সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ অবশেষে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধ্বংসপ্রায় বিশালাকায় প্রাসাদটিকে আদিরূপ দেওয়াসহ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ বছরের পুরানো এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্প না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে এক চিঠিতে জমিদারবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার ও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কন্যা আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি ভবনটিকে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি রাখেন। তার ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনে বাড়িটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয় হয়নি। বরং জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) বিশালাকায় দুটি গুদাম ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বে হলেও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলপনা রায় ভিষণ খুশি হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বাড়ি সংরক্ষণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে সংস্কারে কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় ছিল না। এখন সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে, যা শুনে ভালা লাগছে এবং তার জন্য সরকার প্রশংসার দাবিও রাখে।
বরিশাল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ মে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়ায় অবস্থিত জমিদারবাড়ির সংরক্ষণে কাজ চলছে।
দোতলা ভবনটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ছাদ, সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলত ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ‘পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে ভবনটিকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, জমিদারবাড়ির উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ মিটার, দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ২০ মিটার। দোতলা ভবনটিতে আছে মোট ৯টি কক্ষ। জমিদারবাড়িটির চারপাশে আছে তিনটি বাঁধানো পুকুর, যেগুলো ‘বাবুবাড়ি পুকুর’ নামে পরিচিত।
ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত, জমিদার রূপচন্দ্র রায় ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে তিনি প্রায় ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রজাদরদি হিসেবে খ্যাত রূপচন্দ্র রায়ের আমলেই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়। রূপচন্দ্রের দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী। প্যারীলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও সমাজসেবক, তাঁর দুই পুত্র বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং নামকরা বক্সার পরেশলাল রায় তাঁদের কীর্তির ইতিহাস সুদীর্ঘ। এই জমিদার পরিবারের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কবিগুরুর বড় ভাই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের দুই নাতনি সুশীলা এবং চারুবালাকে। পরবর্তী সময়ে জমিদার দেবেন লাল রায় চৌধুরী ভারতে থিতু হন এবং কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় বরিশালের কাশীপুরের মুখার্জি পরিবারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জনদরদি জমিদারবংশের উদ্যোগেই রাজচন্দ্র কলেজ এবং পুষ্পরাণী চৌধুরী ইনস্টিটিউশন (পিআরসি স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলটি সক্রিয় আছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে জমিদারের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেওয়া লাকুটিয়া গ্রামের মানুষও সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তিবিষয়ক কৌশলি সুভাষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানাভুক্ত প্রায় আট একর জমি এবং একটি বড় পুকুরের মালিকানা পেয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ধ্বংসপ্রায় জমিদার রূপচন্দ্র রায়ের বাড়িটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে।’

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৫
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের বহুল বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মো. আল আমিনকে নানান অনিয়ম- দুর্নীতিসহ নৈতিকস্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির আলোকে সহকারি অধ্যাপক খান মো. আল- আমিনকে ২৪ আগস্ট (সোমবার) চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন (২৪ আগস্ট) তিনি তার বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ( ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারি অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের বহুঅঘটন পটিয়সী সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পর্ণো ভিডিও প্রদর্শন, কলেজ ও শিক্ষার্থীদের অর্থ তছরুপ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিমের স্বাক্ষর জালজালিয়াতি, কলেজের নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানিসহ নৈতিকস্খলনজনিত নানা অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের প্রক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অধিকতর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ গভর্নিং বডি ওই দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজের বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার রেজুলেশন গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। এর আগে তাকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে নৈতিকস্খলনজনিত কারনে সহকারী অধ্যাপক খান মো: আল- আমিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যূত করায় কলেজ গর্ভনিংবডি,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
