পিরোজপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিমাণে কম এবং অরুচিকর খাবার দেওয়ায় তা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।
ফলে নিজেদের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরের রেস্টুরেন্ট থেকে তারা খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ও এর রান্নাঘর ঘুরে দেখা যায়, রান্নাঘরের মেঝে ঝকঝকে, বাসনপত্র ধোয়া, খাবার রাখা হয়েছে পরিপাটি করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ রান্নাঘর।
কিন্তু এই নিখুঁত বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রিয় সত্য। রোগীর প্লেটে যে খাবার পৌঁছায়, তার মান আর পরিমাণে রয়েছে বড়সড় গলদ। সকালের নাস্তার জন্য রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও একটি কলা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। পাশাপাশি দেখা যায়, দরপত্র অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি আকারের একটি সবরি জাতের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ছোট একটি চিনিচাপা জাতের কলা।
দুপুরের খাবারে মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মুরগীর মাংস। ৬০ গ্রামের ওপরে একটুকরো মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ৫০ গ্রামের কম ওজনের মাংসের টুকরা। ভাতের চালও মানহীন।
রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাজারে মাছের দাম মুরগির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মুরগি। এদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি লাইলি আক্তার বলেন, আজকে মাছ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মাছের পরিবর্তে মাংস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলছেন, “মাছ বাজারে পায়নি, তাই মাংস দিয়েছে”।
সবরি জাতের কলার পরিবর্তে চিনিচাপা জাতের কলা এবং আকারে ছোট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার বলেন “বাজারে সবরি কলা নেই আকারেও বড় নেই। আমি সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি”।
এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। নিজের অফিস কক্ষ থেকে চলে আসেন খাবার বিতরণের জায়গায়। খাবার নিম্নমানের ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেন।
তিনি প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও পরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খাবার নিম্নমানের না, খাবার ঠিকমতোই দেওয়া হচ্ছে। আজকে মাছের পরিবর্তে মাংস দিয়েছি। ঠিকাদার মাংসের দামই পাবে, মাছের দাম পাবে না।’ ওজনে কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যতটুকু ওজন দিয়েছে সেই দামই পাবে।’
সকালের নাস্তায় নিম্নমানের পাউরুটি এবং দরপত্রে দেওয়া আকারের চেয়ে ছোট আকারের কলা কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুটি আমরা মেপে নিয়েছি, যে ওজনের দেওয়ার কথা সেই ওজনের দিয়েছে। কলা যেরকম দেওয়ার কথা সেরকম দিয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হয়নি। ঠিকাদারকে কার্যাদেশে যে পরিমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই পরিমাণই দিয়েছে।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল শেখ এন্ড সন্স ট্রেডার্স। বেশি দরে খাবার সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নিলেও রোগীদের পাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, এতে ক্ষুব্ধ রোগীরা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরে আর কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের খাবার সরবরাহ করছে।
এদিকে এ বছরের জানুয়ারি মাসে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিল। তবে সচেতন মহলের দাবি, দুদক থেকে সতর্ক করার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা মূল্যের তিন বেলা খাবার (সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতে ভাত) দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০ টাকার খাবার দেওয়া হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ২৮ ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ ও মাংস ৬৩.৬৬ গ্রাম করে দুই বেলা দেওয়ার কথা। সপ্তাহে দুই দিন মাছ ও ডিম দেওয়ার কথা।
এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু মাছ-মাংসের অংশ আকারে ছোট, কলাও ছোট ও নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। মসলা কম দিয়ে তরকারি রান্না করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে, যেটি খেতে রোগীরা আগ্রহী হচ্ছে না।
হাসপাতালের রোগী সদর উপজেলার সিআই পাড়া এলাকার বাসিন্দা জিসান শিকদার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি আছি। হাসপাতালে দুইবার সামান্য ভাত, আলু দুই পিস, ছোট সাইজের মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তরকারিতে মসলার পরিমাণ খুবই কম, মাছ-মাংস পুরোপুরিভাবে রান্না করা হয় না। খাবার মানসম্মত নয়।’
ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুপুরের খাবারের জন্য ভাত, সবজি, ডাল ও মাছের পরিবর্তে ছোট এক টুকরা মাংস দিয়েছে, তা রুচিসম্মত না। আমার মনে হয়েছে, এটা রোগীর খাবার না। আমরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হবে।’
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমরা নিয়মিত খাবার তদারকি করি, এ বিষয়ক একটা কমিটিও আছে। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি, সেই কমিটির মাধ্যমে মাসে এক থেকে দুবার এই খাবার মনিটরিং করা হয়।
আপনারা যে অভিযোগটা দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্যই আমি তদারকি করব। আমি আগামীকালই আরএমও সাহেবসহ আমাদের যে ঠিকাদার আছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, যদি কোনো ঘাটতি থাকে আগামীকাল থেকে অবশ্যই রিকভার হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর খাবারের মান নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৫
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হেনা পশারী।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, ‘তখন আমি শ্বশুরবাড়ি খুলনায় ছিলাম। এরপর এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি। তার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতেও চাইনি।’
৫ আগস্টের পর বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশপাশেই ছিলাম।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে হেনা পশারী বলেন, ‘তিনি (সাঈদী) আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের জন্য কী করেছে, এটা সে জানে আর আল্লাহ জানে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা না করাই ভালো।’
এদিকে, মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারী। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
চান মিয়া পশারীর ওই সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।'
প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ‘আল্লাহর ওলি’ বলে সম্বোধন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন হেনা পশারী। তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তার ভাই কেন সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন হেনা পশারী।
বড় ভাইয়ের সাক্ষ্য দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হেনা পশারী বলেন, ‘তখন আমি শ্বশুরবাড়ি খুলনায় ছিলাম। এরপর এ বিষয়ে ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কোনো যোগাযোগ করিনি। তার কাছে এ বিষয়ে কিছু জানতেও চাইনি।’
৫ আগস্টের পর বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশপাশেই ছিলাম।’
সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় মানিক পশারীর সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে হেনা পশারী বলেন, ‘তিনি (সাঈদী) আল্লাহর ওলি ছিলেন। বড় ভাই কিসের জন্য কী করেছে, এটা সে জানে আর আল্লাহ জানে। এ ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমাদের জিজ্ঞাসা না করাই ভালো।’
এদিকে, মানিক পশারী টাকার বিনিময়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারী। এ-সংক্রান্ত তার একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
চান মিয়া পশারীর ওই সাক্ষাৎকারটি ফেসবুকে প্রথম পোস্ট করেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী। একই সঙ্গে তিনি মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণেই মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।'

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে মন্দিরের জমিতে দীর্ঘদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে জমিটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে সেখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শরিকদের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি।
মনোজ বিশ্বাসের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে সেখানে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
সুমন আইচের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শফিকুল তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
আবু হানিফ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধান দাবি করেন তিনি।
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।
পিরোজপুরের নেছারাবাদে প্রায় ৬০ বছরের পুরোনো শীতলা মন্দিরের ৪২ শতক জমি দখল করে ধান চাষের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মো. শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলে নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে মন্দিরের জমিতে দীর্ঘদিনের পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।
উপজেলার সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শীতলা মন্দিরের নামে জমিটির অবস্থান। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক দশক ধরে সেখানে শীতলা পূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়ে আসছিল। জমি উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটির দাগ নম্বর ৯৫২ এবং খতিয়ান নম্বর ১৩০। ভুক্তভোগীদের দাবি, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শরিকদের একজনের অংশ নিয়ে করা অনিবন্ধিত বায়না চুক্তির ভিত্তিতে জমিটি দখলে নেন শফিকুল ইসলাম হাওলাদার। সংশ্লিষ্ট শরিক বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর থেকে জমিতে ধান চাষ করা হচ্ছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জমির মালিক ননী লাল বিশ্বাসের ছেলে মনোজ বিশ্বাস বলেন, সর্বশেষ বিএস রেকর্ডে জমিটি আটজন শরিকের নামে রয়েছে। শফিকুল ইসলাম একটি অনিবন্ধিত বায়না চুক্তি দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় জমিতে ধান চাষ করছেন তিনি।
মনোজ বিশ্বাসের দাবি, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে শীতলা পূজা করে আসছেন। জমিটি উদ্ধার করে সেখানে আগের মতো পূজা-অর্চনা চালুর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সুমন আইচ বলেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি ওই জমিতে শীতলা পূজা হতে দেখে আসছেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জমিটি দখলের অভিযোগ ওঠে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
সুমন আইচের অভিযোগ, জমির কাগজপত্র নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও শফিকুল তাতে সাড়া দিচ্ছেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত জমি নিয়ে এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শফিকুল ইসলাম হাওলাদারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সমুদয়কাঠী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. আবু হানিফ বলেন, শফিকুল ইসলাম হাওলাদার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি। তবে জমিসংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত।
আবু হানিফ বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ জমি দখল করলে তার দায় দল নেবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পিরোজপুর জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রলয় মন্ডল বলেন, সমুদয়কাঠীতে জমি দখল, ধর্মীয় স্থাপনা ভাঙচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ পেয়ে তাঁরা সরেজমিনে গিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হলেও শফিকুল ইসলাম হাওলাদার তাতে সাড়া দেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের আইনানুগ নিষ্পত্তি এবং মন্দিরের জমি নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির সমাধান দাবি করেন তিনি।
সংবাদসূত্র: দৈনিক কালবেলা।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।
জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) দাফন ঘিরে পিরোজপুরে দিনভর উত্তেজনা, বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। মরদেহে গার্ড অব অনার দেওয়া এবং নিজ গ্রামে দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন স্বজনরা। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের নিজেদের হাতে খোঁড়া কবরে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে দলটি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাতার বাড়িতে মারা যান মানিক পশারী। তিনি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। গত দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, গার্ড অব অনার দেওয়া ও নিজ এলাকায় দাফন নিয়ে আপত্তির মুখে পড়েন তাঁরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষার পর বিকেল ৫টার দিকে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে মরদেহ পুলিশি পাহারায় রাখা হয়।
মানিক পশারীর মেয়ের জামাতা ফারুক হোসেনের অভিযোগ, মরদেহ আনার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ নিয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে, তা তাঁরা ভাবেননি। অন্যদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া ও পিরোজপুরে দাফনের বিরোধিতা করা হয়। এটি তাঁর বক্তব্য; এ দাবির সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাত ১টার দিকে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ চিতলিয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানেও দাফনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রথমবার খোঁড়া কবরটি কেউ ভরাট করে দেওয়ায় নতুন করে কবর খুঁড়তে হয়। স্ত্রী, মেয়ে ও বোনসহ পরিবারের নারী সদস্যরাই কোদাল হাতে সেই কাজ করেন। রাত ২টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন; তবে কোনো পুরুষ স্বজন এগিয়ে আসেননি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
দাফন নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই পিরোজপুর জেলা জামায়াত দাবি করেছে, তাদের কোনো নেতা-কর্মী দাফনে বাধা দেননি। বরং পুলিশকে সহযোগিতা করে দাফন সম্পন্ন করতে সহায়তা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পরবর্তী সময়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কবরের পাশেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী ২০০৯ সালে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওই মামলায় ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তাঁর সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কারাবন্দি অবস্থায় ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

১৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১১:২৫
পিরোজপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিমাণে কম এবং অরুচিকর খাবার দেওয়ায় তা গ্রহণে আগ্রহ হারাচ্ছেন রোগীরা।
ফলে নিজেদের বাড়ি, আত্মীয়-স্বজন বা বাইরের রেস্টুরেন্ট থেকে তারা খাবার কিনে খাচ্ছেন। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রোগীদের।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল ও এর রান্নাঘর ঘুরে দেখা যায়, রান্নাঘরের মেঝে ঝকঝকে, বাসনপত্র ধোয়া, খাবার রাখা হয়েছে পরিপাটি করে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে একটি আদর্শ রান্নাঘর।
কিন্তু এই নিখুঁত বাহ্যিকতার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রিয় সত্য। রোগীর প্লেটে যে খাবার পৌঁছায়, তার মান আর পরিমাণে রয়েছে বড়সড় গলদ। সকালের নাস্তার জন্য রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি ডিম, সামান্য চিনি ও একটি কলা দেওয়া হয়েছে।
যেখানে নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়ার অভিযোগ করেন রোগীরা। পাশাপাশি দেখা যায়, দরপত্র অনুযায়ী ৪ ইঞ্চি আকারের একটি সবরি জাতের কলা দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ছোট একটি চিনিচাপা জাতের কলা।
