Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:৫০
জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরই মধ্যে ৭ দফার ভিত্তিতে সনদের চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবার রাতেই দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এ সনদে স্বাক্ষর করবেন—প্রতিটি দলকে এমন দুজন নেতার নাম আজ শনিবারের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। তবে জুলাই সনদ ঘোষণা করার চেয়ে তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ ও জটিলতা রয়েই গেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতাকে দায়ী করছে দলগুলো। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দিনব্যাপী আলোচনা হলেও তাতে জটিলতা কাটেনি। যদিও ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ভাষ্যে সব মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
এর আগে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ঐকমত্য কমিশন। পরে আবারও একটি চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া দলগুলোকে দেওয়া হয়। এর পরে ২৯টি দল লিখিতভাবে তাদের মতামত কমিশনে পাঠায়। দলগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতে কমিশন দুই দফায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। কিন্তু সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দল তিন ধরনের পদ্ধতির কথা বলেছে। সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে এবং এনসিপি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন চায়। এ নিয়ে আগামী রোববার দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা হবে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
দফায় দফায় আলোচনা শেষে সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এখন তাতে স্বাক্ষর করলে এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না রাজনৈতিক দলগুলো।
স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবারই রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতসহ (নোট অব ডিসেন্ট) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এ চূড়ান্ত খসড়ায়।
এ ছাড়া সনদের চূড়ান্ত খসড়ার পটভূমি এবং অঙ্গীকারনামায় বেশকিছু বিষয়ে ভাষা ও শব্দগত পরিবর্তন হয়েছে। নতুন বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচনসহ পরবর্তী বিভিন্ন ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্থান পেয়েছে, যা আগে ছিল না। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই। এ ছাড়া কখন সনদ স্বাক্ষরিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যেসব বিকল্প পদ্ধতি আলোচনায়: জানা গেছে, কোন রাজনৈতিক দল কোন উপায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়, তা গত বৃহস্পতিবারের আলোচনার শুরুতে তুলে ধরে ঐকমত্য কমিশন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কমিশন কী পরামর্শ পেয়েছে, সেগুলোও উপস্থাপন করা হয়।
সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে লিখিতভাবে মোটাদাগে ছয়টি সুপারিশ পেয়েছে কমিশন। সেগুলো হলো—পূর্ণাঙ্গ সনদ বা এর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বাস্তবায়ন, গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। ওই বৈঠকে ঐকমত্য কমিশন জানায়, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো (ভিন্নমতসহ) চারভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।
সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য: বিএনপিসহ কিছু দলের অভিমত হলো—সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার আগামী সংসদ ছাড়া বাস্তবায়নের কোনো আইনি পথ নেই। বিএনপির মতে, সাংবিধানিক আদেশ জারি বা গণভোটের মতো প্রস্তাবগুলো অগ্রহণযোগ্য। এখনই এই সনদ কার্যকর হলে দেশে দুটি সংবিধান চলমান থাকবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কিছু দল চায় জুলাই সনদের একটি আইনি ভিত্তি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এর বাস্তবায়ন। গত বৃহস্পতিবার দলগুলো তাদের পৃথক মতামত আবারও তুলে ধরে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সাধারণভাবে এগুলো অগ্রহণযোগ্য। দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা আছে। এই ধারাবাহিকতা না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব অবৈধ হয়ে যাবে।
জামায়াত ও এনসিপির প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গণপরিষদ হয় নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য কিংবা সংবিধানের মূল কাঠামো ও চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু এখন সংবিধান আছে। জিয়াউর রহমানের আমলে প্রোক্লেমেশন জারির মাধ্যমে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়নি।
তখন সংবিধান স্থগিত ছিল। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে ‘প্রোক্লেমেশন’ (ঘোষণা) জারি করা হয়েছিল। এগুলোর বৈধতা দেওয়া হয়েছিল পরবর্তী সংসদে। প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার কারও নেই। তা ছাড়া সনদ এখন বাস্তবায়ন করা হলে দুটি সংবিধান চলার মতো অবস্থা হবে। কোনো নাগরিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে আদালত প্রশ্ন করবেন, সংবিধান কে পরিবর্তন করল, কীভাবে করল, এই এখতিয়ার কারও আছে?
