বাবুগঞ্জে ১৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির উপজেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিতরণ করা আমন্ত্রণ পত্র।
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৫৭
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’
বরিশালের হিজলায় মেঘনা নদীতে আক্তার হাওলাদার নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার মেমানিয়া ইউনিয়নের চরমেমানিয়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা ১টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত আক্তার হাওলাদার চরমেমানিয়া এলাকার সুলতান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হাওলাদার অন্য জেলেদের সঙ্গে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। এ সময় অন্য একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আক্তার গুলিবিদ্ধ হন। পরে সঙ্গে থাকা জেলেরা তাকে জীবিত অবস্থায় নদীর তীরে নিয়ে আসেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে খবর দেন। মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান জানান, অন্য একটি ট্রলার থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনায় আকতার গুলিবিদ্ধ হন বলে তার সঙ্গে থাকা জেলেরা জানিয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে গুলি ছুড়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মৎস্য বিভাগ, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঘটনার সময় নদীতে কোনো বাহিনীর অভিযান চলছিল না। কীভাবে ওই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মেমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফসার উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, কয়েকজন জেলে তাকে মেঘনা নদীতে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকার খবর দেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে জানান। জেলেদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, একটি ট্রলার থেকে তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তবে কারা গুলি করেছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৪৬
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’
বরিশাল নগরীর সদর রোডে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সজল কুমার চক্রবর্তী নামে এক আইনজীবী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে জগন্নাথ মন্দিরের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও নিহতের সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সকালে মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল সজলকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ও মোটরসাইকেলের দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৮টা ৫ মিনিটে সজল কুমার চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।’

২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ০৯:৩৬
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ২০১৫ সালে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহসহ চার আসামির পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুক্তার হোসেনের অবশিষ্ট জেরা হবে। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, বরিশালের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ এবং উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অপর দুই আসামি মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় কথিত ক্রসফায়ারে নিহত হন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় সেতুর পশ্চিম পাশে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় অধস্তন পুলিশ সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
২০২৬ সালের ২০ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আসামিপক্ষের জেরার মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দি ও জেরা মামলার অভিযোগের পক্ষে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মাধ্যমে আসামিপক্ষ তদন্তের বিভিন্ন দিক, সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ এবং সাক্ষ্যসংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ পাবে।
আজকের কার্যক্রমে তদন্ত কর্মকর্তার অবশিষ্ট জেরা সম্পন্ন হলে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে। তবে জেরা শেষে কী সিদ্ধান্ত বা আদেশ দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের কার্যক্রমের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৯:৫২
দাওয়াত কার্ড বিলি শেষ হয়েছিল। মঞ্চ নির্মাণের কাজও প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে ছিল। নেতাকর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনা। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পরে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল উৎসবের প্রাণচাঞ্চল্য। তবে সম্মেলনের মাত্র একদিন আগে আচমকা স্থগিত করা হয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ওই ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পরে শুক্রবার ১৯ সেপ্টেম্বর ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়। বরিশাল-৩ আসনের (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় দুই হেভিওয়েট নেতার দ্বন্দ্বের কারণেই শেষ মূহুর্তে এই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই সম্মেলন স্থগিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করলেও এর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি বিএনপির দলীয় হাইকমান্ড।
বিএনপির স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন আয়োজনের মূল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তিনি ওই সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন। তাকে প্রধান অতিথি করেই শুক্রবারের ওই উপজেলা বিএনপির সম্মেলনের দাওয়াত কার্ড বিলি করা হয়। এদিকে বিএনপির অপর একটি অংশের নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের অভিযোগ, তাদের কাউকেই রাখা হয়নি সম্মেলনের কোনো আয়োজনে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিগত ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়নি দলের ত্যাগী এবং নির্যাতিত নেতাকর্মীদের। এমন অভিযোগ হাইকমান্ডে যাওয়ার পরেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম থেকে সম্মেলন স্থগিতের নির্দেশ আসে। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এতে জয়নুল আবেদীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ খানকে আহবায়ক এবং ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্সকে সদস্য সচিব করে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ আমলের প্রায় পুরো সময়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার। তিনি বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে সেই কমিটিতেও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ওয়াহিদুল ইসলাম প্রিন্স।
বরিশাল জেলা বিএনপির সদস্য ও বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদার বলেন, 'বিগত ১৭ বছর রাজপথে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলা-মামলা ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বাবুগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের বিতর্কিত লোকজন নিয়ে ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটি করা হয়েছে। যেসব কমিটি বিলুপ্ত হয়েছিল সেই বিলুপ্ত কমিটিই পুনর্বহাল করে নিজেদের অনুগত লোকজন নিয়ে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব। ফলে দলের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়ে। নিরুপায় হয়ে তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে এসব তথ্যপ্রমাণসহ অভিযোগ জানায়।'
বরিশাল জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আওলাদ হোসেন বলেন, 'বিএনপির বর্তমান আহবায়ক এবং সদস্য সচিব নিজেদের কোরাম ভারী করতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের এনে বিএনপিতে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ১৭ বছর লড়াই-সংগ্রাম করা বিএনপির ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোতে নিজেদের ইচ্ছামতো লোক এনে বসানো হয়েছে। বিএনপির দুঃসময়ে এদের কাউকে অতীতেও খুঁজে পাওয়া যায়নি আর ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে না।'
তবে এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের উপস্থিততে সম্মেলন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন সম্মেলনে জেলা বিএনপির আহবায়ক এবং সদস্য সচিব উপস্থিত ছিলেন। বরিশাল-৩ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানের অনুসারীদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সত্য নয়। ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন কমিটিতে তাদের অনেকেই স্থান পেয়েছে। এখন কেউ যদি ইচ্ছা করে সম্মেলনে না আসে আর দূরে বসে দোষ খুঁজে বেড়ায়, তারা চাইলে অনেককিছুই বলতে পারে।'
আহবায়ক সুলতান আহমেদ খান আরো বলেন, '১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলাম। এরপরে ২০১০ সালে ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে আমাকে এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম ফকিরকে সাধারণ সদস্য পদেও রাখা হয়নি। তবুও জেলা এবং উপজেলার বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। আওয়ামী লীগের আমলে মহাসড়ক অবরোধের প্রথম নাশকতার মামলা আমার নামেই হয়েছে। আমি ২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদ ফিরে পাই এবং ২০২৩ সালে আহবায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করি। ২০২৪ সালে আমাকে আহবায়ক রেখেই আবার আহবায়ক কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে সবাইকে নিয়ে জাঁকজমকপূর্ণ উপজেলা সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। তবে জেলার সদস্য সচিবের মাধ্যমে যতদূর জেনেছি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সরাসরি নির্দেশে সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। শুধু বাবুগঞ্জ নয়, বরিশাল জেলার সব সম্মেলনই স্থগিত করা হয়েছে।'
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহীন বলেন, 'রাজনৈতিক দলে দলীয় বিরোধ, মতভেদ আছে এবং থাকবে। এটা গণতন্ত্রের একটা অংশ। বাবুগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশে। তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে কমিটি নিয়ে কোনো বিভাজন কিংবা সংঘাত চান না।'
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সামনে জাতীয় নির্বাচন। তাই দল চায় না এই সময়ে স্থানীয় বিরোধ আরো বেড়ে যাক। সে কারণেই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। সামনের নির্বাচন অনেক কঠিন হবে। এই নির্বাচন বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কে কার লোক, সেটা নিয়ে বিভাজন করার সময় নয় এখন। সকল মতভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করতে হবে।' #