Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:২৫
পিরোজপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিমাণে কম এবং অরুচিকর খাবার দেওয়ায় তা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।
ফলে নিজেদের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরের রেস্টুরেন্ট থেকে তারা খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ও এর রান্নাঘর ঘুরে দেখা যায়, রান্নাঘরের মেঝে ঝকঝকে, বাসনপত্র ধোয়া, খাবার রাখা হয়েছে পরিপাটি করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ রান্নাঘর।
কিন্তু এই নিখুঁত বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রিয় সত্য। রোগীর প্লেটে যে খাবার পৌঁছায়, তার মান আর পরিমাণে রয়েছে বড়সড় গলদ। সকালের নাস্তার জন্য রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও একটি কলা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। পাশাপাশি দেখা যায়, দরপত্র অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি আকারের একটি সবরি জাতের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ছোট একটি চিনিচাপা জাতের কলা।
দুপুরের খাবারে মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মুরগীর মাংস। ৬০ গ্রামের ওপরে একটুকরো মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ৫০ গ্রামের কম ওজনের মাংসের টুকরা। ভাতের চালও মানহীন।
রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাজারে মাছের দাম মুরগির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মুরগি। এদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি লাইলি আক্তার বলেন, আজকে মাছ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মাছের পরিবর্তে মাংস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলছেন, “মাছ বাজারে পায়নি, তাই মাংস দিয়েছে”।
সবরি জাতের কলার পরিবর্তে চিনিচাপা জাতের কলা এবং আকারে ছোট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার বলেন “বাজারে সবরি কলা নেই আকারেও বড় নেই। আমি সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি”।
এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। নিজের অফিস কক্ষ থেকে চলে আসেন খাবার বিতরণের জায়গায়। খাবার নিম্নমানের ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেন।
তিনি প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও পরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খাবার নিম্নমানের না, খাবার ঠিকমতোই দেওয়া হচ্ছে। আজকে মাছের পরিবর্তে মাংস দিয়েছি। ঠিকাদার মাংসের দামই পাবে, মাছের দাম পাবে না।’ ওজনে কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যতটুকু ওজন দিয়েছে সেই দামই পাবে।’
সকালের নাস্তায় নিম্নমানের পাউরুটি এবং দরপত্রে দেওয়া আকারের চেয়ে ছোট আকারের কলা কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুটি আমরা মেপে নিয়েছি, যে ওজনের দেওয়ার কথা সেই ওজনের দিয়েছে। কলা যেরকম দেওয়ার কথা সেরকম দিয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হয়নি। ঠিকাদারকে কার্যাদেশে যে পরিমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই পরিমাণই দিয়েছে।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল শেখ এন্ড সন্স ট্রেডার্স। বেশি দরে খাবার সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নিলেও রোগীদের পাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, এতে ক্ষুব্ধ রোগীরা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরে আর কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের খাবার সরবরাহ করছে।
এদিকে এ বছরের জানুয়ারি মাসে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিল। তবে সচেতন মহলের দাবি, দুদক থেকে সতর্ক করার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা মূল্যের তিন বেলা খাবার (সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতে ভাত) দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০ টাকার খাবার দেওয়া হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ২৮ ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ ও মাংস ৬৩.৬৬ গ্রাম করে দুই বেলা দেওয়ার কথা। সপ্তাহে দুই দিন মাছ ও ডিম দেওয়ার কথা।
এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু মাছ-মাংসের অংশ আকারে ছোট, কলাও ছোট ও নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। মসলা কম দিয়ে তরকারি রান্না করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে, যেটি খেতে রোগীরা আগ্রহী হচ্ছে না।
হাসপাতালের রোগী সদর উপজেলার সিআই পাড়া এলাকার বাসিন্দা জিসান শিকদার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি আছি। হাসপাতালে দুইবার সামান্য ভাত, আলু দুই পিস, ছোট সাইজের মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তরকারিতে মসলার পরিমাণ খুবই কম, মাছ-মাংস পুরোপুরিভাবে রান্না করা হয় না। খাবার মানসম্মত নয়।’
ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুপুরের খাবারের জন্য ভাত, সবজি, ডাল ও মাছের পরিবর্তে ছোট এক টুকরা মাংস দিয়েছে, তা রুচিসম্মত না। আমার মনে হয়েছে, এটা রোগীর খাবার না। আমরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হবে।’
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমরা নিয়মিত খাবার তদারকি করি, এ বিষয়ক একটা কমিটিও আছে। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি, সেই কমিটির মাধ্যমে মাসে এক থেকে দুবার এই খাবার মনিটরিং করা হয়।
আপনারা যে অভিযোগটা দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্যই আমি তদারকি করব। আমি আগামীকালই আরএমও সাহেবসহ আমাদের যে ঠিকাদার আছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, যদি কোনো ঘাটতি থাকে আগামীকাল থেকে অবশ্যই রিকভার হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর খাবারের মান নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিমাণে কম এবং অরুচিকর খাবার দেওয়ায় তা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।
