২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৫৮
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে আপাতত বিরত থাকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ড থেকে গত এক সপ্তাহকাল আগে পৃথক দুটি নির্দেশনা এসেছে- এধরনের খবর বরিশাল নগরজুড়ে জোর আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত দুদিন ধরে এই আলোচনা বাতাসের দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে- আসলে এখবরের সত্যতা কতটুকু, নাকি মহল বিশেষ গুজব রটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গোলকধাঁধার সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে? যদিও মেয়রকে কেন্দ্র করে এরূপ সিদ্ধান্তের অকট্য প্রমাণ কোনো মহল বা দায়িত্বশীল সূত্র দিতে পারেনি। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যখ্যা-বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা হচ্ছেনা।
ফলে আকস্মিক উদ্ভাবিত এই উড়ো খবরের সত্য- মিথ্যা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার অবসান ঘটছে না, বরং উৎসুক প্রশ্নের আরও ডালপালা বিস্তৃতি ঘটছে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। কোথা থেকে এই গুজবের সৃষ্টি সে ধারনা না পাওয়া গেলেও এই কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সন্ধানী সুযোগ এবং মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিকভাবে বিতর্কের মাঝে ঘুরপাক খাওয়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে এই গুজব বা খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে ধারণা মেলে নগর উন্নয়ন অর্থাৎ মূল শহর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার উদ্যোগ সাময়িক কিছুদিন স্থগিত থাকার কারণেই এই গুজব রটাতে সহায়ক হয়। তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ গত একমাসকাল শূন্য থাকার পরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়ার কালবিলম্ব ঘটাও অন্যতম কারণ। আবার কারও দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তিন দফা আসা তদন্ত টিমের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ৬ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় মেয়রের ব্যর্থতা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সর্বশেষ বরিশাল বিসিকের ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সাথে বিরোধ থেকে তার অনুসারীদরে অব্যাহত সন্ত্রাস এবং বরিশাল অচল করে একজন যুবলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে থানা ঘেরাও করায় দলীয় হাইকমান্ড মহানগর রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর নাখোশ হওয়ায় তার ক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য আলোচনায় আসলেও যদি ঘটনা সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কবে-কখন মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে কেউ কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না। সবই ধারণাপ্রসূত তথ্য যা গুজবে আকারে এক কান থেকে দুইকানে পৌছে গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বেশকিছু সূত্র বলছে , বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশে অপারগতার শর্তে এই খবরকেও সত্য বলে দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মেয়রকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসঙ্গে এসকল নেতৃবৃন্দ যুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খবরের বাস্তবতার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করেন, গত দুইমাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়টি।
তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরিশালের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত কেনো? এমন প্রশ্নের সাথে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানে অনিহা প্রকাশ করায় কালক্ষেপনের বিষয়টিও মূল্যায়নে তালিকায় উপস্থাপন করে তাদের কাছে প্রাপ্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চায়।
অপর একটি সূত্র খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দের এই অভিমতকে উড়িয়ে না দিয়ে সহমত পোষণ করে বলছে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দলীয় অনুসারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়ে বরিশাল পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করায় সেখানে উদীয়মান এই নেতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দলীয় হাইকমান্ড মূল্যায়ন করে তার ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সঙ্গত কারণে বরিশাল আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত একাংশের অনুসারীরা এমন অনুমাননির্ভর তথ্যের সংমিশ্রণে কথার মালা গেঁথে এই গুজব সহসায় ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে, এমনটি মনে করছেন মেয়র সাদিক সমর্থিতরা।
