
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:১৭
পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনগণনার দাবিতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এ দুই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় 'অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না', 'ভোট গণনা বাতিল চাই, করতে হবে'সহ ভোট পুনগণনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। কার্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
এ সময় পরাজিত দুই প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানান। তারপর সেখান থেকে তারা বের হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে যান।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন জানান, নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। অযথা আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে।
তাই আমি পুনরায় ভোট গণনার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি পুনরায় ভোট গণনা করা হলে আমি জয়ী হব। একই দাবি জানান পাবনা-৪ আসনে বিএনপি'র পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জানান, জেলা প্রশাসক দুই প্রার্থীর আবেদন ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। এখন এ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আপাতত নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোন বিষয় এখানে নেই।
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল বিজয়ী হোন। আবু তালেব মন্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
পাবনা-৩ আসনে ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে বিজয়ী হোন জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার। মাওলানা আলী আজগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির তুহিন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।
পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনে ভোট পুনগণনার দাবিতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয় এ দুই আসনের বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় 'অবৈধ নির্বাচন মানি না, মানবো না', 'ভোট গণনা বাতিল চাই, করতে হবে'সহ ভোট পুনগণনার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
এদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রধান গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। কার্যালয়ের সামনে পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়।
এ সময় পরাজিত দুই প্রার্থী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের আবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে বলে জানান। তারপর সেখান থেকে তারা বের হয়ে নেতাকর্মীদের নিয়ে চলে যান।
পাবনা-৩ আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন জানান, নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না। অযথা আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে। ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে।
তাই আমি পুনরায় ভোট গণনার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি পুনরায় ভোট গণনা করা হলে আমি জয়ী হব। একই দাবি জানান পাবনা-৪ আসনে বিএনপি'র পরাজিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম জানান, জেলা প্রশাসক দুই প্রার্থীর আবেদন ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো হয়েছে। এখন এ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। আপাতত নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কোন বিষয় এখানে নেই।
উল্লেখ্য, পাবনা-৪ আসনে ৩ হাজার ৮০১ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের আবু তালেব মন্ডল বিজয়ী হোন। আবু তালেব মন্ডল পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুর রহমান হাবিব ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।
পাবনা-৩ আসনে ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে বিজয়ী হোন জামায়াতের মাওলানা আলী আজগার। মাওলানা আলী আজগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাসান জাফির তুহিন ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৬ ভোট।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৩৮
জাতীয় পার্টির (জাপা) দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে ঘটেছে চরম ভরাডুবি। দলটির চার দশকের ইতিহাসে এই প্রথম রংপুরসহ সারাদেশে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে রংপুরে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, লাঙ্গল এর আবেগ থেকে সরে এসে রংপুরের মানুষ পরিবর্তিত রাজনীতির পক্ষে রায় দিয়েছেন।
নির্বাচনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। একইভাবে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনেও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
এদিকে দলটির ভরাডুবিকে কেন্দ্র করে রংপুরে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সামনে একটি লাঙল রেখে তার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। কয়েকটি ফেসবুক পেজে ছবিটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, ‘রংপুরের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গলের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হলো।’ তবে ছবিটি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের সাবেক মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার তার ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, আমিন।
অন্যদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, লীগের গৃহপালিত জাতীয় পার্টি ইন্তেকাল করেছে। ধন্যবাদ রংপুরবাসী। ধন্যবাদ এই যুদ্ধের সকল নায়ককে, তৃপ্তি।
সংবাদকর্মী ও ছড়াকার জয়নাল আবেদীন লিখেছেন, রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আবারও ভুল করেছে।
ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট পেপার গণনার সময় আতিক হাসান নামে আরেক সংবাদকর্মী লিখেছেন, রংপুরে আইসিইউতে জাতীয় পার্টি। সন্ধ্যার পর মৃত ঘোষণা হতে পারে। জাপার ভোটের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।
ভাইরাল ছবিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল একে ‘রাজনৈতিক প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অনেকে এটিকে ‘অতিরঞ্জিত ও অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করছেন।
রংপুর শহরই দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর বাড়ি। ফলে এ অঞ্চলে বরাবরই লাঙলের শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় জাতীয় পার্টি কোনো আসনেই জয় পায়নি।