ফলে নিজেদের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরের রেস্টুরেন্ট থেকে তারা খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ও এর রান্নাঘর ঘুরে দেখা যায়, রান্নাঘরের মেঝে ঝকঝকে, বাসনপত্র ধোয়া, খাবার রাখা হয়েছে পরিপাটি করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ রান্নাঘর।
কিন্তু এই নিখুঁত বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রিয় সত্য। রোগীর প্লেটে যে খাবার পৌঁছায়, তার মান আর পরিমাণে রয়েছে বড়সড় গলদ। সকালের নাস্তার জন্য রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও একটি কলা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। পাশাপাশি দেখা যায়, দরপত্র অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি আকারের একটি সবরি জাতের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ছোট একটি চিনিচাপা জাতের কলা।
দুপুরের খাবারে মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মুরগীর মাংস। ৬০ গ্রামের ওপরে একটুকরো মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ৫০ গ্রামের কম ওজনের মাংসের টুকরা। ভাতের চালও মানহীন।
রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাজারে মাছের দাম মুরগির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মুরগি। এদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি লাইলি আক্তার বলেন, আজকে মাছ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মাছের পরিবর্তে মাংস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলছেন, “মাছ বাজারে পায়নি, তাই মাংস দিয়েছে”।
সবরি জাতের কলার পরিবর্তে চিনিচাপা জাতের কলা এবং আকারে ছোট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার বলেন “বাজারে সবরি কলা নেই আকারেও বড় নেই। আমি সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি”।
এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। নিজের অফিস কক্ষ থেকে চলে আসেন খাবার বিতরণের জায়গায়। খাবার নিম্নমানের ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেন।
তিনি প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও পরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খাবার নিম্নমানের না, খাবার ঠিকমতোই দেওয়া হচ্ছে। আজকে মাছের পরিবর্তে মাংস দিয়েছি। ঠিকাদার মাংসের দামই পাবে, মাছের দাম পাবে না।’ ওজনে কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যতটুকু ওজন দিয়েছে সেই দামই পাবে।’
সকালের নাস্তায় নিম্নমানের পাউরুটি এবং দরপত্রে দেওয়া আকারের চেয়ে ছোট আকারের কলা কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুটি আমরা মেপে নিয়েছি, যে ওজনের দেওয়ার কথা সেই ওজনের দিয়েছে। কলা যেরকম দেওয়ার কথা সেরকম দিয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হয়নি। ঠিকাদারকে কার্যাদেশে যে পরিমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই পরিমাণই দিয়েছে।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল শেখ এন্ড সন্স ট্রেডার্স। বেশি দরে খাবার সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নিলেও রোগীদের পাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, এতে ক্ষুব্ধ রোগীরা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরে আর কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের খাবার সরবরাহ করছে।
এদিকে এ বছরের জানুয়ারি মাসে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিল। তবে সচেতন মহলের দাবি, দুদক থেকে সতর্ক করার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা মূল্যের তিন বেলা খাবার (সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতে ভাত) দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০ টাকার খাবার দেওয়া হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ২৮ ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ ও মাংস ৬৩.৬৬ গ্রাম করে দুই বেলা দেওয়ার কথা। সপ্তাহে দুই দিন মাছ ও ডিম দেওয়ার কথা।
এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু মাছ-মাংসের অংশ আকারে ছোট, কলাও ছোট ও নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। মসলা কম দিয়ে তরকারি রান্না করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে, যেটি খেতে রোগীরা আগ্রহী হচ্ছে না।
হাসপাতালের রোগী সদর উপজেলার সিআই পাড়া এলাকার বাসিন্দা জিসান শিকদার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি আছি। হাসপাতালে দুইবার সামান্য ভাত, আলু দুই পিস, ছোট সাইজের মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তরকারিতে মসলার পরিমাণ খুবই কম, মাছ-মাংস পুরোপুরিভাবে রান্না করা হয় না। খাবার মানসম্মত নয়।’
ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুপুরের খাবারের জন্য ভাত, সবজি, ডাল ও মাছের পরিবর্তে ছোট এক টুকরা মাংস দিয়েছে, তা রুচিসম্মত না। আমার মনে হয়েছে, এটা রোগীর খাবার না। আমরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হবে।’
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমরা নিয়মিত খাবার তদারকি করি, এ বিষয়ক একটা কমিটিও আছে। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি, সেই কমিটির মাধ্যমে মাসে এক থেকে দুবার এই খাবার মনিটরিং করা হয়।
আপনারা যে অভিযোগটা দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্যই আমি তদারকি করব। আমি আগামীকালই আরএমও সাহেবসহ আমাদের যে ঠিকাদার আছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, যদি কোনো ঘাটতি থাকে আগামীকাল থেকে অবশ্যই রিকভার হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর খাবারের মান নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

