সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে শুরু হয়েছে চরম ভাড়া নৈরাজ্য। সরকারের পক্ষ থেকে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা এলেও রাস্তায় তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কিলোমিটার প্রতি পয়সার হিসাব ছাপিয়ে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পর শুক্রবার থেকেই বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন চালক ও হেলপাররা।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণপরিবহনের নতুন ভাড়া ঘোষণা করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর, আন্তঃজেলা এবং ডিটিসিএ এলাকাসহ সব ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে মহানগর ও আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া ৪ দশমিক ৪৫ থেকে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। ভাড়া সমন্বয় করে বিআরটিএ ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
তবে মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। খিলক্ষেত থেকে বনানী আসা এক যাত্রী জানান, আগে এই পথের ভাড়া ছিল ১০ টাকা, আজ নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। মালিবাগ থেকে মহাখালী আসা এক যাত্রী জানান, তার কাছেও হুট করে ৫ টাকা বাড়তি দাবি করা হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে বিশ্বরোড আসা মোহাম্মদ রবিউল নামে এক যাত্রী জানান, সরকারি ঘোষণার আগে যে ভাড়া নিত এই রুটে তার চেয়েও আজ ১৫ টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছে।
আরেক যাত্রী জানান, আমতলী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা থাকলেও শনিবার ভোর থেকে তা ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়েছে মাত্র ১১ পয়সা, কিন্তু চালক ও সহকারীরা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
বনানীর প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিদ বলেন, কাকলী মোড় থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮-১৯ কিলোমিটার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভাড়া বাড়ার কথা মাত্র ২ টাকা, কিন্তু শুক্রবার থেকে চালকরা ১০ টাকা বেশি দাবি করছেন। তারা এই সুযোগে যাত্রীদের পকেট কাটছেন।
বাসের হেল্পার ও চালকদের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে আরেক যাত্রী যাত্রী বলেন, সরকার ১১ পয়সা বাড়িয়েছে, কিন্তু তারা মুখস্থ ৫-১০ টাকা বেশি দাবি করছে। দেখা যাবে মোট ভাড়ায় ১ টাকাও বাড়েনি, কিন্তু তারা ৫ টাকাই আদায় করবে। এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই ঝগড়া শুরু হয়। এসব দেখার কেউ নেই।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে সায়েদাবাদ-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘বলাকা’ বাসের এক হেল্পার জানান, তারা দূরত্বের সঙ্গে মিল রেখেই ভাড়া নিচ্ছেন। তেলের দাম বাড়ায় সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে বলেই তারা বেশি নিচ্ছেন।
তবে ১০ কিলোমিটারে কেন ৫ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিলোমিটারের হিসাব তার জানা নেই, এভাবেই ভাড়া নিচ্ছে সবাই। সরেজমিনে বলাকা, আজমেরী গ্লোরি, গাজীপুর পরিবহন, ভিক্টর ক্লাসিক ও রাইদা পরিবহনের বাসগুলো ঘুরে দেখা যায় নেই কোনো ভাড়ার চার্ট, নেই কোনো ই-টিকিটিং ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পরিবহনের এক চালক বলেন, চার্ট আমাদের লাগে না, আমরা মিল করেই ভাড়া নিচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানির দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাসভাড়া কমানোর ঘোষণা দিলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা তা কার্যকর করেননি। ২০১৬ ও ২০১১ সালেও ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:১৩
চাঁদা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা চালানোর হুমকি। এমনকি হামলা করতে লোক পাঠাতে হলে খরচ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। চট্টগ্রাম নগরের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ফোন করে এভাবে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, সাব্বির চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করেন সাব্বির। শওকতের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফও প্রবাসী। ফোনে সাব্বির তাঁকে চাঁদার টাকা পরিশোধের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকিও দেন।
ফোনালাপে সাব্বিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’ একই কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। হুমকির পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকেই সাব্বিরকে খুঁজছিল পুলিশ। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে তাঁকে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে চাঁদা চাইতেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, যেসব ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাঁদের সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা থাকত। এরপর সাব্বির ফোন করে টাকা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলি করার হুমকি দিতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সশস্ত্র হামলাও চালানো হতো।
সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেননি।
এদিকে গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় সাব্বিরের অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ৩৭ সেকেন্ডের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে পিস্তল তাক করে গুলি ছুড়ছেন তিনি। পরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়।
চাঁদা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা চালানোর হুমকি। এমনকি হামলা করতে লোক পাঠাতে হলে খরচ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। চট্টগ্রাম নগরের এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর পরিবারের কাছে ফোন করে এভাবে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে সাব্বির হোসেন ওরফে সানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, সাব্বির চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগ এলাকায় থাকতেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে প্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শওকতকে ফোন করেন সাব্বির। শওকতের বাবা মোহাম্মদ ইউসুফও প্রবাসী। ফোনে সাব্বির তাঁকে চাঁদার টাকা পরিশোধের জন্য পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার হুমকিও দেন।
ফোনালাপে সাব্বিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার বাবাকে কল দিলাম না। তিনি হার্টের রোগী, আবার মরেটরে যাবে। তাই তোমারে জানালাম।’ একই কথোপকথনে তিনি বলেন, ‘একবার যদি ছেলেপুলে পাঠাতে হয়, ঘটনা ঘটাতে হয়, তবে ৫০ লাখ ১ কোটি হয়ে যাবে, কমবে না।’
