বরিশাল মহানগর যুবলীগ নেতা মারুফ আহমেদ জিয়া একজন সরকারি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে বীরদর্পে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাহসিকতার নেপথ্য শক্তি নিয়ে কি ইঙ্গিত দিলেন তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রগতিশীল ধ্যান-ধারনার মানুষের মধ্যে প্রশ্ন এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি গত ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালের। ওই দিন জিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের হাজির হয়ে একটি ঠিকাদারী কাজের স্টিমেট জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বাধ সাধলে দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হককে বেদম প্রহার করেন। এই ঘটনা অনেকটা নীরবে ঘটলেও শুক্রবার রাতে লাঞ্ছিত ওবায়দুল এ সংক্রান্ত থানায় অভিযোগ জানিয়ে মামলা করার পরপরই ঘটনার আদ্যপান্ত প্রকাশ পায় এবং বিষয়টি স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ফের মিডিয়ার শিরোনাম হন মারুফ আহমেদ জিয়া। বরিশালে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কারণে এই যুবক বেশ আলোচিত-সমালোচিত মুখ। এক সময় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী হিসেবে দাপট দেখিয়ে চলা মারুফ হঠাৎ করে রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করে নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষ নেন। এবং সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে তার পক্ষাবলম্বন করে প্রচারণা এবং নিজেও কাউন্সিলর প্রার্থী হন। অবশ্য নেতা খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচিত হলেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী সাদেকপন্থী মজিবর রহমানের কাছে শোচনীয় পরাজিত হন। একই ব্যক্তির সাথে দুইবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে রাজনৈতিক সর্বশক্তি প্রয়োগের পরেও পরাজয়ের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মারুফ আহমেদ জিয়া আলোচনায় ছিলেন। এবং পরাজিত হলেও তার দাপট আরও একগুণ বেড়ে যায় বলে স্থানীদের অভিমত। প্রশ্ন সেখানেই হঠাৎ করে একজন প্রকৌশলীকে প্রহার করার পিছনে রাজনৈতিক শক্তি ও সমর্থন তাকে এই সাহসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছে বলে এমনটি বরিশালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষপট সে কথাই মনে করিয়ে দেয় কি? কারণ ক্ষমতার তারতম্য বিবেচনায় ভাতিজা সাদিক আব্দুল্লাহ অপেক্ষা চাচা খোকন সেরনিয়াবাতের আধিপত্য সৃষ্টি হওয়ায় কেউ কেউ এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব দেওয়ার আড়ালে সন্ত্রাসী জগতের ডন হিসেবে উত্থ্যানের অভিযোগ উঠেছে, যা কিনা সিভিল প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবগত।
রাজনৈতিক বোদ্ধা ও সমাজ বিশ্লেষকদের ধারনা, জিয়ার পরিবার বরাবরই সব সরকারের আমলে দাপটের সাথেই আছেন বলে নানান ঘটনায় প্রতীয়মাণ হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছর একটানা শাসনামলে জিয়ার দাপট ছিলো সমান্তরাল। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রথমভাগে তার বোন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর আয়েশা তৌহিদ লুনা প্রয়াত সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সমর্থনপুষ্ট হওয়ায় তৎসময় জিয়া যুবলীগ নেতা হিসেবে বাংলা বাজার টু আলেকান্দা এলাকায় নিজের শক্তিকে সমীহের জায়গায় নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, বিএনপি আমলেও জিয়া ছিলেন অদম্য। একদিকে নগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে কাউন্সিলর লুনার দহরম-মহরম এবং বড় ভাই জাতীয় পার্টির একাংশের আহ্বায়ক বশির আহমেদ ঝুনুর অতীত প্রভাবকে ব্যবহার করে জিয়ার শক্তির উত্থ্যান ঘটে। যদিও জিয়া আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে আগে থেকে জড়িত।
অভিযোগের সুরে জানা গেলে, সময়ের আবর্তে রাজনীতির চাকা ঘুরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জিয়া রাজনীতিতে আড়মোড়া দিয়ে ওঠে। এ সময় কাউন্সিলর লুনাও নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে ভোল পাল্টে প্রথমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয়ভাবে দলের জেলার কর্ণধর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র প্রয়াতপত্নী বেগম সাহানারা আব্দুল্লাহ’র হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ক্ষমতা খর্ব এবং প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরন মেয়র হিসেবে বরিশালে দাপটশীল বলয় তৈরী করলে কাউন্সিলর লুনা হয়ে যান এই নেতার প্রিয়ভাজন। পক্ষান্তরে জিয়া হাসনাত সমর্থিত যুবলীগ নেতা হওয়া সত্বেও বোন লুনার বদৌলতে হিরনের নেক নজরে থেকে টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে চলতেন। আকস্মিক সদর আসনের সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় শওকত হোসেনের মৃত্যু ঘটলে এই ভাই-বোন ক্ষমতার রাজনীতি থেকে কিছুটা চুপসে যান। তাছাড়া পটুয়াখালীর পৌর কাউন্সিলর লুনার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ মৃত্যুবরণ করলে আরও ঘরমুখো হয়ে পড়েন বোন লুনা। কিন্তু সময় বেশি দিন লাগেনি, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানেই আবারও জিয়া কাকতালীয়ভাবে দাপটের রাজনীতির স্বাদ পেয়েছেন বলে কোন কোন মহল দাবি করছে।
বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহ বরিশাল রাজনীতিতে পদার্পন এবং ২০১৮ সালে অনুুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলীয় মেয়র নির্বাচিত হলে নয়া এই রাজনীতিবিদের সাথে বয়সের মিল থাকায় দু’জনার ভিতর ভিষণ ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হয়ে যান সাদিকপন্থী শক্তিধর যুবলীগ নেতা। পেয়ে যান নগর যুবলীগের সদস্য পদ। বরাবরই ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থাকা জিয়া অনুধাবন করেন সাদেক আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত এবং তার চাচা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় বরিশালের দলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ায় হাসনাত পরিবারের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
আবার কেউ বলছে, মজিবর রহমানের ছোট ভাই আরেক যুবলীগ নেতা নামও অভিন্ন জিয়াউর রহমান জিয়া রাজনৈতিক কৌশলের দরজা দিয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় মারুফ অহমেদ জিয়া বিষয়টি ভালো চোখে নেয়নি, কমিয়ে দেয় মেয়রের কালীবাড়ির বাসভবনে যাতায়াত। হাল সময়ে হঠাৎ করে তিনিও ভোল পাল্টে হয়ে যান খোকন সেরনিয়াবাত ঘরানার রাজনীতিবিদ। সেই সাথে তার বোন লুনাও যুক্ত হয় একই শিবিরে।
অনুসন্ধানে আভাস মেলে যে, অবশ্য এ ক্ষেত্রে মূল টার্গেট ছিলো অথবা ভেবেছিলো খোকন সেরনিয়াবাদের ক্ষমতার প্রভাব অথবা সমর্থন নিয়ে হাসনাত-সাদিক সমর্থিত মজিবর রহমানকে পরাজিত করা এবার হয়তো সহজতর হবে। রাজনীতিতে একই ঘরনার লোক হলেও ১১ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রিক আধিপত্য নিয়ে মজিবর রহমানের সাথে মারুফ আহমেদ জিয়ার পরিবারের শীতল বিরোধ চলে আসছিলো। শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে লড়াই চলছে।
এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে মজিবর রহমানের সাথে লড়াই করে পরাজয় অর্থাৎ কাউন্সিলর হওয়ার ব্যর্থতার পিছনে সাদিকের অতটা সমর্থন পায়নি বিধায় মান-অভিমানের পাল্লাটা সেখান থেকে ভারী হতে থাকে এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন বিকল্প শক্তিধর নেতার আবির্ভাবে, যেখানে আশ্রয়-সমর্থন পাওয়া যায়।
তার ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, মারুফ আহমেদ জিয়া একাবার মনস্থিরও করেছিলেন বরিশাল সদর আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের স্রোতধারায় নিজেকে সামিল করবেন। এ ক্ষেত্রে কৌশল হচ্ছে, মন্ত্রীর সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর মজিবর রহমানের সাথে ক্ষমতার টক্কর জমিয়ে তোলা। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অপেক্ষা মেয়র সাদিক অনেক দুর্বল এবং কোন টেন্ডারবাজি বা ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি মনস্ক না হওয়ায় জাহিদ ফারুক শামীমের দরজায় যাই যাই করে আর যাওয়া হয়নি। খোকন সেরনিয়াবাত সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর জাহিদ ফারুক শামীমের সাথে একট্টা হয়ে মাঠে নামনে জিয়া কৌশলে এই প্রতিমন্ত্রীর নজরে নিজেকে নিয়ে আসে এবং খোকন সেরনিয়াবাতের সমর্থনে নতুন করে রাজনৈতিক মাঠ গরমের সুযোগ নিয়ে নিজের শক্তিমাত্রা প্রদর্শনের সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু তার বয়স অপেক্ষা যুবলীগ নেতা ওয়াসিম দেওয়ান, ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ও বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মঈন তুষার নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্টতর হওয়ার কারণে প্রাধান্য দেওয়ায় জিয়া নিজেকে এই শিবিরে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারছিলেন না। যতটা না পেরেছিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে। খোকন সেরনিয়াবাত দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বরিশাল আওয়ামী লীগ দ্বি-খন্ডিত হয়ে সাদেক আব্দুল্লাহকে চেপে ধরতে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখল এবং প্রশাসনের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি হওয়ায় জিয়ার হয়তো ধারনা ছিলো গণপূর্ত অধিদপ্তরে অঘটন ঘটিয়ে ফায়দা লোটার পাশাপাশি নিজের শক্তি-সমর্থ জানান দিতে।
গত ১০ আগস্ট সকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঘটনায় প্রকাশ পায় তিনি এই দপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ টেন্ডারবাজি করে আসছিলেন। ওই দপ্তরে ঘুরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ জানাও গেল। তবে প্রত্যক্ষদর্শী দুইজন ব্যক্তির বর্ণনায় জিয়া দাপ্তরিক কাজ বাগিয়ে নিতে আগের যতনা পেশি শক্তি প্রয়োগ করতেন তার চেয়ে বেশি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী হিসেবে নিজের প্রভাব উপস্থাপন করতেন। বরিশালের বর্তমান হালচাল বলে দেয় যে, খোকন সেরনিয়াবাতের বিজয় নয়, প্রার্থী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন ও বে-সরকারি সকল দপ্তরে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র যতটুকু প্রভাব ছিলো তাও যেন শেষ হয়ে নয়া মেয়রের সমর্থনে রাবনের গীত গাইছে। সেই সুযোগই নিতে চেয়েছিলেন যুবলীগ নেতা জিয়া। নচেৎ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের একটি টেন্ডারের স্টিমেটের কাগজ দ্বিতীয় দফা আনতে গিয়ে রাজনৈতিক বল প্রয়োগ করার প্রক্রিয়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হকের সাথে বাকবিতণ্ডা থেকে একপর্যায় দুর্দান্ত সাহস দেখাতে গিয়ে দুই সহযোগী নিয়ে তাকে প্রহার করে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ঘটনায় প্রশাসনের এই উন্নয়নমূলক এই সেক্টরের বরিশাল টু ঢাকার কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। এবং তাদের ভিতর উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়ছিল। এমন খবর নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম যে কোনো মাধ্যমে অবগত হন। ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন উভয় নেতা বরিশালেই ছিলেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কিন্তু দুই নেতার কেউই জিয়াকে তলব করে সতর্কবার্তা বা সংযত হওয়ার আদেশ বা নির্দেশ কোনটাই দেয়নি। কারণ তারা চায়নি এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ন্যায় প্রসাশনের সাথে দূরত্ব তৈরী হোক। ফলশ্রুতিতে তাদের নীরবতায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও আঁচ করে নেয় জিয়া যুবলীগ নেতা হলেও বর্তমান বরিশালের নিয়ন্ত্রক মন্ত্রী বা মেয়র কেউই জিয়ার কর্মকাণ্ডের পক্ষে নেই। অথবা তার দ্বায়ভার নিতে নারাজ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি সূত্র বলছে, তারাও দুই নেতার মনভাব আমলে এনে এই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। এবং মিডিয়ার কাছে তারা শক্ত স্টেটমেন্ট বা মন্তব্য রাখেন। যার প্রমাণ এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা অফিসিয়ালি আলোচনা করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে এই ঘটনায় মামলা করা উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি আইনীভাবে মোকাবিলা করবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। শেষাংশে এসে ঘটলও সেটাই। লাঞ্ছিত ওই প্রকৌশলী পরদিন গত শুক্রবার রাতে মারুফ আহমেদ জিয়াকে প্রধান ও অপর দুই সহযোগী তিতাস ও আজদকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
আবার অপর একটি সূত্রের দাবি, এই মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে নয়া মেয়র ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর প্রথমে পরোক্ষ ইঙ্গিত থাকলেও এখন আসামীদের যেন না ধরা হয়, সে বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের অভিযোগ এই নাটের ঘুড়ি উড়িয়েছেন বোন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর আয়েশা তৌহিদ লুনা। এই নারী নেত্রী ফের নতুন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন এবং দুই নেতার আশির্বাদে পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে সহায়ক হন। লুনার সাথে নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতপত্নী লুনা আব্দুল্লাহর নামের মিল থাকায় ইতিমধ্যে উভয়ের ভিতর বিশেষ ঘনিষ্টতা গড়ে উঠায় সেখান থেকেই ভাই জিয়ার অনুকূলে সুপারিশ রেখে এ যাত্রা রক্ষার তাগিদ রাখেন। সূত্রের দেয়া এ তথ্য কতখানি সত্য তার বাস্তবিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও দায়িত্বশীল দুই নেতা অদ্যবধি দলীয় নেতা জিয়াকে নিয়ে কোন আনুষ্ঠনিক মন্তব্য প্রকাশ করেননি। এদিকে থানা পুলিশ ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও মারুফ আহমেদ জিয়ার টুটি ছুতে পারেনি, আটক হয়নি অপর দুইজন।
মডেল কোতয়ালি থানার ওসি আনোয়ার হোসেনের দাবি, আসামিদের আটকে জোরতর চেষ্টা চলছে। কিন্তু পুলিশের সার্বিক ভূমিকা সন্দেহজনক হওয়ায় ওই সূত্রের দাবি বা অভিযোগ একেবারে যে অমূলক নয়, তা নিয়ে নগরীতে কম-বেশি নানা মহলে আলোচনা শোনা যায়। যদি বাস্তবিক অর্থে রাজনীতির অন্দরমহলে সেটি যদি ঘটে থাকে তাহলে তা শুভ ইঙ্গিত বহন করেনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা অতিত উদাহরণকে সামনে টেনে এনে বলেন, প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাবস্থার শেষাংশে এসে তার অনুসারীদের সামাল দিতে পারেননি। যে কারণে বিএম কলেজের নতুন অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্রকে দায়িত্ব গ্রহণে তার অনুসারীরা বাঁধা দিতে প্রকাশ্য লাঞ্ছিত করায় মেয়র হিরন তুমুল বিতর্কের মাঝে পড়েছিলেন। বিভিন্ন দপ্তরে তার অনুসারীদের দাপট বিপুল জনপ্রিয় এই নেতার প্রতি নগর উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মানুষের বিশেষ দুর্বলতা থাকলেও চাপা ক্ষোভ ছিলো। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সিটি মেয়র নির্বাচনে বিএনপির দুর্বল প্রার্থী প্রয়াত নেতা আহসান হাবিব কামালের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিষয়ীভূত পরাজয়।
আবার সাদেক আব্দুল্লাহ রাজনীতির শুরুতে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার ইমেজ ধরে রাখতে পারেননি। কয়েকজন খলিফা দ্বারা বেষ্টিত তরুণ এই নেতার কাছে নগরবাসী যে আশার আলো দেখছিলো, তা ক্রমেই নিভে যায় তার অনুসারীদের এলাকাভিত্তিক দাপট ও একনায়কতন্ত্র সৃষ্টির কারণে। এক্ষেত্রে তার অনভিজ্ঞ রাজনীতিকে দায়ী বলে মনে করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের অভিমত হচ্ছে, মেয়র হিসেবে সাদেক আব্দুল্লাহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যেমন দূরে সরে গেছে, তেমনি প্রশাসনের ভিতরেও তার ইমেজ দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ভাটা পড়ে। এ কারণেই কপাল খুলে যায় খোকন সেরনিয়াবাতের। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সম্পর্কে ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতকে বরিশালের রাজনীতির নেতৃত্বে অগ্রভাগে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করে স্থানীয় রাজনীতির পটপরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে খোকন সেরনিয়াবাতের বক্তব্য ও কথাবার্তায় আঁচ করা যায় তিনি অতীতের নেতৃত্বের ন্যায় নিজেকে বিলীন করে দিতে নারাজ। বরং নতুন কিছু দিতে চায় বঞ্চিত বরিশালবাসীকে। সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে পারে যদি কিনা মারুফ আহমেদ জিয়াদের ন্যায় ডনরূপি রাজনীতিবিদদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস-দুর্নীতির বটবৃক্ষ রোপন করার সুযোগ দেন। এমন শঙ্কার পাশাপাশি চাচা-ভাতিজার লড়াই কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা অনুধাবনে আনতে নেতা-কর্মীদের বিশাল একটি অংশ অনেকে হঠাৎ করে নীরব অবস্থান নেওয়ায় বরিশালের ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
