
২০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:০২
সেদিন ছিল বুধবার। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন ধানমন্ডিতে সঞ্জীবদার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে আমরা তখন নিয়মিত আড্ডা দেই। আমরা তিন বন্ধু অর্কিড প্লাজায় মোবাইল সেটের দাম পরখ করতে গিয়েছিলাম। অর্কিড প্লাজা থেকে বের হয়ে আমরা মিরপুর রোড ধরে হেঁটে হেঁটে বত্রিশ নাম্বারের দিকে যাচ্ছিলাম।
সোবহানবাগ মসজিদের সামনে থেকে আসার সময় উল্টোপাশে ডেন্টাল কলেজের গেটে সঞ্জীবদা আমাদের আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন! আমরা রাস্তা ক্রোস করে এপার এসে সঞ্জীবদার সাথে যোগ দিলাম। তারপর হেঁটে হেঁটে নিউ মডেল কলেজের সামনে এসে আমরা চা খেলাম। তারপর সঞ্জীবদা রিক্সা নিয়ে পান্থপথ ধরে চলে গেলেন। আর আমরা রাস্তা ক্রস করে বত্রিশ নাম্বারে গিয়ে ধানমন্ডি নদীর পারে রেগুলার আড্ডায় যোগ দিলাম।
পরদিন ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানলো স্মরণকালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল একেবারে লণ্ডভণ্ড। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর আমি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় সিডর এলাকায় গবেষণার কাজে ইউএন হ্যাবিট্যাট টিমের সাথে আমাকে যেতে হবে সেখানে। ধানমন্ডিতে প্রফেসর নজরুল ইসলাম স্যারের সেন্টার ফর আরবান স্ট্যাডিজ (সিইউএস) অফিস এবং আগারগাঁয়ে আইডিবি ভবনে ইউএন অফিস, এই দুই জায়গায় আমার দিনভর দৌড়ঝাঁপ।
১৯ নভেম্বর রাতে আমাদের টিম বরিশাল রওনা হবো। আমার সাথে যাবেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ইউএন হ্যাবিট্যাটের প্রতিনিধি মারিকো সাতো। মারিকো রাত বারোটার পর আমাকে পিক করবেন। তাই বরিশাল যাবার আগে সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
১৯ নভেম্বর ২০০৭, সোমবার। সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেক তীরের আমাদের আড্ডায় শামীম ভাইয়ের (ভোরের কাগজের শামীম আহমেদ) মোবাইলে একটা ফোন আসলো। শামীম ভাই ফোন রেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। শামীম ভাই ফোন রেখে জানালেন সঞ্জীবদা আর নেই! জলজ্যান্ত তাগড়া মানুষটা মাত্র কয়দিনের মাথায় নাই হয়ে গেল! আমরা তখনো কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে সঞ্জীবদা নাই! রাত বাড়ার সাথে সাথে সব ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল!
রাত ১১টা নাগাদ আমি ধানমন্ডি থেকে কাঁঠালবাগানের বাসায় চলে আসি। তারপর লাগেজসহ ফয়সলের সাথে ইস্কাটনে মামুনের বাসায় যাই। মালিবাগ থেকে মারিকো আমাকে পিক করবেন। তাই একটু এগিয়ে থাকা। মারিকো ফোন করে জানালেন রাত তিনটায় আমাকে পিক করবেন। রাত দুইটায় আমি আর ফয়সল মালিবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত সাড়ে তিনটায় মারিকো আমাকে পিক করেন।
মারিকোর সাথে কুশল বিনিময়ের পর বরিশাল যেতে যেতে গোটা পথ আমার মাথায় ছিলেন কেবল সঞ্জীবদা। সঞ্জীবদার সাথে আমার কত রকম স্মৃতি। সব ফ্ল্যাশব্যাকের মত একটার পর একটা মনে পড়ছিল। মাঝে মাঝে মারিকোর প্রশ্নে আমি বাস্তবতায় ফিরে আসছিলাম। আবার সঞ্জীবদার সাথে স্মৃতিগুলোতে ফিরে যাচ্ছিলাম।
সঞ্জীবদার সাথে আমার সম্পর্ক ১৯৯৬ সাল থেকে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় এগারো বছরের সম্পর্ক। সঞ্জীবদার মাধ্যমেই ভো্রের কাগজে আমি প্রথম লিখতে শুরু করি। ভোরের কাগজের সাপ্লিমেন্ট 'মেলা' তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মেলা সম্পাদনা করতেন সঞ্জীবদা।
আমি তখন থাকি এলিফ্যান্ট রোডে। কাঁটাবন ঢালে। সংবাদের সাংবাদিক অভিদা, অভিদার এসিসট্যান্ট সুমন, আমার বন্ধু কমল আর আমি থাকি একসাথে। অভিদা আমাকে সংবাদে লেখার জন্য প্রায়ই অনুরোধ করতেন। কিন্তু আলসেমিতে আমার লেখা হতো না। পরে অভিদা বললেন, আপনার পছন্দ হবে এমন কারো কাছে পাঠাই। প্লিজ না করবেন না। একবার অন্তত দেখা করুন। তারপর সিদ্ধান্ত আপনি নিয়েন।
