
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৪৩
এক রাজ্যের এক রাজা, দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ পঙ্কজ দেবনাথের বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে এখন পড়েছেন বিপাকে। অনুসারী সমর্থকরা হচ্ছেন বিব্রত। সেই সাথে তার নির্দেশ মানতে গিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ এখন ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ পরিস্থিতির মুখে ইউটার্ন দিতে চাইছে। সংসদ পঙ্কজ একজন বিধবা নারীকে বেইজ্জতি করায় সেই সংবাদ বরিশালের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ও বেসামাল হয়ে পড়েন যে- আত্মরক্ষার কৌশল এবং শায়েস্তা করতে গিয়ে বরিশালের সংবাদকর্মীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। দিয়েছেন ২জন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর অনেকটা গোপনে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় তার ইজ্জত হরণে একটি মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বরিশালের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বরিশালটাইমস’-এ সংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ইস্যু করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নিউজপোর্টালটির সম্পাদক শাকিব বিপ্লব ও বার্তা সম্পাদক হাসিবুল ইলসামকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়- মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্নে অপপ্রয়াস চালাতেই দুই মিডিয়াকর্মী কোন এক মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু সেই মহলটি কারা বা পরিচয় কী সেই বিষয়ে পরিস্কার কোন ধারণা দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম এই সাংসদের কাছে কয়েক দফা সহায়তা চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ডাকবাংলো সম্মুখে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে তার প্রাইভেটকারের সামনে দাড়িয়ে পথ আগলে ধরে প্রতিবাদ জানান। এসময় পঙ্কজ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ব্যস্ততার মাঝে এই বিধবা নারীর বিদ্রোহী অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পরে দেখা করার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে ওই নারী তার গাড়ির ওপর হাত চাপরাতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাংসদের অনুসারীরা মরিয়ম বেগমকে টেনে হিচড়ে এক ধরনের শারীরিক নির্যাতন করেন।
এই অভিযোগ নিয়ে বিধবা ওই নারী ০১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে বরিশাল আদালতে আসেন সাংসদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে। ঘটনাচক্রে খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে একজন আইনজীবীর চেম্বারে ওই নারী সাক্ষাতকার নেন। এসময় তিনি ডাকবাংলোর সম্মুখে কি ঘটেছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা জানিয়ে ক্ষোভ থেকে বরিশালে আইনে আশ্রয় নিতে আসার উদ্দেশের কথা জানান।
সরকার দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে একজন বিধবা নারীর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতির খবরে সঙ্গত কারণে মিডিয়াসহ বরিশালের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তার পিছু নেয়। এবং মামলাটি কখন দায়ের হবে তা নিয়ে অপেক্ষার পালা শুরু হয়। অগ্যতা ওই নারী অনেকটা গোপনে তার এজাহার দায়ের করে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে তিনি মিডিয়াকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই নারীর সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করে মামলা দায়ের করেছেন কী না সেই বিষয়ে প্রশ্ন রাখলে এড়িয়ে গিয়ে পরদিন এই বিষয়ে জানতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
ওই গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ডাকবাংলোর ঘটনা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছেও এই বিষয়ে বেশকিছু তথ্য দেন। এমনকি ঘটনার সময়কালে সেখানে উপস্থিত মেহেন্দিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার নাসির উদ্দিন অভিন্ন তথ্য স্বীকার করলেও শারীরিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান।
