
২৯ মে, ২০২৫ ২৩:০০
বাহিনীপ্রধান টুটুল ৫ আগস্টের পরে পালিয়ে গেলেও বাণিজ্য ধরে রাখতে মরিয়া তার অনুসারীরা। অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিচ্ছে ওয়ার্ডপর্যায়ের দুই বিএনপি নেতা।
বরিশালের তালতলী বাজারের আধিপত্য ধরে রাখতে আওয়ামী সন্ত্রাসী টুটুল বাহিনী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এই বাহিনী সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাজার থেকে মৎস্য সম্পদ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারের তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মরক্ষর্থে বাহিনীপ্রধান নিরব হোসেন টুটুল পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিলেও তার লালিত সন্ত্রাসী মোশারেফ সিকদার, মিরাজ সিকদার, কালু সিকদার, সাকিন সিকদার, সেলিম এবং সবুজরা এখন উত্তর আমানগঞ্জ টু শায়েস্তবাদ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আলোচিত টুটুল পলাতক থাকায় তার এই বাহিনীকে অর্থের বিনিময়ে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগরের ওয়ার্ডপর্যায়ের দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরিশালের তালতলী বাজার থেকে প্রতি বছর শত কোটি টাকার জাটকাসহ মাছ পাচার করে আসছিল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের বাহিনী। তৎসময়ে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটির মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় নাজিরের পোলের টুটুল এক ধরনের এক ধরনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মূলত তার কাঁদে ভর করে আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিবছর শত কোটি টাকার জাটকা, রেণুপোনাসহ অবৈধ মাছ পাচার করে আসছে সাকিন-কালু-মিরাজেরা।
পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, অবৈধভাবে মাছ পাচারের সাথে সম্পৃক্ত এবং জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা চালানোর অভিযোগে বাহিনীপ্রধান টুটুলসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তাদের মধ্যে টুটুল ভারতে এবং মিরাজ সিকদার দেশে কোথায় আত্মগোপনে থাকলেও বাকিরা ভোল পাল্টে নিজেদের মস্তবড় বিএনপি নেতাকর্মী দাবি করছেন। এবং টুটুলের অবর্তমানে তারা অবৈধ ব্যবসার শেল্টারদাতা হিসেবে বরিশাল নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, এমন দুজন বিএনপি নেতার সাথে সন্ধিচুক্তিও করে নিয়েছে। মাসান্তর তাদের মোটা অংকের উৎকোচ দেওয়াসহ পূর্বের ন্যায় কাউনিয়া থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধ মাছ তালতলী বাজার থেকে পাচারের ফন্দি আঁটছে।
আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মৎস্য সম্পদ পাচারের এই পূর্বপরিকল্পনা আগেভাগেই আঁচ করতে পেরে মৎস্য অধিদপ্তরও নড়েচড়ে বসেছে। দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা রিপন কান্তি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে এবার অবৈধ বাণিজ্য রুখে দেওয়া হবে। যেমন কথা তেমন কাজ, যার প্রমাণ মেলে শনিবার গভীর রাতে। মাঠ কর্মকর্তা জামালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের অবৈধ একটি মাছের চালান শনিবার রাতে আটকে দেওয়া হয়। তিনটি অটোরিকশাভর্তি জাটকা (শিকার নিষিদ্ধ) তালতলী বাজার থেকে এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলের পুরো সময় ধরে মৎস্য বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিমল চন্দ্র দাস, তার বিরুদ্ধে টুটুল বাহিনীর কাছ থেকে উৎকোচগ্রহণ করাসহ বহুমুখী দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ বিতর্কিত ওই কর্মকর্তাকে নওগাঁ জেলায় শাস্তিমূলক বদলি করেছে সরকার।
মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার তালতলীতে একটি পাচারকারী সিন্ডিকেট রয়েছে, বিমল বাবুর বদলির পরে তারা ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার সুপারিশ নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন সন্ধিচুক্তি করতে। কিন্তু জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি এবং সদর উপজেলার কর্মকর্তা জামাল হোসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারীদের সাথে কোনো আপস নয়, বরং তাদের ঠিকানা হবে জেল!
