
২০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:০২
সেদিন ছিল বুধবার। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন ধানমন্ডিতে সঞ্জীবদার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে আমরা তখন নিয়মিত আড্ডা দেই। আমরা তিন বন্ধু অর্কিড প্লাজায় মোবাইল সেটের দাম পরখ করতে গিয়েছিলাম। অর্কিড প্লাজা থেকে বের হয়ে আমরা মিরপুর রোড ধরে হেঁটে হেঁটে বত্রিশ নাম্বারের দিকে যাচ্ছিলাম।
সোবহানবাগ মসজিদের সামনে থেকে আসার সময় উল্টোপাশে ডেন্টাল কলেজের গেটে সঞ্জীবদা আমাদের আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন! আমরা রাস্তা ক্রোস করে এপার এসে সঞ্জীবদার সাথে যোগ দিলাম। তারপর হেঁটে হেঁটে নিউ মডেল কলেজের সামনে এসে আমরা চা খেলাম। তারপর সঞ্জীবদা রিক্সা নিয়ে পান্থপথ ধরে চলে গেলেন। আর আমরা রাস্তা ক্রস করে বত্রিশ নাম্বারে গিয়ে ধানমন্ডি নদীর পারে রেগুলার আড্ডায় যোগ দিলাম।
পরদিন ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানলো স্মরণকালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল একেবারে লণ্ডভণ্ড। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর আমি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় সিডর এলাকায় গবেষণার কাজে ইউএন হ্যাবিট্যাট টিমের সাথে আমাকে যেতে হবে সেখানে। ধানমন্ডিতে প্রফেসর নজরুল ইসলাম স্যারের সেন্টার ফর আরবান স্ট্যাডিজ (সিইউএস) অফিস এবং আগারগাঁয়ে আইডিবি ভবনে ইউএন অফিস, এই দুই জায়গায় আমার দিনভর দৌড়ঝাঁপ।
১৯ নভেম্বর রাতে আমাদের টিম বরিশাল রওনা হবো। আমার সাথে যাবেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ইউএন হ্যাবিট্যাটের প্রতিনিধি মারিকো সাতো। মারিকো রাত বারোটার পর আমাকে পিক করবেন। তাই বরিশাল যাবার আগে সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
১৯ নভেম্বর ২০০৭, সোমবার। সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেক তীরের আমাদের আড্ডায় শামীম ভাইয়ের (ভোরের কাগজের শামীম আহমেদ) মোবাইলে একটা ফোন আসলো। শামীম ভাই ফোন রেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। শামীম ভাই ফোন রেখে জানালেন সঞ্জীবদা আর নেই! জলজ্যান্ত তাগড়া মানুষটা মাত্র কয়দিনের মাথায় নাই হয়ে গেল! আমরা তখনো কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে সঞ্জীবদা নাই! রাত বাড়ার সাথে সাথে সব ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল!
রাত ১১টা নাগাদ আমি ধানমন্ডি থেকে কাঁঠালবাগানের বাসায় চলে আসি। তারপর লাগেজসহ ফয়সলের সাথে ইস্কাটনে মামুনের বাসায় যাই। মালিবাগ থেকে মারিকো আমাকে পিক করবেন। তাই একটু এগিয়ে থাকা। মারিকো ফোন করে জানালেন রাত তিনটায় আমাকে পিক করবেন। রাত দুইটায় আমি আর ফয়সল মালিবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত সাড়ে তিনটায় মারিকো আমাকে পিক করেন।
মারিকোর সাথে কুশল বিনিময়ের পর বরিশাল যেতে যেতে গোটা পথ আমার মাথায় ছিলেন কেবল সঞ্জীবদা। সঞ্জীবদার সাথে আমার কত রকম স্মৃতি। সব ফ্ল্যাশব্যাকের মত একটার পর একটা মনে পড়ছিল। মাঝে মাঝে মারিকোর প্রশ্নে আমি বাস্তবতায় ফিরে আসছিলাম। আবার সঞ্জীবদার সাথে স্মৃতিগুলোতে ফিরে যাচ্ছিলাম।
সঞ্জীবদার সাথে আমার সম্পর্ক ১৯৯৬ সাল থেকে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় এগারো বছরের সম্পর্ক। সঞ্জীবদার মাধ্যমেই ভো্রের কাগজে আমি প্রথম লিখতে শুরু করি। ভোরের কাগজের সাপ্লিমেন্ট 'মেলা' তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মেলা সম্পাদনা করতেন সঞ্জীবদা।
