ফ্যাসিবাদের দোসর, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি ও শিল্পী-সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট থেকে বদলি হয়ে বরিশালে এসেছেন বরিশাল শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসগুপ্ত। সিলেটেও তিনি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয় শিল্পকলার তৎকালীন মহাপরিচালক। কেননা ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে তার অপকর্মের জন্য সিলেট জেলার প্রায় সকলেই ফুঁসে উঠেছিল।
এমনকি সরকার পরিবর্তনের পর সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের পর বরিশালে বদলি করা হয়। সিলেটে থাকাকালীন সময়ে অসিতের বিরুদ্ধে অনেক গুণি সংস্কৃতিজনদের অপমান, দুর্নীতি, অনিয়ম, নারীর প্রতি অশালীন আচরণ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই অসিত এখন বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার।
আওয়ামী সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারীর প্রতি অশোভন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অসিতের বিরুদ্ধে সিলেট শিল্পকলা মিলনায়তন বরাদ্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বড় অংশ গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন।
সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে অসিত বরণ দাসগুপ্তের সিলেটে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। তৎকালীন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ অসিত বরুণ দাসগুপ্তকে বরিশালে বদলি করেন।
তিনি বরিশালে এসেই চাকরি বাদ দিয়ে গ্রুপিং শুরু করেছেন। নিজেকে ভাবেন শিল্পকলার মালিক হিসেবে। তার কাজের ধরণ, ভঙ্গি- সংস্কৃতিকর্মীদের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি মালিক মনোভব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান।
লিয়াকত আলী লাকী শিল্পকলার মহাপরিচালক থাকার সময়, ক্ষমতার দাপট ও অপকর্মের জন্য কেউ পছন্দ করেনি। লাকীর আস্থাভাজন হিসেবে অসিত বরণ দাসগুপ্ত দেশের শ্রেষ্ঠ কালচারাল অফিসারের পুরস্কারও পান। বরিশালে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি অসিতকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীরা জানান।
যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সিলেট থেকে তাড়াতে আন্দোলন করেন, তখন অসিত বরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই একই বন্দোবস্ত কি বরিশালেও চলবে? এমন প্রশ্ন তাদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ অসিত একজন চরম সাম্প্রদায়িক ও স্বজন, গোত্র প্রিয় মানুষ।তিনি বরিশালে যোগদান করেই ফ্যাসিবাদের লোকজনদের জড়ো করে নিরাপদ স্থান তৈরি করছেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমিকে। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি এখন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিরাপদ জায়গা।
ফ্যাসিবাদের দোসর অসিতের ব্যাপারে বরিশালের ছাত্র -জনতা ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের লোকজনের পদক্ষেপ দ্রুত দেখতে চায় সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আন্দোলনের মুখে চলে আসা বরিশাল শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত বলেন, বদলি হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।৩৫ জনের সাথে আমাকে বদলি করা হয়।সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছি।আমাকে যারা অপছন্দ করতো তারাই আমার বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি, শিল্পী-সম্মানী আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের অপসারণ দাবি করে সিলেটের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এ দাবিতে তারা গণ স্বাক্ষর অভিযান শুরু করে২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি সহ গণস্বাক্ষরের কপি হস্তান্তর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক কবি, নাট্যকার সুফি সুফিয়ান। সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত শুরু থেকেই নানান অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। তার স্বেচ্ছাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য ২০১৬ সালে শিল্পকলার সকল প্রশিক্ষক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন।
সেখানে ছিলেন সংগীত গুরু হিমাংশু বিশ্বাস, প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত, গীতবিতান বাংলাদেশ সিলেটের অধ্যক্ষ ও সংগীত প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীসহ প্রায় নয়জন। যাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মপরিধিতে বিখ্যাত। তাঁদের সাফ ঘোষণা ছিল-‘অসিত বরণ দাস গুপ্তের ব্যক্তিগত আচরণ, অফিসার সুলভ হম্বিতম্বি সুষ্ঠু অফিস পরিচালনায় ব্যর্থ। সিলেটে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অসিতকে বরিশালে বদলি করা হয় সিলেট থেকে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বরিশালে যোগদান করেন।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩০
দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকির জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম তদারকি করবেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।
সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজনে তারা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিতে পারবেন।
দেশের ৬৪ জেলায় সরকারের কার্যক্রম তদারকির জন্য ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমনকে বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ দায়িত্ব বণ্টনের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম তদারকি করবেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি দপ্তরগুলোকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অপরাধ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিগত সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। লুট করা অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগও উঠে এসেছে।
সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্তরা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্যবিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজনে তারা সংশ্লিষ্ট জেলার বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিতে পারবেন।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৩
বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে জাতীয় ‘দৈনিক নিরপেক্ষ’ পত্রিকার বানারীপাড়া থানা প্রতিনিধি মো. আছিবুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান গলা ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলকে (৩৮) প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার আরজিসূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বানারীপাড়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ‘হামিদ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল’-এ নিয়মিত রোগী দেখেন এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচার (সার্জারি) ও অ্যানেস্থেসিয়া পরিচালনা করেন। তবে তাঁর সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়ার কোনো বৈধ সার্টিফিকেট নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেনামে স্বজনদের শেয়ার রেখে এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষ্যে সাংবাদিক মো. আছিবুল ইসলাম গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৯:১৫ ঘটিকার সময় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ডা. শাকিল মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে রুমে আছে বলে এক্স-রে রুমের সামনে নিয়ে যান।
আরজিতে উল্লেখ করা হয়, সেখানে পৌছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একপর্যায়ে সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এছাড়াও ক্লিনিক ও ডা. শাকিলের বিষয়ে পরবর্তীতে আবার কখনো তথ্য সংগ্রহে আসলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত নালিশী দরখাস্তটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ হাফিজুর রহমান শাকিল বলেন ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা হলেও সরাসরি তার দেখা হয়নি। সে মামলা করে থাকলে আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে।
বরিশালের বানারীপাড়ায় চিকিৎসকের অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ার অভিযোগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বরিশাল বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে জাতীয় ‘দৈনিক নিরপেক্ষ’ পত্রিকার বানারীপাড়া থানা প্রতিনিধি মো. আছিবুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক-কান গলা ইএনটি (ENT) বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. হাফিজুর রহমান শাকিলকে (৩৮) প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৫০৬(২) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার আরজিসূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. হাফিজুর রহমান শাকিল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বানারীপাড়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থিত ‘মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ ও ‘হামিদ মেমোরিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতাল’-এ নিয়মিত রোগী দেখেন এবং বিভিন্ন অস্ত্রোপচার (সার্জারি) ও অ্যানেস্থেসিয়া পরিচালনা করেন। তবে তাঁর সার্জারি ও অ্যানেস্থেসিয়ার কোনো বৈধ সার্টিফিকেট নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেনামে স্বজনদের শেয়ার রেখে এবং নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে কমিশন গ্রহণের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবার নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের বিষয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের লক্ষ্যে সাংবাদিক মো. আছিবুল ইসলাম গত ২৪ আগস্ট (রবিবার) রাত আনুমানিক ৯:১৫ ঘটিকার সময় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত হামিদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে গেলে সেখান থেকে একজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ডা. শাকিল মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে রুমে আছে বলে এক্স-রে রুমের সামনে নিয়ে যান।
আরজিতে উল্লেখ করা হয়, সেখানে পৌছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একপর্যায়ে সাংবাদিককে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এছাড়াও ক্লিনিক ও ডা. শাকিলের বিষয়ে পরবর্তীতে আবার কখনো তথ্য সংগ্রহে আসলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে নালিশী দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংগ্রহের আর্জি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত নালিশী দরখাস্তটি গ্রহণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
এ অভিযোগ অস্বীকার করে ডাঃ হাফিজুর রহমান শাকিল বলেন ওই সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা হলেও সরাসরি তার দেখা হয়নি। সে মামলা করে থাকলে আইনীভাবে মোকাবেলা করা হবে।

২৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৩৭
বরিশালের গৌরনদীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরর্কীচর বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়া সাত বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নিলয়ের সাথে সোনালীর দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
নিলয় অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সোনালীর পরকীয়ার কারণে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। সম্প্রীতি তার স্ত্রী পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে তার শ্বশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথকভাবে হামলা চালিয়ে তাদের রান্নাঘর ও দোকান ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেদে পল্লীর সরদার নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার বেয়াই দিপু মিয়া ও জামাই নিলয় মেয়েকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার ও আমার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে ও আমাদের মারধর করে।’
দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আসবারপত্র ও দরজা, জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে আমার ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭) এবং লুৎফনর নেছাকে (৬৫) রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বরিশালের গৌরনদীতে পারিবারিক কলহের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা, অগ্নি সংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পাঁচ নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের টরর্কীচর বেদে পল্লীতে এ ঘটনা ঘটে।
হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন গৌরনদী মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেদে পল্লীর সরদার নাসির সরদারের মেয়ে সোনালী বেগমকে বেদে দিপু মিয়ার ছেলে নিলয় মিয়া সাত বছর আগে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নিলয়ের সাথে সোনালীর দাম্পত্য কলহ লেগেই ছিল।
নিলয় অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সোনালীর পরকীয়ার কারণে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। সম্প্রীতি তার স্ত্রী পাঁচ বছরের ছেলে কারিমকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান। এ নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় ও রাতে তার শ্বশুর নাসির সরদার ও তার লোকজন পৃথকভাবে হামলা চালিয়ে তাদের রান্নাঘর ও দোকান ঘরে অগ্নিসংযোগ করে। গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
