মুসলিমদের ওপর ইসরায়েলের দমন-পীড়নের ইতিহাস নতুন নয়। এ অত্যাচার তারা চালিয়ে যাচ্ছে বহুদিন ধরেই। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা আরও উন্মোচিত হয়েছে। দমন‑পীড়নের এই ধারাবাহিকতা এখন শুধু ফিলিস্তিনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ‑আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা—সবই প্রশ্নের মুখে।
ইসরায়েল যখনই সুযোগ পেয়েছে মুসলিমদের স্বার্থের ওপর আঘাত হেনেছে। বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা যেখানেই মাথা তুলে দাঁড়াতে চেয়েছে সেখানেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের থামাতে উঠেপড়ে লেগেছে ইসরায়েল। এমনকি মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালাতেও দ্বিধা করেনি তারা। সম্প্রতি গাজায় গণহত্যা থেকে শুরু করে ইরানে হামলা আমাদের ইসরায়েলের সেই এজেন্ডাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
ইরানে সামরিক অভিযান: ‘নিরাপত্তা’র নামে নিধন
ইরানের নাতানজ, ইসফাহান ও আরাকের মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের ১৩ জুনের ‘অপারেশনাল হামলা’ উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। প্রায় ২০০টি ফাইটার জেট ব্যবহার করে চালানো এই অভিযানে ৬০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ১,৩০০ জনের আহত হওয়া ইসরায়েলি সামরিক পরিকল্পনার নিষ্ঠুর দিকটাই তুলে ধরে। এই আক্রমণ শুধু ইরানের সামরিক পরিকাঠামো নয়, বেসামরিক জনগণের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থামাতেই এসব অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করলেও প্রাথমিক আঘাত এসে পড়ে হাসপাতাল, গবেষণাগার, এমনকি আবাসিক এলাকায়। এতে বোঝা যায়, ‘সামরিক অভিযান’-এর আড়ালে রয়েছে মুসলিমপ্রধান একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে তোলার সুস্পষ্ট কৌশল।
ফিলিস্তিনে মানবিক বিপর্যয়
গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন শুধু আরেকটি সীমান্ত দ্বন্দ্ব নয়, এটি একটি মানবিক সংকট। নির্বিচারে গ্রেনেড, ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা বর্ষণের ফলে নিহত হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। মসজিদ, হাসপাতাল, স্কুল—সবই হামলার আওতায় পড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত সতর্ক করলেও বাস্তবে পরিবর্তন নেই। বরং, ইসরায়েলের দমননীতিকে বৈধতা দিতে পশ্চিমা দেশের নীরবতা এই হত্যাযজ্ঞকে আরও উৎসাহিত করছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে মুসলিম নাগরিকদের অবস্থা
এমনকি ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসরত মুসলিম নাগরিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাইফা, তামরা, আরবা, লদসহ মুসলিম অধ্যুষিত শহরগুলোতে নেই আশ্রয়কেন্দ্র বা জরুরি সেবা। ‘একই দেশের নাগরিক’ হয়েও তাদের প্রতি সরকারের অবহেলা স্পষ্ট। হাইফার একটি মসজিদে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনায় কাঠামোগত ক্ষতি কম হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে ছিল বড় ধাক্কা। এই বৈষম্য কেবল সামাজিক নয়, রাজনৈতিকও, যা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরেই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য প্রমাণ করে।
লেবাননের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ
লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের বহু পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে হিজবুল্লাহকে ঘিরে। ২০০৬ সালের যুদ্ধের জের আজও রয়ে গেছে সীমান্তে। গাজা যুদ্ধের পর নতুন করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ, পাল্টা আক্রমণ করছে ইসরায়েলও। এতে সীমান্তের হাজারো সাধারণ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। এই সংঘাতে ইরান-হিজবুল্লাহ সম্পর্ক যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের মুসলিমবিরোধী যুদ্ধকে আরও আঞ্চলিক রূপ দিয়েছে।
বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র ও ইসলামভীতি
ইসরায়েল কেবল সামরিক নয়, তথ্যপ্রযুক্তির হাতিয়ারে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিমা দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে ইসলামভীতির (ইসলামোফোবিয়া) সংস্কৃতি তৈরি করছে। এটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ—যার লক্ষ্য মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করা।
ধর্মীয় অনুভূতির ওপর হামলা
ইসরায়েলি নীতির আরেকটি দিক হলো ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত। মসজিদে হামলা, কোরআন অবমাননা, পোশাক নিয়ে বিদ্রুপ—এসব ঘটনা মুসলিমদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। এটি শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অবমাননা নয়; বরং বৈশ্বিক ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর হুমকি।
মুসলিম দেশগুলোতে ‘টার্গেটেড কিলিং’