আমি তখন থাকি এলিফ্যান্ট রোডে। কাঁটাবন ঢালে। সংবাদের সাংবাদিক অভিদা, অভিদার এসিসট্যান্ট সুমন, আমার বন্ধু কমল আর আমি থাকি একসাথে। অভিদা আমাকে সংবাদে লেখার জন্য প্রায়ই অনুরোধ করতেন। কিন্তু আলসেমিতে আমার লেখা হতো না। পরে অভিদা বললেন, আপনার পছন্দ হবে এমন কারো কাছে পাঠাই। প্লিজ না করবেন না। একবার অন্তত দেখা করুন। তারপর সিদ্ধান্ত আপনি নিয়েন।
তারপর অভিদা একটা কাগজে লিখলেন, সঞ্জীবদা, রেজা ভাই খুব ভালো লেখেন। ছেলেটিকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন। অভি।
এক লাইনের সেই চিঠি নিয়ে আমি বাংলামটর ভোরের কাগজের অফিসে যাই। চারতলায় গিয়ে এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করি সঞ্জীবদা কোথায় বসেন। শামীম ভাই পোস্টিং রুমে ডেকে নিয়ে খুব খাতির করে জিজ্ঞেস করলেন, সঞ্জীবদার কাছে আসছেন। আসেন আমার সাথে। বলেন কাহিনী কী? আমি অভিদার চিঠিটা শামীম ভাইকে দেখালাম।
শামীম ভাই লাল চা খাওয়ালেন। আর বললেন, সঞ্জীবদার পাল্লায় একবার পড়লে আর কিন্তু রক্ষা নাই। সাহস আছে তো? দেখেন দাদা কী বলেন! কিন্তু ভুলেও চিঠি দেখায়েন না! শামীম ভাইয়ের কথায় আমি কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম। আমার দশা দেখে শামীম ভাই বললেন, ঘাবড়ানোর কিছু নাই। ওই যে সঞ্জীবদা। দাদার সাথে খাতির হবার পর এই অভাগারে আবার ভুইলা যাইয়েন না। যাবার সময় দেখা কইরা যাইয়েন।
সঞ্জীবদার টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। টেবিলের চারপাশে একদল ভক্ত নিয়ে সঞ্জীবদা ভীষণ ব্যস্ত। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কার কাছে আসছেন? বললাম আপনার কাছে। সঞ্জীবদার আশেপাশে কোনো চেয়ার খালি নাই। সঞ্জীবদার বামপাশে পুরাতন পেপারের একটা ঢিবি। বললেন, তুই এখানে বয়।
প্রথম বাক্যে 'আপনি' আর দ্বিতীয় বাক্যে 'তুই' সম্বোধন! জীবনে এই প্রথম আমার সঙ্গে এমনটি ঘটলো। আমি যা বোঝার বুঝে গেলাম। পকেট থেকে অভিদার লেখা একলাইনের চিঠি বের করার আর প্রয়োজন হলো না। সঞ্জীবদার আড্ডা আর শেষ হয় না। কাউকে নতুন কী লিখবে তা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন। কাউকে আগের কোনো লেখা নিয়ে আচ্ছামত ঝাড়ি দিচ্ছেন। আবার পরক্ষণেই হোহো হোহো করে হেসে উঠছেন। আবার সুর করে গানের লাইন আওরাচ্ছেন।
এভাবে ঘণ্টাখানেক পর টেবিলের ভিড়টা কমলো। তারপর সঞ্জীবদা সরাসরি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই? বললাম, আপনার পাতায় লিখতে চাই। কী লিখবি? আপনি যা এসাইন করবেন? বাপরে বাপ! সাহস আছে ছেলের! কাল সকালে পুরান ঢাকায় গিয়ে তোর পছন্দের যে কোনো একটা বিষয়ের ওপর লেখা দিবি। ঠিক আছে? আমি মাথা নাড়ালাম।
সঞ্জীবদা আমাকে বললেন, চল আমার সাথে। আমাকে নিয়ে সোজা অ্যাকাউন্টস সেকশনে। আমাকে দেখিয়ে বললেন, ওর একটা লেখার বিল আছে। ৬০০ টাকা। অ্যাকাউন্টস সেকশন ৬০০ টাকা দিয়ে দিল। দাদা আমাকে ইসারা করলো তাকে ফলো করতে।
অফিসের নিচে এসে সঞ্জীবদা বললেন, পুরান ঢাকায় যাওয়া আসার রিক্সা ভাড়া আর লাঞ্চের জন্য এই ধর ২০০। আর তোর ৪০০ টাকা আমার কাছে জমা থাকলো। তোর লেখার বিলটা অফিস থেকে অ্যাডভান্স নিলাম আরকি। কাল তুই লেখা জমা দিয়ে বাকি ৪০০ নিয়ে নিস। ঠিক আছে? আমি মাথা দুলিয়ে সায় দিলাম।
সঞ্জীবদা বললেন, এখন কী করবি? বললাম কোনো কাজ নাই, বাসায় যাব। দাদা বললেন, চল আমার সাথে। একটা রিকশা নিয়ে আমরা ইস্টার্ন প্লাজার পাশে শ্যালেতে গিয়ে আলো আঁধারীতে বসলাম। সঞ্জীবদা বুঝিয়ে দিলেন কীভাবে কী কী বিষয় জানতে হবে। আর কীভাবে লেখা শুরু আর শেষ করব। প্রথম দিনের স্বল্প পরিচয় থেকেই আমাদের গ্লাস ঠোকাঠুকি। তারপর সঞ্জীবদার পাতায় আমি অনেক লিখেছি। প্রায় সময় দাদা অ্যাডভান্স বিল আদায় করে দিতেন।
