Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:১৫
নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতনবৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে শহীদ মিনারে শান্তিপূণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে দিনব্যাপী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে হাজার হাজার স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ব্যানার, ফেষ্টুন ও মনিপাতা নিয়ে অংশ নেন।
এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর সংগঠনটির নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ৬ দফা দাবি বাস্তাবায়ন করে জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশের সময় বেধে দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য সহকারী সাদেকুর রশিদ কিরন বলেন, 'আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরা সরকারী ছুটি ব্যতিত সারা মাস রোদে-বৃষ্টিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে মা ও শিশু রেজিস্টেশন করে টিকা প্রদান করি। এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবায় মাঠ পর্যায় কাজ করে যাচ্ছিন। আমাদের কাজের বিনিময়েই টিকাদানে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
এ তৃণমুল স্বাস্থ্য সহকারীদের পরিশ্রমের সাফল্যের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন,ভ্যাকসিন হিরোর সম্মাননা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগও হয়েছে বিশেষ সম্মানিত। যাদের কাজের বিনিময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ গর্বিত, আজ তারাই অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার।'
তিনি আরো বলেন, 'আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি আমাদের স্বাস্থ্য সহকারী পদটি টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ বেতন আপগ্রেডেশনের, কিন্ত এ দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক বলে প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়েই দীর্ঘ ২৭ বছর পার করেছেন।'
সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশক মনির হোসেন বলেন, 'দীর্ঘ ২০ বছর পর আমার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে পদোন্নতি হয়েছে।
কিন্তু বেতন বাড়েনি এক পয়সাও। বরং আমার নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায় পদায়ন দিয়েছে। আমার জানা মতে, আমাদের মতো এমন বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো বিভাগ আছে বলে আমার জানা নেই।'
স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবু কালাম বলেন, '৬ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টি হলেও বর্তমানে একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার জনগোষ্ঠি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অথচ সরকারী নিয়ম অনুসারে সেখানে ৫ থেকে ৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োজিত থাকার কথা।
প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০ বছরেও পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে পারেন না। যদিও পদোন্নতি পান তাহলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে আরো কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পায়, যখন চাকরির বয়স বাকী থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। যদিও পদোন্নতি হয় কিন্তু বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। উপরন্তু বদলি করা হয় অন্য জেলা, উপজেলায়।
হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ওয়াসি উদ্দিন রানা জানান, ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাদের বেতনবৈষম্য নিরসন করে টেকনিক্যাল পদমর্যদার দাবি বাস্তবায়নে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর অতিবাহিত হলেও, সে ঘোষণা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
পরে ২০১৬ সালে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগের এক সমাবেশে করে। উক্ত সমাবেশ তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী তাদের দাবি যৌক্তিক বলে ঘোষণা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন কিন্তু তার কোনো ফল স্বাস্থ্য সহকারীরা পাননি।
২০১৭ সালে ৩০ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহারীদের সংগঠন পূনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচী (ইপিআই) বন্ধ রেখে বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেন।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি মেনে নিলে তারা কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পাননি স্বাস্থ্য সহকারীরা।
একই দাবিতে আবারও ২০২০ সালে কর্মসূচিতে গেলে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উক্ত সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন করেনি।
চলতি ২০২৫ সালে আবারও তারা একই দাবি বাস্তবয়নের গত ২৫ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালনকালে উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ৩ মাসের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের দাবি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করলে গত ২৬ জুলাই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ১ মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের সময় বেধে দেন। তবে তা আলোর মুখ দেখেনি এখনও।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্য সহকারীরা গেল ১২ অক্টোবর থেকে যে টিসিভি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয় তা সামনে রেখে ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ টিকা কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)ও সদ্য সমাপ্ত হওয়া টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচির সব রিপোর্ট তৈরি ও প্রদান বন্ধ রেখে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি শুরু করে।
এ কর্মবিরতির ফলে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ৬দিন বন্ধ থাকার পর পরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ৬ অক্টোবর মহাখালি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলোচনায় বসে। দাবি বাস্তায়নের আশ্বাসে একমাসের কর্মবিরতি জন্য স্থগিত করা হয়। তাদের আশ্বাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে সারাদেশের প্রায় ৫ কোটি শিশুদের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকা সফল ভাবে সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য সহকারীরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন দেখায়নি। তাই বাধ্য হয়ে ফের কর্মবিরতিও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬ দফা দাবি:
১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমানের যোগ্যতাসংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান।
২. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের ১১তম গ্রেডসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়া।
৩. পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা।
৪. সকল স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শককে প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. বেতন স্কেল পুর্ননিধারণের সময় প্রাপ্ত টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল সংযুক্ত করা।
৬. ইতোমধ্যে ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
স্বাস্থ্য সহকারীদের নেতারা আরো জানান, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্ছিত করে কর্মবিরতিতে যেতে চাননি, কর্মকর্তারা তাদের এ অবস্থান ও কর্মবিরতি দিতে বাধ্য করিয়েছেন। নিয়োগবিধিসহ বিভিন্ন দাবীতে পর্যায়ক্রমে আবেদন করা সত্ত্বেও এক একবার এক এক অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে থামিয়ে দিয়েছেন।
তারা বলেন, 'এ পর্যন্ত ৫ বার আমরা কর্মকর্তাদের আশ্রাস ও প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে আমরা তাদের কথা রেখেছি কিন্তু কর্মকর্তারা আমাদেরকে দেওয়া তাদের কথা রাখেনি, কিন্তু এবার আমরা সবাই অনড় অবস্থানে। আমরা বার বার শুধু কর্তৃপক্ষের আশার বাণীই শুনে যাচ্ছি। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এ বার আর আশার বাণীতে বিশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন চাই। আমাদের যৌক্তিক ৬ দফা দাবি জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশ না হওয়ার পর্যন্ত আমাদের এ অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ও কর্মবিরতি চলবে।'
নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতনবৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে শহীদ মিনারে শান্তিপূণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে দিনব্যাপী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে হাজার হাজার স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ব্যানার, ফেষ্টুন ও মনিপাতা নিয়ে অংশ নেন।
এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর সংগঠনটির নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ৬ দফা দাবি বাস্তাবায়ন করে জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশের সময় বেধে দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য সহকারী সাদেকুর রশিদ কিরন বলেন, 'আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরা সরকারী ছুটি ব্যতিত সারা মাস রোদে-বৃষ্টিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে মা ও শিশু রেজিস্টেশন করে টিকা প্রদান করি। এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবায় মাঠ পর্যায় কাজ করে যাচ্ছিন। আমাদের কাজের বিনিময়েই টিকাদানে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।
এ তৃণমুল স্বাস্থ্য সহকারীদের পরিশ্রমের সাফল্যের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন,ভ্যাকসিন হিরোর সম্মাননা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগও হয়েছে বিশেষ সম্মানিত। যাদের কাজের বিনিময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ গর্বিত, আজ তারাই অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার।'
তিনি আরো বলেন, 'আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি আমাদের স্বাস্থ্য সহকারী পদটি টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ বেতন আপগ্রেডেশনের, কিন্ত এ দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক বলে প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়েই দীর্ঘ ২৭ বছর পার করেছেন।'
সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশক মনির হোসেন বলেন, 'দীর্ঘ ২০ বছর পর আমার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে পদোন্নতি হয়েছে।
কিন্তু বেতন বাড়েনি এক পয়সাও। বরং আমার নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায় পদায়ন দিয়েছে। আমার জানা মতে, আমাদের মতো এমন বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো বিভাগ আছে বলে আমার জানা নেই।'
স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবু কালাম বলেন, '৬ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টি হলেও বর্তমানে একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার জনগোষ্ঠি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অথচ সরকারী নিয়ম অনুসারে সেখানে ৫ থেকে ৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োজিত থাকার কথা।
প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০ বছরেও পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে পারেন না। যদিও পদোন্নতি পান তাহলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে আরো কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পায়, যখন চাকরির বয়স বাকী থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। যদিও পদোন্নতি হয় কিন্তু বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। উপরন্তু বদলি করা হয় অন্য জেলা, উপজেলায়।
হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ওয়াসি উদ্দিন রানা জানান, ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাদের বেতনবৈষম্য নিরসন করে টেকনিক্যাল পদমর্যদার দাবি বাস্তবায়নে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর অতিবাহিত হলেও, সে ঘোষণা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
পরে ২০১৬ সালে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগের এক সমাবেশে করে। উক্ত সমাবেশ তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী তাদের দাবি যৌক্তিক বলে ঘোষণা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন কিন্তু তার কোনো ফল স্বাস্থ্য সহকারীরা পাননি।
২০১৭ সালে ৩০ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহারীদের সংগঠন পূনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচী (ইপিআই) বন্ধ রেখে বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেন।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি মেনে নিলে তারা কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পাননি স্বাস্থ্য সহকারীরা।