ওই নারীর অভিযোগ অনুসারে তাকে লাঞ্ছিতকারী পৌর সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আমু হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু তা ডাকবাংলো সম্মুখে নয়। সাংসদ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় আরসি কলেজ সম্মুখে মরিয়ম বেগম তার পথ আগলে ধরলে তাকে সরে যেতে বলা সত্ত্বেও উশৃঙ্খল আচারণ করলে স্থান ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এবং ওই নারীকে বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে তার অভিযোগ পাগলে প্রলোভ বলে ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবি করেন।
অবশ্য সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এই ধরনের ঘটনা অর্থাৎ ডাকবাংলো কিংবা আরসি কলেজ সম্মুখে ঘটেনি বলে অস্বীকার করেন। সাংসদের এই বক্তব্য এবং তার অনুগত সেই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার ভাষ্য সাংঘর্ষিক হলে প্রতীয়মাণ হয় সেদিন কিছু একটি ঘটেছে। যা কী না গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছে তথ্য দিয়েছিল।
ওই নারী ঠিক ওইদিন সোমবার বরিশাল আদালতে ৫ জনকে আসামি এবং পঙ্কজকে হুকুমদাতা হিসেবে এজাহারে উল্লেখ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিচারক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। মামলা হয়েছে কী না, এনিয়ে সন্দেহ এবং সত্যতা নিশ্চিতে মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা পরদিন আর ঘাটাঘাটি না করায় বিষয়টি গোপনীয় ছিল। অর্থাৎ বিধবা ওই সেদিন মামলা দায়ের করেই হয়তো কৌশলগত কারণে তা চেপে গিয়ে সবাইকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। ধারণা, পঙ্কজ নাথ বা তার অনুসারীদের তোপের মুখে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই মামলা দায়েরের পদক্ষেপটি চুপিসারে সম্পাদন করে নিরব থাকেন।
এদিকে ওই বিবধা নারীর আর্তি এবং সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির পেছনকার নেপথ্যের খবর নিয়ে ‘বরিশালটাইমস’সহ আঞ্চলিক কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। যার শিরোনাম ছিল ‘সেদিন মেহেন্দিগঞ্জের ডাকবাংলোয় সাংসদের বিধবা নারী কী ঘটেছিল”। সূত্র জানায় এই সংবাদ প্রকাশের পর মেহেন্দিগঞ্জে অবস্থানরত ক্ষুব্ধ পঙ্কজ দেবনাথ তার অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে অন্তত ‘বরিশালটাইমস’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলুকে এই মামলার বাদী করা হয়।
ওই সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রকাশিত সংবাদে সেধরনের কোন গ্রাউন্ড না থাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ এই অভিযোগ নিতে প্রথমে গড়িমসি করে। সাংসদ পঙ্কজ পরে থানার ওসিকে চাপের মুখে মামলাটি গ্রহণে বাধ্য করেন। সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি ধরায় মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপারকেও ওসি অবহিত করেননি। ওই সূত্রটি আভাস দেয় যে, মেহেন্দিগঞ্জের পরিস্থিতিগত কারণে থানার ওসি সাংসদ পঙ্কজের আঙ্গুলের ইশারায় চলতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার ওসির সাথে জেলা পুলিশ সুপারের এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব থাকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতেই সাংসদের সান্নিধ্যে থাকছেন। যে কারণেই ওই মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলার উচ্চপদস্থ কোন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