পরে সঞ্জীবদা যখন দৈনিক যায় যায় দিনে যোগ দেন, তখন তেজগাঁও যাযাদি অফিসে যেতাম ভালো ভালো সিনেমা দেখতে। সঞ্জীবদার কল্যাণে যাযাদি অফিসে প্রচুর সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা ফোন করে ডাকতেন। দুপুর বারোটার আগে গেলে একটা সিনেমা বেশি দেখা যেত। তখন সঞ্জীবদা যাযাদি অফিসে আমাকে লাঞ্চ করাতেন। তারপর বিকালে আরেক দফা সিনেমা দেখতাম। ফেরার সময় দাদা জোর করে রিকশা ভাড়া দিয়ে দিতেন।
সঞ্জীবদা সবসময় ভেতরের ইচ্ছা শক্তিটাকে জাগিয়ে দিতেন। সবসময় বলতেন চেষ্টা কর, পারবি। প্রাণশক্তি বাড়িয়ে দেবার মত এমন বড় মনের বড়ভাই-বন্ধু আমি জীবনে খুব কম পেয়েছি। সঞ্জীবদা ছিলেন বিরল গোত্রের এক ক্রিয়েটিভ মানুষ। সবসময় আমাদের মত কমবয়সীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দাদা পছন্দ করতেন।
বয়সে সঞ্জীবদা আমার চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন। আমাকে ডাকতেন তুই বলে আর আমি ডাকতাম তুমি। সঞ্জীবদার সাথে দেখা হলে কখন যে এক-দুই ঘণ্টা চলে যেত একদম টেরই পেতাম না। সঞ্জীবদার সাথে আড্ডায় আমি অনেক কিছু শিখতাম। সঞ্জীবদা প্রায়ই নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা বলতেন। নতুন নতুন আইডিয়া দিতেন। আর আমরা হাভাতের মত সেসব গিলতাম।
অফিসের বাইরে সঞ্জীবদার আলো-আঁধারী আড্ডায় যারা নিয়মিত তাদের মধ্যে শামীম ভাই ছিলেন অন্যতম। আহসান কবির মানে আমাদের টাকলা কবির ভাই, অমিতদা, পুলকদা আরো কতজনের সাথে আমার পরিচয় সঞ্জীবদার মাধ্যমে। সঞ্জীবদা লেখার জন্য আমার ভেতরে যে নেশাটি জাগিয়ে দিলেন, সেটি তারপর থেকে আর থামেনি। লেখালেখি একটা চর্চার ব্যাপার। সেই চর্চা করার বিষয়টি সঞ্জীবদা জাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে সঞ্জীবদা আমার একজন গুরু।
প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর আসলে সঞ্জীবদাকে খুব মনে পড়ে। মনে হয় রাস্তায় বের হলেই হয়তো কোথাও থেকে দাদা ডাক দিবেন। সন্ধ্যার পর চা খেতে দেখলে অট্টহাসি দিয়ে দাদা বলতেন, তোরা পুরুষ জাতির কলংক! তোদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না! আহা কতদিন সেই আদুরে কণ্ঠের ঠাট্টা শুনি না। কতদিন গলির মুখে দাদাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি না। কতদিন শুনি না সেই মায়ার ডাক, চল আমার সাথে।
তোমাকে খুব মিস করি দাদা। লাভ ইউ সঞ্জীবদা।
লেখক: রেজা ঘটক, গল্পকার ও চলচ্চিত্রকার।
সেদিন ছিল বুধবার। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর। সেদিন ধানমন্ডিতে সঞ্জীবদার সাথে আমার শেষ দেখা হয়। ধানমন্ডি বত্রিশ নাম্বারে আমরা তখন নিয়মিত আড্ডা দেই। আমরা তিন বন্ধু অর্কিড প্লাজায় মোবাইল সেটের দাম পরখ করতে গিয়েছিলাম। অর্কিড প্লাজা থেকে বের হয়ে আমরা মিরপুর রোড ধরে হেঁটে হেঁটে বত্রিশ নাম্বারের দিকে যাচ্ছিলাম।
সোবহানবাগ মসজিদের সামনে থেকে আসার সময় উল্টোপাশে ডেন্টাল কলেজের গেটে সঞ্জীবদা আমাদের আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন! আমরা রাস্তা ক্রোস করে এপার এসে সঞ্জীবদার সাথে যোগ দিলাম। তারপর হেঁটে হেঁটে নিউ মডেল কলেজের সামনে এসে আমরা চা খেলাম। তারপর সঞ্জীবদা রিক্সা নিয়ে পান্থপথ ধরে চলে গেলেন। আর আমরা রাস্তা ক্রস করে বত্রিশ নাম্বারে গিয়ে ধানমন্ডি নদীর পারে রেগুলার আড্ডায় যোগ দিলাম।
পরদিন ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানলো স্মরণকালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল একেবারে লণ্ডভণ্ড। ১৭ ও ১৮ নভেম্বর আমি প্রচণ্ড ব্যস্ত ছিলাম। ঘূর্ণিঝড় সিডর এলাকায় গবেষণার কাজে ইউএন হ্যাবিট্যাট টিমের সাথে আমাকে যেতে হবে সেখানে। ধানমন্ডিতে প্রফেসর নজরুল ইসলাম স্যারের সেন্টার ফর আরবান স্ট্যাডিজ (সিইউএস) অফিস এবং আগারগাঁয়ে আইডিবি ভবনে ইউএন অফিস, এই দুই জায়গায় আমার দিনভর দৌড়ঝাঁপ।
