
১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:২৫
পিরোজপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিমাণে কম এবং অরুচিকর খাবার দেওয়ায় তা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।
ফলে নিজেদের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরের রেস্টুরেন্ট থেকে তারা খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ও এর রান্নাঘর ঘুরে দেখা যায়, রান্নাঘরের মেঝে ঝকঝকে, বাসনপত্র ধোয়া, খাবার রাখা হয়েছে পরিপাটি করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ রান্নাঘর।
কিন্তু এই নিখুঁত বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রিয় সত্য। রোগীর প্লেটে যে খাবার পৌঁছায়, তার মান আর পরিমাণে রয়েছে বড়সড় গলদ। সকালের নাস্তার জন্য রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও একটি কলা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। পাশাপাশি দেখা যায়, দরপত্র অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি আকারের একটি সবরি জাতের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ছোট একটি চিনিচাপা জাতের কলা।
দুপুরের খাবারে মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মুরগীর মাংস। ৬০ গ্রামের ওপরে একটুকরো মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ৫০ গ্রামের কম ওজনের মাংসের টুকরা। ভাতের চালও মানহীন।
রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাজারে মাছের দাম মুরগির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মুরগি। এদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি লাইলি আক্তার বলেন, আজকে মাছ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মাছের পরিবর্তে মাংস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলছেন, “মাছ বাজারে পায়নি, তাই মাংস দিয়েছে”।
সবরি জাতের কলার পরিবর্তে চিনিচাপা জাতের কলা এবং আকারে ছোট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার বলেন “বাজারে সবরি কলা নেই আকারেও বড় নেই। আমি সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি”।
এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। নিজের অফিস কক্ষ থেকে চলে আসেন খাবার বিতরণের জায়গায়। খাবার নিম্নমানের ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেন।
তিনি প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও পরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খাবার নিম্নমানের না, খাবার ঠিকমতোই দেওয়া হচ্ছে। আজকে মাছের পরিবর্তে মাংস দিয়েছি। ঠিকাদার মাংসের দামই পাবে, মাছের দাম পাবে না।’ ওজনে কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যতটুকু ওজন দিয়েছে সেই দামই পাবে।’
সকালের নাস্তায় নিম্নমানের পাউরুটি এবং দরপত্রে দেওয়া আকারের চেয়ে ছোট আকারের কলা কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুটি আমরা মেপে নিয়েছি, যে ওজনের দেওয়ার কথা সেই ওজনের দিয়েছে। কলা যেরকম দেওয়ার কথা সেরকম দিয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হয়নি। ঠিকাদারকে কার্যাদেশে যে পরিমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই পরিমাণই দিয়েছে।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল শেখ এন্ড সন্স ট্রেডার্স। বেশি দরে খাবার সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নিলেও রোগীদের পাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, এতে ক্ষুব্ধ রোগীরা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরে আর কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের খাবার সরবরাহ করছে।
এদিকে এ বছরের জানুয়ারি মাসে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিল। তবে সচেতন মহলের দাবি, দুদক থেকে সতর্ক করার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা মূল্যের তিন বেলা খাবার (সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতে ভাত) দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০ টাকার খাবার দেওয়া হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ২৮ ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ ও মাংস ৬৩.৬৬ গ্রাম করে দুই বেলা দেওয়ার কথা। সপ্তাহে দুই দিন মাছ ও ডিম দেওয়ার কথা।
এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু মাছ-মাংসের অংশ আকারে ছোট, কলাও ছোট ও নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। মসলা কম দিয়ে তরকারি রান্না করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে, যেটি খেতে রোগীরা আগ্রহী হচ্ছে না।
হাসপাতালের রোগী সদর উপজেলার সিআই পাড়া এলাকার বাসিন্দা জিসান শিকদার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি আছি। হাসপাতালে দুইবার সামান্য ভাত, আলু দুই পিস, ছোট সাইজের মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তরকারিতে মসলার পরিমাণ খুবই কম, মাছ-মাংস পুরোপুরিভাবে রান্না করা হয় না। খাবার মানসম্মত নয়।’
ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুপুরের খাবারের জন্য ভাত, সবজি, ডাল ও মাছের পরিবর্তে ছোট এক টুকরা মাংস দিয়েছে, তা রুচিসম্মত না। আমার মনে হয়েছে, এটা রোগীর খাবার না। আমরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হবে।’
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমরা নিয়মিত খাবার তদারকি করি, এ বিষয়ক একটা কমিটিও আছে। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি, সেই কমিটির মাধ্যমে মাসে এক থেকে দুবার এই খাবার মনিটরিং করা হয়।
আপনারা যে অভিযোগটা দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্যই আমি তদারকি করব। আমি আগামীকালই আরএমও সাহেবসহ আমাদের যে ঠিকাদার আছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, যদি কোনো ঘাটতি থাকে আগামীকাল থেকে অবশ্যই রিকভার হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর খাবারের মান নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিমাণে কম এবং অরুচিকর খাবার দেওয়ায় তা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।
