
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৪২
এবার কী নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়লেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সরকার দলীয় সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রাসাঙ্গিক বিষয়-বস্তু নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসে দাড়িয়েছে, এক বিধবা নারীর সাথে এই সাংসদের ২৭ আগস্ট কী ঘটেছিল? ঘটনাস্থল স্থানীয় ডাকবাংলোর সম্মুখে এই কাহিনী নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করে বরিশাল আদালতে আসা ওই নারী।
চল্লিশের কোঠায় পা ফেলা মরিয়ম বেগম গতকাল সোমবার আদালতে আইনের আশ্রয় নিতে এসে দিক-বেদিক ছোটাছুটি করায় সংবাদকর্মীরা তার আগমনের হেতু জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেন, সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা করতে এসেছেন। তার অভিযোগ, পঙ্কজ স্থানীয় সাংসদ হয়ে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এক ধরনের প্রতারণা করেছেন।
তিনি বসতঘর নির্মাণে সরকারী বরাদ্দের টিন দেই, দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপন করেন। পরে টিন নয়, আর্থিক সহায়তা চাইলে সেক্ষেত্রেও অভিন্ন আচারণ করেন। এমনকি কোন প্রকার সহায়তা না দিয়ে সাংসদ প্রচার করেন যে তাকে চাহিদা অনুযায়ী ঘরের টিন ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই খবরে ক্ষুব্ধ নারী গত ২৭ আগস্ট মেহেন্দিগঞ্জে সাংসদের আগমনের খবর পেয়ে ডাকবাংলোয় ছুটে যান। এসময় সাংসদ ডাকবাংলোর সামনের প্রাইভেটকারে অবস্থান করছিলেন, একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য। এক ফাঁকে ভীর ঠেলে ওই নারী সাংসদের কাছে প্রশ্ন তোলেন তার সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে উল্টো কেন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রতিত্তোরে সাংসদ তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পরে দেখা করার পরামর্শ দেন কিছুটা উত্তেজিত ভাষায়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মরিয়ম বেগম। একপর্যায়ে তার গাড়ির ওপর কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। সাংসদ অনুসারী ছাত্র-যুব-সেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ ওই নারীকে টেনে হিচড়ে স্থান ত্যাগে বাধ্য করতে উদ্যোগী হয়।
মরিয়মের অভিযোগ, এসময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, এই মর্মে যে সাংসদের গাড়ির ওপর তিনি না কী জুতো নিক্ষেপ করেছেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত থানা পুলিশ কোন ভুমিকা না নিয়ে বরং তাকে স্থান ত্যাগে বাধ্য করেন। মেহেন্দিগঞ্জ থানায় সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা পাওয়া সম্ভব নয় বিধায় তিনি বরিশালে নালিশ জানাতে এসেছেন। সোমবার দুপুরের দিকে মামলার কপি ওই নারী সংবাদকর্মীদের আলাপের এক ফাঁকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরে খবর রটে যে মেহেন্দিগঞ্জের সাংসদের বিরুদ্ধে এক বিধবা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বিকেল থেকে গভীর রাত অবধি সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হতে চায়। পরে জানা গেল এ ধরনের মামলা হয়নি, তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের হতে পারে। সেক্ষেত্রে এমপি পঙ্কজ দেবনাথকে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করলেও আসামি না করে তার অনুসারী ৬ জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্য সংবাকর্মীদের কাছে মরিয়ম বেগমের ভাষ্য ছিল, এতে মুখ্য ভুমিকায় ছিলেন পৌর সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমু হোসেন
এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় এই নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডাকবাংলোয় কিছুই ঘটেনি। আবার ঘটলেও তিনি সে বিষয়ে অবগত নন। তবে ওইদিন (২৭ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় আরসি কলেজের সম্মুখে মরিয়ম বেগম সাংসদ পঙ্কজের গাড়ি আগলে ধরেছিলেন একটি ডিওলেটারে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। সাংসদ ব্যস্ত থাকায় পরে আসতে বললে নাছড়বান্দা কোনভাবেই স্থান ত্যাগে রাজি না হওয়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন।
কিন্তু সাংসদ পঙ্কজ এ তথ্য নাকচ করে দিয়ে বলেন, ডাকবাংলোতো দুরের কথা আরসি কলেজের সামনে কোন নারীর সাথে তার কোনরুপ বসচা হয়নি। অবশ্য ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার তথ্যমতে সেখানে উপস্থিত থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দিন যে তথ্য-উপাত্ত্ব দেন, তাতে প্রমাণ করে ওইদিন কিছু একটা ঘটেছে। তবে তা আরসি কলেজ সম্মুখে নয়, ডাকবাংলোর গেটে এক বিধবা নারী সহায়তা চেয়ে না পেয়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়েছিল। পরে তিনি অর্থায়নে অটোরিকশায় তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করেন।
ফলে তিনজনের ত্রিমুখী বক্তব্যের গড়মিল থাকলেও যে যোগফল দেখা যায়, তাতে মরিয়ম বেগমের অভিযোগ অমুলক নয়। মেহেন্দিগঞ্জ আ’লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত এমন অনেকে রয়েছেন, যাদের অনেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবার কেউ শুনেছেন। কিন্তু পরিস্থিতিগত কারণে নিজেদের নাম প্রকাশতো দুরের কথা, প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে অপারগতা জানিয়ে অন্য মাধ্যমে খবর নিশ্চিত হওয়ায় পরামর্শ দেন।
এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই মরিয়ম বেগমের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বলে এ প্রতিবেদকের কাছে মন্তব্য প্রকাশ করে তারা ঘটনার আরও গভীরে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ-খবর রাখছিলেন সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কী না। ওই গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা মরিয়ম বেগমের সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন, তিনি বরিশালে এসেছিলেন। কিন্তু দুপুর নাগাদ ফিরে গেছেন। তবে মামলা দায়ের করেছে কী না শেষান্তে তা আর জানা সম্ভব হয়নি মরিয়মের সেলফোন বন্ধ থাকায়।
মেহেন্দিগঞ্জের স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২৭ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ১টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বিস্তৃতি ঘটলেও সবাই যেন সতর্ক, কেউ না শোনে প্রাসঙ্গিক আলাপ। এদিকে পঙ্কজের অনুসারীরা এখন বলছে, ওই বিধবা নারী মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ায় এ ধরনের বহু কান্ড-কারখানা ঘটিয়েছে। কিন্তু মরিয়নের ভগ্নিপতি স্থানীয় কাজী হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন জানান, তিনি বিকারাগ্রস্ত একথা সঠিক নয়। স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মরিয়ম মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পরে এক কণ্যাসন্তান নিয়ে পৌর এলাকার চরহোগলায় জরাজীর্ণ বাসায় বসবাস করছেন।
পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে এরুপ নির্যাতনের অভিযোগ ইতিপূর্বেও উঠেছিল। মরিয়ম বেগমের ন্যায় নিজ দলীয় সমর্থিত একজন নরসুন্দরের সাথে দলীয় বিবাদে তাকে ডাকবাংলোয় পিটিয়ে আহত করে। এর আগে সেই নরসুন্দরকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনা নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি।
এছাড়া স্থানীয় ভাবে দলকে কুক্ষিগত করাসহ রাজধানী ঢাকায় ক্যাসিনো কান্ডে সম্পৃক্ততা এবং অল্পদিনে অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। ধারণা করা হচ্ছে- এসব অভিযোগের কারণে পঙ্কজ কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন। এই সাংসদ বিতর্ক অবসানে বরিশাল থেকে মিডিয়াকর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় মেহেন্দিগঞ্জে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্যে সেদিনকার তার ভাষ্য ছিল, তিনি দলীয় বিভাজনের রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার। যেমনটি গতকালও বললেন, মরিয়ম প্রসঙ্গে অভিযোগের উত্তর সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে।
এবার কী নারী কেলেংকারীতে জড়িয়ে পড়লেন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের সরকার দলীয় সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রাসাঙ্গিক বিষয়-বস্তু নিয়ে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসে দাড়িয়েছে, এক বিধবা নারীর সাথে এই সাংসদের ২৭ আগস্ট কী ঘটেছিল? ঘটনাস্থল স্থানীয় ডাকবাংলোর সম্মুখে এই কাহিনী নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি করে বরিশাল আদালতে আসা ওই নারী।
চল্লিশের কোঠায় পা ফেলা মরিয়ম বেগম গতকাল সোমবার আদালতে আইনের আশ্রয় নিতে এসে দিক-বেদিক ছোটাছুটি করায় সংবাদকর্মীরা তার আগমনের হেতু জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেন, সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে মামলা করতে এসেছেন। তার অভিযোগ, পঙ্কজ স্থানীয় সাংসদ হয়ে তার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এক ধরনের প্রতারণা করেছেন।
তিনি বসতঘর নির্মাণে সরকারী বরাদ্দের টিন দেই, দিচ্ছি বলে সময়ক্ষেপন করেন। পরে টিন নয়, আর্থিক সহায়তা চাইলে সেক্ষেত্রেও অভিন্ন আচারণ করেন। এমনকি কোন প্রকার সহায়তা না দিয়ে সাংসদ প্রচার করেন যে তাকে চাহিদা অনুযায়ী ঘরের টিন ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই খবরে ক্ষুব্ধ নারী গত ২৭ আগস্ট মেহেন্দিগঞ্জে সাংসদের আগমনের খবর পেয়ে ডাকবাংলোয় ছুটে যান। এসময় সাংসদ ডাকবাংলোর সামনের প্রাইভেটকারে অবস্থান করছিলেন, একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য। এক ফাঁকে ভীর ঠেলে ওই নারী সাংসদের কাছে প্রশ্ন তোলেন তার সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে উল্টো কেন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রতিত্তোরে সাংসদ তাকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পরে দেখা করার পরামর্শ দেন কিছুটা উত্তেজিত ভাষায়। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মরিয়ম বেগম। একপর্যায়ে তার গাড়ির ওপর কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। সাংসদ অনুসারী ছাত্র-যুব-সেচ্ছাসেবকলীগের নেতৃবৃন্দ ওই নারীকে টেনে হিচড়ে স্থান ত্যাগে বাধ্য করতে উদ্যোগী হয়।
মরিয়মের অভিযোগ, এসময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে, এই মর্মে যে সাংসদের গাড়ির ওপর তিনি না কী জুতো নিক্ষেপ করেছেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত থানা পুলিশ কোন ভুমিকা না নিয়ে বরং তাকে স্থান ত্যাগে বাধ্য করেন। মেহেন্দিগঞ্জ থানায় সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে আইনী সহায়তা পাওয়া সম্ভব নয় বিধায় তিনি বরিশালে নালিশ জানাতে এসেছেন। সোমবার দুপুরের দিকে মামলার কপি ওই নারী সংবাদকর্মীদের আলাপের এক ফাঁকে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। পরে খবর রটে যে মেহেন্দিগঞ্জের সাংসদের বিরুদ্ধে এক বিধবা আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বিকেল থেকে গভীর রাত অবধি সংবাদকর্মীরা বিভিন্ন মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হতে চায়। পরে জানা গেল এ ধরনের মামলা হয়নি, তবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আজ মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের হতে পারে। সেক্ষেত্রে এমপি পঙ্কজ দেবনাথকে নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করলেও আসামি না করে তার অনুসারী ৬ জনের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ আনা হয়েছে। অবশ্য সংবাকর্মীদের কাছে মরিয়ম বেগমের ভাষ্য ছিল, এতে মুখ্য ভুমিকায় ছিলেন পৌর সেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমু হোসেন
এ প্রসঙ্গে গতকাল সন্ধ্যায় এই নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ডাকবাংলোয় কিছুই ঘটেনি। আবার ঘটলেও তিনি সে বিষয়ে অবগত নন। তবে ওইদিন (২৭ আগস্ট) দুপুরে স্থানীয় আরসি কলেজের সম্মুখে মরিয়ম বেগম সাংসদ পঙ্কজের গাড়ি আগলে ধরেছিলেন একটি ডিওলেটারে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। সাংসদ ব্যস্ত থাকায় পরে আসতে বললে নাছড়বান্দা কোনভাবেই স্থান ত্যাগে রাজি না হওয়ায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে অটোরিকশায় উঠিয়ে দেন।
কিন্তু সাংসদ পঙ্কজ এ তথ্য নাকচ করে দিয়ে বলেন, ডাকবাংলোতো দুরের কথা আরসি কলেজের সামনে কোন নারীর সাথে তার কোনরুপ বসচা হয়নি। অবশ্য ওই সেচ্ছাসেবকলীগ নেতার তথ্যমতে সেখানে উপস্থিত থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাছির উদ্দিন যে তথ্য-উপাত্ত্ব দেন, তাতে প্রমাণ করে ওইদিন কিছু একটা ঘটেছে। তবে তা আরসি কলেজ সম্মুখে নয়, ডাকবাংলোর গেটে এক বিধবা নারী সহায়তা চেয়ে না পেয়ে কিছুটা উত্তেজিত হয়েছিল। পরে তিনি অর্থায়নে অটোরিকশায় তুলে দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য করেন।
