https://jamunabankbd.com/

সারাদেশ

৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে শহীদ মিনারে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান

বরিশালটাইমস

বরিশালটাইমস

২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৪:১৫

প্রিন্ট এন্ড সেভ

৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে শহীদ মিনারে স্বাস্থ্য সহকারীদের অবস্থান

নিয়োগবিধি সংশোধন, বেতনবৈষম্য নিরসন ও টেকনিক্যাল পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে শহীদ মিনারে শান্তিপূণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল থেকে দিনব্যাপী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে হাজার হাজার স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকরা ব্যানার, ফেষ্টুন ও মনিপাতা নিয়ে অংশ নেন।

এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর সংগঠনটির নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ৬ দফা দাবি বাস্তাবায়ন করে জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশের সময় বেধে দেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য সহকারী সাদেকুর রশিদ কিরন বলেন, 'আমরা স্বাস্থ্য সহকারীরা সরকারী ছুটি ব্যতিত সারা মাস রোদে-বৃষ্টিতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে মা ও শিশু রেজিস্টেশন করে টিকা প্রদান করি। এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির স্বাস্থ্য সেবায় মাঠ পর্যায় কাজ করে যাচ্ছিন। আমাদের কাজের বিনিময়েই টিকাদানে বাংলাদেশ বিশ্বের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।

এ তৃণমুল স্বাস্থ্য সহকারীদের পরিশ্রমের সাফল্যের জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছেন,ভ্যাকসিন হিরোর সম্মাননা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগও হয়েছে বিশেষ সম্মানিত। যাদের কাজের বিনিময়ে স্বাস্থ্য বিভাগ গর্বিত, আজ তারাই অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার।'

তিনি আরো বলেন, 'আমাদের দীর্ঘ দিনের দাবি আমাদের স্বাস্থ্য সহকারী পদটি টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ বেতন আপগ্রেডেশনের, কিন্ত এ দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌক্তিক বলে প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়েই দীর্ঘ ২৭ বছর পার করেছেন।'

সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশক মনির হোসেন বলেন, 'দীর্ঘ ২০ বছর পর আমার সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে পদোন্নতি হয়েছে।

কিন্তু বেতন বাড়েনি এক পয়সাও। বরং আমার নিজ জেলা থেকে অন্য জেলায় পদায়ন দিয়েছে। আমার জানা মতে, আমাদের মতো এমন বৈষম্যের শিকার অন্য কোনো বিভাগ আছে বলে আমার জানা নেই।'

স্বাস্থ্য পরিদর্শক আবু কালাম বলেন, '৬ হাজার জনগোষ্ঠির জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারীর পদ সৃষ্টি হলেও বর্তমানে একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার জনগোষ্ঠি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অথচ সরকারী নিয়ম অনুসারে সেখানে ৫ থেকে ৬ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োজিত থাকার কথা।

প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী, একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০ বছরেও পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে পারেন না। যদিও পদোন্নতি পান তাহলে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হতে আরো কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে এমন সময় পদোন্নতি পায়, যখন চাকরির বয়স বাকী থাকে মাত্র ৫ থেকে ৬ মাস। যদিও পদোন্নতি হয় কিন্তু বেতন বাড়ে না এক পয়সাও। উপরন্তু বদলি করা হয় অন্য জেলা, উপজেলায়।

হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক ওয়াসি উদ্দিন রানা জানান, ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী তাদের বেতনবৈষম্য নিরসন করে টেকনিক্যাল পদমর্যদার দাবি বাস্তবায়নে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ২৭ বছর অতিবাহিত হলেও, সে ঘোষণা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

পরে ২০১৬ সালে ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ হেলথ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগের এক সমাবেশে করে। উক্ত সমাবেশ তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রী তাদের দাবি যৌক্তিক বলে ঘোষণা দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন কিন্তু তার কোনো ফল স্বাস্থ্য সহকারীরা পাননি।