বেদে পল্লীর সরদার নাসির অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে আমার বেয়াই দিপু মিয়া ও জামাই নিলয় মেয়েকে তাড়িয়ে দেয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দিপুর লোকজন আমার ও আমার বোন নাসরিনের ঘরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে ও আমাদের মারধর করে।’
দিপু মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে নাসির সরদার ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন নিয়ে আমার ও আমার বড় ভাই ইত্তি মিয়ার বিল্ডিংয়ে হামলা চালিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে আসবারপত্র ও দরজা, জানালা ভাঙচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এতে বাধা দিলে আমার ছোট ভাই চঞ্চল (৩২), বড় ভাই ইত্তি (৪৫), ভাতিজা আরিফ সরদার (৩৫), জিহাদ (১২), মিলি বেগম (২৬), মিঠু মিয়া (৫০), টুনি বেগম (২৭) এবং লুৎফনর নেছাকে (৬৫) রক্তাক্ত জখম করে। গুরুতর আহত চঞ্চল ও জিহাদকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।’
গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বরিশালটাইমসকে বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতে ও আজ বৃহস্পতিবার দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। বেদে দিপু মিয়ার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বুধবার রাতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

০৫ জুন, ২০২৫ ২৩:৫৪
ফ্যাসিবাদের দোসর, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি ও শিল্পী-সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট থেকে বদলি হয়ে বরিশালে এসেছেন বরিশাল শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসগুপ্ত। সিলেটেও তিনি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয় শিল্পকলার তৎকালীন মহাপরিচালক। কেননা ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে তার অপকর্মের জন্য সিলেট জেলার প্রায় সকলেই ফুঁসে উঠেছিল।
এমনকি সরকার পরিবর্তনের পর সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের পর বরিশালে বদলি করা হয়। সিলেটে থাকাকালীন সময়ে অসিতের বিরুদ্ধে অনেক গুণি সংস্কৃতিজনদের অপমান, দুর্নীতি, অনিয়ম, নারীর প্রতি অশালীন আচরণ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই অসিত এখন বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার।
আওয়ামী সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারীর প্রতি অশোভন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অসিতের বিরুদ্ধে সিলেট শিল্পকলা মিলনায়তন বরাদ্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বড় অংশ গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন।
সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে অসিত বরণ দাসগুপ্তের সিলেটে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। তৎকালীন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ অসিত বরুণ দাসগুপ্তকে বরিশালে বদলি করেন।
তিনি বরিশালে এসেই চাকরি বাদ দিয়ে গ্রুপিং শুরু করেছেন। নিজেকে ভাবেন শিল্পকলার মালিক হিসেবে। তার কাজের ধরণ, ভঙ্গি- সংস্কৃতিকর্মীদের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি মালিক মনোভব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান।
লিয়াকত আলী লাকী শিল্পকলার মহাপরিচালক থাকার সময়, ক্ষমতার দাপট ও অপকর্মের জন্য কেউ পছন্দ করেনি। লাকীর আস্থাভাজন হিসেবে অসিত বরণ দাসগুপ্ত দেশের শ্রেষ্ঠ কালচারাল অফিসারের পুরস্কারও পান। বরিশালে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি অসিতকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীরা জানান।
যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সিলেট থেকে তাড়াতে আন্দোলন করেন, তখন অসিত বরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই একই বন্দোবস্ত কি বরিশালেও চলবে? এমন প্রশ্ন তাদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ অসিত একজন চরম সাম্প্রদায়িক ও স্বজন, গোত্র প্রিয় মানুষ।তিনি বরিশালে যোগদান করেই ফ্যাসিবাদের লোকজনদের জড়ো করে নিরাপদ স্থান তৈরি করছেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমিকে। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি এখন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিরাপদ জায়গা।
ফ্যাসিবাদের দোসর অসিতের ব্যাপারে বরিশালের ছাত্র -জনতা ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের লোকজনের পদক্ষেপ দ্রুত দেখতে চায় সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আন্দোলনের মুখে চলে আসা বরিশাল শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত বলেন, বদলি হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।৩৫ জনের সাথে আমাকে বদলি করা হয়।সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছি।আমাকে যারা অপছন্দ করতো তারাই আমার বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি, শিল্পী-সম্মানী আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের অপসারণ দাবি করে সিলেটের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এ দাবিতে তারা গণ স্বাক্ষর অভিযান শুরু করে২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি সহ গণস্বাক্ষরের কপি হস্তান্তর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক কবি, নাট্যকার সুফি সুফিয়ান। সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত শুরু থেকেই নানান অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। তার স্বেচ্ছাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য ২০১৬ সালে শিল্পকলার সকল প্রশিক্ষক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন।
সেখানে ছিলেন সংগীত গুরু হিমাংশু বিশ্বাস, প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত, গীতবিতান বাংলাদেশ সিলেটের অধ্যক্ষ ও সংগীত প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীসহ প্রায় নয়জন। যাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মপরিধিতে বিখ্যাত। তাঁদের সাফ ঘোষণা ছিল-‘অসিত বরণ দাস গুপ্তের ব্যক্তিগত আচরণ, অফিসার সুলভ হম্বিতম্বি সুষ্ঠু অফিস পরিচালনায় ব্যর্থ। সিলেটে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অসিতকে বরিশালে বদলি করা হয় সিলেট থেকে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বরিশালে যোগদান করেন।
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩০
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৬