১৯ নভেম্বর রাতে আমাদের টিম বরিশাল রওনা হবো। আমার সাথে যাবেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভা থেকে ইউএন হ্যাবিট্যাটের প্রতিনিধি মারিকো সাতো। মারিকো রাত বারোটার পর আমাকে পিক করবেন। তাই বরিশাল যাবার আগে সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
১৯ নভেম্বর ২০০৭, সোমবার। সন্ধ্যায় ধানমন্ডি লেক তীরের আমাদের আড্ডায় শামীম ভাইয়ের (ভোরের কাগজের শামীম আহমেদ) মোবাইলে একটা ফোন আসলো। শামীম ভাই ফোন রেখেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। শামীম ভাই ফোন রেখে জানালেন সঞ্জীবদা আর নেই! জলজ্যান্ত তাগড়া মানুষটা মাত্র কয়দিনের মাথায় নাই হয়ে গেল! আমরা তখনো কেউ বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে সঞ্জীবদা নাই! রাত বাড়ার সাথে সাথে সব ঘটনা রাষ্ট্র হয়ে গেল!
রাত ১১টা নাগাদ আমি ধানমন্ডি থেকে কাঁঠালবাগানের বাসায় চলে আসি। তারপর লাগেজসহ ফয়সলের সাথে ইস্কাটনে মামুনের বাসায় যাই। মালিবাগ থেকে মারিকো আমাকে পিক করবেন। তাই একটু এগিয়ে থাকা। মারিকো ফোন করে জানালেন রাত তিনটায় আমাকে পিক করবেন। রাত দুইটায় আমি আর ফয়সল মালিবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত সাড়ে তিনটায় মারিকো আমাকে পিক করেন।
মারিকোর সাথে কুশল বিনিময়ের পর বরিশাল যেতে যেতে গোটা পথ আমার মাথায় ছিলেন কেবল সঞ্জীবদা। সঞ্জীবদার সাথে আমার কত রকম স্মৃতি। সব ফ্ল্যাশব্যাকের মত একটার পর একটা মনে পড়ছিল। মাঝে মাঝে মারিকোর প্রশ্নে আমি বাস্তবতায় ফিরে আসছিলাম। আবার সঞ্জীবদার সাথে স্মৃতিগুলোতে ফিরে যাচ্ছিলাম।
সঞ্জীবদার সাথে আমার সম্পর্ক ১৯৯৬ সাল থেকে। ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় এগারো বছরের সম্পর্ক। সঞ্জীবদার মাধ্যমেই ভো্রের কাগজে আমি প্রথম লিখতে শুরু করি। ভোরের কাগজের সাপ্লিমেন্ট 'মেলা' তখন তরুণ প্রজন্মের কাছে খুবই জনপ্রিয়। মেলা সম্পাদনা করতেন সঞ্জীবদা।
আমি তখন থাকি এলিফ্যান্ট রোডে। কাঁটাবন ঢালে। সংবাদের সাংবাদিক অভিদা, অভিদার এসিসট্যান্ট সুমন, আমার বন্ধু কমল আর আমি থাকি একসাথে। অভিদা আমাকে সংবাদে লেখার জন্য প্রায়ই অনুরোধ করতেন। কিন্তু আলসেমিতে আমার লেখা হতো না। পরে অভিদা বললেন, আপনার পছন্দ হবে এমন কারো কাছে পাঠাই। প্লিজ না করবেন না। একবার অন্তত দেখা করুন। তারপর সিদ্ধান্ত আপনি নিয়েন।
তারপর অভিদা একটা কাগজে লিখলেন, সঞ্জীবদা, রেজা ভাই খুব ভালো লেখেন। ছেলেটিকে আপনি কাজে লাগাতে পারেন। অভি।
এক লাইনের সেই চিঠি নিয়ে আমি বাংলামটর ভোরের কাগজের অফিসে যাই। চারতলায় গিয়ে এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করি সঞ্জীবদা কোথায় বসেন। শামীম ভাই পোস্টিং রুমে ডেকে নিয়ে খুব খাতির করে জিজ্ঞেস করলেন, সঞ্জীবদার কাছে আসছেন। আসেন আমার সাথে। বলেন কাহিনী কী? আমি অভিদার চিঠিটা শামীম ভাইকে দেখালাম।
শামীম ভাই লাল চা খাওয়ালেন। আর বললেন, সঞ্জীবদার পাল্লায় একবার পড়লে আর কিন্তু রক্ষা নাই। সাহস আছে তো? দেখেন দাদা কী বলেন! কিন্তু ভুলেও চিঠি দেখায়েন না! শামীম ভাইয়ের কথায় আমি কিছুটা ঘাবড়ে গেলাম। আমার দশা দেখে শামীম ভাই বললেন, ঘাবড়ানোর কিছু নাই। ওই যে সঞ্জীবদা। দাদার সাথে খাতির হবার পর এই অভাগারে আবার ভুইলা যাইয়েন না। যাবার সময় দেখা কইরা যাইয়েন।