তারপর অভিদা একটা কাগজে লিখলেন, সঞ্জীবদা, রেজা ভাই খুব ভালো লেখেন। ছেলেটিকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন। অভি।
এক লাইনের সেই চিঠি নিয়ে আমি বাংলামটর ভোরের কাগজের অফিসে যাই। চারতলায় গিয়ে এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করি সঞ্জীবদা কোথায় বসেন। শামীম ভাই পোস্টিং রুমে ডেকে নিয়ে খুব খাতির করে জিজ্ঞেস করলেন, সঞ্জীবদার কাছে আসছেন। আসেন আমার সাথে। বলেন কাহিনী কী? আমি অভিদার চিঠিটা শামীম ভাইকে দেখালাম।
শামীম ভাই লাল চা খাওয়ালেন। আর বললেন, সঞ্জীবদার পাল্লায় একবার পড়লে আর কিন্তু রক্ষা নাই। সাহস আছে তো? দেখেন দাদা কী বলেন! কিন্তু ভুলেও চিঠি দেখায়েন না! শামীম ভাইয়ের কথায় আমি কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম। আমার দশা দেখে শামীম ভাই বললেন, ঘাবড়ানোর কিছু নাই। ওই যে সঞ্জীবদা। দাদার সাথে খাতির হবার পর এই অভাগারে আবার ভুইলা যাইয়েন না। যাবার সময় দেখা কইরা যাইয়েন।
সঞ্জীবদার টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। টেবিলের চারপাশে একদল ভক্ত নিয়ে সঞ্জীবদা ভীষণ ব্যস্ত। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কার কাছে আসছেন? বললাম আপনার কাছে। সঞ্জীবদার আশেপাশে কোনো চেয়ার খালি নাই। সঞ্জীবদার বামপাশে পুরাতন পেপারের একটা ঢিবি। বললেন, তুই এখানে বয়।
প্রথম বাক্যে 'আপনি' আর দ্বিতীয় বাক্যে 'তুই' সম্বোধন! জীবনে এই প্রথম আমার সঙ্গে এমনটি ঘটলো। আমি যা বোঝার বুঝে গেলাম। পকেট থেকে অভিদার লেখা একলাইনের চিঠি বের করার আর প্রয়োজন হলো না। সঞ্জীবদার আড্ডা আর শেষ হয় না। কাউকে নতুন কী লিখবে তা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন। কাউকে আগের কোনো লেখা নিয়ে আচ্ছামত ঝাড়ি দিচ্ছেন। আবার পরক্ষণেই হোহো হোহো করে হেসে উঠছেন। আবার সুর করে গানের লাইন আওরাচ্ছেন।
এভাবে ঘণ্টাখানেক পর টেবিলের ভিড়টা কমলো। তারপর সঞ্জীবদা সরাসরি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই? বললাম, আপনার পাতায় লিখতে চাই। কী লিখবি? আপনি যা এসাইন করবেন? বাপরে বাপ! সাহস আছে ছেলের! কাল সকালে পুরান ঢাকায় গিয়ে তোর পছন্দের যে কোনো একটা বিষয়ের ওপর লেখা দিবি। ঠিক আছে? আমি মাথা নাড়ালাম।
সঞ্জীবদা আমাকে বললেন, চল আমার সাথে। আমাকে নিয়ে সোজা অ্যাকাউন্টস সেকশনে। আমাকে দেখিয়ে বললেন, ওর একটা লেখার বিল আছে। ৬০০ টাকা। অ্যাকাউন্টস সেকশন ৬০০ টাকা দিয়ে দিল। দাদা আমাকে ইসারা করলো তাকে ফলো করতে।
অফিসের নিচে এসে সঞ্জীবদা বললেন, পুরান ঢাকায় যাওয়া আসার রিক্সা ভাড়া আর লাঞ্চের জন্য এই ধর ২০০। আর তোর ৪০০ টাকা আমার কাছে জমা থাকলো। তোর লেখার বিলটা অফিস থেকে অ্যাডভান্স নিলাম আরকি। কাল তুই লেখা জমা দিয়ে বাকি ৪০০ নিয়ে নিস। ঠিক আছে? আমি মাথা দুলিয়ে সায় দিলাম।
সঞ্জীবদা বললেন, এখন কী করবি? বললাম কোনো কাজ নাই, বাসায় যাব। দাদা বললেন, চল আমার সাথে। একটা রিকশা নিয়ে আমরা ইস্টার্ন প্লাজার পাশে শ্যালেতে গিয়ে আলো আঁধারীতে বসলাম। সঞ্জীবদা বুঝিয়ে দিলেন কীভাবে কী কী বিষয় জানতে হবে। আর কীভাবে লেখা শুরু আর শেষ করব। প্রথম দিনের স্বল্প পরিচয় থেকেই আমাদের গ্লাস ঠোকাঠুকি। তারপর সঞ্জীবদার পাতায় আমি অনেক লিখেছি। প্রায় সময় দাদা অ্যাডভান্স বিল আদায় করে দিতেন।
পরে সঞ্জীবদা যখন দৈনিক যায় যায় দিনে যোগ দেন, তখন তেজগাঁও যাযাদি অফিসে যেতাম ভালো ভালো সিনেমা দেখতে। সঞ্জীবদার কল্যাণে যাযাদি অফিসে প্রচুর সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা ফোন করে ডাকতেন। দুপুর বারোটার আগে গেলে একটা সিনেমা বেশি দেখা যেত। তখন সঞ্জীবদা যাযাদি অফিসে আমাকে লাঞ্চ করাতেন। তারপর বিকালে আরেক দফা সিনেমা দেখতাম। ফেরার সময় দাদা জোর করে রিকশা ভাড়া দিয়ে দিতেন।
সঞ্জীবদা সবসময় ভেতরের ইচ্ছা শক্তিটাকে জাগিয়ে দিতেন। সবসময় বলতেন চেষ্টা কর, পারবি। প্রাণশক্তি বাড়িয়ে দেবার মত এমন বড় মনের বড়ভাই-বন্ধু আমি জীবনে খুব কম পেয়েছি। সঞ্জীবদা ছিলেন বিরল গোত্রের এক ক্রিয়েটিভ মানুষ। সবসময় আমাদের মত কমবয়সীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দাদা পছন্দ করতেন।