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের পরামর্শ হলো, সব দল এখন এই অঙ্গীকারনামায় সই করবে। আগামী সংসদে সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার জন্য দলগুলো যার যার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে। যারাই সংসদে যাবে, তারা এটার বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই সনদকে লঙ্ঘন করে ভবিষ্যতে কোনো দলের রাজনীতি করার সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না। সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর জবাব তারা দিতে পারবেন না বরং তারা অঙ্গীকার করতে পারবেন। আর এখন সনদ বাস্তবায়নের কোনো আইনগত ভিত্তি বের করা গেলে বিএনপি তাতে একমত হবে।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কার আগামী সংসদের হাতে ছেড়ে দিলে গণঅভ্যুত্থানের প্রতি অবিচার করা হবে। নামমাত্র সংস্কার হলে হবে না। এর আইনি ভিত্তি লাগবে। তার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
গতকাল তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই সংকট রয়ে গেছে। তবে হাতে এখনো যে সময় আছে আমরা পর্যালোচনা করছি। দেখা যাক কমিশন কী উদ্যোগ নেয়। কেননা, এখানে সরকারেরও দুর্বলতা আছে। তিনি বলেন, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালেও বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে, যেটার ভিত্তিতে গণভোট হয়েছে। বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। গণভোটের মাধ্যমেও হতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে হলে সেটা টেকসই হবে।
যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে আমরা এতদিন এটা কী করলাম—সবকিছু অর্থহীন হয়ে যাবে, সবকিছু বিফলে যাবে। বিপ্লবটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। বিপ্লবকে ধ্বংস করে পুরোনো ধারায় ফিরে গেলে রাষ্ট্র বিপদে পড়বে, নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়বে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেদিন বলেছি, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর টেকসই বাস্তবায়নের একমাত্র পথ নতুন সংবিধান। যদি পুরোনো সংবিধানই ঘষামাজা করা হয় এবং এটা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই। আইনগতভাবে এটা যেভাবে কার্যকর করা দরকার আমরা চাই সেভাবেই কার্যকর হোক। কোনোটা রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্স দ্বারা, কোনোটা জাতীয় সংসদের দ্বারা এবং এমনভাবে করতে হবে যাতে টেকসই এবং আইনসম্মত হয়। আমরা সেভাবেই চিন্তা করছি এবং সেভাবেই বাস্তবায়ন চাই।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমান সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় কঠিন ও সাংঘর্ষিক হবে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে এতে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটবে, যা জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়। পাশাপাশি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সাধারণ কোনো সংসদ জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে পারবে না। সংবিধানের ভিত্তিমূল পরিবর্তনে আইনি বৈধতা দিতে হলে গণভোট অথবা গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক মাইলফলক, যদি এটিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাবাদী সমঝোতার বাইরে নিয়ে গিয়ে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা যায়। অন্যথায় এটি শুধু ইতিহাসের আরেকটি ব্যর্থ দলিলে পরিণত হবে।
তাই এ মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দায়িত্ব পড়েছে কথায় নয়, কাজে দেখানোর, যাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই কার্যকরের উপায় বের করতে হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ চূড়ান্ত করার শেষ পর্যায়ে রয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এরই মধ্যে ৭ দফার ভিত্তিতে সনদের চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবার রাতেই দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। এ সনদে স্বাক্ষর করবেন—প্রতিটি দলকে এমন দুজন নেতার নাম আজ শনিবারের মধ্যে ঐকমত্য কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। তবে জুলাই সনদ ঘোষণা করার চেয়ে তা বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই বেশি সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ ও জটিলতা রয়েই গেছে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতাকে দায়ী করছে দলগুলো। জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে গত বৃহস্পতিবারও দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দিনব্যাপী আলোচনা হলেও তাতে জটিলতা কাটেনি। যদিও ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ভাষ্যে সব মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে।
এর আগে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে ঐকমত্য কমিশন। পরে আবারও একটি চূড়ান্ত সমন্বিত খসড়া দলগুলোকে দেওয়া হয়। এর পরে ২৯টি দল লিখিতভাবে তাদের মতামত কমিশনে পাঠায়। দলগুলোর পরামর্শের ভিত্তিতে কমিশন দুই দফায় বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে বৈঠক করে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। কিন্তু সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো মতভিন্নতা রয়ে গেছে।
বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন দল তিন ধরনের পদ্ধতির কথা বলেছে। সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী জাতীয় সংসদ গঠনের দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। তবে আগামী নির্বাচনের আগেই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ বা গণভোটের মাধ্যমে এবং এনসিপি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন চায়। এ নিয়ে আগামী রোববার দলগুলোর সঙ্গে আবার আলোচনা হবে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
দফায় দফায় আলোচনা শেষে সাত দফা অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদের খসড়া চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এখন তাতে স্বাক্ষর করলে এই সনদ নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন তুলতে পারবে না রাজনৈতিক দলগুলো।
স্বাক্ষরের জন্য এই চূড়ান্ত খসড়া গত বৃহস্পতিবারই রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতসহ (নোট অব ডিসেন্ট) মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হওয়ার কথা বলা হয়েছে এ চূড়ান্ত খসড়ায়।
এ ছাড়া সনদের চূড়ান্ত খসড়ার পটভূমি এবং অঙ্গীকারনামায় বেশকিছু বিষয়ে ভাষা ও শব্দগত পরিবর্তন হয়েছে। নতুন বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০ সালের নির্বাচনসহ পরবর্তী বিভিন্ন ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহ এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয় স্থান পেয়েছে, যা আগে ছিল না। তবে সনদ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতার যে সুপারিশ এসেছিল, চূড়ান্ত খসড়ায় তা নেই। এ ছাড়া কখন সনদ স্বাক্ষরিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
যেসব বিকল্প পদ্ধতি আলোচনায়: জানা গেছে, কোন রাজনৈতিক দল কোন উপায়ে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায়, তা গত বৃহস্পতিবারের আলোচনার শুরুতে তুলে ধরে ঐকমত্য কমিশন। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কমিশন কী পরামর্শ পেয়েছে, সেগুলোও উপস্থাপন করা হয়।
সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে লিখিতভাবে মোটাদাগে ছয়টি সুপারিশ পেয়েছে কমিশন। সেগুলো হলো—পূর্ণাঙ্গ সনদ বা এর কিছু অংশ নিয়ে গণভোট, রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতার বলে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ বাস্তবায়ন, গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, ত্রয়োদশ সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন, সংসদকে সংবিধান সংস্কার সভা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে সনদের বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে এই মর্মে মতামত চাওয়া যে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না। ওই বৈঠকে ঐকমত্য কমিশন জানায়, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো (ভিন্নমতসহ) চারভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো হচ্ছে অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।
সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর বক্তব্য: বিএনপিসহ কিছু দলের অভিমত হলো—সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার আগামী সংসদ ছাড়া বাস্তবায়নের কোনো আইনি পথ নেই। বিএনপির মতে, সাংবিধানিক আদেশ জারি বা গণভোটের মতো প্রস্তাবগুলো অগ্রহণযোগ্য। এখনই এই সনদ কার্যকর হলে দেশে দুটি সংবিধান চলমান থাকবে। এদিকে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশ কিছু দল চায় জুলাই সনদের একটি আইনি ভিত্তি এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে এর বাস্তবায়ন। গত বৃহস্পতিবার দলগুলো তাদের পৃথক মতামত আবারও তুলে ধরে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সাধারণভাবে এগুলো অগ্রহণযোগ্য। দেশে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা আছে। এই ধারাবাহিকতা না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারসহ সব অবৈধ হয়ে যাবে।
জামায়াত ও এনসিপির প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, গণপরিষদ হয় নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য কিংবা সংবিধানের মূল কাঠামো ও চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য। কিন্তু এখন সংবিধান আছে। জিয়াউর রহমানের আমলে প্রোক্লেমেশন জারির মাধ্যমে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়নি।
তখন সংবিধান স্থগিত ছিল। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বার্থে ‘প্রোক্লেমেশন’ (ঘোষণা) জারি করা হয়েছিল। এগুলোর বৈধতা দেওয়া হয়েছিল পরবর্তী সংসদে। প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার কারও নেই। তা ছাড়া সনদ এখন বাস্তবায়ন করা হলে দুটি সংবিধান চলার মতো অবস্থা হবে। কোনো নাগরিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করলে আদালত প্রশ্ন করবেন, সংবিধান কে পরিবর্তন করল, কীভাবে করল, এই এখতিয়ার কারও আছে?
