রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে লাম্পি স্কিন (এলএসডি) রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শতাধিক গরু। ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্তের মধ্যে ছোট বাছুরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় গরু-বাছুর নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিসহ এলাকার হাজারো কৃষক।
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ছোঁয়াচে হওয়ায় মশা-মাছির মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুর দেহে সহজে ছড়িয়ে পড়ছে এলএসডি। প্রতিষেধক হিসেবে লাম্পি স্কিন ডিজিজের জন্য সরকারি কোনো ভ্যাকসিন নেই। তাই এলএসডি থেকে গবাদিপশু রক্ষায় গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও খামারিদের করণীয় সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভাসহ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন এলাকায় বিভিন্ন খামার ও কৃষকের ঘরে প্রায় ৮০ হাজার গরু-বাছুর রয়েছে। বর্তমান সেখানে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর কর্ণেশোনা, ফকিরাবাদ, অংকের শেখেরপাড়া, হোসেন মণ্ডলপাড়া, ছোটভাকলা ইউনিয়নের স্বরূপার চক, ভাগলপুর গ্রাম এলাকায় রোগটির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক মাসে চরাঞ্চলসহ গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শতাধিক গরু-বাছুর। ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্তের মধ্যে অধিকাংশই ছোট বাছুর।
উপজেলার অংকের শেখেরপাড়া গ্রামের কৃষক হাসমত আলী ব্যাপারী বলেন, আমার বকনা বাছুরটির সারা গায়ের চামড়ায় গুটি বের হয়ে ফুসকা পড়েছে। প্রচণ্ড জ্বর থাকায় বাছুরটি এখন স্বাভাবিক খাবারও (ঘাস-ভূসি) খেতে পারছে না। তাই চিকিৎসা করাতে আমি আমার অসুস্থ বাছুরটি গত বুধবার উপজেলা পশু হাসপাতালে (ভেটেরিনারি হাসপাতাল) নিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখে বলেছেন, বাছুরটি এলএসডি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়ায় খামারিসহ এলাকার হাজারো কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকের মনে এখন ‘লাম্পি আতঙ্ক’ বিরাজ করছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে বলেন, লাম্পি স্কিন নামে ভাইরাসজনিত এ রোগটি ছোঁয়াচে। মশা ও মাছির মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুর দেহে এলএসডি সহজে ছড়িয়ে পড়ে। গোয়ালন্দ উপজলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় এ এলএসডির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে বড় গরুর চেয়ে ছোট বাছুর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। লাম্পি স্কিন রোগাক্রান্ত কোনো গরু-বাছুর দেড়-দুই মাসের আগে সুস্থ হয় না।
তিনি আরও বলেন, রোগটি সম্পর্কে এলাকার কৃষক ও খামারিদের সতর্ক করতে আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক করছি। সেখানে খামার, গোয়ালঘরসহ আশপাশ এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি গরু ও বাছুরকে ভিটামিনযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো, নিমপাতার পানি গরম করে সেই পানি দিয়ে গরু-বাছুরকে গোসল করানোসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সরকারি কোনো ভ্যাকসিন নেই।’

০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৪
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযানে সিআইআইডির পাশাপাশি এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে সেগুলোসহ প্রতিষ্ঠানটির দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে টস বন্ডের মালিক হিসেবে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে দেশে মদ ও বার ব্যবসায় কথিত অনিয়মের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নূর ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে এনবিআর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা ‘ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’সহ ঢাকার চারটি বার ও রেস্তোরাঁয় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিভিন্ন সংস্থা।
শনিবার সন্ধ্যায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে ‘অবৈধ উৎস’ থেকে অ্যালকোহল সংগ্রহ, শুল্ক-মূসক ও আয়কর ফাঁকি এবং ‘অননুমোদিত’ গ্রাহকের কাছে অ্যালকোহল সরবরাহের অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানের আওতায় থাকা অন্য তিন প্রতিষ্ঠান হলো—ক্যানভাস রেস্টুরেন্ট, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল ও মার্গারিটা লাউঞ্জ।
সিআইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযোগ তদন্তে চারটি দল গঠন করা হয়েছে। অভিযানে সিআইআইডির পাশাপাশি এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), ভ্যাট গোয়েন্দা এবং ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দক্ষিণ গুলশানের বন্ডেড ওয়্যারহাউজ টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে যৌথ অভিযান চালায় সিআইআইডি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা মদ ‘অননুমোদিত’ দুটি গুদামে মজুত রাখার অভিযোগে সেগুলোসহ প্রতিষ্ঠানটির দুটি বৈধ গুদামও সিলগালা করা হয়।
এনবিআর কর্মকর্তারা শেখ নূর ইসলামকে টস বন্ডের মালিক হিসেবে উল্লেখ করলেও ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফু-ওয়াংয়ের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। বিয়ের পর থেকেই শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
এদিকে দেশে মদ ও বার ব্যবসায় কথিত অনিয়মের পাশাপাশি কানাডায় শেখ নূর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের নাগরিকত্ব এবং সম্পদের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর কর-সংক্রান্ত গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৬
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, ব্যাংক হিসাব তলব এবং তাঁর শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের চারটি গুদাম সিলগালা—পরপর এসব ঘটনায় আলোচনায় এসেছে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্প ও টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা দিয়ে। ওই ঘটনায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার অভিযোগে মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে তাঁর শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং এসআরবি-১-এর যৌথ দল।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নথিতে অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা দুটি থাকলেও অভিযানে চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। শুল্কমুক্ত পণ্য সরিয়ে নেওয়া বা খোলাবাজারে বিক্রির আশঙ্কায় চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়।
এর পাশাপাশি নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের বিদেশি নাগরিকত্ব, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও অনুসন্ধানের তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টস বন্ডে অভিযান সালমানের সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তাঁদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও সম্ভাব্য কর ফাঁকির বিষয়ে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছিল।
সব মিলিয়ে নিউ গিনি প্রকল্পে হামলার মামলা, সালমানের ব্যাংক হিসাব তলব এবং তাঁর শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের গুদাম সিলগালার ঘটনা একই সময়ে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, ব্যাংক হিসাব তলব এবং তাঁর শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের চারটি গুদাম সিলগালা—পরপর এসব ঘটনায় আলোচনায় এসেছে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্প ও টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেড।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনা দিয়ে। ওই ঘটনায় জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার অভিযোগে মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে রাজনৈতিক মহলের চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর বুধবার সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত সব ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এর পরদিন বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর দক্ষিণ গুলশানে তাঁর শ্বশুর শেখ নুর ইসলামের মালিকানাধীন টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডে অভিযান চালায় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং এসআরবি-১-এর যৌথ দল।
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির নথিতে অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের সংখ্যা দুটি থাকলেও অভিযানে চারটি গুদামে পণ্য মজুতের তথ্য পাওয়া যায়। শুল্কমুক্ত পণ্য সরিয়ে নেওয়া বা খোলাবাজারে বিক্রির আশঙ্কায় চারটি গুদামই সিলগালা করা হয়।
এর পাশাপাশি নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের বিদেশি নাগরিকত্ব, কোম্পানির মালিকানা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও অনুসন্ধানের তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১৬৩টি আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এক বছরে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স আনার তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টস বন্ডে অভিযান সালমানের সাম্প্রতিক বিতর্কের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তাঁদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা ও সম্ভাব্য কর ফাঁকির বিষয়ে আগে থেকেই অনুসন্ধান চলছিল।
সব মিলিয়ে নিউ গিনি প্রকল্পে হামলার মামলা, সালমানের ব্যাংক হিসাব তলব এবং তাঁর শ্বশুরের প্রতিষ্ঠানের গুদাম সিলগালার ঘটনা একই সময়ে আলোচনায় এসেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলের অপেক্ষা করতে হবে।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৬
ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা
দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
যে দামে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল
ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার
কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার
পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার
অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান করেছে।
ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ ও অকটেন ১৬৫ টাকা
দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন দামে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।
যে দামে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল
ডিজেল: ১৩৫ টাকা প্রতি লিটার
কেরোসিন: ১৫৫ টাকা প্রতি লিটার
পেট্রোল: ১৬০ টাকা প্রতি লিটার
অকটেন: ১৬৫ টাকা প্রতি লিটার
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান করেছে।

২৫ মে, ২০২৫ ২১:৪৯
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে লাম্পি স্কিন (এলএসডি) রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শতাধিক গরু। ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্তের মধ্যে ছোট বাছুরের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় গরু-বাছুর নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন খামারিসহ এলাকার হাজারো কৃষক।
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ছোঁয়াচে হওয়ায় মশা-মাছির মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুর দেহে সহজে ছড়িয়ে পড়ছে এলএসডি। প্রতিষেধক হিসেবে লাম্পি স্কিন ডিজিজের জন্য সরকারি কোনো ভ্যাকসিন নেই। তাই এলএসডি থেকে গবাদিপশু রক্ষায় গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও খামারিদের করণীয় সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌরসভাসহ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন এলাকায় বিভিন্ন খামার ও কৃষকের ঘরে প্রায় ৮০ হাজার গরু-বাছুর রয়েছে। বর্তমান সেখানে লাম্পি স্কিন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর কর্ণেশোনা, ফকিরাবাদ, অংকের শেখেরপাড়া, হোসেন মণ্ডলপাড়া, ছোটভাকলা ইউনিয়নের স্বরূপার চক, ভাগলপুর গ্রাম এলাকায় রোগটির প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, গত এক মাসে চরাঞ্চলসহ গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে শতাধিক গরু-বাছুর। ভাইরাসজনিত এ রোগে আক্রান্তের মধ্যে অধিকাংশই ছোট বাছুর।
উপজেলার অংকের শেখেরপাড়া গ্রামের কৃষক হাসমত আলী ব্যাপারী বলেন, আমার বকনা বাছুরটির সারা গায়ের চামড়ায় গুটি বের হয়ে ফুসকা পড়েছে। প্রচণ্ড জ্বর থাকায় বাছুরটি এখন স্বাভাবিক খাবারও (ঘাস-ভূসি) খেতে পারছে না। তাই চিকিৎসা করাতে আমি আমার অসুস্থ বাছুরটি গত বুধবার উপজেলা পশু হাসপাতালে (ভেটেরিনারি হাসপাতাল) নিয়েছিলাম। ডাক্তার দেখে বলেছেন, বাছুরটি এলএসডি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানিয়েছেন, লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি) ছড়িয়ে পড়ায় খামারিসহ এলাকার হাজারো কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকের মনে এখন ‘লাম্পি আতঙ্ক’ বিরাজ করছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে বলেন, লাম্পি স্কিন নামে ভাইরাসজনিত এ রোগটি ছোঁয়াচে। মশা ও মাছির মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুর দেহে এলএসডি সহজে ছড়িয়ে পড়ে। গোয়ালন্দ উপজলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় এ এলএসডির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে বড় গরুর চেয়ে ছোট বাছুর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। লাম্পি স্কিন রোগাক্রান্ত কোনো গরু-বাছুর দেড়-দুই মাসের আগে সুস্থ হয় না।
তিনি আরও বলেন, রোগটি সম্পর্কে এলাকার কৃষক ও খামারিদের সতর্ক করতে আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে নিয়মিত উঠান বৈঠক করছি। সেখানে খামার, গোয়ালঘরসহ আশপাশ এলাকা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি গরু ও বাছুরকে ভিটামিনযুক্ত পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ানো, নিমপাতার পানি গরম করে সেই পানি দিয়ে গরু-বাছুরকে গোসল করানোসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সরকারি কোনো ভ্যাকসিন নেই।’
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৩
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৫
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৮