ফলে নিজেদের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরের রেস্টুরেন্ট থেকে তারা খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ও এর রান্নাঘর ঘুরে দেখা যায়, রান্নাঘরের মেঝে ঝকঝকে, বাসনপত্র ধোয়া, খাবার রাখা হয়েছে পরিপাটি করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ রান্নাঘর।
কিন্তু এই নিখুঁত বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রিয় সত্য। রোগীর প্লেটে যে খাবার পৌঁছায়, তার মান আর পরিমাণে রয়েছে বড়সড় গলদ। সকালের নাস্তার জন্য রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও একটি কলা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। পাশাপাশি দেখা যায়, দরপত্র অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি আকারের একটি সবরি জাতের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ছোট একটি চিনিচাপা জাতের কলা।
দুপুরের খাবারে মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মুরগীর মাংস। ৬০ গ্রামের ওপরে একটুকরো মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ৫০ গ্রামের কম ওজনের মাংসের টুকরা। ভাতের চালও মানহীন।
রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাজারে মাছের দাম মুরগির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মুরগি। এদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি লাইলি আক্তার বলেন, আজকে মাছ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মাছের পরিবর্তে মাংস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলছেন, “মাছ বাজারে পায়নি, তাই মাংস দিয়েছে”।
সবরি জাতের কলার পরিবর্তে চিনিচাপা জাতের কলা এবং আকারে ছোট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার বলেন “বাজারে সবরি কলা নেই আকারেও বড় নেই। আমি সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি”।
এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। নিজের অফিস কক্ষ থেকে চলে আসেন খাবার বিতরণের জায়গায়। খাবার নিম্নমানের ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেন।
তিনি প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও পরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খাবার নিম্নমানের না, খাবার ঠিকমতোই দেওয়া হচ্ছে। আজকে মাছের পরিবর্তে মাংস দিয়েছি। ঠিকাদার মাংসের দামই পাবে, মাছের দাম পাবে না।’ ওজনে কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যতটুকু ওজন দিয়েছে সেই দামই পাবে।’
সকালের নাস্তায় নিম্নমানের পাউরুটি এবং দরপত্রে দেওয়া আকারের চেয়ে ছোট আকারের কলা কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুটি আমরা মেপে নিয়েছি, যে ওজনের দেওয়ার কথা সেই ওজনের দিয়েছে। কলা যেরকম দেওয়ার কথা সেরকম দিয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হয়নি। ঠিকাদারকে কার্যাদেশে যে পরিমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই পরিমাণই দিয়েছে।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল শেখ এন্ড সন্স ট্রেডার্স। বেশি দরে খাবার সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নিলেও রোগীদের পাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, এতে ক্ষুব্ধ রোগীরা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরে আর কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের খাবার সরবরাহ করছে।
এদিকে এ বছরের জানুয়ারি মাসে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিল। তবে সচেতন মহলের দাবি, দুদক থেকে সতর্ক করার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা মূল্যের তিন বেলা খাবার (সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতে ভাত) দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০ টাকার খাবার দেওয়া হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ২৮ ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ ও মাংস ৬৩.৬৬ গ্রাম করে দুই বেলা দেওয়ার কথা। সপ্তাহে দুই দিন মাছ ও ডিম দেওয়ার কথা।
এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু মাছ-মাংসের অংশ আকারে ছোট, কলাও ছোট ও নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। মসলা কম দিয়ে তরকারি রান্না করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে, যেটি খেতে রোগীরা আগ্রহী হচ্ছে না।
হাসপাতালের রোগী সদর উপজেলার সিআই পাড়া এলাকার বাসিন্দা জিসান শিকদার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি আছি। হাসপাতালে দুইবার সামান্য ভাত, আলু দুই পিস, ছোট সাইজের মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তরকারিতে মসলার পরিমাণ খুবই কম, মাছ-মাংস পুরোপুরিভাবে রান্না করা হয় না। খাবার মানসম্মত নয়।’
ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুপুরের খাবারের জন্য ভাত, সবজি, ডাল ও মাছের পরিবর্তে ছোট এক টুকরা মাংস দিয়েছে, তা রুচিসম্মত না। আমার মনে হয়েছে, এটা রোগীর খাবার না। আমরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হবে।’
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমরা নিয়মিত খাবার তদারকি করি, এ বিষয়ক একটা কমিটিও আছে। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি, সেই কমিটির মাধ্যমে মাসে এক থেকে দুবার এই খাবার মনিটরিং করা হয়।
আপনারা যে অভিযোগটা দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্যই আমি তদারকি করব। আমি আগামীকালই আরএমও সাহেবসহ আমাদের যে ঠিকাদার আছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, যদি কোনো ঘাটতি থাকে আগামীকাল থেকে অবশ্যই রিকভার হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর খাবারের মান নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৯:১৮
