
২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৫৩
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আব্বাস গাজী অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ধুলাসার ইউনিয়নের চর ধুলাসার গ্রামে নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলে মিজান হাওলাদারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার চাচাতো ভাই রাজিব। বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে মদ্যপানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট আব্বাস গাজীর নেতৃত্বে ছিদ্দিক ও জাবেদ গাজীসহ ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির উঠানে থাকা মিজান হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার বাবা শাহ আলম হাওলাদারকে বেধড়ক মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মেশকাত, লিমন ও বসারসহ আরও কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত মিজান হাওলাদার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্বাস গাজী।
এ ঘটনায় মিজানের বাবা শাহ আলম হাওলাদার কলাপাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই-এর তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্বাস গাজী বলেন, মিজান সহ অনেকেই আমার ছেলেকে মারধর করছে। আমার ছেলের হাতের কবজি ভেঙ্গে গেছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি আমি কাউকে মারধর করিনি।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় এক জেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ আব্বাস গাজী অজ্ঞাত অনেকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে ধুলাসার ইউনিয়নের চর ধুলাসার গ্রামে নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জেলে মিজান হাওলাদারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার চাচাতো ভাই রাজিব। বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে মদ্যপানে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট আব্বাস গাজীর নেতৃত্বে ছিদ্দিক ও জাবেদ গাজীসহ ২০-৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা বাড়ির উঠানে থাকা মিজান হাওলাদারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় তার বাবা শাহ আলম হাওলাদারকে বেধড়ক মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে মেশকাত, লিমন ও বসারসহ আরও কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত মিজান হাওলাদার বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে, হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তারা জানান, ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্বাস গাজী।
এ ঘটনায় মিজানের বাবা শাহ আলম হাওলাদার কলাপাড়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই-এর তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্বাস গাজী বলেন, মিজান সহ অনেকেই আমার ছেলেকে মারধর করছে। আমার ছেলের হাতের কবজি ভেঙ্গে গেছে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি আমি কাউকে মারধর করিনি।

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫০
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মামুন খাঁ নামের এক যুবকের ওপর হামলা ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মামুন খাঁর বাবা মো. আ. গনি খাঁ। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র তার ছেলের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ মার্চ রাতে কাকড়াবুনিয়া এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ সময় তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। পরে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবার হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় মো. কামাল হোসেন (৫০), মো. হানিফ মৃধা (৪৪), আবু সালেহ মুছা (৩৮), মো. মাসকুর হাওলাদার (৪৫), মো. ছগির মল্লিক (৩২), মো. সিয়াম (৪০), আ. রহিম খান (৪৫), মো. আলমগীর হাওলাদার (৫০) ও প্রাণতোষ (৪০) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ভাড়াটে সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:১৯
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি মুগ-৬ এর উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর দুমকিতে “মাঠ দিবস-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের লালখার চরে অবস্থিত মাঠে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, রহমতপুর, বরিশালের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুমকি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই, পটুয়াখালীর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচ.এম খায়রুল বাসার।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, “আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র মাদারীপুরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে ডাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বারি মুগ-৬ জাতের উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), পটুয়াখালী এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক, কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আগ্রহী ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন এবং উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বারি মুগ-৬ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা কৃষকদের এ জাতের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৩
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তিথি অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গঙ্গাস্নান ও বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর থেকেই পুণ্য অর্জনের আশায় সাগরকন্যা কুয়াকাটায় জড়ো হন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও আশ্রমের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় আবাহনী সংগীত, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গলঘট স্থাপন, শ্রীশ্রী বিষ্ণু পূজা ও গঙ্গামায়ের পূজা। এরপর সকাল ১০টার দিকে সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুচরে শুরু হয় গঙ্গাস্নান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই দিনে বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়, যা পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। পাশাপাশি, শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মতে, এদিনই মহর্ষি বেদব্যাস ও গণেশ মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী নিহার রঞ্জনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী এবং পরমপূজ্যপাদ ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামীসহ স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা।