২০১৭ সালে ৩০ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য সহারীদের সংগঠন পূনরায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারিতে দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ রুটিন টিকাদান কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচী (ইপিআই) বন্ধ রেখে বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেন।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দাবি মেনে নিলে তারা কর্মবিরতি স্থগিত ঘোষণা করেন। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পাননি স্বাস্থ্য সহকারীরা।

একই দাবিতে আবারও ২০২০ সালে কর্মসূচিতে গেলে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য সহকারীদের সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উক্ত সভার রেজুলেশনের মাধ্যমে তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন করেনি।

চলতি ২০২৫ সালে আবারও তারা একই দাবি বাস্তবয়নের গত ২৫ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কর্মসূচি পালনকালে উর্ধতন কর্মকর্তাগণ ৩ মাসের মধ্যে তাদের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের দাবি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি।

অবশেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করলে গত ২৬ জুলাই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ১ মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের সময় বেধে দেন। তবে তা আলোর মুখ দেখেনি এখনও।

পরবর্তীতে স্বাস্থ্য সহকারীরা গেল ১২ অক্টোবর থেকে যে টিসিভি ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয় তা সামনে রেখে ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশের ১ লাখ ২০ হাজার আউটরিচ টিকা কেন্দ্রে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)ও সদ্য সমাপ্ত হওয়া টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) কর্মসূচির সব রিপোর্ট তৈরি ও প্রদান বন্ধ রেখে পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি শুরু করে।

এ কর্মবিরতির ফলে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ৬দিন বন্ধ থাকার পর পরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ৬ অক্টোবর মহাখালি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলোচনায় বসে। দাবি বাস্তায়নের আশ্বাসে একমাসের কর্মবিরতি জন্য স্থগিত করা হয়। তাদের আশ্বাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি পর্যায়ে সারাদেশের প্রায় ৫ কোটি শিশুদের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টিকা সফল ভাবে সম্পন্ন করে স্বাস্থ্য সহকারীরা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন দেখায়নি। তাই বাধ্য হয়ে ফের কর্মবিরতিও অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য সহকারীদের ৬ দফা দাবি:

১. নিয়োগবিধি সংশোধন করে স্নাতক বা সমমানের যোগ্যতাসংযুক্ত করে ১৪তম গ্রেড প্রদান।

২. ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা সম্পন্নকারীদের ১১তম গ্রেডসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা দেওয়া।

৩. পদোন্নতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে উচ্চতর গ্রেড নিশ্চিত করা।

৪. সকল স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শককে প্রশিক্ষণ ছাড়াই স্নাতক স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা।

৫. বেতন স্কেল পুর্ননিধারণের সময় প্রাপ্ত টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল সংযুক্ত করা।

৬. ইতোমধ্যে ইন-সার্ভিস ডিপ্লোমা (এসআইটি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

স্বাস্থ্য সহকারীদের নেতারা আরো জানান, তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্ছিত করে কর্মবিরতিতে যেতে চাননি, কর্মকর্তারা তাদের এ অবস্থান ও কর্মবিরতি দিতে বাধ্য করিয়েছেন। নিয়োগবিধিসহ বিভিন্ন দাবীতে পর্যায়ক্রমে আবেদন করা সত্ত্বেও এক একবার এক এক অজুহাতে কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে থামিয়ে দিয়েছেন।

তারা বলেন, 'এ পর্যন্ত ৫ বার আমরা কর্মকর্তাদের আশ্রাস ও প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করে আমরা তাদের কথা রেখেছি কিন্তু কর্মকর্তারা আমাদেরকে দেওয়া তাদের কথা রাখেনি, কিন্তু এবার আমরা সবাই অনড় অবস্থানে। আমরা বার বার শুধু কর্তৃপক্ষের আশার বাণীই শুনে যাচ্ছি। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, এ বার আর আশার বাণীতে বিশ্বাস নয়, বাস্তবায়ন চাই। আমাদের যৌক্তিক ৬ দফা দাবি জিও (প্রজ্ঞাপন) আকারে প্রকাশ না হওয়ার পর্যন্ত আমাদের এ অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ও কর্মবিরতি চলবে।'