সঞ্জীবদার টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। টেবিলের চারপাশে একদল ভক্ত নিয়ে সঞ্জীবদা ভীষণ ব্যস্ত। আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কার কাছে আসছেন? বললাম আপনার কাছে। সঞ্জীবদার আশেপাশে কোনো চেয়ার খালি নাই। সঞ্জীবদার বামপাশে পুরাতন পেপারের একটা ঢিবি। বললেন, তুই এখানে বয়।
প্রথম বাক্যে 'আপনি' আর দ্বিতীয় বাক্যে 'তুই' সম্বোধন! জীবনে এই প্রথম আমার সঙ্গে এমনটি ঘটলো। আমি যা বোঝার বুঝে গেলাম। পকেট থেকে অভিদার লেখা একলাইনের চিঠি বের করার আর প্রয়োজন হলো না। সঞ্জীবদার আড্ডা আর শেষ হয় না। কাউকে নতুন কী লিখবে তা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন। কাউকে আগের কোনো লেখা নিয়ে আচ্ছামত ঝাড়ি দিচ্ছেন। আবার পরক্ষণেই হোহো হোহো করে হেসে উঠছেন। আবার সুর করে গানের লাইন আওরাচ্ছেন।
এভাবে ঘণ্টাখানেক পর টেবিলের ভিড়টা কমলো। তারপর সঞ্জীবদা সরাসরি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, কী চাই? বললাম, আপনার পাতায় লিখতে চাই। কী লিখবি? আপনি যা এসাইন করবেন? বাপরে বাপ! সাহস আছে ছেলের! কাল সকালে পুরান ঢাকায় গিয়ে তোর পছন্দের যে কোনো একটা বিষয়ের ওপর লেখা দিবি। ঠিক আছে? আমি মাথা নাড়ালাম।
সঞ্জীবদা আমাকে বললেন, চল আমার সাথে। আমাকে নিয়ে সোজা অ্যাকাউন্টস সেকশনে। আমাকে দেখিয়ে বললেন, ওর একটা লেখার বিল আছে। ৬০০ টাকা। অ্যাকাউন্টস সেকশন ৬০০ টাকা দিয়ে দিল। দাদা আমাকে ইসারা করলো তাকে ফলো করতে।
অফিসের নিচে এসে সঞ্জীবদা বললেন, পুরান ঢাকায় যাওয়া আসার রিক্সা ভাড়া আর লাঞ্চের জন্য এই ধর ২০০। আর তোর ৪০০ টাকা আমার কাছে জমা থাকলো। তোর লেখার বিলটা অফিস থেকে অ্যাডভান্স নিলাম আরকি। কাল তুই লেখা জমা দিয়ে বাকি ৪০০ নিয়ে নিস। ঠিক আছে? আমি মাথা দুলিয়ে সায় দিলাম।
সঞ্জীবদা বললেন, এখন কী করবি? বললাম কোনো কাজ নাই, বাসায় যাব। দাদা বললেন, চল আমার সাথে। একটা রিকশা নিয়ে আমরা ইস্টার্ন প্লাজার পাশে শ্যালেতে গিয়ে আলো আঁধারীতে বসলাম। সঞ্জীবদা বুঝিয়ে দিলেন কীভাবে কী কী বিষয় জানতে হবে। আর কীভাবে লেখা শুরু আর শেষ করব। প্রথম দিনের স্বল্প পরিচয় থেকেই আমাদের গ্লাস ঠোকাঠুকি। তারপর সঞ্জীবদার পাতায় আমি অনেক লিখেছি। প্রায় সময় দাদা অ্যাডভান্স বিল আদায় করে দিতেন।
পরে সঞ্জীবদা যখন দৈনিক যায় যায় দিনে যোগ দেন, তখন তেজগাঁও যাযাদি অফিসে যেতাম ভালো ভালো সিনেমা দেখতে। সঞ্জীবদার কল্যাণে যাযাদি অফিসে প্রচুর সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। মাঝে মাঝে সঞ্জীবদা ফোন করে ডাকতেন। দুপুর বারোটার আগে গেলে একটা সিনেমা বেশি দেখা যেত। তখন সঞ্জীবদা যাযাদি অফিসে আমাকে লাঞ্চ করাতেন। তারপর বিকালে আরেক দফা সিনেমা দেখতাম। ফেরার সময় দাদা জোর করে রিকশা ভাড়া দিয়ে দিতেন।
সঞ্জীবদা সবসময় ভেতরের ইচ্ছা শক্তিটাকে জাগিয়ে দিতেন। সবসময় বলতেন চেষ্টা কর, পারবি। প্রাণশক্তি বাড়িয়ে দেবার মত এমন বড় মনের বড়ভাই-বন্ধু আমি জীবনে খুব কম পেয়েছি। সঞ্জীবদা ছিলেন বিরল গোত্রের এক ক্রিয়েটিভ মানুষ। সবসময় আমাদের মত কমবয়সীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দাদা পছন্দ করতেন।
বয়সে সঞ্জীবদা আমার চেয়ে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন। আমাকে ডাকতেন তুই বলে আর আমি ডাকতাম তুমি। সঞ্জীবদার সাথে দেখা হলে কখন যে এক-দুই ঘণ্টা চলে যেত একদম টেরই পেতাম না। সঞ্জীবদার সাথে আড্ডায় আমি অনেক কিছু শিখতাম। সঞ্জীবদা প্রায়ই নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা বলতেন। নতুন নতুন আইডিয়া দিতেন। আর আমরা হাভাতের মত সেসব গিলতাম।
