
১২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০১
বরিশালে শিয়াল পিটিয়ে হত্যা এবং মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়ার ভাইরাল ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। রোববার বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আলোচিত এই শিয়ালকাণ্ডের মামলায় শহরের ২৬ নং ওয়ার্ডের চার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৩৩), মোহাম্মদ হারিস (৩৬), কামাল খলিফা (৩২) এবং মোহাম্মদ জামাল খলিফাকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্টে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ, গত ২ জুলাই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় উল্লেখিত ব্যক্তি একে একে সাতটি শিয়াল ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে নৈতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে এই মৃত শিয়ালের মাংস রান্না করার আরও বেশকিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে লেখালেখির পাশাপাশি শিয়ালের মাংস রুটি দিয়ে খাবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসা হয়। এতে পশুপ্রেমিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি ওঠে।
অবশ্য এর মধ্যেই শিয়ালকাণ্ডে জড়িতদের ‘শিয়াল খেকো’সহ রাক্ষুস উপাধি দেওয়া হয়! পাশাপাশি নাগরিক সমাজের ভেতর থেকে গ্রেপ্তারপরবর্তী আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি আলো বিষয়টি আলোচনায় প্রাধন্য পায়।
ধারনা করা হচ্ছে, পশুপ্রেমি ও নাগরিক সমাজের দাবির প্রেক্ষাপটে শিয়ালকাণ্ডে ৮ দিন পরে ১২ জুলাই রাষ্ট্রের তরফ থেকে আইন ব্যবস্থা নেওয়া। বন বিভাগের কর্মকর্তা বাদী হয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলাটি করেন।
বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, স্থানীয় লোকজন শিয়ালগুলোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছেন। অমানবিক এই ঘটনা সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়, এছাড়া ফেসবুকেও এনিয়ে নেতিবাচক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সংবাদপত্র বা ফেসবুকে শিয়ালগুলোর মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়া হয়েছে বলে প্রচার করেছে, তবে এই তথ্য কতদূর সত্য তা আরও তদন্তের আগে বলা সম্ভবপর নয়।
শিয়ালগুলো মাংস রান্না করে খাওয়া হয়েছে কী না- এই বিষয়টি জানতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে ভিন্নভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, রান্না করে রুটি দিয়ে খেয়েছেন, আবার কেউ বলছেন, মেরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এবং এই ঘটনায় বিতর্ক শুরু হলে ওই চার ব্যক্তিসহ কজন লোকলজ্জায় অন্তরালে থাকেন। রোববার বিকেলে মামলা হওয়ার খবর এলাকায় পৌছানোর আগেই তাদের দেখা যাচ্ছে না।
রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, শিয়ালকাণ্ডে বন বিভাগের নালিশি করেছে, তা মামলা হিসেবে বিচারক গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কোর্টে প্রেরণ করেছেন। পরবর্তী কার্যদিবসে সেই আদালত থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদেশ হতে পারে।’
বরিশালে শিয়াল পিটিয়ে হত্যা এবং মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়ার ভাইরাল ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। রোববার বরিশাল সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বাদী হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আলোচিত এই শিয়ালকাণ্ডের মামলায় শহরের ২৬ নং ওয়ার্ডের চার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৩৩), মোহাম্মদ হারিস (৩৬), কামাল খলিফা (৩২) এবং মোহাম্মদ জামাল খলিফাকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্টে প্রেরণ করেছেন বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ, গত ২ জুলাই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় উল্লেখিত ব্যক্তি একে একে সাতটি শিয়াল ধরে পিটিয়ে হত্যা করেন। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে নৈতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে এই মৃত শিয়ালের মাংস রান্না করার আরও বেশকিছু ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এবং এনিয়ে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে লেখালেখির পাশাপাশি শিয়ালের মাংস রুটি দিয়ে খাবার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসা হয়। এতে পশুপ্রেমিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি ওঠে।
অবশ্য এর মধ্যেই শিয়ালকাণ্ডে জড়িতদের ‘শিয়াল খেকো’সহ রাক্ষুস উপাধি দেওয়া হয়! পাশাপাশি নাগরিক সমাজের ভেতর থেকে গ্রেপ্তারপরবর্তী আইনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়টি আলো বিষয়টি আলোচনায় প্রাধন্য পায়।
ধারনা করা হচ্ছে, পশুপ্রেমি ও নাগরিক সমাজের দাবির প্রেক্ষাপটে শিয়ালকাণ্ডে ৮ দিন পরে ১২ জুলাই রাষ্ট্রের তরফ থেকে আইন ব্যবস্থা নেওয়া। বন বিভাগের কর্মকর্তা বাদী হয়ে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলাটি করেন।
বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে জানান, স্থানীয় লোকজন শিয়ালগুলোকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছেন। অমানবিক এই ঘটনা সংবাদপত্রে শিরোনাম হয়, এছাড়া ফেসবুকেও এনিয়ে নেতিবাচক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সংবাদপত্র বা ফেসবুকে শিয়ালগুলোর মাংস রান্না করে রুটি দিয়ে খাওয়া হয়েছে বলে প্রচার করেছে, তবে এই তথ্য কতদূর সত্য তা আরও তদন্তের আগে বলা সম্ভবপর নয়।