২৩ মে, ২০২৬ ১৮:৩৭
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত টিসি মোহরার শফিকুল ইসলাম কারাগারে থাকা অবস্থাতেও দাপ্তরিক তথ্য গোপন করে ছুটি গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল নলছিটি থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।তবে ওই সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ গোপন রেখে অসুস্থতাজনিত ছুটি দেখিয়ে অফিসে তথ্য উপস্থাপন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে দাপ্তরিক রেকর্ডে তাকে নিয়মিত ছুটিতে থাকা কর্মচারী হিসেবে দেখানো হয়।
সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী গ্রেপ্তার বা কারাগারে থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সেই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরে আলোচনা থাকলেও এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিসি মোহরার শফিকুল ইসলাম কারাগারে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) যোবায়ের হোসেন বলেন,শফিকুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে তিন দিন ছুটিতে ছিলেন। তবে তিনি কারাগারে ছিলেন এ বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য নেই।
বরিশাল জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

২৩ মে, ২০২৬ ১৬:১৪
পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, পিরোজপুরে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে কোরবানির পশুর হাট। জেলাজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছে ছোট-বড় নানা আকারের কোরবানিযোগ্য পশু। তবে হাটগুলোতে এবার মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁচপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা তাদের পালিত পশু নিয়ে হাটে হাজির হয়েছেন। ক্রেতারাও ভিড় করছেন, তবে এখনই কেনার চেয়ে দাম যাচাই-বাছাই করতেই বেশি পছন্দ করছেন তারা।
হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, ক্রেতা মো. রহমান আলী বলেন, হাটে গরুর আমদানি বেশ ভালো। তবে বিক্রেতারা এখন দাম একটু চড়া চাচ্ছেন। আমার বাজেট মাঝারি সাইজের গরুর। আরও দু-একটা হাট দেখে তারপর পছন্দের পশুটি কিনব।
খামারি ও বিক্রেতা হাশেম মিয়া বলেন, সবেমাত্র হাটে গরু তুলতে শুরু করেছি। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম করছেন—কিন্তু এখনো পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হয়নি। আশা করছি, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে হাট পুরোপুরি জমে উঠবে এবং ভালো দাম পাব।
কোরবানির হাটগুলোকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি, ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। পিরোজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরো জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সর্বমোট ৫৫টি পশুর হাট বসছে।
হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হাটে আমাদের পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে টাকা লেনদেন ও পশু আনা-নেওয়া করতে পারেন, তার জন্য পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটির দিনগুলো শুরু হলে হাটের বেচাবিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে এবং খামারিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন।

২১ মে, ২০২৬ ১৩:১৬
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত টিসি মোহরার শফিকুল ইসলাম কারাগারে থাকা অবস্থাতেও দাপ্তরিক তথ্য গোপন করে ছুটি গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হলেও এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শফিকুল ইসলামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামে। ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল নলছিটি থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।তবে ওই সময় তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিতির প্রকৃত কারণ গোপন রেখে অসুস্থতাজনিত ছুটি দেখিয়ে অফিসে তথ্য উপস্থাপন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে দাপ্তরিক রেকর্ডে তাকে নিয়মিত ছুটিতে থাকা কর্মচারী হিসেবে দেখানো হয়।
সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী গ্রেপ্তার বা কারাগারে থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সেই বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি এমন প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরে আলোচনা থাকলেও এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টিসি মোহরার শফিকুল ইসলাম কারাগারে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এদিকে রহমতপুর সাব-রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) যোবায়ের হোসেন বলেন,শফিকুল ইসলাম অসুস্থতার কারণে তিন দিন ছুটিতে ছিলেন। তবে তিনি কারাগারে ছিলেন এ বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য নেই।
বরিশাল জেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোহছেন মিয়া বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
পবিত্র ঈদুল আজহা যতই ঘনিয়ে আসছে, পিরোজপুরে ততই জমজমাট হয়ে উঠছে কোরবানির পশুর হাট। জেলাজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছে ছোট-বড় নানা আকারের কোরবানিযোগ্য পশু। তবে হাটগুলোতে এবার মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
সরেজমিনে সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাঁচপাড়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতারা তাদের পালিত পশু নিয়ে হাটে হাজির হয়েছেন। ক্রেতারাও ভিড় করছেন, তবে এখনই কেনার চেয়ে দাম যাচাই-বাছাই করতেই বেশি পছন্দ করছেন তারা।
হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, ক্রেতা মো. রহমান আলী বলেন, হাটে গরুর আমদানি বেশ ভালো। তবে বিক্রেতারা এখন দাম একটু চড়া চাচ্ছেন। আমার বাজেট মাঝারি সাইজের গরুর। আরও দু-একটা হাট দেখে তারপর পছন্দের পশুটি কিনব।