অবশেষে বরিশালের বানারীপাড়ার বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের বহুল বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মো. আল আমিনকে নানান অনিয়ম- দুর্নীতিসহ নৈতিকস্খলনের অভিযোগে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ এনামুল হক জানান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির আলোকে সহকারি অধ্যাপক খান মো. আল- আমিনকে ২৪ আগস্ট (সোমবার) চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন (২৪ আগস্ট) তিনি তার বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলেও জানান। এর আগে ২০ আগস্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের ( ভিসি) অনুমোদনক্রমে কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে সহকারি অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করা হয়। বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজের বহুঅঘটন পটিয়সী সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পর্ণো ভিডিও প্রদর্শন, কলেজ ও শিক্ষার্থীদের অর্থ তছরুপ,জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিমের স্বাক্ষর জালজালিয়াতি, কলেজের নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানিসহ নৈতিকস্খলনজনিত নানা অভিযোগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের প্রক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটি সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অধিকতর তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সম্প্রতি বাইশারী সৈয়দ বজলুল হক কলেজ গভর্নিং বডি ওই দুটি তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজের বিতর্কিত সহকারী অধ্যাপক খান মোঃ আল- আমিনকে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার রেজুলেশন গ্রহণ করে তা অনুমোদনের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরন করে। ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তার চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত অনুমোদন করে। এর আগে তাকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এবার চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হলো।
এদিকে নৈতিকস্খলনজনিত কারনে সহকারী অধ্যাপক খান মো: আল- আমিনকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যূত করায় কলেজ গর্ভনিংবডি,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩১
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজ। আগামীকাল ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে কৃতি ছাত্রীদের ওই রাজসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আকতার।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আফসানা জাহান মিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গুয়াংদং হংহুয়া নিউ মেটেরিয়ালস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা ইয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি ছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'বাবুগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ ছিল না। ফলে তাদের অনেক শ্রম, অর্থ এবং সময় ব্যয় করে বরিশালে গিয়ে উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করতে হতো। তাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ জুড়ে থাকবে বিভিন্ন অফার এবং প্রণোদনা। আমরা একটি নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রীদের সংবর্ধনা দিচ্ছে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজ। আগামীকাল ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে কৃতি ছাত্রীদের ওই রাজসিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা উল হুসনা।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাবুগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না, বাবুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সন্ন্যামত ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন জোবায়েদা আকতার।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আফসানা জাহান মিমের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ও মোটিভেশনাল স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখবেন গুয়াংদং হংহুয়া নিউ মেটেরিয়ালস কোম্পানি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিসা ইয়াং। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কৃতি ছাত্রীরা ছাড়াও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, 'বাবুগঞ্জে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন জায়গায় বালিকা বিদ্যালয় থাকলেও তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য এই উপজেলায় কোনো স্বতন্ত্র মহিলা কলেজ ছিল না। ফলে তাদের অনেক শ্রম, অর্থ এবং সময় ব্যয় করে বরিশালে গিয়ে উইমেন্স কলেজে লেখাপড়া করতে হতো। তাদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে এই অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আফসানা আরিফ ফাউন্ডেশন উইমেন্স কলেজের কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলেই জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার স্কলারশিপ দেওয়া হবে। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবর্ষ জুড়ে থাকবে বিভিন্ন অফার এবং প্রণোদনা। আমরা একটি নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশে নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে চাই। #