এই নেতার অনুসারীদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘হঠাৎ সৃষ্টি খবরটি’ সমূলেই গুজব। এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করে অপর একটি অংশ নিজেদের বলয় বৃদ্ধির যেমন কৌশল নিয়েছে। পাশাপশি মেয়রকে বিতর্কের মাঝে ফেলায় সর্বশেষ পন্থা হিসেবে এমন গুজব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠা করার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখে চলেছে। এই গুজব নতুন নয়, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হলে অপর সেই অংশটি নাখোশ হওয়াসহ মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ায়ে সময়বিশেষ এমন গুজব প্রতিষ্ঠায় জোর বাতাস বইয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার সর্বশেষ বর্তমান সময়ে আবার তৎপর হয়ে উঠায় এবার শহরবাসীর মধ্যে গোলকধাাঁধা সৃষ্টি করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল বিসিকে উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়র সমর্থিতদের সাথে সেখানকার ব্যবসায়ীদের টানপোড়নে কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠা বরিশাল পরিবেশকে মোক্ষম সময়ে সহায়ক হিসেবে লুফে নিয়েছে।
কিন্তু এই গুজব যতই জোর রুপ নিচ্ছে, মেয়র সাদিক ততোই নিরব থাকাসহ পূর্বেকার মতো মাঠের রাজনীতিতে সরব না থাকায় এই খবরের অন্তরালে সত্যতা খুঁজতে সাধারন মানুষ নানা মহলে যোগাযোগ করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরাও এই গুজবের রহস্যভেদে ছুটছে দায়িত্বশীল নানা মহলের দরজায়। কিন্তু কেউই এবিষয়ে পরিস্কার ধারনা না দিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথায় রহস্য আরও উস্কে দিচ্ছে। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। যদি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েই থাকে, তাহলে বর্তমানে নগর উন্নয়ন তথা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নতুন আদলে তৈরীতে সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যস্ত কেন? এমন প্রশ্নের সাথে উড়ো খবরের মিল খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে আসলেই বিষয়টি গুজব।
এতকথা তবুও কেন মেয়র সাদিক নিরব? সেক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ পরিস্কার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে- কোন প্রতিষ্ঠানিক বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে মেয়রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই গুজব নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, বিধায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুটা বিস্মিতি এবং সঙ্গত কারণেই নিশ্চুপ।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে আজ অপরাহ্নে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থতায় তার কোন প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
আর এ কারণেই এখবর ধীরালয়ে গুজব আকারে প্রতিষ্ঠার পর এখন জোরালো রুপ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।’
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে মেয়র পদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সাংগঠনিক কর্মকান্ড থেকে আপাতত বিরত থাকার বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট এলজিইডি মন্ত্রণালয় ও দলের হাইকমান্ড থেকে গত এক সপ্তাহকাল আগে পৃথক দুটি নির্দেশনা এসেছে- এধরনের খবর বরিশাল নগরজুড়ে জোর আলোচনায় রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গত দুদিন ধরে এই আলোচনা বাতাসের দ্রুততার সাথে ছড়িয়ে পড়ায় উৎসুক প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে- আসলে এখবরের সত্যতা কতটুকু, নাকি মহল বিশেষ গুজব রটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গোলকধাঁধার সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে? যদিও মেয়রকে কেন্দ্র করে এরূপ সিদ্ধান্তের অকট্য প্রমাণ কোনো মহল বা দায়িত্বশীল সূত্র দিতে পারেনি। এমনকি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এনিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যখ্যা-বিবৃতি দেওয়া হয়নি বা হচ্ছেনা।
ফলে আকস্মিক উদ্ভাবিত এই উড়ো খবরের সত্য- মিথ্যা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার অবসান ঘটছে না, বরং উৎসুক প্রশ্নের আরও ডালপালা বিস্তৃতি ঘটছে। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা স্বপন কুমার বিষয়টিকে স্রেফ গুজব বলে বরিশালটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। কোথা থেকে এই গুজবের সৃষ্টি সে ধারনা না পাওয়া গেলেও এই কর্মকর্তার বক্তব্য হচ্ছে, দলের মধ্যেকার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপ রাজনৈতিক ফায়দা লোটার সন্ধানী সুযোগ এবং মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহকে সামাজিকভাবে বিতর্কের মাঝে ঘুরপাক খাওয়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে।
তবে এই গুজব বা খবরের সত্যতা অনুসন্ধানে ধারণা মেলে নগর উন্নয়ন অর্থাৎ মূল শহর অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট চলাচলের অযোগ্য হলেও সংস্কার উদ্যোগ সাময়িক কিছুদিন স্থগিত থাকার কারণেই এই গুজব রটাতে সহায়ক হয়। তার ওপর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ গত একমাসকাল শূন্য থাকার পরও নতুন কর্মকর্তার যোগদান প্রক্রিয়ার কালবিলম্ব ঘটাও অন্যতম কারণ। আবার কারও দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে তিন দফা আসা তদন্ত টিমের কাছে সিটি কর্পোরেশনের ৬ কোটি টাকার ব্যয় নিয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় মেয়রের ব্যর্থতা থেকেও এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সর্বশেষ বরিশাল বিসিকের ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে একজন শিল্প উদ্যোক্তার সাথে বিরোধ থেকে তার অনুসারীদরে অব্যাহত সন্ত্রাস এবং বরিশাল অচল করে একজন যুবলীগ কর্মীকে ছাড়িয়ে আনতে থানা ঘেরাও করায় দলীয় হাইকমান্ড মহানগর রাজনীতির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ওপর নাখোশ হওয়ায় তার ক্ষমতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য আলোচনায় আসলেও যদি ঘটনা সত্যিই হয়ে থাকে, তবে কবে-কখন মেয়রকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চিঠি দেওয়া হয়েছে, এবিষয়ে কেউ কোনো নিশ্চিত তথ্য দিতে পারছে না। সবই ধারণাপ্রসূত তথ্য যা গুজবে আকারে এক কান থেকে দুইকানে পৌছে গোটা নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বেশকিছু সূত্র বলছে , বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল আ’লীগ নেতা নাম প্রকাশে অপারগতার শর্তে এই খবরকেও সত্য বলে দাবি করায় বিষয়টি সন্দেহ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। মেয়রকে অব্যাহতি দেয়ার প্রসঙ্গে এসকল নেতৃবৃন্দ যুক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খবরের বাস্তবতার আলামত হিসেবে উপস্থাপন করেন, গত দুইমাস ধরে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি বন্ধের বিষয়টি।
তাছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে বিশাল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বরিশালের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত কেনো? এমন প্রশ্নের সাথে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মস্থলে যোগদানে অনিহা প্রকাশ করায় কালক্ষেপনের বিষয়টিও মূল্যায়নে তালিকায় উপস্থাপন করে তাদের কাছে প্রাপ্ত খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চায়।
অপর একটি সূত্র খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দের এই অভিমতকে উড়িয়ে না দিয়ে সহমত পোষণ করে বলছে, একটি শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ ও তার দলীয় অনুসারীদের বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন দিয়ে বরিশাল পরিস্থিতি নাজুক বলে উল্লেখ করায় সেখানে উদীয়মান এই নেতার ব্যর্থতার প্রসঙ্গ দলীয় হাইকমান্ড মূল্যায়ন করে তার ক্ষমতা খর্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অসম্ভব কিছু নয়। সঙ্গত কারণে বরিশাল আ’লীগ দুই ভাগে বিভক্ত একাংশের অনুসারীরা এমন অনুমাননির্ভর তথ্যের সংমিশ্রণে কথার মালা গেঁথে এই গুজব সহসায় ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হয়েছে, এমনটি মনে করছেন মেয়র সাদিক সমর্থিতরা।
এই নেতার অনুসারীদের মন্তব্য হচ্ছে, ‘হঠাৎ সৃষ্টি খবরটি’ সমূলেই গুজব। এবং রাজনৈতিক পরিবেশ ঘোলাটে করে অপর একটি অংশ নিজেদের বলয় বৃদ্ধির যেমন কৌশল নিয়েছে। পাশাপশি মেয়রকে বিতর্কের মাঝে ফেলায় সর্বশেষ পন্থা হিসেবে এমন গুজব দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিষ্ঠা করার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখে চলেছে। এই গুজব নতুন নয়, মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নেয়ার পর নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হলে অপর সেই অংশটি নাখোশ হওয়াসহ মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ায়ে সময়বিশেষ এমন গুজব প্রতিষ্ঠায় জোর বাতাস বইয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকার সর্বশেষ বর্তমান সময়ে আবার তৎপর হয়ে উঠায় এবার শহরবাসীর মধ্যে গোলকধাাঁধা সৃষ্টি করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরিশাল বিসিকে উন্নয়ন কাজ নিয়ে মেয়র সমর্থিতদের সাথে সেখানকার ব্যবসায়ীদের টানপোড়নে কিছুটা অশান্ত হয়ে ওঠা বরিশাল পরিবেশকে মোক্ষম সময়ে সহায়ক হিসেবে লুফে নিয়েছে।
কিন্তু এই গুজব যতই জোর রুপ নিচ্ছে, মেয়র সাদিক ততোই নিরব থাকাসহ পূর্বেকার মতো মাঠের রাজনীতিতে সরব না থাকায় এই খবরের অন্তরালে সত্যতা খুঁজতে সাধারন মানুষ নানা মহলে যোগাযোগ করছে। স্থানীয় মিডিয়াকর্মীরাও এই গুজবের রহস্যভেদে ছুটছে দায়িত্বশীল নানা মহলের দরজায়। কিন্তু কেউই এবিষয়ে পরিস্কার ধারনা না দিয়ে অপেক্ষায় থাকার কথায় রহস্য আরও উস্কে দিচ্ছে। তবে সার্বিক প্রেক্ষাপট বলছে ভিন্ন কথা। যদি মেয়রের ক্ষমতা খর্ব করা হয়েই থাকে, তাহলে বর্তমানে নগর উন্নয়ন তথা ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নতুন আদলে তৈরীতে সাদিক আব্দুল্লাহ ব্যস্ত কেন? এমন প্রশ্নের সাথে উড়ো খবরের মিল খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে আসলেই বিষয়টি গুজব।
এতকথা তবুও কেন মেয়র সাদিক নিরব? সেক্ষেত্রে তার পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোলাটে পরিবেশ পরিস্কার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এবিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তার ভাষ্য হচ্ছে- কোন প্রতিষ্ঠানিক বা বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে মেয়রের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক এই গুজব নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই, বিধায় মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ কিছুটা বিস্মিতি এবং সঙ্গত কারণেই নিশ্চুপ।
প্রাসঙ্গিক এই বিষয় নিয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে আজ অপরাহ্নে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থতায় তার কোন প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
আর এ কারণেই এখবর ধীরালয়ে গুজব আকারে প্রতিষ্ঠার পর এখন জোরালো রুপ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।’

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০০
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিছে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা। হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)। হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, জিকির আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ করা, মিলাদ শরিফ, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে।এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকল মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ।
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিছে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা। হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)। হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, জিকির আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ করা, মিলাদ শরিফ, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে।এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকল মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ।

২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:২৪
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে সৈয়দ মোশারফ রাশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সভাপতি এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভায় সকল সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ওই কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলার রহমতপুরে কামিনী রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ওই সুজন সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও সুজন-এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজন বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মোতালেব হাওলাদার এবং সুজন বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার দত্ত।
সুজন বাবুগঞ্জ উপজেলা কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি-১ প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান তালেব, সহ-সভাপতি-২ প্রধান শিক্ষক এইচ.এম ইউসুফ আলী, যুগ্ম-সম্পাদক হারুন অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক মনিরুজ্জামান খোকন, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শাহিন মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আ.জ.ম সামসুল আলম, প্রভাষক মহিদুল ইসলাম জামাল, শিক্ষক আল-আমিন শেখ, ব্র্যাক কর্মকর্তা আবু হানিফ ফকির, জজকোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম জহির, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন মোল্লা, সাংবাদিক রোকন মিয়া, মহিউদ্দিন খান রানা, আরিফ হোসেন মাস্টার, সাব্বির হাসান ও ইয়ুথ লিডার শাম্মী আক্তার সাথী।
উল্লেখ্য, এর আগে বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব এবং সম্পাদক ছিলেন বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না। গত ২৭ নভেম্বর খালেদা ওহাবের মৃত্যু হলে সভাপতির পদ শূন্য হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সুজন-এর আজীবন সদস্য এবং সাবেক কমিটির ১নং সহ-সভাপতি ছিলেন। সম্পাদক সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না বিগত ২০১৮ সাল থেকেই সুজন সম্পাদক এবং বরিশাল-৩ আসনের পিস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। #
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। এতে সৈয়দ মোশারফ রাশিদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সভাপতি এবং বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভায় সকল সদস্যদের কণ্ঠভোটের মাধ্যমে ওই কমিটি গঠন করা হয়। উপজেলার রহমতপুরে কামিনী রেস্তোরাঁয় আয়োজিত ওই সুজন সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ ও সুজন-এর বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী মেহের আফরোজ মিতা। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুজন বরিশাল মহানগর কমিটির সভাপতি সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল মোতালেব হাওলাদার এবং সুজন বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার দত্ত।