মৎস্য অধিদপ্তরের এমন হুঁশিয়ারির পরেও থেমে নেই আওয়ামী সন্ত্রাসী টুটুল বাহিনী। তারা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধভাবে মাছ শিকার এবং পাচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু তা কোনো দিনও হতে দেওয়া হবে না মন্তব্য করেন মৎস্য কর্মকর্তা।
তালতালীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিটির ওয়ার্ড বিএনপির দুই নেতার সদর উপজেলার অবৈধ বাণিজ্যে শেল্টার দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেনি স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, টুটুল বাহিনী গত ১৫ বছর তালতলী বাজার থেকে শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে এবং সেই টাকা দিয়ে সাকিন, কালু, সবজুরা একাধিক বিয়ে করাসহ গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়িও। জানা গেছে, অবৈধ পন্থায় আয় করা টাকা দিয়ে টুটুলের খাস চামচা সাকিন একটি ট্রাকও কিনিয়েছেন, মূলত সেই ট্রাক ব্যবহার করেই রাতে জাটকা পাচার করে।
ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কাউনিয়া থানা পুলিশসহ টুটুলকে মাসিক মোটা অংকের অর্থ দিয়ে মাছ পাচার করে মোশারেফ, সাকিন, কালু এবং নিজাম-সবুজেরা। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পরে টুটুল পালিয়ে ভারতে গেলে তার সাগরেদ মিরাজ সিকদারও মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে মামলার আসামি হয়েও বিএনপি নেতাদের শেল্টারে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজাম সিকদারসহ বাহিনীর একাধিক সন্ত্রাসী। তবে আগামীতে তাদের কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা অবৈধভাবে মাছ পাচার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সুশীল মহলসহ তরুণসমাজ।
তালতলী বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা শুধু মৎস্য সম্পদ ধ্বংসই করছে না, পাচারের মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে। অতীতে নির্বিকার পুলিশকে দেখা গেছে, বান্ডিল গুণে গুণে টাকা নিতে। বিশেষ করে এই গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, কাউনিয়া থানা পুলিশের সাবেক ওসি মো. আসাদুজ্জামান এবং মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কাউনিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে অন্তত ২ কোটি টাকার বেশি নিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করে।
এমনও অভিযোগ আছে, ভোর রাত বা সকালে ওসি আসাদুজ্জামান পুলিশের একটি টিম তালতলী বাজারে পাঠিয়ে দিলে তাদের উপস্থিতিতেই জাটকা ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে সংবাদপত্রে ব্যাপক লেখালেখি হয়েছিল। কিন্তু খোদ পুলিশই যখন ব্যবসায় জড়িত, তখন ব্যবস্থা আর নেয় কে? এমন প্রশ্নে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন তখন সরগরম হয়ে উঠেছিল।
আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসী আমল বা নীতি বিবর্জিত পুলিশ কর্মকর্তা এখন আর থানাগুলোর দায়িত্ব না থাকলেও টুটুল বাহিনীর আধিপত্য মোটেও কমেনি। জানা গেছে, টুটুল বাহিনীর এই অবৈধ বাণিজ্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছর তরিকুল ইসলাম নামের এক সংবাদকর্মীকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসী মিরাজ, সবুজ এবং সাকিনেরা, ওই ঘটনায় আ’লীগের আমলে একটি মামলাও হয়েছিল।
সূত্রের খবর হচ্ছে, সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর টুটুল তার বাহিনীর সদস্যদের রক্ষায় তৎসময়ে আপসরফার প্রস্তাব দেওয়াসহ থানা পুলিশকে মামলা নিতে বারণও করেছিলেন। কিন্তু মূর্তিমাণ সেই সন্ত্রাসের খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ পেলে চাপে পড়ে যায় থানা পুলিশ। এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণেও বাধ্য হয়।
