যেদিকে চোখ যায় চারদিকে শুধু পানি আর পানি। চারদিকে পানির মধ্যে জেগে ওঠা একটি চরে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে বসবাসরত হাজারো মানুষ নানা জরুরি সেবা ও নাগরিক সুবিধা থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত। সবচেয়ে বিপত্তি বাঁধে বর্ষাকালে। এ সময় কেউ মারা গেলে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কারণ কবরস্থান উঁচু না থাকায় পানিতে তলিয়ে যায়।
বলা যায়, পদ্মা পাড়ের এ অঞ্চলের মানুষ পুরোপুরি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত রয়েছেন। এখানে যেন নজর নেই কারও। বলছি, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা পাড়ের রাখালগাছি এলাকার কথা। উপজেলা থেকে রাখালগাছি যেতে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
তারমধ্যে নদী পার হতেই সময় লাগে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও রাখালগাছি অঞ্চলের মানুষ বসবাস করলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের এসবে কোনো নজর নেই। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। তাই দ্রুতই বর্তমান সরকারের কাছে শতভাগ নাগরিক সুবিধার দাবি জানিয়েছেন রাখালগাছি অঞ্চলের মানুষ।
জানা যায়, রাখালগাছি এলাকা নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলোই হলো তাদের একমাত্র ভরসা। চারপাশে শুধু পানি আর পানি। এ পানির মধ্যে জেগে ওঠা চরে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। আর তাদের চলাচলের রাস্তাগুলোও হয়ে পড়েছে বেহাল দশা ও চলাচলের অনুপযোগী। শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। বেশি সমস্যায় পড়তে হয় অন্তঃসত্ত্বা ও বয়স্কসহ শিশুদের। কারণ হাসপাতালে যেতে তাদের ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নদী পার হতে হয়।
তারপরও কোনো ডাক্তার আসেন না এখানে। স্বাস্থ্যসম্মত কোনো টয়লেট নেই। এখনো ঝুলন্ত টয়লেট ব্যবহার করছেন এখানকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিনিয়ত হচ্ছে বাল্যবিবাহ।সাইমদ্দিন প্রামানিক বলেন, এখানে বর্ষার পানি আসলে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
কেউ পদক্ষেপ নেয় না। এখানে কোনো কবরস্থান ছিল না। আমরা সবাই মিলে অল্প জায়গায় একটা কবরের করেছি। কবরস্থানের জায়গাটি নিচু জায়গায় হওয়ায় সেখানে পানিতে তলিয়ে যায়, তাই বর্ষার সময়ে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।
ঝর্ণা বেগম বলেন, আমাদের নৌকা ছাড়া চলার গতি নেই। আমরা খুব অসহায়। সরকারের কাছে দাবি আমাদের প্রতি মাসে যদি ডাক্তার আসে তাহলে আমরা একটু উপকার পাই। আমাদের দিকে কারও নজর নেই। খুবই কষ্টের মধ্যে আছি।
বাবু মাতুব্বর বলেন, আমাদের রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে। আমরা চলাচল করতে পারি না। খুব সমস্যা হয় চলাচলে। কৃষিকাজ করি তাই আমাদের রাস্তাটা খুবই জরুরি। এগুলো মেরামত করার জন্য কেউ এখনো আসেনি।
তবে এসব বিষয়ে দায়সারা বক্তব্য দিলেন, সংশ্লিষ্টরা! গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কবির হোসেন জানান, এটা উপজেলার শেষ সীমানায়। তারপরও সরকারের যে নীতিমালা রয়েছে স্কুল স্থাপনের ক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। ওই এলাকার মানুষজন দিনমজুরের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই অনেক বাচ্চাই পরিবারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। স্কুলে ঠিকমতো আসে না। শিশুদের স্কুলমুখী করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, এখানকার লোকজন যোগাযোগের জন্য আসলে চিকিৎসা সেবা থেকে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের নজরদারি রয়েছে। আমি মনে করি সেখানে যদি একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা যায় রাখালগাছি এলাকায় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাবে। এ বিষয়টি ইতিমধ্যেই উপর মহলে জানিয়েছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুর রহমান জানান, কিছু কিছু জায়গা দুর্গম, ঝুঁকিপূর্ণ ও নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় নিয়মিত যে সেবাগুলো দেওয়া দরকার স্বাভাবিকভাবে তাতে কিছুটা বিঘ্ন হয়। আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর রাখালগাছি এলাকার কবরস্থানের বিষয়টা আমাদের নজরে আছে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

১৪ আগস্ট, ২০২৫ ১১:৫৬
