দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শেষ ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত আরও ৬২৫ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে তুর্কিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদুলো এজেন্সি শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে এ তথ্য জানিয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গাজার সরাসরি বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী, আশ্রয়কেন্দ্র ও খাদ্যের সন্ধানে থাকা মানুষদের টার্গেট করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩৮ জন নিহত হয়েছে। বিমান অভিযানের আগে কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন দেয়নি ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। শুক্রবারের হামলায় অন্তত শতাধিক মরদেহ ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়নি।
ওই বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের হামলার পর গাজায় গত ২১ মাসে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ২৬৮ জন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৩ জনে পৌঁছেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ৩৫টির বেশি রক্তাক্ত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে চলমান হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় দখলদার নেতানিয়াহু প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে গাজার শাসক দল হামাসের আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের হামাস ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসরের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন- ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করার অত্যাবশ্যকীয় শর্তগুলোতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। তিনি আরও জানান, দুই মাস সময়ের মধ্যে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্রটি যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা চলবে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বারবার বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। যদিও তার এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে এখন পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে গাজার শাসক দলটি।
ওয়াশিংটনে আগামী সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। হোয়াইট হাউজে শুক্রবার সকালে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাস রাজি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টায় আমরা জানতে পারব।’
অন্যদিকে, গাজার মিডিয়া অফিস আগেই জানিয়েছে- ইসরায়েলি সেনারা উত্তর গাজা অঞ্চলের এক হাজারেরও বেশি বাড়িঘর পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, ওই এলাকার ৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে গাজা সিটির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের আশ্রয় দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই নেই।
এদিকে দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দুই মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
জাতিসংঘের মতে, দখলদার ইসরায়েলের নির্বিচার আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে অধিকাংশ অবকাঠামো।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়। এ কর্মসূচি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ভারতের বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, মানুষের জীবন যখন নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তাদের প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষের জীবন কঠিন করে তোলার পর এমন প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে এক ধরনের বেদনাদায়ক পরিহাস।
মোদি ও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা তাদের ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর সংকট তৈরি করার পাশাপাশি সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দিমাগি নকশাল’ তকমা দেওয়া হয়?
শ্রীলেখার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভয় শাসনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং ভিন্নমতকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। পোস্টটির মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা; অনেকে আবার শ্রীলেখার বক্তব্যের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়। এ কর্মসূচি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ভারতের বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, মানুষের জীবন যখন নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তাদের প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষের জীবন কঠিন করে তোলার পর এমন প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে এক ধরনের বেদনাদায়ক পরিহাস।
মোদি ও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা তাদের ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর সংকট তৈরি করার পাশাপাশি সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দিমাগি নকশাল’ তকমা দেওয়া হয়?
শ্রীলেখার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভয় শাসনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং ভিন্নমতকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। পোস্টটির মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা; অনেকে আবার শ্রীলেখার বক্তব্যের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন।

০৫ জুলাই, ২০২৫ ১১:৪৪
দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শেষ ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত আরও ৬২৫ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতির বরাতে তুর্কিভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদুলো এজেন্সি শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে এ তথ্য জানিয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গাজার সরাসরি বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী, আশ্রয়কেন্দ্র ও খাদ্যের সন্ধানে থাকা মানুষদের টার্গেট করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ১৩৮ জন নিহত হয়েছে। বিমান অভিযানের আগে কোনো সতর্ক সংকেত বা সাইরেন দেয়নি ইসরায়েলের বিমান বাহিনী। শুক্রবারের হামলায় অন্তত শতাধিক মরদেহ ধ্বংস্তূপের তলায় আটকা পড়েছেন। তাদের উদ্ধার করা এখনও সম্ভব হয়নি।
ওই বিবৃতিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের হামলার পর গাজায় গত ২১ মাসে মোট নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ২৬৮ জন এবং আহতের সংখ্যা ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৭৩ জনে পৌঁছেছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গত ৪৮ ঘণ্টায় ৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে ৩৫টির বেশি রক্তাক্ত গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে চলমান হত্যাযজ্ঞের মধ্যেই আমেরিকার মধ্যস্থতায় দখলদার নেতানিয়াহু প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে গাজার শাসক দল হামাসের আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের হামাস ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জমা দিয়েছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া মধ্যস্থতাকারী কাতার ও মিসরের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধের জন্য মধ্যস্থতাকারীদের সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার জানিয়েছেন- ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করার অত্যাবশ্যকীয় শর্তগুলোতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। তিনি আরও জানান, দুই মাস সময়ের মধ্যে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র রাষ্ট্রটি যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা চলবে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বারবার বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে। যদিও তার এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে এখন পর্যন্ত অস্বীকৃতি জানিয়েছে গাজার শাসক দলটি।
ওয়াশিংটনে আগামী সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। হোয়াইট হাউজে শুক্রবার সকালে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে হামাস রাজি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টায় আমরা জানতে পারব।’
অন্যদিকে, গাজার মিডিয়া অফিস আগেই জানিয়েছে- ইসরায়েলি সেনারা উত্তর গাজা অঞ্চলের এক হাজারেরও বেশি বাড়িঘর পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করেছে। পাশাপাশি, ওই এলাকার ৩ লাখেরও বেশি বাসিন্দাকে গাজা সিটির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের আশ্রয় দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোই নেই।
এদিকে দীর্ঘ ১৫ মাস সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপে গত ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইসরায়েল। তারপর প্রায় দুই মাস গাজায় কম-বেশি শান্তি বজায় ছিল; কিন্তু গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে হামাসের মতানৈক্যকে কেন্দ্র করে মার্চ মাসের তৃতীয় গত সপ্তাহ থেকে ফের গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
জাতিসংঘের মতে, দখলদার ইসরায়েলের নির্বিচার আক্রমণের কারণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে অধিকাংশ অবকাঠামো।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