রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিভিন্ন অনন্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, ভাষণ প্রচার, কর্মশালা ও জনসমাবেশ কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো হচ্ছে ৩১ দফার সুফল। একইসাথে ধানের শীষের পক্ষে করা হচ্ছে ভোট প্রার্থনা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মশালা ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। একইসাথে হাট-বাজারে গিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রচার করা হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ এবং সাক্ষাৎকার। বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সংগ্রামী আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে চলছে যুবদলের এসব অনন্য কর্মযজ্ঞ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে যুবদলের এসব গণমুখী কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। যুবদলের পাশাপাশি এই গণসংযোগ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন বিএনপি এবং ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন। যুবদলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ঐতিহাসিক এবং অনুকরণীয় বলেও আখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ। গত ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী এসব বর্ণাঢ্য গণমুখী কার্যক্রম শুরু করেছে যুবদল। ইতোমধ্যে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর, দেহেরগতি ও চাঁদপাশা ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে কর্মশালা, জনসমাবেশ এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের দিয়ে যুব টিম বানিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষসহ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমানের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বেশ উৎফুল্ল হয়ে জানান, তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট তার হাতে তুলে দিয়ে গেছেন যুবদল আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবসহ যুবদল নেতাকর্মীরা। লিফলেট পড়ে ভালো লাগলে এবং এই দাবিগুলোর সাথে একমত হলে তা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তারা। যুবদলের এই আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছে। ফজলুর রহমান আরো জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন না। গত ৩টি নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে যাননি। তার মতে সেগুলো ছিল সাজানো নির্বাচন। তাই বদলা কামাই দিয়ে তিনি ভোট দিতে যাননি। তবে এবার তিনি ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তার হাতে দেওয়া লিফলেটে যা লেখা সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দেশের জন্য খুবই দরকার বলে তিনি মনে করেন। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশ সোনার দেশ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেটটি তিনি সযতনে রেখে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চাঁদপাশা এলাকার সবজি বিক্রেতা ষাটোর্ধ মজিবর হাওলাদারের বক্তব্যও অনেকটা অভিন্ন। নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে খোলামেলা বলেন, 'কাকু আমরা গরীব মানুষ। রাজনীতি করি না, পেটনীতি করি। একটা ভোট আছে যারে দিলে দ্যাশের জন্য ভালো হইবে তারেই দিমু। জিয়ার পোলাডা দ্যাশে আইতে পারে না বহুত বৎসর। বিদ্যাশে বইয়া সে দ্যাশের কতা ভাবে। ভাবনাচিন্তা কইরা সে যা ল্যাকছে এইগুলা সঠিক। লিফলেটের এগুলা করতে পারলে দ্যাশ উন্নত হইবে। মানুষ ভালো থাকবে। তাই তারেই ভোটটা দিমু। আমি আপনেগো মতোন বেশি লেহাপড়া না জানলেও পাকিস্তান আমলে মেট্রিক পর্যন্ত পড়ছি। দ্যাশের ভালোমন্দ কিছু হইলেও বুঝি।'
আগরপুর এলাকার ভ্যানচালক ইউনূস ক্ষোভের সাথে বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলে মোগো কেউ পাত্তা দিতো না। নেতাগো ভ্যানে টানছি হেই ভাড়াও পাই নাই। চাইতে গ্যালে চোখ গরম দিয়া কইতো যা পরে নিস। ভোট দিতে যাইয়া হুনি তারা কয়- তোর ভোট দেওয়া লাগবে না। ভোট হইয়া গ্যাছে, বাড়ি যা। এবার নির্বাচনের আগেই তো যুবদলের পোলাপান বাড়ি আইছে। আইয়া সুন্দরভাবে বুঝাইয়া একখান কাগজ দিয়া গ্যাছে। ধানের শীষে ভোট চাইয়া গ্যাছে। আগে তো মোগো কেউ জিগাইতো না। বাড়ি আইয়া কইতো অমুক মেয়ারে ভোট না দিলে এলাকায় থাকতে পারবা না। যুবদলের পোলাপানের ব্যবহার দেইখ্যা ভালো লাকছে। মোর বউও কইছে এইবার ভোট দিতে যাইবে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, 'উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের কথা চিন্তা করে আমি আওয়ামী লীগের একজন মৌন সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালে রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেভাবে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে সেটা কোনো সুস্থ মানুষ সমর্থন করতে পারে না। এই দেশ কারো বাপের একার সম্পত্তি না। কারো বাপের বাড়ির জমিদারি বেঁচা টাকা দিয়ে এই দেশের উন্নয়ন হয় নাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা সঠিক খাতে খরচ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। এজন্যই তাদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাই। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কথা ভুলে নিজেদের তারা দেশের মালিক ভাবতে শুরু করে। তারেক রহমানের ৩১ দফা যেন শুধু নির্বাচনী ওয়াদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জুলাই সনদ আজো বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি সত্যিই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে তাহলে এদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে আমি মনে করি।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রাফিল বলেন, 'বাবুগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা জিয়ার সৈনিক হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। আমরা তখন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। ২০১৮ সাল থেকে আমাদের এই অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দল যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে বর্তমান সাংগঠনিক নেতাই মনোনয়ন পাবেন বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তাকে বিজয়ী করে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। মানুষকে বুঝিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখেছি আমরা।'
জাতীয়তাবাদী যুবদলের বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিব যুবদলের এই অনন্য কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, 'আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রের পূর্নাঙ্গ একটি বিধান। সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই ৩১ দফায় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। তাই গণমানুষের মুক্তির সনদ এই ৩১ দফা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডসহ গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি আমরা। জনগনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে তাদের সমর্থন নিতে বলেছেন তিনি। ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করতে বলেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদল সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। যাতে আমাদের দেখাদেখি অন্যরাও ইতিবাচক ভালো কাজে উৎসাহিত হয়ে অবদান রাখেন।'

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

১২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:৪২
রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জে বিভিন্ন অনন্য কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। তৃণমূল পর্যায়ে উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডে ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, ভাষণ প্রচার, কর্মশালা ও জনসমাবেশ কার্যক্রম শুরু করেছে তারা। ওয়ার্ডভিত্তিক বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানো হচ্ছে ৩১ দফার সুফল। একইসাথে ধানের শীষের পক্ষে করা হচ্ছে ভোট প্রার্থনা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মশালা ও জনসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। একইসাথে হাট-বাজারে গিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রচার করা হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাষণ এবং সাক্ষাৎকার। বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সংগ্রামী আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবের নেতৃত্বে চলছে যুবদলের এসব অনন্য কর্মযজ্ঞ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাবুগঞ্জে যুবদলের এসব গণমুখী কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। যুবদলের পাশাপাশি এই গণসংযোগ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হচ্ছেন বিএনপি এবং ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনগুলো। স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন। যুবদলের এই সাংগঠনিক কার্যক্রমকে ঐতিহাসিক এবং অনুকরণীয় বলেও আখ্যা দিয়েছেন কেউ কেউ। গত ১ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী এসব বর্ণাঢ্য গণমুখী কার্যক্রম শুরু করেছে যুবদল। ইতোমধ্যে উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর, কেদারপুর, দেহেরগতি ও চাঁদপাশা ইউনিয়নে আগাম নির্বাচনী প্রচারণার কৌশল হিসেবে কর্মশালা, জনসমাবেশ এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের দিয়ে যুব টিম বানিয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। এ ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষসহ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
দেহেরগতি গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমানের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বেশ উৎফুল্ল হয়ে জানান, তারেক রহমানের ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট তার হাতে তুলে দিয়ে গেছেন যুবদল আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিবসহ যুবদল নেতাকর্মীরা। লিফলেট পড়ে ভালো লাগলে এবং এই দাবিগুলোর সাথে একমত হলে তা বাস্তবায়নের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তারা। যুবদলের এই আচরণ তাকে মুগ্ধ করেছে। ফজলুর রহমান আরো জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন না। গত ৩টি নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে যাননি। তার মতে সেগুলো ছিল সাজানো নির্বাচন। তাই বদলা কামাই দিয়ে তিনি ভোট দিতে যাননি। তবে এবার তিনি ভোট দিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তার হাতে দেওয়া লিফলেটে যা লেখা সেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া দেশের জন্য খুবই দরকার বলে তিনি মনে করেন। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশ সোনার দেশ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেটটি তিনি সযতনে রেখে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
