বরিশাল শহরের ভাটারখাল এলাকার মূর্তিমাণ সন্ত্রাস মাসুদ হাওলাদার মাসুম এবার পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আলোচনায় এসেছে। বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ত্রিশোর্ধ্ব এই যুবককে শুক্রবার রাতে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ধরতে গিয়ে অতর্কিত হামলার শিকার হয়। মাসুমের নেতৃত্বে চালানো হামলায় উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ এই ঘটনায় স্ত্রী-ভাই-বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও সন্ত্রাসী মাসুম পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসা যুবককে ধরতে শহরে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মাসুম হাওলাদার মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হলেও সে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীদের সাথে গভীর সখ্যতা রেখে চলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সে বান্দরোডস্থ ভাটারখাল কলোনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়াসহ আশপাশ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে একাধিক সহিংস পরিবেশ তৈরি করে, যা নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃত্ব সংক্ষুব্ধ।
সূত্র জানায়, বরিশাল সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারপন্থী ছাত্রদল নেতা মাসুম ৫ আগস্টের পরে প্রথম টার্গেট করে ভাটারখাল কলোনীর হালিম শাহ’র পরিবারকে। আওয়ামী লীগ ঘরনার এই পরিবারের একজন জিদনী শেখকে মাসুম এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলোপাতাড়ি কুপিয়ে অর্ধপঙ্গু করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। মাসুমের সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় সবশেষ পরিবারটি এলাকা ত্যাগে বাধ্য হয়।
মাসুমের মূর্তিমাণ সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরবর্তী রসুলপুর কলোনীর বাসিন্দা কবির মুন্সিও। চলতি বছরের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের পদবিহীন কর্মী কবির মুন্সির অর্থ উপার্জনের একমাত্র বাহন স্পিডবোর্টটি আটকে রাখে এবং ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। মুন্সি বিভিন্ন স্থানে দৌড়ে কারও সহযোগিতা না পেয়ে শেষত্বক টাকা দিয়ে স্পিডবোর্টটি ছাড়িয়ে নেন।
এছাড়া ভাটারখালসহ আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিস্তারেও মাসুমের যোগসূত্র পাওয়া যায়। সূত্রগুলো জানায়, কলোনীর মাদক বিক্রেতারা সকলে সর্বদা মাসুমের নাম জপতে থাকেন। ৫ আগস্টের পরে সে এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে কলোনীর বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ধরিয়ে দেয়।
তবে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মধ্যে বেশিমাত্রায় আলোচিত হয় জিদনী শেখকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনাটি। এই মামলার আসামি মাসুমকে শুক্রবার রাতে ধরতে গেলে তার হামলার শিকার হয় পুলিশ।
কোতয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা মাসুমকে শুক্রবার রাতে ধরতে পুলিশ ভাটারখালে যায়। একপর্যায়ে তার বাসার দিয়ে পুলিশ সদস্যরা রওনা হলে তার নেতৃত্বে প্রথমে ইট ছোড়া হয়। পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে মাসুমের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই গোলাম মো. নাসিমসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পি এবং সহযোগী রিফাতকে আটক করা হলেও পালিয়ে যায় মাসুম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ শুক্রবার রাতে মাসুমকেও আটক করেছিল, কিন্তু সে পুলিশ সদস্যের হাত কামড়ে পালিয়ে যায়।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মাসুমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
ছাত্রদল নেতা মাসুমের এই সিরিজ সন্ত্রাসে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছেন ভাটারখালবাসী। স্থানীয়রা বলছেন, মাসুমের ক্রমাগত সন্ত্রাসে বিএনপির বদনাম হচ্ছে, বিশেষ করে তার নেতা সরোয়ারকে বিতর্কিত করে চলছেন।
তবে মজিবর রহমান সরোয়ার বলছেন, তিনি বা তার দল বিএনপি সন্ত্রাসের আশ্রয়দাতা হবে না। দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ রাখারও সুযোগ আছে।

২৯ জুলাই, ২০২৬ ০০:৩০
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’
সমাজের অবহেলা, বৈষম্য আর বঞ্চনাকে পেছনে ফেলে নতুন জীবনের পথে হাঁটতে শুরু করলেন তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিক মাইদুল ইসলাম অভি। বরিশাল সিটি করপোরেশনে (বিসিসি) মজুরিভিত্তিক চাকরি পেয়েছেন তিনি, যা শুধু একটি নিয়োগ নয়—বরং সমতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল বার্তা।
মঙ্গলবার বিকেলে নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মানুষকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
বিসিসি সূত্র জানায়, নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভি যোগদানের দিন থেকেই মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন। কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাঁকে সম্মানজনক দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত অভি বলেন, “আমাদের মতো মানুষদের প্রতিনিয়ত অবহেলা ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। এই চাকরি শুধু কর্মসংস্থান নয়, এটি আমার জন্য সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নতুন সুযোগ। এখন আমি আত্মমর্যাদা নিয়ে জীবনযাপন করতে পারব।”
বিসিসি প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, “তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। সুযোগ পেলে তারাও সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বরিশাল সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ অনেকের কাছে একটি চাকরির খবর হলেও, বাস্তবে এটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—যেখানে পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মানবিকতাই হবে মানুষের মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।’

