
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

০৩ জুন, ২০২৫ ১২:২৯
বরিশাল শহরের অভ্যন্তরে সাত খাল খননের নামে ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নামমাত্র খনন করে বরাদ্দের ৮৫ ভাগ অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে খালগুলো এখন ডোবা মজা এবং পরিত্যাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাতটি খাল খনন শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ করেনি। অর্ধখনন করে খালগুলোর মধ্যে বাধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। গত দুদিনে সামান্য বর্ষার পানি খালে জমে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালসংলগ্ন এলাকাসমূহের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে দেশের ৬৪ জেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম (বর্তমানে কারাবন্দি) প্রকল্পটির আওতায় বরিশাল শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিরোধীতার কারণে প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নগরীর ফুসফুস খ্যাত আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী এবং ভাটার খাল খনন শুরু হয়। ৬ কোটি সাত লাখ টাকার এই খাল খনন কাজের ঠিকদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কয়েকজন কর্মী-অনুসারী।
অবশ্য তখনই খাল খনন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বরং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজেই অর্থ লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
আমানতগঞ্জ খালসংলগ্ন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর লোক আওয়ামী লীগ নেতা ইতালি শহীদ খালটি খনন কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আধাবিধি খনন করে ফেলে রেখে গেছেন। এবং সরকার পরিবর্তনের পরে খননে ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিতে আসেননি। এই অর্ধ খননের কারণে খালে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ ডোবা মজা পরিত্যাক্ত ভূমিতে রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা বাকি ৬টি খালেরও, যা শহরবাসীর জন্য আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
নদী-খাল বাঁচাও সংগঠনের নেতা কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় খাল খননেন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ফিকে গেছে। সরকারের অর্থ গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি খালগুলোও অস্থিত্ব হারিয়েছে।
এবারের বর্ষা মৌসুমে খালগুলো নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগে ফেলবে মন্তব্য করে শিবলু বলেন, বর্তমানে সাতটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। কীর্তনখোলা নদী জল বৃদ্ধি পেলে বা টানা বর্ষণে খালগুলো ভরে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে খালগুলো সঠিক নিয়মে খনন করা জরুরি।
তবে এই খাল নিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড মোটেও চিন্তিত নয় বলে জানা গেছে। দপ্তরটি নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, উল্লেখিত সাতটি খালই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু ৬৪ জেলার আওতায় বরিশাল শহরের সাত খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামীতে খালগুলো সিটি কর্পোরেশনই তদারকি করবে।
তাহলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ কোটি টাকা কি জলে গেল এমন প্রশ্নে নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া এই ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভবনাও দেখছি না। বিস্তারিত মহাপরিচালক বা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ ভালো বলতে পারেবেন।
তবে এই দুজনের কারও সাথেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বরিশাল শহরের সাত খাল খনন কাজ যারা করেছেন, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে তারাও লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। ’
বরিশাল শহরের সাতটি প্রধান খালের একটি। ফাইল ছবি
বরিশাল শহরের অভ্যন্তরে সাত খাল খননের নামে ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নামমাত্র খনন করে বরাদ্দের ৮৫ ভাগ অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে খালগুলো এখন ডোবা মজা এবং পরিত্যাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাতটি খাল খনন শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ করেনি। অর্ধখনন করে খালগুলোর মধ্যে বাধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। গত দুদিনে সামান্য বর্ষার পানি খালে জমে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালসংলগ্ন এলাকাসমূহের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে দেশের ৬৪ জেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম (বর্তমানে কারাবন্দি) প্রকল্পটির আওতায় বরিশাল শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিরোধীতার কারণে প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নগরীর ফুসফুস খ্যাত আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী এবং ভাটার খাল খনন শুরু হয়। ৬ কোটি সাত লাখ টাকার এই খাল খনন কাজের ঠিকদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কয়েকজন কর্মী-অনুসারী।
অবশ্য তখনই খাল খনন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বরং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজেই অর্থ লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
আমানতগঞ্জ খালসংলগ্ন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর লোক আওয়ামী লীগ নেতা ইতালি শহীদ খালটি খনন কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আধাবিধি খনন করে ফেলে রেখে গেছেন। এবং সরকার পরিবর্তনের পরে খননে ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিতে আসেননি। এই অর্ধ খননের কারণে খালে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ ডোবা মজা পরিত্যাক্ত ভূমিতে রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা বাকি ৬টি খালেরও, যা শহরবাসীর জন্য আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
নদী-খাল বাঁচাও সংগঠনের নেতা কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় খাল খননেন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ফিকে গেছে। সরকারের অর্থ গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি খালগুলোও অস্থিত্ব হারিয়েছে।
এবারের বর্ষা মৌসুমে খালগুলো নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগে ফেলবে মন্তব্য করে শিবলু বলেন, বর্তমানে সাতটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। কীর্তনখোলা নদী জল বৃদ্ধি পেলে বা টানা বর্ষণে খালগুলো ভরে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে খালগুলো সঠিক নিয়মে খনন করা জরুরি।
তবে এই খাল নিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড মোটেও চিন্তিত নয় বলে জানা গেছে। দপ্তরটি নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, উল্লেখিত সাতটি খালই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু ৬৪ জেলার আওতায় বরিশাল শহরের সাত খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামীতে খালগুলো সিটি কর্পোরেশনই তদারকি করবে।
তাহলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ কোটি টাকা কি জলে গেল এমন প্রশ্নে নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া এই ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভবনাও দেখছি না। বিস্তারিত মহাপরিচালক বা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ ভালো বলতে পারেবেন।
তবে এই দুজনের কারও সাথেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বরিশাল শহরের সাত খাল খনন কাজ যারা করেছেন, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে তারাও লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। ’

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৭
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৩
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা এরই মধ্যে বেশ জোরেসরে নির্বাচনি প্রচার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্প বসিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে এসব নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে এগিয়ে রয়েছে কেবল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি প্রার্থীরা নামমাত্র কয়েকটি ক্যাম্প বসিয়ে ঢিমেতালে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে নির্বাচনি ক্যাম্প করা যাবে। সেই হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতাকর্মীরাও বিএনপির প্রার্থীর মতো একই সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করেছেন।
কিন্তু আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৬টি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মই প্রতীকের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর। অন্যান্য প্রার্থীদের যেখানে ৪০টি করে নির্বাচনি ক্যাম্প, সেখানে মনীষা চক্রবর্তীর ক্যাম্প সংখ্যা মাত্র ৬টি।
মই প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সুজন আহমেদ জানান, প্রথমে আমাদের ৬টি ক্যাম্প ছিল, এখন পর্যন্ত আমাদের ১০টির মতো হয়েছে। বাকি ৩০টি ক্যাম্প দ্রুত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজের পিছিয়ে থাকা জনসাধারণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষদের দেওয়া টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।
ধানের শীষের নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য আকতারুজ্জামান সাব্বির বলেন, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি নির্বাচনি ক্যাম্প করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
হাতপাখার নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে নগরীর ত্রিশ ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিকে আম প্রতীকের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আব্দুল হান্নান সিকদার বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি ক্যাম্পই দিতে পারেননি। তবে কোনো ক্যাম্প না দিলেও তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, তার নির্বাচনি ক্যাম্প মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি তার নিজের বাসা ও অপরটি সদর উপজেলার রায়াপুরে। এছাড়া মাইকিং ও তিনটি গ্ৰুপে লোকজন দিয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আখতার রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত নগরীর ভাটাখানা এলাকায় মাত্র একটি ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির পর আরও কিছু ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা এরই মধ্যে বেশ জোরেসরে নির্বাচনি প্রচার মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি ক্যাম্প বসিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা।
তবে এসব নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনে এগিয়ে রয়েছে কেবল বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বাকি প্রার্থীরা নামমাত্র কয়েকটি ক্যাম্প বসিয়ে ঢিমেতালে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ার্ডে সর্বোচ্চ একটি করে নির্বাচনি ক্যাম্প করা যাবে। সেই হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে এরই মধ্যে মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি ক্যাম্প করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতাকর্মীরাও বিএনপির প্রার্থীর মতো একই সংখ্যক ক্যাম্প তৈরি করেছেন।
কিন্তু আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ৬টি নির্বাচনি ক্যাম্প রয়েছে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মই প্রতীকের ডা. মনীষা চক্রবর্তীর। অন্যান্য প্রার্থীদের যেখানে ৪০টি করে নির্বাচনি ক্যাম্প, সেখানে মনীষা চক্রবর্তীর ক্যাম্প সংখ্যা মাত্র ৬টি।
মই প্রতীকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সুজন আহমেদ জানান, প্রথমে আমাদের ৬টি ক্যাম্প ছিল, এখন পর্যন্ত আমাদের ১০টির মতো হয়েছে। বাকি ৩০টি ক্যাম্প দ্রুত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজ থেকে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক পন্থায় সমাজের পিছিয়ে থাকা জনসাধারণের অধিকার আদায়ের লড়াই চলছে। খেটে খাওয়া মানুষদের দেওয়া টাকা খরচ করে তাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।
ধানের শীষের নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য আকতারুজ্জামান সাব্বির বলেন, বরিশাল মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ড এবং বরিশাল সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একটি করে মোট ৪০টি নির্বাচনি ক্যাম্প করা হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি।
হাতপাখার নির্বাচনি মিডিয়া সেলের সদস্য এইচএম তরিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করতে নগরীর ত্রিশ ওয়ার্ডে একটি করে ক্যাম্প করা হয়েছে। এছাড়া বরিশাল সদর উপজেলায় ১০টি ক্যাম্প করা হয়েছে।
এদিকে আম প্রতীকের প্রার্থী ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) আব্দুল হান্নান সিকদার বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো নির্বাচনি ক্যাম্পই দিতে পারেননি। তবে কোনো ক্যাম্প না দিলেও তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, তার নির্বাচনি ক্যাম্প মাত্র দুটি। এর মধ্যে একটি তার নিজের বাসা ও অপরটি সদর উপজেলার রায়াপুরে। এছাড়া মাইকিং ও তিনটি গ্ৰুপে লোকজন দিয়ে তিনি প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
এছাড়া লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির আখতার রহমান বলেন, তিনি এখন পর্যন্ত নগরীর ভাটাখানা এলাকায় মাত্র একটি ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন। তবে ১ ফেব্রুয়ারির পর আরও কিছু ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে।
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪০
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০৯
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৫১