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাদের পরামর্শ হলো, সব দল এখন এই অঙ্গীকারনামায় সই করবে। আগামী সংসদে সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করার জন্য দলগুলো যার যার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করবে। যারাই সংসদে যাবে, তারা এটার বাস্তবায়ন করবে।
জুলাই সনদকে লঙ্ঘন করে ভবিষ্যতে কোনো দলের রাজনীতি করার সুযোগ আছে বলে তিনি মনে করেন না। সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর জবাব তারা দিতে পারবেন না বরং তারা অঙ্গীকার করতে পারবেন। আর এখন সনদ বাস্তবায়নের কোনো আইনগত ভিত্তি বের করা গেলে বিএনপি তাতে একমত হবে।
বৃহস্পতিবার কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কার আগামী সংসদের হাতে ছেড়ে দিলে গণঅভ্যুত্থানের প্রতি অবিচার করা হবে। নামমাত্র সংস্কার হলে হবে না। এর আইনি ভিত্তি লাগবে। তার ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।
গতকাল তিনি বলেন, বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েই সংকট রয়ে গেছে। তবে হাতে এখনো যে সময় আছে আমরা পর্যালোচনা করছি। দেখা যাক কমিশন কী উদ্যোগ নেয়। কেননা, এখানে সরকারেরও দুর্বলতা আছে। তিনি বলেন, লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের (এলএফও) ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচন হয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালেও বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছে, যেটার ভিত্তিতে গণভোট হয়েছে। বিশেষ আদেশের মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। গণভোটের মাধ্যমেও হতে পারে। গণভোটের মাধ্যমে হলে সেটা টেকসই হবে।
যদি জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকে, তাহলে আমরা এতদিন এটা কী করলাম—সবকিছু অর্থহীন হয়ে যাবে, সবকিছু বিফলে যাবে। বিপ্লবটাই ধ্বংস হয়ে যাবে। বিপ্লবকে ধ্বংস করে পুরোনো ধারায় ফিরে গেলে রাষ্ট্র বিপদে পড়বে, নির্বাচন ঝুঁকিতে পড়বে।
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাই। বৃহস্পতিবার ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় দলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সেদিন বলেছি, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর টেকসই বাস্তবায়নের একমাত্র পথ নতুন সংবিধান। যদি পুরোনো সংবিধানই ঘষামাজা করা হয় এবং এটা বাস্তবায়নে পরবর্তী সরকারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম গতকাল বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো বাধা নেই। আইনগতভাবে এটা যেভাবে কার্যকর করা দরকার আমরা চাই সেভাবেই কার্যকর হোক। কোনোটা রাষ্ট্রপতির অর্ডিন্যান্স দ্বারা, কোনোটা জাতীয় সংসদের দ্বারা এবং এমনভাবে করতে হবে যাতে টেকসই এবং আইনসম্মত হয়। আমরা সেভাবেই চিন্তা করছি এবং সেভাবেই বাস্তবায়ন চাই।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যুবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের বিষয়টি বর্তমান সংবিধান কার্যকর থাকা অবস্থায় কঠিন ও সাংঘর্ষিক হবে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে এতে জনগণের ইচ্ছা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটবে, যা জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়। পাশাপাশি গণপরিষদ গঠনের মাধ্যমেও এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সাধারণ কোনো সংসদ জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি দিতে পারবে না। সংবিধানের ভিত্তিমূল পরিবর্তনে আইনি বৈধতা দিতে হলে গণভোট অথবা গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে বৈধতা দিতে হবে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনীতি বিশ্লেষক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রাজনৈতিক মাইলফলক, যদি এটিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সুবিধাবাদী সমঝোতার বাইরে নিয়ে গিয়ে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা যায়। অন্যথায় এটি শুধু ইতিহাসের আরেকটি ব্যর্থ দলিলে পরিণত হবে।
তাই এ মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর দায়িত্ব পড়েছে কথায় নয়, কাজে দেখানোর, যাতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা আরেক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোকেই কার্যকরের উপায় বের করতে হবে।

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১৩
জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে সেটা আইন-কানুন, বিধি-বিধান ও সংবিধানের মধ্য দিয়ে। রোববার দুপর সোয়া ১২টার দিকে জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, এখানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, কোনো ‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন আহ্বান করেননি। আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং এ বিষয়ে রুল জারি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের বিবেচনায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। যদি গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পরিষদ গঠন করতে হয়, তাহলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন হলে তবেই সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরে প্রয়োজন হলে পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসতে পারে।