খামারি ও বিক্রেতা হাশেম মিয়া বলেন, সবেমাত্র হাটে গরু তুলতে শুরু করেছি। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম করছেন—কিন্তু এখনো পুরোদমে কেনাবেচা শুরু হয়নি। আশা করছি, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে হাট পুরোপুরি জমে উঠবে এবং ভালো দাম পাব।
কোরবানির হাটগুলোকে কেন্দ্র করে জালিয়াতি, ছিনতাই ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। পিরোজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পুরো জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে সর্বমোট ৫৫টি পশুর হাট বসছে।
হাটের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। হাটে আমাদের পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। ক্রেতা ও বিক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে টাকা লেনদেন ও পশু আনা-নেওয়া করতে পারেন, তার জন্য পুলিশ প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটির দিনগুলো শুরু হলে হাটের বেচাবিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে এবং খামারিরা তাদের কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাবেন।
পিরোজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটির বিস্তার বাড়ায় ১০০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১৪ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন শিশু রোগী। তাদের অধিকাংশই হাম আক্রান্ত। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াইশ। শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের বাকি ৮৬ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন আরও প্রায় ১৬০ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পিরোজপুরে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন রোগী। পরীক্ষার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে একাধিক রোগী এবং অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খাচ্ছেন।
হামে আক্রান্ত এক শিশুর মা সুমাইয়া বলেন, হাসপাতালে খুব ভিড়। তারপরও ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন। আমার সন্তানকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
হাম আক্রান্ত শিশু কৌশিকের মা মৌমিতা বেগম বলেন, আমার ছেলের বয়স মাত্র ছয় মাস। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে, তবে ডাক্তার বলেছেন আরও কয়েকদিন থাকতে হবে।
আরেক অভিভাবক মুক্তা বেগম বলেন, আমার ছেলে ইয়াসিনের বয়স সাত মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখনো তেমন উন্নতি হয়নি।
নাজিরপুর উপজেলা থেকে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার ছেলে আয়ানের বয়স সাড়ে চার বছর। প্রথমে নাজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সদর হাসপাতালে এনেছি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলায় হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কাউকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, হাম রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল জেলায় ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের জন্য বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।
পিরোজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটির বিস্তার বাড়ায় ১০০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ১৪ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ৭০ জন শিশু রোগী। তাদের অধিকাংশই হাম আক্রান্ত। পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় আড়াইশ। শিশু ওয়ার্ড ছাড়াও হাসপাতালের বাকি ৮৬ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছেন আরও প্রায় ১৬০ জন রোগী। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, পিরোজপুরে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরও ১২ জন সন্দেহভাজন রোগী। পরীক্ষার মাধ্যমে ইতোমধ্যে ২০ জনের হাম রোগ নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২১১ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে অনেক শিশু হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডে একাধিক রোগী এবং অনেক শিশুকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খাচ্ছেন।
হামে আক্রান্ত এক শিশুর মা সুমাইয়া বলেন, হাসপাতালে খুব ভিড়। তারপরও ডাক্তাররা চেষ্টা করছেন। আমার সন্তানকে নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
হাম আক্রান্ত শিশু কৌশিকের মা মৌমিতা বেগম বলেন, আমার ছেলের বয়স মাত্র ছয় মাস। পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখন কিছুটা সুস্থ হয়েছে, তবে ডাক্তার বলেছেন আরও কয়েকদিন থাকতে হবে।
আরেক অভিভাবক মুক্তা বেগম বলেন, আমার ছেলে ইয়াসিনের বয়স সাত মাস। তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছে। এখনো তেমন উন্নতি হয়নি।
নাজিরপুর উপজেলা থেকে আসা ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমার ছেলে আয়ানের বয়স সাড়ে চার বছর। প্রথমে নাজিরপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি ছিল। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সদর হাসপাতালে এনেছি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলায় হাম আক্রান্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও কাউকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, হাম রোগীর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, কোনো শিশুর জ্বর, শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে গত ৫ এপ্রিল জেলায় ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সি শিশুদের জন্য বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:৩৭
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:২৬
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:০৪
২৪ মে, ২০২৬ ১৪:৪০