বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুনের মামলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সকারের মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারাধীন এলাকায় তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। সেই হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধা আল-আমিনের মৃত্যু হয়। জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর আপন চাচা পঞ্চাশোর্ধ্ব ‘রহমান মাল’ বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, জাতীয় পার্টির শীর্ষসারির নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়।
মামলাটির ৮৪ নং অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বরিশালে ব্যাপক ত্রাস চালিয়েছে। এবং রাজনৈতিক ব্যানারে বহুমুখী অপকর্ম করতে গিয়ে সে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে একাধিকবার নেতাও বদল করে। প্রথমে সে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নাম ভাঙিয়ে চললেও পরর্তীতে তারই পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছাকাছি জাকিরকে দেখা যায়। পরে সাদিকের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে এসএম জাকির বরিশাল সদর আসনের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সান্নিধ্য পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে, এবং কিছুদিন পর কাঙ্খিত লক্ষেও পৌছে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে হাসানাত আব্দুল্লাহ, পরে তার ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ জাহিদ ফারুকের সাথে ছত্রছায়ায় থেকে জাকির ধনকূবের বনে গেছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সে ব্যাপক অর্থ কামিয়ে নিয়েছে। এবং রাজনৈতিক পদবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেলসপার্কসংলগ্ন শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দও নিয়ে নেয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জেলা প্রশাসককে জনৈক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে অফিসার্স মেসের ভূমিটি জাকিরের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দিতে বাধ্য করে। এবং প্রশাসন তাকে ভূমিটিতে ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শর্তজুড়ে দিলেও তা উপেক্ষা করেছে। এছাড়া সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাকিরের স্ত্রী নামে প্লানবিহীন ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করা নিয়েও তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়াও বহু অঘটন পটিয়াসি এসএম জাকির হোসেন বরিশালে বিরোধী মতের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে একাধিক সংবাদকর্মীকে জেল খাটানোর অভিযোগও আছে। তৎকালীন সময় তার হাত থেকে রেহাই পাননি বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সে বরিশাল বিএনপি নেতা মুসফিকুল হাসান মাসুমকে মামলা দিয়ে তার হয়রানি করাসহ ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করেও দেয়।
বরিশালের এই ত্রাস সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার ওপর সদলবলে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, যা অনেকের ছিল অজনা, আসেনি আলোচনায়ও। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আল-আমিনের চাচা ঢাকার আদালতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষসারির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশকে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। বরিশাল আওয়ামী সন্ত্রাস জাকির ঢাকায় আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, এই খবর বুধবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন।
এদিকে ভাটারা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মামলাটি নথিভুক্ত করাসহ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আওয়ামী সন্ত্রাসী এসএম জাকির ৫ আগস্ট ঢাকায় খুন করে কদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালে এসে বীরদর্পে ঘোরাঘুরি শুরু করে। এবং বোল পাল্টে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ বরিশাল প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে, যা নিয়েও তুমুল বিকর্ত দেখা দেয়। তবে রহস্যজনক কারণে বরিশালে সে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হয়নি।
অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী সন্ত্রাসীকে বরিশালের খিস্ট্রান সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এবং আইনজীবীর মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফিরিস্তি উপস্থাপন করলেও তার উগ্রতা রোহিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিজ্ঞমহল বলছে, এসএম জাকির আওয়ামী লীগের ব্যানারে গত কয়েক বছরে নানান অপকর্ম করেছে। সর্বশেষ সে আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এমন তথ্য এতদিন লুকোচাপা থাকলেও শেষত্বক প্রকাশে এসেছে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’

২২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে সন্তান ৫৮ জন। চার স্ত্রী ও এতগুলো সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। অভাবের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে কখনো কখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। বিশাল এই পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।
খামা প্রেস এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, নিজের পরিবারের ভরণপোষণের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন সাদিক। তিনি জানান, সন্তানদের সবার নাম মনে রাখাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়ার সময় সন্তানদের গুনে দেখতে হয়। তখন দেখা যায়, কেউ একজন অনুপস্থিত—হয়তো সে অন্য কোথাও রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তার ও স্ত্রীদের ১৪ সন্তান মারা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদিক স্থানীয় একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই সামান্য আয়ে পরিবারের এত সদস্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসারের খরচ মেটাতে তার কয়েকজন সন্তানকেও কাজ করতে হয়। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।
পরিবারে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার তৈরি হয়—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব সামলান। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, আর গ্রীষ্মে বসেন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও অত্যন্ত সীমিত। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবারটির বসবাসের অপ্রতুল পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে। বাড়ির ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের স্থানেই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজ চলে; কখনো সেটি শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সাদিক। তবে অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাদিক জানান, বড় পরিবার গড়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। কিন্তু এত সন্তানকে নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয় তাকে।