আরও পড়ুন:

নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ৯৯ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে সর্বোচ্চ

বরিশালটাইমস

বরিশালটাইমস

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ২০:৪৫

প্রিন্ট এন্ড সেভ

নভেম্বর মাসে ডেঙ্গুতে ৯৯ জনের মৃত্যু, চলতি বছরে সর্বোচ্চ

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে এডিস মশাজনিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৮২ জনের মৃত্যুর তথ্য দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে নভেম্বর মাসে ৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ।

এদিকে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৩৬ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ হাজার ৪০২ জনে।

রবিবার (৩০ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯২ হাজার ২৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুই হাজার ৩৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৮২ জনের। যার মধ্যে নভেম্বর মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৯৯ ডেঙ্গু রোগীর। যা চলতি বছরে এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

গত অক্টোবর মাসে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। আর সেপ্টেম্বরে ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল ডেঙ্গুতে।

এ ছাড়া জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মার্চ ছিল মৃত্যুহীন। এপ্রিলে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও বাড়তে থাকে জুন মাস থেকে।

জুনে ডেঙ্গুতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ৪১ জনে আর আগস্টে মৃত্যু ছিল ৩৯ জনের।

আদালতের সম্মুখে ২ জনকে গুলি করে হত্যা

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:৫২

প্রিন্ট এন্ড সেভ

আদালতের সম্মুখে ২ জনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা আদালতের সামনের গেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত দুইজনের নাম রাজন (২৮) ও আতিক (২৯)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজ রোববার দুপুরে আদালতের সামনে দুইজনকে গুলি করা হয়। তবে তারা আদালতে কেন আসছিলেন তা এখনও নিশ্চত হওয়া যায়নি।

বিস্তারিত আসছে...

এক বুক হতাশা নিয়ে আপনার দল থেকে পদত্যাগ করলাম : এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের নেতা

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

বরিশালটাইমস রিপোর্ট

৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৪৯

প্রিন্ট এন্ড সেভ

এক বুক হতাশা নিয়ে আপনার দল থেকে পদত্যাগ করলাম : এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের নেতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সমন্বয়ক ও এনসিপি নেতা আরিফুল ইসলাম তালুকদার জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন। ২৮ নভেম্বর তিনি দলের আহ্বায়ক বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকের পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার অভিযোগ, দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি এবং বিভিন্ন জায়গায় ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা ও অনিয়মের কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন।

সদস্যসচিব বরাবর তিনি লিখেছেন, ‘আমি আপনার দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির সংগঠকের দায়িত্ব পাই। যদিও পদ-পদবি নিয়ে আমার কোনো পছন্দই ছিল না। কারণ আমি চেয়েছিলাম ২০১৮ এবং ২০২৪-দুটো আন্দোলনের দেশপ্রেমিক তারুণ্যের শক্তি একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে তারুণ্যের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বিনির্মাণ করুক।

একতাবদ্ধ তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিক। সেজন্য নিজের জায়গা থেকে যথাসাধ্য কাজ করেছি। তারুণ্যের দুটো আলোচিত শক্তি একতাবদ্ধ হওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে এসেও কিছু হীনমন্যতা ও অদূরদর্শী আচরণের কাছে পরাজিত হয়ে শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

অন্যদিকে একই প্রেক্ষাপটে উঠে আসা আমাদের দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ বিস্ময়কর রকম অর্থসম্পদের মালিক হয়েছে, যা সাধারণ জনগণসহ জুলাইয়ের সব শরিকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে জুলাইয়ের সম্পূর্ণ অবদান নিজেদের কাছে কুক্ষিগত করেছে।

যার ফলে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয়েছে এবং আমাদের বিপ্লবকে অনেকটাই বিবর্ণ করেছে। যা আমাকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে।

জুলাইয়ের আহতদের প্রকৃত তালিকাকরণে সীমাহীন অবিচার করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের ফলে সৃষ্ট রাষ্ট্রের প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র একটি নির্দিষ্ট বলয় দখল করেছে। সচিবালয়সহ পুরো রাষ্ট্রের ৯০ ভাগেরও বেশি ফ্যাসিবাদী আমলা বহাল রয়েছে।

গণহত্যার বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি, এমনকি গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসর জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের বিষয়ে যথাযথ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আমি বিস্ময়ের সঙ্গে আরো লক্ষ্য করেছি, যে আমলারা গত ৩টি নির্বাচন মাফিয়ার হয়ে করে দিয়েছে—সেই আমলাদের মাধ্যমেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পন্ন। আর এসবের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা হচ্ছে না। এমনকি মাফিয়ার রেখে যাওয়া রাষ্ট্রপতির অধীনেই সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। একের পর এক ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, নিজস্ব বলয়-সৃষ্টি ও দুর্নীতির বিষয়গুলো সামনে আসছে যার দায়ভার আমাকেও নিতে হচ্ছে।

এই কথাগুলো আপনাকে বলছি কারণ, বিপ্লবোত্তর দেশের এই সংকটের দায় পুরোপুরি আপনাদের। অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে যারা বছরের পর বছর জীবন ও ক্যারিয়ার বিসর্জন দিয়ে কাজ করেছে—তাদের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়ার দায়সহ দেশের উদ্ভূত সংকটগুলোর দায় কেবল তাদের যারা অভ্যুত্থানের শক্তি হিসেবে নিজেদের বলয়কে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং অভ্যুত্থানের উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দায়িত্ব আপনাদের হাতেই দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে দায়িত্ব পালনে আপনারা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন, কেননা আপনাদের পছন্দসই উপদেষ্টা পরিষদ বিগত দেড় বছরে ব্যর্থতা ও অনৈক্য ছাড়া বাংলাদেশকে তেমন কিছুই উপহার দিতে পারেনি। আর এই দায় সরাসরি আপনাদের উপরই বর্তায়।

আমি জুলাই বিপ্লবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগগুলো সম্পন্ন করেছিলাম এবং মাফিয়ার পলায়নে সেখানে আমার প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে—যা আপনি জানেন না। আমি বাংলাদেশ এবং তার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধারণ করি। জুলাইকে পণ্য মনে করি না, জুলাইকে অনুভব করি।

আমার মনে হচ্ছে, এনসিপি যেহেতু জুলাইয়ের তারুণ্যের শক্তিকে একত্রিত করতে পারেনি, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করেছে। মূলত দলটি ক্ষমতার জন্যই সব করছে এবং গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাই রক্ষা করছে। আরো একটি বিষয় আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে দেখেছি—আপনার দলটি বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়ে বিস্ময়কর রকম উদাসীন। বর্তমান সময়ে দলটি নিয়ন্ত্রণ করছে এমন একটি বলয় যারা এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের অনুভবকে ধারণ করে না, বরং বিদ্বেষ লালন করে।

উপরোক্ত সব বিষয় পর্যালোচনা করে আমি এই দলের সঙ্গে আমার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার কোনো বিশেষ প্রয়োজন অনুভব করছি না। অতএব দুঃখভরা হৃদয় ও এক বুক হতাশা নিয়ে আপনার দল থেকে পদত্যাগ করলাম।

আমরা যেমন বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছি এবং তারুণ্যের যে রাজনীতি বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখে দেশের জন্য কাজ করেছি—সেটির সম্ভাবনা জাগ্রত হলে ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই আবার একসঙ্গে রাজপথে দেখা হবে।’

custom sidebar ads

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

জনপ্রিয়

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.