ফলে তিনজনের ত্রিমুখী বক্তব্যের গড়মিল থাকলেও যে যোগফল দেখা যায়, তাতে মরিয়ম বেগমের অভিযোগ অমুলক নয়। মেহেন্দিগঞ্জ আ’লীগ রাজনীতির সাথে জড়িত এমন অনেকে রয়েছেন, যাদের অনেকে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবার কেউ শুনেছেন। কিন্তু পরিস্থিতিগত কারণে নিজেদের নাম প্রকাশতো দুরের কথা, প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে অপারগতা জানিয়ে অন্য মাধ্যমে খবর নিশ্চিত হওয়ায় পরামর্শ দেন।
এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থা ওই মরিয়ম বেগমের অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পেয়েছে বলে এ প্রতিবেদকের কাছে মন্তব্য প্রকাশ করে তারা ঘটনার আরও গভীরে যাওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ-খবর রাখছিলেন সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কী না। ওই গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা মরিয়ম বেগমের সাথে সেলফোনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হন, তিনি বরিশালে এসেছিলেন। কিন্তু দুপুর নাগাদ ফিরে গেছেন। তবে মামলা দায়ের করেছে কী না শেষান্তে তা আর জানা সম্ভব হয়নি মরিয়মের সেলফোন বন্ধ থাকায়।
মেহেন্দিগঞ্জের স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২৭ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২ থেকে ১টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বিস্তৃতি ঘটলেও সবাই যেন সতর্ক, কেউ না শোনে প্রাসঙ্গিক আলাপ। এদিকে পঙ্কজের অনুসারীরা এখন বলছে, ওই বিধবা নারী মানসিক বিকারগ্রস্ত হওয়ায় এ ধরনের বহু কান্ড-কারখানা ঘটিয়েছে। কিন্তু মরিয়নের ভগ্নিপতি স্থানীয় কাজী হিসেবে পরিচিত রুহুল আমিন জানান, তিনি বিকারাগ্রস্ত একথা সঠিক নয়। স্বামী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর মরিয়ম মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পরে এক কণ্যাসন্তান নিয়ে পৌর এলাকার চরহোগলায় জরাজীর্ণ বাসায় বসবাস করছেন।
পঙ্কজ দেবনাথের বিরুদ্ধে এরুপ নির্যাতনের অভিযোগ ইতিপূর্বেও উঠেছিল। মরিয়ম বেগমের ন্যায় নিজ দলীয় সমর্থিত একজন নরসুন্দরের সাথে দলীয় বিবাদে তাকে ডাকবাংলোয় পিটিয়ে আহত করে। এর আগে সেই নরসুন্দরকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনা নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি।
এছাড়া স্থানীয় ভাবে দলকে কুক্ষিগত করাসহ রাজধানী ঢাকায় ক্যাসিনো কান্ডে সম্পৃক্ততা এবং অল্পদিনে অঢেল সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। ধারণা করা হচ্ছে- এসব অভিযোগের কারণে পঙ্কজ কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন। এই সাংসদ বিতর্ক অবসানে বরিশাল থেকে মিডিয়াকর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় মেহেন্দিগঞ্জে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্যে সেদিনকার তার ভাষ্য ছিল, তিনি দলীয় বিভাজনের রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার। যেমনটি গতকালও বললেন, মরিয়ম প্রসঙ্গে অভিযোগের উত্তর সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে।

০৭ মার্চ, ২০২৬ ২১:৩৫
‘সার্জেন্ট’ পদে জনবল নিয়োগে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। যা চলবে ২ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ;
পদের নাম: সার্জেন্ট;
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়;
চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী);
বেতন: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০);
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন;
প্রার্থীর বয়স: সাধারণ প্রার্থীদের ১৯ থেকে ২৭ বছর (২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে)। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য;
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন;
শিক্ষাগত যোগ্যতা—
অন্যূন স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষ হতে হবে;
*কম্পিউটারে কাজের দক্ষতা থাকতে হবে;
বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়) এবং শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে;
শারীরিক যোগ্যতা—
উচ্চতা (পুরুষ): ন্যূনতম ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭২৭২ মিটার) হতে হবে;
বুকের মাপ: স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি হতে হবে;
উচ্চতা (নারী): ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬২৫৬ মিটার) হতে হবে;
আবেদন যেভাবে—
আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন;
আবেদনের শেষ তারিখ: আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট;

‘সার্জেন্ট’ পদে জনবল নিয়োগে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। যা চলবে ২ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ পুলিশ;
পদের নাম: সার্জেন্ট;
পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়;
চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন (স্থায়ী);
বেতন: ১৬,০০০-৩৮,৬৪০ টাকা (গ্রেড-১০);
অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাপ্য হবেন;
প্রার্থীর বয়স: সাধারণ প্রার্থীদের ১৯ থেকে ২৭ বছর (২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে)। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর পর্যন্ত শিথিলযোগ্য;
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদন করতে পারবেন;
শিক্ষাগত যোগ্যতা—
অন্যূন স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে;
মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষ হতে হবে;
*কম্পিউটারে কাজের দক্ষতা থাকতে হবে;
বৈবাহিক অবস্থা: প্রার্থীকে অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে (তালাকপ্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য নয়) এবং শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত অবিবাহিত থাকতে হবে;
শারীরিক যোগ্যতা—
উচ্চতা (পুরুষ): ন্যূনতম ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি (১.৭২৭২ মিটার) হতে হবে;
বুকের মাপ: স্বাভাবিক অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৪ ইঞ্চি হতে হবে;
উচ্চতা (নারী): ন্যূনতম ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি (১.৬২৫৬ মিটার) হতে হবে;
আবেদন যেভাবে—
আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে সংশ্লিষ্ট পদে আবেদন করতে পারবেন;
আবেদনের শেষ তারিখ: আগামী ২ এপ্রিল ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট;


২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৫৫
ছোটপর্দার চলতি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অভিনেতার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ খবর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেও।
আলভী বলেন, ‘আমি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছি। কী কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছে, ঠিক জানি না। খবরটি পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানের জন্য চিন্তা হচ্ছে।’
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর পারিবারিক আয়োজনে ইকরাকে বিয়ে করেন আলভী। এরই মধ্যে তাদের ভালোবাসার সংসার ১৫ বছর পার করেছে।
কয়েক বছর ধরে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর প্রেমের গুঞ্জন চলছে। যদিও বরাবর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা। খবর রয়েছে, তিথিকে ঘিরেই অভিনেতার সংসারে অশান্তি।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ছিল তিথির জন্মদিন। এদিন অভিনেত্রীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে আলভী ফেসবুকে লিখেন, ‘শুভ জন্মদিন নায়িকা। জীবনে আরও অনেক দূর যেতে হবে। তুমি আমার দেখা এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট ও পছন্দেরও। তোমার পরিশ্রম তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেই। সহজ, সরল-সুন্দর হোক তোমার জীবন।’
এর পরের দিনই এলো যাহের আলভীর স্ত্রীর ইকরার আত্মহত্যার খবর। এই মুহূর্তে নেপালে আলভীর সঙ্গে তিথি অবস্থান করছেন।
এই অভিনেতার ক্যারিয়ারের সূচনা ২০১২ সালে। এই সময়ে ছোটপর্দায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন আলভী।
ছোটপর্দার চলতি সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই অভিনেতার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে। এ খবর দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা নিজেও।
আলভী বলেন, ‘আমি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছি। কী কারণে ইকরা আত্মহত্যা করেছে, ঠিক জানি না। খবরটি পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। আমার একমাত্র সন্তানের জন্য চিন্তা হচ্ছে।’
২০১০ সালের ৯ নভেম্বর পারিবারিক আয়োজনে ইকরাকে বিয়ে করেন আলভী। এরই মধ্যে তাদের ভালোবাসার সংসার ১৫ বছর পার করেছে।
কয়েক বছর ধরে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে আলভীর প্রেমের গুঞ্জন চলছে। যদিও বরাবর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তারা। খবর রয়েছে, তিথিকে ঘিরেই অভিনেতার সংসারে অশান্তি।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ছিল তিথির জন্মদিন। এদিন অভিনেত্রীর সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করে আলভী ফেসবুকে লিখেন, ‘শুভ জন্মদিন নায়িকা। জীবনে আরও অনেক দূর যেতে হবে। তুমি আমার দেখা এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে পরিশ্রমী কো-আর্টিস্ট ও পছন্দেরও। তোমার পরিশ্রম তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেই। সহজ, সরল-সুন্দর হোক তোমার জীবন।’
এর পরের দিনই এলো যাহের আলভীর স্ত্রীর ইকরার আত্মহত্যার খবর। এই মুহূর্তে নেপালে আলভীর সঙ্গে তিথি অবস্থান করছেন।
এই অভিনেতার ক্যারিয়ারের সূচনা ২০১২ সালে। এই সময়ে ছোটপর্দায় বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন আলভী।

৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০০
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিছে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা। হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)। হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, জিকির আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ করা, মিলাদ শরিফ, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে।এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকল মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ।
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের ওপর দয়া ও ক্ষমার কেবল অসিলা তালাশ করেন, যেকোনো পথেই হোক ক্ষমা করার বাহানা খোঁজেন। তাই দয়াময় আল্লাহ তায়ালা তাঁর গুনাহগার বান্দাদের ক্ষমা করার জন্য বিভিন্ন স্থান ও সময়-সুযোগ বাতলে দিয়েছেন, যাতে বান্দা নিজ কৃতকর্মে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দেবেন।
সেসব সময়ের একটি হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যাকে আমাদের প্রচলিত ভাষায় শবে বরাত বলা হয়। কোরআনুল কারিমের ভাষায় একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’ বা বরকতময় রাত, আর হাদিস শরিফে এটি ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ বলে উল্লেখ রয়েছে।
আমাদের বর্তমান সমাজে মানুষ পক্ষান্তরে বিরোধিতা করতে গিয়ে শবে বরাতের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করে বসেছে এবং তারা এ রাতের কোনো বৈশিষ্ট্যই মানে না; বরং এ রাতের সব কিছুকেই বিদআত বলে থাকে। বাস্তবে এ দলটিও ভ্রষ্টতায় রয়েছে, কেননা শবে বরাতের একাধিক ফজিলত, তাৎপর্য ও বিভিন্ন করণীয় কোরআনুল কারিমে ও সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। নিছে অতি সংক্ষেপে এর বিবরণ পেশ করা হলো।
ক্ষমা ও রহমতের রজনী শবে বরাত হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক-বিদ্বেষী লোক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান, হা. ৫৬৬৫, আল মু’জামুল কাবীর ২০/১০৯, শুআবুল ইমান, হা. ৬৬২৮)।
অষ্টম শতাব্দীর যুগশ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) বলেন, হাদিসটির সূত্রের সব বর্ণনাকারী ‘নির্ভরযোগ্য’। (মাজমাউজ জাওয়াইদ ৮/৬৫)।
এছাড়া এ মর্মে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.), আলী ইবনে আবি তালিব (রা.), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.), আবু মুসা আশআরি (রা.), আবু হুরাইরা (রা.), আয়েশা (রা.) প্রমুখ সাহাবি থেকেও হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) উঠে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন, এতে এত দীর্ঘ সময় ধরে সিজদা করলেন যে আমার ভয় হলো তিনি মারাই গেছেন কি না। এ চিন্তা করে আমি বিছানা থেকে উঠে রাসুল (সা.)-এর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিই, এতে আমার বিশ্বাস হলো তিনি জীবিত আছেন। তারপর নিজ বিছানায় ফিরে এলাম। এরপর তিনি সিজদা থেকে মাথা ওঠালেন এবং নামাজ শেষ করে আমাকে লক্ষ্য করে বললেন, হে আয়েশা! তোমার কি ধারণা হয়েছে যে নবী তোমার সঙ্গে সীমা লঙ্ঘন করেছে? আমি বলি, জি না, হে আল্লাহর রাসুল! তবে আপনার দীর্ঘ সময় ধরে সিজদার কারণে আমার মনে হয়েছে আপনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি জানো, আজকের এ রাতটি কোন রাত? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, এ রাতটি অর্ধ শাবানের রাত। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের দয়া করেন। তবে হিংসুক লোকদের তার অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন। (শুআবুল ইমান, হা. ৩৮৩৫)। যুগশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ইমাম বায়হাকি (রহ.) বলেন, এটি উত্তম মুরসাল হাদিস। (শুআবুল ইমান ৩/৩৮৩)।
শবে বরাতে রাত জেগে ইবাদত করা ও পরদিন রোজা রাখা। হজরত আলী (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘১৪ শাবানের রাত যখন হয়, তোমরা রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে পালন করো এবং দিনের বেলা রোজা রাখো। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে এসে বলেন, কোনো ক্ষমাপ্রার্থী আছে কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।
কোনো রিজিক অন্বেষণকারী আছে কি? আমি তাকে রিজিক প্রদান করব। আছে কি কোনো রোগাক্রান্ত? আমি তাকে আরোগ্য দান করব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তায়ালা মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তাদের ডাকতে থাকেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হা. ১৩৮৮)। হাদিস বিশারদগণের গবেষণা মতে, এ হাদিসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তবে এতে শুধু ইবনে আবি সাবরা নামের এক ব্যক্তি রয়েছেন, তাঁর স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার কারণে হাদিসটি সামান্য দুর্বল বলে গণ্য হবে। আর এ ধরনের দুর্বল হাদিস ফাজায়েলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য।
এছাড়া শবে বরাত সম্পর্কীয় হাদিসগুলোকে যুগশ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদ ইমামগণ সমষ্টিগতভাবে ‘সহিহ’ বা বিশুদ্ধ বলে উল্লেখ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম ইবনে হিব্বান, হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি, হাফেজ ইবনে তাইমিয়া (রহ.) প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।
বছরব্যাপী ভাগ্যনির্ধারণের রজনী শবে বরাত আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি বরকতময় রাতে। নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এই রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত করা হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত ২-৩) কোরআনের ব্যাখ্যাকারদের অনেকে আয়াতে উল্লিখিত ‘লাইল’ থেকে শবেকদর উদ্দেশ্য বললেও কয়েকজন ব্যাখ্যাকার এর অর্থ শবেবরাত বলেছেন।
এ ব্যাপারে ইকরামা (রহ.) সূত্রে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা অর্ধশাবানের রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ফয়সালা করেন। আর শবে কদরে তা নির্দিষ্ট দায়িত্বশীলদের অর্পণ করেন। (তাফসিরে কুরতুবি ১৬/১২৬)।
হজরত আয়েশা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, অর্ধশাবানের রাতের কার্যক্রম হলো, এ বছর যারা জন্মগ্রহণ করবে এবং যারা মারা যাবে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। এ রাতেই মানুষের আমল পৌঁছানো হয়। এতেই তাদের রিজিকের বাজেট করা হয়। (ফাজায়েলে আওক্বাত, বায়হাকি, হা. ২৬)।
তাই এ রাতে তসবিহ-তাহলিল, ইসতিগফার, জিকির আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ করা, মিলাদ শরিফ, কোরআন তেলাওয়াত বেশি বেশি করতে হবে। কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এছাড়া উমরি কাজা ও নফল নামাজ অধিক পরিমাণে পড়তে হবে।এ রাতে কবর জিয়ারতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আল্লাহ পাক আমাদের সকল মুসলিম উম্মাহকে উপরোক্ত আলোচনার প্রতি গুরুত্ব সহকারে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক , মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
১১ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৮
১১ মার্চ, ২০২৬ ১৩:১০
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৫৪
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:৪৫