সুজন বাবুগঞ্জ উপজেলা কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন সহ-সভাপতি-১ প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান তালেব, সহ-সভাপতি-২ প্রধান শিক্ষক এইচ.এম ইউসুফ আলী, যুগ্ম-সম্পাদক হারুন অর রশীদ, কোষাধ্যক্ষ প্রভাষক মনিরুজ্জামান খোকন, প্রচার সম্পাদক প্রভাষক শাহিন মাহমুদ, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আ.জ.ম সামসুল আলম, প্রভাষক মহিদুল ইসলাম জামাল, শিক্ষক আল-আমিন শেখ, ব্র্যাক কর্মকর্তা আবু হানিফ ফকির, জজকোর্টের এজিপি অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম জহির, অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন মোল্লা, সাংবাদিক রোকন মিয়া, মহিউদ্দিন খান রানা, আরিফ হোসেন মাস্টার, সাব্বির হাসান ও ইয়ুথ লিডার শাম্মী আক্তার সাথী।
উল্লেখ্য, এর আগে বাবুগঞ্জ উপজেলা সুজন কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খালেদা ওহাব এবং সম্পাদক ছিলেন বিমানবন্দর প্রেসক্লাব সভাপতি সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না। গত ২৭ নভেম্বর খালেদা ওহাবের মৃত্যু হলে সভাপতির পদ শূন্য হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা সুজন-এর আজীবন সদস্য এবং সাবেক কমিটির ১নং সহ-সভাপতি ছিলেন। সম্পাদক সাংবাদিক আরিফ আহমেদ মুন্না বিগত ২০১৮ সাল থেকেই সুজন সম্পাদক এবং বরিশাল-৩ আসনের পিস অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। #

১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৮
ভারতের দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর জিগানিসংলগ্ন পোডু গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সময়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে শারবানু খাতুন নামে এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারী ‘অবৈধভাবে’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার নারীর নাম শারবানু খাতুন, তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন। তখন শারবানু খাতুন তার পরিবর্তে ‘জয় বাংলা’ বলেন। যদিও কয়েক সেকেন্ড পরেই তিনি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিন্তু ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পরই এলাকার মানুষদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ওই ভাইরাল ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে হেব্বাগোডি থানার হেড কনস্টেবল ভূষা বেন্দ্র গত ১১ জানুয়ারী একটি অভিযোগ করেন।
পুলিশের মতে, একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। তা ছাড়া ভারতে থেকে অন্য একটি দেশের স্লোগান তোলাটা দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে দাবি করে তারা।
শারবানু খাতুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২ ধারা (ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী কাজ), ১৯৬ ধারা (ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ক্ষতিকর কাজ করা), ১৯৭ ধারা (জাতীয় সংহতির জন্য ক্ষতিকর অভিযোগ, দাবি) এবং ৩৫৩ ধারা (জনসাধারণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন বিবৃতি)-এর অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে।’
ভারতের দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর জিগানিসংলগ্ন পোডু গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন সময়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে শারবানু খাতুন নামে এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই নারী ‘অবৈধভাবে’ বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করে বেঙ্গালুরুতে বসবাস করছিলেন বলে দাবি করেছে স্থানীয় পুলিশ।
গ্রেপ্তার নারীর নাম শারবানু খাতুন, তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে থাকেন। তখন শারবানু খাতুন তার পরিবর্তে ‘জয় বাংলা’ বলেন। যদিও কয়েক সেকেন্ড পরেই তিনি ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। কিন্তু ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার পরই এলাকার মানুষদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে ওই ভাইরাল ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে হেব্বাগোডি থানার হেড কনস্টেবল ভূষা বেন্দ্র গত ১১ জানুয়ারী একটি অভিযোগ করেন।
পুলিশের মতে, একটি অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ওই নারী ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। তা ছাড়া ভারতে থেকে অন্য একটি দেশের স্লোগান তোলাটা দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত বলে দাবি করে তারা।
শারবানু খাতুনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১৫২ ধারা (ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী কাজ), ১৯৬ ধারা (ধর্ম, জাতি, জন্মস্থান, বাসস্থান, ভাষা ইত্যাদির ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য ক্ষতিকর কাজ করা), ১৯৭ ধারা (জাতীয় সংহতির জন্য ক্ষতিকর অভিযোগ, দাবি) এবং ৩৫৩ ধারা (জনসাধারণের ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন বিবৃতি)-এর অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে।’

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.