একই দাবিতে আবারও ২০২০ সালে কর্মসূচিতে গেলে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উক্ত সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন করেনি।
চলতি ২০২৫ সালে আবারও তারা একই দাবি বাস্তবয়নের গত ২৫ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালনকালে উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ৩ মাসের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের দাবি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করলে গত ২৬ জুলাই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ১ মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের সময় বেধে দেন। তবে তা আলোর মুখ দেখেনি এখনও।
পরবর্তীতে স্বাস্থ্য সহকারীরা গেল ১২ অক্টোবর থেকে যে টিসিভি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয় তা সামনে রেখে ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ টিকা কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)ও সদ্য সমাপ্ত হওয়া টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচির সব রিপোর্ট তৈরি ও প্রদান বন্ধ রেখে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি শুরু করে।
এ কর্মবিরতির ফলে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ৬দিন বন্ধ থাকার পর পরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ৬ অক্টোবর মহাখালি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলোচনায় বসে। দাবি বাস্তায়নের আশ্বাসে একমাসের কর্মবিরতি জন্য স্থগিত করা হয়। তাদের আশ্বাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে সারাদেশের প্রায় ৫ কোটি শিশুদের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকা সফল ভাবে সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য সহকারীরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন দেখায়নি। তাই বাধ্য হয়ে ফের কর্মবিরতিও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬ দফা দাবি:
১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমানের যোগ্যতাসংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান।
২. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের ১১তম গ্রেডসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়া।
৩. পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা।
৪. সকল স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শককে প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা।
৫. বেতন স্কেল পুর্ননিধারণের সময় প্রাপ্ত টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল সংযুক্ত করা।
৬. ইতোমধ্যে ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
স্বাস্থ্য সহকারীদের নেতারা আরো জানান, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্ছিত করে কর্মবিরতিতে যেতে চাননি, কর্মকর্তারা তাদের এ অবস্থান ও কর্মবিরতি দিতে বাধ্য করিয়েছেন। নিয়োগবিধিসহ বিভিন্ন দাবীতে পর্যায়ক্রমে আবেদন করা সত্ত্বেও এক একবার এক এক অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে থামিয়ে দিয়েছেন।
তারা বলেন, 'এ পর্যন্ত ৫ বার আমরা কর্মকর্তাদের আশ্রাস ও প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে আমরা তাদের কথা রেখেছি কিন্তু কর্মকর্তারা আমাদেরকে দেওয়া তাদের কথা রাখেনি, কিন্তু এবার আমরা সবাই অনড় অবস্থানে। আমরা বার বার শুধু কর্তৃপক্ষের আশার বাণীই শুনে যাচ্ছি। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এ বার আর আশার বাণীতে বিশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন চাই। আমাদের যৌক্তিক ৬ দফা দাবি জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশ না হওয়ার পর্যন্ত আমাদের এ অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ও কর্মবিরতি চলবে।'

২৫ জুন, ২০২৬ ২২:৩২
টানা ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের (সংযুক্ত) ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুসারে যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী যে তারিখ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সেই তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
বরিশাল টাইমস

২৫ জুন, ২০২৬ ১২:৪৪
বরিশালসহ দেশের ১২ অঞ্চলে বজ্র বৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২২ জুন, ২০২৬ ১৫:০৬
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনীর মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও চট্টগ্রাম।
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এমতাবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
বরিশাল টাইমস
টানা ৮ মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিতির কারণে রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গতকাল বুধবার (২৪ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিষয়টি জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এতে বলা হয়, রাজারবাগ পুলিশ টেলিকমের (সংযুক্ত) ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার গত বছরের ৬ অক্টোবর থেকে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধি অনুসারে যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’ এর পর্যায়ভুক্ত শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ কারণে বিপ্লব বিজয় তালুকদারকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী যে তারিখ থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সেই তারিখ থেকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
বিপ্লব বিজয় তালুকদার ২০০১ সালে ২০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। ২০২৩ সালে তিনি ডিআইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
বরিশাল টাইমস
বরিশালসহ দেশের ১২ অঞ্চলে বজ্র বৃষ্টিসহ ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনীর মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরের জেলাগুলো হলো- নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও চট্টগ্রাম।
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠন কর্তৃক দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এমতাবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষার লক্ষ্যে ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
বরিশাল টাইমস