৫ আগস্ট আওয়ামী দুশাসনের অবসান ঘটলে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। তবে ফাল্গুন মাস শুরু হতেই তারা এখন বিএনপি নেতাদের শেল্টার নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে, যা দেখে ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীরাও হতবাক-বাকরুদ্ধ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের এই বাণিজ্য যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা যেমন হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কাউনিয়া থানা পুলিশকেও সেই পদাঙ্ক অবলম্বলন করা জরুরি। অবশ্য কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি নাজমুল নিশাতও সত্যের সঙ্গে থেকে তালতলী থেকে অবৈধভাবে মাছ পাচার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অতীতের ন্যায় অবৈধ বাণিজ্য কিংবা অপরাধকে কাউনিয়া থানা পুলিশ আর প্রশ্রয় দেবে না। এক্ষেত্রে জনস্বার্থে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত এমন ব্যক্তি যদি মাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়, তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে অপরাধারীর পরিচয় যা-ই হোক না কেনো তা দেখার সুযোগ থাকবে না।
আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে বরিশালের তালতলীতে দুই বিএনপি নেতার অবৈধ বাণিজ্যের খবর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিজরুজ্জামান ফারুকও অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, টুটুল বাহিনীর লোকদের সাথে দুই কর্মীর একজোট হওয়ার বিষয়টি আগেই জানতে পেরেছেন এবং তিনি তাদের ডেকে নিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন। এরপরেও যদি তারা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে এবং তাদের অবৈধ মাছ পুলিশ-প্রশাসনকে ধরতে আহ্বান রাখেন শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতা।’
বাহিনীপ্রধান টুটুল ৫ আগস্টের পরে পালিয়ে গেলেও বাণিজ্য ধরে রাখতে মরিয়া তার অনুসারীরা। অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের শেল্টার দিচ্ছে ওয়ার্ডপর্যায়ের দুই বিএনপি নেতা।
বরিশালের তালতলী বাজারের আধিপত্য ধরে রাখতে আওয়ামী সন্ত্রাসী টুটুল বাহিনী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এই বাহিনী সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের বাজার থেকে মৎস্য সম্পদ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পাচারের তোড়জোড় চালিয়ে যাচ্ছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আত্মরক্ষর্থে বাহিনীপ্রধান নিরব হোসেন টুটুল পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিলেও তার লালিত সন্ত্রাসী মোশারেফ সিকদার, মিরাজ সিকদার, কালু সিকদার, সাকিন সিকদার, সেলিম এবং সবুজরা এখন উত্তর আমানগঞ্জ টু শায়েস্তবাদ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আলোচিত টুটুল পলাতক থাকায় তার এই বাহিনীকে অর্থের বিনিময়ে শেল্টার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগরের ওয়ার্ডপর্যায়ের দুই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বরিশালের তালতলী বাজার থেকে প্রতি বছর শত কোটি টাকার জাটকাসহ মাছ পাচার করে আসছিল বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের বাহিনী। তৎসময়ে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সিটির মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় নাজিরের পোলের টুটুল এক ধরনের এক ধরনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মূলত তার কাঁদে ভর করে আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতিবছর শত কোটি টাকার জাটকা, রেণুপোনাসহ অবৈধ মাছ পাচার করে আসছে সাকিন-কালু-মিরাজেরা।
পুলিশসহ বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, অবৈধভাবে মাছ পাচারের সাথে সম্পৃক্ত এবং জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা চালানোর অভিযোগে বাহিনীপ্রধান টুটুলসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তাদের মধ্যে টুটুল ভারতে এবং মিরাজ সিকদার দেশে কোথায় আত্মগোপনে থাকলেও বাকিরা ভোল পাল্টে নিজেদের মস্তবড় বিএনপি নেতাকর্মী দাবি করছেন। এবং টুটুলের অবর্তমানে তারা অবৈধ ব্যবসার শেল্টারদাতা হিসেবে বরিশাল নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, এমন দুজন বিএনপি নেতার সাথে সন্ধিচুক্তিও করে নিয়েছে। মাসান্তর তাদের মোটা অংকের উৎকোচ দেওয়াসহ পূর্বের ন্যায় কাউনিয়া থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে অবৈধ মাছ তালতলী বাজার থেকে পাচারের ফন্দি আঁটছে।
আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মৎস্য সম্পদ পাচারের এই পূর্বপরিকল্পনা আগেভাগেই আঁচ করতে পেরে মৎস্য অধিদপ্তরও নড়েচড়ে বসেছে। দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা রিপন কান্তি এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানিয়েছেন, যে কোনো মূল্যে এবার অবৈধ বাণিজ্য রুখে দেওয়া হবে। যেমন কথা তেমন কাজ, যার প্রমাণ মেলে শনিবার গভীর রাতে। মাঠ কর্মকর্তা জামালের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের অবৈধ একটি মাছের চালান শনিবার রাতে আটকে দেওয়া হয়। তিনটি অটোরিকশাভর্তি জাটকা (শিকার নিষিদ্ধ) তালতলী বাজার থেকে এই কর্মকর্তার নেতৃত্বে জব্দ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের শাসনামলের পুরো সময় ধরে মৎস্য বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিমল চন্দ্র দাস, তার বিরুদ্ধে টুটুল বাহিনীর কাছ থেকে উৎকোচগ্রহণ করাসহ বহুমুখী দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সবশেষ বিতর্কিত ওই কর্মকর্তাকে নওগাঁ জেলায় শাস্তিমূলক বদলি করেছে সরকার।
মৎস্য অফিস সূত্র জানিয়েছে, সদর উপজেলার তালতলীতে একটি পাচারকারী সিন্ডিকেট রয়েছে, বিমল বাবুর বদলির পরে তারা ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতার সুপারিশ নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন সন্ধিচুক্তি করতে। কিন্তু জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি এবং সদর উপজেলার কর্মকর্তা জামাল হোসেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মৎস্য সম্পদ ধ্বংসকারীদের সাথে কোনো আপস নয়, বরং তাদের ঠিকানা হবে জেল!
মৎস্য অধিদপ্তরের এমন হুঁশিয়ারির পরেও থেমে নেই আওয়ামী সন্ত্রাসী টুটুল বাহিনী। তারা প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করে অবৈধভাবে মাছ শিকার এবং পাচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু তা কোনো দিনও হতে দেওয়া হবে না মন্তব্য করেন মৎস্য কর্মকর্তা।
তালতালীর একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সিটির ওয়ার্ড বিএনপির দুই নেতার সদর উপজেলার অবৈধ বাণিজ্যে শেল্টার দেওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেনি স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, টুটুল বাহিনী গত ১৫ বছর তালতলী বাজার থেকে শত কোটি টাকা কামিয়ে নিয়েছে এবং সেই টাকা দিয়ে সাকিন, কালু, সবজুরা একাধিক বিয়ে করাসহ গড়ে তুলেছেন আলিশান বাড়িও। জানা গেছে, অবৈধ পন্থায় আয় করা টাকা দিয়ে টুটুলের খাস চামচা সাকিন একটি ট্রাকও কিনিয়েছেন, মূলত সেই ট্রাক ব্যবহার করেই রাতে জাটকা পাচার করে।
ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের শাসনামলে কাউনিয়া থানা পুলিশসহ টুটুলকে মাসিক মোটা অংকের অর্থ দিয়ে মাছ পাচার করে মোশারেফ, সাকিন, কালু এবং নিজাম-সবুজেরা। স্বৈরাচার হাসিনার পতনের পরে টুটুল পালিয়ে ভারতে গেলে তার সাগরেদ মিরাজ সিকদারও মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে মামলার আসামি হয়েও বিএনপি নেতাদের শেল্টারে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজাম সিকদারসহ বাহিনীর একাধিক সন্ত্রাসী। তবে আগামীতে তাদের কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা অবৈধভাবে মাছ পাচার করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সুশীল মহলসহ তরুণসমাজ।
