সারি সারি প্রদীপের আলো, ফুলে সাজানো সমাধি আর স্বজন হারানোর গভীর আবেগে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশানে। প্রয়াত মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন, ফুলেল শ্রদ্ধা আর প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ধর্মীয় আচার ছাপিয়ে এ আয়োজন পরিণত হয়েছে স্মৃতি, ভালোবাসা ও শেকড়ের টানে মানুষের এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা নামতেই প্রদীপের আলোয় বদলে যায় বরিশাল মহাশ্মশানের চিরচেনা দৃশ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ প্রিয়জনদের সমাধিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান। কেউ ফুল দিয়ে সাজান সমাধি, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে স্মরণ করেন হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের। আলো-আঁধারির মায়াবী পরিবেশে যেন জীবিতদের ভালোবাসায় আবারও ফিরে আসে প্রয়াতদের স্মৃতি।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুসারে ভূত চতুর্দশী উপলক্ষে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে এই শ্মশান দীপাবলির আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর কালীপূজার আগে বরিশাল মহাশ্মশানে এ উৎসব ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
বরিশালের মহাশ্মশান শুধু একটি সমাধিস্থল নয়, এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অসংখ্য পরিবারের স্মৃতির ধারক। প্রায় শতবর্ষের ঐতিহ্য নিয়ে এই আয়োজন আজও মানুষের মধ্যে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারিবারিক বন্ধনের অনুভূতি জাগিয়ে রাখছে।
এ আয়োজনের অন্যতম মানবিক দিক হলো, যেসব সমাধিতে প্রদীপ জ্বালানোর মতো কোনো স্বজন আর বেঁচে নেই, সেসব সমাধিতেও প্রদীপ প্রজ্বালনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে কোনো সমাধিই যেন স্মৃতির আলো থেকে বঞ্চিত না থাকে।
প্রদীপের প্রতিটি শিখা যেন বলে যায়—মানুষের মৃত্যু হয়, কিন্তু ভালোবাসা ও স্মৃতির মৃত্যু হয় না। সময়ের ব্যবধানে প্রিয়জনেরা হারিয়ে গেলেও তাঁদের রেখে যাওয়া স্মৃতি বেঁচে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন তাই কেবল আলোর উৎসব নয়; এটি শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া, হারানো স্বজনদের স্মরণ করা এবং ভালোবাসার চিরন্তন বন্ধনকে নতুন করে অনুভব করার এক অনন্য উপলক্ষ।

০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৫১
ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ ভেঙে যাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তাঁর অভিযোগ, এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই বৃহত্তর ইসলামি ঐক্যের পথ থেকে সরে গেছে জামায়াত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মিলনায়তনে ‘সীরাত গবেষক সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামি দলগুলোকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলও যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—এমন হিসাব থেকে জামায়াত দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। কিন্তু দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার হিসাব প্রাধান্য পাওয়ায় সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে প্রচলিত নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের সুমহান নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পীর সাহেব চরমোনাইয়ের এই বক্তব্যে ইসলামপন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য, পারস্পরিক সমঝোতা এবং জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ইসলামি দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ ভেঙে যাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তাঁর অভিযোগ, এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই বৃহত্তর ইসলামি ঐক্যের পথ থেকে সরে গেছে জামায়াত।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মিলনায়তনে ‘সীরাত গবেষক সংবর্ধনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে ইসলামি দলগুলোকে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দলও যুক্ত হয়েছিল। কিন্তু এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—এমন হিসাব থেকে জামায়াত দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। কিন্তু দলীয় স্বার্থ ও ক্ষমতার হিসাব প্রাধান্য পাওয়ায় সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে প্রচলিত নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করে কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়নি। দেশের মানুষের প্রকৃত মুক্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামের সুমহান নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পীর সাহেব চরমোনাইয়ের এই বক্তব্যে ইসলামপন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক ঐক্য, পারস্পরিক সমঝোতা এবং জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:১৩
ঝটিকা মিছিলের পর রাতভর পুলিশের অভিযান, কারাগারে শিক্ষক-ব্যবসায়ী ও ঢাকাফেরত চাকরিজীবী; গ্রেপ্তার নিয়ে হয়রানির অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী ও ঢাকায় কর্মরত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। তাঁদের মধ্যে একজন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেই পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব বাকাল গ্রামের মৃত সোলেমান সরদারের ছেলে বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক অলিউর রহমান, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের হালিম খলিফার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রবিউল খলিফা, বাকাল গ্রামের হানিফ মৃধার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রাব্বি মৃধা, পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে গৈলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল সরদার, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের শাহে আলম সরদারের ছেলে গৈলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সাইফুল সরদার, কালুপাড়া গ্রামের মৃত আশ্রাব সরদারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরোয়ার সরদার এবং মুড়িহার গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজিব সরদার।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের বাকাল-পয়সা এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ ঘটনার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে রাতেই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাজিব সরদার ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ।
তবে এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। বিশেষ করে শিক্ষক অলিউর রহমান ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও পরবর্তী সময়ে আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
আবু সালেহ মো. লিটনের অভিযোগ, ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজিব সরদার এবং গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল সরদারও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তাঁদের হয়রানি করে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একটি ঝটিকা মিছিলের পর সাতজনকে গ্রেপ্তার, তাঁদের মধ্যে শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রেপ্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার হয়রানির অভিযোগ—সব মিলিয়ে আগৈলঝাড়ার ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে।