বয়সে সঞ্জীবদা আমার চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন। আমাকে ডাকতেন তুই বলে আর আমি ডাকতাম তুমি। সঞ্জীবদার সাথে দেখা হলে কখন যে এক-দুই ঘণ্টা চলে যেত একদম টেরই পেতাম না। সঞ্জীবদার সাথে আড্ডায় আমি অনেক কিছু শিখতাম। সঞ্জীবদা প্রায়ই নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা বলতেন। নতুন নতুন আইডিয়া দিতেন। আর আমরা হাভাতের মত সেসব গিলতাম।
অফিসের বাইরে সঞ্জীবদার আলো-আঁধারী আড্ডায় যারা নিয়মিত তাদের মধ্যে শামীম ভাই ছিলেন অন্যতম। আহসান কবির মানে আমাদের টাকলা কবির ভাই, অমিতদা, পুলকদা আরো কতজনের সাথে আমার পরিচয় সঞ্জীবদার মাধ্যমে। সঞ্জীবদা লেখার জন্য আমার ভেতরে যে নেশাটি জাগিয়ে দিলেন, সেটি তারপর থেকে আর থামেনি। লেখালেখি একটা চর্চার ব্যাপার। সেই চর্চা করার বিষয়টি সঞ্জীবদা জাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে সঞ্জীবদা আমার একজন গুরু।
প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর আসলে সঞ্জীবদাকে খুব মনে পড়ে। মনে হয় রাস্তায় বের হলেই হয়তো কোথাও থেকে দাদা ডাক দিবেন। সন্ধ্যার পর চা খেতে দেখলে অট্টহাসি দিয়ে দাদা বলতেন, তোরা পুরুষ জাতির কলংক! তোদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না! আহা কতদিন সেই আদুরে কণ্ঠের ঠাট্টা শুনি না। কতদিন গলির মুখে দাদাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি না। কতদিন শুনি না সেই মায়ার ডাক, চল আমার সাথে।
তোমাকে খুব মিস করি দাদা। লাভ ইউ সঞ্জীবদা।
লেখক: রেজা ঘটক, গল্পকার ও চলচ্চিত্রকার।
সেদিন ছিল বুধবার। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন ধানমন্ডিতে সঞ্জীবদার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে আমরা তখন নিয়মিত আড্ডা দেই। আমরা তিন বন্ধু অর্কিড প্লাজায় মোবাইল সেটের দাম পরখ করতে গিয়েছিলাম। অর্কিড প্লাজা থেকে বের হয়ে আমরা মিরপুর রোড ধরে হেঁটে হেঁটে বত্রিশ নাম্বারের দিকে যাচ্ছিলাম।
সোবহানবাগ মসজিদের সামনে থেকে আসার সময় উল্টোপাশে ডেন্টাল কলেজের গেটে সঞ্জীবদা আমাদের আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন! আমরা রাস্তা ক্রোস করে এপার এসে সঞ্জীবদার সাথে যোগ দিলাম। তারপর হেঁটে হেঁটে নিউ মডেল কলেজের সামনে এসে আমরা চা খেলাম। তারপর সঞ্জীবদা রিক্সা নিয়ে পান্থপথ ধরে চলে গেলেন। আর আমরা রাস্তা ক্রস করে বত্রিশ নাম্বারে গিয়ে ধানমন্ডি নদীর পারে রেগুলার আড্ডায় যোগ দিলাম।
পরদিন ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানলো স্মরণকালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল একেবারে লণ্ডভণ্ড। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর আমি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় সিডর এলাকায় গবেষণার কাজে ইউএন হ্যাবিট্যাট টিমের সাথে আমাকে যেতে হবে সেখানে। ধানমন্ডিতে প্রফেসর নজরুল ইসলাম স্যারের সেন্টার ফর আরবান স্ট্যাডিজ (সিইউএস) অফিস এবং আগারগাঁয়ে আইডিবি ভবনে ইউএন অফিস, এই দুই জায়গায় আমার দিনভর দৌড়ঝাঁপ।
১৯ নভেম্বর রাতে আমাদের টিম বরিশাল রওনা হবো। আমার সাথে যাবেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ইউএন হ্যাবিট্যাটের প্রতিনিধি মারিকো সাতো। মারিকো রাত বারোটার পর আমাকে পিক করবেন। তাই বরিশাল যাবার আগে সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
১৯ নভেম্বর ২০০৭, সোমবার। সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেক তীরের আমাদের আড্ডায় শামীম ভাইয়ের (ভোরের কাগজের শামীম আহমেদ) মোবাইলে একটা ফোন আসলো। শামীম ভাই ফোন রেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। শামীম ভাই ফোন রেখে জানালেন সঞ্জীবদা আর নেই! জলজ্যান্ত তাগড়া মানুষটা মাত্র কয়দিনের মাথায় নাই হয়ে গেল! আমরা তখনো কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে সঞ্জীবদা নাই! রাত বাড়ার সাথে সাথে সব ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল!
