
২৯ মে, ২০২৫ ১৬:০৬
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এ দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গৌরবময় অংশগ্রহণের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ মে) রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান বলেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষীদের মহান আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২৯ মে বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস’ উদযাপন হয়ে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এ দিবসটি আমাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৫’ এর এই মহান দিনে আমি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত এবং এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশন সম্পন্নকারী সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতি সর্বদাই শান্তিপ্রিয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অদ্যাবধি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অগ্রদূত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরুর পর হতে সুদীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জনের বেশি শান্তিরক্ষী মোট ৪০টি স্থানে ৫৬টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সর্বমোট ৬ হাজার ৯২ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত আছেন যার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সদস্য বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানিক দায়িত্ব পালনে উন্নত পেশাগত গুণাবলী প্রদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ দায়িত্ব পালনে সর্বদাই নিরপেক্ষ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা সকলের নিকট বিশেষভাবে প্রশংসিত ও স্বীকৃত-যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
সেনাপ্রাধান বলেন, অনেক ত্যাগ ও তিতীক্ষার বিনিময়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই গৌরবময় অর্জন সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৩১ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪১ জন সেনাসদস্য বিভিন্ন অভিযানে আহত হয়েছেন। আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেই সকল বীর শান্তিরক্ষীদের-যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি সকল জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ বিশ্ব দরবারে সুনামের সুউচ্চ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মত ডিআর কঙ্গোতে তিনটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি নতুন মাইলফলক। গত ৪ মার্চ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক-এ চলমান শান্তিরক্ষা মিশনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নির্মিত ‘তোয়াদেরা কমিউনিটি ক্লিনিকের’ উদ্বোধন করা হয়। যা বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করেছে। এছাড়াও, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্য পেরুর সশস্ত্র বাহিনীকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী যান (Remotely Operated Vehicle) প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরাও এখন পূর্বের তুলনায় অধিকহারে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সার্বিকভাবে সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেনাসদস্য, উন্নত সরঞ্জাম, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং উন্নত মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিশন এলাকায় জনসাধারণ ও জাতিসংঘের আস্থা অর্জনে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।
সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এ দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গৌরবময় অংশগ্রহণের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ মে) রাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান বলেছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষীদের মহান আত্মত্যাগ ও অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২৯ মে বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস’ উদযাপন হয়ে আসছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এ দিবসটি আমাদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস-২০২৫’ এর এই মহান দিনে আমি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত এবং এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশন সম্পন্নকারী সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।
তিনি বলেন, বাঙালি জাতি সর্বদাই শান্তিপ্রিয় এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অদ্যাবধি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অগ্রদূত হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশনে যাত্রা শুরুর পর হতে সুদীর্ঘ তিন যুগের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৬২ হাজার ৩৫ জনের বেশি শান্তিরক্ষী মোট ৪০টি স্থানে ৫৬টি শান্তিরক্ষা মিশনে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের সর্বমোট ৬ হাজার ৯২ জন শান্তিরক্ষী বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯টি শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত আছেন যার মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় ৫ হাজার সদস্য বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানিক দায়িত্ব পালনে উন্নত পেশাগত গুণাবলী প্রদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যগণ দায়িত্ব পালনে সর্বদাই নিরপেক্ষ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এ কারণেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা সকলের নিকট বিশেষভাবে প্রশংসিত ও স্বীকৃত-যা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা বহুলাংশে বৃদ্ধি করেছে।
সেনাপ্রাধান বলেন, অনেক ত্যাগ ও তিতীক্ষার বিনিময়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের এই গৌরবময় অর্জন সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৩১ জন শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪১ জন সেনাসদস্য বিভিন্ন অভিযানে আহত হয়েছেন। আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেই সকল বীর শান্তিরক্ষীদের-যারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি সকল জীবন উৎসর্গকারী সদস্যদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। তাদের অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ বিশ্ব দরবারে সুনামের সুউচ্চ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মত ডিআর কঙ্গোতে তিনটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে, যা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য একটি নতুন মাইলফলক। গত ৪ মার্চ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক-এ চলমান শান্তিরক্ষা মিশনে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নির্মিত ‘তোয়াদেরা কমিউনিটি ক্লিনিকের’ উদ্বোধন করা হয়। যা বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরো উজ্জ্বল করেছে। এছাড়াও, সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্য পেরুর সশস্ত্র বাহিনীকে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী যান (Remotely Operated Vehicle) প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যরাও এখন পূর্বের তুলনায় অধিকহারে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সার্বিকভাবে সুপ্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ সেনাসদস্য, উন্নত সরঞ্জাম, বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং উন্নত মূল্যবোধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মিশন এলাকায় জনসাধারণ ও জাতিসংঘের আস্থা অর্জনে ঈর্ষনীয় সাফল্য অর্জন করেছে।

১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ২২:৩৬
বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখে ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযাত্রা, থেমে গেল পরিবারের আশার আলো।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর।
নিহত মো. মিজানুর রহমান (৩০) বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন, এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ শিশুকন্যা এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা সালাম শরীফ। তিনি বলেন, মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।
চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, মিজানুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরেরর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনরা চান, অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে মাটিতে কবর দিতে।
বরিশাল টাইমস
বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখে ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল পরিবারকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবনযাত্রা, থেমে গেল পরিবারের আশার আলো।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর।
নিহত মো. মিজানুর রহমান (৩০) বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে। জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে তিনি সৌদি আরবে যান। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য।
পরিবারের সদস্যরা জানায়, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।
মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন, এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ শিশুকন্যা এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার চাচা সালাম শরীফ। তিনি বলেন, মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।
চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, মিজানুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরেরর সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনরা চান, অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে মাটিতে কবর দিতে।
বরিশাল টাইমস

২৯ মে, ২০২৫ ১৭:১২
ফ্রান্সের পূর্ব সীমান্তবর্তী স্ট্রাসবুর্গ শহরটি ইউরোপের অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি রাইন নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এবং ফ্রান্স ও জার্মানির ঐতিহাসিক সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দুই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের প্রতীক।
স্ট্রাসবুর্গ শুধুমাত্র তার মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতির জন্য নয়, সাংবাদিকতার আধুনিক ইতিহাসে তার অনন্য অবদানের জন্যও বিশ্ববিখ্যাত।
স্ট্রাসবুর্গের ঐতিহাসিক
ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: স্ট্রাসবুর্গের ইতিহাস হাজার বছরের বেশি পুরনো, যার শুরু রোমান সাম্রাজ্যের সময়। পরবর্তীতে ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে হাবসবার্গ এবং পরবর্তীকালে জার্মান ও ফরাসি শাসনের অধীনে এই শহর বিকশিত হয়েছে। ফরাসি ও জার্মান সংস্কৃতির মিশ্রণে শহরটির ভাষা, খাদ্য, উৎসব, স্থাপত্য এবং সামাজিক জীবন অনেকটাই গঠন পেয়েছে।
মধ্যযুগে স্ট্রাসবুর্গ ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বন্দর নগরী হিসেবে আবির্ভূত হয়। রাইন নদীর মাধ্যমে এর বাণিজ্য বর্ধিত হওয়ার ফলে শহরটি দ্রুত বিকশিত হয় এবং বিভিন্ন জাতির বণিক ও কারিগরদের মিলনস্থল হয়। ইউরোপীয় ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে স্ট্রাসবুর্গের ভূমিকা যুগে যুগে বিশেষত উল্কিপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ।
ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থলসমূহ: স্ট্রাসবুর্গের স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন শহরের প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো স্ট্রাসবুর্গ ক্যাথেড্রাল (Cathédrale Notre-Dame de Strasbourg), যা ১৩১ মিটার উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ মানবসৃষ্ট ভবন ছিল। গথিক স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন, এর সূক্ষ্ম কারুকাজ, কাঁচের জানালা এবং বিশেষ সূর্যঘড়ি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
পেটিট ফ্রান্স এলাকা শহরের সবচেয়ে চমৎকার ও মনোরম অংশ, যেখানে মধ্যযুগীয় কাঠের বাড়িগুলো জলপ্রপাত ও জলধারার পাশে অবস্থিত। এই এলাকা শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সরাসরি দৃষ্টান্ত।
প্যালাস রোহান (Palais Rohan) প্রাসাদটি ১৭শ শতাব্দীতে নির্মিত, যা বর্তমানে আর্ট মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শহরে রয়েছে সেন্ট থমাস চার্চ, প্রাচীন দুর্গ ও জনরক্ষা দেয়াল, যা শহরের সামরিক ও ধর্মীয় ইতিহাসকে প্রতিফলিত করে। স্ট্রাসবুর্গের ঐতিহাসিক শহরতলি ইউরোপীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণের এক অনন্য উদাহরণ, যা ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
বিশ্ব সাংবাদিকতার জন্মভূমি হিসেবে স্ট্রাসবুর্গ: ১৬০৫ সালে জোহান কারোলাস সম্পাদিত তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্য জার্মানির স্ট্রাসবুর্গ
(বর্তমানে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত) শহর থেকে জার্মান ভাষায় Relation aller Fürnemmen und gedenckwürdigen Historien বা ‘সর্বশ্রেষ্ট ও স্মরণীয় ঘটনার প্রতিবেদন’ শীর্ষক শিরোনামে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত সংবাদপত্র প্রকাশ করা হয়। এই পত্রিকাটি আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃত হিসেবে বিবেচিত।
এটি ছিল খবরভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রকাশিত — যা একটি আধুনিক সংবাদপত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল। একইসাথে এটি আধুনিক সাংবাদিকতার ভিত্তিপ্রস্তর, যা সংবাদপ্রচারে পেশাদারিত্বের বৈচিত্র্য নিয়ে আসে।
এই সংবাদপত্র সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয় এবং তথ্যের মুক্ত প্রবাহের পথ প্রশস্ত করে। স্ট্রাসবুর্গের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক অমলিন ছাপ রেখেছে, যা আজকের তথ্যপ্রযুক্তি যুগেও প্রাসঙ্গিক। যার প্রেক্ষিতে স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ব সাংবাদিকতার ইতিহাসে ঐতিহাসিক শহর হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করছে।
রাইন নদী ও স্ট্রাসবুর্গের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: রাইন নদী ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা সুইজারল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। স্ট্রাসবুর্গ নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত, যার কারণে এটি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহন করে। রাইন নদীর কূলে অবস্থিত হওয়ায় স্ট্রাসবুর্গ ইউরোপীয় বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। নদী শহরটিকে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের রূপ দিয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে। আজও স্ট্রাসবুর্গের নদীতীর অঞ্চল তার বন্দর, জলপথ ও পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ।
স্ট্রাসবুর্গের ইতিহাস, স্থাপত্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সাংবাদিকতার প্রথম যাত্রা এই শহরকে ইউরোপের এক অনন্য রত্নে পরিণত করেছে। রাইন নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর সত্য ও তথ্যের আলোর দিশারি হয়ে বিশ্ব সংবাদ ইতিহাসে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। যুগ যুগ ধরে ফরাসি ও জার্মান প্রভাবের মিলনে গড়ে ওঠা এই শহরটি শুধু ঐতিহাসিক নয়, আধুনিক ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। স্ট্রাসবুর্গের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সাংবাদিকতার কীর্তি আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
ফ্রান্সের পূর্ব সীমান্তবর্তী স্ট্রাসবুর্গ শহরটি ইউরোপের অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি রাইন নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এবং ফ্রান্স ও জার্মানির ঐতিহাসিক সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দুই দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনের প্রতীক।
স্ট্রাসবুর্গ শুধুমাত্র তার মনোমুগ্ধকর স্থাপত্য ও প্রাণবন্ত সংস্কৃতির জন্য নয়, সাংবাদিকতার আধুনিক ইতিহাসে তার অনন্য অবদানের জন্যও বিশ্ববিখ্যাত।
স্ট্রাসবুর্গের ঐতিহাসিক
ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: স্ট্রাসবুর্গের ইতিহাস হাজার বছরের বেশি পুরনো, যার শুরু রোমান সাম্রাজ্যের সময়। পরবর্তীতে ফ্রাঙ্কিশ সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে হাবসবার্গ এবং পরবর্তীকালে জার্মান ও ফরাসি শাসনের অধীনে এই শহর বিকশিত হয়েছে। ফরাসি ও জার্মান সংস্কৃতির মিশ্রণে শহরটির ভাষা, খাদ্য, উৎসব, স্থাপত্য এবং সামাজিক জীবন অনেকটাই গঠন পেয়েছে।
মধ্যযুগে স্ট্রাসবুর্গ ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও বন্দর নগরী হিসেবে আবির্ভূত হয়। রাইন নদীর মাধ্যমে এর বাণিজ্য বর্ধিত হওয়ার ফলে শহরটি দ্রুত বিকশিত হয় এবং বিভিন্ন জাতির বণিক ও কারিগরদের মিলনস্থল হয়। ইউরোপীয় ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে স্ট্রাসবুর্গের ভূমিকা যুগে যুগে বিশেষত উল্কিপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ।