এবার রাজনৈতিক পালাবদলে রংপুরে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গ তছনছ করে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। রংপুরের ৬টি আসনের ৫টিতে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী এনসিপি।
এই নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয় আর জাতীয় পার্টি আসনশুন্য অবস্থান আগামীতে রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেউ কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। তবে উন্নয়ন-বৈষম্য থেকে বের হতে না পারলে আবারও পিছিয়ে যাবে তিস্তা নদীবেষ্টিত কৃষিনির্ভর রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা।
এদিকে, ভোটের দিন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে কোথাও দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন না জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও। অনেকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য।
জিএম কাদের নিজেও বের হননি রংপুরের সেনপাড়ার স্কাই ভিউ নিবাস থেকে। এমনকি সাংবাদিকরা তার বাসার সামনে কয়েক দফায় জড়ো হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে, একটি সূত্র জানিয়েছে, জিএম কাদের শুক্রবার সকালে গোপনেই রংপুর থেকে ঢাকায় চলে গেছেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) দুর্গ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে দলটি। ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে ঘটেছে চরম ভরাডুবি। দলটির চার দশকের ইতিহাসে এই প্রথম রংপুরসহ সারাদেশে ১৯৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটিতেও জয়ের দেখা পায়নি লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থীরা।
আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টির এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে রংপুরে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, লাঙ্গল এর আবেগ থেকে সরে এসে রংপুরের মানুষ পরিবর্তিত রাজনীতির পক্ষে রায় দিয়েছেন।
নির্বাচনের ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের রংপুর-৩ (সিটি করপোরেশন ও সদর) আসনে তৃতীয় হয়েছেন। একইভাবে দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনেও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
এদিকে দলটির ভরাডুবিকে কেন্দ্র করে রংপুরে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। সামাজিক মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই একটি ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, সামনে একটি লাঙল রেখে তার জানাজার নামাজ পড়া হচ্ছে। কয়েকটি ফেসবুক পেজে ছবিটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, ‘রংপুরের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙ্গলের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হলো।’ তবে ছবিটি কোথায় এবং কবে তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর মহানগরের সাবেক মুখপাত্র নাহিদ হাসান খন্দকার তার ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করে লিখেছেন, আমিন।
অন্যদিকে, জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, লীগের গৃহপালিত জাতীয় পার্টি ইন্তেকাল করেছে। ধন্যবাদ রংপুরবাসী। ধন্যবাদ এই যুদ্ধের সকল নায়ককে, তৃপ্তি।
সংবাদকর্মী ও ছড়াকার জয়নাল আবেদীন লিখেছেন, রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আবারও ভুল করেছে।
ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট পেপার গণনার সময় আতিক হাসান নামে আরেক সংবাদকর্মী লিখেছেন, রংপুরে আইসিইউতে জাতীয় পার্টি। সন্ধ্যার পর মৃত ঘোষণা হতে পারে। জাপার ভোটের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন।
ভাইরাল ছবিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল একে ‘রাজনৈতিক প্রতীকী প্রতিবাদ’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অনেকে এটিকে ‘অতিরঞ্জিত ও অসম্মানজনক’ বলে মন্তব্য করছেন।
রংপুর শহরই দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর বাড়ি। ফলে এ অঞ্চলে বরাবরই লাঙলের শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার সেই চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা এগিয়ে থাকায় জাতীয় পার্টি কোনো আসনেই জয় পায়নি।
এবার রাজনৈতিক পালাবদলে রংপুরে বড় ধরনের চমক দেখিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এরশাদের হাতেগড়া জাতীয় পার্টির দুর্গ তছনছ করে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে জামায়াতের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। রংপুরের ৬টি আসনের ৫টিতে বিজয়ী হয়েছে জামায়াত ও একটিতে জোটসঙ্গী এনসিপি।
এই নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থীদের বিএনপির সঙ্গে লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয় আর জাতীয় পার্টি আসনশুন্য অবস্থান আগামীতে রংপুর অঞ্চলের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কেউ কেউ মনে করছেন, এবার রংপুরের জনগণ আবেগের লাঙ্গল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ায় জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিএনপির সঙ্গে। তবে উন্নয়ন-বৈষম্য থেকে বের হতে না পারলে আবারও পিছিয়ে যাবে তিস্তা নদীবেষ্টিত কৃষিনির্ভর রংপুর অঞ্চলের মানুষেরা।
এদিকে, ভোটের দিন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে কোথাও দেখা যায়নি। মাঠে ছিলেন না জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারাও। অনেকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি বক্তব্য।
জিএম কাদের নিজেও বের হননি রংপুরের সেনপাড়ার স্কাই ভিউ নিবাস থেকে। এমনকি সাংবাদিকরা তার বাসার সামনে কয়েক দফায় জড়ো হলেও তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি। তবে, একটি সূত্র জানিয়েছে, জিএম কাদের শুক্রবার সকালে গোপনেই রংপুর থেকে ঢাকায় চলে গেছেন।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০৫
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শহরের থানা রোডস্থ নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিএনপি কর্মী খোকন হোসেন ও তার ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইবন হোসেন। আহতরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব নির্বাচিত হন। সেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
