দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পুরো বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে অপেক্ষায় রাখলেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার শেষ বিকেলে ঝুঁকি না নিতে গিয়ে সেঞ্চুরিটা পূরণ করতে পারেননি ১৮৭টি বল খেলেও। মাত্র একটি রানের জন্য অপেক্ষায় রেখে দিলেন সারাদেশকে। মুশফিক নিজেও কি স্বস্তিতে ছিলেন গতকাল রাতে? ঠিকমতো ঘুমাতে পেরেছিলেন, উত্তেজনা কিংবা টেনশনে?
অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ১৯৫ বল খেলে কাঙ্ক্ষিত সেই মাইলফলকে পৌঁছে গেলেন মুশফিকুর রহিম। শততম টেস্টে শতরানকারী হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে ১১ নম্বর জায়গাটি নিজের করে নিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। আর নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম। প্রথম শততম টেস্ট খেলে সেই টেস্টে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম- ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেলো এই নাম।
টেস্টে বাংলাদেশের টপ স্কোরার তিনি। মিরপুরে চলমান এই ম্যাচের আগে ৯৯ টেস্টের ১৮২ ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের রান ছিল ৬৩৫১। শতক ১২টি। অর্ধশতক ২৭টি; কিন্তু কেন যেন মাইলফলকের ম্যাচগুলোয় তার রান খুব কম। মাইলফলক বলতে- তার প্রথম টেস্ট, ৫০ নম্বর ও ৭৫ নম্বর টেস্ট। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ওই তিন টেস্টের একটিতেও তার নামের পাশে কোনো বড়সড় স্কোর নেই।
২০ বছর আগে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে প্রথম টেস্টের ২ ইনিংসে মুশফিকের সংগ্রহ ছিল মোটে ২২। প্রথম ইনিংসের ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৮৫ মিনিট উইকেটে থেকে ৫৬ বল মোকাবিলা করে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৯ রান করে ইংলিশ পেসার ম্যাথ্যু হগার্ডের বলে বোল্ড হয়েছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল আরও কম; মাত্র ৩ রান। এবার ইংলিশ ফাস্ট বোলার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটপের বলে আউট হন মুশফিক।
একই অবস্থা ছিল ৫০ ও ৭৫ নম্বর টেস্টেও। মুশফিক তার ৫০ নম্বর টেস্ট খেলেছেন ঢাকার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে; ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (২০১৬ সালে, ২৮-৩০ অক্টোবর)। ওই ম্যাচে দুই ইনিংসের একবারও দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। প্রথমবার ৪ এবং পরের বার ৯ রানে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি।
এরপর নিজের ৭৫তম টেস্টটিও মুশফিক স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। সময়কাল ছিল ২০২১ সালের জুলাই। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলার মুজারাবানির বলে ১১ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে জড়িয়ে সাজঘরে ফেরেন টেস্টে বাংলাদেশের টপ স্কোরার। দ্বিতীয় ইনিংসে আর তার ব্যাট করতে হয়নি। সাদমান ইসলাম (১১৫) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (১১৭) জোড়া শতকে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ২৮৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে ২২০ রানের বড় জয় পায়।
দেখার বিষয় ছিল, নিজের ১০০ নম্বর টেস্টে কী করেন মুশফিক? এবারও কি সেই ১৯, ৩, ৪, ৯ এবং ১১-এ থেমে যাবেন টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবসময়ের সফলতম উইলোবাজ? নাকি ১০০ টেস্টের মাইলফলকের ম্যাচে এবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে ‘অমর’ হয়ে থাকবেন।?
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে এর আগে শততম টেস্টে শতরানের কৃতিত্ব রয়েছে মাত্র ১০ জন ব্যাটারের। কলিন ক্রাউড্রে, জাভেদ মিয়াদাঁদ, গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, রিকি পন্টিং, ইনজামাম-উল হক, জো রুট, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, ডেভিড ওয়ার্নারের।
তাই ভক্তরা অধির হয়েছিলেন এবার মুশফিক ভালো খেলে সেই ‘এলিট’ ক্লাবের সদস্য হতে পারেন কি না। শততম টেস্টে ১১ নম্বর শতরানকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন কি না।
মূলত তা দেখতেই মুখিয়ে ছিলেন অগনিত মুশফিক সমর্থক। এবার আর ভক্তদের হতাশ করেননি তিনি। গতকাল বুধবার শেরে বাংলায় ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। বোঝাই গেল, সেঞ্চুরির পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
দু-একটি বিচ্ছিন্ন শট ছাড়া ধৈর্য ধরেই খেলেছেন। পুরো ইনিংসটাই ছিল গাণিতিক ব্যাটিংয়ে সাজানো। যে বলে যা দরকার, ঠিক তাই করেছেন। অযথা অপ্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে কোনো শট খেলার চেষ্টা করেননি। অপেক্ষায় থেকেছেন আলগা ডেলিভারির। হাফভলি, ওভার পিচ আর খাট লেন্থের ডেলিভারিগুলো থেকেই রান তুলেছেন। ভালো বলগুলোকে সমীহ দেখিয়ে রক্ষনাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছেন।
দেখে মনে হচ্ছিল, ক্যারিয়ারের ১৩ নম্বর সেঞ্চুরি না হাঁকিয়ে ফিরবেন না সাজঘরে। কিন্তু শতরানের একদম হাত মেলানো দূরত্বে গিয়েও কাল ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে তা ছোঁয়া সম্ভব হলো না। দিন শেষে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দুরে থেকে অপরাজিত থেকে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক।
সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনিংস বিজয়ের ম্যাচে মুশফিক ছাড়া বাকি পাঁচ ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস- সবাই রান পেলেও মুশফিকই রান পাননি। ২৩ রানে ফিরে গিয়েছিলেন।
এই ম্যাচের প্রথম দিনের প্রেক্ষাপট অবশ্য তেমন ছিল না। ৯৫ রানে ফিরে গিয়েছিলেন তিনজন; সাদমান, মাহমুদুল হাসান জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সেখান থেকে দিনের শেষ বল পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৮৭ বলে ৯৯ রানে নট আউট থাকেন মুশফিক।
২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:২২
আরও একবার জালের দেখা পেলেন লিওনেল মেসি। তবুও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ইন্টার মিয়ামি। মেজর লিগ সকারে ঘরের মাঠ নিউ স্টেডিয়ামে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে বেকহ্যামদের দল। এই নিয়ে লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখলো না মিয়ামি।
বিশ্বকাপ বিরতি কাটিয়ে ফেরার পর মিয়ামির ফর্ম গ্রাফ নিম্নমুখী। ২২ জুলাই থেকে ৯ টি ম্যাচ খেলে ৩ জয়ের বিপরীতে ড্র দুটি, পরাজয় ৪টি। টানা দুই পরাজয়ে লিগস কাপ থেকে বিদায় হয়েছে তাদের।
এমএলএসের ৬ ম্যাচে শনিবারের পরাজয় তাদের দ্বিতীয়। সব মিলিয়ে ৮ আগস্ট থেকে চতুর্থ পরাজয় এটি। এতে এমএলএসের দ্বিতীয় স্হানে থাকলেও ২১ ম্যাচে পয়েন্ট দাড়িয়েছে ৩৯, যা ন্যাশভিলের চেয়ে পয়েন্ট কম।
শনিবার ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য রক্ষণভাগ সামলে রেখেছিল স্বাগতিকরা। ফলে কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। দুর্বল ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্রথম গোল করে টরন্টোকে এগিয়ে দেন জোশ সার্জেন্ট। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬২ মিনিটে ডেরেক ইতিয়েন জুনিয়রের গোল মিয়ামিকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
ম্যাচের শেষভাগে এসে ৮২ মিনিটে গোল পান মেসি। এটি বিশ্বকাপ পরবর্তী ক্লাব ফুটবলে মেসির পঞ্চম গোল। তবে মেসির এই গোলটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, দলের হার এড়াতে পারেনি।
এই হারে শিরোপার দৌড়ে আরও পিছিয়ে গেল মিয়ামি। এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২১ ম্যাচে ১১ জয় ও ৬ ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিল।
আরও একবার জালের দেখা পেলেন লিওনেল মেসি। তবুও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি ইন্টার মিয়ামি। মেজর লিগ সকারে ঘরের মাঠ নিউ স্টেডিয়ামে টরন্টো এফসির কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে গেছে বেকহ্যামদের দল। এই নিয়ে লিগে টানা তিন ম্যাচে জয়ের মুখ দেখলো না মিয়ামি।
বিশ্বকাপ বিরতি কাটিয়ে ফেরার পর মিয়ামির ফর্ম গ্রাফ নিম্নমুখী। ২২ জুলাই থেকে ৯ টি ম্যাচ খেলে ৩ জয়ের বিপরীতে ড্র দুটি, পরাজয় ৪টি। টানা দুই পরাজয়ে লিগস কাপ থেকে বিদায় হয়েছে তাদের।
এমএলএসের ৬ ম্যাচে শনিবারের পরাজয় তাদের দ্বিতীয়। সব মিলিয়ে ৮ আগস্ট থেকে চতুর্থ পরাজয় এটি। এতে এমএলএসের দ্বিতীয় স্হানে থাকলেও ২১ ম্যাচে পয়েন্ট দাড়িয়েছে ৩৯, যা ন্যাশভিলের চেয়ে পয়েন্ট কম।
শনিবার ম্যাচের প্রথমার্ধে অবশ্য রক্ষণভাগ সামলে রেখেছিল স্বাগতিকরা। ফলে কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় ০-০ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। দ্বিতীয় রাউন্ডে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। দুর্বল ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের ৫৯ মিনিটে প্রথম গোল করে টরন্টোকে এগিয়ে দেন জোশ সার্জেন্ট। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬২ মিনিটে ডেরেক ইতিয়েন জুনিয়রের গোল মিয়ামিকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।
ম্যাচের শেষভাগে এসে ৮২ মিনিটে গোল পান মেসি। এটি বিশ্বকাপ পরবর্তী ক্লাব ফুটবলে মেসির পঞ্চম গোল। তবে মেসির এই গোলটি কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে, দলের হার এড়াতে পারেনি।
এই হারে শিরোপার দৌড়ে আরও পিছিয়ে গেল মিয়ামি। এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সে ২১ ম্যাচে ১১ জয় ও ৬ ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৩৯ পয়েন্ট। সমান ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্টে এগিয়ে শীর্ষে থাকা ন্যাশভিল।

০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪৯
মালয়েশিয়াকে মাত্র ৬৯ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এইচপি দল।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হলেও মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে এইচপি। শেষ দিকে অধিনায়ক এস এম মেহেরব হোসেনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
জাওয়াদ ১৮ বলে ২৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। এরপর আরিফুল ইসলাম ১২ বলে ১৫ রান করেন। ১২ বলে ১৪ রান করেন সাব্বির। ২৬ বলে ৩২ রান করেন সাকলাইন। শেষ দিকে মেহেরব ২২ বলে ৪০ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে শেষ ওভারের আগেই ফেরেন এইচপি অধিনায়ক। মালয়েশিয়ার হয়ে বিজয় উনি নেন ৩ উইকেট।
জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মালয়েশিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই নাজমুল সাকিবকে বোল্ড করে ফেরান আবু হায়দার রনি। এরপর আসলাম খান বিন মালিকও ৫ বলে কোনো রান না করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
তিন নম্বরে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আহমেদ আকীল ওয়াহিদ। ২৫ বলে ২৯ রান করেন তিনি। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় মালয়েশিয়ার রান তোলার গতি থেমে যায়। ১০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪২ রান।
এরপর মোহাম্মদ আমির আজিম ও বিজয় উনি কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। বিজয় ১৫ বলে ১৪ রান করে আবদুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হন। আর আমির আজিম ২২ বলে ১৫ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ রুবেল হাসানের বলে। ৬৩ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় মালয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয় তারা। ফলে ৮৯ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ এইচপি।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি আগামী ১০ আগস্ট, সোমবার, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে।
মালয়েশিয়াকে মাত্র ৬৯ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়াকে ৮৯ রানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল এইচপি দল।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হলেও মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে এইচপি। শেষ দিকে অধিনায়ক এস এম মেহেরব হোসেনের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
জাওয়াদ ১৮ বলে ২৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। এরপর আরিফুল ইসলাম ১২ বলে ১৫ রান করেন। ১২ বলে ১৪ রান করেন সাব্বির। ২৬ বলে ৩২ রান করেন সাকলাইন। শেষ দিকে মেহেরব ২২ বলে ৪০ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে শেষ ওভারের আগেই ফেরেন এইচপি অধিনায়ক। মালয়েশিয়ার হয়ে বিজয় উনি নেন ৩ উইকেট।
জয়ের জন্য ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় মালয়েশিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই নাজমুল সাকিবকে বোল্ড করে ফেরান আবু হায়দার রনি। এরপর আসলাম খান বিন মালিকও ৫ বলে কোনো রান না করে ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
তিন নম্বরে নেমে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন আহমেদ আকীল ওয়াহিদ। ২৫ বলে ২৯ রান করেন তিনি। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় মালয়েশিয়ার রান তোলার গতি থেমে যায়। ১০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪২ রান।
এরপর মোহাম্মদ আমির আজিম ও বিজয় উনি কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। বিজয় ১৫ বলে ১৪ রান করে আবদুল গাফফার সাকলাইনের শিকার হন। আর আমির আজিম ২২ বলে ১৫ রান করে ফেরেন মোহাম্মদ রুবেল হাসানের বলে। ৬৩ রানের মধ্যে ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় মালয়েশিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৬ ওভারে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট হয় তারা। ফলে ৮৯ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ এইচপি।
সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি আগামী ১০ আগস্ট, সোমবার, মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে।

০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০৫
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে আটকানোর জন্য কত কৌশল-পরিকল্পনা এঁকেছিলেন কোচরা।
তবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে ৮ বারের ব্যালন ডি’র জয়ীকে থামাতে পারেননি কেউই।
অন্যদিকে মাঠের বাইরেও মেসি থামানোর পরিকল্পনা চলছিল। এই থামানোর পরিকল্পনা সাময়িক সময়ের জন্য ছিল না, চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় করার। বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যা করার পরিকল্পনাই এঁটেছিলেন সন্ত্রাসীরা।
অবশ্য শুধু আর্জেন্টিনার অধিনায়কই নন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ রেফারি-কর্মকর্তারাও।
এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ফাঁস হওয়া এক নিরাপত্তা নথিতে। স্পেনের ইনফরমেশন ডট ইএসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
গত মাসে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচে হামলার হুমকি দেন এক ব্যক্তি।
ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন দিয়ে জানান, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ঢুকবেন। সঙ্গে তাদের হাতে থাকবে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল।
মেসিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকবেন তিনি। লক্ষ্য মেসি!
এমনকি ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে জানানো হয়, গ্যালারির আবর্জনার ঝুড়িতে রাখা হয়েছে তিনটি বোমা।
এরপরেই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।
রোনালদোকেও ঘিরেও নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল। ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, রোনালদো কোথায় থাকছেন কি করছেন সেই তথ্য জানার চেষ্টা করেছিলেন সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি। আরেক ব্যক্তি তো পর্তুগিজ অধিনায়কের সঙ্গে তার হোটেলের লিফটেও ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ থামিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করলে জবাব দেন, রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন তিনি।
এমবাপে হামলার লক্ষ্য বস্তু না হলেও তাকে নিয়ে অনেকে ব্যাপক সমালোচনা ও বর্ণবাদী আচরণ করেন। ফ্রান্সের কাছে হেরে প্যারাগুয়ের সমর্থকরা এমবাপের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছিলেন। সঙ্গে বর্ণবাদী স্লোগানও দিয়েছিলেন। প্যারাগুয়ের এক সিনেটর তো এক কাঠি সরেস হয়ে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের সঙ্গে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। পরে অবশ্য নিজেই সমালোচনার মুখে পড়েন। নিজ দেশের রাজনীতিবিদসহ অনেক সিনেটরের মন্তব্যের নিন্দা করেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় এমবাপ্পের পাশে দাঁড়ান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
পেনাল্টি মিস করে হত্যা হুমকির মুখে কলম্বিয়ার হামিন্তন কামপাজ। নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় দলের সঙ্গে তিনি দেশেও ফিরতে পারেননি। কেননা ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করায় দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়া সাবেক ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের ঘটনাটি তো সবার সামনেই ছিল।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হলান্ডকে পাস না দেওয়ার ঘটনায় নরওয়ের আলেক্সান্ডার সরলথ ও তার স্ত্রীও মৃত্যুর হুমকি পান।
শুধু খেলোয়াড় নন, নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিলেন ম্যাচ অফিসিয়ালরাও। হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দায়িত্ব পালন করা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাতেক্সিয়ার। মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন সহকারী ভিডিও রেফারি উইলি দেলাজোও।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্যক্তি রেঞ্চ হাতে ঢুকে চিৎকার শুরু করেছিলেন। পরে মিডিয়া সেন্টারে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। বসানো হয় কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন। ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে নো-ফ্লাই জোনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ তো ছিলেনই।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে আটকানোর জন্য কত কৌশল-পরিকল্পনা এঁকেছিলেন কোচরা।
তবে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের আগে ৮ বারের ব্যালন ডি’র জয়ীকে থামাতে পারেননি কেউই।
অন্যদিকে মাঠের বাইরেও মেসি থামানোর পরিকল্পনা চলছিল। এই থামানোর পরিকল্পনা সাময়িক সময়ের জন্য ছিল না, চিরতরে পৃথিবী থেকে বিদায় করার। বিশ্বকাপে মেসিকে হত্যা করার পরিকল্পনাই এঁটেছিলেন সন্ত্রাসীরা।
অবশ্য শুধু আর্জেন্টিনার অধিনায়কই নন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-কিলিয়ান এমবাপ্পেসহ রেফারি-কর্মকর্তারাও।
এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের ফাঁস হওয়া এক নিরাপত্তা নথিতে। স্পেনের ইনফরমেশন ডট ইএসের বরাত দিয়ে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।
গত মাসে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচে হামলার হুমকি দেন এক ব্যক্তি।
ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে ফোন দিয়ে জানান, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ঢুকবেন। সঙ্গে তাদের হাতে থাকবে হ্যান্ড গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল।
মেসিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকবেন তিনি। লক্ষ্য মেসি!
এমনকি ম্যাচ চলাকালে পুলিশকে ফোন করে জানানো হয়, গ্যালারির আবর্জনার ঝুড়িতে রাখা হয়েছে তিনটি বোমা।
এরপরেই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।
রোনালদোকেও ঘিরেও নিরাপত্তা শঙ্কা ছিল। ফিফার এক কর্মী পুলিশকে জানান, রোনালদো কোথায় থাকছেন কি করছেন সেই তথ্য জানার চেষ্টা করেছিলেন সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি। আরেক ব্যক্তি তো পর্তুগিজ অধিনায়কের সঙ্গে তার হোটেলের লিফটেও ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ থামিয়ে জিজ্ঞেসাবাদ করলে জবাব দেন, রোনালদোর সঙ্গে সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন তিনি।
এমবাপে হামলার লক্ষ্য বস্তু না হলেও তাকে নিয়ে অনেকে ব্যাপক সমালোচনা ও বর্ণবাদী আচরণ করেন। ফ্রান্সের কাছে হেরে প্যারাগুয়ের সমর্থকরা এমবাপের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছিলেন। সঙ্গে বর্ণবাদী স্লোগানও দিয়েছিলেন। প্যারাগুয়ের এক সিনেটর তো এক কাঠি সরেস হয়ে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের সঙ্গে বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। পরে অবশ্য নিজেই সমালোচনার মুখে পড়েন। নিজ দেশের রাজনীতিবিদসহ অনেক সিনেটরের মন্তব্যের নিন্দা করেন। অন্যদিকে এ ঘটনায় এমবাপ্পের পাশে দাঁড়ান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
পেনাল্টি মিস করে হত্যা হুমকির মুখে কলম্বিয়ার হামিন্তন কামপাজ। নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় দলের সঙ্গে তিনি দেশেও ফিরতে পারেননি। কেননা ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করায় দেশে ফিরে আততায়ীর গুলিতে নিহত হওয়া সাবেক ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারের ঘটনাটি তো সবার সামনেই ছিল।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হলান্ডকে পাস না দেওয়ার ঘটনায় নরওয়ের আলেক্সান্ডার সরলথ ও তার স্ত্রীও মৃত্যুর হুমকি পান।