চাঁদপাশা এলাকার সবজি বিক্রেতা ষাটোর্ধ মজিবর হাওলাদারের বক্তব্যও অনেকটা অভিন্ন। নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে খোলামেলা বলেন, 'কাকু আমরা গরীব মানুষ। রাজনীতি করি না, পেটনীতি করি। একটা ভোট আছে যারে দিলে দ্যাশের জন্য ভালো হইবে তারেই দিমু। জিয়ার পোলাডা দ্যাশে আইতে পারে না বহুত বৎসর। বিদ্যাশে বইয়া সে দ্যাশের কতা ভাবে। ভাবনাচিন্তা কইরা সে যা ল্যাকছে এইগুলা সঠিক। লিফলেটের এগুলা করতে পারলে দ্যাশ উন্নত হইবে। মানুষ ভালো থাকবে। তাই তারেই ভোটটা দিমু। আমি আপনেগো মতোন বেশি লেহাপড়া না জানলেও পাকিস্তান আমলে মেট্রিক পর্যন্ত পড়ছি। দ্যাশের ভালোমন্দ কিছু হইলেও বুঝি।'
আগরপুর এলাকার ভ্যানচালক ইউনূস ক্ষোভের সাথে বলেন, 'আওয়ামী লীগের আমলে মোগো কেউ পাত্তা দিতো না। নেতাগো ভ্যানে টানছি হেই ভাড়াও পাই নাই। চাইতে গ্যালে চোখ গরম দিয়া কইতো যা পরে নিস। ভোট দিতে যাইয়া হুনি তারা কয়- তোর ভোট দেওয়া লাগবে না। ভোট হইয়া গ্যাছে, বাড়ি যা। এবার নির্বাচনের আগেই তো যুবদলের পোলাপান বাড়ি আইছে। আইয়া সুন্দরভাবে বুঝাইয়া একখান কাগজ দিয়া গ্যাছে। ধানের শীষে ভোট চাইয়া গ্যাছে। আগে তো মোগো কেউ জিগাইতো না। বাড়ি আইয়া কইতো অমুক মেয়ারে ভোট না দিলে এলাকায় থাকতে পারবা না। যুবদলের পোলাপানের ব্যবহার দেইখ্যা ভালো লাকছে। মোর বউও কইছে এইবার ভোট দিতে যাইবে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, 'উন্নয়ন এবং মুক্তিযুদ্ধের কথা চিন্তা করে আমি আওয়ামী লীগের একজন মৌন সমর্থক ছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালে রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে বিনা ভোটে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেভাবে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে সেটা কোনো সুস্থ মানুষ সমর্থন করতে পারে না। এই দেশ কারো বাপের একার সম্পত্তি না। কারো বাপের বাড়ির জমিদারি বেঁচা টাকা দিয়ে এই দেশের উন্নয়ন হয় নাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকা সঠিক খাতে খরচ করে দেশ ও জাতির উন্নয়ন করাই সরকারের দায়িত্ব। এজন্যই তাদের আমরা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাই। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের কথা ভুলে নিজেদের তারা দেশের মালিক ভাবতে শুরু করে। তারেক রহমানের ৩১ দফা যেন শুধু নির্বাচনী ওয়াদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জুলাই সনদ আজো বাস্তবায়িত হয়নি। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যদি সত্যিই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করে তাহলে এদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে বলে আমি মনে করি।'
বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রাফিল বলেন, 'বাবুগঞ্জে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমরা জিয়ার সৈনিক হিসেবে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করছি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। আমরা তখন তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। ২০১৮ সাল থেকে আমাদের এই অঞ্চলে দলের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। দল যাকে ধানের শীষ প্রতীক দেবে আমরা তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে বর্তমান সাংগঠনিক নেতাই মনোনয়ন পাবেন বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। তাকে বিজয়ী করে তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। মানুষকে বুঝিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি। মানুষের মাঝে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখেছি আমরা।'
জাতীয়তাবাদী যুবদলের বাবুগঞ্জ উপজেলা শাখার আহবায়ক রাকিবুল হাসান খান রাকিব যুবদলের এই অনন্য কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, 'আমাদের প্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্রের পূর্নাঙ্গ একটি বিধান। সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই ৩১ দফায় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। তাই গণমানুষের মুক্তির সনদ এই ৩১ দফা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডসহ গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি আমরা। জনগনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের অভাব, অভিযোগ, সমস্যার কথা শুনে সেগুলো সাধ্যমতো সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমান বলেছেন আগামী নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে তাদের সমর্থন নিতে বলেছেন তিনি। ধানের শীষের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করতে বলেছেন। শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদল সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। যাতে আমাদের দেখাদেখি অন্যরাও ইতিবাচক ভালো কাজে উৎসাহিত হয়ে অবদান রাখেন।'