
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:২৬
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুনের মামলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সকারের মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারাধীন এলাকায় তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। সেই হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধা আল-আমিনের মৃত্যু হয়। জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর আপন চাচা পঞ্চাশোর্ধ্ব ‘রহমান মাল’ বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, জাতীয় পার্টির শীর্ষসারির নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়।
মামলাটির ৮৪ নং অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বরিশালে ব্যাপক ত্রাস চালিয়েছে। এবং রাজনৈতিক ব্যানারে বহুমুখী অপকর্ম করতে গিয়ে সে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে একাধিকবার নেতাও বদল করে। প্রথমে সে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নাম ভাঙিয়ে চললেও পরর্তীতে তারই পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছাকাছি জাকিরকে দেখা যায়। পরে সাদিকের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে এসএম জাকির বরিশাল সদর আসনের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সান্নিধ্য পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে, এবং কিছুদিন পর কাঙ্খিত লক্ষেও পৌছে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে হাসানাত আব্দুল্লাহ, পরে তার ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ জাহিদ ফারুকের সাথে ছত্রছায়ায় থেকে জাকির ধনকূবের বনে গেছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সে ব্যাপক অর্থ কামিয়ে নিয়েছে। এবং রাজনৈতিক পদবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেলসপার্কসংলগ্ন শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দও নিয়ে নেয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জেলা প্রশাসককে জনৈক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে অফিসার্স মেসের ভূমিটি জাকিরের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দিতে বাধ্য করে। এবং প্রশাসন তাকে ভূমিটিতে ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শর্তজুড়ে দিলেও তা উপেক্ষা করেছে। এছাড়া সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাকিরের স্ত্রী নামে প্লানবিহীন ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করা নিয়েও তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়াও বহু অঘটন পটিয়াসি এসএম জাকির হোসেন বরিশালে বিরোধী মতের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে একাধিক সংবাদকর্মীকে জেল খাটানোর অভিযোগও আছে। তৎকালীন সময় তার হাত থেকে রেহাই পাননি বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সে বরিশাল বিএনপি নেতা মুসফিকুল হাসান মাসুমকে মামলা দিয়ে তার হয়রানি করাসহ ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করেও দেয়।
বরিশালের এই ত্রাস সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার ওপর সদলবলে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, যা অনেকের ছিল অজনা, আসেনি আলোচনায়ও। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আল-আমিনের চাচা ঢাকার আদালতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষসারির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশকে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। বরিশাল আওয়ামী সন্ত্রাস জাকির ঢাকায় আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, এই খবর বুধবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন।
এদিকে ভাটারা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মামলাটি নথিভুক্ত করাসহ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আওয়ামী সন্ত্রাসী এসএম জাকির ৫ আগস্ট ঢাকায় খুন করে কদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালে এসে বীরদর্পে ঘোরাঘুরি শুরু করে। এবং বোল পাল্টে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ বরিশাল প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে, যা নিয়েও তুমুল বিকর্ত দেখা দেয়। তবে রহস্যজনক কারণে বরিশালে সে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হয়নি।
অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী সন্ত্রাসীকে বরিশালের খিস্ট্রান সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এবং আইনজীবীর মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফিরিস্তি উপস্থাপন করলেও তার উগ্রতা রোহিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিজ্ঞমহল বলছে, এসএম জাকির আওয়ামী লীগের ব্যানারে গত কয়েক বছরে নানান অপকর্ম করেছে। সর্বশেষ সে আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এমন তথ্য এতদিন লুকোচাপা থাকলেও শেষত্বক প্রকাশে এসেছে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’
বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এসএম জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী খুনের মামলা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ সকারের মন্ত্রী-এমপিদের নির্দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে গত ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারাধীন এলাকায় তিনি ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছেন। সেই হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধা আল-আমিনের মৃত্যু হয়। জাকিরসহ সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত শিক্ষার্থীর আপন চাচা পঞ্চাশোর্ধ্ব ‘রহমান মাল’ বাদী হয়ে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫০ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করেন। আলোচিত এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী-এমপি, সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, জাতীয় পার্টির শীর্ষসারির নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়।
মামলাটির ৮৪ নং অভিযুক্ত জাকির হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থেকে বরিশালে ব্যাপক ত্রাস চালিয়েছে। এবং রাজনৈতিক ব্যানারে বহুমুখী অপকর্ম করতে গিয়ে সে সমূহ বিপদের আলামত পেয়ে একাধিকবার নেতাও বদল করে। প্রথমে সে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নাম ভাঙিয়ে চললেও পরর্তীতে তারই পুত্র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র কাছাকাছি জাকিরকে দেখা যায়। পরে সাদিকের সাথে দূরত্ব তৈরি হলে এসএম জাকির বরিশাল সদর আসনের এমপি ও সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুকের সান্নিধ্য পেতে দৌঁড়ঝাপ শুরু করে, এবং কিছুদিন পর কাঙ্খিত লক্ষেও পৌছে যায়।

সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে হাসানাত আব্দুল্লাহ, পরে তার ছেলে সাদিক আব্দুল্লাহ এবং সর্বশেষ জাহিদ ফারুকের সাথে ছত্রছায়ায় থেকে জাকির ধনকূবের বনে গেছে। বিশেষ করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেশ কয়েকটি ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে সে ব্যাপক অর্থ কামিয়ে নিয়েছে। এবং রাজনৈতিক পদবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বেলসপার্কসংলগ্ন শতকোটি টাকার সরকারি ভূমি তার স্ত্রীর নামে বরাদ্দও নিয়ে নেয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাবেক জেলা প্রশাসককে জনৈক শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার চাপের মুখে অফিসার্স মেসের ভূমিটি জাকিরের স্ত্রীর নামে বরাদ্দ দিতে বাধ্য করে। এবং প্রশাসন তাকে ভূমিটিতে ভবন নির্মাণ করার ক্ষেত্রে শর্তজুড়ে দিলেও তা উপেক্ষা করেছে। এছাড়া সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশে জাকিরের স্ত্রী নামে প্লানবিহীন ভবনটিতে রেস্তোরাঁ করা নিয়েও তুমুল বিতর্ক রয়েছে।
এছাড়াও বহু অঘটন পটিয়াসি এসএম জাকির হোসেন বরিশালে বিরোধী মতের সাংবাদিকদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করা এবং বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে একাধিক সংবাদকর্মীকে জেল খাটানোর অভিযোগও আছে। তৎকালীন সময় তার হাত থেকে রেহাই পাননি বিএনপি নেতাকর্মীরাও। সে বরিশাল বিএনপি নেতা মুসফিকুল হাসান মাসুমকে মামলা দিয়ে তার হয়রানি করাসহ ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করেও দেয়।
বরিশালের এই ত্রাস সর্বশেষ আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন অর্থাৎ ৫ আগস্ট রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহযোদ্ধার ওপর সদলবলে হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, যা অনেকের ছিল অজনা, আসেনি আলোচনায়ও। সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত আল-আমিনের চাচা ঢাকার আদালতে গত ১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসী জাকিরসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষসারির নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে ভাটারা থানা পুলিশকে নথিভুক্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণের নির্দেশ দেন। বরিশাল আওয়ামী সন্ত্রাস জাকির ঢাকায় আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে, এই খবর বুধবার রাতে ছড়িয়ে পড়লে সংবাদকর্মীরা তথ্য সংগ্রহে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেন।