শুধু খেলোয়াড় নন, নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিলেন ম্যাচ অফিসিয়ালরাও। হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের দায়িত্ব পালন করা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাতেক্সিয়ার। মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন সহকারী ভিডিও রেফারি উইলি দেলাজোও।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারে এক ব্যক্তি রেঞ্চ হাতে ঢুকে চিৎকার শুরু করেছিলেন। পরে মিডিয়া সেন্টারে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। বসানো হয় কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও অ্যান্টি-স্নাইপার স্ক্রিন। ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে নো-ফ্লাই জোনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ তো ছিলেনই।

২০ নভেম্বর, ২০২৫ ১১:২০
দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পুরো বাংলাদেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে অপেক্ষায় রাখলেন মুশফিকুর রহিম। বুধবার শেষ বিকেলে ঝুঁকি না নিতে গিয়ে সেঞ্চুরিটা পূরণ করতে পারেননি ১৮৭টি বল খেলেও। মাত্র একটি রানের জন্য অপেক্ষায় রেখে দিলেন সারাদেশকে। মুশফিক নিজেও কি স্বস্তিতে ছিলেন গতকাল রাতে? ঠিকমতো ঘুমাতে পেরেছিলেন, উত্তেজনা কিংবা টেনশনে?
অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে ১৯৫ বল খেলে কাঙ্ক্ষিত সেই মাইলফলকে পৌঁছে গেলেন মুশফিকুর রহিম। শততম টেস্টে শতরানকারী হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে ১১ নম্বর জায়গাটি নিজের করে নিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। আর নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম। প্রথম শততম টেস্ট খেলে সেই টেস্টে সেঞ্চুরি করা বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম- ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেলো এই নাম।
টেস্টে বাংলাদেশের টপ স্কোরার তিনি। মিরপুরে চলমান এই ম্যাচের আগে ৯৯ টেস্টের ১৮২ ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের রান ছিল ৬৩৫১। শতক ১২টি। অর্ধশতক ২৭টি; কিন্তু কেন যেন মাইলফলকের ম্যাচগুলোয় তার রান খুব কম। মাইলফলক বলতে- তার প্রথম টেস্ট, ৫০ নম্বর ও ৭৫ নম্বর টেস্ট। ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, ওই তিন টেস্টের একটিতেও তার নামের পাশে কোনো বড়সড় স্কোর নেই।
২০ বছর আগে ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে প্রথম টেস্টের ২ ইনিংসে মুশফিকের সংগ্রহ ছিল মোটে ২২। প্রথম ইনিংসের ৬ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৮৫ মিনিট উইকেটে থেকে ৫৬ বল মোকাবিলা করে তিনটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৯ রান করে ইংলিশ পেসার ম্যাথ্যু হগার্ডের বলে বোল্ড হয়েছিলেন মুশফিক। দ্বিতীয় ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছিল আরও কম; মাত্র ৩ রান। এবার ইংলিশ ফাস্ট বোলার অ্যান্ড্রু ফ্লিনটপের বলে আউট হন মুশফিক।
একই অবস্থা ছিল ৫০ ও ৭৫ নম্বর টেস্টেও। মুশফিক তার ৫০ নম্বর টেস্ট খেলেছেন ঢাকার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে; ইংল্যান্ডের বিপক্ষে (২০১৬ সালে, ২৮-৩০ অক্টোবর)। ওই ম্যাচে দুই ইনিংসের একবারও দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। প্রথমবার ৪ এবং পরের বার ৯ রানে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি।
এরপর নিজের ৭৫তম টেস্টটিও মুশফিক স্মরণীয় করে রাখতে পারেননি। সময়কাল ছিল ২০২১ সালের জুলাই। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই টেস্টের প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুইয়ান ফাস্ট বোলার মুজারাবানির বলে ১১ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে জড়িয়ে সাজঘরে ফেরেন টেস্টে বাংলাদেশের টপ স্কোরার। দ্বিতীয় ইনিংসে আর তার ব্যাট করতে হয়নি। সাদমান ইসলাম (১১৫) ও নাজমুল হোসেন শান্তর (১১৭) জোড়া শতকে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ২৮৪ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে ২২০ রানের বড় জয় পায়।
দেখার বিষয় ছিল, নিজের ১০০ নম্বর টেস্টে কী করেন মুশফিক? এবারও কি সেই ১৯, ৩, ৪, ৯ এবং ১১-এ থেমে যাবেন টেস্টে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবসময়ের সফলতম উইলোবাজ? নাকি ১০০ টেস্টের মাইলফলকের ম্যাচে এবার ব্যাট হাতে জ্বলে উঠে ‘অমর’ হয়ে থাকবেন।?
টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৮ বছরের ইতিহাসে এর আগে শততম টেস্টে শতরানের কৃতিত্ব রয়েছে মাত্র ১০ জন ব্যাটারের। কলিন ক্রাউড্রে, জাভেদ মিয়াদাঁদ, গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, রিকি পন্টিং, ইনজামাম-উল হক, জো রুট, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, ডেভিড ওয়ার্নারের।
তাই ভক্তরা অধির হয়েছিলেন এবার মুশফিক ভালো খেলে সেই ‘এলিট’ ক্লাবের সদস্য হতে পারেন কি না। শততম টেস্টে ১১ নম্বর শতরানকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন কি না।
মূলত তা দেখতেই মুখিয়ে ছিলেন অগনিত মুশফিক সমর্থক। এবার আর ভক্তদের হতাশ করেননি তিনি। গতকাল বুধবার শেরে বাংলায় ৫ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ ব্যাটিং করেছেন মুশফিক। বোঝাই গেল, সেঞ্চুরির পণ করেই মাঠে নেমেছিলেন তিনি।
দু-একটি বিচ্ছিন্ন শট ছাড়া ধৈর্য ধরেই খেলেছেন। পুরো ইনিংসটাই ছিল গাণিতিক ব্যাটিংয়ে সাজানো। যে বলে যা দরকার, ঠিক তাই করেছেন। অযথা অপ্রয়োজনে ঝুঁকি নিয়ে কোনো শট খেলার চেষ্টা করেননি। অপেক্ষায় থেকেছেন আলগা ডেলিভারির। হাফভলি, ওভার পিচ আর খাট লেন্থের ডেলিভারিগুলো থেকেই রান তুলেছেন। ভালো বলগুলোকে সমীহ দেখিয়ে রক্ষনাত্মক ভঙ্গিতে খেলেছেন।
দেখে মনে হচ্ছিল, ক্যারিয়ারের ১৩ নম্বর সেঞ্চুরি না হাঁকিয়ে ফিরবেন না সাজঘরে। কিন্তু শতরানের একদম হাত মেলানো দূরত্বে গিয়েও কাল ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনে তা ছোঁয়া সম্ভব হলো না। দিন শেষে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দুরে থেকে অপরাজিত থেকে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক।
সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইনিংস বিজয়ের ম্যাচে মুশফিক ছাড়া বাকি পাঁচ ব্যাটার মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস- সবাই রান পেলেও মুশফিকই রান পাননি। ২৩ রানে ফিরে গিয়েছিলেন।
এই ম্যাচের প্রথম দিনের প্রেক্ষাপট অবশ্য তেমন ছিল না। ৯৫ রানে ফিরে গিয়েছিলেন তিনজন; সাদমান, মাহমুদুল হাসান জয় ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সেখান থেকে দিনের শেষ বল পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ১৮৭ বলে ৯৯ রানে নট আউট থাকেন মুশফিক।
২৬ আগস্ট, ২০২৬ ০১:৩৩
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪৪
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৯
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৬