বরিশালের ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে এক সময়কার তরুণ নেতা গোলাম ফারুক অভি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার একটি জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মডেল ও অভিনয়শিল্পী সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাবেক এই সাংসদ ২০০২ সালের শেষের দেশত্যাগ করেছিলেন। তারপরে দীর্ঘ বছর ধরে তিনি কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আলোচিত হত্যা মামলাটি থেকে খালাস পেয়েছে তিনি।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তৎসময়ের জনপ্রিয় এমপি অভির দেশে ফিরে নিজ এলাকা উজিরপুর-বানারীপাড়া থেকে সাংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। এনিয়ে এখন পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে ভোটারদের মুখে মুখে অভির দেশে ফেরা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বরিশাল ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন সরফুদ্দিন সান্টু, দুলাল হোসেন, রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং সাইফ মাহমুদ জুয়েল। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীতার ঘোষণা দিয়ে মাঠে আছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আব্দুল মান্নান এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভব্য প্রার্থীদের তৎপরতার মধ্যে হঠাৎই আলোচনায় আসলেন কানাডায় অবস্থানরত সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভি।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গোলাম ফারুক অভি বিএনপির ছাত্রসংগঠনের নেতা হলেও তিনি ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। এবং সংসদীয় এলাকার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০২ সালের শেষের দিকে মডেল ও অভিনয়শিল্পী সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যাকাণ্ডে আলোচিত এই নেতার নামটি জড়িয়ে যায়। তৎকালীন সময়ে পুলিশ এই হত্যা মামলায় একমাত্র অভিকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন।
সূত্রগুলো জানায়, আলোচিত এই মামলাটির কারণে সাবেক এমপি অভির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দুর্বিসহ ওঠে এবং তার করান্তরীণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। তখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০৭ সালে ও ২০১৮ সালে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে লাল নোটিস জারি করে। তবে অভি শুরু থেকেই মডেল তিন্নির প্রাণবিয়োগের ঘটনাটিকে আত্মহত্যা দাবি করে আসছিলেন এবং আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে লড়াইও করছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে অভির এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ৫ বছর স্থগিত থাকার পরে ২০১৫ সালে মামলাটির বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১৯ অগাস্ট মামলাটি রায়ের জন্য ধার্য ছিল। রায়ের তারিখ ৪১ বার পরিবর্তন করার পর ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে মামলাটির সাক্ষ্য পর্ব আবার নতুন করে শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোছা: শাহীনুর আক্তার এই মামলা থেকে গোলাম ফারুক অভিকে খালাস দেন।
হত্যা মামলায় আদালত থেকে রেহাই পাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার-প্রকাশ হলেও সাবেক এই এমপিকে কোনোর রূপ মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। এবং তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন তাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইতিমধ্যে উজিরপুর-বানারীপাড়ার মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে অভি দেশে ফিরছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিবেন।
স্থানীয় অনেকে বলছেন, গোলাম ফারুক অভি দীর্ঘ দুই যুগ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিন্নি হত্যা মামলায় তিনি খালাসপ্রাপ্ত হওয়ার পরে এলাকায় অনেকের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এবং ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নিতেও তার আগ্রহের কথা শোনা যাচ্ছে। জনপ্রিয় এই নেতৃত্ব যদি স্বতন্ত্র হিসেবেও প্রার্থী হন তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিদের ঘাম ঝরতে পারে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, আলোচিত মামলা থেকে অভির দেশে ফেরা এবং উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনে তার নির্বাচন অংশ নেওয়ার গুঞ্জনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। তাদের নেতার সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই মাঠে নেমে পড়তে পারেন।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, জনপ্রিয় অভি ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নিলে অনেক হিসেব পাল্টে যাবে। সেক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার বিষয়টি অনেকের কাছে চিন্তার হতে পারে। তবে অভি আদৌ দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন কী না সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক কি সিদ্ধান্ত নেন সেটাই এখন দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৮
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।