এদিকে ভাটারা থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশে মামলাটি নথিভুক্ত করাসহ অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আওয়ামী সন্ত্রাসী এসএম জাকির ৫ আগস্ট ঢাকায় খুন করে কদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরবর্তীতে বরিশালে এসে বীরদর্পে ঘোরাঘুরি শুরু করে। এবং বোল পাল্টে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীসহ বরিশাল প্রশাসনের সান্নিধ্য পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকে, যা নিয়েও তুমুল বিকর্ত দেখা দেয়। তবে রহস্যজনক কারণে বরিশালে সে কোনো মামলায় অভিযুক্ত হয়নি।
অভিযোগ আছে, এই আওয়ামী সন্ত্রাসীকে বরিশালের খিস্ট্রান সম্প্রদায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। এবং আইনজীবীর মাধ্যমে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফিরিস্তি উপস্থাপন করলেও তার উগ্রতা রোহিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিজ্ঞমহল বলছে, এসএম জাকির আওয়ামী লীগের ব্যানারে গত কয়েক বছরে নানান অপকর্ম করেছে। সর্বশেষ সে আন্দোলনকারী খুনে জড়িত এমন তথ্য এতদিন লুকোচাপা থাকলেও শেষত্বক প্রকাশে এসেছে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিৎ এই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা।’
১৮ জুলাই, ২০২৬ ০২:৩৩
১৭ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৭
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৮
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৭

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’

০৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৩
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #
আবহমান বাংলার মধুমাস বলে খ্যাত জ্যৈষ্ঠের দেশীয় বিভিন্ন ফল দিয়ে বাবুগঞ্জে মধুমাস উৎসব-২০২৬'এর বর্ণাঢ্য শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আইএফআইসি (IFIC) ব্যাংক পিএলসি'র বাবুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে রোববার প্রধান অতিথি হিসেবে ওই মধুমাস উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন ব্যাংকের অন্যতম সম্মানিত গ্রাহক বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না।
আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের বরিশাল প্রধান শাখার সিনিয়র অফিসার ইব্রাহিম খলিল ও বাবুগঞ্জ শাখার ক্যাশ ইনচার্জ কাজী নাফিউন আলম। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদা আক্তার, সাধনা রায় চৌধুরী, শিশির কুমার চক্রবর্তী, আলী হাসান আকন, মাসুদ পারভেজ, মরিয়ম বেগম, ডেন্টিস্ট সোহেল রানা, ব্যবসায়ী ফয়েজ হোসেন, ইব্রাহিম খান প্রমুখ।
মধুমাস উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না বলেন, 'আইএফআইসি ব্যাংক দেশের স্বনামধন্য ও নির্ভরযোগ্য একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন বেসরকারি ব্যাংক, যা ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আইএফআইসি ব্যাংক একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (পিএলসি) হলেও এর প্রায় ৩৩% মালিকানা রয়েছে সরকারের কাছে। ব্যাংকটির গত অর্ধশতাব্দীর গৌরবময় পথচলায় নানান অর্জন রয়েছে। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তাছাড়া গ্রাহকদের সম্মানে প্রতিবছর তারা দেশীয় বিভিন্ন রসালো ফলের সমারোহে মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে গ্রাহকদের আপ্যায়ন করে। এমন উৎসবের আয়োজন নিঃসন্দেহে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ এবং লালন করে। দেশের মাটি ও মানুষের আস্থার ব্যাংকে পরিনত হোক আইএফআইসি।'
সভাপতির বক্তব্যে আইএফআইসি ব্যাংকের বাবুগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক (অফিসার ইনচার্জ) মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, 'গ্রাহক সন্তুষ্টিই আইএফআইসি ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। সেবার মান ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করে দেশে ১৪০০'এর অধিক শাখা-উপশাখা নিয়ে এগিয়ে চলছে আমাদের ব্যাংক। প্রতিবছর আমাদের সম্মানিত গ্রাহকদের সম্মানে আমরা মধুমাস উৎসবের আয়োজন করে আসছি। এবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও আমাদের যেসব সম্মানিত গ্রাহকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে উপস্থিত হয়ে মধুমাস উৎসবকে সার্থক করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশাকরি এভাবেই সবাই পাশে থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের আগামীর গৌরবময় পথচলার সাথী হবেন।' #