এমন বিবেচনা জিয়ার ভেতর না থাকায় তিনি যে কাণ্ড ঘটালেন তাতে নাম ফুটেছে ঠিকই কিন্তু তার দিকে নগরবাসীর নজর পড়েছে আগামীর আলামত অনুধাবনে। ফলে বরিশালের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেই প্রশ্নে জিয়া এখন প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।’

১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৩১
বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসাইন নেগাবান মন্টুর একমাত্র পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহানের সাথে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বাবুগঞ্জ শিক্ষা-সামাজিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান পিন্টু সিকদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা আমিনা রহমান সেতুর শুভ বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী ঢাকার রমনা চাইনিজ রেস্তোরাঁয় রোববার (১৬ আগস্ট) এক উৎসবমুখর পরিবেশে উভয় পক্ষের নিকট আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে ওই শুভ বাগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
নববর ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহান উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) সাবজেক্টে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরে বর্তমানে রাজধানীর একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে নবপরিণীতা আমিনা রহমান সেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। সেতু বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজাদ, র্যাব-১'এর উপ-সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান সুমন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ফায়জুল হক মুন্নার আপন ভাগ্নি।
বাগদান অনুষ্ঠানে আগামী ঈদুল আজহার ছুটিতে কনের পিত্রালয়ে তাদের সকল আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসাথে নবদম্পতির সুখময় আগামীর সমৃদ্ধ নতুন জীবনের শুভ সূচনার জন্য উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। #
বরিশাল প্রেসক্লাব ও বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি প্রয়াত অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসাইন নেগাবান মন্টুর একমাত্র পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহানের সাথে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও বাবুগঞ্জ শিক্ষা-সামাজিক উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মফিজুর রহমান পিন্টু সিকদারের জ্যেষ্ঠ কন্যা আমিনা রহমান সেতুর শুভ বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানী ঢাকার রমনা চাইনিজ রেস্তোরাঁয় রোববার (১৬ আগস্ট) এক উৎসবমুখর পরিবেশে উভয় পক্ষের নিকট আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে ওই শুভ বাগদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়।
নববর ইঞ্জিনিয়ার ইমাম হোসাইন রোহান উত্তরা ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (EEE) সাবজেক্টে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পরে বর্তমানে রাজধানীর একটি স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এদিকে নবপরিণীতা আমিনা রহমান সেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। সেতু বাবুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ আজাদ, র্যাব-১'এর উপ-সহকারী পরিচালক মজিবুর রহমান সুমন এবং বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ফায়জুল হক মুন্নার আপন ভাগ্নি।
বাগদান অনুষ্ঠানে আগামী ঈদুল আজহার ছুটিতে কনের পিত্রালয়ে তাদের সকল আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিয়ে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসাথে নবদম্পতির সুখময় আগামীর সমৃদ্ধ নতুন জীবনের শুভ সূচনার জন্য উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হয়। #

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৪৯
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #
স্বপ্ন যার আকাশ ছোঁয়ার, তাকে রুখবার সাধ্য কার? পাইলট হয়ে আকাশে ডানা মেলার স্বপ্ন তার। দেশের সম্মানকে নিয়ে যেতে চায় সে অনন্য উচ্চতায়। সেই স্বপ্ন জয়ের দুর্গম পথের প্রথম ধাপটি সফলতা এবং গৌরবের সাথেই অতিক্রম করেছে বাবুগঞ্জের আদিবা।
আদিবার পুরো নাম আদিবা ইসলাম আমেনা। সে ২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। সেরাদের সেরা এই অদম্য মেধাবী আদিবা ইসলাম আমেনা বাবুগঞ্জ সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আজিজুল হক ও গৃহিণী অনামিকা আক্তার লিজা দম্পতির বড় সন্তান।
দেশের এবং মানুষের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা সে পেয়েছে তার বাবার কাছ থেকেই। বাবা আজিজুল হকের বর্তমান পেশা শিক্ষকতা, সমাজসেবা এবং রাজনীতি। তিনি বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও বর্তমানে তিনি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য। রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী এবং নিজেকে বিকশিত করার ক্ষমতা জন্মসূত্রেই পেয়েছে আদিবা। তাইতো ক্লাসেও সে অলরাউন্ডার।
পড়াশোনায় নাম্বার ওয়ান হওয়ার পাশাপাশি নাচ, গান, আবৃত্তি, ছবি আঁকা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা কিংবা খেলাধুলা, সবকিছুতেই সমান পারদর্শী আদিবা। প্রতিভাময়ী এই বালিকা স্বপ্ন দেখে বিমান নিয়ে আকাশে ডানা মেলার। আকাশের সীমানা অতিক্রম করার স্বপ্ন তার দু'চোখে। তাকে নিয়ে এখন স্বপ্ন দেখে তার সহপাঠী আর শিক্ষকমণ্ডলীও।
