
০৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১৫:৫৫
'লেখাপড়া শিখে যিনি লেখাপড়া শেখান, এক প্রদীপের আলো দিয়ে হাজার প্রদীপ জ্বালান'- সেই মহান মানুষটি নাম শিক্ষক। পৃথিবীতে মা-বাবার পরে যার নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায় তিনি শিক্ষক। তাকে বলা হয় জাতি গড়ার কারিগর। বরিশালের বাবুগঞ্জে সেই জাতি গড়ার মহান কারিগররা অবশেষে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের ঠিকানা পেয়েছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এদিকে এ উপলক্ষ্যে এক অনন্য এবং ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তারা। টিচার্স ক্লাব ভবনের উদ্বোধনের দিনেই উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত ১৯ জন গুণী শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ১৯ গুণী শিক্ষককে ওই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় তাদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। টিচার্স ক্লাবের ভবন নির্মাণসহ শিক্ষক সংবর্ধনার গোটা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন উপজেলার বিশিষ্ট দানবীর, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। পাশে থেকে শিক্ষকদের উৎসাহ প্রদান এবং সহায়তা করেন আরেক দানবীর, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম সফিউল্লাহ।
বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে টিচার্স ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক শাহে আলমের সভাপতিত্বে অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেসা শিরিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম শফিউল্লাহ।
টিচার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম আব্দুল হালিম, সরকারি বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কামরুজ্জামান মিজান, ঢাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডর উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন বিশ্বাস, কেদারপুর সোনার বাংলা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুর রহমান টুটুল, ভোলার ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মেজবাউল আমিন, বরিশাল বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল রহিম, টিচার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম শাহজাহান, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম ফকির প্রমুখ।
এসময় সংবর্ধিত অতিথি শুণী শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল হান্নান খান, মাওলানা আব্দুল কাদের মাল, ডাকুয়া মারুফুল হক ও হারুন অর রশিদ খান। টিচার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন ও কাজী এনায়েত হোসেন। এসময় উল্লেখযোগ্য শিক্ষক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষক এনায়েত করিম ফারুক, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, প্রধান শিক্ষক এইচ.এম ইউসুফ আলী, ফারুক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান টুলু, শফিকুল ইসলাম বাদল, মনিরুল ইসলাম, এ.কে আজাদ, ইসমত আরা কনা, আরিফুর রহমান সুমন প্রমুখ। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, আবুল বাশার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের মহিউদ্দিন খাঁন রানা, রুবেল সরদার, আবু হানিফ ফকির, সুমন আকন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত ১৯ জন গুণী শিক্ষক হলেন- মাওলানা আব্দুল হান্নান খান, মাওলানা আব্দুল কাদের মাল, মাওলানা আব্দুল মতিন, ডাকুয়া মারুফুল হক, খান আবু জাফর মোঃ সালেহ, শামসুল হক, হারুন অর রশিদ খান, নুরুল হক, হারুন অর রশিদ হাওলাদার, মজিবুর রহমান, আব্দুর রহমান শাহআলম, মফিজুল ইসলাম মির্জা, আফরোজা খানম, হোসনেয়ারা বেগম, রাহিমা আক্তার, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, আবু সায়েম বাচ্চু শিকদার, আনোয়ার হোসেন এবং অপু চন্দ্র দাস। সংবর্ধিত শিক্ষকদের উত্তরীয় পরিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিরা। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংবর্ধিত অনেক শিক্ষক। এটা তাদের শিক্ষকতা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান বলে অভিহিত করেন এবং আয়োজক টিচার্স ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেসা শিরিন বলেন, 'শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষক হলেন সেই জাতি গড়ার কারিগর। তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের আসনে বসাতে হবে। শিক্ষকদের অবদানেই আজকে আমি এই চেয়ারে বসেছি। শিক্ষকদের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।'
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সাবেক সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'শিক্ষকের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। একজন মানুষের জীবনে মা-বাবার পরে যার অবদান সবচেয়ে বেশি থাকে তিনি হলেন শিক্ষক। সেই শিক্ষকদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। সমাজ আলোকিত করে এমন সকল ভালো কাজের সাথে আছি এবং থাকবো।'
অপর বিশেষ অতিথি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম সফিউল্লাহ বলেন, 'পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় বিগত দিনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হবে। এই গুরুদায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষাগুরুদেরকেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠাভ্যাস তৈরি করা এবং তাদের নৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করা জরুরি। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে।'
অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে বৃহস্পতিবার সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে ওই নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভবনদাতা শিক্ষানুরাগী আবুল কালাম আজাদ। এসময় তার সহধর্মিণী প্রধান অতিথি মেহেরুন্নেসা শিরিনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে দোয়া-মোনাজাত করা হয়। পরে টিচার্স ক্লাবের জন্য একটি বড় পর্দার এলইডি টিভি উপহার দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আরেক শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট এস.এম সফিউল্লাহ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০৮ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। টিচার্স ক্লাবের জন্য জমি দান করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক এবং তার সহধর্মিণী নূর-ই-করিমা। সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে টিচার্স ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি সেখানে একতলা বিশিষ্ট একটি পাকাভবন তৈরি করে দেন দানবীর শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ। #
বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের উদ্বোধন ও অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা দেন দানবীর শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ।
'লেখাপড়া শিখে যিনি লেখাপড়া শেখান, এক প্রদীপের আলো দিয়ে হাজার প্রদীপ জ্বালান'- সেই মহান মানুষটি নাম শিক্ষক। পৃথিবীতে মা-বাবার পরে যার নাম শুনলে শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায় তিনি শিক্ষক। তাকে বলা হয় জাতি গড়ার কারিগর। বরিশালের বাবুগঞ্জে সেই জাতি গড়ার মহান কারিগররা অবশেষে তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের ঠিকানা পেয়েছেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। এদিকে এ উপলক্ষ্যে এক অনন্য এবং ঐতিহাসিক ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তারা। টিচার্স ক্লাব ভবনের উদ্বোধনের দিনেই উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত ১৯ জন গুণী শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) নানান বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত ১৯ গুণী শিক্ষককে ওই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এসময় তাদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। টিচার্স ক্লাবের ভবন নির্মাণসহ শিক্ষক সংবর্ধনার গোটা অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন উপজেলার বিশিষ্ট দানবীর, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সাবেক সভাপতি ও ঢাকার এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। পাশে থেকে শিক্ষকদের উৎসাহ প্রদান এবং সহায়তা করেন আরেক দানবীর, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম সফিউল্লাহ।
বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে টিচার্স ক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক শাহে আলমের সভাপতিত্বে অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেসা শিরিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম শফিউল্লাহ।
টিচার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি ও প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রধান শিক্ষক মাসুদ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আ.ন.ম আব্দুল হালিম, সরকারি বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক কামরুজ্জামান মিজান, ঢাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডর উপ-পরিচালক আনোয়ার হোসেন বিশ্বাস, কেদারপুর সোনার বাংলা হাইস্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ মঞ্জুর রহমান টুটুল, ভোলার ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মেজবাউল আমিন, বরিশাল বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কমিটির সম্পাদক আরিফ আহমেদ মুন্না, বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পূর্ব হোসনাবাদ ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল রহিম, টিচার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম শাহজাহান, বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম ফকির প্রমুখ।
এসময় সংবর্ধিত অতিথি শুণী শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল হান্নান খান, মাওলানা আব্দুল কাদের মাল, ডাকুয়া মারুফুল হক ও হারুন অর রশিদ খান। টিচার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন ও কাজী এনায়েত হোসেন। এসময় উল্লেখযোগ্য শিক্ষক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক শিক্ষক এনায়েত করিম ফারুক, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, প্রধান শিক্ষক এইচ.এম ইউসুফ আলী, ফারুক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান টুলু, শফিকুল ইসলাম বাদল, মনিরুল ইসলাম, এ.কে আজাদ, ইসমত আরা কনা, আরিফুর রহমান সুমন প্রমুখ। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, আবুল বাশার, বিমানবন্দর প্রেসক্লাবের মহিউদ্দিন খাঁন রানা, রুবেল সরদার, আবু হানিফ ফকির, সুমন আকন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত ১৯ জন গুণী শিক্ষক হলেন- মাওলানা আব্দুল হান্নান খান, মাওলানা আব্দুল কাদের মাল, মাওলানা আব্দুল মতিন, ডাকুয়া মারুফুল হক, খান আবু জাফর মোঃ সালেহ, শামসুল হক, হারুন অর রশিদ খান, নুরুল হক, হারুন অর রশিদ হাওলাদার, মজিবুর রহমান, আব্দুর রহমান শাহআলম, মফিজুল ইসলাম মির্জা, আফরোজা খানম, হোসনেয়ারা বেগম, রাহিমা আক্তার, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান, আবু সায়েম বাচ্চু শিকদার, আনোয়ার হোসেন এবং অপু চন্দ্র দাস। সংবর্ধিত শিক্ষকদের উত্তরীয় পরিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা এবং তাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন অতিথিরা। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংবর্ধিত অনেক শিক্ষক। এটা তাদের শিক্ষকতা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান বলে অভিহিত করেন এবং আয়োজক টিচার্স ক্লাবকে ধন্যবাদ জানান।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মেহেরুন্নেসা শিরিন বলেন, 'শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড এবং শিক্ষক হলেন সেই জাতি গড়ার কারিগর। তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মানের আসনে বসাতে হবে। শিক্ষকদের অবদানেই আজকে আমি এই চেয়ারে বসেছি। শিক্ষকদের কল্যাণে আমৃত্যু কাজ করে যেতে চাই।'
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ সাবেক সভাপতি ও এভারগ্রীন ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'শিক্ষকের ঋণ কখনো শোধ করা যায় না। একজন মানুষের জীবনে মা-বাবার পরে যার অবদান সবচেয়ে বেশি থাকে তিনি হলেন শিক্ষক। সেই শিক্ষকদের জন্য কিছু করতে পারলে নিজেকে ধন্য মনে হয়। সমাজ আলোকিত করে এমন সকল ভালো কাজের সাথে আছি এবং থাকবো।'
অপর বিশেষ অতিথি বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এস.এম সফিউল্লাহ বলেন, 'পাসের হার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় বিগত দিনে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে পুনরুদ্ধার করে শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে হবে। এই গুরুদায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষাগুরুদেরকেই। শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠাভ্যাস তৈরি করা এবং তাদের নৈতিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করা জরুরি। এজন্য শিক্ষক-অভিভাবকসহ সমাজের সকল স্তরের মানুষকে ভূমিকা রাখতে হবে।'
অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে বৃহস্পতিবার সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাবের নবনির্মিত ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ফিতা কেটে ওই নতুন ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভবনদাতা শিক্ষানুরাগী আবুল কালাম আজাদ। এসময় তার সহধর্মিণী প্রধান অতিথি মেহেরুন্নেসা শিরিনসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে দোয়া-মোনাজাত করা হয়। পরে টিচার্স ক্লাবের জন্য একটি বড় পর্দার এলইডি টিভি উপহার দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আরেক শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট এস.এম সফিউল্লাহ।
উল্লেখ্য, বিগত ২০০৮ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা টিচার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। টিচার্স ক্লাবের জন্য জমি দান করেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসহাক এবং তার সহধর্মিণী নূর-ই-করিমা। সেখানে টিনের বেড়া দিয়ে টিচার্স ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি সেখানে একতলা বিশিষ্ট একটি পাকাভবন তৈরি করে দেন দানবীর শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আবুল কালাম আজাদ। #

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ২০:২২
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রশংসায় ভাসছেন নগরবাসীর। গত (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ শফিকুল ইসলাম,(বিএমপি) পুলিশের কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই,নগরবাসীর নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, কিশোর গ্যাং,ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার নির্দেশনায়,মাদকের স্পটগুলো (মাদকমুক্ত) নগরীতে রুপ নিয়েছে। নগরীর অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে হরহামেশাই চলতে মাদক সেবন। ত্রিশ গোডাউন,বেলসপার্কের হ্যালিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতে প্রকাশ্যে।
তিনি গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আকস্মিক পরিদর্শন করেন (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পথচারী, দুরপাল্লার লঞ্চ ও নাইটকোচ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রাপথে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম প্রশংসায় ভাসছেন নগরবাসীর। গত (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ শফিকুল ইসলাম,(বিএমপি) পুলিশের কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই,নগরবাসীর নিরাপত্তা,আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ, কিশোর গ্যাং,ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার নির্দেশনায়,মাদকের স্পটগুলো (মাদকমুক্ত) নগরীতে রুপ নিয়েছে। নগরীর অর্ধশত স্পটে প্রকাশ্যে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বিনোদন কেন্দ্রগুলোর আশপাশে হরহামেশাই চলতে মাদক সেবন। ত্রিশ গোডাউন,বেলসপার্কের হ্যালিপ্যাড, কেডিসি, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, রসুলপুর, পলাশপুর, বেলতলা, লামছড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় মাদক বিক্রি ও সেবন করতে প্রকাশ্যে।
