২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৫৮
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে আপাতত বিরত থাকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ড থেকে গত এক সপ্তাহকাল আগে পৃথক দুটি নির্দেশনা এসেছে- এধরনের খবর বরিশাল নগরজুড়ে জোর আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত দুদিন ধরে এই আলোচনা বাতাসের দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে- আসলে এখবরের সত্যতা কতটুকু, নাকি মহল বিশেষ গুজব রটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গোলকধাঁধার সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে? যদিও মেয়রকে কেন্দ্র করে এরূপ সিদ্ধান্তের অকট্য প্রমাণ কোনো মহল বা দায়িত্বশীল সূত্র দিতে পারেনি। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যখ্যা-বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা হচ্ছেনা।
ফলে আকস্মিক উদ্ভাবিত এই উড়ো খবরের সত্য- মিথ্যা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার অবসান ঘটছে না, বরং উৎসুক প্রশ্নের আরও ডালপালা বিস্তৃতি ঘটছে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। কোথা থেকে এই গুজবের সৃষ্টি সে ধারনা না পাওয়া গেলেও এই কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সন্ধানী সুযোগ এবং মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিকভাবে বিতর্কের মাঝে ঘুরপাক খাওয়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে এই গুজব বা খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে ধারণা মেলে নগর উন্নয়ন অর্থাৎ মূল শহর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার উদ্যোগ সাময়িক কিছুদিন স্থগিত থাকার কারণেই এই গুজব রটাতে সহায়ক হয়। তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ গত একমাসকাল শূন্য থাকার পরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়ার কালবিলম্ব ঘটাও অন্যতম কারণ। আবার কারও দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তিন দফা আসা তদন্ত টিমের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ৬ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় মেয়রের ব্যর্থতা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সর্বশেষ বরিশাল বিসিকের ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সাথে বিরোধ থেকে তার অনুসারীদরে অব্যাহত সন্ত্রাস এবং বরিশাল অচল করে একজন যুবলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে থানা ঘেরাও করায় দলীয় হাইকমান্ড মহানগর রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর নাখোশ হওয়ায় তার ক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য আলোচনায় আসলেও যদি ঘটনা সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কবে-কখন মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে কেউ কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না। সবই ধারণাপ্রসূত তথ্য যা গুজবে আকারে এক কান থেকে দুইকানে পৌছে গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বেশকিছু সূত্র বলছে , বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশে অপারগতার শর্তে এই খবরকেও সত্য বলে দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মেয়রকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসঙ্গে এসকল নেতৃবৃন্দ যুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খবরের বাস্তবতার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করেন, গত দুইমাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়টি।
তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরিশালের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত কেনো? এমন প্রশ্নের সাথে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানে অনিহা প্রকাশ করায় কালক্ষেপনের বিষয়টিও মূল্যায়নে তালিকায় উপস্থাপন করে তাদের কাছে প্রাপ্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চায়।
অপর একটি সূত্র খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দের এই অভিমতকে উড়িয়ে না দিয়ে সহমত পোষণ করে বলছে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দলীয় অনুসারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়ে বরিশাল পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করায় সেখানে উদীয়মান এই নেতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দলীয় হাইকমান্ড মূল্যায়ন করে তার ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সঙ্গত কারণে বরিশাল আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত একাংশের অনুসারীরা এমন অনুমাননির্ভর তথ্যের সংমিশ্রণে কথার মালা গেঁথে এই গুজব সহসায় ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে, এমনটি মনে করছেন মেয়র সাদিক সমর্থিতরা।