এমন তথ্য স্বীকার করে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে বরিশালটাইমসসহ অন্যান্য মিডিয়াকর্মীদেরকে জানান, এই মামলাটি দায়েরের ক্ষেত্রে তিনি অবগত নন। একপর্যায়ে তার কাছে প্রকাশিত সংবাদটি উপস্থাপন করলে তিনিও স্বীকার করেন, এ ধরনের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা গ্রহণে আইনগত কোন নির্দেশনা নেই। সুতরাং প্রমাণিত হয়, জবরদস্তিমূলক থানা পুলিশকে ব্যবহার করে সরকার দলীয় এই সাংসদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকাশিত যা বলা হয়েছে, তা উল্লেখ না করে তার ইজ্জত হরণে একদল আসামি সংবাদকর্মীদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছে। আসামি বা মহল বলতে সাংসদ কি বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে থানার ওসি আবিদুর রহমানকে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি খেই হারিয়ে ফেলে বারবার ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে টেলিফোন সংযোগ কেটে দেন। একপর্যায়ে তার এক সহকর্মীকে দিয়ে বরিশাল মিডিয়ার দুই সাংবাদিককে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জেলা পুলিশ সুপার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে, শুধু সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে নয়, জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপরও ছড়ি ঘুরাতে চান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি তিনি নিজেই তদন্তে তদারকি করবেন এবং কী ভাবে মামলাটি গ্রহণ করা হলো, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, পঙ্কজ দলীয় সাংসদ হলেও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। মূলত তিনি দ্বীপাঞ্চল মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলায় নিজের ক্ষমতা কায়েম করে প্রকৃত কর্মীদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে তার অনুগতদের মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানে বসিয়ে রাজার ন্যায় রাজত্ব চালাচ্ছেন। নির্যাতিত হচ্ছে, অনেক নিরহ মানুষ, এমনকি দলের ত্যাগী নেতাকর্মী-সমর্থকরাও।
স্থানীয় সূত্রমতে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ভাইস চেয়ারম্যান
মামলার বাদী খোরশেদ আলম ভুলু ক্ষমতাধর এই সাংসদের অনুগত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার রাতে ভুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আলাপচারিতায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একপর্যায়ে অন্যের মামলায় নিজে বাদী হওয়ায়ার ক্ষেত্রে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। এমনকি মামলাটি দায়ের সিদ্ধান্ত যে সঠিক হয়নি, তারও আভাস দেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে মরিয়ম বেগম বরিশাল আদালতে যে মামলটি দায়ের করেছেন, সেখানে ৫ আসামির মধ্যে খোরশেদ আলম ভুলুর এক ছেলেও রয়েছেন। এই নেতার সাথে আলাপ এবং বিভিন্ন সূত্র আভাস ইঙ্গিত দিয়ে বলছে, ‘বরিশালটাইম’র বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বরিশালের একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। সাংসদ পঙ্কজকে বোঝানো হয়েছে, সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এবং হাসিবুল ইসলাম জেলা আ’লীগের শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পরিবার ঘনিষ্ট বা সমর্থক হিসেবে তার পুত্র বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বনে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ করে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র সাথে নেতৃত্ব নিয়ে পঙ্কজ দেবনাথের বিরোধও এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে একটি ইস্যু হিসেবে বরিশালের ওই মহলটি উপস্থাপন করে মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার অঘোষিত ওই রাজাকে ফুঁসলে দেয়, যুগিয়েছে সাহস।’
অথচ দেশে ক্যাসিনো কান্ডে যখন পঙ্কজ দেবনাথের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যম সোচ্চার, ঠিক তখন মেহেন্দিগঞ্জের এক যুবক তার ওপর নির্যাতনে অভিযোগ তুললে সরকার দলীয় এই সাংসদ সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব ও হাসিবুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তার রাজ্য সভায় আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে রাজকীয় আথিতেয়তায় মধ্যহ্নভোজনে তৃপ্ত করে স্বপক্ষে থেকে গীত গাওয়ার অনুরোধ রেখেছিলেন। অন্তত ওই মুহূর্তে জেলার শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বন করা করার একটি আবহ তৈরির কৌশল হিসেবে।’
এমপি পঙ্কজ দেবনাথ