তিনি গভীর রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আকস্মিক পরিদর্শন করেন (বিএমপি) কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি চেকপোস্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে তদারকি করেন এবং রাত্রীকালীন নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
কমিশনার শফিকুল ইসলাম নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে পথচারী, দুরপাল্লার লঞ্চ ও নাইটকোচ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। যাত্রাপথে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ভ্রমণ নিরাপত্তায় করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে বিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:৪৭
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'
যাদের জন্ম নদীতে, সংসার নৌকায় আর জীবন কাটে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে; সেই মান্তা সম্প্রদায়ের কাছে ‘রাষ্ট্র’ কিংবা ‘সরকার’ ছিল এতদিন কেবলই ধোঁয়াশা। নাগরিকত্বের স্বাদহীন কয়েক প্রজন্মের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তারা। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের সহস্রাধিক মান্তা মানুষ প্রথমবারের মতো তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন।
বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের লাহারহাটে বসবাস করেন ১৭৯টি মান্তা পরিবারের প্রায় চারশ মানুষ। এদের মধ্যে শতাধিক ব্যক্তি এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। এই সম্প্রদায়ের সর্দার জাকির হোসেন জানান, আগে ভোট আসত আর যেত, কিন্তু ডাঙার মানুষের মতো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তাদের কাছে ছিল কল্পনাতীত।
তিনি বলেন, কখনও কোনো প্রার্থী আমাদের খোঁজ নিতে আসত না। এবার আমরা ভোটার হয়েছি। আমরা এমন প্রার্থীকে বেছে নেব, যিনি আমাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বুঝবেন।
নতুন ভোটার হওয়া আলমগীর শোনালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, নৌকায় ফিরতে রাত হলে ডাঙায় পুলিশ ধরলে পরিচয়পত্র দেখাতে পারতাম না, ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ায় এখন অন্তত বুক ফুলিয়ে নিজের পরিচয় দিতে পারব।
অন্যদিকে, ষাটোর্ধ্ব সামিরন বিবি জানান তাদের মৌলিক সংকটের কথা। নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় অভাব এখন নিত্যসঙ্গী। মারা গেলে দাফনের জায়গাটুকুও সহজে মেলে না। তাই যে প্রার্থী এই সংকট দূর করবে, তাকেই তারা সংসদে পাঠাতে চান।
বরিশাল জেলা নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান মান্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বছর কাজ করে আসছে। তাদের চেষ্টা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এই জনগোষ্ঠীর প্রায় হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।
মান্তা সম্প্রদায়কে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি। সংস্থাটির প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্বই বুঝত না। বারবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে সচেতন করতে হয়েছে।
এখানকার প্রকল্প সমন্বয়কারী মহানন্দ দাস তিনি জানান, মান্তাদের ভোটার করাটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। অনীহা ছিল তাদের নিজেদেরই। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন- মান্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র কী সেটাই জানত না। তাদের এর সুফল বোঝাতেই সময় লেগেছে সবচে বেশি। একাধিকবার তাদের কাছে গিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়ে জানাতে হয়েছে।
তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্তা সম্প্রদায়ের ভোট গুরুত্ব রাখবে জানিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, যে সকল প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের ইশতেহারে অবশ্যই এই মান্তা সম্প্রদায়ের উন্নয়নে করণীয় কী সেটি সুনিদৃষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, 'যে সকল প্রার্থী এই গোষ্ঠীর ভোটকে নিজের দিকে টানতে পারবেন তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে।'

২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৭
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় আগমনকে কেন্দ্র করে জনসভাস্থল পাতারহাট আরসি কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনসভাস্থলের মাঠ পরিদর্শনের সময় বরিশাল জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. মাহফুজুর রহমান, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য সগির বিন সাঈদ, জেলা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন ইয়ামিন, জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ এম সাইফুর রহমান, নুরুল হক সোহরাব, জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আকবর হোসেন, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা শহিদুল ইসলাম, হিজলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী সৈয়দ গুলজার আলমসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বরিশাল-৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল জব্বার বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারী আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনসভায় এতো বেশি লোকের সমাগম ঘটবে শেষপর্যন্ত আরসি কলেজ মাঠে আমরা জায়গা দিয়ে কিভাবে সামাল দিবো তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.