এই নেতার অনুসারীদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘হঠাৎ সৃষ্টি খবরটি’ সমূলেই গুজব। এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করে অপর একটি অংশ নিজেদের বলয় বৃদ্ধির যেমন কৌশল নিয়েছে। পাশাপশি মেয়রকে বিতর্কের মাঝে ফেলায় সর্বশেষ পন্থা হিসেবে এমন গুজব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠা করার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখে চলেছে। এই গুজব নতুন নয়, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হলে অপর সেই অংশটি নাখোশ হওয়াসহ মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ায়ে সময়বিশেষ এমন গুজব প্রতিষ্ঠায় জোর বাতাস বইয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার সর্বশেষ বর্তমান সময়ে আবার তৎপর হয়ে উঠায় এবার শহরবাসীর মধ্যে গোলকধাাঁধা সৃষ্টি করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল বিসিকে উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়র সমর্থিতদের সাথে সেখানকার ব্যবসায়ীদের টানপোড়নে কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠা বরিশাল পরিবেশকে মোক্ষম সময়ে সহায়ক হিসেবে লুফে নিয়েছে।
কিন্তু এই গুজব যতই জোর রুপ নিচ্ছে, মেয়র সাদিক ততোই নিরব থাকাসহ পূর্বেকার মতো মাঠের রাজনীতিতে সরব না থাকায় এই খবরের অন্তরালে সত্যতা খুঁজতে সাধারন মানুষ নানা মহলে যোগাযোগ করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরাও এই গুজবের রহস্যভেদে ছুটছে দায়িত্বশীল নানা মহলের দরজায়। কিন্তু কেউই এবিষয়ে পরিস্কার ধারনা না দিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথায় রহস্য আরও উস্কে দিচ্ছে। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। যদি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েই থাকে, তাহলে বর্তমানে নগর উন্নয়ন তথা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নতুন আদলে তৈরীতে সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যস্ত কেন? এমন প্রশ্নের সাথে উড়ো খবরের মিল খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে আসলেই বিষয়টি গুজব।
এতকথা তবুও কেন মেয়র সাদিক নিরব? সেক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ পরিস্কার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে- কোন প্রতিষ্ঠানিক বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে মেয়রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই গুজব নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, বিধায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুটা বিস্মিতি এবং সঙ্গত কারণেই নিশ্চুপ।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে আজ অপরাহ্নে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থতায় তার কোন প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
আর এ কারণেই এখবর ধীরালয়ে গুজব আকারে প্রতিষ্ঠার পর এখন জোরালো রুপ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।’
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে আপাতত বিরত থাকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ড থেকে গত এক সপ্তাহকাল আগে পৃথক দুটি নির্দেশনা এসেছে- এধরনের খবর বরিশাল নগরজুড়ে জোর আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত দুদিন ধরে এই আলোচনা বাতাসের দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে- আসলে এখবরের সত্যতা কতটুকু, নাকি মহল বিশেষ গুজব রটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গোলকধাঁধার সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে? যদিও মেয়রকে কেন্দ্র করে এরূপ সিদ্ধান্তের অকট্য প্রমাণ কোনো মহল বা দায়িত্বশীল সূত্র দিতে পারেনি। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যখ্যা-বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা হচ্ছেনা।
ফলে আকস্মিক উদ্ভাবিত এই উড়ো খবরের সত্য- মিথ্যা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার অবসান ঘটছে না, বরং উৎসুক প্রশ্নের আরও ডালপালা বিস্তৃতি ঘটছে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। কোথা থেকে এই গুজবের সৃষ্টি সে ধারনা না পাওয়া গেলেও এই কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সন্ধানী সুযোগ এবং মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিকভাবে বিতর্কের মাঝে ঘুরপাক খাওয়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে এই গুজব বা খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে ধারণা মেলে নগর উন্নয়ন অর্থাৎ মূল শহর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার উদ্যোগ সাময়িক কিছুদিন স্থগিত থাকার কারণেই এই গুজব রটাতে সহায়ক হয়। তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ গত একমাসকাল শূন্য থাকার পরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়ার কালবিলম্ব ঘটাও অন্যতম কারণ। আবার কারও দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তিন দফা আসা তদন্ত টিমের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ৬ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় মেয়রের ব্যর্থতা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সর্বশেষ বরিশাল বিসিকের ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সাথে বিরোধ থেকে তার অনুসারীদরে অব্যাহত সন্ত্রাস এবং বরিশাল অচল করে একজন যুবলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে থানা ঘেরাও করায় দলীয় হাইকমান্ড মহানগর রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর নাখোশ হওয়ায় তার ক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য আলোচনায় আসলেও যদি ঘটনা সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কবে-কখন মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে কেউ কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না। সবই ধারণাপ্রসূত তথ্য যা গুজবে আকারে এক কান থেকে দুইকানে পৌছে গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বেশকিছু সূত্র বলছে , বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশে অপারগতার শর্তে এই খবরকেও সত্য বলে দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মেয়রকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসঙ্গে এসকল নেতৃবৃন্দ যুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খবরের বাস্তবতার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করেন, গত দুইমাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়টি।
তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরিশালের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত কেনো? এমন প্রশ্নের সাথে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানে অনিহা প্রকাশ করায় কালক্ষেপনের বিষয়টিও মূল্যায়নে তালিকায় উপস্থাপন করে তাদের কাছে প্রাপ্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চায়।
অপর একটি সূত্র খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দের এই অভিমতকে উড়িয়ে না দিয়ে সহমত পোষণ করে বলছে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দলীয় অনুসারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়ে বরিশাল পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করায় সেখানে উদীয়মান এই নেতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দলীয় হাইকমান্ড মূল্যায়ন করে তার ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সঙ্গত কারণে বরিশাল আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত একাংশের অনুসারীরা এমন অনুমাননির্ভর তথ্যের সংমিশ্রণে কথার মালা গেঁথে এই গুজব সহসায় ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে, এমনটি মনে করছেন মেয়র সাদিক সমর্থিতরা।
এই নেতার অনুসারীদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘হঠাৎ সৃষ্টি খবরটি’ সমূলেই গুজব। এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করে অপর একটি অংশ নিজেদের বলয় বৃদ্ধির যেমন কৌশল নিয়েছে। পাশাপশি মেয়রকে বিতর্কের মাঝে ফেলায় সর্বশেষ পন্থা হিসেবে এমন গুজব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠা করার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখে চলেছে। এই গুজব নতুন নয়, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হলে অপর সেই অংশটি নাখোশ হওয়াসহ মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ায়ে সময়বিশেষ এমন গুজব প্রতিষ্ঠায় জোর বাতাস বইয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার সর্বশেষ বর্তমান সময়ে আবার তৎপর হয়ে উঠায় এবার শহরবাসীর মধ্যে গোলকধাাঁধা সৃষ্টি করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল বিসিকে উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়র সমর্থিতদের সাথে সেখানকার ব্যবসায়ীদের টানপোড়নে কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠা বরিশাল পরিবেশকে মোক্ষম সময়ে সহায়ক হিসেবে লুফে নিয়েছে।
কিন্তু এই গুজব যতই জোর রুপ নিচ্ছে, মেয়র সাদিক ততোই নিরব থাকাসহ পূর্বেকার মতো মাঠের রাজনীতিতে সরব না থাকায় এই খবরের অন্তরালে সত্যতা খুঁজতে সাধারন মানুষ নানা মহলে যোগাযোগ করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরাও এই গুজবের রহস্যভেদে ছুটছে দায়িত্বশীল নানা মহলের দরজায়। কিন্তু কেউই এবিষয়ে পরিস্কার ধারনা না দিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথায় রহস্য আরও উস্কে দিচ্ছে। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। যদি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েই থাকে, তাহলে বর্তমানে নগর উন্নয়ন তথা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নতুন আদলে তৈরীতে সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যস্ত কেন? এমন প্রশ্নের সাথে উড়ো খবরের মিল খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে আসলেই বিষয়টি গুজব।
এতকথা তবুও কেন মেয়র সাদিক নিরব? সেক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ পরিস্কার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে- কোন প্রতিষ্ঠানিক বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে মেয়রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই গুজব নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, বিধায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুটা বিস্মিতি এবং সঙ্গত কারণেই নিশ্চুপ।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে আজ অপরাহ্নে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থতায় তার কোন প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
আর এ কারণেই এখবর ধীরালয়ে গুজব আকারে প্রতিষ্ঠার পর এখন জোরালো রুপ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৭
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’

০৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #

০৬ মে, ২০২৬ ০৩:১৫
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’