ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কয়েকজন সদস্য একটি কক্ষে বসে আছেন। একজন পুরুষ সদস্য নাচছেন। মাঝে মাঝে পাশে বসে থাকা একজন নারী সদস্যের গায়েও হাত দিচ্ছেন। সামনের টেবিলে একটি বোতল, একটি গ্লাস। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি জেলার তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা-আলোচনার জন্ম হয়েছে। অনেকের ধারণা, দেশীয় মদ পান করে সদস্যরা এমন নাচানাচিতে মেতে উঠেছেন। এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউপি চেয়ারম্যান অবশ্য দাবি করছেন, মদপানের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ইউপি কার্যালয়ে নাচগানের ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ আগস্ট। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাইনুল ইসলাম নাচগানে মেতে আছেন। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন ইউপি সদস্যও অংশ নেন। প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘গাফ্ফার ও মাইনুল প্রায়ই ইউপি কার্যালয়ে মজমা বসিয়ে মদ পান করেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরা দুজনই বিএনপির কর্মী গাণিউল হত্যা মামলার আসামি। দলের সম্মান রক্ষায় তাঁদের দ্রুত বহিষ্কার করা প্রয়োজন।’
ভিডিওটিতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আট নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাইনুল ইসলামকে নাচানাচি করতে দেখা যায়। আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপির ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মাবিয়া বিবি, মহিলা আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সহসভাপতি ও ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য বেবি আরা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরেক আব্দুল গাফফার।
এ বিষয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউপি সদস্যরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর কথা। কিন্তু তাঁরা যদি মদ্যপ অবস্থায় নাচগান করেন, তাঁহলে জনগণ আর কোথায় যাবে? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।’
নাচানাচির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আমার কোনো দুঃখ নাই, সব সময় সুখ নিয়েই চলি। দুঃখ করলে হার্ট অ্যাটাক কইরে মইরে যাব। খাইয়ে-দাইয়ে আইসে একটা মিম্বার একটা মোবাইলে গান দিয়েছে, আমি একটু নাচিছি। এইটুকুই গো ভাই, এক মিনিটও লয়। এটাই ছড়ায় গেছে। বোতলে সাদা পানি ছিল ভাই। মদটদ কিছু লয়।’
জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ‘১৩ আগস্ট আমি ছুটিতে ছিলাম। দায়িত্বে ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। সে মেম্বারদের গোস্ত-ভাত খাওয়ায়। তারপর কেউ ছিল না, খেয়েদেয়ে তারা একটু ডানা লড়ালড়ি করছিল। গাফফার মেম্বার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। এখানে নেশাভান কিছু না। বিষয়টা ভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও দেখেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলার উপপরিচালক তাঁর কাছে জানতে চেয়েছেন। এ জন্য মঙ্গলবার তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে ডেকে জানতে চেয়েছিলেন। আজ বুধবার সদস্যদের ডেকেছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২৭ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:২৪
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কয়েকজন সদস্য একটি কক্ষে বসে আছেন। একজন পুরুষ সদস্য নাচছেন। মাঝে মাঝে পাশে বসে থাকা একজন নারী সদস্যের গায়েও হাত দিচ্ছেন। সামনের টেবিলে একটি বোতল, একটি গ্লাস। গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমে এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি জেলার তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা-আলোচনার জন্ম হয়েছে। অনেকের ধারণা, দেশীয় মদ পান করে সদস্যরা এমন নাচানাচিতে মেতে উঠেছেন। এ নিয়ে তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। ইউপি চেয়ারম্যান অবশ্য দাবি করছেন, মদপানের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
ইউপি কার্যালয়ে নাচগানের ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ আগস্ট। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাইনুল ইসলাম নাচগানে মেতে আছেন। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন ইউপি সদস্যও অংশ নেন। প্রকাশ্যে এমন কর্মকাণ্ডে বিএনপির নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘গাফ্ফার ও মাইনুল প্রায়ই ইউপি কার্যালয়ে মজমা বসিয়ে মদ পান করেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডে বিএনপির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এরা দুজনই বিএনপির কর্মী গাণিউল হত্যা মামলার আসামি। দলের সম্মান রক্ষায় তাঁদের দ্রুত বহিষ্কার করা প্রয়োজন।’
ভিডিওটিতে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও পাঁচন্দর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আট নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মাইনুল ইসলামকে নাচানাচি করতে দেখা যায়। আসরে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপির ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য মাবিয়া বিবি, মহিলা আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সহসভাপতি ও ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য বেবি আরা এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরেক আব্দুল গাফফার।
এ বিষয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি হিসেবে ইউপি সদস্যরা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর কথা। কিন্তু তাঁরা যদি মদ্যপ অবস্থায় নাচগান করেন, তাঁহলে জনগণ আর কোথায় যাবে? আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চাই।’
নাচানাচির বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আব্দুল গাফফার বলেন, ‘আমার কোনো দুঃখ নাই, সব সময় সুখ নিয়েই চলি। দুঃখ করলে হার্ট অ্যাটাক কইরে মইরে যাব। খাইয়ে-দাইয়ে আইসে একটা মিম্বার একটা মোবাইলে গান দিয়েছে, আমি একটু নাচিছি। এইটুকুই গো ভাই, এক মিনিটও লয়। এটাই ছড়ায় গেছে। বোতলে সাদা পানি ছিল ভাই। মদটদ কিছু লয়।’
জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ‘১৩ আগস্ট আমি ছুটিতে ছিলাম। দায়িত্বে ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। সে মেম্বারদের গোস্ত-ভাত খাওয়ায়। তারপর কেউ ছিল না, খেয়েদেয়ে তারা একটু ডানা লড়ালড়ি করছিল। গাফফার মেম্বার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। এখানে নেশাভান কিছু না। বিষয়টা ভিন্নভাবে প্রচার করা হচ্ছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, ভিডিওটি তিনি দেখেছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও দেখেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলার উপপরিচালক তাঁর কাছে জানতে চেয়েছেন। এ জন্য মঙ্গলবার তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে ডেকে জানতে চেয়েছিলেন। আজ বুধবার সদস্যদের ডেকেছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