ফ্যাসিবাদের দোসর, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি ও শিল্পী-সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট থেকে বদলি হয়ে বরিশালে এসেছেন বরিশাল শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসগুপ্ত। সিলেটেও তিনি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয় শিল্পকলার তৎকালীন মহাপরিচালক। কেননা ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে তার অপকর্মের জন্য সিলেট জেলার প্রায় সকলেই ফুঁসে উঠেছিল।
এমনকি সরকার পরিবর্তনের পর সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের পর বরিশালে বদলি করা হয়। সিলেটে থাকাকালীন সময়ে অসিতের বিরুদ্ধে অনেক গুণি সংস্কৃতিজনদের অপমান, দুর্নীতি, অনিয়ম, নারীর প্রতি অশালীন আচরণ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই অসিত এখন বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার।
আওয়ামী সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারীর প্রতি অশোভন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অসিতের বিরুদ্ধে সিলেট শিল্পকলা মিলনায়তন বরাদ্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বড় অংশ গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন।
সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে অসিত বরণ দাসগুপ্তের সিলেটে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। তৎকালীন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ অসিত বরুণ দাসগুপ্তকে বরিশালে বদলি করেন।
তিনি বরিশালে এসেই চাকরি বাদ দিয়ে গ্রুপিং শুরু করেছেন। নিজেকে ভাবেন শিল্পকলার মালিক হিসেবে। তার কাজের ধরণ, ভঙ্গি- সংস্কৃতিকর্মীদের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি মালিক মনোভব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান।
লিয়াকত আলী লাকী শিল্পকলার মহাপরিচালক থাকার সময়, ক্ষমতার দাপট ও অপকর্মের জন্য কেউ পছন্দ করেনি। লাকীর আস্থাভাজন হিসেবে অসিত বরণ দাসগুপ্ত দেশের শ্রেষ্ঠ কালচারাল অফিসারের পুরস্কারও পান। বরিশালে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি অসিতকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীরা জানান।
যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সিলেট থেকে তাড়াতে আন্দোলন করেন, তখন অসিত বরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই একই বন্দোবস্ত কি বরিশালেও চলবে? এমন প্রশ্ন তাদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ অসিত একজন চরম সাম্প্রদায়িক ও স্বজন, গোত্র প্রিয় মানুষ।তিনি বরিশালে যোগদান করেই ফ্যাসিবাদের লোকজনদের জড়ো করে নিরাপদ স্থান তৈরি করছেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমিকে। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি এখন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিরাপদ জায়গা।
ফ্যাসিবাদের দোসর অসিতের ব্যাপারে বরিশালের ছাত্র -জনতা ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের লোকজনের পদক্ষেপ দ্রুত দেখতে চায় সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আন্দোলনের মুখে চলে আসা বরিশাল শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত বলেন, বদলি হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।৩৫ জনের সাথে আমাকে বদলি করা হয়।সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছি।আমাকে যারা অপছন্দ করতো তারাই আমার বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি, শিল্পী-সম্মানী আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের অপসারণ দাবি করে সিলেটের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এ দাবিতে তারা গণ স্বাক্ষর অভিযান শুরু করে২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি সহ গণস্বাক্ষরের কপি হস্তান্তর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক কবি, নাট্যকার সুফি সুফিয়ান। সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত শুরু থেকেই নানান অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। তার স্বেচ্ছাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য ২০১৬ সালে শিল্পকলার সকল প্রশিক্ষক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন।
সেখানে ছিলেন সংগীত গুরু হিমাংশু বিশ্বাস, প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত, গীতবিতান বাংলাদেশ সিলেটের অধ্যক্ষ ও সংগীত প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীসহ প্রায় নয়জন। যাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মপরিধিতে বিখ্যাত। তাঁদের সাফ ঘোষণা ছিল-‘অসিত বরণ দাস গুপ্তের ব্যক্তিগত আচরণ, অফিসার সুলভ হম্বিতম্বি সুষ্ঠু অফিস পরিচালনায় ব্যর্থ। সিলেটে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অসিতকে বরিশালে বদলি করা হয় সিলেট থেকে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বরিশালে যোগদান করেন।

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৯
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৫
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শিলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুইটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শিলা ইসলাম গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন।
তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শিলা ইসলামের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, কারনে অকারনে শিলার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শিলাকে মারধর করতো। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় বসে মারুফ তার মেয়ে শিলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া বাসার দরজা বন্ধ করে শিলা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২১
ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১১টায় বরিশাল মহানগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের পর পরেরদিন আদালতে প্রেরণ করলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার প্রধান আসামি মো. আরাফাত ইসলাম (২২), যিনি রূপাতলীর সোবহান খান গলির বাসিন্দা। মামলার দ্বিতীয় আসামী ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাইজুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর আমতলা মোড় এলাকায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, তারা ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে তাড়া করে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের থেকে মোটরসাইকেলের ট্যাংকির ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা নীল কালারের পলির মধ্য লুকানো ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে জানার জন্য, ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফিরোজ আলম বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ গত ২১ জুলাই রাতে। পরেরদিন তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'

