
০৫ জুন, ২০২৫ ২৩:৫৪
ফ্যাসিবাদের দোসর, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি ও শিল্পী-সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট থেকে বদলি হয়ে বরিশালে এসেছেন বরিশাল শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসগুপ্ত। সিলেটেও তিনি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয় শিল্পকলার তৎকালীন মহাপরিচালক। কেননা ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে তার অপকর্মের জন্য সিলেট জেলার প্রায় সকলেই ফুঁসে উঠেছিল।
এমনকি সরকার পরিবর্তনের পর সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের পর বরিশালে বদলি করা হয়। সিলেটে থাকাকালীন সময়ে অসিতের বিরুদ্ধে অনেক গুণি সংস্কৃতিজনদের অপমান, দুর্নীতি, অনিয়ম, নারীর প্রতি অশালীন আচরণ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই অসিত এখন বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার।
আওয়ামী সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারীর প্রতি অশোভন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অসিতের বিরুদ্ধে সিলেট শিল্পকলা মিলনায়তন বরাদ্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বড় অংশ গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন।
সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে অসিত বরণ দাসগুপ্তের সিলেটে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। তৎকালীন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ অসিত বরুণ দাসগুপ্তকে বরিশালে বদলি করেন।
তিনি বরিশালে এসেই চাকরি বাদ দিয়ে গ্রুপিং শুরু করেছেন। নিজেকে ভাবেন শিল্পকলার মালিক হিসেবে। তার কাজের ধরণ, ভঙ্গি- সংস্কৃতিকর্মীদের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি মালিক মনোভব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান।
লিয়াকত আলী লাকী শিল্পকলার মহাপরিচালক থাকার সময়, ক্ষমতার দাপট ও অপকর্মের জন্য কেউ পছন্দ করেনি। লাকীর আস্থাভাজন হিসেবে অসিত বরণ দাসগুপ্ত দেশের শ্রেষ্ঠ কালচারাল অফিসারের পুরস্কারও পান। বরিশালে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি অসিতকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীরা জানান।
যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সিলেট থেকে তাড়াতে আন্দোলন করেন, তখন অসিত বরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই একই বন্দোবস্ত কি বরিশালেও চলবে? এমন প্রশ্ন তাদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ অসিত একজন চরম সাম্প্রদায়িক ও স্বজন, গোত্র প্রিয় মানুষ।তিনি বরিশালে যোগদান করেই ফ্যাসিবাদের লোকজনদের জড়ো করে নিরাপদ স্থান তৈরি করছেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমিকে। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি এখন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিরাপদ জায়গা।
ফ্যাসিবাদের দোসর অসিতের ব্যাপারে বরিশালের ছাত্র -জনতা ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের লোকজনের পদক্ষেপ দ্রুত দেখতে চায় সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আন্দোলনের মুখে চলে আসা বরিশাল শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত বলেন, বদলি হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।৩৫ জনের সাথে আমাকে বদলি করা হয়।সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছি।আমাকে যারা অপছন্দ করতো তারাই আমার বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি, শিল্পী-সম্মানী আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের অপসারণ দাবি করে সিলেটের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এ দাবিতে তারা গণ স্বাক্ষর অভিযান শুরু করে২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি সহ গণস্বাক্ষরের কপি হস্তান্তর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক কবি, নাট্যকার সুফি সুফিয়ান। সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত শুরু থেকেই নানান অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। তার স্বেচ্ছাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য ২০১৬ সালে শিল্পকলার সকল প্রশিক্ষক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন।
সেখানে ছিলেন সংগীত গুরু হিমাংশু বিশ্বাস, প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত, গীতবিতান বাংলাদেশ সিলেটের অধ্যক্ষ ও সংগীত প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীসহ প্রায় নয়জন। যাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মপরিধিতে বিখ্যাত। তাঁদের সাফ ঘোষণা ছিল-‘অসিত বরণ দাস গুপ্তের ব্যক্তিগত আচরণ, অফিসার সুলভ হম্বিতম্বি সুষ্ঠু অফিস পরিচালনায় ব্যর্থ। সিলেটে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অসিতকে বরিশালে বদলি করা হয় সিলেট থেকে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বরিশালে যোগদান করেন।
ফ্যাসিবাদের দোসর, অনিয়ম, দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি ও শিল্পী-সম্মানী আত্মসাতের অভিযোগে সিলেট থেকে বদলি হয়ে বরিশালে এসেছেন বরিশাল শিল্পকলার জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাসগুপ্ত। সিলেটেও তিনি ছিলেন জেলা কালচারাল অফিসার। ব্যাপক আন্দোলনের মুখে সিলেট থেকে তাকে বদলি করতে বাধ্য হয় শিল্পকলার তৎকালীন মহাপরিচালক। কেননা ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে তার অপকর্মের জন্য সিলেট জেলার প্রায় সকলেই ফুঁসে উঠেছিল।
এমনকি সরকার পরিবর্তনের পর সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে আন্দোলনের পর বরিশালে বদলি করা হয়। সিলেটে থাকাকালীন সময়ে অসিতের বিরুদ্ধে অনেক গুণি সংস্কৃতিজনদের অপমান, দুর্নীতি, অনিয়ম, নারীর প্রতি অশালীন আচরণ, ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমানোর জন্য ষড়যন্ত্র করেছিল। সেই অসিত এখন বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার।
আওয়ামী সরকারের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দুর্নীতি, অনিয়ম ও নারীর প্রতি অশোভন আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে সিলেটে একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও তদন্ত আলোর মুখ দেখেনি। অসিতের বিরুদ্ধে সিলেট শিল্পকলা মিলনায়তন বরাদ্দসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অযাচিত হস্তক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়ে সিলেটের নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতিকর্মীদের একটা বড় অংশ গত বছর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন।
সিলেটের সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদের মুখে অসিত বরণ দাসগুপ্তের সিলেটে থাকার মতো অবস্থা ছিল না। তৎকালীন মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ অসিত বরুণ দাসগুপ্তকে বরিশালে বদলি করেন।
তিনি বরিশালে এসেই চাকরি বাদ দিয়ে গ্রুপিং শুরু করেছেন। নিজেকে ভাবেন শিল্পকলার মালিক হিসেবে। তার কাজের ধরণ, ভঙ্গি- সংস্কৃতিকর্মীদের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি মালিক মনোভব নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে চান।
লিয়াকত আলী লাকী শিল্পকলার মহাপরিচালক থাকার সময়, ক্ষমতার দাপট ও অপকর্মের জন্য কেউ পছন্দ করেনি। লাকীর আস্থাভাজন হিসেবে অসিত বরণ দাসগুপ্ত দেশের শ্রেষ্ঠ কালচারাল অফিসারের পুরস্কারও পান। বরিশালে কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি অসিতকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে বলে সাধারণ সংস্কৃতিকর্মীরা জানান।
যেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা তাকে সিলেট থেকে তাড়াতে আন্দোলন করেন, তখন অসিত বরুণকে পুরস্কৃত করা হয়। সেই একই বন্দোবস্ত কি বরিশালেও চলবে? এমন প্রশ্ন তাদের।
সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ অসিত একজন চরম সাম্প্রদায়িক ও স্বজন, গোত্র প্রিয় মানুষ।তিনি বরিশালে যোগদান করেই ফ্যাসিবাদের লোকজনদের জড়ো করে নিরাপদ স্থান তৈরি করছেন শিল্পকলা অ্যাকাডেমিকে। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি এখন ফ্যাসিস্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের নিরাপদ জায়গা।
ফ্যাসিবাদের দোসর অসিতের ব্যাপারে বরিশালের ছাত্র -জনতা ও জাতীয়তাবাদ আদর্শের লোকজনের পদক্ষেপ দ্রুত দেখতে চায় সংস্কৃতিকর্মীরা।
এ ব্যাপারে সিলেট থেকে আন্দোলনের মুখে চলে আসা বরিশাল শিল্পকলার কালচারাল অফিসার অসিত বরন দাস গুপ্ত বলেন, বদলি হয়েছে স্বাভাবিক ভাবেই।৩৫ জনের সাথে আমাকে বদলি করা হয়।সরকারের নির্দেশ মেনে কাজ করেছি।আমাকে যারা অপছন্দ করতো তারাই আমার বিরুদ্ধে সিলেটে আন্দোলন করেছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নারী শ্লীলতাহানি, শিল্পী-সম্মানী আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ এনে সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্তের অপসারণ দাবি করে সিলেটের ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। এ দাবিতে তারা গণ স্বাক্ষর অভিযান শুরু করে২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি সহ গণস্বাক্ষরের কপি হস্তান্তর করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন গণস্বাক্ষর কর্মসূচির অন্যতম সমন্বয়ক কবি, নাট্যকার সুফি সুফিয়ান। সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর সিলেট জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত শুরু থেকেই নানান অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছেন। তার স্বেচ্ছাচারী ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য ২০১৬ সালে শিল্পকলার সকল প্রশিক্ষক কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন।
সেখানে ছিলেন সংগীত গুরু হিমাংশু বিশ্বাস, প্রবীণ চিত্রশিল্পী অরবিন্দ দাস গুপ্ত, গীতবিতান বাংলাদেশ সিলেটের অধ্যক্ষ ও সংগীত প্রশিক্ষক অনিমেষ বিজয় চৌধুরীসহ প্রায় নয়জন। যাঁদের প্রত্যেকেই তাঁদের কর্মপরিধিতে বিখ্যাত। তাঁদের সাফ ঘোষণা ছিল-‘অসিত বরণ দাস গুপ্তের ব্যক্তিগত আচরণ, অফিসার সুলভ হম্বিতম্বি সুষ্ঠু অফিস পরিচালনায় ব্যর্থ। সিলেটে ব্যাপক আন্দোলনের মুখে অসিতকে বরিশালে বদলি করা হয় সিলেট থেকে। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তিনি বরিশালে যোগদান করেন।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৭
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা এরই মধ্যে বেশ জোরেসরে নির্বাচনি প্রচার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্প বসিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে এসব নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে এগিয়ে রয়েছে কেবল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি প্রার্থীরা নামমাত্র কয়েকটি ক্যাম্প বসিয়ে ঢিমেতালে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে নির্বাচনি ক্যাম্প করা যাবে। সেই হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতাকর্মীরাও বিএনপির প্রার্থীর মতো একই সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করেছেন।
কিন্তু আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৬টি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মই প্রতীকের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর। অন্যান্য প্রার্থীদের যেখানে ৪০টি করে নির্বাচনি ক্যাম্প, সেখানে মনীষা চক্রবর্তীর ক্যাম্প সংখ্যা মাত্র ৬টি।
মই প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সুজন আহমেদ জানান, প্রথমে আমাদের ৬টি ক্যাম্প ছিল, এখন পর্যন্ত আমাদের ১০টির মতো হয়েছে। বাকি ৩০টি ক্যাম্প দ্রুত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজের পিছিয়ে থাকা জনসাধারণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষদের দেওয়া টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।
ধানের শীষের নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য আকতারুজ্জামান সাব্বির বলেন, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি নির্বাচনি ক্যাম্প করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
হাতপাখার নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে নগরীর ত্রিশ ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিকে আম প্রতীকের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আব্দুল হান্নান সিকদার বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি ক্যাম্পই দিতে পারেননি। তবে কোনো ক্যাম্প না দিলেও তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, তার নির্বাচনি ক্যাম্প মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি তার নিজের বাসা ও অপরটি সদর উপজেলার রায়াপুরে। এছাড়া মাইকিং ও তিনটি গ্ৰুপে লোকজন দিয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আখতার রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত নগরীর ভাটাখানা এলাকায় মাত্র একটি ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির পর আরও কিছু ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা এরই মধ্যে বেশ জোরেসরে নির্বাচনি প্রচার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্প বসিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে এসব নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে এগিয়ে রয়েছে কেবল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি প্রার্থীরা নামমাত্র কয়েকটি ক্যাম্প বসিয়ে ঢিমেতালে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে নির্বাচনি ক্যাম্প করা যাবে। সেই হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতাকর্মীরাও বিএনপির প্রার্থীর মতো একই সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করেছেন।
কিন্তু আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৬টি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মই প্রতীকের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর। অন্যান্য প্রার্থীদের যেখানে ৪০টি করে নির্বাচনি ক্যাম্প, সেখানে মনীষা চক্রবর্তীর ক্যাম্প সংখ্যা মাত্র ৬টি।
মই প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সুজন আহমেদ জানান, প্রথমে আমাদের ৬টি ক্যাম্প ছিল, এখন পর্যন্ত আমাদের ১০টির মতো হয়েছে। বাকি ৩০টি ক্যাম্প দ্রুত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজের পিছিয়ে থাকা জনসাধারণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষদের দেওয়া টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।
ধানের শীষের নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য আকতারুজ্জামান সাব্বির বলেন, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি নির্বাচনি ক্যাম্প করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
হাতপাখার নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে নগরীর ত্রিশ ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিকে আম প্রতীকের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আব্দুল হান্নান সিকদার বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি ক্যাম্পই দিতে পারেননি। তবে কোনো ক্যাম্প না দিলেও তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, তার নির্বাচনি ক্যাম্প মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি তার নিজের বাসা ও অপরটি সদর উপজেলার রায়াপুরে। এছাড়া মাইকিং ও তিনটি গ্ৰুপে লোকজন দিয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আখতার রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত নগরীর ভাটাখানা এলাকায় মাত্র একটি ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির পর আরও কিছু ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০৯
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫১