তরুণ সাংবাদিক খন্দকার রাকিবকে হত্যাচেষ্টার যে নাটক সাজানো হয়েছিল তা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এখন মূল ঘটনা ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে ঘটনার নায়ক নামধারী সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেন নতুন ছকে এগিয়েছে। উল্টো মূলধারার সাংবাদিক রাকিবসহ তারই সংগঠনের অপর নেতা হাসিবুল ইসলামকে আইনের মাধ্যমে দৌড়ের ওপরে রাখতে সাজিয়ে নতুন এক নাটক। সেক্ষেত্রে আত্মরক্ষায় পাল্টা মামলা দায়ের করার অভিপ্রায়ে হামলার মূলহোতা আল আমিন সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউনিয়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করে। এর আগে আল আমিন সাগরকে গুরুতর আহত দেখিয়ে নাটকীয় কায়দায় ঢাকায় পাঠানো হয়।
বিভিন্ন সূত্রের ধারণা, ০১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাকিবের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে মামলা অবধারিত এবং হুকুমদাতা এসএম জাকিরের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে বিষয়টি খোলসা হলেও বিভিন্ন কায়দায় তাদের প্রভাবিত এবং চাপের মুখে রেখেছে, অন্তত জাকিরকে যেন আসামী না করা হয়। নয়া এই মিশন সফল করতে বরিশাল মিডিয়ার ভগবানরূপী আরেক নেতাকে মাঠে নামানো হয়েছে, যে কিনা প্রথম পদক্ষেপেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে, হচ্ছেন ঢের সমালোচিত।
উল্লেখ্য, এসএম জাকির সাংবাদিক না হলেও ঘটনাচক্রে সাংবাদিকদের একাংশের নেতৃত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-ভূমিদস্যুতা ও প্রতারণার অভিযোগে অন্তত ৫টি মামলাসহ সাতটি সাধারণ ডায়েরির অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যখন কথিত এই সাংবাদিক নেতার অতীত ইতিহাস-ইতিবৃত্ত খুঁজছে, ঠিক তখনই খন্দকার রাকিবকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ, সম্প্রতি জাকিরসহ তার ৬ অনুসারীর বিরুদ্ধে এই তরুণ সাংবাদিক ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে ফিরে আসার সপ্তাহখানের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে যে, রাকিবকে বাগে আনতে একটি উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরিতে এক নারীকে ব্যবহার করা হয়। স্বরোডের বাসিন্দা এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তানিয়া আক্তার নামক ওই নারী একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সেক্ষেত্রেও রয়েছে নাটকীয়তা। ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তানিয়াকে ব্যবহার করে কথিত সাংবাদিক নেতা জাকিরের অনুসারীরা বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ প্রকাশ করলে এই বিষয়ে কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরর উদ্দেশে অভিযোগ দেওয়া হয়। মামলাটি গ্রহণ প্রক্রিয়া, তখন তানিয়াকে জাকিরের এক অনুসারী যে কী না, কোতয়ালি থানা পুলিশের দালাল হিসেবে চিহ্নিত, এক তরুণ কোতয়ালি থানায় ওই মামলাটি দায়ের করতে সহায়তা করে বলে জানা যায়।
তানিয়া জানান, তার এই সিদ্ধান্ত নিজের নয়, অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, বিষয়টি ভুল অনুধাবন করে একই এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের দ্বারস্থ হন সামাজিক কায়দায় ওই তরুণের সাথে আইনগত লড়াই থেকে বিরত থাকতে একটি আপসরফায় যেতে। সেই অনুযায়ী অনুরোধের প্রেক্ষাপটে ১ সেপ্টম্বর সন্ধ্যায় স্বরোডে তানিয়ার বাসার সামনে যান হাসিব।
একটি নির্ভরযোগ সূত্র জানায়, তানিয়ার সাথে হাসিবের সমঝোতা বৈঠকের খবর কোন এক মাধ্যম অবগত হয় এসএম জাকির। তখনই একঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জাকিরের সাথে হাসিবের নীতিগত দ্বন্দ্ব থাকায় পরিকল্পনা ছিল, ওই নারীর ঘরে হাসিব প্রবেশ করা মাত্র চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। সেখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, হাসিবকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সঙ্গত কারণে তারই সংগঠনের নেতা খন্দকার রাকিব ঘটনাস্থলে অবধারিত আসবেন, এমনটি ভেবেই এসএম জাকির তার একদল ক্যাডার বাহিনীকে তানিয়ার বাসার চারপাশে আগেভাগেই অবস্থান ঘটান। পরিকল্পনা মাফিক ঘটেছেও তাই।
হাসিব ষড়যন্ত্রে অবরুদ্ধ, এমন খবরে খন্দকার রাকিব সেখানে একাকী পৌছা মাত্র ওই ক্যাডার বাহিনী তার ওপরে আচমকা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত ক্যাডার বাহিনীর হামলায় রাকিব রক্তাক্ত জখম হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই হামলার ঘটনার সাথে এক মাত্র আল আমিন পলাশপুরের বাসিন্দা এবং জাকিরের মালিকানাধীন পত্রিকায় কর্মরত। বাকি হামলাকারীদের কারও বাড়ি সাহেবেরহাট, আবার কেউ রুপাতলী এবং কাজিরচরের বাসিন্দা। এরা সকলেই জাকিরের চিহ্নিত অনুসারী হিসেবে বরিশালের মিডিয়াসহ সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে কমবেশি পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই মিশনে অংশ নেওয়া যুবকরা ঘটনাস্থলে উচ্চস্বরে জাকিরের সাথে একাধিক দফা সেলফোনে যোগাযোগ রেখে নির্দেশনা নিচ্ছিল এবং প্রতি মুহূর্তের পৌছে দিচ্ছিল।
উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তানিয়া স্বীকার করেন যে, তার বাসায় হাসিবুলের আগমনের হেতু হচ্ছে তার মামলা নিয়ে আলাপচারিতার মাধ্যমে একটি সামাজিক ফয়সালায় যাওয়ার ক্ষেত্রফল তৈরি করা। কিন্তু কিভাবে জাকিরের অনুসরাীরা সেখানে অতি উৎসাহী হয়ে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে তিনিও বিস্মিত। এই ঘটনায় প্রমাণ করে হাসিবকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাকিবকে ঘটনাস্থলে আসতে বাধ্য করা হয়। এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে তাকে হত্যা করে দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভবত পরিকল্পনা ছিল। সেক্ষেত্রে তানিয়া হতে পারতো জাকিরের পরিকল্পনার ‘বলিরপাঠা’।
এই হত্যার মিশনটি ব্যর্থসহ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কার নির্দেশে হামলাকারী স্বরোডে তানিয়ার বাসার সামনে এসেছিল, তা খোলসা হয়ে গেলে বিভিন্ন মহলে জাকিরকে নিয়ে ধিক্কার শুরু হয়। প্রশাসনও বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল, বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে। অন্যদিকে আহত রাকিবের পরিবার হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাকিরকে অভিযুক্ত করে হামলার প্রেক্ষাপটে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে, এই খবর পেয়ে জাকির তার অনুসারী আল আমিন সাগরের ওপর হামলা এবং গুরুতর আহত হয়েছে, এমন নাটক সাজিয়ে তার পরিবারকে ঘটনার পরদিন বুধবার সকালেই কাউনিয়া থানায় পাঠিয়ে একটি এজাহার দায়ের করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আল আমিন সাগরের ওপরেই হামলার উদ্দেশে রাকিবের ঘটনাস্থলে আগমন ঘটে।
দোষারোপ করা হয় হাসিবুল ইসলামকেও। বিষয়টি হাস্যকরে পরিণত হয়।
যে কী না হামলা করল তিনিই উল্টো আহত দেখিয়ে দুই সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে উদ্যোগী হলেন (!) অথচ ঘটনার প্রাক্কালে হাসিব প্রথমে তানিয়া, পরবর্তীতে পুলিশের সাথে সার্বিক ঘটনা নিয়ে আলাপ করছিলেন। অন্যদিকে হামলায় গুরুতর জখম হওয়ায় রাকিব শেবাচিমে তাৎক্ষণিক ভর্তি হতে বাধ্য হন।
তরুণ সাংবাদিক রাকিবের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করতে গিয়ে শেবাচিমের চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত গভীরে পৌঁছে যাওয়ায় তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তবে সুস্থ হয়ে উঠলেও মানসিক ভারসাম্যহীণ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সুতরাং রাকিবের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যখন রাকিবের পরিবার কাউনিয়া থানায় পৌঁছায় এবং এই বিষয়ে একটি এজাহার দাখিল করেন তখন শুরু হয় আর একটি নাটকীয় পর্ব।
একাধিক সূত্র জানায়, আল আমিন সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত এজাহার গ্রহণে কাউনিয়া থানা পুলিশ অনীহা প্রকাশ করলেও তা ছিল অনানুষ্ঠানিক। পরবর্তীতে রাকিবের পক্ষ থেকে জাকিরসহ ৬ অনুসারীকে আসামি করে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরলে কাউনিয়া থানাসহ পুলিশের শীর্ষমহল বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে আগ্রসর হয়। এসময় বরিশাল মিডিয়ার ‘ভগবান’ হিসেবে খ্যাত বিতর্কিত আর এক নেতা হঠাৎ জাকিরের পক্ষালম্বন করে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে নিজের আর্জি তুলে ধরে ইজ্জত রক্ষায় অন্তত এই মুহূর্তে তার সহযোগী আলোচ্চ্য জাকিরকে মামলায় আসামি করা থেকে বিরত রাখতে অনুরোধ রাখে। এতে পুলিশ পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কিন্তু রাকিবের মামলা গ্রহণ আইনসিক্ত বিষয়টি ওই নেতার কাছে উপস্থাপন করলে বুধবার অর্থাৎ গতকাল সন্ধ্যারাতে তিনি হাসিবুল ইসলামের সাথে টেলিফোনে সমঝোতার প্রস্তাব রাখেন।
পক্ষান্তরে হাসিব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বিষয়টি রাকিবের সাথে পরামর্শের অনুরোধ রাখলে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং একপর্যায়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই এসএম জাকিকের মতবাদ পত্রিকা অফিস থেকে তৈরি একটি পুরানো সংবাদ নতুন আদলে তৈরি করে, যার শিরোনামে হাসিব-রাকিবকে জড়িয়ে গল্প-কাহিনীর আদলে তীরবিদ্ধ করে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে ইমেলে পাঠানো হয়। এতে প্রকাশ পেয়ে যায়, বরিশাল মিডিয়ার সেই ‘ভগবান’ নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। হাস্যকর ও নিন্দনীয় বিষয় হলো যেখানে, সময়ের আলো পত্রিকার ব্যুরো চিফ হাসিব ও অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বরিশালক্রাইম নিউজ’র প্রকাশক রাকিব সন্তান সমতুল্য, সেখানে পিতারুপী সেই ‘ভগবান’ কিভাবে দুই উদীয়মাণ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে কি বুঝাতে চেয়েছেন, এবং তার নতুন মিশন কি? তানিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। বরিশাল মিডিয়ার অপরাপর সাংবাদিকরা সহজেই বিষয়টি অনুমান করতে পেরেছেন। তবে সংবাদ প্রকাশ করে হাসিব-রাকিবকে বিতর্কিত করার ‘ভগবান’র সেই মিশনও সফল হয়নি। তার অনুগত অনেক পত্রিকায় প্রেরিত সেই সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
বাস্তবতা বলছে- সমঝোতার বদলে পরিস্থিতি আরও উষ্কে দিয়ে বরিশাল মিডিয়ায় বিভাজন আরও বিস্তৃত ঘটানোর অভিপ্রায় ওই ‘ভগবান’র উদ্দেশই ছিল, হাসিব-রাকিব বিরোধী ওই সংবাদ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর ক্ষেত্রে তার অতিউৎসাহী ভুমিকা।
সূত্র জানায়, দুই সাংবাদিককে নিয়ে চলমান ষড়যন্ত্রের নতুন পর্ব সম্পর্কে পুলিশ-প্রশাসনও অবগত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে নাম প্রকাশে অপরাগতা জানিয়ে একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, পাল্টাপাল্টি মামলা গ্রহণে তারা ইচ্ছুক নন। এখন ঘটনার বাস্তবতা পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তারা কতিপয় মিডিয়ার হুমকি-ধামকির মুখে রয়েছেন বলে আভাস দেন।
সর্বশেষ আজ দুপুরের প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, থানা পুলিশ দ্বারা বিমুখ হওয়ায় সেই ‘ভগবান’র পরামর্শে জাকির ও তার অনুসারীরা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু তানিয়াকে বিভিন্ন প্রলোভন এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে বরিশাল আদালতে মামলা দিতে সেখানকার বারান্দায় সকাল থেকে ঘুরে ফিরছে। লজ্জাস্কর বিষয় হচ্ছে, তানিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি মাদক ব্যবসায়ী। অথচ সেই মাদক ব্যবসায়ী নারীকে নিয়েই মূলধারার বা বিরোধীমতের সাংবাদিকদের আইনী ভাবে শায়েস্তা করতে ‘ভগবান’র এই উদ্যোগ কমবেশি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় কথা উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিকতা এখন কোন পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।
এদিকে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হাসিব-রাকিবের পক্ষে বরিশাল মিডিয়ার বড় একটি অংশ এতদিন মৌন সমর্থন দিয়ে আসলেও এখন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলার চিন্তা ভাবনায় অগ্রসর হয়েছে। সম্ভবত ২/১ দিনের মধ্যেই এই আন্দোলনের ডাক আসতে পারে।’
(‘‘বরিশাল মিডিয়ার ভগবানরুপী এই অনুঘটকের প্রায় তিনযুগ ধরে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি এবং নেতৃত্ব কুক্ষিগত করাসহ তার অতীত কালো অধ্যায় নিয়ে আসছে বিস্তারিত প্রতিবেদন’’)

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩১
বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসাইন নেগাবান মন্টুর একমাত্র পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহানের সাথে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বাবুগঞ্জ শিক্ষা-সামাজিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান পিন্টু সিকদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা আমিনা রহমান সেতুর শুভ বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী ঢাকার রমনা চাইনিজ রেস্তোরাঁয় রোববার (১৬ আগস্ট) এক উৎসবমুখর পরিবেশে উভয় পক্ষের নিকট আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে ওই শুভ বাগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
নববর ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহান উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) সাবজেক্টে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরে বর্তমানে রাজধানীর একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে নবপরিণীতা আমিনা রহমান সেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। সেতু বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজাদ, র্যাব-১'এর উপ-সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান সুমন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ফায়জুল হক মুন্নার আপন ভাগ্নি।
বাগদান অনুষ্ঠানে আগামী ঈদুল আজহার ছুটিতে কনের পিত্রালয়ে তাদের সকল আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসাথে নবদম্পতির সুখময় আগামীর সমৃদ্ধ নতুন জীবনের শুভ সূচনার জন্য উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। #
বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসাইন নেগাবান মন্টুর একমাত্র পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহানের সাথে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বাবুগঞ্জ শিক্ষা-সামাজিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান পিন্টু সিকদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা আমিনা রহমান সেতুর শুভ বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী ঢাকার রমনা চাইনিজ রেস্তোরাঁয় রোববার (১৬ আগস্ট) এক উৎসবমুখর পরিবেশে উভয় পক্ষের নিকট আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে ওই শুভ বাগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
নববর ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহান উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) সাবজেক্টে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরে বর্তমানে রাজধানীর একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে নবপরিণীতা আমিনা রহমান সেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। সেতু বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজাদ, র্যাব-১'এর উপ-সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান সুমন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ফায়জুল হক মুন্নার আপন ভাগ্নি।
বাগদান অনুষ্ঠানে আগামী ঈদুল আজহার ছুটিতে কনের পিত্রালয়ে তাদের সকল আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসাথে নবদম্পতির সুখময় আগামীর সমৃদ্ধ নতুন জীবনের শুভ সূচনার জন্য উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। #

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৯
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’

২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৩৬
তরুণ সাংবাদিক খন্দকার রাকিবকে হত্যাচেষ্টার যে নাটক সাজানো হয়েছিল তা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এখন মূল ঘটনা ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে ঘটনার নায়ক নামধারী সাংবাদিক নেতা এসএম জাকির হোসেন নতুন ছকে এগিয়েছে। উল্টো মূলধারার সাংবাদিক রাকিবসহ তারই সংগঠনের অপর নেতা হাসিবুল ইসলামকে আইনের মাধ্যমে দৌড়ের ওপরে রাখতে সাজিয়ে নতুন এক নাটক। সেক্ষেত্রে আত্মরক্ষায় পাল্টা মামলা দায়ের করার অভিপ্রায়ে হামলার মূলহোতা আল আমিন সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউনিয়া থানায় একটি এজাহার দাখিল করে। এর আগে আল আমিন সাগরকে গুরুতর আহত দেখিয়ে নাটকীয় কায়দায় ঢাকায় পাঠানো হয়।
বিভিন্ন সূত্রের ধারণা, ০১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাকিবের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটে মামলা অবধারিত এবং হুকুমদাতা এসএম জাকিরের সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় এই কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে বিষয়টি খোলসা হলেও বিভিন্ন কায়দায় তাদের প্রভাবিত এবং চাপের মুখে রেখেছে, অন্তত জাকিরকে যেন আসামী না করা হয়। নয়া এই মিশন সফল করতে বরিশাল মিডিয়ার ভগবানরূপী আরেক নেতাকে মাঠে নামানো হয়েছে, যে কিনা প্রথম পদক্ষেপেই তালগোল পাকিয়ে ফেলে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে, হচ্ছেন ঢের সমালোচিত।
উল্লেখ্য, এসএম জাকির সাংবাদিক না হলেও ঘটনাচক্রে সাংবাদিকদের একাংশের নেতৃত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-ভূমিদস্যুতা ও প্রতারণার অভিযোগে অন্তত ৫টি মামলাসহ সাতটি সাধারণ ডায়েরির অস্থিত্ব পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যখন কথিত এই সাংবাদিক নেতার অতীত ইতিহাস-ইতিবৃত্ত খুঁজছে, ঠিক তখনই খন্দকার রাকিবকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ, সম্প্রতি জাকিরসহ তার ৬ অনুসারীর বিরুদ্ধে এই তরুণ সাংবাদিক ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করে ফিরে আসার সপ্তাহখানের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটলো।
একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে যে, রাকিবকে বাগে আনতে একটি উদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরিতে এক নারীকে ব্যবহার করা হয়। স্বরোডের বাসিন্দা এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত তানিয়া আক্তার নামক ওই নারী একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে কোতয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সেক্ষেত্রেও রয়েছে নাটকীয়তা। ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তানিয়াকে ব্যবহার করে কথিত সাংবাদিক নেতা জাকিরের অনুসারীরা বিভিন্ন কায়দায় সংবাদ প্রকাশ করলে এই বিষয়ে কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরর উদ্দেশে অভিযোগ দেওয়া হয়। মামলাটি গ্রহণ প্রক্রিয়া, তখন তানিয়াকে জাকিরের এক অনুসারী যে কী না, কোতয়ালি থানা পুলিশের দালাল হিসেবে চিহ্নিত, এক তরুণ কোতয়ালি থানায় ওই মামলাটি দায়ের করতে সহায়তা করে বলে জানা যায়।
তানিয়া জানান, তার এই সিদ্ধান্ত নিজের নয়, অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, বিষয়টি ভুল অনুধাবন করে একই এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের দ্বারস্থ হন সামাজিক কায়দায় ওই তরুণের সাথে আইনগত লড়াই থেকে বিরত থাকতে একটি আপসরফায় যেতে। সেই অনুযায়ী অনুরোধের প্রেক্ষাপটে ১ সেপ্টম্বর সন্ধ্যায় স্বরোডে তানিয়ার বাসার সামনে যান হাসিব।
একটি নির্ভরযোগ সূত্র জানায়, তানিয়ার সাথে হাসিবের সমঝোতা বৈঠকের খবর কোন এক মাধ্যম অবগত হয় এসএম জাকির। তখনই একঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। জাকিরের সাথে হাসিবের নীতিগত দ্বন্দ্ব থাকায় পরিকল্পনা ছিল, ওই নারীর ঘরে হাসিব প্রবেশ করা মাত্র চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে অবরুদ্ধ করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া। সেখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, হাসিবকে অবরুদ্ধ করে রাখলে সঙ্গত কারণে তারই সংগঠনের নেতা খন্দকার রাকিব ঘটনাস্থলে অবধারিত আসবেন, এমনটি ভেবেই এসএম জাকির তার একদল ক্যাডার বাহিনীকে তানিয়ার বাসার চারপাশে আগেভাগেই অবস্থান ঘটান। পরিকল্পনা মাফিক ঘটেছেও তাই।
হাসিব ষড়যন্ত্রে অবরুদ্ধ, এমন খবরে খন্দকার রাকিব সেখানে একাকী পৌছা মাত্র ওই ক্যাডার বাহিনী তার ওপরে আচমকা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র-সস্ত্রে সজ্জিত ক্যাডার বাহিনীর হামলায় রাকিব রক্তাক্ত জখম হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই হামলার ঘটনার সাথে এক মাত্র আল আমিন পলাশপুরের বাসিন্দা এবং জাকিরের মালিকানাধীন পত্রিকায় কর্মরত। বাকি হামলাকারীদের কারও বাড়ি সাহেবেরহাট, আবার কেউ রুপাতলী এবং কাজিরচরের বাসিন্দা। এরা সকলেই জাকিরের চিহ্নিত অনুসারী হিসেবে বরিশালের মিডিয়াসহ সামাজিক ও প্রশাসনিক মহলে কমবেশি পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, হামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই মিশনে অংশ নেওয়া যুবকরা ঘটনাস্থলে উচ্চস্বরে জাকিরের সাথে একাধিক দফা সেলফোনে যোগাযোগ রেখে নির্দেশনা নিচ্ছিল এবং প্রতি মুহূর্তের পৌছে দিচ্ছিল।
উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে কাউনিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তানিয়া স্বীকার করেন যে, তার বাসায় হাসিবুলের আগমনের হেতু হচ্ছে তার মামলা নিয়ে আলাপচারিতার মাধ্যমে একটি সামাজিক ফয়সালায় যাওয়ার ক্ষেত্রফল তৈরি করা। কিন্তু কিভাবে জাকিরের অনুসরাীরা সেখানে অতি উৎসাহী হয়ে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে তিনিও বিস্মিত। এই ঘটনায় প্রমাণ করে হাসিবকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাকিবকে ঘটনাস্থলে আসতে বাধ্য করা হয়। এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে তাকে হত্যা করে দায়ভার অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভবত পরিকল্পনা ছিল। সেক্ষেত্রে তানিয়া হতে পারতো জাকিরের পরিকল্পনার ‘বলিরপাঠা’।
এই হত্যার মিশনটি ব্যর্থসহ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কার নির্দেশে হামলাকারী স্বরোডে তানিয়ার বাসার সামনে এসেছিল, তা খোলসা হয়ে গেলে বিভিন্ন মহলে জাকিরকে নিয়ে ধিক্কার শুরু হয়। প্রশাসনও বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল, বিভিন্ন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে। অন্যদিকে আহত রাকিবের পরিবার হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনাকারী হিসেবে জাকিরকে অভিযুক্ত করে হামলার প্রেক্ষাপটে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে, এই খবর পেয়ে জাকির তার অনুসারী আল আমিন সাগরের ওপর হামলা এবং গুরুতর আহত হয়েছে, এমন নাটক সাজিয়ে তার পরিবারকে ঘটনার পরদিন বুধবার সকালেই কাউনিয়া থানায় পাঠিয়ে একটি এজাহার দায়ের করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আল আমিন সাগরের ওপরেই হামলার উদ্দেশে রাকিবের ঘটনাস্থলে আগমন ঘটে।
দোষারোপ করা হয় হাসিবুল ইসলামকেও। বিষয়টি হাস্যকরে পরিণত হয়।
যে কী না হামলা করল তিনিই উল্টো আহত দেখিয়ে দুই সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে উদ্যোগী হলেন (!) অথচ ঘটনার প্রাক্কালে হাসিব প্রথমে তানিয়া, পরবর্তীতে পুলিশের সাথে সার্বিক ঘটনা নিয়ে আলাপ করছিলেন। অন্যদিকে হামলায় গুরুতর জখম হওয়ায় রাকিব শেবাচিমে তাৎক্ষণিক ভর্তি হতে বাধ্য হন।
তরুণ সাংবাদিক রাকিবের স্বাস্থ্যগত বিষয় নিয়ে মত প্রকাশ করতে গিয়ে শেবাচিমের চিকিৎসকেরা জানান, মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত গভীরে পৌঁছে যাওয়ায় তিনি এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তবে সুস্থ হয়ে উঠলেও মানসিক ভারসাম্যহীণ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সুতরাং রাকিবের পক্ষ থেকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যখন রাকিবের পরিবার কাউনিয়া থানায় পৌঁছায় এবং এই বিষয়ে একটি এজাহার দাখিল করেন তখন শুরু হয় আর একটি নাটকীয় পর্ব।
একাধিক সূত্র জানায়, আল আমিন সাগরের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়েরকৃত এজাহার গ্রহণে কাউনিয়া থানা পুলিশ অনীহা প্রকাশ করলেও তা ছিল অনানুষ্ঠানিক। পরবর্তীতে রাকিবের পক্ষ থেকে জাকিরসহ ৬ অনুসারীকে আসামি করে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরলে কাউনিয়া থানাসহ পুলিশের শীর্ষমহল বিষয়টি আমলে নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিতে আগ্রসর হয়। এসময় বরিশাল মিডিয়ার ‘ভগবান’ হিসেবে খ্যাত বিতর্কিত আর এক নেতা হঠাৎ জাকিরের পক্ষালম্বন করে প্রশাসনের শীর্ষস্তরে নিজের আর্জি তুলে ধরে ইজ্জত রক্ষায় অন্তত এই মুহূর্তে তার সহযোগী আলোচ্চ্য জাকিরকে মামলায় আসামি করা থেকে বিরত রাখতে অনুরোধ রাখে। এতে পুলিশ পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। কিন্তু রাকিবের মামলা গ্রহণ আইনসিক্ত বিষয়টি ওই নেতার কাছে উপস্থাপন করলে বুধবার অর্থাৎ গতকাল সন্ধ্যারাতে তিনি হাসিবুল ইসলামের সাথে টেলিফোনে সমঝোতার প্রস্তাব রাখেন।
পক্ষান্তরে হাসিব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বিষয়টি রাকিবের সাথে পরামর্শের অনুরোধ রাখলে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন এবং একপর্যায়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণ পরেই এসএম জাকিকের মতবাদ পত্রিকা অফিস থেকে তৈরি একটি পুরানো সংবাদ নতুন আদলে তৈরি করে, যার শিরোনামে হাসিব-রাকিবকে জড়িয়ে গল্প-কাহিনীর আদলে তীরবিদ্ধ করে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজে ইমেলে পাঠানো হয়। এতে প্রকাশ পেয়ে যায়, বরিশাল মিডিয়ার সেই ‘ভগবান’ নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে। হাস্যকর ও নিন্দনীয় বিষয় হলো যেখানে, সময়ের আলো পত্রিকার ব্যুরো চিফ হাসিব ও অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘বরিশালক্রাইম নিউজ’র প্রকাশক রাকিব সন্তান সমতুল্য, সেখানে পিতারুপী সেই ‘ভগবান’ কিভাবে দুই উদীয়মাণ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে কি বুঝাতে চেয়েছেন, এবং তার নতুন মিশন কি? তানিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। বরিশাল মিডিয়ার অপরাপর সাংবাদিকরা সহজেই বিষয়টি অনুমান করতে পেরেছেন। তবে সংবাদ প্রকাশ করে হাসিব-রাকিবকে বিতর্কিত করার ‘ভগবান’র সেই মিশনও সফল হয়নি। তার অনুগত অনেক পত্রিকায় প্রেরিত সেই সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
বাস্তবতা বলছে- সমঝোতার বদলে পরিস্থিতি আরও উষ্কে দিয়ে বরিশাল মিডিয়ায় বিভাজন আরও বিস্তৃত ঘটানোর অভিপ্রায় ওই ‘ভগবান’র উদ্দেশই ছিল, হাসিব-রাকিব বিরোধী ওই সংবাদ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর ক্ষেত্রে তার অতিউৎসাহী ভুমিকা।
সূত্র জানায়, দুই সাংবাদিককে নিয়ে চলমান ষড়যন্ত্রের নতুন পর্ব সম্পর্কে পুলিশ-প্রশাসনও অবগত হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে নাম প্রকাশে অপরাগতা জানিয়ে একজন শীর্ষ কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানান, পাল্টাপাল্টি মামলা গ্রহণে তারা ইচ্ছুক নন। এখন ঘটনার বাস্তবতা পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তারা কতিপয় মিডিয়ার হুমকি-ধামকির মুখে রয়েছেন বলে আভাস দেন।
সর্বশেষ আজ দুপুরের প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, থানা পুলিশ দ্বারা বিমুখ হওয়ায় সেই ‘ভগবান’র পরামর্শে জাকির ও তার অনুসারীরা ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু তানিয়াকে বিভিন্ন প্রলোভন এবং আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজেদের অনুকুলে নিয়ে বরিশাল আদালতে মামলা দিতে সেখানকার বারান্দায় সকাল থেকে ঘুরে ফিরছে। লজ্জাস্কর বিষয় হচ্ছে, তানিয়া নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি মাদক ব্যবসায়ী। অথচ সেই মাদক ব্যবসায়ী নারীকে নিয়েই মূলধারার বা বিরোধীমতের সাংবাদিকদের আইনী ভাবে শায়েস্তা করতে ‘ভগবান’র এই উদ্যোগ কমবেশি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় কথা উঠেছে স্থানীয় সাংবাদিকতা এখন কোন পর্যায়ে নামিয়ে দিয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।
এদিকে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হাসিব-রাকিবের পক্ষে বরিশাল মিডিয়ার বড় একটি অংশ এতদিন মৌন সমর্থন দিয়ে আসলেও এখন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তোলার চিন্তা ভাবনায় অগ্রসর হয়েছে। সম্ভবত ২/১ দিনের মধ্যেই এই আন্দোলনের ডাক আসতে পারে।’
(‘‘বরিশাল মিডিয়ার ভগবানরুপী এই অনুঘটকের প্রায় তিনযুগ ধরে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি এবং নেতৃত্ব কুক্ষিগত করাসহ তার অতীত কালো অধ্যায় নিয়ে আসছে বিস্তারিত প্রতিবেদন’’)
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৬
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৮