ইসরায়েল বর্তমানে ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করার নীতিতে বিশ্বাস করছে। হামাস, ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, আইআরজিসি—এই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহেই অনেককে হত্যা করা হচ্ছে। কিছু মানুষ ছিলেন সাংবাদিক, কেউ গবেষক, যাদের বিরুদ্ধে বিচার ছাড়াই প্রাণহানি ঘটছে। এতে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালাই ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
পরিশেষে, ইসরায়েল বর্তমানে কেবল একটি রাষ্ট্র নয়; বরং একটি কৌশলগত ব্যবস্থা—যার কেন্দ্রে রয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দুর্বল করা। এটি সামরিক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং ধর্মীয় সব মাত্রাতেই সক্রিয়। মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই নিপীড়নকে কীভাবে প্রতিহত করা যায়? কূটনৈতিকভাবে? সামরিকভাবে? নাকি ঐক্যের ভিত্তিতে?
যে বাস্তবতায় ঘরে-বাইরে মুসলিমরা একে একে ইসরায়েলের নিশানা হয়ে উঠছে, সে বাস্তবতা শুধু মুসলিমদের নয়, গোটা বিশ্বমানবতার অস্তিত্বের জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০১টি চুক্তি বর্তমান সরকার পর্যালোচনা করছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হলেও, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে নয়াদিল্লিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে ভারত।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটি নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিয়ে রাখছে।
শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক উঠে আসে।
এএনআইয়ের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ বের হলেও বাংলাদেশ সরকার তাদের কূটনৈতিকভাবে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে এবং সে অনুযায়ী তারা পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, গত ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে, বিগত সরকারের করা ১০১টি চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যাচাই-বাছাই করে দেখছে। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শর্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার পরেই এসব চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খবর প্রসঙ্গে ভারতের মুখপাত্র বলেন, দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্বটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারেরই।
এ ছাড়া পাকিস্তান ও কুয়েতের মধ্যকার সামরিক সহযোগিতা এবং বাংলাদেশের সঙ্গে প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সওয়াল জানান, ভারতের নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন যেকোনো বিষয় তারা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারত পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলা ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র। তিনি জানান, গঙ্গার পানি বণ্টন ও অন্যান্য অভিন্ন নদীর পানি সংক্রান্ত বিষয়াদি সমাধানের জন্য যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত কারিগরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:৪০
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে পুলিশ সদর দপ্তরের ভেতরের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৫৬ জনের বেশি।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশদ্বারে ধাক্কা দিলে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ এটিকে আত্মঘাতী হামলা বলে নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের পর কয়েকজন অস্ত্রধারী পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। হামলায় মসজিদটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুলিশ স্টেশনের বাইরের সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়েছে।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সক্রিয় এবং এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন হামলা চালিয়েছে।
আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৮
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়। এ কর্মসূচি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ভারতের বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, মানুষের জীবন যখন নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তাদের প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষের জীবন কঠিন করে তোলার পর এমন প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে এক ধরনের বেদনাদায়ক পরিহাস।
মোদি ও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা তাদের ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর সংকট তৈরি করার পাশাপাশি সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দিমাগি নকশাল’ তকমা দেওয়া হয়?