২৮ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৬
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান নেই। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে গৌরনদীর কুতুবপুরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্বনির্ভর খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষমতার উৎস জনগণ, আমরা কেবল জনগণের সেবক। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
পরে অতিথিরা খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ হান্নান, পৌর শাখার আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব শফিকুর রহমান শরীফ স্বপন, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু এবং জেলা যুবদলের সৈয়দ আলম খান সেন্টু প্রমুখ।’

২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩১
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশালের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকার কর্মক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি হারিয়েছেন। দীর্ঘফষন তিনি সাময়িক বরখাস্ত থাকলেও মাঠপর্যায়ের এই কর্মকর্তাকে চূড়ান্তভাবে ২২ জুলাই চাকরিচ্যুৎ করা হয়। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে শঙ্কর চন্দ্র মালাকার প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিত আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়। এছাড়া স্থানীয় রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতিয়ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া যায়।
এইসব অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরে ২২ জুলাই তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুৎ করা হয়। ওই দিন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ করেন। এবং দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলার মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিবিবর্জিত এই কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল রূপালী বাংলাদেশকে জানান, সাময়িক বরখাস্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়। এরপরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০১:৪৬
বরিশাল শহরের ভাটারখাল এলাকার মূর্তিমাণ সন্ত্রাস মাসুদ হাওলাদার মাসুম এবার পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আলোচনায় এসেছে। বহুমুখী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত ত্রিশোর্ধ্ব এই যুবককে শুক্রবার রাতে কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ ধরতে গিয়ে অতর্কিত হামলার শিকার হয়। মাসুমের নেতৃত্বে চালানো হামলায় উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ এই ঘটনায় স্ত্রী-ভাই-বোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও সন্ত্রাসী মাসুম পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসা যুবককে ধরতে শহরে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মাসুম হাওলাদার মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হলেও সে আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতাকর্মীদের সাথে গভীর সখ্যতা রেখে চলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সে বান্দরোডস্থ ভাটারখাল কলোনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়াসহ আশপাশ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে একাধিক সহিংস পরিবেশ তৈরি করে, যা নিয়ে ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃত্ব সংক্ষুব্ধ।
সূত্র জানায়, বরিশাল সদর আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারপন্থী ছাত্রদল নেতা মাসুম ৫ আগস্টের পরে প্রথম টার্গেট করে ভাটারখাল কলোনীর হালিম শাহ’র পরিবারকে। আওয়ামী লীগ ঘরনার এই পরিবারের একজন জিদনী শেখকে মাসুম এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী এলোপাতাড়ি কুপিয়ে অর্ধপঙ্গু করে দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি। মাসুমের সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় সবশেষ পরিবারটি এলাকা ত্যাগে বাধ্য হয়।
মাসুমের মূর্তিমাণ সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরবর্তী রসুলপুর কলোনীর বাসিন্দা কবির মুন্সিও। চলতি বছরের শুরুর দিকে আওয়ামী লীগের পদবিহীন কর্মী কবির মুন্সির অর্থ উপার্জনের একমাত্র বাহন স্পিডবোর্টটি আটকে রাখে এবং ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। মুন্সি বিভিন্ন স্থানে দৌড়ে কারও সহযোগিতা না পেয়ে শেষত্বক টাকা দিয়ে স্পিডবোর্টটি ছাড়িয়ে নেন।
এছাড়া ভাটারখালসহ আশপাশ এলাকায় চাঁদাবাজি এবং মাদকের বিস্তারেও মাসুমের যোগসূত্র পাওয়া যায়। সূত্রগুলো জানায়, কলোনীর মাদক বিক্রেতারা সকলে সর্বদা মাসুমের নাম জপতে থাকেন। ৫ আগস্টের পরে সে এলাকায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে কলোনীর বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি ধরিয়ে দেয়।
তবে তার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মধ্যে বেশিমাত্রায় আলোচিত হয় জিদনী শেখকে কুপিয়ে পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনাটি। এই মামলার আসামি মাসুমকে শুক্রবার রাতে ধরতে গেলে তার হামলার শিকার হয় পুলিশ।
কোতয়ালি পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি ছাত্রদল নেতা মাসুমকে শুক্রবার রাতে ধরতে পুলিশ ভাটারখালে যায়। একপর্যায়ে তার বাসার দিয়ে পুলিশ সদস্যরা রওনা হলে তার নেতৃত্বে প্রথমে ইট ছোড়া হয়। পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে গেলে মাসুমের নেতৃত্বে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে স্টিমারঘাট ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ এসআই গোলাম মো. নাসিমসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এসময় স্ত্রী রিমি বেগম, ভাই সোহেল হাওলাদার, বোন শিল্পি এবং সহযোগী রিফাতকে আটক করা হলেও পালিয়ে যায় মাসুম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ শুক্রবার রাতে মাসুমকেও আটক করেছিল, কিন্তু সে পুলিশ সদস্যের হাত কামড়ে পালিয়ে যায়।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৭০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা হয়েছে। এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া মাসুমসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
ছাত্রদল নেতা মাসুমের এই সিরিজ সন্ত্রাসে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছেন ভাটারখালবাসী। স্থানীয়রা বলছেন, মাসুমের ক্রমাগত সন্ত্রাসে বিএনপির বদনাম হচ্ছে, বিশেষ করে তার নেতা সরোয়ারকে বিতর্কিত করে চলছেন।
তবে মজিবর রহমান সরোয়ার বলছেন, তিনি বা তার দল বিএনপি সন্ত্রাসের আশ্রয়দাতা হবে না। দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ রাখারও সুযোগ আছে।