চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় হৃদ্রোগে বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় বাসচাপায় প্রাণ গেল ছেলের। ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ওই যুবক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাসটি জব্দ করেছে। তবে ঘাতক বাসচালক পালিয়ে গেছে।
শনিবার (১৪ জুন) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মতলব-বাবুরহাট পেন্নাই সড়কের বরদিয়া এলাকায় জৈনপুর পরিবহন বাসচাপায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
নিহত মুরাদ হোসেন (৩৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সহায়ক ছিলেন। তিনি স্ত্রী, ৩ ও ১ বছরের ২টি শিশু সন্তান রেখে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, শনিবার সকালে বাবুরহাট থেকে ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহন যাত্রীবাহী বাসটি ছেড়ে আসে। বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে বরদিয়া সরকার বাড়ি এলাকায় দ্রুতগামী ঘাতক বাসটি চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মোটরসাইকেল আরোহী মুরাদ ছিটকে পড়ে গুরতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে তার অবস্থা বেগতিক দেখে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম লিমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী ইফরিন সুলতানা বলেন, আমার স্বামী ঢাকা হাইকোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় একটি বাসায় থাকতেন। পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বে সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন।
এখন ঢাকা থেকে আমাদের নিতে আসছিলেন। আমার শ্বশুর-শাশুড়িও মারা গেছেন। আল্লাহ আমার স্বামীকেও নিয়ে গেল। এখন আমি আমার ২টা ছোট্ট ছোট্ট ছেলে সন্তান নিয়ে কীভাবে থাকব?
নিহতের চাচাতো ভাই মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরাদের বাবা মারা যান। সপ্তাহ না যেতেই আজ দুর্ঘটনায় মারা গেল মুরাদ। এত অল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের দুজন সদস্যের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এ ঘটনায় পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের মামাতো ভাই হারুনর রশীদ বলেন, আমার ভাই সরকারি চাকরি করত। আমার ভাইয়ের ২টি সন্তান আছে। কখনোই মুরাদ হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালায়নি। যখনই বাইক চালায় খুব সতর্কভাবে চালাত। আগে বিভিন্ন পত্রিকায় দেখছি এই রোডে বাসের অদক্ষ ড্রাইভারের কারণে অনেক মানুষ মারা গেছে। আমার ভাইকে যে বাস চাপা দিয়ে মেরেছে তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় রিপন ভুঁইয়া, শারমিন আক্তারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মতলব-ঢাকা সড়কে জৈনপুর পরিবহন বাসগুলো বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করে। এছাড়া প্রায় সময় হেলপার দিয়ে বাস চালায়।
তাদের বেপরোয়া চালানোর কারণে গত রোববার (০৮ জুন) একই এলাকায় জৈনপুর পরিবহন বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ঘটনাস্থলেই ২ জন মারা যান এবং আহত হন চার যাত্রী। দোষীদের বিচারের দাবি জানান তারা।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. সালেহ আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। চাঁদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

১৪ জুন, ২০২৫ ২০:০৯
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় হৃদ্রোগে বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহের মাথায় বাসচাপায় প্রাণ গেল ছেলের। ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন ওই যুবক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বাসটি জব্দ করেছে। তবে ঘাতক বাসচালক পালিয়ে গেছে।
শনিবার (১৪ জুন) আনুমানিক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মতলব-বাবুরহাট পেন্নাই সড়কের বরদিয়া এলাকায় জৈনপুর পরিবহন বাসচাপায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়।
নিহত মুরাদ হোসেন (৩৫) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার মধুপুর গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সহায়ক ছিলেন। তিনি স্ত্রী, ৩ ও ১ বছরের ২টি শিশু সন্তান রেখে গেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, শনিবার সকালে বাবুরহাট থেকে ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহন যাত্রীবাহী বাসটি ছেড়ে আসে। বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটিকে বরদিয়া সরকার বাড়ি এলাকায় দ্রুতগামী ঘাতক বাসটি চাপা দেয়।
এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মোটরসাইকেল আরোহী মুরাদ ছিটকে পড়ে গুরতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে।
অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যে তার অবস্থা বেগতিক দেখে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম লিমন তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী ইফরিন সুলতানা বলেন, আমার স্বামী ঢাকা হাইকোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় একটি বাসায় থাকতেন। পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বে সবাইকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন।
এখন ঢাকা থেকে আমাদের নিতে আসছিলেন। আমার শ্বশুর-শাশুড়িও মারা গেছেন। আল্লাহ আমার স্বামীকেও নিয়ে গেল। এখন আমি আমার ২টা ছোট্ট ছোট্ট ছেলে সন্তান নিয়ে কীভাবে থাকব?
নিহতের চাচাতো ভাই মোবারক হোসেন বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরাদের বাবা মারা যান। সপ্তাহ না যেতেই আজ দুর্ঘটনায় মারা গেল মুরাদ। এত অল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের দুজন সদস্যের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। এ ঘটনায় পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের মামাতো ভাই হারুনর রশীদ বলেন, আমার ভাই সরকারি চাকরি করত। আমার ভাইয়ের ২টি সন্তান আছে। কখনোই মুরাদ হেলমেট ছাড়া গাড়ি চালায়নি। যখনই বাইক চালায় খুব সতর্কভাবে চালাত। আগে বিভিন্ন পত্রিকায় দেখছি এই রোডে বাসের অদক্ষ ড্রাইভারের কারণে অনেক মানুষ মারা গেছে। আমার ভাইকে যে বাস চাপা দিয়ে মেরেছে তাদের সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় রিপন ভুঁইয়া, শারমিন আক্তারসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, মতলব-ঢাকা সড়কে জৈনপুর পরিবহন বাসগুলো বেপরোয়াভাবে যাতায়াত করে। এছাড়া প্রায় সময় হেলপার দিয়ে বাস চালায়।
তাদের বেপরোয়া চালানোর কারণে গত রোববার (০৮ জুন) একই এলাকায় জৈনপুর পরিবহন বাসচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ঘটনাস্থলেই ২ জন মারা যান এবং আহত হন চার যাত্রী। দোষীদের বিচারের দাবি জানান তারা।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি মো. সালেহ আহমেদ বলেন, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে যাই। আহত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। চাঁদপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