানায়, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন মঙ্গলবার হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চের সামনে হাজির হয়ে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন।’
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টুন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’র দেওয়া এই খেজুর জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব খেজুর বিতরণ করা হবে।
বরাদ্দ অনুযায়ী বরিশালে ২৩৪, পটুয়াখালীতে ২০২, ভোলায় ১৮৭, পিরোজপুরে ১৩৯, বরগুনায় ১১০, ঝালকাঠিতে ৮২, সিলেটে ২৯০, হবিগঞ্জে ২০৬, মৌলভীবাজারে ১৭৮ এবং সুনামগঞ্জে ২৩৪ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা জেলায় ২৯৭ কার্টুন, নারায়ণগঞ্জে ১০১, গাজীপুরে ১০৩, মুন্সিগঞ্জে ১৮০, মানিকগঞ্জে ১৭১, নরসিংদীতে ১৮৮, টাঙ্গাইলে ৩১৮, কিশোরগঞ্জে ২৮৭, ফরিদপুরে ২১৪, গোপালগঞ্জে ১৭৫, মাদারীপুরে ১৫৭, শরীয়তপুরে ১৭৩ এবং রাজবাড়ীতে ১১০ কার্টুন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ময়মনসিংহে ৩৮৪, নেত্রকোনায় ২২৬, জামালপুরে ১৭৭, শেরপুরে ১৩৭, চট্টগ্রামে ৫১৮, কক্সবাজারে ১৮৭, রাঙ্গামাটিতে ১৩০, খাগড়াছড়িতে ৯৭, বান্দরবানে ৯০, কুমিল্লায় ৫২০, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬৭, চাঁদপুরে ২৩৫, নোয়াখালীতে ২৪৩, লক্ষ্মীপুরে ১৫৪ এবং ফেনীতে ১১২ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীতে ১৯০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১৬, নওগাঁয় ২৫৯, নাটোরে ১৩৫, পাবনায় ১৯৬, সিরাজগঞ্জে ২২১, বগুড়ায় ২৯১ এবং জয়পুরহাটে ৮১ কার্টুন খেজুর দেওয়া হয়েছে। রংপুরে ২০১, কুড়িগ্রামে ১৯২, নীলফামারীতে ১৬১, গাইবান্ধায় ২১৪, লালমনিরহাটে ১১৬, দিনাজপুরে ২৭৪, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪১ এবং পঞ্চগড়ে ১১২ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
খুলনায় ১৮২, বাগেরহাটে ২০৩, সাতক্ষীরায় ২০৭, যশোরে ২৪৭, ঝিনাইদহে ১৭৫, মাগুরায় ৯২, নড়াইলে ১০১, কুষ্টিয়ায় ১৭৪, মেহেরপুরে ৫১ এবং চুয়াডাঙ্গায় ১০৫ কার্টুন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে ঢাকায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ১৮৫, ঢাকাস্থ সৌদি আরব দূতাবাসকে ৫০ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ১৫ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।'