শিয়ালগুলো মাংস রান্না করে খাওয়া হয়েছে কী না- এই বিষয়টি জানতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে ভিন্নভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, রান্না করে রুটি দিয়ে খেয়েছেন, আবার কেউ বলছেন, মেরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এবং এই ঘটনায় বিতর্ক শুরু হলে ওই চার ব্যক্তিসহ কজন লোকলজ্জায় অন্তরালে থাকেন। রোববার বিকেলে মামলা হওয়ার খবর এলাকায় পৌছানোর আগেই তাদের দেখা যাচ্ছে না।
রোববার সন্ধ্যায় বরিশাল আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, শিয়ালকাণ্ডে বন বিভাগের নালিশি করেছে, তা মামলা হিসেবে বিচারক গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কোর্টে প্রেরণ করেছেন। পরবর্তী কার্যদিবসে সেই আদালত থেকে বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদেশ হতে পারে।’

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫৭
সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘রাইট টক বাংলাদেশ’-এর বরিশাল বিভাগীয় টিমের আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। অনুমোদিত কমিটিতে বরিশাল পোস্ট এর সম্পাদক ও তরুণ সংগঠক মজিবর রহমান নাহিদকে সভাপতি এবং রুমান হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আল আমিন এম তাওহীদ এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সবাই মিলে বাংলা সাজাই’ স্লোগানকে ধারণ করে রাইট টক বাংলাদেশ সমাজে দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের প্রতিটি সদস্য একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানবতার সেবায় কাজ করবেন এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
নব-নির্বাচিত সভাপতি মজিবর রহমান নাহিদ বলেন, “রাইট টক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। বরিশালে মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
রাইট টক বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। ‘সবাই মিলে বাংলা সাজাই’ স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

১১ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৯
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে হাতুড়ির আঘাতে শাকিল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুলকে (২৩) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার বিকেলে উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শাকিল জালিরচর গ্রামের শাহজাহান পণ্ডিতের ছেলে এবং অভিযুক্ত সাইফুল একই গ্রামের আলম মাতুব্বরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে পণ্ডিত বাড়ির সামনে একটি পুরোনো কাচারি ঘরে বসে শাকিল ও সাইফুল লুডু খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে সাইফুল তার সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে শাকিলের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ধাওয়া করে হামলাকারী সাইফুলকে আটক করে পুলিশে দেয়।
সোহেল তালুকদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহত শাকিল ও সাইফুল একে অপরের বন্ধু ছিলেন এবং একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তারা দুজনেই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। আজ একসঙ্গে লুডু খেলতে গিয়ে মূলত মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরানুল হক বরিশালটাইমসকে জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শাকিলের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে জানান, প্রাথমিকভাবে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

১১ জুলাই, ২০২৬ ২২:২৮
সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘রাইট টক বাংলাদেশ’-এর বরিশাল বিভাগীয় টিমের আংশিক কমিটি অনুমোদন করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। অনুমোদিত কমিটিতে বরিশাল পোস্ট এর সম্পাদক ও তরুণ সংগঠক মজিবর রহমান নাহিদকে সভাপতি এবং রুমান হাওলাদারকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আল আমিন এম তাওহীদ এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সবাই মিলে বাংলা সাজাই’ স্লোগানকে ধারণ করে রাইট টক বাংলাদেশ সমাজে দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা, মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের প্রতিটি সদস্য একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মানবতার সেবায় কাজ করবেন এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।
নব-নির্বাচিত সভাপতি মজিবর রহমান নাহিদ বলেন, “রাইট টক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। বরিশালে মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম আরও বেগবান করতে সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব। সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
রাইট টক বাংলাদেশ বাংলাদেশের একটি সরকারি নিবন্ধনপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। ‘সবাই মিলে বাংলা সাজাই’ স্লোগানকে ধারণ করে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি মানবিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।’
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে হাতুড়ির আঘাতে শাকিল (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাইফুলকে (২৩) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। শনিবার বিকেলে উপজেলার চরগোপালপুর ইউনিয়নের জালিরচর গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শাকিল জালিরচর গ্রামের শাহজাহান পণ্ডিতের ছেলে এবং অভিযুক্ত সাইফুল একই গ্রামের আলম মাতুব্বরের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে পণ্ডিত বাড়ির সামনে একটি পুরোনো কাচারি ঘরে বসে শাকিল ও সাইফুল লুডু খেলছিলেন। খেলার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে সাইফুল তার সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে শাকিলের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে উদ্ধার করে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী ধাওয়া করে হামলাকারী সাইফুলকে আটক করে পুলিশে দেয়।
