বরিশাল শহরের সাতটি প্রধান খালের একটি। ফাইল ছবি
বরিশাল শহরের অভ্যন্তরে সাত খাল খননের নামে ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নামমাত্র খনন করে বরাদ্দের ৮৫ ভাগ অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে খালগুলো এখন ডোবা মজা এবং পরিত্যাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাতটি খাল খনন শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ করেনি। অর্ধখনন করে খালগুলোর মধ্যে বাধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। গত দুদিনে সামান্য বর্ষার পানি খালে জমে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালসংলগ্ন এলাকাসমূহের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে দেশের ৬৪ জেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম (বর্তমানে কারাবন্দি) প্রকল্পটির আওতায় বরিশাল শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিরোধীতার কারণে প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নগরীর ফুসফুস খ্যাত আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী এবং ভাটার খাল খনন শুরু হয়। ৬ কোটি সাত লাখ টাকার এই খাল খনন কাজের ঠিকদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কয়েকজন কর্মী-অনুসারী।
অবশ্য তখনই খাল খনন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বরং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজেই অর্থ লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
আমানতগঞ্জ খালসংলগ্ন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর লোক আওয়ামী লীগ নেতা ইতালি শহীদ খালটি খনন কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আধাবিধি খনন করে ফেলে রেখে গেছেন। এবং সরকার পরিবর্তনের পরে খননে ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিতে আসেননি। এই অর্ধ খননের কারণে খালে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ ডোবা মজা পরিত্যাক্ত ভূমিতে রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা বাকি ৬টি খালেরও, যা শহরবাসীর জন্য আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
নদী-খাল বাঁচাও সংগঠনের নেতা কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় খাল খননেন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ফিকে গেছে। সরকারের অর্থ গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি খালগুলোও অস্থিত্ব হারিয়েছে।
এবারের বর্ষা মৌসুমে খালগুলো নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগে ফেলবে মন্তব্য করে শিবলু বলেন, বর্তমানে সাতটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। কীর্তনখোলা নদী জল বৃদ্ধি পেলে বা টানা বর্ষণে খালগুলো ভরে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে খালগুলো সঠিক নিয়মে খনন করা জরুরি।
তবে এই খাল নিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড মোটেও চিন্তিত নয় বলে জানা গেছে। দপ্তরটি নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, উল্লেখিত সাতটি খালই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু ৬৪ জেলার আওতায় বরিশাল শহরের সাত খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামীতে খালগুলো সিটি কর্পোরেশনই তদারকি করবে।
তাহলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ কোটি টাকা কি জলে গেল এমন প্রশ্নে নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া এই ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভবনাও দেখছি না। বিস্তারিত মহাপরিচালক বা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ ভালো বলতে পারেবেন।
তবে এই দুজনের কারও সাথেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বরিশাল শহরের সাত খাল খনন কাজ যারা করেছেন, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে তারাও লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। ’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৯
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।’
বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের অভ্যন্তরীণ ৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয় খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানিয়েছে, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২৫
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শিলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুইটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শিলা ইসলাম গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন।
তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শিলা ইসলামের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, কারনে অকারনে শিলার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শিলাকে মারধর করতো। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় বসে মারুফ তার মেয়ে শিলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া বাসার দরজা বন্ধ করে শিলা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শিলা ইসলাম (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে (শিলা মেম্বার) বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দুইটি কন্যা সন্তানের জননী মৃত শিলা ইসলাম গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন।
তার স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শিলা ইসলাম ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শিলা ইসলামের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানিয়েছেন, কারনে অকারনে শিলার স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই তার মেয়ে শিলাকে মারধর করতো। ঘটনারদিন শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সেরাল গ্রামের ভাড়াটিয়া বাসায় বসে মারুফ তার মেয়ে শিলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে।
তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়াটিয়া বাসার দরজা বন্ধ করে শিলা ইসলাম গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙ্গে শিলা ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা হাসপাতালে ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসলে রাতে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।’

২৫ জুলাই, ২০২৬ ০০:২১
ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১১টায় বরিশাল মহানগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের পর পরেরদিন আদালতে প্রেরণ করলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার প্রধান আসামি মো. আরাফাত ইসলাম (২২), যিনি রূপাতলীর সোবহান খান গলির বাসিন্দা। মামলার দ্বিতীয় আসামী ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাইজুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর আমতলা মোড় এলাকায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, তারা ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে তাড়া করে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের থেকে মোটরসাইকেলের ট্যাংকির ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা নীল কালারের পলির মধ্য লুকানো ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে জানার জন্য, ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফিরোজ আলম বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ গত ২১ জুলাই রাতে। পরেরদিন তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'
ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ১১টায় বরিশাল মহানগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তবে গ্রেপ্তারের পর পরেরদিন আদালতে প্রেরণ করলে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার প্রধান আসামি মো. আরাফাত ইসলাম (২২), যিনি রূপাতলীর সোবহান খান গলির বাসিন্দা। মামলার দ্বিতীয় আসামী ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাইজুল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর আমতলা মোড় এলাকায় ২৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, তারা ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে তাড়া করে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের থেকে মোটরসাইকেলের ট্যাংকির ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা নীল কালারের পলির মধ্য লুকানো ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়ে জানার জন্য, ছাত্রলীগ কর্মী তাইজুল ইসলাম তাজের মোবাইলে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. ফিরোজ আলম বলেন, 'গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধা সড়ক এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ গত ২১ জুলাই রাতে। পরেরদিন তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।'

০৩ জুন, ২০২৫ ১২:২৯
বরিশাল শহরের অভ্যন্তরে সাত খাল খননের নামে ৬ কোটি টাকা লুটপাট করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এই খাল খনন প্রকল্পের কাজ বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম তার কর্মী-অনুসারীদের মধ্যে ভাগবণ্টন করে দেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নামমাত্র খনন করে বরাদ্দের ৮৫ ভাগ অর্থ উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন। ফলে খালগুলো এখন ডোবা মজা এবং পরিত্যাক্ত ভূমিতে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়ে পুরো বর্ষা মৌসুমে নগরবাসীকে সীমাহীন ভোগান্তিতে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
শহরবাসীর অভিযোগ, পানিপ্রবাহ ঠিক রাখতে পানি উন্নয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগ শাসনামলে সাতটি খাল খনন শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ করেনি। অর্ধখনন করে খালগুলোর মধ্যে বাধ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। গত দুদিনে সামান্য বর্ষার পানি খালে জমে চারিদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে খালসংলগ্ন এলাকাসমূহের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ২০২২-২৩ সালে দেশের ৬৪ জেলায় খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম (বর্তমানে কারাবন্দি) প্রকল্পটির আওতায় বরিশাল শহরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ খালও নিয়ে আসেন। কিন্তু সেই সময় বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র বিরোধীতার কারণে প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হয়নি। এক বছর পরে ২০২৩ সালের শেষের দিকে নগরীর ফুসফুস খ্যাত আমানতগঞ্জ, জেলখাল, রূপাতলী, পলাশপুর, সাগরদী, চাঁদমারী এবং ভাটার খাল খনন শুরু হয়। ৬ কোটি সাত লাখ টাকার এই খাল খনন কাজের ঠিকদার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কয়েকজন কর্মী-অনুসারী।
অবশ্য তখনই খাল খনন নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু ঠিকাদাররা সকলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী হওয়ায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বা পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি। বরং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ নিজেই অর্থ লুটপাটে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আছে।
আমানতগঞ্জ খালসংলগ্ন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর লোক আওয়ামী লীগ নেতা ইতালি শহীদ খালটি খনন কাজ করেছেন। কিন্তু তিনি আধাবিধি খনন করে ফেলে রেখে গেছেন। এবং সরকার পরিবর্তনের পরে খননে ব্যবহৃত সরঞ্জামও নিতে আসেননি। এই অর্ধ খননের কারণে খালে পানিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ ডোবা মজা পরিত্যাক্ত ভূমিতে রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা বাকি ৬টি খালেরও, যা শহরবাসীর জন্য আগাম বিপদ সংকেত দিচ্ছে।
নদী-খাল বাঁচাও সংগঠনের নেতা কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বিস্ময়প্রকাশ করে বলেন, ৬ কোটি ৭ লাখ টাকায় খাল খননেন যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা ফিকে গেছে। সরকারের অর্থ গচ্চা যাওয়ার পাশাপাশি খালগুলোও অস্থিত্ব হারিয়েছে।
এবারের বর্ষা মৌসুমে খালগুলো নগরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগে ফেলবে মন্তব্য করে শিবলু বলেন, বর্তমানে সাতটি খালের পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। কীর্তনখোলা নদী জল বৃদ্ধি পেলে বা টানা বর্ষণে খালগুলো ভরে শহর জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় অধিক সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুতরাং কালবিলম্ব না করে পানিপ্রবাহ সচল রাখতে খালগুলো সঠিক নিয়মে খনন করা জরুরি।
তবে এই খাল নিয়ে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ড মোটেও চিন্তিত নয় বলে জানা গেছে। দপ্তরটি নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানিয়েছেন, উল্লেখিত সাতটি খালই বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের। কিন্তু ৬৪ জেলার আওতায় বরিশাল শহরের সাত খাল খননে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামীতে খালগুলো সিটি কর্পোরেশনই তদারকি করবে।
তাহলে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৬ কোটি টাকা কি জলে গেল এমন প্রশ্নে নির্বাহী কর্মকর্তা আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া এই ধরনের নতুন কোনো প্রকল্প চালু হওয়ার সম্ভবনাও দেখছি না। বিস্তারিত মহাপরিচালক বা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ ভালো বলতে পারেবেন।
তবে এই দুজনের কারও সাথেই মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাদের উভয়ের মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে। এমনকি ঠিকাদারদের মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বরিশাল শহরের সাত খাল খনন কাজ যারা করেছেন, তারা সকলেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে ভারতে যাওয়ার পরে তারাও লাপাত্তা হয়ে গেছেন। এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখছেন। ’