এক রাজ্যের এক রাজা, দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ পঙ্কজ দেবনাথের বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। এবার সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে এখন পড়েছেন বিপাকে। অনুসারী সমর্থকরা হচ্ছেন বিব্রত। সেই সাথে তার নির্দেশ মানতে গিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানা পুলিশ এখন ‘শ্যাম রাখি না কূল রাখি’ পরিস্থিতির মুখে ইউটার্ন দিতে চাইছে। সংসদ পঙ্কজ একজন বিধবা নারীকে বেইজ্জতি করায় সেই সংবাদ বরিশালের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তিনি এতটাই ক্ষুব্ধ ও বেসামাল হয়ে পড়েন যে- আত্মরক্ষার কৌশল এবং শায়েস্তা করতে গিয়ে বরিশালের সংবাদকর্মীদের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন। দিয়েছেন ২জন সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর অনেকটা গোপনে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় তার ইজ্জত হরণে একটি মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বরিশালের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বরিশালটাইমস’-এ সংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ইস্যু করে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় নিউজপোর্টালটির সম্পাদক শাকিব বিপ্লব ও বার্তা সম্পাদক হাসিবুল ইলসামকে আসামী করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়- মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিক ইমেজ ক্ষুণ্নে অপপ্রয়াস চালাতেই দুই মিডিয়াকর্মী কোন এক মহল দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। কিন্তু সেই মহলটি কারা বা পরিচয় কী সেই বিষয়ে পরিস্কার কোন ধারণা দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মেহেন্দিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগম এই সাংসদের কাছে কয়েক দফা সহায়তা চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় ডাকবাংলো সম্মুখে গত ২৭ আগস্ট দুপুরে তার প্রাইভেটকারের সামনে দাড়িয়ে পথ আগলে ধরে প্রতিবাদ জানান। এসময় পঙ্কজ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ব্যস্ততার মাঝে এই বিধবা নারীর বিদ্রোহী অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং পরে দেখা করার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে ওই নারী তার গাড়ির ওপর হাত চাপরাতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাংসদের অনুসারীরা মরিয়ম বেগমকে টেনে হিচড়ে এক ধরনের শারীরিক নির্যাতন করেন।
এই অভিযোগ নিয়ে বিধবা ওই নারী ০১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে বরিশাল আদালতে আসেন সাংসদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে। ঘটনাচক্রে খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা আদালতে উপস্থিত হয়ে একজন আইনজীবীর চেম্বারে ওই নারী সাক্ষাতকার নেন। এসময় তিনি ডাকবাংলোর সম্মুখে কি ঘটেছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা জানিয়ে ক্ষোভ থেকে বরিশালে আইনে আশ্রয় নিতে আসার উদ্দেশের কথা জানান।
সরকার দলীয় সাংসদের বিরুদ্ধে একজন বিধবা নারীর মামলা দায়ের করার প্রস্তুতির খবরে সঙ্গত কারণে মিডিয়াসহ বরিশালের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তার পিছু নেয়। এবং মামলাটি কখন দায়ের হবে তা নিয়ে অপেক্ষার পালা শুরু হয়। অগ্যতা ওই নারী অনেকটা গোপনে তার এজাহার দায়ের করে বাড়ি ফিরে যান। এরপর থেকে তিনি মিডিয়াকর্মীদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ রাখেন। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই নারীর সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করে মামলা দায়ের করেছেন কী না সেই বিষয়ে প্রশ্ন রাখলে এড়িয়ে গিয়ে পরদিন এই বিষয়ে জানতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন।
ওই গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ডাকবাংলোর ঘটনা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছেও এই বিষয়ে বেশকিছু তথ্য দেন। এমনকি ঘটনার সময়কালে সেখানে উপস্থিত মেহেন্দিগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার নাসির উদ্দিন অভিন্ন তথ্য স্বীকার করলেও শারীরিক লাঞ্ছিত করার বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান।