বরিশালের উজিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে এক শয্যাশায়ী ব্যক্তির বসতঘর থেকে চিকিৎসার জন্য রাখা ১৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) গৌরনদী সার্কেলের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে গত এক মাসে দুই দফায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বিলাঞ্চল ওড়াবাশবাড়ি গ্রামের কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন সাদা পোশাকে আসা ডিএনসি সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কামরুজ্জামান কালুর চিকিৎসার জন্য বালিশের নিচে ১৫ হাজার টাকা রাখা ছিল। ঘরে তল্লাশির সময় ওই টাকা নিয়ে যান অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেছেন কালুর স্ত্রী সুখী বেগম।
সুখী বেগমের দাবি, বৃহস্পতিবার সকালে ফাইজুল ইসলাম ও হৃদয়সহ চার থেকে পাঁচজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুরুতে নিজেদের পরিচয় না দিয়ে তাঁর স্বামীকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন তাঁরা।
সুখী বেগম বলেন, অভিযানে আসা ব্যক্তিরা তাঁকে বলেন, তাঁর স্বামী মাদক সেবন ছেড়ে দিলেও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আগের মাদক সেবনের বিষয়টি বের করে মামলা দেওয়া হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন বাড়িতে জড়ো হন। পরে গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেনকে খবর দেওয়া হয়। তাঁর উপস্থিতিতে বসতঘরে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি বলে জানান স্থানীয়রা।
সুখী বেগমের অভিযোগ, তল্লাশির একপর্যায়ে বালিশের নিচে রাখা চিকিৎসার ১৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, স্বামী কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। অথচ তাঁকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএনসি গৌরনদী সার্কেলের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার। তাঁর নেতৃত্বে অভিযানে রুবেল হোসেন, ফয়সাল হোসেনসহ কয়েকজন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, কামরুজ্জামান কালুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। এটি তাঁদের একটি ‘নিষ্ফল অভিযান’ ছিল।
তবে তল্লাশির সময় টাকা চুরি এবং এর আগে দুই দফায় টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নাজির হোসেন বলেন, সাদা পোশাকে ডিএনসি কর্মকর্তারা কালুর বাড়িতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। তবে বাড়ি থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. তানভীর হোসেন খান বলেন, গৌরনদী সার্কেল থেকে সকালে একটি অভিযান পরিচালনার তথ্য তাঁর জানা আছে। তবে সেটি উজিরপুরে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নন।
টাকা চুরি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানাবেন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসআই ফাইজুল ইসলাম হাওলাদার দীর্ঘ সাত বছর ধরে গৌরনদী সার্কেলে দায়িত্ব পালন করছেন। একই স্টেশনে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা হারানোর অভিযোগ তুলে সুখী বেগম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগের বিষয়ে ডিএনসি কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে কী উঠে আসে।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:১১
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দুই শ্রমিক। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এসএস প্রি-ক্যাডেট স্কুলসংলগ্ন ব্যবসায়ী রিয়াজ হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে জামাল হোসেন (৫০) এবং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চুন্নু মিয়ার ছেলে মো. সোহাগ (৪২)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সৃষ্টি শিক্ষা একাডেমির শিক্ষক জাকির হোসেন জানান, দুপুরে নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংকের বাঁশ খুলতে গিয়ে দুই শ্রমিক ভেতরে পড়ে যান। ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে তাঁরা বিপদে পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বানারীপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, বেলা পৌনে ১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শ্রমিককে ট্যাংকের ভেতরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষাক্ত গ্যাসের কারণে প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে অক্সিজেন ব্যবহার করে গ্যাস অপসারণের পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
পরে তাঁদের বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, সেপটিক ট্যাংকে সেন্টারিংয়ের কাজ করার সময় দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লুৎফুর আজিজের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৭
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটকবাহী একটি বাস বরগুনার আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়েছে। এতে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বরগুনার আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ইমরান পরিবহনের বাসটি বুধবার রাতে ঢাকা থেকে পর্যটক ও অন্যান্য যাত্রী নিয়ে কুয়াকাটার উদ্দেশে রওনা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগে একটি বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত ৪ থেকে ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির বেশির ভাগ যাত্রীই কুয়াকাটার পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জানতে পেরেছেন, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসের চালক নেমে যান। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন তাঁর সহকারী (হেলপার)। সড়কের একটি বাঁক ঘোরার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বাসের চালক ও সহকারী পলাতক থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৩:২৮