বাবুগঞ্জ সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ আমিনা বলেন, 'আমার প্রিয় ছাত্রী আদিবা যেমন মেধাবী তেমনি পরিশ্রমী। সে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী এবং শিক্ষকদের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল। সে তার প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে এবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। সে একদিন অনেক বড় হয়ে তার আকাশে ওড়ার স্বপ্ন জয় করবে এবং বিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করবে। এই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত উজ্জ্বল নক্ষত্র। আদিবাও একদিন চূড়ান্ত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ের গৌরব হবে বলে বিশ্বাস করি।'
আদিবার বাবা সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রনেতা আজিজুল হক বলেন, 'আমার দুই মেয়ের মধ্যে আদিবা বড়। সে এবছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। এটা তার শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক অর্জনের স্বীকৃতি। এই অর্জনে তার বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকমণ্ডলীসহ যারা তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন, দোয়া করেছেন, শুভ কামনা জানিয়েছেন তাদের সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সে বড় হয়ে বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চায়। সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন। সে যেন তার স্বপ্ন পূরণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করতে পারে।'
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী আদিবা ইসলাম আমেনা তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, 'আমার এই সাফল্যের অংশীদার আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলী। তাদের বিভিন্ন আদেশ-উপদেশ, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনাই আমার সাফল্যের চাবিকাঠি। আমি তাদের প্রতি চিরঋণী। আমি বিমানের পাইলট হয়ে দেশসেবা করতে চাই। আমার পিতামাতা এবং শিক্ষকমণ্ডলীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই। এটাই আমার একমাত্র স্বপ্ন।' #

১২ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৯
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
ভারতের মহারাষ্ট্রে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে কুসংস্কার চর্চা এবং গৃহনির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এই এমপির পুত্রবধূ গিরিজা রাউত অভিযোগ করেছেন, তাকে জোর করে গোমূত্র পান করানো, তান্ত্রিক আচার পালনে বাধ্য করা এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, থানে জেলার এই ঘটনায় পুলিশ সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত, তার স্ত্রী, ছেলে ও স্থানীয় কাউন্সিলর গীতেশ রাউতের বিরুদ্ধে মহারাষ্ট্রের কুসংস্কারবিরোধী আইনে মামলা করেছে। মামলার এজাহারে ফিরোজ ও কাজি নামের কথিত দুই তান্ত্রিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গিরিজা রাউতের অভিযোগ, বিয়ের পর গত সাত বছর ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত মানসিক, সামাজিক ও আবেগগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, স্বামীর কথিত বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যার সমাধানের নামে তাকে বারবার তান্ত্রিকদের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। একপর্যায়ে সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে তাঁকে জোরপূর্বক গোমূত্র পান করান এবং কুসংস্কারমূলক আচার পালনের অংশ হিসেবে মাথা থেকে চুলও ছিঁড়ে নেন।
সাংবাদিকদের কাছে গিরিজা বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের বিরুদ্ধে এতদিন অভিযোগ করার সাহস পাননি। পরিবারের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও শ্বশুর বিনায়ক রাউত কখনো তার পক্ষে অবস্থান নেননি, বরং এই কুসংস্কার চর্চায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। গিরিজা আরও দাবি করেন, বিয়ের পর উটির হানিমুনে গেলেও তার স্বামী শারীরিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে অপমান ও দূরে সরিয়ে দেওয়া হতো। এমনকি স্বামী তাকে বলেছিলেন, ভারতের বাইরে কোনো দেশে গেলেই কেবল তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব।
এ ছাড়া পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অপমান, নিয়মিত মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন গিরিজা। তার ভাষ্য, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও তিনি একই ধরনের আচরণের শিকার হন। সে সময় তান্ত্রিকদের বরাত দিয়ে তাঁকে বলা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হলে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হবে।
পুত্রবধূর অভিযোগে শুধু স্বামী নন, শ্বশুর বিনায়ক রাউতসহ শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, অশালীন আচরণ এবং গৃহ-নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা দায়ের করে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তবে এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাবেক এমপি বিনায়ক রাউত বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’

২৯ মে, ২০২৫ ১৬:৫৩