ওই নারীর অভিযোগ অনুসারে তাকে লাঞ্ছিতকারী পৌর সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আমু হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন- ঘটনা ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু তা ডাকবাংলো সম্মুখে নয়। সাংসদ একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় আরসি কলেজ সম্মুখে মরিয়ম বেগম তার পথ আগলে ধরলে তাকে সরে যেতে বলা সত্ত্বেও উশৃঙ্খল আচারণ করলে স্থান ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এবং ওই নারীকে বিকারগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করে তার অভিযোগ পাগলে প্রলোভ বলে ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা দাবি করেন।
অবশ্য সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এই ধরনের ঘটনা অর্থাৎ ডাকবাংলো কিংবা আরসি কলেজ সম্মুখে ঘটেনি বলে অস্বীকার করেন। সাংসদের এই বক্তব্য এবং তার অনুগত সেই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার ভাষ্য সাংঘর্ষিক হলে প্রতীয়মাণ হয় সেদিন কিছু একটি ঘটেছে। যা কী না গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়ে মিডিয়ার কাছে তথ্য দিয়েছিল।
ওই নারী ঠিক ওইদিন সোমবার বরিশাল আদালতে ৫ জনকে আসামি এবং পঙ্কজকে হুকুমদাতা হিসেবে এজাহারে উল্লেখ একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিচারক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে বলে আদালত সূত্রে জানা যায়। মামলা হয়েছে কী না, এনিয়ে সন্দেহ এবং সত্যতা নিশ্চিতে মিডিয়া ও গোয়েন্দা সংস্থা পরদিন আর ঘাটাঘাটি না করায় বিষয়টি গোপনীয় ছিল। অর্থাৎ বিধবা ওই সেদিন মামলা দায়ের করেই হয়তো কৌশলগত কারণে তা চেপে গিয়ে সবাইকে এড়িয়ে চলতে থাকেন। ধারণা, পঙ্কজ নাথ বা তার অনুসারীদের তোপের মুখে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই মামলা দায়েরের পদক্ষেপটি চুপিসারে সম্পাদন করে নিরব থাকেন।
এদিকে ওই বিবধা নারীর আর্তি এবং সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতির পেছনকার নেপথ্যের খবর নিয়ে ‘বরিশালটাইমস’সহ আঞ্চলিক কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়। যার শিরোনাম ছিল ‘সেদিন মেহেন্দিগঞ্জের ডাকবাংলোয় সাংসদের বিধবা নারী কী ঘটেছিল”। সূত্র জানায় এই সংবাদ প্রকাশের পর মেহেন্দিগঞ্জে অবস্থানরত ক্ষুব্ধ পঙ্কজ দেবনাথ তার অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক ডেকে অন্তত ‘বরিশালটাইমস’র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ভুলুকে এই মামলার বাদী করা হয়।
ওই সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে প্রকাশিত সংবাদে সেধরনের কোন গ্রাউন্ড না থাকায় স্থানীয় থানা পুলিশ এই অভিযোগ নিতে প্রথমে গড়িমসি করে। সাংসদ পঙ্কজ পরে থানার ওসিকে চাপের মুখে মামলাটি গ্রহণে বাধ্য করেন। সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি ধরায় মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপারকেও ওসি অবহিত করেননি। ওই সূত্রটি আভাস দেয় যে, মেহেন্দিগঞ্জের পরিস্থিতিগত কারণে থানার ওসি সাংসদ পঙ্কজের আঙ্গুলের ইশারায় চলতে বাধ্য হচ্ছেন। আবার ওসির সাথে জেলা পুলিশ সুপারের এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্ব থাকায় নিজের অবস্থান ধরে রাখতেই সাংসদের সান্নিধ্যে থাকছেন। যে কারণেই ওই মামলাটি গ্রহণের ক্ষেত্রে জেলার উচ্চপদস্থ কোন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
এমন তথ্য স্বীকার করে জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার রাতে বরিশালটাইমসসহ অন্যান্য মিডিয়াকর্মীদেরকে জানান, এই মামলাটি দায়েরের ক্ষেত্রে তিনি অবগত নন। একপর্যায়ে তার কাছে প্রকাশিত সংবাদটি উপস্থাপন করলে তিনিও স্বীকার করেন, এ ধরনের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা গ্রহণে আইনগত কোন নির্দেশনা নেই। সুতরাং প্রমাণিত হয়, জবরদস্তিমূলক থানা পুলিশকে ব্যবহার করে সরকার দলীয় এই সাংসদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, প্রকাশিত যা বলা হয়েছে, তা উল্লেখ না করে তার ইজ্জত হরণে একদল আসামি সংবাদকর্মীদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করেছে। আসামি বা মহল বলতে সাংসদ কি বোঝাতে চেয়েছেন সে বিষয়ে থানার ওসি আবিদুর রহমানকে প্রশ্ন রাখা হলে তিনি খেই হারিয়ে ফেলে বারবার ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে টেলিফোন সংযোগ কেটে দেন। একপর্যায়ে তার এক সহকর্মীকে দিয়ে বরিশাল মিডিয়ার দুই সাংবাদিককে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