২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৫৯
বরিশালে বাস এবং থ্রি-হুইলার চালকদের দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফের বন্ধ হয়েছে বাস চলাচল। থ্রি-হুইলার চালকরা এবার মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বাবুগঞ্জের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনে নামেন থ্রি-হুইলার চালকরা। অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ঘুরিয়ে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও।
আন্দোলনকারী আব্দুল্লাহ মামুন এবং নুর আলমের অভিযোগ, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থ্রি-হুইলার থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর চেষ্টা করলে প্রায়ই বাধা দেওয়া হয় থ্রি-হুইলার চালকদের। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী তাদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাতও করেন।
যাত্রী পরিবহন নিয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ার করেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল সোমবার মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। মহাসড়ক আটকে চলা আন্দোলনে দুপুর থেকে বরিশালের সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, তারা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস পরিচালনা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তৈরি হচ্ছে যাত্রী সংকট। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
তিনি জানান, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে তাদের চলাচলের বিষয়ে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকরা সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না। অনেক সময় তারা বাসের কাউন্টার এলাকায় অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছেন। নিষেধ করা হলেও কাউন্টার কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
এর আগে বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন।
আজ পাল্টা আন্দোলনে নামলেন থ্রি-হুইলার চালকরা। এতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিরোধের সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি রাখা হয়েছে।’
বরিশালে বাস এবং থ্রি-হুইলার চালকদের দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ফের বন্ধ হয়েছে বাস চলাচল। থ্রি-হুইলার চালকরা এবার মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নেমেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলায় ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সকাল ৯টা থেকে বাবুগঞ্জের বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আন্দোলনে নামেন থ্রি-হুইলার চালকরা। অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ঘুরিয়ে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও।
আন্দোলনকারী আব্দুল্লাহ মামুন এবং নুর আলমের অভিযোগ, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে থ্রি-হুইলার থামিয়ে যাত্রী ওঠানোর চেষ্টা করলে প্রায়ই বাধা দেওয়া হয় থ্রি-হুইলার চালকদের। বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী তাদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে আঘাতও করেন।
যাত্রী পরিবহন নিয়ে থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিকদের বিরোধ দীর্ঘদিনের। স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে হুঁশিয়ার করেন আন্দোলনকারীরা।
গতকাল সোমবার মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলন করেন। মহাসড়ক আটকে চলা আন্দোলনে দুপুর থেকে বরিশালের সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, তারা সরকারকে নিয়মিত রাজস্ব দিয়ে বাস পরিচালনা করছেন। কিন্তু মহাসড়কে অবৈধ যানবাহন ও থ্রি-হুইলার চলাচলের কারণে তৈরি হচ্ছে যাত্রী সংকট। বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
তিনি জানান, থ্রি-হুইলার মালিক সমিতি ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে তাদের চলাচলের বিষয়ে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু চালকরা সেই সিদ্ধান্ত মানছেন না। অনেক সময় তারা বাসের কাউন্টার এলাকায় অবস্থান করে যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় চলে যাচ্ছেন। নিষেধ করা হলেও কাউন্টার কর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন।
এর আগে বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি-হুইলার চালকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদ এবং মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস মালিক ও শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন।
আজ পাল্টা আন্দোলনে নামলেন থ্রি-হুইলার চালকরা। এতে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহন সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে পুলিশ। এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন তিনি।
পাল্টাপাল্টি আন্দোলনে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত বিরোধের সমাধান করে সড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি রাখা হয়েছে।’

১৫ জুন, ২০২৫ ১৬:১২
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ‘লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি’ অবশেষে সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ধ্বংসপ্রায় বিশালাকায় প্রাসাদটিকে আদিরূপ দেওয়াসহ ইতিহাস এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সংস্কার কাজ শুরু করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০০ বছরের পুরানো এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্প না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হতে পারে। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জমিদারের উত্তরসূরিসহ বরিশালবাসী।
জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সফিউর রহমানকে এক চিঠিতে জমিদারবাড়ির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান অস্ট্রেলিয়ার উচ্চ আদালতের সলিসিটার ও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী পঙ্কজ রায় চৌধুরীর কন্যা আলপনা রায়। চিঠিতে তিনি ভবনটিকে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি রাখেন। তার ওই চিঠির ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দিলেও দীর্ঘদিনে বাড়িটি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয় হয়নি। বরং জমিদারবাড়ির অভ্যন্তরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসির) বিশালাকায় দুটি গুদাম ও স্থাপনা নির্মাণ করে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে।
তবে জমিদারবাড়ি সংরক্ষণে উদ্যোগ কিছুটা বিলম্বে হলেও জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী আলপনা রায় ভিষণ খুশি হয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বাড়ি সংরক্ষণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই সময় সরকারের তরফ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরে সংস্কারে কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যণীয় ছিল না। এখন সংরক্ষণে কাজ শুরু হয়েছে, যা শুনে ভালা লাগছে এবং তার জন্য সরকার প্রশংসার দাবিও রাখে।
বরিশাল জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ মে থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলার লাকুটিয়ায় অবস্থিত জমিদারবাড়ির সংরক্ষণে কাজ চলছে।
দোতলা ভবনটির চারপাশে নির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার। ইতিমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরোনো ছাদ, সাতক্ষীরা থেকে আনা টালি দিয়ে নতুন ছাদ নির্মাণ করা হবে।
এই তথ্য নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের সহকারী কাস্টেডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে মূলত ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ নির্মাণের কাজ হচ্ছে। তবে প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে এবং আলো-বাতাস চলাচলের কাঠামো আপাতত এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও পরবর্তী ধাপে যুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ‘পুরোনো ছবি ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ভিত্তিতে ভবনটিকে তার প্রকৃত রূপে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এই তথ্য নিশ্চিত করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন জানান, জমিদারবাড়ির উচ্চতা ৮ দশমিক ২০ মিটার, দৈর্ঘ্য ২৫ দশমিক ৪০ মিটার ও প্রস্থ ৯ দশমিক ২০ মিটার। দোতলা ভবনটিতে আছে মোট ৯টি কক্ষ। জমিদারবাড়িটির চারপাশে আছে তিনটি বাঁধানো পুকুর, যেগুলো ‘বাবুবাড়ি পুকুর’ নামে পরিচিত।
ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত, জমিদার রূপচন্দ্র রায় ছিলেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময় জমিদারির পরিধি ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। আনুমানিক ১৬০০ কিংবা ১৭০০ সালে তিনি প্রায় ৪৯ দশমিক ৫০ একর জমির ওপর মূল জমিদারবাড়িটি নির্মাণ করেন। প্রজাদরদি হিসেবে খ্যাত রূপচন্দ্র রায়ের আমলেই লাকুটিয়া থেকে বরিশাল পর্যন্ত সড়ক নির্মিত হয়। রূপচন্দ্রের দুই ছেলে রাখালচন্দ্র রায় ও প্যারীলাল রায় ছিলেন ব্রাহ্মধর্মের অনুসারী। প্যারীলাল রায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যারিস্টার ও সমাজসেবক, তাঁর দুই পুত্র বিখ্যাত বৈমানিক ইন্দ্রলাল রায় এবং নামকরা বক্সার পরেশলাল রায় তাঁদের কীর্তির ইতিহাস সুদীর্ঘ। এই জমিদার পরিবারের সঙ্গে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। কবিগুরুর বড় ভাই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই পুত্র অরুণেন্দ্রনাথ ও দীপেন্দ্রনাথ বিয়ে করেন রাজচন্দ্র রায়ের দুই নাতনি সুশীলা এবং চারুবালাকে। পরবর্তী সময়ে জমিদার দেবেন লাল রায় চৌধুরী ভারতে থিতু হন এবং কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তার মেয়ে মন্দিরা রায় চৌধুরীর বিয়ে হয় বরিশালের কাশীপুরের মুখার্জি পরিবারে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, জনদরদি জমিদারবংশের উদ্যোগেই রাজচন্দ্র কলেজ এবং পুষ্পরাণী চৌধুরী ইনস্টিটিউশন (পিআরসি স্কুল) প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও স্কুলটি সক্রিয় আছে, যা প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। এখন নতুন করে জমিদারের ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নেওয়া লাকুটিয়া গ্রামের মানুষও সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসনের অর্পিত সম্পত্তিবিষয়ক কৌশলি সুভাষ চন্দ্র দাস সাংবাদিকদের জানান, সরকার ইতিমধ্যে জমিদারবাড়ির সীমানাভুক্ত প্রায় আট একর জমি এবং একটি বড় পুকুরের মালিকানা পেয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে। এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে ধ্বংসপ্রায় জমিদার রূপচন্দ্র রায়ের বাড়িটি একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপ নেবে।’
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০৯
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৪
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৬
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫৭