
৩০ মে, ২০২৫ ১৫:৪৪
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় অধিকাশং নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে ছাত্রলীগ সভাপতি অপুর নাম আসেনি একটিতেও।
অনলাইন জুয়া বা বেটিং সাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। বিশেষ করে দেশের বিভাগ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠা করে জেলা শহরগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই জিডিটাল জুয়ার বদৌলতে বিভাগীয় শহর বরিশালে কোটিপতি বনে গেছেন শওকত হোসেন অপু নামের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। বরিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অপু অর্ধযুগ ধরে এই অঞ্চলে জুয়ার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অবৈধ উপার্জন দিয়ে কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করলেও তাকে আইনি কোনো ঝুটঝামেলায় জড়াতে হয়নি। জুয়া চালিয়ে শুধু অপুই বিত্তশালী বনে যাননি, তার পদঙ্ক অনুসারণ করে বরিশাল শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরানও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়েছেন।
ছাত্রলীগ নেতা অপু এবং তার সহযোগী কামরানের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন এমন অন্তত ১৫ যুবকের সাথে কথা বলেছে বরিশালটাইমস। তাদের মধ্যেকার একজন রুহুল আমিন, যিনি বরিশাল নৌবন্দর এলাকার হোটেল মালিক ছিলেন। পত্রিশোর্ধ্ব রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, রসুলপুরের বাসিন্দা বছর তিনেক পূর্বে অর্থাৎ ২০২২ সালে অপুর সহযোগী কামরান প্রায়শই রাতে তার হোটেলে খেতে যেতেন। তখন রুহুল আমিনকে স্বল্প পুঁজিতে অনলাইনে জুয়া খেলে ব্যাপক অর্থকড়ি লাভ করা সম্ভব প্রলোভন দেখিয়ে একটি সাইটে একাউন্ট খুলে দেন। এবং কামরান তাকে উৎসাহিত করে ১ হাজার টাকা বিনিয়োগও করান।
রুহুল আমিন জানান, সেই ১ হাজার টাকায় কদিন জুয়া খেলার পরে তার একাউন্টে ১৫ হাজার টাকা জমা হয়। কিন্তু সেই জুয়ার অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। অনেক চেষ্টা করে অবৈধ উপার্জন তুলতে না পেরে রুহুল আমিন ছাত্রলীগ নেতার সহযোগী কামরানের স্মরণাপণ্ন হন। কিন্তু কামরান সেই অর্থ তুলতে সহযোগিতা না করে উল্টো আরও জুয়া খেলার পরামর্শ দেন। এরপর ৬ মাসের ব্যবাধানে রুহুল আমিনের ৮ লক্ষাধিক টাকা এই জুয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা। এতে রুহুল আমিন হোটেলসহ সর্বস্ব হারিয়ে শেষে কামরানের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলাও করেন। সেই মামলায় পুলিশ কামরানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও ওস্তাদ শওকত হোসেন অপু ছিলেন ধরাছোয়ার বাইরে। অবশ্য কোতয়ালি পুলিশ অপুকে ধরতেও বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত আর তার লাগাম টেনে ধরতে পারেনি।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং হামলা-হামলার শিকার হয়ে অধিকাংশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পালিয়ে থাকলেও অনলাইন জুয়ার নিয়ন্ত্রক অপু বরিশাল শহরেই প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে একটিও মামলা হয়নি, যা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শোনা যায়। ছাত্রলীগ নেতা অপু গ্রামের বাড়ি নয়ানী ও শ্বশুরবাড়ি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া পানির ট্যাংকি কাছাকাছি স্থানে থাকছেন এবং দুটি জায়গা থেকেই জুয়ার সাইট পরিচালনা করছেন।
অনলাইন জুয়া খপ্পরে নিঃস্ব নয়ানী গ্রামের একাধিক যুবক অভিযোগ করেছেন, এই ডিজিটাল জুয়া সম্পর্কে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ছাত্রলীগ সভাপতি অপুর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জুয়ায় অংশগ্রহণ করিয়েছেন এবং তিনিই নয়ানী গ্রামের রিয়াজ ও চরকাউয়া খেয়াঘাটের সুমনের বিকাশের দোকান থেকে অর্থ বিনিয়োগ করে দিয়েছেন। তাছাড়া অপুর দুটি মোবাইল নম্বর (০১৭…….৫৫, ০১৩……..৪৬) থেকেও এই দুটি দোকানের বিকাশ নম্বরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন করা হয়, যা নিয়ে উভয় দোকানি বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। দুই দোকানি জানিয়েছেন, অপু নিজের দুটি ছাড়াও বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রতিদিন লেনদেন করেন। কিন্তু এই দেনদেনের সংখ্যা কখনও কখনও লাখ অতিক্রম করে।
নয়ানী গ্রামের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুবক বয়সি অপু ২০২৩ সালে দুর্গাপুর গ্রামে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাশে একটি কোটি টাকা মূলে ৭৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, তখন এই বিষয়টি জানাজানি হলে তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কিন্তু তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হওয়ায় ভূমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে তাতে আর বাধ সাধেনি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাড়িকাড়ি জুয়ার অর্থে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি অপু শুধু ভূমি ক্রয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করেছেন। এবং চরকাউয়ার অজপাড়াগাঁও নয়ানী গ্রামের নিজের বাসাটিকে বিলাসবহুল করে তুলেছেন, যা নিয়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এত তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অপু অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। এবং এমন ভান ধরেন যে তার ডিজিটাল জুয়া সম্পর্কে কোনো ধারনাই নাই। পরে জুয়ার টাকা কোথায় দেনদেন হয় এবং অবৈধ অর্থ তিনি ভূমি ক্রয় করাসহ কোন কোন ব্যবসায় লগ্নি করেছেন বিস্তারিত শুনে তিনি একপর্যায়ে ভরকে যান। এবং এ প্রতিবেদকের সাথে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু অসৎ চরিত্রের লোকের সাথে আপসরফার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ের দেওয়ার পরে কিছুক্ষণ নিরব থেকে মুঠোফোন সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
সংবাদকর্মীকে নিষিদ্ধছাত্রলীগ নেতার আপসের প্রস্তাবই জানান দেই যে তিনি কোন মাপের জুয়াড়ি। অবশ্য এই ছাত্রলীগ নেতাই যে বরিশাল কেন্দ্রীয় অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ড তা তার সহযোগী কামরানও স্বীকার করেছেন। তবে বর্তমানে অনলাইন জুয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, দাবি করেছেন আরমান।
এই অনলাইন জুয়ার হোতা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শওকত হোসেন অপু এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে জোর দাবি জানিয়েছেন তাদের প্রতারণায় নিঃস্ব যুবকেরা। অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও কদিন পূর্বে অনলাইন জুয়াড়িদের লাগাম টেনে ধরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। গত ২৫ মে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব ঘোষণা দিয়েছেন অনলাইনভিত্তিক জুয়ার বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এরপরে ২৮ মে রাতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনও ডিজিটাল জুয়াড়িদের ধরতে সাইবার ইউনিটসহ মাঠে থাকার বিষয়টি জানিয়েছে। এর আগে, সাইবার স্পেসে জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুসারে জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলার সাথে জড়িত সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
তবে অনলাইন জুয়াড়িদের ধরতে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বরিশাল মেট্রোপলিটন মাঠপুলিশের কর্মকর্তাদের। গোয়েন্দা বিভাগের একজন ওসি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ হেডকোয়াটার্স যেহেতু ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে, এখন তা বরিশালে আসা সময়সাপেক্ষপ বিষয়।
এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পুলিশের কোনো নির্দেশনা অফিসিয়ালি না আসলেও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে মাঠপুলিশকে বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ডিজিটাল জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় অধিকাশং নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলেও রহস্যজনক কারণে ছাত্রলীগ সভাপতি অপুর নাম আসেনি একটিতেও।
অনলাইন জুয়া বা বেটিং সাইট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ব্যাপক বিস্তার লাভ করেছে। বিশেষ করে দেশের বিভাগ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠা করে জেলা শহরগুলোতেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই জিডিটাল জুয়ার বদৌলতে বিভাগীয় শহর বরিশালে কোটিপতি বনে গেছেন শওকত হোসেন অপু নামের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। বরিশাল উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অপু অর্ধযুগ ধরে এই অঞ্চলে জুয়ার নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অবৈধ উপার্জন দিয়ে কোটি টাকা মূল্যের ভূ-সম্পত্তি ক্রয় করলেও তাকে আইনি কোনো ঝুটঝামেলায় জড়াতে হয়নি। জুয়া চালিয়ে শুধু অপুই বিত্তশালী বনে যাননি, তার পদঙ্ক অনুসারণ করে বরিশাল শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরানও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকার বেশি অর্থ হাতিয়েছেন।
ছাত্রলীগ নেতা অপু এবং তার সহযোগী কামরানের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন এমন অন্তত ১৫ যুবকের সাথে কথা বলেছে বরিশালটাইমস। তাদের মধ্যেকার একজন রুহুল আমিন, যিনি বরিশাল নৌবন্দর এলাকার হোটেল মালিক ছিলেন। পত্রিশোর্ধ্ব রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, রসুলপুরের বাসিন্দা বছর তিনেক পূর্বে অর্থাৎ ২০২২ সালে অপুর সহযোগী কামরান প্রায়শই রাতে তার হোটেলে খেতে যেতেন। তখন রুহুল আমিনকে স্বল্প পুঁজিতে অনলাইনে জুয়া খেলে ব্যাপক অর্থকড়ি লাভ করা সম্ভব প্রলোভন দেখিয়ে একটি সাইটে একাউন্ট খুলে দেন। এবং কামরান তাকে উৎসাহিত করে ১ হাজার টাকা বিনিয়োগও করান।
রুহুল আমিন জানান, সেই ১ হাজার টাকায় কদিন জুয়া খেলার পরে তার একাউন্টে ১৫ হাজার টাকা জমা হয়। কিন্তু সেই জুয়ার অর্থ উত্তোলন করতে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। অনেক চেষ্টা করে অবৈধ উপার্জন তুলতে না পেরে রুহুল আমিন ছাত্রলীগ নেতার সহযোগী কামরানের স্মরণাপণ্ন হন। কিন্তু কামরান সেই অর্থ তুলতে সহযোগিতা না করে উল্টো আরও জুয়া খেলার পরামর্শ দেন। এরপর ৬ মাসের ব্যবাধানে রুহুল আমিনের ৮ লক্ষাধিক টাকা এই জুয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা। এতে রুহুল আমিন হোটেলসহ সর্বস্ব হারিয়ে শেষে কামরানের বিরুদ্ধে বাধ্য হয়ে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলাও করেন। সেই মামলায় পুলিশ কামরানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালেও ওস্তাদ শওকত হোসেন অপু ছিলেন ধরাছোয়ার বাইরে। অবশ্য কোতয়ালি পুলিশ অপুকে ধরতেও বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত আর তার লাগাম টেনে ধরতে পারেনি।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং হামলা-হামলার শিকার হয়ে অধিকাংশ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পালিয়ে থাকলেও অনলাইন জুয়ার নিয়ন্ত্রক অপু বরিশাল শহরেই প্রকাশ্যে ঘুরছেন। এমনকি তার বিরুদ্ধে রহস্যজনক কারণে একটিও মামলা হয়নি, যা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শোনা যায়। ছাত্রলীগ নেতা অপু গ্রামের বাড়ি নয়ানী ও শ্বশুরবাড়ি বরিশাল নগরীর কাউনিয়া পানির ট্যাংকি কাছাকাছি স্থানে থাকছেন এবং দুটি জায়গা থেকেই জুয়ার সাইট পরিচালনা করছেন।
অনলাইন জুয়া খপ্পরে নিঃস্ব নয়ানী গ্রামের একাধিক যুবক অভিযোগ করেছেন, এই ডিজিটাল জুয়া সম্পর্কে তাদের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ছাত্রলীগ সভাপতি অপুর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জুয়ায় অংশগ্রহণ করিয়েছেন এবং তিনিই নয়ানী গ্রামের রিয়াজ ও চরকাউয়া খেয়াঘাটের সুমনের বিকাশের দোকান থেকে অর্থ বিনিয়োগ করে দিয়েছেন। তাছাড়া অপুর দুটি মোবাইল নম্বর (০১৭…….৫৫, ০১৩……..৪৬) থেকেও এই দুটি দোকানের বিকাশ নম্বরে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার লেনদেন করা হয়, যা নিয়ে উভয় দোকানি বরিশালটাইমসের এ প্রতিবেদকের কাছে সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। দুই দোকানি জানিয়েছেন, অপু নিজের দুটি ছাড়াও বিভিন্ন নম্বর থেকে প্রতিদিন লেনদেন করেন। কিন্তু এই দেনদেনের সংখ্যা কখনও কখনও লাখ অতিক্রম করে।
নয়ানী গ্রামের একটি সূত্র জানিয়েছে, যুবক বয়সি অপু ২০২৩ সালে দুর্গাপুর গ্রামে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পাশে একটি কোটি টাকা মূলে ৭৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, তখন এই বিষয়টি জানাজানি হলে তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কিন্তু তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা পর্যায়ের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব হওয়ায় ভূমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে তাতে আর বাধ সাধেনি।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাড়িকাড়ি জুয়ার অর্থে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সভাপতি অপু শুধু ভূমি ক্রয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বিভিন্ন ব্যবসায় লগ্নি করেছেন। এবং চরকাউয়ার অজপাড়াগাঁও নয়ানী গ্রামের নিজের বাসাটিকে বিলাসবহুল করে তুলেছেন, যা নিয়ে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এখন অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, এত তথ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অপু অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন। এবং এমন ভান ধরেন যে তার ডিজিটাল জুয়া সম্পর্কে কোনো ধারনাই নাই। পরে জুয়ার টাকা কোথায় দেনদেন হয় এবং অবৈধ অর্থ তিনি ভূমি ক্রয় করাসহ কোন কোন ব্যবসায় লগ্নি করেছেন বিস্তারিত শুনে তিনি একপর্যায়ে ভরকে যান। এবং এ প্রতিবেদকের সাথে আর্থিক সমঝোতার প্রস্তাবও দেন। কিন্তু অসৎ চরিত্রের লোকের সাথে আপসরফার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ের দেওয়ার পরে কিছুক্ষণ নিরব থেকে মুঠোফোন সংযোগ বিছিন্ন করে দেন।
সংবাদকর্মীকে নিষিদ্ধছাত্রলীগ নেতার আপসের প্রস্তাবই জানান দেই যে তিনি কোন মাপের জুয়াড়ি। অবশ্য এই ছাত্রলীগ নেতাই যে বরিশাল কেন্দ্রীয় অনলাইন জুয়ার মাস্টারমাইন্ড তা তার সহযোগী কামরানও স্বীকার করেছেন। তবে বর্তমানে অনলাইন জুয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, দাবি করেছেন আরমান।
এই অনলাইন জুয়ার হোতা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা শওকত হোসেন অপু এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে জোর দাবি জানিয়েছেন তাদের প্রতারণায় নিঃস্ব যুবকেরা। অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও কদিন পূর্বে অনলাইন জুয়াড়িদের লাগাম টেনে ধরার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। গত ২৫ মে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব ঘোষণা দিয়েছেন অনলাইনভিত্তিক জুয়ার বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। এরপরে ২৮ মে রাতে বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনও ডিজিটাল জুয়াড়িদের ধরতে সাইবার ইউনিটসহ মাঠে থাকার বিষয়টি জানিয়েছে। এর আগে, সাইবার স্পেসে জনস্বার্থ রক্ষার উদ্দেশে নতুন সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুসারে জুয়া খেলা এবং জুয়া খেলার সাথে জড়িত সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
তবে অনলাইন জুয়াড়িদের ধরতে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বরিশাল মেট্রোপলিটন মাঠপুলিশের কর্মকর্তাদের। গোয়েন্দা বিভাগের একজন ওসি পদমর্যাদার কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, পুলিশ হেডকোয়াটার্স যেহেতু ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে, এখন তা বরিশালে আসা সময়সাপেক্ষপ বিষয়।
এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পুলিশের কোনো নির্দেশনা অফিসিয়ালি না আসলেও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে মাঠপুলিশকে বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, ডিজিটাল জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
ন্যায্য দাবি আদায়ে আজ ১৮ জুলাই বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, বরিশাল বিভাগের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখবেন।
সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল নগরীসহ বিভাগের সকল জেলা-উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১২ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।

১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মো. নাঈম (৩৫), নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), আব্দুর রহিম (৫৫) এবং তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তারা সবাই বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। মামলার প্রথম তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে আব্দুর রহিম মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