০৫ জুন, ২০২৫ ২৩:৫৪
ফ্যাসিবাদের দোসর, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি ও শিল্পী-সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট থেকে বদলি হয়ে বরিশালে এসেছেন বরিশাল শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসগুপ্ত। সিলেটেও তিনি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয় শিল্পকলার তৎকালীন মহাপরিচালক। কেননা ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে তার অপকর্মের জন্য সিলেট জেলার প্রায় সকলেই ফুঁসে উঠেছিল।
এমনকি সরকার পরিবর্তনের পর সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের পর বরিশালে বদলি করা হয়। সিলেটে থাকাকালীন সময়ে অসিতের বিরুদ্ধে অনেক গুণি সংস্কৃতিজনদের অপমান, দুর্নীতি, অনিয়ম, নারীর প্রতি অশালীন আচরণ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই অসিত এখন বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার।
আওয়ামী সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারীর প্রতি অশোভন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অসিতের বিরুদ্ধে সিলেট শিল্পকলা মিলনায়তন বরাদ্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বড় অংশ গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন।
সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে অসিত বরণ দাসগুপ্তের সিলেটে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। তৎকালীন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ অসিত বরুণ দাসগুপ্তকে বরিশালে বদলি করেন।
তিনি বরিশালে এসেই চাকরি বাদ দিয়ে গ্রুপিং শুরু করেছেন। নিজেকে ভাবেন শিল্পকলার মালিক হিসেবে। তার কাজের ধরণ, ভঙ্গি- সংস্কৃতিকর্মীদের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি মালিক মনোভব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান।
লিয়াকত আলী লাকী শিল্পকলার মহাপরিচালক থাকার সময়, ক্ষমতার দাপট ও অপকর্মের জন্য কেউ পছন্দ করেনি। লাকীর আস্থাভাজন হিসেবে অসিত বরণ দাসগুপ্ত দেশের শ্রেষ্ঠ কালচারাল অফিসারের পুরস্কারও পান। বরিশালে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি অসিতকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীরা জানান।
যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সিলেট থেকে তাড়াতে আন্দোলন করেন, তখন অসিত বরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই একই বন্দোবস্ত কি বরিশালেও চলবে? এমন প্রশ্ন তাদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ অসিত একজন চরম সাম্প্রদায়িক ও স্বজন, গোত্র প্রিয় মানুষ।তিনি বরিশালে যোগদান করেই ফ্যাসিবাদের লোকজনদের জড়ো করে নিরাপদ স্থান তৈরি করছেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমিকে। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি এখন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিরাপদ জায়গা।
ফ্যাসিবাদের দোসর অসিতের ব্যাপারে বরিশালের ছাত্র -জনতা ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের লোকজনের পদক্ষেপ দ্রুত দেখতে চায় সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আন্দোলনের মুখে চলে আসা বরিশাল শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত বলেন, বদলি হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।৩৫ জনের সাথে আমাকে বদলি করা হয়।সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছি।আমাকে যারা অপছন্দ করতো তারাই আমার বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি, শিল্পী-সম্মানী আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের অপসারণ দাবি করে সিলেটের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এ দাবিতে তারা গণ স্বাক্ষর অভিযান শুরু করে২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি সহ গণস্বাক্ষরের কপি হস্তান্তর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক কবি, নাট্যকার সুফি সুফিয়ান। সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত শুরু থেকেই নানান অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। তার স্বেচ্ছাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য ২০১৬ সালে শিল্পকলার সকল প্রশিক্ষক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন।
সেখানে ছিলেন সংগীত গুরু হিমাংশু বিশ্বাস, প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত, গীতবিতান বাংলাদেশ সিলেটের অধ্যক্ষ ও সংগীত প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীসহ প্রায় নয়জন। যাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মপরিধিতে বিখ্যাত। তাঁদের সাফ ঘোষণা ছিল-‘অসিত বরণ দাস গুপ্তের ব্যক্তিগত আচরণ, অফিসার সুলভ হম্বিতম্বি সুষ্ঠু অফিস পরিচালনায় ব্যর্থ। সিলেটে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অসিতকে বরিশালে বদলি করা হয় সিলেট থেকে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বরিশালে যোগদান করেন।
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শিলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুইটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শিলা ইসলাম গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন।
তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শিলা ইসলামের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, কারনে অকারনে শিলার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শিলাকে মারধর করতো। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় বসে মারুফ তার মেয়ে শিলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া বাসার দরজা বন্ধ করে শিলা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’
ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১১টায় বরিশাল মহানগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের পর পরেরদিন আদালতে প্রেরণ করলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার প্রধান আসামি মো. আরাফাত ইসলাম (২২), যিনি রূপাতলীর সোবহান খান গলির বাসিন্দা। মামলার দ্বিতীয় আসামী ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাইজুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর আমতলা মোড় এলাকায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, তারা ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে তাড়া করে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের থেকে মোটরসাইকেলের ট্যাংকির ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা নীল কালারের পলির মধ্য লুকানো ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে জানার জন্য, ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফিরোজ আলম বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ গত ২১ জুলাই রাতে। পরেরদিন তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'