ঐতিহাসিক স্থাপনা ও স্থলসমূহ: স্ট্রাসবুর্গের স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন শহরের প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। শহরের প্রাণকেন্দ্র হলো স্ট্রাসবুর্গ ক্যাথেড্রাল (Cathédrale Notre-Dame de Strasbourg), যা ১৩১ মিটার উচ্চতা নিয়ে দীর্ঘদিন বিশ্বের সর্বোচ্চ মানবসৃষ্ট ভবন ছিল। গথিক স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন, এর সূক্ষ্ম কারুকাজ, কাঁচের জানালা এবং বিশেষ সূর্যঘড়ি পর্যটকদের মুগ্ধ করে।
পেটিট ফ্রান্স এলাকা শহরের সবচেয়ে চমৎকার ও মনোরম অংশ, যেখানে মধ্যযুগীয় কাঠের বাড়িগুলো জলপ্রপাত ও জলধারার পাশে অবস্থিত। এই এলাকা শহরের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের সরাসরি দৃষ্টান্ত।
প্যালাস রোহান (Palais Rohan) প্রাসাদটি ১৭শ শতাব্দীতে নির্মিত, যা বর্তমানে আর্ট মিউজিয়াম ও ঐতিহাসিক প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত হয়। এছাড়া শহরে রয়েছে সেন্ট থমাস চার্চ, প্রাচীন দুর্গ ও জনরক্ষা দেয়াল, যা শহরের সামরিক ও ধর্মীয় ইতিহাসকে প্রতিফলিত করে। স্ট্রাসবুর্গের ঐতিহাসিক শহরতলি ইউরোপীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংমিশ্রণের এক অনন্য উদাহরণ, যা ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থল হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
বিশ্ব সাংবাদিকতার জন্মভূমি হিসেবে স্ট্রাসবুর্গ: ১৬০৫ সালে জোহান কারোলাস সম্পাদিত তৎকালীন রোমান সাম্রাজ্য জার্মানির স্ট্রাসবুর্গ
(বর্তমানে ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্ত) শহর থেকে জার্মান ভাষায় Relation aller Fürnemmen und gedenckwürdigen Historien বা ‘সর্বশ্রেষ্ট ও স্মরণীয় ঘটনার প্রতিবেদন’ শীর্ষক শিরোনামে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত সংবাদপত্র প্রকাশ করা হয়। এই পত্রিকাটি আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃত হিসেবে বিবেচিত।
এটি ছিল খবরভিত্তিক এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রকাশিত — যা একটি আধুনিক সংবাদপত্রের বৈশিষ্ট্য ছিল। একইসাথে এটি আধুনিক সাংবাদিকতার ভিত্তিপ্রস্তর, যা সংবাদপ্রচারে পেশাদারিত্বের বৈচিত্র্য নিয়ে আসে।
এই সংবাদপত্র সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয় এবং তথ্যের মুক্ত প্রবাহের পথ প্রশস্ত করে। স্ট্রাসবুর্গের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের ইতিহাসে এক অমলিন ছাপ রেখেছে, যা আজকের তথ্যপ্রযুক্তি যুগেও প্রাসঙ্গিক। যার প্রেক্ষিতে স্ট্রাসবুর্গ বিশ্ব সাংবাদিকতার ইতিহাসে ঐতিহাসিক শহর হিসাবে প্রতিনিধিত্ব করছে।
রাইন নদী ও স্ট্রাসবুর্গের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: রাইন নদী ইউরোপের প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা সুইজারল্যান্ড থেকে শুরু হয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত। স্ট্রাসবুর্গ নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত, যার কারণে এটি নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বহন করে। রাইন নদীর কূলে অবস্থিত হওয়ায় স্ট্রাসবুর্গ ইউরোপীয় বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র। নদী শহরটিকে ফ্রান্স ও জার্মানির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের রূপ দিয়েছে, যা ঐতিহাসিকভাবে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংযোগের ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করেছে। আজও স্ট্রাসবুর্গের নদীতীর অঞ্চল তার বন্দর, জলপথ ও পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ।
স্ট্রাসবুর্গের ইতিহাস, স্থাপত্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সাংবাদিকতার প্রথম যাত্রা এই শহরকে ইউরোপের এক অনন্য রত্নে পরিণত করেছে। রাইন নদীর তীরে অবস্থিত এই শহর সত্য ও তথ্যের আলোর দিশারি হয়ে বিশ্ব সংবাদ ইতিহাসে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। যুগ যুগ ধরে ফরাসি ও জার্মান প্রভাবের মিলনে গড়ে ওঠা এই শহরটি শুধু ঐতিহাসিক নয়, আধুনিক ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত। স্ট্রাসবুর্গের ঐতিহ্য, সৌন্দর্য ও সাংবাদিকতার কীর্তি আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৩২
কুয়ালালামপুর বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ৪ মাসে ৩ হাজার ৬৭৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে। সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (এমসিবিএ)।
এমসিবিএ জানিয়েছে, সিন্ডিকেটগুলো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে, এমনকি কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেও এ কাজ চলছে। বিদেশিরা দলে দলে অথবা অন্যান্য বিদেশি যাত্রীদের মাঝে মিশে বিমানবন্দরের আগমন হলে ঘোরাফেরা করে।
কুয়ালালামপুর বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ গত ৪ মাসে ৩ হাজার ৬৭৩ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে। সিন্ডিকেট চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কড়া নজরদারি বৃদ্ধি করেছে বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি (এমসিবিএ)।
এমসিবিএ জানিয়েছে, সিন্ডিকেটগুলো বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করছে, এমনকি কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেও এ কাজ চলছে। বিদেশিরা দলে দলে অথবা অন্যান্য বিদেশি যাত্রীদের মাঝে মিশে বিমানবন্দরের আগমন হলে ঘোরাফেরা করে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৩:৪৬
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৯
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:১৪
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:৩৬