এজাহারে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তরা বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার কার্যালয়ে একটি দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করতে যায়। দলিলটি পর্যালোচনার সময় সহকারী কমিশনারের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে দলিলটি জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি বাবুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়। পরে মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৬) দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের দালালি ও তদবির করে আসছিলেন। এছাড়া নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, নামজারি, ভুয়া দলিল কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ যদি দালালি বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭
বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের ১৩টি জেলার ওপর শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে উল্লিখিত এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্র, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
ন্যায্য দাবি আদায়ে আজ ১৮ জুলাই বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল পরিচালক অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয়, বরিশাল বিভাগের সকল জেলা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য রাখবেন।
সমাবেশ বাস্তবায়নের জন্য বরিশাল নগরীসহ বিভাগের সকল জেলা-উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ, মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১২ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ।
জাল দলিল ব্যবহার করে নামজারি (মিউটেশন) করার চেষ্টার অভিযোগে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- মো. নাঈম (৩৫), নূর ইসলাম মোল্লা (৫৭), আব্দুর রহিম (৫৫) এবং তোফাজ্জেল হোসেন টিয়া (৬০)। তারা সবাই বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের হাদীবাঁশকাঠী গ্রামের বাসিন্দা। মামলার প্রথম তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে আব্দুর রহিম মাধবপাশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
এজাহারে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে অভিযুক্তরা বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার কার্যালয়ে একটি দলিলের ভিত্তিতে নামজারির আবেদন করতে যায়। দলিলটি পর্যালোচনার সময় সহকারী কমিশনারের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে দলিলটি জাল বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি বাবুগঞ্জ থানাকে অবহিত করা হয়। পরে মাধবপাশা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বাবুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা (মামলা নং-৬) দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন থেকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের দালালি ও তদবির করে আসছিলেন। এছাড়া নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্না বলেন, নামজারি, ভুয়া দলিল কিংবা ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়ে কেউ যদি দালালি বা প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শুক্রবার দুপুরে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, জাল দলিল ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে নামজারির চেষ্টার অভিযোগে চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল, পটুয়াখালীসহ দেশের ১৩টি জেলার ওপর শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও বৈরী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে উল্লিখিত এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থান করা সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর উড়িষ্যা এবং সংলগ্ন বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় লঘুচাপ হিসেবে অবস্থান করছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্র, বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে এটি প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থায় শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণও হতে পারে। একই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৭
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