সে সময় ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার করা হয়েছে। এরমধ্যে গুরুতর আহত ইবনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, নির্বাচনের পরের দিন আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি হামলার বিষয়ে আগে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং হামলার দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে আসে।
অফিসে ঢুকে তারা হামলা চালিয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। এভাবে চলতে থাকলে এই আসনে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তিনি অবিলম্বে ওসি প্রত্যাহারের দাবি জানান। কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শহরের থানা রোডস্থ নির্বাচনী অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ আলী, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিএনপি কর্মী খোকন হোসেন ও তার ছেলে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইবন হোসেন। আহতরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী আবু তালিব নির্বাচিত হন। সেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ও ধানের শীষের প্রার্থী রাশেদ খান। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শুক্রবার সকালে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
সে সময় ৪ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। ২ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে রেফার করা হয়েছে। এরমধ্যে গুরুতর আহত ইবনকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বলেন, নির্বাচনের পরের দিন আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। বিষয়টি হামলার বিষয়ে আগে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং হামলার দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে আসে।
অফিসে ঢুকে তারা হামলা চালিয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে তারা চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। এভাবে চলতে থাকলে এই আসনে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হবে। তিনি অবিলম্বে ওসি প্রত্যাহারের দাবি জানান। কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৪৩
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।
এর আগে ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে। এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় নারী-পুরুষের ভিড় চলছে। অন্যদিকে তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।
এলাকাবাসী জানান, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যেতে বারণ করেন তার স্বামী কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায়। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোট দিয়ে সকাল ১০টায় ঘরে ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য নাশতা বানান।
কাওসার ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১টার দিকে নাশতা খান। এরপর এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর শুনে সন্ধ্যার সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন। আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে আটক করে রাখে। এক পর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
নুরুল আফছার নামে এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়।
আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, শ্বশুরকেও মারধর করেন কয়েকবার। মোহাম্মদ আজাদ নামে স্থানীয় এক সালিশদার জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
কাওসার একজন উগ্র লোক উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন।
জানা গেছে, বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন।
ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ার অপরাধে বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।
এর আগে ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটক রাখেন। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন এমন কথা বলে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।
কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে। এ ঘটনার পর বিবি জহুরাকে ঘিরে এলাকায় নারী-পুরুষের ভিড় চলছে। অন্যদিকে তিন সন্তান নিয়ে জহুরা পড়েছেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে।
এলাকাবাসী জানান, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে না যেতে বারণ করেন তার স্বামী কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় উৎসাহের সঙ্গে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন সকাল সাড়ে ৯টায়। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোট দিয়ে সকাল ১০টায় ঘরে ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য নাশতা বানান।
কাওসার ঘুম থেকে উঠে সকাল ১১টার দিকে নাশতা খান। এরপর এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে ফের ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে জানতে পারেন তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর শুনে সন্ধ্যার সময় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন ভোটের বিষয়ে। জহুরা তার জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিক তিন তালাক দেন কাওসার। এ সময় স্ত্রীকে তার ঘরে যেতে বারণ করেন। আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে কাওসারকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে আটক করে রাখে। এক পর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কাওসার কৌশলে পালিয়ে যান।
২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কাওসার। এর মধ্যে তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮), ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান জন্ম নেয়।
নুরুল আফছার নামে এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে সবসময় মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়।
আলী আহম্মদ নামে আরেকজন জানান, শ্বশুরকেও মারধর করেন কয়েকবার। মোহাম্মদ আজাদ নামে স্থানীয় এক সালিশদার জানান, কয়েকবার বিচারে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
কাওসার একজন উগ্র লোক উল্লেখ করে তিনি জানান, আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে মানুষকে জিম্মি করতেন।
জানা গেছে, বাবার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা বিবেচনা করে স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগর হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি অনেকটা ঘরে আবদ্ধ থাকতেন।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.