সোহেল তালুকদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নিহত শাকিল ও সাইফুল একে অপরের বন্ধু ছিলেন এবং একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। তারা দুজনেই মাদকাসক্ত ছিলেন বলে এলাকায় পরিচিত। আজ একসঙ্গে লুডু খেলতে গিয়ে মূলত মাদক সংশ্লিষ্ট কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরানুল হক বরিশালটাইমসকে জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শাকিলের মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালটাইমসকে জানান, প্রাথমিকভাবে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচারিত সংবাদ অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার একদল ব্যক্তি বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রি বিজ্ঞাপন ও সাতটি শিয়াল ধরে জবাই করে রুটির সঙ্গে খেয়েছেন এমন একটি সংবাদ নেট দুনিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—শিয়ালের গোশত খাওয়া কি ইসলামে বৈধ? কেউ বলছেন, এটি সম্পূর্ণ হারাম। আবার কেউ দাবি করছেন, বিশেষ কিছু রোগের চিকিৎসায় শিয়ালের গোশত বা চর্বি ব্যবহার করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ধরনের বিষয়ে আবেগ, প্রচলিত ধারণা বা লোকবিশ্বাসের পরিবর্তে কোরআন, সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের আলোকে বিষয়টি জানা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র আছে, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৮)।
অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৭)। অর্থাৎ, কোনো প্রাণী হালাল না হারাম—তা মানুষের রুচি, সংস্কৃতি বা প্রচলিত বিশ্বাস দ্বারা নির্ধারিত হয় না; বরং আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর নির্দেশই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত।
সহিহ হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৩৩)। শিয়াল একটি হিংস্র ও শিকারি প্রাণী। এটি ধারালো দাঁত ও নখরের সাহায্যে শিকার ধরে এবং মাংস ভক্ষণ করে। এ কারণে অধিকাংশ ফকিহ শিয়ালকে হিংস্র জন্তুর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আল্লামা আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) বলেন, ‘প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত হারাম।’ (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/৩৫)।
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, ‘যেসব হিংস্র জন্তু দাঁত দিয়ে শিকার করে, সেগুলোর গোশত খাওয়া হারাম।’ (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩০৭)। তাই নির্ভরযোগ্য ফিকহের গ্রন্থসমূহে শিয়ালকে হারাম প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনেকে দাবি করেন, শিয়ালের গোশত বা চর্বি বিভিন্ন রোগের ওষুধ। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের রোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তার চিকিৎসাও সৃষ্টি করেছেন। অতএব, চিকিৎসা গ্রহণ করো; তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করো না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৪।
অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)। সুতরাং, লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস বা কুসংস্কারের ভিত্তিতে শিয়ালের গোশত খাওয়া কিংবা তা দিয়ে চিকিৎসা নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
তবে ইসলামের মূলনীতি হলো, যদি জীবন রক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কোনো বিশ্বস্ত ও দক্ষ চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে বলেন যে হারাম বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প চিকিৎসা নেই, আর তা ব্যবহার না করলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে প্রয়োজনের সীমার মধ্যে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী অবস্থা; সাধারণ নিয়ম নয়।
যদি কেউ জেনে-শুনে শিয়ালের গোশত খেয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
শুধু শরিয়তের দৃষ্টিতেই নয়, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ীও শিয়াল শিকার, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয় ও অবৈধভাবে সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
সারকথা হলো, শিয়ালের গোশত খাওয়া ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কারণ এটি দাঁত ও নখর দিয়ে শিকার করা হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের প্রাণীর গোশত ভক্ষণ থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অসুস্থতার অজুহাতে বা লোকমুখে প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে শিয়ালের গোশত খাওয়াও বৈধ নয়। কেবল জীবনরক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্ধারিত কঠোর শর্ত পূরণ হলে সীমিত পরিসরে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তাই একজন মুসলমানের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা প্রচারণার পরিবর্তে কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের গবেষণা ও ফিকহের আলোকে নিজের জীবন পরিচালনা করা।