তালতলী বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা শুধু মৎস্য সম্পদ ধ্বংসই করছে না, পাচারের মাধ্যমে বছরে কোটি কোটি টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছে। অতীতে নির্বিকার পুলিশকে দেখা গেছে, বান্ডিল গুণে গুণে টাকা নিতে। বিশেষ করে এই গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, কাউনিয়া থানা পুলিশের সাবেক ওসি মো. আসাদুজ্জামান এবং মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কাউনিয়া থানায় দায়িত্ব পালনকালে অন্তত ২ কোটি টাকার বেশি নিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করে।
এমনও অভিযোগ আছে, ভোর রাত বা সকালে ওসি আসাদুজ্জামান পুলিশের একটি টিম তালতলী বাজারে পাঠিয়ে দিলে তাদের উপস্থিতিতেই জাটকা ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে সংবাদপত্রে ব্যাপক লেখালেখি হয়েছিল। কিন্তু খোদ পুলিশই যখন ব্যবসায় জড়িত, তখন ব্যবস্থা আর নেয় কে? এমন প্রশ্নে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গন তখন সরগরম হয়ে উঠেছিল।
আওয়ামী লীগের সেই সন্ত্রাসী আমল বা নীতি বিবর্জিত পুলিশ কর্মকর্তা এখন আর থানাগুলোর দায়িত্ব না থাকলেও টুটুল বাহিনীর আধিপত্য মোটেও কমেনি। জানা গেছে, টুটুল বাহিনীর এই অবৈধ বাণিজ্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত বছর তরিকুল ইসলাম নামের এক সংবাদকর্মীকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসী মিরাজ, সবুজ এবং সাকিনেরা, ওই ঘটনায় আ’লীগের আমলে একটি মামলাও হয়েছিল।
সূত্রের খবর হচ্ছে, সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পর টুটুল তার বাহিনীর সদস্যদের রক্ষায় তৎসময়ে আপসরফার প্রস্তাব দেওয়াসহ থানা পুলিশকে মামলা নিতে বারণও করেছিলেন। কিন্তু মূর্তিমাণ সেই সন্ত্রাসের খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমসহ জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ পেলে চাপে পড়ে যায় থানা পুলিশ। এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণেও বাধ্য হয়।
৫ আগস্ট আওয়ামী দুশাসনের অবসান ঘটলে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে তারা কিছুদিন আত্মগোপনে ছিল। তবে ফাল্গুন মাস শুরু হতেই তারা এখন বিএনপি নেতাদের শেল্টার নিয়ে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সাহস দেখাচ্ছে, যা দেখে ইউনিয়ন বিএনপি নেতাকর্মীরাও হতবাক-বাকরুদ্ধ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের এই বাণিজ্য যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা যেমন হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কাউনিয়া থানা পুলিশকেও সেই পদাঙ্ক অবলম্বলন করা জরুরি। অবশ্য কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি নাজমুল নিশাতও সত্যের সঙ্গে থেকে তালতলী থেকে অবৈধভাবে মাছ পাচার বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অতীতের ন্যায় অবৈধ বাণিজ্য কিংবা অপরাধকে কাউনিয়া থানা পুলিশ আর প্রশ্রয় দেবে না। এক্ষেত্রে জনস্বার্থে মামলা করার সুযোগ রয়েছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত এমন ব্যক্তি যদি মাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়, তদন্ত করে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে অপরাধারীর পরিচয় যা-ই হোক না কেনো তা দেখার সুযোগ থাকবে না।
আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে বরিশালের তালতলীতে দুই বিএনপি নেতার অবৈধ বাণিজ্যের খবর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিজরুজ্জামান ফারুকও অবগত হয়েছেন। তিনি জানান, টুটুল বাহিনীর লোকদের সাথে দুই কর্মীর একজোট হওয়ার বিষয়টি আগেই জানতে পেরেছেন এবং তিনি তাদের ডেকে নিয়ে সাবধান করে দিয়েছেন। এরপরেও যদি তারা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে এবং তাদের অবৈধ মাছ পুলিশ-প্রশাসনকে ধরতে আহ্বান রাখেন শীর্ষস্থানীয় বিএনপি নেতা।’
১৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:৫৯
১৯ জুলাই, ২০২৬ ২২:২৮
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৪৩
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪১

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৯
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’

০৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #