পঞ্চগড়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী ওরফে জিভালের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান চৈতি। এই অভিযোগে চৈতি ঢাকা ও যশোরে আদালতে পৃথক মামলা করেছেন।
চৈতির দাবি, এ ঘটনার পর তার স্বামী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাকে হেনস্তা করবেন বলে শাসিয়েছেন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চৈতি যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিধুভূষণ সড়কের দেওয়ান মিজানুর রহমানের মেয়ে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা ফেজ-২-এর (রোড নম্বর ৫, হোল্ডিং নম্বর ৫৮) বাসিন্দা নওয়াব আলীর ছেলে মোহাম্মদ আসিফ আলী জিভালও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পূর্বের জানাশোনা থেকে পরিচয় ও অন্তরঙ্গতার এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ তারা ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন।
জিভাল ও চৈতির এর আগে বিয়ে হয় এবং তাদের উভয়েই তালাকপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। চৈতির প্রথমপক্ষে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। যা দুজনেই তাদের এফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন। চৈতির অভিযোগ, বিয়ের মাসখানেক যেতে না যেতেই জিভাল ওই বছরের ১৯ এপ্রিল একটি গাড়ি কেনার জন্যে তার কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
কাঙ্ক্ষিত টাকা দিতে না পারায় জিভাল তাকে শারীরিক (চড়-থাপ্পড়সহ লাঠি দিয়ে আঘাত) ও মানসিকভাবে অত্যাচার করেন। পরদিন তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে যশোরে বাপের বাড়ি এসে হাসপাতাল ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন।
সংসার টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষের আপস-মীমাংসার পর তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। তিনি জানান, ১৫ নভেম্বর তিনি বাপের বাড়ি বেড়াতে এলে জিভালও আসেন। যশোরে এসেও তিনি গাড়ি কেনার সেই ২৫ লাখ টাকার জন্য ফের চাপ দিতে থাকেন।
পরিবারের অর্থনৈতিক দৈন্যের কথা জানিয়ে ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিভাল এই দফায়ও তাকে মারধর করেন। চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে মেঝেতে ফেলে চড়, লাথি মারতে থাকেন জিভাল। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে-ছিঁড়ে যায়।
তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৬৪৭৫/১৪৮। চৈতি বলেন, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ৩১/১৭.০২.২০২৫।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দুজনেরই আগে বিয়ে হয়েছিল; বিষয়টি আমরা দুজনই অবগত। এসব জেনেশুনেই আমরা বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জিভাল পল্লবী নামে আরেক বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান।
তাদের সেই সম্পর্কে বাধা হয়েছি বিধায় যৌতুকের দাবিতে আমাকে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা (নম্বর ১৬২৫/২৪) এবং যশোর আদালতে আরেকটি মামলা (৩১/১০৩) দায়ের করি।’
তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার আদ্যোপান্ত উল্লেখ করে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসককে অবহিত করি। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত ২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছি। সেখানে যৌতুকের দাবিতে মারধরসহ পরনারীতে আসক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। তবে কখনো সংসার করা বা একসঙ্গে থাকা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘তাকে কেন আমি নির্যাতন করব বা যৌতুক চাইব? তিনি এখন আর আমার স্ত্রী নন। মামলার এজাহারে মারধরের যে ঘটনার দিন উল্লেখ করা হয়েছে; ও সময় আমি অন্য বিভাগের ট্রেনিংয়ে ছিলাম। আমাকে হেনস্তা করতেই এ ধরনের মামলা করা হয়েছে। যেহেতু মামলা করেছে, আদালতই বিচার করবেন।’

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

১৯ জুলাই, ২০২৫ ২০:৩২