ঝটিকা মিছিলের পর রাতভর পুলিশের অভিযান, কারাগারে শিক্ষক-ব্যবসায়ী ও ঢাকাফেরত চাকরিজীবী; গ্রেপ্তার নিয়ে হয়রানির অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একজন শিক্ষক, একজন ব্যবসায়ী ও ঢাকায় কর্মরত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী। তাঁদের মধ্যে একজন ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেই পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আগৈলঝাড়া উপজেলার পূর্ব বাকাল গ্রামের মৃত সোলেমান সরদারের ছেলে বাকাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও শিক্ষক অলিউর রহমান, মধ্য শিহিপাশা গ্রামের হালিম খলিফার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রবিউল খলিফা, বাকাল গ্রামের হানিফ মৃধার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য রাব্বি মৃধা, পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের রজব আলী সরদারের ছেলে গৈলা ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি কামরুল সরদার, উত্তর শিহিপাশা গ্রামের শাহে আলম সরদারের ছেলে গৈলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী সাইফুল সরদার, কালুপাড়া গ্রামের মৃত আশ্রাব সরদারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরোয়ার সরদার এবং মুড়িহার গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাজিব সরদার।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার আগৈলঝাড়া-পয়সারহাট সড়কের বাকাল-পয়সা এলাকায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ ঘটনার পর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে রাতেই থানা পুলিশের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রাজিব সরদার ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ি থেকেই তাঁকে আটক করে পুলিশ।
তবে এই গ্রেপ্তার অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আগৈলঝাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত নন। বিশেষ করে শিক্ষক অলিউর রহমান ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করলেও পরবর্তী সময়ে আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
আবু সালেহ মো. লিটনের অভিযোগ, ঢাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজিব সরদার এবং গৈলা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল সরদারও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে তাঁদের হয়রানি করে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
একটি ঝটিকা মিছিলের পর সাতজনকে গ্রেপ্তার, তাঁদের মধ্যে শিক্ষক ও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং গ্রেপ্তার নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার হয়রানির অভিযোগ—সব মিলিয়ে আগৈলঝাড়ার ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে।

০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:৪৭
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশালে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় মো. আতিকুল ইসলাম রাব্বি নামে যুবদলের এক সাবেক সদস্যকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নগরীর সদর রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠা আতিকুল ইসলাম রাব্বি বরিশাল মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ চলছিল। এ সময় সমাবেশস্থলে হঠাৎ হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাব্বিকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়। তবে কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত, কারা মারধরের সঙ্গে জড়িত এবং কোনো পূর্ববিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আহত রাব্বির শারীরিক অবস্থা এবং এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বরিশালে বিএনপির সমাবেশ চলাকালে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় মো. আতিকুল ইসলাম রাব্বি নামে যুবদলের এক সাবেক সদস্যকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে নগরীর সদর রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠা আতিকুল ইসলাম রাব্বি বরিশাল মহানগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ চলছিল। এ সময় সমাবেশস্থলে হঠাৎ হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে রাব্বিকে মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দলীয় কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়। তবে কী কারণে এ ঘটনার সূত্রপাত, কারা মারধরের সঙ্গে জড়িত এবং কোনো পূর্ববিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে আহত রাব্বির শারীরিক অবস্থা এবং এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৩
সারি সারি প্রদীপের আলো, ফুলে সাজানো সমাধি আর স্বজন হারানোর গভীর আবেগে এক অনন্য পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশানে। প্রয়াত মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও পূর্বপুরুষদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বালন, ফুলেল শ্রদ্ধা আর প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ধর্মীয় আচার ছাপিয়ে এ আয়োজন পরিণত হয়েছে স্মৃতি, ভালোবাসা ও শেকড়ের টানে মানুষের এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা নামতেই প্রদীপের আলোয় বদলে যায় বরিশাল মহাশ্মশানের চিরচেনা দৃশ্য। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ প্রিয়জনদের সমাধিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান। কেউ ফুল দিয়ে সাজান সমাধি, কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে স্মরণ করেন হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের। আলো-আঁধারির মায়াবী পরিবেশে যেন জীবিতদের ভালোবাসায় আবারও ফিরে আসে প্রয়াতদের স্মৃতি।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য অনুসারে ভূত চতুর্দশী উপলক্ষে প্রয়াত স্বজনদের স্মরণে এই শ্মশান দীপাবলির আয়োজন করা হয়। প্রতিবছর কালীপূজার আগে বরিশাল মহাশ্মশানে এ উৎসব ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
বরিশালের মহাশ্মশান শুধু একটি সমাধিস্থল নয়, এটি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অসংখ্য পরিবারের স্মৃতির ধারক। প্রায় শতবর্ষের ঐতিহ্য নিয়ে এই আয়োজন আজও মানুষের মধ্যে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পারিবারিক বন্ধনের অনুভূতি জাগিয়ে রাখছে।
এ আয়োজনের অন্যতম মানবিক দিক হলো, যেসব সমাধিতে প্রদীপ জ্বালানোর মতো কোনো স্বজন আর বেঁচে নেই, সেসব সমাধিতেও প্রদীপ প্রজ্বালনের ব্যবস্থা করা হয়। ফলে কোনো সমাধিই যেন স্মৃতির আলো থেকে বঞ্চিত না থাকে।
প্রদীপের প্রতিটি শিখা যেন বলে যায়—মানুষের মৃত্যু হয়, কিন্তু ভালোবাসা ও স্মৃতির মৃত্যু হয় না। সময়ের ব্যবধানে প্রিয়জনেরা হারিয়ে গেলেও তাঁদের রেখে যাওয়া স্মৃতি বেঁচে থাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন তাই কেবল আলোর উৎসব নয়; এটি শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়া, হারানো স্বজনদের স্মরণ করা এবং ভালোবাসার চিরন্তন বন্ধনকে নতুন করে অনুভব করার এক অনন্য উপলক্ষ।
০৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০০:২৬
০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৫৩
০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৩
০৭ নভেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