নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষক তাজুল ইসলাম। বয়স তার পঞ্চাশের ঘর পেরিয়েছে। এই বয়সে যেখানে অনেকেই জীবনকে গুটিয়ে নেন, তাজুল ইসলাম ঠিক তখনই খুলে বসেছেন জীবনের নতুন মানচিত্র। স্ত্রীর হাত ধরে, মোটরসাইকেলে চড়ে তিনি ঘুরে ফেলেছেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলদহর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি ১৯৯০ সালে মহিষমারী দাখিল মাদরাসায় যোগ দেন এবং এখনো সেখানেই কর্মরত। পরিবারে আছেন স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম ও তিন সন্তান। বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম শুভ একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
মেঝো ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত কাজ করছেন যশোর টেকনোলজি পার্কে, আর ছোট মেয়ে তানজিমা ইসলাম সুচি কলেজে পড়েন। জীবনের নানা ব্যস্ততা আর দায়িত্বের মাঝেও তাজুল ইসলাম নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। বরং খুঁজে নিয়েছেন নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার উপায়। দেশকে ঘুরে দেখতে বেঁছে নিয়েছেন বাইক ভ্রমণ।
২০১৬ সালে গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তাজুল ইসলামের ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। তখন থেকেই জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে জীবন একটাই। অপারেশনের পর ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন যমুনা সেতু পেরিয়ে। সেই যাত্রাই ছিল তার ঘুরে বেড়ানোর সূচনা।
পরের কয়েক বছরে একে একে ঘুরে ফেলেছেন ঢাকা বিভাগের সব জেলা। এরপর ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ, ২০২৩ সালে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ, ২০২৪ সালে বরিশাল ও রংপুর এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগও ঘুরে শেষ করেছেন। এসব ভ্রমণে তিনি একা যাননি। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই বাইকে পাড়ি দিয়েছেন দুরূহ পথ। এমনকি দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছেছেন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও সাজেকেও।
একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মডেলের বাইকে চেপেই পুরো দেশ ঘুরে দেখেছেন তাজুল ইসলাম। ছুটি পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কখনো বরিশাল, কখনো কুড়িগ্রাম, আবার কখনো পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে খাগড়াছড়ি। তার চোখে এ ভ্রমণ শুধু স্থান দেখার জন্য নয় বরং জীবনকে নতুনভাবে বোঝার জন্য।
তার এই অদম্য সাহস দেখে বিস্মিত হয়েছেন পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং এলাকার মানুষ। তার ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত বলেন, আমি শুধু গর্বিত নই, কৃতজ্ঞও। আমার বাবা আমাদের শেখান জীবন মানে কেবল বয়স নয়, জীবন মানে ইচ্ছাশক্তি। আমার বাবার এই ভ্রমণ তার একার নয়, এটা আমাদের সকলের প্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
তাজুল ইসলামের স্বপ্ন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইকে ভারত, নেপাল ও ভুটান ঘুরে দেখা। তিনি মনে করেন, সীমান্ত শুধু মানচিত্রেই থাকে, ইচ্ছাশক্তির কোনো সীমান্ত নেই। তাজুল ইসলাম বলেন, আমি কাউকে দেখানোর জন্য ঘুরি না। নিজের জন্য, নিজের শান্তির জন্য ঘুরি। বাইক আমার মুক্তির চাবিকাঠি। আমি মানুষের মুখ দেখি, প্রকৃতির রূপ দেখি, জীবন দেখি। বাধা আসে মন থেকে, বয়সটা কখনই বাধা নয়।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মো. আলমগীর হোসেন ফরাজী (৪৫) নামে জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আলমগীর শরীফপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খানপুর গ্রামের মৃত ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে কবিরাজি ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি ঝাড়ফুঁক করতেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি শরীফপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক, সেক্রেটারি ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে সক্রিয় নন বলে জানিয়েছে স্থানীয় জামায়াত।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পরিবারের বরাতে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মাথাব্যথা নিয়ে আলমগীরের দোকানে যায় শিশুটি। এ সময় ঝাড়ফুঁক করার কথা বলে তাকে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত রাতে নিজ বাড়ি থেকে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
বেগমগঞ্জ মডেল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মো. শামসুজ্জামান জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের জিআরও মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে।
এদিকে শরীফপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন জানান, আলমগীর ২০২২ সাল পর্যন্ত দলীয় বিভিন্ন পদে থাকলেও বর্তমানে তিনি নিষ্ক্রিয় এবং দলের কার্যক্রমের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিখোঁজ ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু। শিশু নিখোঁজ ও হত্যার ধারাবাহিক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশু নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর ২৬ এবং ধর্ষণচেষ্টার পর চার শিশু নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর একজন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।
সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি ফের আলোচনায় এসেছে। এর আগেও নিখোঁজ শিশুদের কারও মরদেহ মাটিচাপা অবস্থায়, আবার কারও মরদেহ নদী বা ডোবা থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শুধু হত্যাই নয়, শিশু নিখোঁজের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদরদপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেই হিসাবে এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট নিখোঁজের প্রায় ১৩ শতাংশ।
আসকের হিসাবে, একই সময়ে আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের আরও ৯৯টি ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের ডিসি ইবনে মিজান।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি জানান, মরদেহ তখনও ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক টিম পাঠানো হচ্ছে।
ডিসি তেজগাঁও বলেন, “লাশ এখনও ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। সিআইডির ফরেনসিক টিম আসছে। আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফরেনসিক পরীক্ষা ও তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

২৯ জুলাই, ২০২৫ ১৩:১০
নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষক তাজুল ইসলাম। বয়স তার পঞ্চাশের ঘর পেরিয়েছে। এই বয়সে যেখানে অনেকেই জীবনকে গুটিয়ে নেন, তাজুল ইসলাম ঠিক তখনই খুলে বসেছেন জীবনের নতুন মানচিত্র। স্ত্রীর হাত ধরে, মোটরসাইকেলে চড়ে তিনি ঘুরে ফেলেছেন বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলদহর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম পেশায় একজন শিক্ষক। তিনি ১৯৯০ সালে মহিষমারী দাখিল মাদরাসায় যোগ দেন এবং এখনো সেখানেই কর্মরত। পরিবারে আছেন স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম ও তিন সন্তান। বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম শুভ একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
মেঝো ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত কাজ করছেন যশোর টেকনোলজি পার্কে, আর ছোট মেয়ে তানজিমা ইসলাম সুচি কলেজে পড়েন। জীবনের নানা ব্যস্ততা আর দায়িত্বের মাঝেও তাজুল ইসলাম নিজেকে গুটিয়ে রাখেননি। বরং খুঁজে নিয়েছেন নিজের স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার উপায়। দেশকে ঘুরে দেখতে বেঁছে নিয়েছেন বাইক ভ্রমণ।
২০১৬ সালে গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তাজুল ইসলামের ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। তখন থেকেই জীবন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। মৃত্যুর কাছাকাছি গিয়েও ফিরে আসার অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে জীবন একটাই। অপারেশনের পর ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো বাইক নিয়ে বেরিয়ে পড়েন যমুনা সেতু পেরিয়ে। সেই যাত্রাই ছিল তার ঘুরে বেড়ানোর সূচনা।
পরের কয়েক বছরে একে একে ঘুরে ফেলেছেন ঢাকা বিভাগের সব জেলা। এরপর ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ, ২০২৩ সালে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ, ২০২৪ সালে বরিশাল ও রংপুর এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগও ঘুরে শেষ করেছেন। এসব ভ্রমণে তিনি একা যাননি। স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়েই বাইকে পাড়ি দিয়েছেন দুরূহ পথ। এমনকি দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছেছেন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও সাজেকেও।
একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মডেলের বাইকে চেপেই পুরো দেশ ঘুরে দেখেছেন তাজুল ইসলাম। ছুটি পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কখনো বরিশাল, কখনো কুড়িগ্রাম, আবার কখনো পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে খাগড়াছড়ি। তার চোখে এ ভ্রমণ শুধু স্থান দেখার জন্য নয় বরং জীবনকে নতুনভাবে বোঝার জন্য।
তার এই অদম্য সাহস দেখে বিস্মিত হয়েছেন পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং এলাকার মানুষ। তার ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত বলেন, আমি শুধু গর্বিত নই, কৃতজ্ঞও। আমার বাবা আমাদের শেখান জীবন মানে কেবল বয়স নয়, জীবন মানে ইচ্ছাশক্তি। আমার বাবার এই ভ্রমণ তার একার নয়, এটা আমাদের সকলের প্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
তাজুল ইসলামের স্বপ্ন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইকে ভারত, নেপাল ও ভুটান ঘুরে দেখা। তিনি মনে করেন, সীমান্ত শুধু মানচিত্রেই থাকে, ইচ্ছাশক্তির কোনো সীমান্ত নেই। তাজুল ইসলাম বলেন, আমি কাউকে দেখানোর জন্য ঘুরি না। নিজের জন্য, নিজের শান্তির জন্য ঘুরি। বাইক আমার মুক্তির চাবিকাঠি। আমি মানুষের মুখ দেখি, প্রকৃতির রূপ দেখি, জীবন দেখি। বাধা আসে মন থেকে, বয়সটা কখনই বাধা নয়।
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:৪৯
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১১
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:১৬