অফিসের বাইরে সঞ্জীবদার আলো-আঁধারী আড্ডায় যারা নিয়মিত তাদের মধ্যে শামীম ভাই ছিলেন অন্যতম। আহসান কবির মানে আমাদের টাকলা কবির ভাই, অমিতদা, পুলকদা আরো কতজনের সাথে আমার পরিচয় সঞ্জীবদার মাধ্যমে। সঞ্জীবদা লেখার জন্য আমার ভেতরে যে নেশাটি জাগিয়ে দিলেন, সেটি তারপর থেকে আর থামেনি। লেখালেখি একটা চর্চার ব্যাপার। সেই চর্চা করার বিষয়টি সঞ্জীবদা জাগিয়ে দিয়েছেন। ফলে সঞ্জীবদা আমার একজন গুরু।
প্রতিবছর ১৯ নভেম্বর আসলে সঞ্জীবদাকে খুব মনে পড়ে। মনে হয় রাস্তায় বের হলেই হয়তো কোথাও থেকে দাদা ডাক দিবেন। সন্ধ্যার পর চা খেতে দেখলে অট্টহাসি দিয়ে দাদা বলতেন, তোরা পুরুষ জাতির কলংক! তোদের দিয়ে কিচ্ছু হবে না! আহা কতদিন সেই আদুরে কণ্ঠের ঠাট্টা শুনি না। কতদিন গলির মুখে দাদাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি না। কতদিন শুনি না সেই মায়ার ডাক, চল আমার সাথে।
তোমাকে খুব মিস করি দাদা। লাভ ইউ সঞ্জীবদা।
লেখক: রেজা ঘটক, গল্পকার ও চলচ্চিত্রকার।

০১ মার্চ, ২০২৬ ১৯:০৩
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বামী যাহের আলভী এবং তার কথিত প্রেমিকা ও সহ-অভিনেত্রী তিথিকে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় পল্লবী থানায় মামলাটি রুজু হয়। ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ইকরার আত্মহত্যার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন নতুন রহস্যের জন্ম হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে আলভীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন ইকরার পরিবারের সদস্যরা।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় শুধু আলভী এবং তিথিই নন, তার পরিবারের আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ইকরার স্বজনরা আগে থেকেই আলভীর পরিবারের বিচার দাবি করে আসছিলেন। এবার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল।
১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি এবং এরপর মামলা দায়েরের খবরে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে মামলার তদন্ত এবং আসামিদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।
ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় এবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্বামী যাহের আলভী এবং তার কথিত প্রেমিকা ও সহ-অভিনেত্রী তিথিকে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টায় পল্লবী থানায় মামলাটি রুজু হয়। ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ইকরার আত্মহত্যার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন নতুন রহস্যের জন্ম হচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে আলভীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকায় ছুটে আসেন ইকরার পরিবারের সদস্যরা।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় শুধু আলভী এবং তিথিই নন, তার পরিবারের আরও কয়েকজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে।
পারিবারিক কলহ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং দীর্ঘদিনের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ইকরার স্বজনরা আগে থেকেই আলভীর পরিবারের বিচার দাবি করে আসছিলেন। এবার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করল।
১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতি এবং এরপর মামলা দায়েরের খবরে বিনোদন অঙ্গনসহ সারা দেশে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এরই মধ্যে মামলার তদন্ত এবং আসামিদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে গোপনে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালে তাদের বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।

