পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের দুই চিকিৎসকের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শামসুল ইসলাম সোহেল ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ মু. উমর ফারুক জাবিরকে ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
যা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, ব্যবসায়ী, বেসরকারী চাকুরীজীবি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার দুই সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার "মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ" এর ব্যানারে সুবিদখালী সরকারী রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা বরগুনা মহাসড়কে সকাল ১০টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে সড়ক অবরোধ করে ডাক্তারদ্বয়কে পুর্নবহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল করে উপজেলা শহর। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রেরণ করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা বেগম, মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল, সুবিদখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা ইমরুল ইসলাম আলাল, মোঃ রবিউল ইসলাম রুবেল, মোঃ সাব্বির ফরাজী, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম আজাদ, মোঃ ওলি উল্লাহ, মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, কলেজ শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার ও গৃহিণী আনজুম আরা বেগম প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কিছু দালাল সিন্ডিকেট করে হাসপাতাল চত্ত্বরে রোগীদেরকে তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেষ্ট করাতে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। উল্লিখিত দুই ডাক্তার রোগীদেরকে টেস্ট করাতে চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করে রোগীদের হয়রানি না করতে নিষেধ করলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা ষড়যন্ত্র করে এই দুই মানবিক ডাক্তারের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তাদেরকে বদলি করিয়েছেন। বক্তারা এই দুই ডাক্তারের বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পুর্নবহালের চান। আন্দোলনকারীরা হুমকি দিয়ে বলেন,আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
স্মারকলিপি গ্রহন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ শামসুল ইসলাম সোহেল ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ মু. উমর ফারুক জাবির এর বদলির আদেশ হওয়ার সংবাদ জানতে পেরেছি। মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়ে পটুয়াখালী মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করে স্মারকলিপিটি পাঠিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় জনসাধারণের দাবির বিষয়টির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানবিক দিক বিবেচনা করে উল্লিখিত ডাক্তারদ্বয়ের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা স্মারকলিপি গ্রহন করে বলেন, ডাঃ শামসুল ইসলাম সোহেল ও ডাঃ মু. উমর ফারুক জাবি’র এর বদলির আদেশনামা হাতে পেয়েছি।
হাসপাতালে কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের সক্রিয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন,ডাক্তারদের এই বদলির পিছনে কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও দালালদের ষড়যন্ত্র আছে বলে ধারণা করছি।
আমার এখানে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৭জন ডাক্তার আছেন, এখন আরও দুইজন কমে মাত্র ৫ জন ডাক্তার দিয়ে উপজেলাবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া খুব কষ্টসাধ্য হবে। ডাক্তারদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারে দাবির বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন মহোদয়সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:২৫
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়ীয়া গ্রমে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী পারভেজ সহ কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজ মৃধা সহ তাদের বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীকে উত্ত্যক্ত করিনি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দিত। একপর্যায়ে সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও সে আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিত।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:১৬
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান এবং মিরাজ খান গং কর্তৃক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলম শুভ খানসহ কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন হামলার শিকার সাইফুল আলম।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু সোলাইমান খানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান প্রায় এক যুগ ধরে দাপটের সাথে গাঁজা ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে পূনরায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফিরোজ খান ও মিরাজ খানের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল আলম শুভ সহ কয়েকজন যুবক।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে গত ২৪ জুলাই রাতে ফিরোজ খান ও মিরাজ খানসহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইফুল আলম শুভ, মনির হোসেন,আবু তাহের সহ কয়েকজন যুবকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৫৩
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। চলতি মাসের ২২ তারিখ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে চলে যান। সেখানে তাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজী না হলে শহিদুল তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ ওই বিধবা ভুক্তভোগী নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহীদুলের বোনের বাসায় নিয়ে গেলে কক্ষের মধ্যে আটকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু তার (মো.শহিদুল) নামে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত না। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন সত্য নাকি মিথ্যা। দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:৫৫
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের দুই চিকিৎসকের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শামসুল ইসলাম সোহেল ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ মু. উমর ফারুক জাবিরকে ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