সারা দেশ থেকে আসা হাজারো ভক্ত দিনব্যাপী ধর্মীয় আলোচনা, গীতা পাঠ ও বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। অনেককে পরিবার-পরিজনসহ সাগরস্নানে অংশ নিয়ে অর্ঘ্য অর্পণ করতে দেখা যায়।
পিরোজপুর থেকে আসা এক পুণ্যার্থী জানান, এই তিথিতে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের সব গ্লানি ও দুঃখ-কষ্ট দূর হয়, এমনটাই আমাদের বিশ্বাস।
কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন জানান, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অক্ষয় তৃতীয়া উদযাপিত হয়েছে। ভক্তদের নির্বিঘ্নে প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া গেছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মামুন খাঁ নামের এক যুবকের ওপর হামলা ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মামুন খাঁর বাবা মো. আ. গনি খাঁ। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি চক্র তার ছেলের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৩০ মার্চ রাতে কাকড়াবুনিয়া এলাকায় তার ওপর হামলা চালানো হয়।
এ সময় তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়। পরে অ্যাসিড জাতীয় পদার্থ নিক্ষেপে তিনি গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবার হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের তালিকায় মো. কামাল হোসেন (৫০), মো. হানিফ মৃধা (৪৪), আবু সালেহ মুছা (৩৮), মো. মাসকুর হাওলাদার (৪৫), মো. ছগির মল্লিক (৩২), মো. সিয়াম (৪০), আ. রহিম খান (৪৫), মো. আলমগীর হাওলাদার (৫০) ও প্রাণতোষ (৪০) এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ ছাড়া তাদের সঙ্গে আরও ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ভাড়াটে সন্ত্রাসী জড়িত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) কর্তৃক উদ্ভাবিত বারি মুগ-৬ এর উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পটুয়াখালীর দুমকিতে “মাঠ দিবস-২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের লালখার চরে অবস্থিত মাঠে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, রহমতপুর, বরিশালের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সহিদুল ইসলাম খান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুমকি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বিএআরআই, পটুয়াখালীর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচ.এম খায়রুল বাসার।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, “আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র মাদারীপুরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলে ডাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বারি মুগ-৬ জাতের উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, সরেজমিন গবেষণা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), পটুয়াখালী এ কর্মসূচির আয়োজন করে। মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক, কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আগ্রহী ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন এবং উন্নত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বারি মুগ-৬ একটি উচ্চ ফলনশীল জাত, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা কৃষকদের এ জাতের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তিথি অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হয়েছে গঙ্গাস্নান ও বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর থেকেই পুণ্য অর্জনের আশায় সাগরকন্যা কুয়াকাটায় জড়ো হন হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও আশ্রমের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ভোর ৫টা থেকে শুরু হয় আবাহনী সংগীত, সমবেত প্রার্থনা, মঙ্গলঘট স্থাপন, শ্রীশ্রী বিষ্ণু পূজা ও গঙ্গামায়ের পূজা। এরপর সকাল ১০টার দিকে সৈকতের বিস্তীর্ণ বালুচরে শুরু হয় গঙ্গাস্নান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, অক্ষয় তৃতীয়া একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই দিনে বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম হয়, যা পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। পাশাপাশি, শাস্ত্রীয় বিশ্বাস মতে, এদিনই মহর্ষি বেদব্যাস ও গণেশ মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী নিহার রঞ্জনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ ও আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীশ্রী জয়দেব ঠাকুর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরপ্রিয়া দেবী এবং পরমপূজ্যপাদ ঋত্বিক মহারাজ ডা. রাধাস্বামীসহ স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্বরা।
সারা দেশ থেকে আসা হাজারো ভক্ত দিনব্যাপী ধর্মীয় আলোচনা, গীতা পাঠ ও বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন। অনেককে পরিবার-পরিজনসহ সাগরস্নানে অংশ নিয়ে অর্ঘ্য অর্পণ করতে দেখা যায়।
পিরোজপুর থেকে আসা এক পুণ্যার্থী জানান, এই তিথিতে গঙ্গাস্নান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয় এবং জীবনের সব গ্লানি ও দুঃখ-কষ্ট দূর হয়, এমনটাই আমাদের বিশ্বাস।
কুয়াকাটা শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমের সাধারণ সম্পাদক নিহার রঞ্জন জানান, প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অক্ষয় তৃতীয়া উদযাপিত হয়েছে। ভক্তদের নির্বিঘ্নে প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি ছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বিক সহযোগিতা পাওয়া গেছে।