২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:১০
বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ এবং পেশাদার চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম। পর্দায় হাসিখুশি মানুষের চরিত্রে তাকে দেখা গেলেও, তার বাস্তব জীবনের পেছনের গল্পটি সংগ্রামের ও ত্যাগের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার শৈশব, দারিদ্র্য এবং পান্তা ভাতের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।
ডা. এজাজ জানান, তার শৈশবটা সচ্ছল ছিল না। মাসের প্রায় ১০-১২ দিনই সকালের নাস্তা হতো পান্তা ভাত। তিনি বলেন, ‘আগে তো পান্তা খেতাম এক গামলা। এতগুলি! এখন যেহেতু ডায়াবেটিস এতটুকু খাই। পান্তা কিন্তু এতটুকু খেয়ে আপনার কখনোই তৃপ্তি হবে না।
কিছু খাবার আছে বেশি করে খেতে হয়। তো পান্তা খেতে হয় বেশি করে। তো বেশি পান্তা তো খেতে পারি না ডায়াবেটিসের জন্য। এখন অল্প করে মাঝে মধ্যে খাই।
তিনি বলেন, ‘এবং এর বেশিরভাগ খাওয়াটাই হয় শুটিং স্পটে। বাসায় তো পান্তা আয়োজন করে কে আমাকে দিবে? কেউই তো খায় না। সুতরাং শুটিং স্পটে গেলে, যেমন কিছুদিন আগে আফজাল ভাইয়ের একটা কাজ করেছি, আমাদের লিজেন্ড আফজাল হোসেন উনার কাজে সকাল বেলা পান্তা খেতাম। কারণ সকালে সব নাস্তাই ছিল, পান্তাও ছিল। উনার কাজে আমি পান্তা খেয়েছি কয়েকদিন সকাল বেলা।
তার কথায়, ‘ছোটবেলা পান্তা খেতাম ওই যে, যে যেটা খেয়ে অভ্যস্ত। আমরা তো এত বড় লোকের ছেলে ছিলাম না। মাসে প্রায় ১০-১২ দিন দেখা যেত যে সকাল বেলার নাস্তা পান্তা। তো যেহেতু ছোটবেলা পান্তা সকাল বেলা খেতে বাধ্য হয়েছি, খেতে খেতে তারপর মুখের কাছে এটা প্রিয় হয়ে গিয়েছে। আমার খেয়াল আছে সকাল বেলা পান্তা ভাত খেতাম, লবণের খুব অভাব ছিল তখন। লবণ পাওয়া যেত না। আমরা লবণ ছাড়া পান্তা খেতাম সকাল বেলার নাস্তা। এটা মনে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তা মেখে, কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা। আমার একটা প্রিয় খাবার। কিন্তু আপনি যদি আমাকে লবণ না দেন, তখন তো এটা অনেক খাওয়া না খাওয়ার সমান। তো মনে আছে তখন লবণ ছিল না, আমরা পান্তা খেতাম লবণ ছাড়া। খাবারের অভাব ছিল তখন অনেক।’
অভিনেতার ভাষ্যে, ‘আমার মনে আছে দাদি আম্মা তিন দিন পরপর গ্রামের একটা ছোট্ট বাজার হতো আমাদের। আমাকে এক টাকা করে দিতেন। এই এক টাকার সবজি কিনে আমাদের তিন দিন চলতো। আবার তিন দিন পরে এক টাকা। সেই সবজি কিনে আবার তিন দিন চলতো। এভাবে দিন গিয়েছে। আর যেহেতু নদীর পাড়ে বাড়ি ছিল, সুতরাং মাছের অভাবটা ছিল না। প্রচুর মাছ। তখন মাছ ধরতাম। আমার খেয়াল আছে।’
বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ এবং পেশাদার চিকিৎসক ডা. এজাজুল ইসলাম। পর্দায় হাসিখুশি মানুষের চরিত্রে তাকে দেখা গেলেও, তার বাস্তব জীবনের পেছনের গল্পটি সংগ্রামের ও ত্যাগের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার শৈশব, দারিদ্র্য এবং পান্তা ভাতের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।
ডা. এজাজ জানান, তার শৈশবটা সচ্ছল ছিল না। মাসের প্রায় ১০-১২ দিনই সকালের নাস্তা হতো পান্তা ভাত। তিনি বলেন, ‘আগে তো পান্তা খেতাম এক গামলা। এতগুলি! এখন যেহেতু ডায়াবেটিস এতটুকু খাই। পান্তা কিন্তু এতটুকু খেয়ে আপনার কখনোই তৃপ্তি হবে না।
কিছু খাবার আছে বেশি করে খেতে হয়। তো পান্তা খেতে হয় বেশি করে। তো বেশি পান্তা তো খেতে পারি না ডায়াবেটিসের জন্য। এখন অল্প করে মাঝে মধ্যে খাই।