যা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী, ব্যবসায়ী, বেসরকারী চাকুরীজীবি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, গৃহিণী ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার দুই সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার "মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ" এর ব্যানারে সুবিদখালী সরকারী রহমান ইসহাক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ঢাকা বরগুনা মহাসড়কে সকাল ১০টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন শেষে সড়ক অবরোধ করে ডাক্তারদ্বয়কে পুর্নবহালের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাল করে উপজেলা শহর। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট স্মারকলিপি প্রেরণ করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা বেগম, মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল, সুবিদখালী সরকারি কলেজ ছাত্রদল নেতা ইমরুল ইসলাম আলাল, মোঃ রবিউল ইসলাম রুবেল, মোঃ সাব্বির ফরাজী, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম আজাদ, মোঃ ওলি উল্লাহ, মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, কলেজ শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার ও গৃহিণী আনজুম আরা বেগম প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কিছু দালাল সিন্ডিকেট করে হাসপাতাল চত্ত্বরে রোগীদেরকে তাদের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টেষ্ট করাতে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। উল্লিখিত দুই ডাক্তার রোগীদেরকে টেস্ট করাতে চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান করে রোগীদের হয়রানি না করতে নিষেধ করলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালরা ষড়যন্ত্র করে এই দুই মানবিক ডাক্তারের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করে তাদেরকে বদলি করিয়েছেন। বক্তারা এই দুই ডাক্তারের বদলির আদেশ প্রত্যাহার করে মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পুর্নবহালের চান। আন্দোলনকারীরা হুমকি দিয়ে বলেন,আদেশ প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
স্মারকলিপি গ্রহন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোঃ শামসুল ইসলাম সোহেল ও মেডিকেল অফিসার ডাঃ মু. উমর ফারুক জাবির এর বদলির আদেশ হওয়ার সংবাদ জানতে পেরেছি। মির্জাগঞ্জ উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের ব্যানারের পক্ষ থেকে একটি স্মারকলিপি পেয়ে পটুয়াখালী মাননীয় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করে স্মারকলিপিটি পাঠিয়ে দিয়েছি। স্থানীয় জনসাধারণের দাবির বিষয়টির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মানবিক দিক বিবেচনা করে উল্লিখিত ডাক্তারদ্বয়ের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ প্রশান্ত কুমার সাহা স্মারকলিপি গ্রহন করে বলেন, ডাঃ শামসুল ইসলাম সোহেল ও ডাঃ মু. উমর ফারুক জাবি’র এর বদলির আদেশনামা হাতে পেয়েছি।
হাসপাতালে কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের সক্রিয়তা স্বীকার করে তিনি বলেন,ডাক্তারদের এই বদলির পিছনে কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক ও দালালদের ষড়যন্ত্র আছে বলে ধারণা করছি।
আমার এখানে ২১ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৭জন ডাক্তার আছেন, এখন আরও দুইজন কমে মাত্র ৫ জন ডাক্তার দিয়ে উপজেলাবাসীকে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া খুব কষ্টসাধ্য হবে। ডাক্তারদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারে দাবির বিষয়টি নিয়ে পটুয়াখালী সিভিল সার্জন মহোদয়সহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
পটুয়াখালীর বাউফলে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ফারুক হোসেন প্যাদাকে (৪০) মারধর করার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে খেজুরবাড়ীয়া গ্রমে এ ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ফারুক হোসেন প্যাদার বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী পারভেজ সহ কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসা করলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত ফারুককে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা বলেন, স্থানীয় সাইদুল, পারভেজ মৃধা সহ তাদের বাড়ির ৪-৫ জন আমাকে মারধর করেছে। তারা আমার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। অতীতে তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে আমার বিরুদ্ধে এক নারীর সম্পর্ক রয়েছে বলে গুজব ছড়াচ্ছে। আমি তাদের এ ধরনের মিথ্যা অপবাদ না ছড়ানোর অনুরোধ করি। আমি কোনো নারীকে উত্ত্যক্ত করিনি। তারপরও কথিত অভিযোগে আমাকে মারধর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওই গৃহবধূর পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে আমার পুত্রবধূকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করত। তাকে টাকা-পয়সার প্রলোভন দিত। একপর্যায়ে সে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল। প্রথমে আমরা তা বিশ্বাস করিনি। পরে কিছু ছবি দেখানোর পর বিষয়টি বিশ্বাস করি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। এরপরও সে আমার পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিত।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, মারধরের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটুয়াখালীর দুমকিতে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান এবং মিরাজ খান গং কর্তৃক সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুল আলম শুভ খানসহ কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় দুমকি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন হামলার শিকার সাইফুল আলম।
জানা যায়, উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৃত্যু সোলাইমান খানের ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ফিরোজ খান প্রায় এক যুগ ধরে দাপটের সাথে গাঁজা ইয়াবার ব্যবসা করে আসছে। ব্যবসা করতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার মাদকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকসহ গ্রেফতার হন। কিছুদিন জেল খেটে বেরিয়ে পূনরায় বীরদর্পে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ফিরোজ খান ও মিরাজ খানের প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করেন একই এলাকার বাসিন্দা সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ সাইফুল আলম শুভ সহ কয়েকজন যুবক।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থেকে গত ২৪ জুলাই রাতে ফিরোজ খান ও মিরাজ খানসহ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইফুল আলম শুভ, মনির হোসেন,আবু তাহের সহ কয়েকজন যুবকের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এবং এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’
বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী। চলতি মাসের ২২ তারিখ পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৭ বছর আগে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মারা যান। এরপর তিনি একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বাবা বাড়ি ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে চলে যান। সেখানে তাকে দেখার পর শহিদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দেন। এতে রাজী না হলে শহিদুল তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ ওই বিধবা ভুক্তভোগী নারীকে প্রলোভন দেখিয়ে শহরের শেরে বাংলা সড়কে শহীদুলের বোনের বাসায় নিয়ে গেলে কক্ষের মধ্যে আটকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন অভিযুক্ত শহিদুল। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শহরে নিয়ে আসা হয়। পরে শহিদুলের বোনের বাসায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়েছেন। পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা এজাহার পূর্বক আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু তার (মো.শহিদুল) নামে আদালতে মামলা হয়েছে, এ বিষয়ে আমাদের কিছু বলা উচিত না। আদালত তার বিচার করবেন। আদালত দেখবেন সত্য নাকি মিথ্যা। দোষী হলে পরে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বরিশালটাইমসকে বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত মামলার কপি হাতে পাইনি। কপি হাতে পেলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’