রাত ১১টা নাগাদ আমি ধানমন্ডি থেকে কাঁঠালবাগানের বাসায় চলে আসি। তারপর লাগেজসহ ফয়সলের সাথে ইস্কাটনে মামুনের বাসায় যাই। মালিবাগ থেকে মারিকো আমাকে পিক করবেন। তাই একটু এগিয়ে থাকা। মারিকো ফোন করে জানালেন রাত তিনটায় আমাকে পিক করবেন। রাত দুইটায় আমি আর ফয়সল মালিবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত সাড়ে তিনটায় মারিকো আমাকে পিক করেন।
মারিকোর সাথে কুশল বিনিময়ের পর বরিশাল যেতে যেতে গোটা পথ আমার মাথায় ছিলেন কেবল সঞ্জীবদা। সঞ্জীবদার সাথে আমার কত রকম স্মৃতি। সব ফ্ল্যাশব্যাকের মত একটার পর একটা মনে পড়ছিল। মাঝে মাঝে মারিকোর প্রশ্নে আমি বাস্তবতায় ফিরে আসছিলাম। আবার সঞ্জীবদার সাথে স্মৃতিগুলোতে ফিরে যাচ্ছিলাম।
সঞ্জীবদার সাথে আমার সম্পর্ক ১৯৯৬ সাল থেকে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় এগারো বছরের সম্পর্ক। সঞ্জীবদার মাধ্যমেই ভো্রের কাগজে আমি প্রথম লিখতে শুরু করি। ভোরের কাগজের সাপ্লিমেন্ট 'মেলা' তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মেলা সম্পাদনা করতেন সঞ্জীবদা।
আমি তখন থাকি এলিফ্যান্ট রোডে। কাঁটাবন ঢালে। সংবাদের সাংবাদিক অভিদা, অভিদার এসিসট্যান্ট সুমন, আমার বন্ধু কমল আর আমি থাকি একসাথে। অভিদা আমাকে সংবাদে লেখার জন্য প্রায়ই অনুরোধ করতেন। কিন্তু আলসেমিতে আমার লেখা হতো না। পরে অভিদা বললেন, আপনার পছন্দ হবে এমন কারো কাছে পাঠাই। প্লিজ না করবেন না। একবার অন্তত দেখা করুন। তারপর সিদ্ধান্ত আপনি নিয়েন।
তারপর অভিদা একটা কাগজে লিখলেন, সঞ্জীবদা, রেজা ভাই খুব ভালো লেখেন। ছেলেটিকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন। অভি।
এক লাইনের সেই চিঠি নিয়ে আমি বাংলামটর ভোরের কাগজের অফিসে যাই। চারতলায় গিয়ে এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করি সঞ্জীবদা কোথায় বসেন। শামীম ভাই পোস্টিং রুমে ডেকে নিয়ে খুব খাতির করে জিজ্ঞেস করলেন, সঞ্জীবদার কাছে আসছেন। আসেন আমার সাথে। বলেন কাহিনী কী? আমি অভিদার চিঠিটা শামীম ভাইকে দেখালাম।
শামীম ভাই লাল চা খাওয়ালেন। আর বললেন, সঞ্জীবদার পাল্লায় একবার পড়লে আর কিন্তু রক্ষা নাই। সাহস আছে তো? দেখেন দাদা কী বলেন! কিন্তু ভুলেও চিঠি দেখায়েন না! শামীম ভাইয়ের কথায় আমি কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম। আমার দশা দেখে শামীম ভাই বললেন, ঘাবড়ানোর কিছু নাই। ওই যে সঞ্জীবদা। দাদার সাথে খাতির হবার পর এই অভাগারে আবার ভুইলা যাইয়েন না। যাবার সময় দেখা কইরা যাইয়েন।
সঞ্জীবদার টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। টেবিলের চারপাশে একদল ভক্ত নিয়ে সঞ্জীবদা ভীষণ ব্যস্ত। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কার কাছে আসছেন? বললাম আপনার কাছে। সঞ্জীবদার আশেপাশে কোনো চেয়ার খালি নাই। সঞ্জীবদার বামপাশে পুরাতন পেপারের একটা ঢিবি। বললেন, তুই এখানে বয়।
প্রথম বাক্যে 'আপনি' আর দ্বিতীয় বাক্যে 'তুই' সম্বোধন! জীবনে এই প্রথম আমার সঙ্গে এমনটি ঘটলো। আমি যা বোঝার বুঝে গেলাম। পকেট থেকে অভিদার লেখা একলাইনের চিঠি বের করার আর প্রয়োজন হলো না। সঞ্জীবদার আড্ডা আর শেষ হয় না। কাউকে নতুন কী লিখবে তা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন। কাউকে আগের কোনো লেখা নিয়ে আচ্ছামত ঝাড়ি দিচ্ছেন। আবার পরক্ষণেই হোহো হোহো করে হেসে উঠছেন। আবার সুর করে গানের লাইন আওরাচ্ছেন।
এভাবে ঘণ্টাখানেক পর টেবিলের ভিড়টা কমলো। তারপর সঞ্জীবদা সরাসরি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই? বললাম, আপনার পাতায় লিখতে চাই। কী লিখবি? আপনি যা এসাইন করবেন? বাপরে বাপ! সাহস আছে ছেলের! কাল সকালে পুরান ঢাকায় গিয়ে তোর পছন্দের যে কোনো একটা বিষয়ের ওপর লেখা দিবি। ঠিক আছে? আমি মাথা নাড়ালাম।
সঞ্জীবদা আমাকে বললেন, চল আমার সাথে। আমাকে নিয়ে সোজা অ্যাকাউন্টস সেকশনে। আমাকে দেখিয়ে বললেন, ওর একটা লেখার বিল আছে। ৬০০ টাকা। অ্যাকাউন্টস সেকশন ৬০০ টাকা দিয়ে দিল। দাদা আমাকে ইসারা করলো তাকে ফলো করতে।