জেলা পুলিশ সুপার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে প্রকাশ পেয়েছে, শুধু সংবাদকর্মীদের বিরুদ্ধে নয়, জেলা পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপরও ছড়ি ঘুরাতে চান। তিনি আশ্বস্ত করেন যে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি তিনি নিজেই তদন্তে তদারকি করবেন এবং কী ভাবে মামলাটি গ্রহণ করা হলো, সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে জেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ বলছেন, পঙ্কজ দলীয় সাংসদ হলেও জেলার শীর্ষ নেতাদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই। মূলত তিনি দ্বীপাঞ্চল মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলায় নিজের ক্ষমতা কায়েম করে প্রকৃত কর্মীদের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে তার অনুগতদের মূল দল ও অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃত্বের শীর্ষ স্থানে বসিয়ে রাজার ন্যায় রাজত্ব চালাচ্ছেন। নির্যাতিত হচ্ছে, অনেক নিরহ মানুষ, এমনকি দলের ত্যাগী নেতাকর্মী-সমর্থকরাও।
স্থানীয় সূত্রমতে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ভাইস চেয়ারম্যান
মামলার বাদী খোরশেদ আলম ভুলু ক্ষমতাধর এই সাংসদের অনুগত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মঙ্গলবার রাতে ভুলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আলাপচারিতায় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে একপর্যায়ে অন্যের মামলায় নিজে বাদী হওয়ায়ার ক্ষেত্রে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। এমনকি মামলাটি দায়ের সিদ্ধান্ত যে সঠিক হয়নি, তারও আভাস দেন।
উল্লেখ করা যেতে পারে মরিয়ম বেগম বরিশাল আদালতে যে মামলটি দায়ের করেছেন, সেখানে ৫ আসামির মধ্যে খোরশেদ আলম ভুলুর এক ছেলেও রয়েছেন। এই নেতার সাথে আলাপ এবং বিভিন্ন সূত্র আভাস ইঙ্গিত দিয়ে বলছে, ‘বরিশালটাইম’র বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে বরিশালের একটি মহলের ইন্ধন রয়েছে। সাংসদ পঙ্কজকে বোঝানো হয়েছে, সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব এবং হাসিবুল ইসলাম জেলা আ’লীগের শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পরিবার ঘনিষ্ট বা সমর্থক হিসেবে তার পুত্র বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বনে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ করে। আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র সাথে নেতৃত্ব নিয়ে পঙ্কজ দেবনাথের বিরোধও এই দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে একটি ইস্যু হিসেবে বরিশালের ওই মহলটি উপস্থাপন করে মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলার অঘোষিত ওই রাজাকে ফুঁসলে দেয়, যুগিয়েছে সাহস।’
অথচ দেশে ক্যাসিনো কান্ডে যখন পঙ্কজ দেবনাথের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যম সোচ্চার, ঠিক তখন মেহেন্দিগঞ্জের এক যুবক তার ওপর নির্যাতনে অভিযোগ তুললে সরকার দলীয় এই সাংসদ সাংবাদিক শাকিব বিপ্লব ও হাসিবুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিককে তার রাজ্য সভায় আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়ে রাজকীয় আথিতেয়তায় মধ্যহ্নভোজনে তৃপ্ত করে স্বপক্ষে থেকে গীত গাওয়ার অনুরোধ রেখেছিলেন। অন্তত ওই মুহূর্তে জেলার শীর্ষ নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র পক্ষালম্বন করা করার একটি আবহ তৈরির কৌশল হিসেবে।’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৭
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’

০৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #

০৬ মে, ২০২৬ ০৩:১৫
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’