০৬ মে, ২০২৬ ০৩:১৫
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের ইতিহাস মানেই বিশাল সব জলযানের রাজত্ব। আজকের দিনে আমরা যখন এমভি মানামী, অ্যাডভেঞ্চার বা সুরভী-এর মতো দানবীয় ও আধুনিক লঞ্চ দেখি, তখন প্রবীণ যাত্রী ও নৌ-প্রেমীদের স্মৃতিতে আজও অম্লান হয়ে আছে একটি নাম— ‘সামাদ’। এক সময় এই রুটে ‘সামাদ’ ছিল আভিজাত্য, গতি এবং নির্ভরতার সমার্থক। আধুনিক লঞ্চের ভিড়ে সেই পুরনো দিনের ঐতিহ্যবাহী সামাদ লঞ্চের গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, আশি এবং নব্বইয়ের দশকে যখন ঢাকা-বরিশাল রুটে আজকের মতো শত শত কেবিন সমৃদ্ধ লঞ্চ ছিল না, তখন সামাদ লঞ্চ ছিল যাত্রীদের প্রথম পছন্দ। বিশেষ করে এর গঠনশৈলী এবং নদীতে চলার সময় এর রাজকীয় ভঙ্গিমা মানুষকে মুগ্ধ করত। সেই সময় এই লঞ্চটি ছিল এ অঞ্চলের মানুষের কাছে এক প্রকার গর্বের বিষয়। তৎকালীন সময়ে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য এই লঞ্চের কেবিন পাওয়া ছিল রীতিমতো ভাগ্যের ব্যাপার।
পুরনো লঞ্চগুলোর মধ্যে সামাদ-এর বিশেষত্ব ছিল এর মজবুত কাঠামো এবং কাঠের নিখুঁত কারুকাজ। আজকের লঞ্চগুলোতে স্টিল আর কাঁচের আধিক্য থাকলেও, সামাদ লঞ্চের অন্দরসজ্জায় ছিল আভিজাত্যের ছোঁয়া। বড় বড় কাঠের জানালা, প্রশস্ত ডেক এবং মাঝ বরাবর চলে যাওয়া গলিগুলো আজও প্রবীণদের নস্টালজিক করে তোলে। লঞ্চটির সার্চলাইট যখন রাতের আঁধারে মেঘনার বুকে আছড়ে পড়ত, তীরের মানুষ বুঝত— ‘সামাদ’ যাচ্ছে।
যাত্রীদের গভীর আবেগ
বরিশাল-ঢাকা রুটের নিয়মিত যাত্রীদের কাছে সামাদ কেবল একটি নৌযান ছিল না, বরং ছিল যাতায়াতের এক নিরাপদ আশ্রয়। লঞ্চের মাস্টার থেকে শুরু করে সারেং ও সুকানিদের সাথে যাত্রীদের গড়ে উঠত এক নিবিড় সম্পর্ক। এই লঞ্চের ডাইনিং বা ক্যান্টিনের রান্নার স্বাদও ছিল লোকমুখে প্রচলিত। নদীর টাটকা ইলিশ আর ঘন ডাল দিয়ে রাতের ডিনার সেরে ডেকের ওপর চাদর বিছিয়ে শুয়ে থাকার যে আনন্দ, তা আজকের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে অনেক যাত্রীই খুঁজে পান না।
কালের বিবর্তনে প্রস্থান
সময়ের সাথে সাথে নৌ-প্রকৌশল বিদ্যায় এসেছে বিশাল পরিবর্তন। নতুন নতুন স্টিল বডি ও ডাবল ডেকার-ট্রিপল ডেকার লঞ্চের ভিড়ে পুরনো কাঠের অবকাঠামোর লঞ্চগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। নাব্য সংকট, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে এক সময় ঐতিহ্যের সামাদ লঞ্চটি এই রুট থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। যদিও সামাদ নামধারী বিভিন্ন নৌযান পরবর্তী সময়ে এসেছে, কিন্তু সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘সামাদ’ আজও মানুষের স্মৃতির পাতায় এক সোনালী অধ্যায় হয়ে আছে।
সূত্র বলছে, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় বিমানের গোলার আঘাতে জাহাজটি কীর্তনখোলা নদীতে ডুবে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পর বরিশালের এক ব্যবসায়ী নিজ খরচে জাহাজটি উদ্ধার করে কুমিল্লার দাউদকান্দির সাবেক এমপি মুন্সী আবদুল আলীর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে মুন্সী আবদুল আলী এটিকে একটি আধুনিক যাত্রীবাহী লঞ্চে রূপান্তরিত করেন এবং নিজের বাবার নামানুসারে লঞ্চটির নামকরণ করেন 'এম ভি সামাদ'। অবশ্য ১৯৮৮ সালের জুলাই মাসে বরিশালের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী মোহন মিয়া লঞ্চটি কিনে নেন।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে কীর্তনখোলা নদীর কাউয়ার চরে লঞ্চটিকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের কারণে বেঁধে রাখা হয়েছিল। প্রবল বাতাস এবং জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে লঞ্চটি মাঝ নদীতে উল্টে গিয়ে সলিল সমাধি ঘটে। পরবর্তীতে একটি স্যালভেজ কোম্পানি লঞ্চটি কেটে পানি থেকে উদ্ধার করে, যার মাধ্যমেই চিরতরে বিলীন হয়ে যায় ইতিহাসের এই কিংবদন্তি।
বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা রুটে হয়তো এর চেয়েও দশগুণ বড় ও বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে। কিন্তু বরিশালের প্রবীণ মানুষরা যখন আজও স্টিমার ঘাটে দাঁড়ান, তখন তারা সেই পুরনো ভোঁ-র শব্দ আর কাঠের কাঠামোর সামাদ লঞ্চটিকে মিস করেন। এটি কেবল একটি পরিবহন ছিল না, এটি ছিল একটি সময়ের প্রতিনিধি।
নৌপথের আধুনিকায়ন অবশ্যই কাম্য, তবে সামাদের মতো যেসব লঞ্চ এ অঞ্চলের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাদের ইতিহাস সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বরিশালের নৌ-সংস্কৃতিতে ‘সামাদ’ লঞ্চটি তাই কেবল একটি নাম নয়, বরং এক অবিনাশী ঐতিহ্য হিসেবে চিরকাল বেঁচে থাকবে।’