১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:১১
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সকাল ৯টা১০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। সকাল ১১টায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।Maps
মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার এম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ উড্ডয়ন করেছে। মির্জা আব্বাসের ভাগ্নে ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার এ্যাম্বুলেন্স এসময় তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়ার আবেদন করেছেন। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে এয়ার এম্বুলেন্সে তার স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ পড়ার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়লে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল মেডিক্যাল বোর্ড বসে এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শনিবার সকালে করা মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট ভালো এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।

১৪ মার্চ, ২০২৬ ২০:২৭
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
এর প্রভাবে গত কয়েকদিনে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৭৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ (শনিবার, ১৪ মার্চ) শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাতিল হয়েছে ২৬টি ফ্লাইট।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আজ কুয়েত এয়ারলাইন্সের ২টি, জাজিরার (কুয়েত) ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, ইউএইউ) ২টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের (কাতার) ৪টি, ফ্লাইদুবাই ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ও এমিরেটস এয়ারলাইনসের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি ১১ মার্চ ২৭টি, ১২মার্চ ২৮টি ও ১৩মার্চ ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে সেটা আইন-কানুন, বিধি-বিধান ও সংবিধানের মধ্য দিয়ে। রোববার দুপর সোয়া ১২টার দিকে জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, এখানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, কোনো ‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন আহ্বান করেননি। আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং এ বিষয়ে রুল জারি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের বিবেচনায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। যদি গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পরিষদ গঠন করতে হয়, তাহলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন হলে তবেই সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরে প্রয়োজন হলে পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) তাকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সকাল ৯টা১০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। সকাল ১১টায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।Maps
মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার এম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ উড্ডয়ন করেছে। মির্জা আব্বাসের ভাগ্নে ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ জামাল চৌধুরী আদিত্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মির্জা আব্বাসকে বহনকারী এয়ার এ্যাম্বুলেন্স এসময় তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়ার আবেদন করেছেন। মির্জা আব্বাসের সঙ্গে এয়ার এম্বুলেন্সে তার স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস ও বড় ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ইফতারের পর মাগরিবের নামাজ পড়ার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারান মির্জা আব্বাস। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়লে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে ভার্চুয়াল মেডিক্যাল বোর্ড বসে এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শনিবার সকালে করা মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট ভালো এসেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
এর প্রভাবে গত কয়েকদিনে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪৭৭টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ (শনিবার, ১৪ মার্চ) শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাতিল হয়েছে ২৬টি ফ্লাইট।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আজ কুয়েত এয়ারলাইন্সের ২টি, জাজিরার (কুয়েত) ৪টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, ইউএইউ) ২টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের (কাতার) ৪টি, ফ্লাইদুবাই ৪টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ও এমিরেটস এয়ারলাইনসের (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি ১১ মার্চ ২৭টি, ১২মার্চ ২৮টি ও ১৩মার্চ ২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৭:০৮
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৮
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১৩
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৪