শ্রীলেখার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভয় শাসনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং ভিন্নমতকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। পোস্টটির মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা; অনেকে আবার শ্রীলেখার বক্তব্যের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থানে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বান জানানো হয়। এ কর্মসূচি নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।
ভারতের বন্যা পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের সংকটের প্রসঙ্গ তুলে প্রদীপ জ্বালানোর আহ্বানকে ‘বেদনাদায়ক পরিহাস’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শ্রীলেখা লেখেন, মানুষের জীবন যখন নানা সংকটে বিপর্যস্ত, তখন তাদের প্রদীপ জ্বালাতে বলা হচ্ছে। তার ভাষায়, মানুষের জীবন কঠিন করে তোলার পর এমন প্রত্যাশা নিঃসন্দেহে এক ধরনের বেদনাদায়ক পরিহাস।
মোদি ও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে শ্রীলেখা তাদের ‘স্বৈরাচারী’ বলেও মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পত্তি ও জীবিকার ওপর সংকট তৈরি করার পাশাপাশি সম্প্রদায়, জাতি ও ধর্মের মধ্যে বিভেদও বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন—এভাবে সমাজ কোন দিকে এগিয়ে যাচ্ছে? কেমন সমাজ তৈরি হচ্ছে, যেখানে অন্ধ অনুসারীদের ভক্ত হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়, আর শিক্ষিত ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ‘দিমাগি নকশাল’ তকমা দেওয়া হয়?
শ্রীলেখার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ভয় শাসনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে এবং ভিন্নমতকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা হয়। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঘোরতর পরিহাস’ ও ‘অন্ধকার যুগ’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন।
এদিকে অভিনেত্রীর এই পোস্ট ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। পোস্টটির মন্তব্যে পক্ষে-বিপক্ষে নানা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা; অনেকে আবার শ্রীলেখার বক্তব্যের সঙ্গে একমতও পোষণ করেছেন।

২১ জুন, ২০২৫ ২১:০৭
মুসলিমদের ওপর ইসরায়েলের দমন-পীড়নের ইতিহাস নতুন নয়। এ অত্যাচার তারা চালিয়ে যাচ্ছে বহুদিন ধরেই। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তা আরও উন্মোচিত হয়েছে। দমন‑পীড়নের এই ধারাবাহিকতা এখন শুধু ফিলিস্তিনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ‑আমেরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর ফলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অধিকার, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা—সবই প্রশ্নের মুখে।
ইসরায়েল যখনই সুযোগ পেয়েছে মুসলিমদের স্বার্থের ওপর আঘাত হেনেছে। বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা যেখানেই মাথা তুলে দাঁড়াতে চেয়েছে সেখানেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের থামাতে উঠেপড়ে লেগেছে ইসরায়েল। এমনকি মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালাতেও দ্বিধা করেনি তারা। সম্প্রতি গাজায় গণহত্যা থেকে শুরু করে ইরানে হামলা আমাদের ইসরায়েলের সেই এজেন্ডাই আবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
ইরানে সামরিক অভিযান: ‘নিরাপত্তা’র নামে নিধন
ইরানের নাতানজ, ইসফাহান ও আরাকের মতো পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের ১৩ জুনের ‘অপারেশনাল হামলা’ উত্তেজনাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। প্রায় ২০০টি ফাইটার জেট ব্যবহার করে চালানো এই অভিযানে ৬০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ১,৩০০ জনের আহত হওয়া ইসরায়েলি সামরিক পরিকল্পনার নিষ্ঠুর দিকটাই তুলে ধরে। এই আক্রমণ শুধু ইরানের সামরিক পরিকাঠামো নয়, বেসামরিক জনগণের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থামাতেই এসব অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র লক্ষ্য করলেও প্রাথমিক আঘাত এসে পড়ে হাসপাতাল, গবেষণাগার, এমনকি আবাসিক এলাকায়। এতে বোঝা যায়, ‘সামরিক অভিযান’-এর আড়ালে রয়েছে মুসলিমপ্রধান একটি রাষ্ট্রকে দুর্বল করে তোলার সুস্পষ্ট কৌশল।
ফিলিস্তিনে মানবিক বিপর্যয়
গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন শুধু আরেকটি সীমান্ত দ্বন্দ্ব নয়, এটি একটি মানবিক সংকট। নির্বিচারে গ্রেনেড, ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা বর্ষণের ফলে নিহত হচ্ছে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। মসজিদ, হাসপাতাল, স্কুল—সবই হামলার আওতায় পড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত সতর্ক করলেও বাস্তবে পরিবর্তন নেই। বরং, ইসরায়েলের দমননীতিকে বৈধতা দিতে পশ্চিমা দেশের নীরবতা এই হত্যাযজ্ঞকে আরও উৎসাহিত করছে।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে মুসলিম নাগরিকদের অবস্থা
এমনকি ইসরায়েলের ভেতরে বসবাসরত মুসলিম নাগরিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হাইফা, তামরা, আরবা, লদসহ মুসলিম অধ্যুষিত শহরগুলোতে নেই আশ্রয়কেন্দ্র বা জরুরি সেবা। ‘একই দেশের নাগরিক’ হয়েও তাদের প্রতি সরকারের অবহেলা স্পষ্ট। হাইফার একটি মসজিদে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনায় কাঠামোগত ক্ষতি কম হলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে ছিল বড় ধাক্কা। এই বৈষম্য কেবল সামাজিক নয়, রাজনৈতিকও, যা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতরেই প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য প্রমাণ করে।
লেবাননের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও হিজবুল্লাহ প্রসঙ্গ
লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের বহু পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে হিজবুল্লাহকে ঘিরে। ২০০৬ সালের যুদ্ধের জের আজও রয়ে গেছে সীমান্তে। গাজা যুদ্ধের পর নতুন করে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ, পাল্টা আক্রমণ করছে ইসরায়েলও। এতে সীমান্তের হাজারো সাধারণ মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়েছে। এই সংঘাতে ইরান-হিজবুল্লাহ সম্পর্ক যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের মুসলিমবিরোধী যুদ্ধকে আরও আঞ্চলিক রূপ দিয়েছে।
বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র ও ইসলামভীতি
ইসরায়েল কেবল সামরিক নয়, তথ্যপ্রযুক্তির হাতিয়ারে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন মুসলিম দেশে গোয়েন্দা তৎপরতা, নজরদারি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে। পশ্চিমা দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মনোভাব ছড়িয়ে ইসলামভীতির (ইসলামোফোবিয়া) সংস্কৃতি তৈরি করছে। এটি মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ—যার লক্ষ্য মুসলিম সমাজকে ভেতর থেকে দুর্বল করা।
ধর্মীয় অনুভূতির ওপর হামলা
ইসরায়েলি নীতির আরেকটি দিক হলো ধর্মীয় অনুভূতির ওপর সুপরিকল্পিত আঘাত। মসজিদে হামলা, কোরআন অবমাননা, পোশাক নিয়ে বিদ্রুপ—এসব ঘটনা মুসলিমদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। এটি শুধু একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অবমাননা নয়; বরং বৈশ্বিক ধর্মীয় সহনশীলতার ওপর হুমকি।
মুসলিম দেশগুলোতে ‘টার্গেটেড কিলিং’
ইসরায়েল বর্তমানে ‘টার্গেটেড কিলিং’ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যা করার নীতিতে বিশ্বাস করছে। হামাস, ইসলামিক জিহাদ, হিজবুল্লাহ, আইআরজিসি—এই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা সন্দেহেই অনেককে হত্যা করা হচ্ছে। কিছু মানুষ ছিলেন সাংবাদিক, কেউ গবেষক, যাদের বিরুদ্ধে বিচার ছাড়াই প্রাণহানি ঘটছে। এতে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালাই ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
পরিশেষে, ইসরায়েল বর্তমানে কেবল একটি রাষ্ট্র নয়; বরং একটি কৌশলগত ব্যবস্থা—যার কেন্দ্রে রয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দুর্বল করা। এটি সামরিক, রাজনৈতিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং ধর্মীয় সব মাত্রাতেই সক্রিয়। মুসলিম বিশ্বের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—এই নিপীড়নকে কীভাবে প্রতিহত করা যায়? কূটনৈতিকভাবে? সামরিকভাবে? নাকি ঐক্যের ভিত্তিতে?
যে বাস্তবতায় ঘরে-বাইরে মুসলিমরা একে একে ইসরায়েলের নিশানা হয়ে উঠছে, সে বাস্তবতা শুধু মুসলিমদের নয়, গোটা বিশ্বমানবতার অস্তিত্বের জন্যই এক বড় চ্যালেঞ্জ।
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৪
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১৬