অফিসের নিচে এসে সঞ্জীবদা বললেন, পুরান ঢাকায় যাওয়া আসার রিক্সা ভাড়া আর লাঞ্চের জন্য এই ধর ২০০। আর তোর ৪০০ টাকা আমার কাছে জমা থাকলো। তোর লেখার বিলটা অফিস থেকে অ্যাডভান্স নিলাম আরকি। কাল তুই লেখা জমা দিয়ে বাকি ৪০০ নিয়ে নিস। ঠিক আছে? আমি মাথা দুলিয়ে সায় দিলাম।
সঞ্জীবদা বললেন, এখন কী করবি? বললাম কোনো কাজ নাই, বাসায় যাব। দাদা বললেন, চল আমার সাথে। একটা রিকশা নিয়ে আমরা ইস্টার্ন প্লাজার পাশে শ্যালেতে গিয়ে আলো আঁধারীতে বসলাম। সঞ্জীবদা বুঝিয়ে দিলেন কীভাবে কী কী বিষয় জানতে হবে। আর কীভাবে লেখা শুরু আর শেষ করব। প্রথম দিনের স্বল্প পরিচয় থেকেই আমাদের গ্লাস ঠোকাঠুকি। তারপর সঞ্জীবদার পাতায় আমি অনেক লিখেছি। প্রায় সময় দাদা অ্যাডভান্স বিল আদায় করে দিতেন।
পরে সঞ্জীবদা যখন দৈনিক যায় যায় দিনে যোগ দেন, তখন তেজগাঁও যাযাদি অফিসে যেতাম ভালো ভালো সিনেমা দেখতে। সঞ্জীবদার কল্যাণে যাযাদি অফিসে প্রচুর সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা ফোন করে ডাকতেন। দুপুর বারোটার আগে গেলে একটা সিনেমা বেশি দেখা যেত। তখন সঞ্জীবদা যাযাদি অফিসে আমাকে লাঞ্চ করাতেন। তারপর বিকালে আরেক দফা সিনেমা দেখতাম। ফেরার সময় দাদা জোর করে রিকশা ভাড়া দিয়ে দিতেন।
সঞ্জীবদা সবসময় ভেতরের ইচ্ছা শক্তিটাকে জাগিয়ে দিতেন। সবসময় বলতেন চেষ্টা কর, পারবি। প্রাণশক্তি বাড়িয়ে দেবার মত এমন বড় মনের বড়ভাই-বন্ধু আমি জীবনে খুব কম পেয়েছি। সঞ্জীবদা ছিলেন বিরল গোত্রের এক ক্রিয়েটিভ মানুষ। সবসময় আমাদের মত কমবয়সীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দাদা পছন্দ করতেন।
বয়সে সঞ্জীবদা আমার চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন। আমাকে ডাকতেন তুই বলে আর আমি ডাকতাম তুমি। সঞ্জীবদার সাথে দেখা হলে কখন যে এক-দুই ঘণ্টা চলে যেত একদম টেরই পেতাম না। সঞ্জীবদার সাথে আড্ডায় আমি অনেক কিছু শিখতাম। সঞ্জীবদা প্রায়ই নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা বলতেন। নতুন নতুন আইডিয়া দিতেন। আর আমরা হাভাতের মত সেসব গিলতাম।
অফিসের বাইরে সঞ্জীবদার আলো-আঁধারী আড্ডায় যারা নিয়মিত তাদের মধ্যে শামীম ভাই ছিলেন অন্যতম। আহসান কবির মানে আমাদের টাকলা কবির ভাই, অমিতদা, পুলকদা আরো কতজনের সাথে আমার পরিচয় সঞ্জীবদার মাধ্যমে। সঞ্জীবদা লেখার জন্য আমার ভেতরে যে নেশাটি জাগিয়ে দিলেন, সেটি তারপর থেকে আর থামেনি। লেখালেখি একটা চর্চার ব্যাপার। সেই চর্চা করার বিষয়টি সঞ্জীবদা জাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে সঞ্জীবদা আমার একজন গুরু।
প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর আসলে সঞ্জীবদাকে খুব মনে পড়ে। মনে হয় রাস্তায় বের হলেই হয়তো কোথাও থেকে দাদা ডাক দিবেন। সন্ধ্যার পর চা খেতে দেখলে অট্টহাসি দিয়ে দাদা বলতেন, তোরা পুরুষ জাতির কলংক! তোদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না! আহা কতদিন সেই আদুরে কণ্ঠের ঠাট্টা শুনি না। কতদিন গলির মুখে দাদাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি না। কতদিন শুনি না সেই মায়ার ডাক, চল আমার সাথে।
তোমাকে খুব মিস করি দাদা। লাভ ইউ সঞ্জীবদা।
লেখক: রেজা ঘটক, গল্পকার ও চলচ্চিত্রকার।
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ০২:১০
০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:১০
০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৩
০২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০

২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৭:৫৮