দুপুরের খাবারে মাছ দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় মুরগীর মাংস। ৬০ গ্রামের ওপরে একটুকরো মাংস দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় ৫০ গ্রামের কম ওজনের মাংসের টুকরা। ভাতের চালও মানহীন।
রোগীরা অভিযোগ করে বলছেন, বাজারে মাছের দাম মুরগির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় মাছের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে মুরগি। এদিকে হাসপাতালের বাবুর্চি লাইলি আক্তার বলেন, আজকে মাছ দেওয়ার কথা ছিল কিন্তু মাছের পরিবর্তে মাংস দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলছেন, “মাছ বাজারে পায়নি, তাই মাংস দিয়েছে”।
সবরি জাতের কলার পরিবর্তে চিনিচাপা জাতের কলা এবং আকারে ছোট কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদার বলেন “বাজারে সবরি কলা নেই আকারেও বড় নেই। আমি সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে জানিয়েছি”।
এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিজাম উদ্দিন। নিজের অফিস কক্ষ থেকে চলে আসেন খাবার বিতরণের জায়গায়। খাবার নিম্নমানের ও পরিমাণে কম দেওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পরেন।
তিনি প্রথমে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও পরে উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, ‘খাবার নিম্নমানের না, খাবার ঠিকমতোই দেওয়া হচ্ছে। আজকে মাছের পরিবর্তে মাংস দিয়েছি। ঠিকাদার মাংসের দামই পাবে, মাছের দাম পাবে না।’ ওজনে কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার যতটুকু ওজন দিয়েছে সেই দামই পাবে।’
সকালের নাস্তায় নিম্নমানের পাউরুটি এবং দরপত্রে দেওয়া আকারের চেয়ে ছোট আকারের কলা কেন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রুটি আমরা মেপে নিয়েছি, যে ওজনের দেওয়ার কথা সেই ওজনের দিয়েছে। কলা যেরকম দেওয়ার কথা সেরকম দিয়েছে। এখানে নিয়মের বাইরে কিছু হয়নি। ঠিকাদারকে কার্যাদেশে যে পরিমাণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেই পরিমাণই দিয়েছে।’
জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দরপত্র মূল্যায়নে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠানটি ছিল শেখ এন্ড সন্স ট্রেডার্স। বেশি দরে খাবার সরবরাহের দরপত্র বাগিয়ে নিলেও রোগীদের পাতে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, এতে ক্ষুব্ধ রোগীরা।
২০২৩-২৪ অর্থ বছরের পরে আর কোনো দরপত্র আহ্বান করেনি জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে দরপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের খাবার সরবরাহ করছে।
এদিকে এ বছরের জানুয়ারি মাসে পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি দল হাসপাতাল পরিদর্শন করে খাবারের পরিমাণ কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করেছিল। তবে সচেতন মহলের দাবি, দুদক থেকে সতর্ক করার পরেও কোনো ভ্রুক্ষেপ করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ বিভাগে ভর্তি রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি প্রতিদিন সরকারিভাবে ১৭৫ টাকা মূল্যের তিন বেলা খাবার (সকালে নাশতা, দুপুরে ও রাতে ভাত) দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ দিবসে প্রতি রোগীকে ২০০ টাকার খাবার দেওয়া হয়।
দরপত্রের শর্ত অনুয়ায়ী, হাসপাতালে প্রতিদিন দুপুর ও রাতে ২৮ ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাছ ও মাংস ৬৩.৬৬ গ্রাম করে দুই বেলা দেওয়ার কথা। সপ্তাহে দুই দিন মাছ ও ডিম দেওয়ার কথা।
এ ছাড়া প্রতিদিন সকালে রোগীদের দুটি পাউরুটি, একটি সিদ্ধ ডিম ও একটি পাকা সবরি কলা দেওয়ার কথা। কিন্তু মাছ-মাংসের অংশ আকারে ছোট, কলাও ছোট ও নিম্নমানের পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে। মসলা কম দিয়ে তরকারি রান্না করে রোগীদের দেওয়া হচ্ছে, যেটি খেতে রোগীরা আগ্রহী হচ্ছে না।
হাসপাতালের রোগী সদর উপজেলার সিআই পাড়া এলাকার বাসিন্দা জিসান শিকদার বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা নিয়ে ভর্তি আছি। হাসপাতালে দুইবার সামান্য ভাত, আলু দুই পিস, ছোট সাইজের মাছ-মাংস দেওয়া হয়। তরকারিতে মসলার পরিমাণ খুবই কম, মাছ-মাংস পুরোপুরিভাবে রান্না করা হয় না। খাবার মানসম্মত নয়।’
ভর্তি থাকা আরেক রোগীর স্বজন আসমা আক্তার বলেন, ‘দুপুরের খাবারের জন্য ভাত, সবজি, ডাল ও মাছের পরিবর্তে ছোট এক টুকরা মাংস দিয়েছে, তা রুচিসম্মত না। আমার মনে হয়েছে, এটা রোগীর খাবার না। আমরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছি, এখন বাইরে থেকে কিনে খাওয়াতে হবে।’
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে আমরা নিয়মিত খাবার তদারকি করি, এ বিষয়ক একটা কমিটিও আছে। জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা মিটিংয়ের মাধ্যমে আমরা একটা কমিটি গঠন করেছি, সেই কমিটির মাধ্যমে মাসে এক থেকে দুবার এই খাবার মনিটরিং করা হয়।
আপনারা যে অভিযোগটা দিয়েছেন সে বিষয়ে অবশ্যই আমি তদারকি করব। আমি আগামীকালই আরএমও সাহেবসহ আমাদের যে ঠিকাদার আছে তাদের সঙ্গে কথা বলবো। প্রতিটি পয়েন্টে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আশা করি, যদি কোনো ঘাটতি থাকে আগামীকাল থেকে অবশ্যই রিকভার হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি অর্থে পরিচালিত হাসপাতালগুলোর খাবারের মান নিয়ে নিয়মিত মনিটরিং না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।