একবার বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন তিনি। অনেক সময় সন্তানের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তাকে দীর্ঘ সময় সঞ্চয় করতে হয়েছে।
সাদিকের পরিবারের ঘটনা অল্প বয়সে বিয়ে এবং কৈশোরে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। অল্প বয়সে গর্ভধারণ মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, ঘন ঘন গর্ভধারণ মায়েদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক নিজেও পড়তে বা লিখতে পারেন না। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে তিনি সরকার, ত্রাণ সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
তার প্রত্যাশা, সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য অন্তত পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। বিশাল পরিবার নিয়ে তার এই সংগ্রাম আফগানিস্তানের দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও শিক্ষাবঞ্চনার কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
সূত্র: খামা প্রেস এজেন্সি ও বিবিসির প্রতিবেদন।
আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিকের পরিবারে সন্তান ৫৮ জন। চার স্ত্রী ও এতগুলো সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। অভাবের কারণে পরিবারের কিছু শিশুকে কখনো কখনো ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। বিশাল এই পরিবারের খাবার, পোশাক ও শিক্ষার খরচ জোগাতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে তাকে।
খামা প্রেস এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, নিজের পরিবারের ভরণপোষণের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন সাদিক। তিনি জানান, সন্তানদের সবার নাম মনে রাখাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনো পরিবারের সবাইকে নিয়ে খাওয়ার সময় সন্তানদের গুনে দেখতে হয়। তখন দেখা যায়, কেউ একজন অনুপস্থিত—হয়তো সে অন্য কোথাও রয়েছে। দীর্ঘ সময়ে তার ও স্ত্রীদের ১৪ সন্তান মারা গেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাদিক স্থানীয় একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য, একটি গাড়ি বিক্রি হলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই সামান্য আয়ে পরিবারের এত সদস্যের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। সংসারের খরচ মেটাতে তার কয়েকজন সন্তানকেও কাজ করতে হয়। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।
পরিবারে সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার তৈরি হয়—সকালের নাশতা ও রাতের খাবার। দুই স্ত্রী রান্নার দায়িত্ব সামলান। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন, আর গ্রীষ্মে বসেন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও অত্যন্ত সীমিত। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে পরিবারটির বসবাসের অপ্রতুল পরিবেশের চিত্র উঠে এসেছে। বাড়ির ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার পরিবর্তে পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের স্থানেই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজ চলে; কখনো সেটি শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন সাদিক। তবে অর্থের অভাবে তাদের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাদিক জানান, বড় পরিবার গড়ার পেছনে তার উদ্দেশ্য ছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা। কিন্তু এত সন্তানকে নিয়ে দৈনন্দিন জীবনে নানা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হয় তাকে।
একবার বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে এক মেয়ের পরিবর্তে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন তিনি। অনেক সময় সন্তানের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ কিংবা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের বিয়ের মূল্য বা দেনমোহরের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে তাকে দীর্ঘ সময় সঞ্চয় করতে হয়েছে।
সাদিকের পরিবারের ঘটনা অল্প বয়সে বিয়ে এবং কৈশোরে গর্ভধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। অল্প বয়সে গর্ভধারণ মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, ঘন ঘন গর্ভধারণ মায়েদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। আফগানিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সীমাবদ্ধতা এসব ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক নিজেও পড়তে বা লিখতে পারেন না। পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা করতে তিনি সরকার, ত্রাণ সংস্থা এবং ব্যবসায়ীদের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।
তার প্রত্যাশা, সন্তানরা যেন শিক্ষার সুযোগ পায় এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য অন্তত পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা যায়। বিশাল পরিবার নিয়ে তার এই সংগ্রাম আফগানিস্তানের দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও শিক্ষাবঞ্চনার কঠিন বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।
সূত্র: খামা প্রেস এজেন্সি ও বিবিসির প্রতিবেদন।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫৫
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিতি আখতার। সৌদিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজেল নিউজের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়।
বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সাজা দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রায় বহাল রাখে এবং সাজা কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইসলামি আইন বাস্তবায়নে সৌদি সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও আজেল নিউজ।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৩৭
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।
স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন—এমন দাবি করে ভারতের হরিদ্বারে একটি মোবাইল টাওয়ারে উঠে বসেন এক যুবক। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত নিচে নামবেন না বলে জানান তিনি। তাঁকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে পুলিশ ও প্রশাসনের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন ওই যুবক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার শিবালিক নগরে এ ঘটনা ঘটে। স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে পালিয়ে হরিদ্বারে চলে গেছেন বলে জানতে পেরে সেখানে ছুটে যান ওই যুবক। একপর্যায়ে তিনি উঠে পড়েন এলাকার একটি মোবাইল টাওয়ারে।
বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তাঁরা যুবককে নিচে নামানোর চেষ্টা করেন। তবে নানা অনুরোধেও তিনি রাজি হননি। টাওয়ারের ওপর থেকে যুবক দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্ত্রীকে ফিরিয়ে না দিলে তিনি নিচে নামবেন না বলেও জানান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে নিরাপদে নিচে নামানোর উদ্যোগ নেয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক চেষ্টাও সফল হয়নি। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে স্ত্রী না আসা পর্যন্ত টাওয়ার থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান ওই যুবক।
এ অবস্থায় পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাঁকে শান্ত করার পাশাপাশি নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও টাওয়ারের ওপর অবস্থান করছিলেন তিনি। পরে সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামার সময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ সময় পর ওই যুবক নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ‘ভূপি পাওয়ার’ নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভিডিওটি বহু মানুষের নজরে এসেছে।

২৯ মে, ২০২৫ ১৬:২৬
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুনের মামলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সকারের মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারাধীন এলাকায় তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। সেই হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধা আল-আমিনের মৃত্যু হয়। জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর আপন চাচা পঞ্চাশোর্ধ্ব ‘রহমান মাল’ বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, জাতীয় পার্টির শীর্ষসারির নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়।
মামলাটির ৮৪ নং অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বরিশালে ব্যাপক ত্রাস চালিয়েছে। এবং রাজনৈতিক ব্যানারে বহুমুখী অপকর্ম করতে গিয়ে সে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে একাধিকবার নেতাও বদল করে। প্রথমে সে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নাম ভাঙিয়ে চললেও পরর্তীতে তারই পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছাকাছি জাকিরকে দেখা যায়। পরে সাদিকের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে এসএম জাকির বরিশাল সদর আসনের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সান্নিধ্য পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে, এবং কিছুদিন পর কাঙ্খিত লক্ষেও পৌছে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে হাসানাত আব্দুল্লাহ, পরে তার ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ জাহিদ ফারুকের সাথে ছত্রছায়ায় থেকে জাকির ধনকূবের বনে গেছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সে ব্যাপক অর্থ কামিয়ে নিয়েছে। এবং রাজনৈতিক পদবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেলসপার্কসংলগ্ন শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দও নিয়ে নেয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জেলা প্রশাসককে জনৈক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে অফিসার্স মেসের ভূমিটি জাকিরের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দিতে বাধ্য করে। এবং প্রশাসন তাকে ভূমিটিতে ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শর্তজুড়ে দিলেও তা উপেক্ষা করেছে। এছাড়া সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাকিরের স্ত্রী নামে প্লানবিহীন ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করা নিয়েও তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়াও বহু অঘটন পটিয়াসি এসএম জাকির হোসেন বরিশালে বিরোধী মতের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে একাধিক সংবাদকর্মীকে জেল খাটানোর অভিযোগও আছে। তৎকালীন সময় তার হাত থেকে রেহাই পাননি বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সে বরিশাল বিএনপি নেতা মুসফিকুল হাসান মাসুমকে মামলা দিয়ে তার হয়রানি করাসহ ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করেও দেয়।
বরিশালের এই ত্রাস সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার ওপর সদলবলে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, যা অনেকের ছিল অজনা, আসেনি আলোচনায়ও। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আল-আমিনের চাচা ঢাকার আদালতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষসারির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশকে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। বরিশাল আওয়ামী সন্ত্রাস জাকির ঢাকায় আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, এই খবর বুধবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন।
এদিকে ভাটারা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মামলাটি নথিভুক্ত করাসহ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আওয়ামী সন্ত্রাসী এসএম জাকির ৫ আগস্ট ঢাকায় খুন করে কদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালে এসে বীরদর্পে ঘোরাঘুরি শুরু করে। এবং বোল পাল্টে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ বরিশাল প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে, যা নিয়েও তুমুল বিকর্ত দেখা দেয়। তবে রহস্যজনক কারণে বরিশালে সে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হয়নি।
অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী সন্ত্রাসীকে বরিশালের খিস্ট্রান সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এবং আইনজীবীর মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফিরিস্তি উপস্থাপন করলেও তার উগ্রতা রোহিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিজ্ঞমহল বলছে, এসএম জাকির আওয়ামী লীগের ব্যানারে গত কয়েক বছরে নানান অপকর্ম করেছে। সর্বশেষ সে আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এমন তথ্য এতদিন লুকোচাপা থাকলেও শেষত্বক প্রকাশে এসেছে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৭
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:২০
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪২
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:২৮