যেদিকে চোখ যায় চারদিকে শুধু পানি আর পানি। চারদিকে পানির মধ্যে জেগে ওঠা একটি চরে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। তবে বসবাসরত হাজারো মানুষ নানা জরুরি সেবা ও নাগরিক সুবিধা থেকে দিনের পর দিন বঞ্চিত। সবচেয়ে বিপত্তি বাঁধে বর্ষাকালে। এ সময় কেউ মারা গেলে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। কারণ কবরস্থান উঁচু না থাকায় পানিতে তলিয়ে যায়।
বলা যায়, পদ্মা পাড়ের এ অঞ্চলের মানুষ পুরোপুরি নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত রয়েছেন। এখানে যেন নজর নেই কারও। বলছি, রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের পদ্মা পাড়ের রাখালগাছি এলাকার কথা। উপজেলা থেকে রাখালগাছি যেতে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে।
তারমধ্যে নদী পার হতেই সময় লাগে সবচেয়ে বেশি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও রাখালগাছি অঞ্চলের মানুষ বসবাস করলেও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের এসবে কোনো নজর নেই। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসীন। তাই দ্রুতই বর্তমান সরকারের কাছে শতভাগ নাগরিক সুবিধার দাবি জানিয়েছেন রাখালগাছি অঞ্চলের মানুষ।
জানা যায়, রাখালগাছি এলাকা নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত ট্রলারগুলোই হলো তাদের একমাত্র ভরসা। চারপাশে শুধু পানি আর পানি। এ পানির মধ্যে জেগে ওঠা চরে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। আর তাদের চলাচলের রাস্তাগুলোও হয়ে পড়েছে বেহাল দশা ও চলাচলের অনুপযোগী। শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। বেশি সমস্যায় পড়তে হয় অন্তঃসত্ত্বা ও বয়স্কসহ শিশুদের। কারণ হাসপাতালে যেতে তাদের ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নদী পার হতে হয়।
তারপরও কোনো ডাক্তার আসেন না এখানে। স্বাস্থ্যসম্মত কোনো টয়লেট নেই। এখনো ঝুলন্ত টয়লেট ব্যবহার করছেন এখানকার হাজার হাজার মানুষ। প্রতিনিয়ত হচ্ছে বাল্যবিবাহ।সাইমদ্দিন প্রামানিক বলেন, এখানে বর্ষার পানি আসলে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়।
কেউ পদক্ষেপ নেয় না। এখানে কোনো কবরস্থান ছিল না। আমরা সবাই মিলে অল্প জায়গায় একটা কবরের করেছি। কবরস্থানের জায়গাটি নিচু জায়গায় হওয়ায় সেখানে পানিতে তলিয়ে যায়, তাই বর্ষার সময়ে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই।
ঝর্ণা বেগম বলেন, আমাদের নৌকা ছাড়া চলার গতি নেই। আমরা খুব অসহায়। সরকারের কাছে দাবি আমাদের প্রতি মাসে যদি ডাক্তার আসে তাহলে আমরা একটু উপকার পাই। আমাদের দিকে কারও নজর নেই। খুবই কষ্টের মধ্যে আছি।
বাবু মাতুব্বর বলেন, আমাদের রাস্তাগুলো ভেঙে গেছে। আমরা চলাচল করতে পারি না। খুব সমস্যা হয় চলাচলে। কৃষিকাজ করি তাই আমাদের রাস্তাটা খুবই জরুরি। এগুলো মেরামত করার জন্য কেউ এখনো আসেনি।
তবে এসব বিষয়ে দায়সারা বক্তব্য দিলেন, সংশ্লিষ্টরা! গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কবির হোসেন জানান, এটা উপজেলার শেষ সীমানায়। তারপরও সরকারের যে নীতিমালা রয়েছে স্কুল স্থাপনের ক্ষেত্রে সেক্ষেত্রে নীতিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। ওই এলাকার মানুষজন দিনমজুরের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাই অনেক বাচ্চাই পরিবারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। স্কুলে ঠিকমতো আসে না। শিশুদের স্কুলমুখী করার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শরিফুল ইসলাম জানান, এখানকার লোকজন যোগাযোগের জন্য আসলে চিকিৎসা সেবা থেকে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের নজরদারি রয়েছে। আমি মনে করি সেখানে যদি একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের ব্যবস্থা করা যায় রাখালগাছি এলাকায় ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাবে। এ বিষয়টি ইতিমধ্যেই উপর মহলে জানিয়েছি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাহিদুর রহমান জানান, কিছু কিছু জায়গা দুর্গম, ঝুঁকিপূর্ণ ও নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় নিয়মিত যে সেবাগুলো দেওয়া দরকার স্বাভাবিকভাবে তাতে কিছুটা বিঘ্ন হয়। আমরা ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আর রাখালগাছি এলাকার কবরস্থানের বিষয়টা আমাদের নজরে আছে।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪৩
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৫