বরিশালের ২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে এক সময়কার তরুণ নেতা গোলাম ফারুক অভি প্রতিদ্বন্দ্বীতা করার একটি জোরালো গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। মডেল ও অভিনয়শিল্পী সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হয়ে সাবেক এই সাংসদ ২০০২ সালের শেষের দেশত্যাগ করেছিলেন। তারপরে দীর্ঘ বছর ধরে তিনি কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে আছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আলোচিত হত্যা মামলাটি থেকে খালাস পেয়েছে তিনি।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তৎসময়ের জনপ্রিয় এমপি অভির দেশে ফিরে নিজ এলাকা উজিরপুর-বানারীপাড়া থেকে সাংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভবনা প্রবল হয়ে উঠেছে। এনিয়ে এখন পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য না পাওয়া গেলেও বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে ভোটারদের মুখে মুখে অভির দেশে ফেরা এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বরিশাল ২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইছেন সরফুদ্দিন সান্টু, দুলাল হোসেন, রওনাকুল ইসলাম টিপু এবং সাইফ মাহমুদ জুয়েল। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বীতার ঘোষণা দিয়ে মাঠে আছেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাস্টার আব্দুল মান্নান এবং ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন। নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভব্য প্রার্থীদের তৎপরতার মধ্যে হঠাৎই আলোচনায় আসলেন কানাডায় অবস্থানরত সাবেক এমপি গোলাম ফারুক অভি।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, গোলাম ফারুক অভি বিএনপির ছাত্রসংগঠনের নেতা হলেও তিনি ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। এবং সংসদীয় এলাকার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০০২ সালের শেষের দিকে মডেল ও অভিনয়শিল্পী সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যাকাণ্ডে আলোচিত এই নেতার নামটি জড়িয়ে যায়। তৎকালীন সময়ে পুলিশ এই হত্যা মামলায় একমাত্র অভিকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেন।
সূত্রগুলো জানায়, আলোচিত এই মামলাটির কারণে সাবেক এমপি অভির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দুর্বিসহ ওঠে এবং তার করান্তরীণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসে। তখন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ২০০৭ সালে ও ২০১৮ সালে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে লাল নোটিস জারি করে। তবে অভি শুরু থেকেই মডেল তিন্নির প্রাণবিয়োগের ঘটনাটিকে আত্মহত্যা দাবি করে আসছিলেন এবং আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে লড়াইও করছিলেন।
সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্টের নির্দেশে অভির এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ৫ বছর স্থগিত থাকার পরে ২০১৫ সালে মামলাটির বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১৯ অগাস্ট মামলাটি রায়ের জন্য ধার্য ছিল। রায়ের তারিখ ৪১ বার পরিবর্তন করার পর ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য পুনরায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে মামলাটির সাক্ষ্য পর্ব আবার নতুন করে শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোছা: শাহীনুর আক্তার এই মামলা থেকে গোলাম ফারুক অভিকে খালাস দেন।
হত্যা মামলায় আদালত থেকে রেহাই পাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার-প্রকাশ হলেও সাবেক এই এমপিকে কোনোর রূপ মন্তব্য করতে শোনা যায়নি। এবং তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন তাও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইতিমধ্যে উজিরপুর-বানারীপাড়ার মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে অভি দেশে ফিরছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিবেন।
স্থানীয় অনেকে বলছেন, গোলাম ফারুক অভি দীর্ঘ দুই যুগ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিন্নি হত্যা মামলায় তিনি খালাসপ্রাপ্ত হওয়ার পরে এলাকায় অনেকের সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। এবং ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নিতেও তার আগ্রহের কথা শোনা যাচ্ছে। জনপ্রিয় এই নেতৃত্ব যদি স্বতন্ত্র হিসেবেও প্রার্থী হন তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিদের ঘাম ঝরতে পারে।
নিশ্চিত হওয়া গেছে, আলোচিত মামলা থেকে অভির দেশে ফেরা এবং উজিরপুর-বানারীপাড়া আসনে তার নির্বাচন অংশ নেওয়ার গুঞ্জনে স্থানীয় বাসিন্দাদের বড় একটি অংশ অধির আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছেন। তাদের নেতার সিদ্ধান্ত আসা মাত্রই মাঠে নেমে পড়তে পারেন।
রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, জনপ্রিয় অভি ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশ নিলে অনেক হিসেব পাল্টে যাবে। সেক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলার বিষয়টি অনেকের কাছে চিন্তার হতে পারে। তবে অভি আদৌ দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নেবেন কী না সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক কি সিদ্ধান্ত নেন সেটাই এখন দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