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গৃহবধূর পরকীয়া দেখে ফেলায় নমিতা রানী নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮।
রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে জেলার ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানুয়া এলাকার জামাল কাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কামাল পঞ্চায়েত জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকা কামাল পঞ্চায়েত গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিলেন। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ এর সদস্যরা ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সেখানে আত্মগোপনে থাকা নমিতা রানী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়।
জিয়ানগর থানার ওসি মো. মোহব্বত খান বলেন, রাত ৯টার দিকে ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামালকে র্যাব-৮ সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছেন। পরে আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে আসামি কামালকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এর আগে গত (২৮ মে) জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামের রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী নমিতা রানী পালকে পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ মে নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র জিয়ানগরের ইন্দুরকানী থানায় বাদী হয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ সময় ওই গৃহবধূ বন্যা রানী (৩২) ও তার মামা তাপস দেবনাথকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা রানী ও কামাল পঞ্চায়েতের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক থাকায় শাশুড়ি প্রায় সময় বাধা দিত। ঘটনার দিন অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলায় অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ বিচার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় গৃহবধূর পরকীয়া দেখে ফেলায় নমিতা রানী নামে এক বৃদ্ধকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৮।
রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে জেলার ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানুয়া এলাকার জামাল কাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত কামাল পঞ্চায়েত জিয়ানগর উপজেলার দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রামের মৃত আবু পঞ্চায়েতের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকা কামাল পঞ্চায়েত গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে আসছিলেন। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৮ এর সদস্যরা ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটকানু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সেখানে আত্মগোপনে থাকা নমিতা রানী হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামাল পঞ্চায়েতকে আটক করা হয়।
জিয়ানগর থানার ওসি মো. মোহব্বত খান বলেন, রাত ৯টার দিকে ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামালকে র্যাব-৮ সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছেন। পরে আসামিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে আসামি কামালকে হত্যার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
এর আগে গত (২৮ মে) জিয়ানগর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কলারন গ্রামের রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী নমিতা রানী পালকে পুত্রবধূ বন্যা রানী পাল ও তার পরকীয়া প্রেমিক কামাল পঞ্চায়েত শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন ২৯ মে নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র জিয়ানগরের ইন্দুরকানী থানায় বাদী হয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এ সময় ওই গৃহবধূ বন্যা রানী (৩২) ও তার মামা তাপস দেবনাথকে (৪৪) গ্রেপ্তার করে।
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যা রানী ও কামাল পঞ্চায়েতের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক থাকায় শাশুড়ি প্রায় সময় বাধা দিত। ঘটনার দিন অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলায় অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ বিচার দাবি জানিয়েছেন।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:৪৯
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কচা নদীতে ডুবন্ত জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীতে ডুবে থাকা এমভি গ্রীন এসট্রল-১ নামের একটি জাহাজের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল্লাহ পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের আলাল পশারীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন ধরে আব্দুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর এলাকায় ডুবন্ত জাহাজটির পাশে একটি ডিঙি নৌকায় তার ব্যবহৃত জুতা এবং জাহাজের সিঁড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে পান স্বজনেরা। পরে তাঁর বড় ভাই রানা পশারী ১৩ জুন জিয়ানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রানা পশারী বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। থানায় জিডিও করেছিলাম। সে কীভাবে ওই জাহাজের কাছে গেল, তা বুঝতে পারছি না। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে।’
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, জিডির ভিত্তিতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চাওয়া হয়।
পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ডুবে থাকা জাহাজের ভেতর থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় কচা নদীতে ডুবন্ত জাহাজের ভেতর থেকে মো. আব্দুল্লাহ পশারী (২২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
রোববার (১৪ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরসংলগ্ন কচা নদীতে ডুবে থাকা এমভি গ্রীন এসট্রল-১ নামের একটি জাহাজের ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল্লাহ পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের আলাল পশারীর ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন দিন ধরে আব্দুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর এলাকায় ডুবন্ত জাহাজটির পাশে একটি ডিঙি নৌকায় তার ব্যবহৃত জুতা এবং জাহাজের সিঁড়িতে মোবাইল ফোন দেখতে পান স্বজনেরা। পরে তাঁর বড় ভাই রানা পশারী ১৩ জুন জিয়ানগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রানা পশারী বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমার ভাই নিখোঁজ ছিল। থানায় জিডিও করেছিলাম। সে কীভাবে ওই জাহাজের কাছে গেল, তা বুঝতে পারছি না। এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে।’
জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহাব্বত খান বলেন, জিডির ভিত্তিতে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা চাওয়া হয়।
পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ডুবে থাকা জাহাজের ভেতর থেকে আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৬:৪০
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা ঝালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বেড়া নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মেহগনিগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. তৈয়ব হোসেনের বিরুদ্ধে। আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে গাছ কাটার কাজ চলতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হুমাউন কবির ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের নামে দুটি দলিলে মোট ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে থাকা মাঠের একটি অংশ দখল করে সেখানে বেড়া দিয়েছেন তৈয়ব হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের রোপণ করা সাতটি বড় মেহগনিগাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হুমাউন কবির বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে থাকা মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। গাছও কেটে নেওয়া হচ্ছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। যদি তাঁর (তৈয়ব হোসেন) জমির দাবি থাকে, তাহলে সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমি মেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী মো. মিজানুর রহমান বলেন, জমিটি বিদ্যালয়ের নামে। তিনি (তৈয়ব হোসেন) দাবি করছেন মামলার মাধ্যমে জমি পেয়েছেন। যদি সত্যিই রায় পেয়ে থাকেন, তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে গাছ কেটে নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তৈয়ব হোসেন বলেন, ‘আমি আদালতের মাধ্যমে এই জমি পেয়েছি। তাই আমার জমির গাছ আমি কাটছি।’ বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, ‘একসময় তৈয়ব হোসেন বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছিলেন। এখন তিনি বিদ্যালয়ের জমি দখল করে গাছ কাটছেন।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো বিদ্যালয় থেকেই রোপণ করা হয়েছিল এবং জমিটিও বিদ্যালয়ের দখলে ছিল। যদি তৈয়ব হোসেন মামলায় জমি পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মাদ্রা ঝালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বেড়া নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের জমিতে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মেহগনিগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মো. তৈয়ব হোসেনের বিরুদ্ধে। আজ সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সামনে গাছ কাটার কাজ চলতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হুমাউন কবির ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের নামে দুটি দলিলে মোট ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে থাকা মাঠের একটি অংশ দখল করে সেখানে বেড়া দিয়েছেন তৈয়ব হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের রোপণ করা সাতটি বড় মেহগনিগাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মো. হুমাউন কবির বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে থাকা মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। গাছও কেটে নেওয়া হচ্ছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে পারছে না। যদি তাঁর (তৈয়ব হোসেন) জমির দাবি থাকে, তাহলে সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমি মেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী মো. মিজানুর রহমান বলেন, জমিটি বিদ্যালয়ের নামে। তিনি (তৈয়ব হোসেন) দাবি করছেন মামলার মাধ্যমে জমি পেয়েছেন। যদি সত্যিই রায় পেয়ে থাকেন, তাহলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি প্রভাব খাঁটিয়ে গাছ কেটে নিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে তৈয়ব হোসেন বলেন, ‘আমি আদালতের মাধ্যমে এই জমি পেয়েছি। তাই আমার জমির গাছ আমি কাটছি।’ বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা লিটন হোসেন বলেন, ‘একসময় তৈয়ব হোসেন বিদ্যালয়ের সভাপতি হতে চেয়েছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছিলেন। এখন তিনি বিদ্যালয়ের জমি দখল করে গাছ কাটছেন।’
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বলেন, গাছগুলো বিদ্যালয় থেকেই রোপণ করা হয়েছিল এবং জমিটিও বিদ্যালয়ের দখলে ছিল। যদি তৈয়ব হোসেন মামলায় জমি পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.