তিনি বলেন, ‘এবং এর বেশিরভাগ খাওয়াটাই হয় শুটিং স্পটে। বাসায় তো পান্তা আয়োজন করে কে আমাকে দিবে? কেউই তো খায় না। সুতরাং শুটিং স্পটে গেলে, যেমন কিছুদিন আগে আফজাল ভাইয়ের একটা কাজ করেছি, আমাদের লিজেন্ড আফজাল হোসেন উনার কাজে সকাল বেলা পান্তা খেতাম। কারণ সকালে সব নাস্তাই ছিল, পান্তাও ছিল। উনার কাজে আমি পান্তা খেয়েছি কয়েকদিন সকাল বেলা।
তার কথায়, ‘ছোটবেলা পান্তা খেতাম ওই যে, যে যেটা খেয়ে অভ্যস্ত। আমরা তো এত বড় লোকের ছেলে ছিলাম না। মাসে প্রায় ১০-১২ দিন দেখা যেত যে সকাল বেলার নাস্তা পান্তা। তো যেহেতু ছোটবেলা পান্তা সকাল বেলা খেতে বাধ্য হয়েছি, খেতে খেতে তারপর মুখের কাছে এটা প্রিয় হয়ে গিয়েছে। আমার খেয়াল আছে সকাল বেলা পান্তা ভাত খেতাম, লবণের খুব অভাব ছিল তখন। লবণ পাওয়া যেত না। আমরা লবণ ছাড়া পান্তা খেতাম সকাল বেলার নাস্তা। এটা মনে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তা মেখে, কাঁচা পেঁয়াজ দিয়ে পান্তা। আমার একটা প্রিয় খাবার। কিন্তু আপনি যদি আমাকে লবণ না দেন, তখন তো এটা অনেক খাওয়া না খাওয়ার সমান। তো মনে আছে তখন লবণ ছিল না, আমরা পান্তা খেতাম লবণ ছাড়া। খাবারের অভাব ছিল তখন অনেক।’
অভিনেতার ভাষ্যে, ‘আমার মনে আছে দাদি আম্মা তিন দিন পরপর গ্রামের একটা ছোট্ট বাজার হতো আমাদের। আমাকে এক টাকা করে দিতেন। এই এক টাকার সবজি কিনে আমাদের তিন দিন চলতো। আবার তিন দিন পরে এক টাকা। সেই সবজি কিনে আবার তিন দিন চলতো। এভাবে দিন গিয়েছে। আর যেহেতু নদীর পাড়ে বাড়ি ছিল, সুতরাং মাছের অভাবটা ছিল না। প্রচুর মাছ। তখন মাছ ধরতাম। আমার খেয়াল আছে।’

২২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:০৭
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা শাকিব খানের সিনেমা ‘বরবাদ’। এ সিনেমার আলোচিত গান ‘চাঁদমামা’। এ গানে এবার নাচ পরিবেশন করলেন ছেলে আব্রাম খান জয়। জয়ের সঙ্গে নাচতে দেখা গেছে ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাসকেও।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে অপু-জয়ের সে মুহূর্তের ভিডিও। নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে মা-ছেলের এ মনোমুগ্ধকর নাচ।
ভিডিওতে অপু বিশ্বাস পরেছিলেন কালো রংয়ের পোশাক। কালো ওড়নায় ছিল সাদা রংয়ের প্রিন্ট।
অন্যদিকে নীল জিন্স আর অ্যাশ কোটে দেখা যায় জয়কে। নেটদুনিয়ায় বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুর্কির ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় ‘জেবেক’ নাচ পরিবেশন করে ভাইরাল হয়েছিলেন অপু। এবার ছেলের নাচ প্রশংসা কুড়াচ্ছে নেটিজেনদের।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেতা শাকিব খানের সিনেমা ‘বরবাদ’। এ সিনেমার আলোচিত গান ‘চাঁদমামা’। এ গানে এবার নাচ পরিবেশন করলেন ছেলে আব্রাম খান জয়। জয়ের সঙ্গে নাচতে দেখা গেছে ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাসকেও।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে অপু-জয়ের সে মুহূর্তের ভিডিও। নেটিজেনদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে মা-ছেলের এ মনোমুগ্ধকর নাচ।
ভিডিওতে অপু বিশ্বাস পরেছিলেন কালো রংয়ের পোশাক। কালো ওড়নায় ছিল সাদা রংয়ের প্রিন্ট।
অন্যদিকে নীল জিন্স আর অ্যাশ কোটে দেখা যায় জয়কে। নেটদুনিয়ায় বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুর্কির ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় ‘জেবেক’ নাচ পরিবেশন করে ভাইরাল হয়েছিলেন অপু। এবার ছেলের নাচ প্রশংসা কুড়াচ্ছে নেটিজেনদের।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.