বরিশাল মহানগর যুবলীগ নেতা মারুফ আহমেদ জিয়া একজন সরকারি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে বীরদর্পে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সাহসিকতার নেপথ্য শক্তি নিয়ে কি ইঙ্গিত দিলেন তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রগতিশীল ধ্যান-ধারনার মানুষের মধ্যে প্রশ্ন এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি গত ১০ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালের। ওই দিন জিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের হাজির হয়ে একটি ঠিকাদারী কাজের স্টিমেট জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় বাধ সাধলে দপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হককে বেদম প্রহার করেন। এই ঘটনা অনেকটা নীরবে ঘটলেও শুক্রবার রাতে লাঞ্ছিত ওবায়দুল এ সংক্রান্ত থানায় অভিযোগ জানিয়ে মামলা করার পরপরই ঘটনার আদ্যপান্ত প্রকাশ পায় এবং বিষয়টি স্যোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ফলশ্রুতিতে ফের মিডিয়ার শিরোনাম হন মারুফ আহমেদ জিয়া। বরিশালে পারিবারিক ও রাজনৈতিক কারণে এই যুবক বেশ আলোচিত-সমালোচিত মুখ। এক সময় নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী হিসেবে দাপট দেখিয়ে চলা মারুফ হঠাৎ করে রাজনৈতিক শিবির পরিবর্তন করে নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষ নেন। এবং সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে তার পক্ষাবলম্বন করে প্রচারণা এবং নিজেও কাউন্সিলর প্রার্থী হন। অবশ্য নেতা খোকন সেরনিয়াবাত নির্বাচিত হলেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী সাদেকপন্থী মজিবর রহমানের কাছে শোচনীয় পরাজিত হন। একই ব্যক্তির সাথে দুইবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে রাজনৈতিক সর্বশক্তি প্রয়োগের পরেও পরাজয়ের কারণে বেশ কিছুদিন ধরে মারুফ আহমেদ জিয়া আলোচনায় ছিলেন। এবং পরাজিত হলেও তার দাপট আরও একগুণ বেড়ে যায় বলে স্থানীদের অভিমত। প্রশ্ন সেখানেই হঠাৎ করে একজন প্রকৌশলীকে প্রহার করার পিছনে রাজনৈতিক শক্তি ও সমর্থন তাকে এই সাহসের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছে বলে এমনটি বরিশালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষপট সে কথাই মনে করিয়ে দেয় কি? কারণ ক্ষমতার তারতম্য বিবেচনায় ভাতিজা সাদিক আব্দুল্লাহ অপেক্ষা চাচা খোকন সেরনিয়াবাতের আধিপত্য সৃষ্টি হওয়ায় কেউ কেউ এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব দেওয়ার আড়ালে সন্ত্রাসী জগতের ডন হিসেবে উত্থ্যানের অভিযোগ উঠেছে, যা কিনা সিভিল প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবগত।
রাজনৈতিক বোদ্ধা ও সমাজ বিশ্লেষকদের ধারনা, জিয়ার পরিবার বরাবরই সব সরকারের আমলে দাপটের সাথেই আছেন বলে নানান ঘটনায় প্রতীয়মাণ হয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের গত ১৫ বছর একটানা শাসনামলে জিয়ার দাপট ছিলো সমান্তরাল। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রথমভাগে তার বোন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর আয়েশা তৌহিদ লুনা প্রয়াত সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের সমর্থনপুষ্ট হওয়ায় তৎসময় জিয়া যুবলীগ নেতা হিসেবে বাংলা বাজার টু আলেকান্দা এলাকায় নিজের শক্তিকে সমীহের জায়গায় নিয়ে যায়।
সূত্র জানায়, বিএনপি আমলেও জিয়া ছিলেন অদম্য। একদিকে নগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ারের সাথে কাউন্সিলর লুনার দহরম-মহরম এবং বড় ভাই জাতীয় পার্টির একাংশের আহ্বায়ক বশির আহমেদ ঝুনুর অতীত প্রভাবকে ব্যবহার করে জিয়ার শক্তির উত্থ্যান ঘটে। যদিও জিয়া আওয়ামী লীগ রাজনীতির সাথে আগে থেকে জড়িত।
অভিযোগের সুরে জানা গেলে, সময়ের আবর্তে রাজনীতির চাকা ঘুরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে জিয়া রাজনীতিতে আড়মোড়া দিয়ে ওঠে। এ সময় কাউন্সিলর লুনাও নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে ভোল পাল্টে প্রথমে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং স্থানীয়ভাবে দলের জেলার কর্ণধর আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র প্রয়াতপত্নী বেগম সাহানারা আব্দুল্লাহ’র হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ক্ষমতা খর্ব এবং প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরন মেয়র হিসেবে বরিশালে দাপটশীল বলয় তৈরী করলে কাউন্সিলর লুনা হয়ে যান এই নেতার প্রিয়ভাজন। পক্ষান্তরে জিয়া হাসনাত সমর্থিত যুবলীগ নেতা হওয়া সত্বেও বোন লুনার বদৌলতে হিরনের নেক নজরে থেকে টেন্ডারবাজি থেকে শুরু করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে চলতেন। আকস্মিক সদর আসনের সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় শওকত হোসেনের মৃত্যু ঘটলে এই ভাই-বোন ক্ষমতার রাজনীতি থেকে কিছুটা চুপসে যান। তাছাড়া পটুয়াখালীর পৌর কাউন্সিলর লুনার স্বামী তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ মৃত্যুবরণ করলে আরও ঘরমুখো হয়ে পড়েন বোন লুনা। কিন্তু সময় বেশি দিন লাগেনি, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানেই আবারও জিয়া কাকতালীয়ভাবে দাপটের রাজনীতির স্বাদ পেয়েছেন বলে কোন কোন মহল দাবি করছে।
বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহ বরিশাল রাজনীতিতে পদার্পন এবং ২০১৮ সালে অনুুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলীয় মেয়র নির্বাচিত হলে নয়া এই রাজনীতিবিদের সাথে বয়সের মিল থাকায় দু’জনার ভিতর ভিষণ ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হয়ে যান সাদিকপন্থী শক্তিধর যুবলীগ নেতা। পেয়ে যান নগর যুবলীগের সদস্য পদ। বরাবরই ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে থাকা জিয়া অনুধাবন করেন সাদেক আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত এবং তার চাচা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায় বরিশালের দলীয় মেয়র প্রার্থী হওয়ায় হাসনাত পরিবারের ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।