বিনোদন জগতে খ্যাতির ক্ষণস্থায়িত্ব নতুন কিছু নয়। আর এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে হলিউড। এক সময়ের জনপ্রিয় শিশু অভিনেতা টাইলার চেজকে গৃহহীন অবস্থায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রাস্তায়। নিকেলোডিয়নের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ নেড’স ডিক্লাসিফায়েড স্কুল সারভাইভাল গাইড-এ অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার বর্তমান জীবন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী টাইলার চেজকে চিনে তাকে জড়িয়ে ধরছেন। ওই নারী জানতে চাইলে চেজ নিশ্চিত করেন, তিনিই একসময় নিকেলোডিয়নের সেই জনপ্রিয় শিশু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ভিডিওটি ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেন মারিও নাউফেল নামের এক ব্যবহারকারী। তিনি লেখেন, ‘এই ভিডিও মনে করিয়ে দেয়, খ্যাতি কত দ্রুত ম্লান হয়ে যেতে পারে।’
তার মতে, ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেলে অনেক শিশু তারকাই এমন সব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের তাড়া করে বেড়ায়। এর মধ্যে আর্থিক সংকট অন্যতম।
নাউফেল আরো বলেন, ‘শৈশবে শিশু অভিনেতারা ব্যাপক পরিচিতি পায়। কিন্তু বড় হওয়ার পর বাস্তবতা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে ওঠে। টাইলারের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, খুব অল্প বয়সে পাওয়া খ্যাতির পর হলিউডের সহায়তা সবার জন্য সমানভাবে থাকে না।’
টাইলার চেজের ঘটনা আবারও বিনোদন শিল্পে শিশু শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও কিছু শিশু অভিনেতা পরবর্তী সময়ে সফলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, তবে অনেকেই নিয়মিত কাজ না পেয়ে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সংকটে পড়েন। ফলে সমাজের মূল স্রোত থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনাও বিরল নয়।
এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—শিশু শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা এবং ক্যারিয়ার-পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতিতে বিনোদন শিল্প কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্তই টাইলার চেজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন এবং একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য শিশু শিল্পীদের সহায়তার দাবিও তুলছেন।
এর মধ্যেই তার সাবেক সহ-অভিনেতা ড্যানিয়েল কার্টিস লি এগিয়ে এসেছেন তাকে সহায়তা করতে। তার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই অভিনেতা। এসময় চেজ জানান বন্ধুকে দেখে খুব খুশি হয়েছেন তিনি।
এদিকে চেজের পরিবার জানিয়েছে, বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভোগা এই তারকার আর্থিক অনুদানের কোন প্রয়োজন নেই। তার দরকার চিকিৎসা ও নিয়মিত সহায়তা।
বিনোদন জগতে খ্যাতির ক্ষণস্থায়িত্ব নতুন কিছু নয়। আর এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে হলিউড। এক সময়ের জনপ্রিয় শিশু অভিনেতা টাইলার চেজকে গৃহহীন অবস্থায় দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রাস্তায়। নিকেলোডিয়নের জনপ্রিয় টিভি সিরিজ নেড’স ডিক্লাসিফায়েড স্কুল সারভাইভাল গাইড-এ অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেতার বর্তমান জীবন ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী টাইলার চেজকে চিনে তাকে জড়িয়ে ধরছেন। ওই নারী জানতে চাইলে চেজ নিশ্চিত করেন, তিনিই একসময় নিকেলোডিয়নের সেই জনপ্রিয় শিশু চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ভিডিওটি ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করেন মারিও নাউফেল নামের এক ব্যবহারকারী। তিনি লেখেন, ‘এই ভিডিও মনে করিয়ে দেয়, খ্যাতি কত দ্রুত ম্লান হয়ে যেতে পারে।’
তার মতে, ক্যামেরা বন্ধ হয়ে গেলে অনেক শিশু তারকাই এমন সব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের তাড়া করে বেড়ায়। এর মধ্যে আর্থিক সংকট অন্যতম।
নাউফেল আরো বলেন, ‘শৈশবে শিশু অভিনেতারা ব্যাপক পরিচিতি পায়। কিন্তু বড় হওয়ার পর বাস্তবতা অনেক সময়ই কঠিন হয়ে ওঠে। টাইলারের ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, খুব অল্প বয়সে পাওয়া খ্যাতির পর হলিউডের সহায়তা সবার জন্য সমানভাবে থাকে না।’