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফোনালাপের অডিও রেকর্ড তাদের কাছে রয়েছে। হুমকির পর ইউসুফের ভবনের ফটকে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকেই সাব্বিরকে খুঁজছিল পুলিশ। তবে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানিয়েছেন, বড় সাজ্জাদের কাছ থেকে তিনি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কারাগারে থাকা ডেভিড ইমনের পরিবর্তে তাঁকে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বড় সাজ্জাদ ও তাঁর সহযোগী বোরহান উদ্দিনের নির্দেশে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ফোন করে চাঁদা চাইতেন।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, যেসব ব্যবসায়ী ও শিল্পপতির কাছে চাঁদা চাওয়া হতো, তাঁদের সম্পর্কে আগে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা থাকত। এরপর সাব্বির ফোন করে টাকা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিতেন। টাকা না দিলে লোক পাঠিয়ে হামলা বা গুলি করার হুমকি দিতেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সশস্ত্র হামলাও চালানো হতো।
সাব্বিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ ও হাটহাজারী থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলা করেননি।
এদিকে গত ২০ জুন নগরের চান্দগাঁওয়ের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় সাব্বিরের অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ৩৭ সেকেন্ডের ওই সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সড়কে দাঁড়িয়ে একটি কারখানার দিকে পিস্তল তাক করে গুলি ছুড়ছেন তিনি। পরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়ও তাঁকে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা যায়।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০০
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিষয়ে আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
এর আগে, গত ১৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২৪ আগস্ট তাদের আদালতে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু শাপলা চত্বর-সংক্রান্ত হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে, সাংবাদিক শ্যামল দত্ত জুলাই আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায় নিম্ন আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৩
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।
মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গর্হিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন ধর্মমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেন ধর্মমন্ত্রী।
জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ সব ধরনের সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রীর মতে, সমাজে ইমামদের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তারা।
এদিকে সম্মেলনে ইমাম সমিতির নেতারা বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৩০
সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতে শুরু হয়েছে চরম ভাড়া নৈরাজ্য। সরকারের পক্ষ থেকে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর ঘোষণা এলেও রাস্তায় তার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
কিলোমিটার প্রতি পয়সার হিসাব ছাপিয়ে চালক ও সহকারীরা যাত্রীদের কাছ থেকে সরাসরি ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পর শুক্রবার থেকেই বাড়তি ভাড়া দাবি করছেন চালক ও হেলপাররা।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণপরিবহনের নতুন ভাড়া ঘোষণা করেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
জানা যায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর, আন্তঃজেলা এবং ডিটিসিএ এলাকাসহ সব ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে মহানগর ও আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া ৪ দশমিক ৪৫ থেকে ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। ভাড়া সমন্বয় করে বিআরটিএ ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে।
তবে মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। খিলক্ষেত থেকে বনানী আসা এক যাত্রী জানান, আগে এই পথের ভাড়া ছিল ১০ টাকা, আজ নেওয়া হচ্ছে ১৫-২০ টাকা। মালিবাগ থেকে মহাখালী আসা এক যাত্রী জানান, তার কাছেও হুট করে ৫ টাকা বাড়তি দাবি করা হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে বিশ্বরোড আসা মোহাম্মদ রবিউল নামে এক যাত্রী জানান, সরকারি ঘোষণার আগে যে ভাড়া নিত এই রুটে তার চেয়েও আজ ১৫ টাকা ভাড়া বেশি নিয়েছে।
আরেক যাত্রী জানান, আমতলী থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ভাড়া ২০ টাকা থাকলেও শনিবার ভোর থেকে তা ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। যাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, সরকার প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বাড়িয়েছে মাত্র ১১ পয়সা, কিন্তু চালক ও সহকারীরা তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন।
বনানীর প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবিদ বলেন, কাকলী মোড় থেকে বিমানবন্দরের দূরত্ব প্রায় ১৮-১৯ কিলোমিটার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ভাড়া বাড়ার কথা মাত্র ২ টাকা, কিন্তু শুক্রবার থেকে চালকরা ১০ টাকা বেশি দাবি করছেন। তারা এই সুযোগে যাত্রীদের পকেট কাটছেন।
বাসের হেল্পার ও চালকদের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে আরেক যাত্রী যাত্রী বলেন, সরকার ১১ পয়সা বাড়িয়েছে, কিন্তু তারা মুখস্থ ৫-১০ টাকা বেশি দাবি করছে। দেখা যাবে মোট ভাড়ায় ১ টাকাও বাড়েনি, কিন্তু তারা ৫ টাকাই আদায় করবে। এটা নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলেই ঝগড়া শুরু হয়। এসব দেখার কেউ নেই।
বাড়তি ভাড়ার বিষয়ে সায়েদাবাদ-গাজীপুর রুটে চলাচলকারী ‘বলাকা’ বাসের এক হেল্পার জানান, তারা দূরত্বের সঙ্গে মিল রেখেই ভাড়া নিচ্ছেন। তেলের দাম বাড়ায় সরকার ভাড়া বাড়িয়েছে বলেই তারা বেশি নিচ্ছেন।
তবে ১০ কিলোমিটারে কেন ৫ টাকা বাড়তি নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, কিলোমিটারের হিসাব তার জানা নেই, এভাবেই ভাড়া নিচ্ছে সবাই। সরেজমিনে বলাকা, আজমেরী গ্লোরি, গাজীপুর পরিবহন, ভিক্টর ক্লাসিক ও রাইদা পরিবহনের বাসগুলো ঘুরে দেখা যায় নেই কোনো ভাড়ার চার্ট, নেই কোনো ই-টিকিটিং ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর পরিবহনের এক চালক বলেন, চার্ট আমাদের লাগে না, আমরা মিল করেই ভাড়া নিচ্ছি। উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানির দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বাসভাড়া কমানোর ঘোষণা দিলেও পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা তা কার্যকর করেননি। ২০১৬ ও ২০১১ সালেও ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্ত কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩৫
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১২:৩৬
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ১০:১১
০২ নভেম্বর, ২০২৬ ০২:২৮