আবার কেউ বলছে, মজিবর রহমানের ছোট ভাই আরেক যুবলীগ নেতা নামও অভিন্ন জিয়াউর রহমান জিয়া রাজনৈতিক কৌশলের দরজা দিয়ে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ায় মারুফ অহমেদ জিয়া বিষয়টি ভালো চোখে নেয়নি, কমিয়ে দেয় মেয়রের কালীবাড়ির বাসভবনে যাতায়াত। হাল সময়ে হঠাৎ করে তিনিও ভোল পাল্টে হয়ে যান খোকন সেরনিয়াবাত ঘরানার রাজনীতিবিদ। সেই সাথে তার বোন লুনাও যুক্ত হয় একই শিবিরে।
অনুসন্ধানে আভাস মেলে যে, অবশ্য এ ক্ষেত্রে মূল টার্গেট ছিলো অথবা ভেবেছিলো খোকন সেরনিয়াবাদের ক্ষমতার প্রভাব অথবা সমর্থন নিয়ে হাসনাত-সাদিক সমর্থিত মজিবর রহমানকে পরাজিত করা এবার হয়তো সহজতর হবে। রাজনীতিতে একই ঘরনার লোক হলেও ১১ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দ্রিক আধিপত্য নিয়ে মজিবর রহমানের সাথে মারুফ আহমেদ জিয়ার পরিবারের শীতল বিরোধ চলে আসছিলো। শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে লড়াই চলছে।
এর আগে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে মজিবর রহমানের সাথে লড়াই করে পরাজয় অর্থাৎ কাউন্সিলর হওয়ার ব্যর্থতার পিছনে সাদিকের অতটা সমর্থন পায়নি বিধায় মান-অভিমানের পাল্লাটা সেখান থেকে ভারী হতে থাকে এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন বিকল্প শক্তিধর নেতার আবির্ভাবে, যেখানে আশ্রয়-সমর্থন পাওয়া যায়।
তার ঘনিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, মারুফ আহমেদ জিয়া একাবার মনস্থিরও করেছিলেন বরিশাল সদর আসনের সাংসদ ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের স্রোতধারায় নিজেকে সামিল করবেন। এ ক্ষেত্রে কৌশল হচ্ছে, মন্ত্রীর সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর মজিবর রহমানের সাথে ক্ষমতার টক্কর জমিয়ে তোলা। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অপেক্ষা মেয়র সাদিক অনেক দুর্বল এবং কোন টেন্ডারবাজি বা ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি মনস্ক না হওয়ায় জাহিদ ফারুক শামীমের দরজায় যাই যাই করে আর যাওয়া হয়নি। খোকন সেরনিয়াবাত সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর জাহিদ ফারুক শামীমের সাথে একট্টা হয়ে মাঠে নামনে জিয়া কৌশলে এই প্রতিমন্ত্রীর নজরে নিজেকে নিয়ে আসে এবং খোকন সেরনিয়াবাতের সমর্থনে নতুন করে রাজনৈতিক মাঠ গরমের সুযোগ নিয়ে নিজের শক্তিমাত্রা প্রদর্শনের সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু তার বয়স অপেক্ষা যুবলীগ নেতা ওয়াসিম দেওয়ান, ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিন ও বিএম কলেজের সাবেক ভিপি মঈন তুষার নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্টতর হওয়ার কারণে প্রাধান্য দেওয়ায় জিয়া নিজেকে এই শিবিরে নিজেকে সেভাবে উপস্থাপন করতে পারছিলেন না। যতটা না পেরেছিলেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে। খোকন সেরনিয়াবাত দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বরিশাল আওয়ামী লীগ দ্বি-খন্ডিত হয়ে সাদেক আব্দুল্লাহকে চেপে ধরতে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনা দখল এবং প্রশাসনের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি হওয়ায় জিয়ার হয়তো ধারনা ছিলো গণপূর্ত অধিদপ্তরে অঘটন ঘটিয়ে ফায়দা লোটার পাশাপাশি নিজের শক্তি-সমর্থ জানান দিতে।
গত ১০ আগস্ট সকালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঘটনায় প্রকাশ পায় তিনি এই দপ্তরে দীর্ঘদিন যাবৎ টেন্ডারবাজি করে আসছিলেন। ওই দপ্তরে ঘুরে এ ধরনের বেশ কয়েকটি অভিযোগ জানাও গেল। তবে প্রত্যক্ষদর্শী দুইজন ব্যক্তির বর্ণনায় জিয়া দাপ্তরিক কাজ বাগিয়ে নিতে আগের যতনা পেশি শক্তি প্রয়োগ করতেন তার চেয়ে বেশি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র অনুসারী হিসেবে নিজের প্রভাব উপস্থাপন করতেন। বরিশালের বর্তমান হালচাল বলে দেয় যে, খোকন সেরনিয়াবাতের বিজয় নয়, প্রার্থী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পরার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে প্রশাসন ও বে-সরকারি সকল দপ্তরে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র যতটুকু প্রভাব ছিলো তাও যেন শেষ হয়ে নয়া মেয়রের সমর্থনে রাবনের গীত গাইছে। সেই সুযোগই নিতে চেয়েছিলেন যুবলীগ নেতা জিয়া। নচেৎ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের একটি টেন্ডারের স্টিমেটের কাগজ দ্বিতীয় দফা আনতে গিয়ে রাজনৈতিক বল প্রয়োগ করার প্রক্রিয়ায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হকের সাথে বাকবিতণ্ডা থেকে একপর্যায় দুর্দান্ত সাহস দেখাতে গিয়ে দুই সহযোগী নিয়ে তাকে প্রহার করে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ঘটনায় প্রশাসনের এই উন্নয়নমূলক এই সেক্টরের বরিশাল টু ঢাকার কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। এবং তাদের ভিতর উত্তেজনার পারদ ক্রমেই বাড়ছিল। এমন খবর নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম যে কোনো মাধ্যমে অবগত হন। ঘটনাটি যেদিন ঘটে সেদিন উভয় নেতা বরিশালেই ছিলেন এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন। কিন্তু দুই নেতার কেউই জিয়াকে তলব করে সতর্কবার্তা বা সংযত হওয়ার আদেশ বা নির্দেশ কোনটাই দেয়নি। কারণ তারা চায়নি এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ন্যায় প্রসাশনের সাথে দূরত্ব তৈরী হোক। ফলশ্রুতিতে তাদের নীরবতায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও আঁচ করে নেয় জিয়া যুবলীগ নেতা হলেও বর্তমান বরিশালের নিয়ন্ত্রক মন্ত্রী বা মেয়র কেউই জিয়ার কর্মকাণ্ডের পক্ষে নেই। অথবা তার দ্বায়ভার নিতে নারাজ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি সূত্র বলছে, তারাও দুই নেতার মনভাব আমলে এনে এই যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন। এবং মিডিয়ার কাছে তারা শক্ত স্টেটমেন্ট বা মন্তব্য রাখেন। যার প্রমাণ এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা অফিসিয়ালি আলোচনা করেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে এই ঘটনায় মামলা করা উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি আইনীভাবে মোকাবিলা করবে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। শেষাংশে এসে ঘটলও সেটাই। লাঞ্ছিত ওই প্রকৌশলী পরদিন গত শুক্রবার রাতে মারুফ আহমেদ জিয়াকে প্রধান ও অপর দুই সহযোগী তিতাস ও আজদকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