পঞ্চগড়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী ওরফে জিভালের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী দেওয়ান স্বীকৃতি রহমান চৈতি। এই অভিযোগে চৈতি ঢাকা ও যশোরে আদালতে পৃথক মামলা করেছেন।
চৈতির দাবি, এ ঘটনার পর তার স্বামী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাকে হেনস্তা করবেন বলে শাসিয়েছেন। তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চৈতি যশোর শহরের পুরাতন কসবা বিধুভূষণ সড়কের দেওয়ান মিজানুর রহমানের মেয়ে। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা ফেজ-২-এর (রোড নম্বর ৫, হোল্ডিং নম্বর ৫৮) বাসিন্দা নওয়াব আলীর ছেলে মোহাম্মদ আসিফ আলী জিভালও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পূর্বের জানাশোনা থেকে পরিচয় ও অন্তরঙ্গতার এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ১৬ মার্চ তারা ৫০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন।
জিভাল ও চৈতির এর আগে বিয়ে হয় এবং তাদের উভয়েই তালাকপ্রাপ্ত হয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। চৈতির প্রথমপক্ষে একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। যা দুজনেই তাদের এফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন। চৈতির অভিযোগ, বিয়ের মাসখানেক যেতে না যেতেই জিভাল ওই বছরের ১৯ এপ্রিল একটি গাড়ি কেনার জন্যে তার কাছে ২৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
কাঙ্ক্ষিত টাকা দিতে না পারায় জিভাল তাকে শারীরিক (চড়-থাপ্পড়সহ লাঠি দিয়ে আঘাত) ও মানসিকভাবে অত্যাচার করেন। পরদিন তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে যশোরে বাপের বাড়ি এসে হাসপাতাল ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন।
সংসার টিকিয়ে রাখতে দুই পক্ষের আপস-মীমাংসার পর তিনি ফের শ্বশুরবাড়িতে ফিরে যান। তিনি জানান, ১৫ নভেম্বর তিনি বাপের বাড়ি বেড়াতে এলে জিভালও আসেন। যশোরে এসেও তিনি গাড়ি কেনার সেই ২৫ লাখ টাকার জন্য ফের চাপ দিতে থাকেন।
পরিবারের অর্থনৈতিক দৈন্যের কথা জানিয়ে ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জিভাল এই দফায়ও তাকে মারধর করেন। চুলের মুঠি ধরে টেনেহিঁচড়ে মেঝেতে ফেলে চড়, লাথি মারতে থাকেন জিভাল। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে-ছিঁড়ে যায়।
তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭৬৪৭৫/১৪৮। চৈতি বলেন, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় যৌতুকের দাবিতে মারধরের অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর ৩১/১৭.০২.২০২৫।
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দুজনেরই আগে বিয়ে হয়েছিল; বিষয়টি আমরা দুজনই অবগত। এসব জেনেশুনেই আমরা বিয়ে করি। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জিভাল পল্লবী নামে আরেক বিবাহিত নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়ান।
তাদের সেই সম্পর্কে বাধা হয়েছি বিধায় যৌতুকের দাবিতে আমাকে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করেন। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে ঢাকার সিএমএম আদালতে একটি মামলা (নম্বর ১৬২৫/২৪) এবং যশোর আদালতে আরেকটি মামলা (৩১/১০৩) দায়ের করি।’
তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনার আদ্যোপান্ত উল্লেখ করে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসককে অবহিত করি। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত ২ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছি। সেখানে যৌতুকের দাবিতে মারধরসহ পরনারীতে আসক্তির বিষয়টি উল্লেখ করেছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসিফ আলী বলেন, ‘পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। তবে কখনো সংসার করা বা একসঙ্গে থাকা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘তাকে কেন আমি নির্যাতন করব বা যৌতুক চাইব? তিনি এখন আর আমার স্ত্রী নন। মামলার এজাহারে মারধরের যে ঘটনার দিন উল্লেখ করা হয়েছে; ও সময় আমি অন্য বিভাগের ট্রেনিংয়ে ছিলাম। আমাকে হেনস্তা করতেই এ ধরনের মামলা করা হয়েছে। যেহেতু মামলা করেছে, আদালতই বিচার করবেন।’
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