টাইলার চেজের ঘটনা আবারও বিনোদন শিল্পে শিশু শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও কিছু শিশু অভিনেতা পরবর্তী সময়ে সফলভাবে প্রাপ্তবয়স্ক অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন, তবে অনেকেই নিয়মিত কাজ না পেয়ে আর্থিক ও সামাজিকভাবে সংকটে পড়েন। ফলে সমাজের মূল স্রোত থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঘটনাও বিরল নয়।
এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—শিশু শিল্পীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা এবং ক্যারিয়ার-পরবর্তী জীবনের প্রস্তুতিতে বিনোদন শিল্প কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভক্তই টাইলার চেজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন এবং একই পরিস্থিতিতে পড়া অন্য শিশু শিল্পীদের সহায়তার দাবিও তুলছেন।
এর মধ্যেই তার সাবেক সহ-অভিনেতা ড্যানিয়েল কার্টিস লি এগিয়ে এসেছেন তাকে সহায়তা করতে। তার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই অভিনেতা। এসময় চেজ জানান বন্ধুকে দেখে খুব খুশি হয়েছেন তিনি।
এদিকে চেজের পরিবার জানিয়েছে, বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভোগা এই তারকার আর্থিক অনুদানের কোন প্রয়োজন নেই। তার দরকার চিকিৎসা ও নিয়মিত সহায়তা।

২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৩:৩৩
দেশের জনপ্রিয় তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যাম জোনের স্যাম বিয়ে করেছেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
স্যাম জোন হলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় টেক ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি মূলত প্রযুক্তি বিষয়ক ভিডিও তৈরি করেন, বিশেষ করে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট নিয়ে আলোচনা করেন।
বরিশালের ছেলে স্যাম বর্তমানে ঢাকাতে থাকেন।
তার ঝুলিতে রয়েছে "মারভেল অব টুমোরো" সহ বিভিন্ন পুরস্কার। স্যাম জোন নতুন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, গ্যাজেট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের রিভিউ ও টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করেন।
তিনি প্রযুক্তি বিষয়ক টিপস, ট্রিকস, এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েও ভিডিও তৈরি করেন।
দেশের জনপ্রিয় তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্যাম জোনের স্যাম বিয়ে করেছেন। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
স্যাম জোন হলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় টেক ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর, যিনি মূলত প্রযুক্তি বিষয়ক ভিডিও তৈরি করেন, বিশেষ করে স্মার্টফোন ও গ্যাজেট নিয়ে আলোচনা করেন।
বরিশালের ছেলে স্যাম বর্তমানে ঢাকাতে থাকেন।
তার ঝুলিতে রয়েছে "মারভেল অব টুমোরো" সহ বিভিন্ন পুরস্কার। স্যাম জোন নতুন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, গ্যাজেট এবং অন্যান্য প্রযুক্তি পণ্যের রিভিউ ও টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করেন।
তিনি প্রযুক্তি বিষয়ক টিপস, ট্রিকস, এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েও ভিডিও তৈরি করেন।

২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৪:০৩
মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। মার্কিন ডিজে ডেভিড গেটার কনসার্টে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এক মদ্যপ গাড়িচালকের ধাক্কায় আহত হন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুর্ঘটনায় নোরার মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'কনকাশন' বলা হয়।
সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে ডেভিড গেটার সঙ্গে পারফর্ম করার কথা রয়েছে নোরার। সেই লক্ষ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি দ্রুতগামী গাড়ি নোরার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পুলিশি তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে যে, ঘাতক গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই নোরাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। সৌভাগ্যবশত নোরার শরীরে কোনো অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা বড় কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। তবে মস্তিষ্কে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি বা চোট হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
অসুস্থ শরীর ও চিকিৎসকদের বারণ সত্ত্বেও ভক্তদের নিরাশ না করতে সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি। এই কনসার্টে ডেভিড গেটা ও আমেরিকান গায়িকা সিয়ারার সঙ্গে তার নতুন আন্তর্জাতিক সিঙ্গেলের এক ঝলক ভক্তদের উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি নোরার ক্যারিয়ারে বইছে সাফল্যের সুবাতাস। প্রথম বলিউড অভিনেত্রী হিসেবে বিখ্যাত ‘দ্য জিমি ফ্যালন শো’-তে অংশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছেন তিনি। জ্যামাইকান গায়িকা শেনসিয়ার সঙ্গে তার পারফরম্যান্স দারুণ প্রশংসিত হয়।
মিউজিকের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন নোরা। দক্ষিণী সিনেমা ‘কাঞ্চনা ৪’ এবং ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এছাড়া চলতি বছর ‘বি হ্যাপি’, ‘উফ ইয়ে সিয়াপা’ এবং ইশান খাট্টারের বিপরীতে ওয়েব সিরিজ ‘দ্য রয়্যালস’-এ তার উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
মুম্বাইয়ের ব্যস্ত সড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। মার্কিন ডিজে ডেভিড গেটার কনসার্টে যোগ দিতে যাওয়ার পথে এক মদ্যপ গাড়িচালকের ধাক্কায় আহত হন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুর্ঘটনায় নোরার মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় 'কনকাশন' বলা হয়।
সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে ডেভিড গেটার সঙ্গে পারফর্ম করার কথা রয়েছে নোরার। সেই লক্ষ্যেই অনুষ্ঠানস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পথিমধ্যে হঠাৎ একটি দ্রুতগামী গাড়ি নোরার গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। পুলিশি তদন্তে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে যে, ঘাতক গাড়ির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
দুর্ঘটনার পরপরই নোরাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। সৌভাগ্যবশত নোরার শরীরে কোনো অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা বড় কোনো আঘাত পাওয়া যায়নি। তবে মস্তিষ্কে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি বা চোট হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন।
অসুস্থ শরীর ও চিকিৎসকদের বারণ সত্ত্বেও ভক্তদের নিরাশ না করতে সানবার্ন ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন তিনি। এই কনসার্টে ডেভিড গেটা ও আমেরিকান গায়িকা সিয়ারার সঙ্গে তার নতুন আন্তর্জাতিক সিঙ্গেলের এক ঝলক ভক্তদের উপহার দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি নোরার ক্যারিয়ারে বইছে সাফল্যের সুবাতাস। প্রথম বলিউড অভিনেত্রী হিসেবে বিখ্যাত ‘দ্য জিমি ফ্যালন শো’-তে অংশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছেন তিনি। জ্যামাইকান গায়িকা শেনসিয়ার সঙ্গে তার পারফরম্যান্স দারুণ প্রশংসিত হয়।
মিউজিকের পাশাপাশি বড় পর্দাতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন নোরা। দক্ষিণী সিনেমা ‘কাঞ্চনা ৪’ এবং ‘কেডি: দ্য ডেভিল’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাকে। এছাড়া চলতি বছর ‘বি হ্যাপি’, ‘উফ ইয়ে সিয়াপা’ এবং ইশান খাট্টারের বিপরীতে ওয়েব সিরিজ ‘দ্য রয়্যালস’-এ তার উপস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.