আবার অপর একটি সূত্রের দাবি, এই মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে নয়া মেয়র ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর প্রথমে পরোক্ষ ইঙ্গিত থাকলেও এখন আসামীদের যেন না ধরা হয়, সে বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের অভিযোগ এই নাটের ঘুড়ি উড়িয়েছেন বোন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর আয়েশা তৌহিদ লুনা। এই নারী নেত্রী ফের নতুন করে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন এবং দুই নেতার আশির্বাদে পুনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে সহায়ক হন। লুনার সাথে নয়া মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতপত্নী লুনা আব্দুল্লাহর নামের মিল থাকায় ইতিমধ্যে উভয়ের ভিতর বিশেষ ঘনিষ্টতা গড়ে উঠায় সেখান থেকেই ভাই জিয়ার অনুকূলে সুপারিশ রেখে এ যাত্রা রক্ষার তাগিদ রাখেন। সূত্রের দেয়া এ তথ্য কতখানি সত্য তার বাস্তবিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও দায়িত্বশীল দুই নেতা অদ্যবধি দলীয় নেতা জিয়াকে নিয়ে কোন আনুষ্ঠনিক মন্তব্য প্রকাশ করেননি। এদিকে থানা পুলিশ ঘটনার চার দিন অতিবাহিত হলেও মারুফ আহমেদ জিয়ার টুটি ছুতে পারেনি, আটক হয়নি অপর দুইজন।
মডেল কোতয়ালি থানার ওসি আনোয়ার হোসেনের দাবি, আসামিদের আটকে জোরতর চেষ্টা চলছে। কিন্তু পুলিশের সার্বিক ভূমিকা সন্দেহজনক হওয়ায় ওই সূত্রের দাবি বা অভিযোগ একেবারে যে অমূলক নয়, তা নিয়ে নগরীতে কম-বেশি নানা মহলে আলোচনা শোনা যায়। যদি বাস্তবিক অর্থে রাজনীতির অন্দরমহলে সেটি যদি ঘটে থাকে তাহলে তা শুভ ইঙ্গিত বহন করেনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা অতিত উদাহরণকে সামনে টেনে এনে বলেন, প্রয়াত নেতা শওকত হোসেন হিরন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র থাকাবস্থার শেষাংশে এসে তার অনুসারীদের সামাল দিতে পারেননি। যে কারণে বিএম কলেজের নতুন অধ্যক্ষ শংকর চন্দ্রকে দায়িত্ব গ্রহণে তার অনুসারীরা বাঁধা দিতে প্রকাশ্য লাঞ্ছিত করায় মেয়র হিরন তুমুল বিতর্কের মাঝে পড়েছিলেন। বিভিন্ন দপ্তরে তার অনুসারীদের দাপট বিপুল জনপ্রিয় এই নেতার প্রতি নগর উন্নয়নমূলক কাজের জন্য মানুষের বিশেষ দুর্বলতা থাকলেও চাপা ক্ষোভ ছিলো। যার বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত সিটি মেয়র নির্বাচনে বিএনপির দুর্বল প্রার্থী প্রয়াত নেতা আহসান হাবিব কামালের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিষয়ীভূত পরাজয়।
আবার সাদেক আব্দুল্লাহ রাজনীতির শুরুতে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার ইমেজ ধরে রাখতে পারেননি। কয়েকজন খলিফা দ্বারা বেষ্টিত তরুণ এই নেতার কাছে নগরবাসী যে আশার আলো দেখছিলো, তা ক্রমেই নিভে যায় তার অনুসারীদের এলাকাভিত্তিক দাপট ও একনায়কতন্ত্র সৃষ্টির কারণে। এক্ষেত্রে তার অনভিজ্ঞ রাজনীতিকে দায়ী বলে মনে করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের অভিমত হচ্ছে, মেয়র হিসেবে সাদেক আব্দুল্লাহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যেমন দূরে সরে গেছে, তেমনি প্রশাসনের ভিতরেও তার ইমেজ দ্বন্দ্ব-সংঘাতে ভাটা পড়ে। এ কারণেই কপাল খুলে যায় খোকন সেরনিয়াবাতের। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই সম্পর্কে ফুপাতো ভাই খোকন সেরনিয়াবাতকে বরিশালের রাজনীতির নেতৃত্বে অগ্রভাগে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে সিটি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করে স্থানীয় রাজনীতির পটপরিবর্তনের একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে খোকন সেরনিয়াবাতের বক্তব্য ও কথাবার্তায় আঁচ করা যায় তিনি অতীতের নেতৃত্বের ন্যায় নিজেকে বিলীন করে দিতে নারাজ। বরং নতুন কিছু দিতে চায় বঞ্চিত বরিশালবাসীকে। সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে যেতে পারে যদি কিনা মারুফ আহমেদ জিয়াদের ন্যায় ডনরূপি রাজনীতিবিদদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাস-দুর্নীতির বটবৃক্ষ রোপন করার সুযোগ দেন। এমন শঙ্কার পাশাপাশি চাচা-ভাতিজার লড়াই কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা অনুধাবনে আনতে নেতা-কর্মীদের বিশাল একটি অংশ অনেকে হঠাৎ করে নীরব অবস্থান নেওয়ায় বরিশালের ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
এমন বিবেচনা জিয়ার ভেতর না থাকায় তিনি যে কাণ্ড ঘটালেন তাতে নাম ফুটেছে ঠিকই কিন্তু তার দিকে নগরবাসীর নজর পড়েছে আগামীর আলামত অনুধাবনে। ফলে বরিশালের ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে, সেই প্রশ্নে জিয়া এখন প্রতীকী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।’
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:১৫
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৬
২৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৮