কেননা, হালাল খাদ্য শুধু দেহের পুষ্টিই নিশ্চিত করে না; বরং ঈমান, ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং সর্বদা হালাল রিজিক গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
বরিশাল টাইমস
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বরিশালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচারিত সংবাদ অনুযায়ী, সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকার একদল ব্যক্তি বন্যপ্রাণী শিয়াল হত্যা করে ফেসবুকে মাংস বিক্রি বিজ্ঞাপন ও সাতটি শিয়াল ধরে জবাই করে রুটির সঙ্গে খেয়েছেন এমন একটি সংবাদ নেট দুনিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়।
এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—শিয়ালের গোশত খাওয়া কি ইসলামে বৈধ? কেউ বলছেন, এটি সম্পূর্ণ হারাম। আবার কেউ দাবি করছেন, বিশেষ কিছু রোগের চিকিৎসায় শিয়ালের গোশত বা চর্বি ব্যবহার করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এ ধরনের বিষয়ে আবেগ, প্রচলিত ধারণা বা লোকবিশ্বাসের পরিবর্তে কোরআন, সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের আলোকে বিষয়টি জানা জরুরি।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মানুষ! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র আছে, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৮)।
অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন।’ (সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৭)। অর্থাৎ, কোনো প্রাণী হালাল না হারাম—তা মানুষের রুচি, সংস্কৃতি বা প্রচলিত বিশ্বাস দ্বারা নির্ধারিত হয় না; বরং আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর নির্দেশই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত।
সহিহ হাদিসে এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত খেতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯৩৩)। শিয়াল একটি হিংস্র ও শিকারি প্রাণী। এটি ধারালো দাঁত ও নখরের সাহায্যে শিকার ধরে এবং মাংস ভক্ষণ করে। এ কারণে অধিকাংশ ফকিহ শিয়ালকে হিংস্র জন্তুর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আল্লামা আলাউদ্দিন কাসানি (রহ.) বলেন, ‘প্রত্যেক নখরবিশিষ্ট হিংস্র জন্তুর গোশত হারাম।’ (বাদায়েউস সানায়ে, ৫/৩৫)।
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, ‘যেসব হিংস্র জন্তু দাঁত দিয়ে শিকার করে, সেগুলোর গোশত খাওয়া হারাম।’ (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩০৭)। তাই নির্ভরযোগ্য ফিকহের গ্রন্থসমূহে শিয়ালকে হারাম প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অনেকে দাবি করেন, শিয়ালের গোশত বা চর্বি বিভিন্ন রোগের ওষুধ। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিতে সাধারণভাবে হারাম বস্তু দিয়ে চিকিৎসা করা বৈধ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের রোগ সৃষ্টি করেছেন এবং তার চিকিৎসাও সৃষ্টি করেছেন। অতএব, চিকিৎসা গ্রহণ করো; তবে হারাম বস্তু দ্বারা চিকিৎসা করো না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৪।
অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হারাম করেছেন, তাতে তোমাদের আরোগ্য রাখেননি।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান)। সুতরাং, লোকমুখে প্রচলিত বিশ্বাস বা কুসংস্কারের ভিত্তিতে শিয়ালের গোশত খাওয়া কিংবা তা দিয়ে চিকিৎসা নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
তবে ইসলামের মূলনীতি হলো, যদি জীবন রক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং কোনো বিশ্বস্ত ও দক্ষ চিকিৎসক নিশ্চিতভাবে বলেন যে হারাম বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কার্যকর বিকল্প চিকিৎসা নেই, আর তা ব্যবহার না করলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে প্রয়োজনের সীমার মধ্যে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তবে এটি অত্যন্ত ব্যতিক্রমী অবস্থা; সাধারণ নিয়ম নয়।
যদি কেউ জেনে-শুনে শিয়ালের গোশত খেয়ে থাকে, তাহলে তার উচিত আন্তরিকভাবে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করা, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
শুধু শরিয়তের দৃষ্টিতেই নয়, বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ীও শিয়াল শিকার, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয় ও অবৈধভাবে সংরক্ষণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
সারকথা হলো, শিয়ালের গোশত খাওয়া ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে হারাম। কারণ এটি দাঁত ও নখর দিয়ে শিকার করা হিংস্র প্রাণীর অন্তর্ভুক্ত, আর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ধরনের প্রাণীর গোশত ভক্ষণ থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। অসুস্থতার অজুহাতে বা লোকমুখে প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে শিয়ালের গোশত খাওয়াও বৈধ নয়। কেবল জীবনরক্ষার মতো চরম ও অনিবার্য পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্ধারিত কঠোর শর্ত পূরণ হলে সীমিত পরিসরে ব্যতিক্রমী বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তাই একজন মুসলমানের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা প্রচারণার পরিবর্তে কোরআন, সহিহ সুন্নাহ এবং নির্ভরযোগ্য আলেমদের গবেষণা ও ফিকহের আলোকে নিজের জীবন পরিচালনা করা।
কেননা, হালাল খাদ্য শুধু দেহের পুষ্টিই নিশ্চিত করে না; বরং ঈমান, ইবাদত ও দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল-হারাম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং সর্বদা হালাল রিজিক গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
বরিশাল টাইমস