২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পটুয়াখালীর দুমকির বিভিন্ন নদ-নদীতে মা ইলিশ শিকারের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলেরা জাল-নৌকা মেরামত ও সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাত ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে দুমকির পায়রা, পান্ডব, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জেলেরা গোপনে নদীতে নামার পরিকল্পনা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোহালিয়া নদীর বাহেরচর, আংগারিয়া, পাতাবুনিয়া, জেলেপাড়া, পাংসিঘাট, পায়রা নদীর পশ্চিম আঙ্গারিয়া, লেবুখালী, আলগি, হাজিরহাট ও রাজগঞ্জ এলাকার জেলেপল্লিগুলোতে ইতোমধ্যে শতাধিক নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, বিকল্প কর্মসংস্থান বা পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় তারা বাধ্য হচ্ছেন ইলিশ শিকারে নামতে। সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলেও দাবি তাদের।
অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জাল-নৌকা জব্দসহ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই দুটো টিম করেছি নিয়মিত তদারকির জন্য। যেসব এলাকায় এসব জেলেদের তৎপরতা বেশি সেই জেলে এলাকাগুলোতে আমরা ইলিশ নিধন সম্পর্কিত লিফলেট বিতরণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাদের কাউন্সেলিং করেছি। তারপরেও যদি কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করে মাছ ধরতে যায় তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যদি আমাদের কোনো লোকজনও যুক্ত থাকে তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত না করা গেলে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে একদিকে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৫
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় সীমা বৌদ্ধ বিহারের সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে মারধরের প্রতিবাদে অনিদির্ষ্টকালের জন্য সীমা বৌদ্ধ বিহারে পর্যটক দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিহার কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে রাখাইন কমিউনিটি বিহার প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সীমা বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন, ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে সীমা বৌদ্ধ বিহার সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর উত্তোলন করতে গেলে বিহারের মধ্যে জমি দাবি করেন স্থানীয় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদারের সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এসময় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম গংরা সীমা বৌদ্ধ বিহার সভাপতি মংলাচিনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধরের অভিযোগ করেন বিহার কর্তৃপক্ষ। এ হামলার ঘটনায় ১৪ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে বিভিন্ন পাড়ার রাখাইনরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন। প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সীমা বৌদ্ধ বিহার পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন বিহার কর্তৃপক্ষ।
এবিষয়ে বৌদ্ধ বিহার সভাপতি মংলাচিন বলেন, বৌদ্ধ বিহারের সামনে থাকা দোকানীরা বৌদ্ধ বিহার সীমানার মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দুষণ করছিল৷ বিহার এলাকার পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে সেখানে মঙ্গলবার সকালে একটি দোকানঘর নির্মাণ করছিল বিহার কর্তৃপক্ষ। এসময় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদার তাদের জমি দাবি করে ঘর উত্তোলনে বাধা দেয়। এ কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অতর্কিতভাবে বিহার সভাপতি মংলাচিনকে চড়থাপ্পড় সহ হামলা করে বলে এমন অভিযোগ তার। তিনি আরো দাবি করেন, মন্দিরের বাউন্ডারি ওয়ালের ভিতর তাদের নাম ভুলবশত কিছু জমি বিএস জরিপে রেকর্ডভূক্ত হয়। কাগজপত্র বিহারের নামে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিএস জরিপের বলে শতবর্ষের মন্দিরের জমি দখলের হীন পায়তারা করছে।
এবিষয়ে কথা বলতে নাসির হাওলাদার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বার বার ফোন কেটে দিচ্ছেন। যার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন সভাপতি এমং তালুকদার বলেন, রাখাইনদের প্রার্থনা ঘর সীমা বৌদ্ধ বিহারের জমি দখলের জন্য সামসুল আলম ও নাসির গংরা দীর্ঘদিন ধরে চেস্টা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত সীমা বৌদ্ধ বিহার পর্যটক দর্শনার্থীদের প্রবেশে বন্ধ ঘোষণা করেন তারা।
এবিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ শামীম হাওলাদার জানান, বিহার সভাপতিকে মারধর ও হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মিশ্রিপাড়ায় সীমা বৌদ্ধ বিহারের সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে মারধরের প্রতিবাদে অনিদির্ষ্টকালের জন্য সীমা বৌদ্ধ বিহারে পর্যটক দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বিহার কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বুধবার দুপুরে রাখাইন কমিউনিটি বিহার প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সীমা বৌদ্ধ বিহার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন, ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে সীমা বৌদ্ধ বিহার সীমানার মধ্যে একটি দোকানঘর উত্তোলন করতে গেলে বিহারের মধ্যে জমি দাবি করেন স্থানীয় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদারের সাথে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এসময় নাসির হাওলাদার ও সামসুল আলম গংরা সীমা বৌদ্ধ বিহার সভাপতি মংলাচিনের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধরের অভিযোগ করেন বিহার কর্তৃপক্ষ। এ হামলার ঘটনায় ১৪ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে বিভিন্ন পাড়ার রাখাইনরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ সভা করেন। প্রতিবাদ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক হামলাকারীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সীমা বৌদ্ধ বিহার পর্যটক দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন বিহার কর্তৃপক্ষ।
এবিষয়ে বৌদ্ধ বিহার সভাপতি মংলাচিন বলেন, বৌদ্ধ বিহারের সামনে থাকা দোকানীরা বৌদ্ধ বিহার সীমানার মধ্যে ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দুষণ করছিল৷ বিহার এলাকার পরিবেশ থেকে রক্ষা করতে সেখানে মঙ্গলবার সকালে একটি দোকানঘর নির্মাণ করছিল বিহার কর্তৃপক্ষ। এসময় সামসুল আলম ও নাসির হাওলাদার তাদের জমি দাবি করে ঘর উত্তোলনে বাধা দেয়। এ কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অতর্কিতভাবে বিহার সভাপতি মংলাচিনকে চড়থাপ্পড় সহ হামলা করে বলে এমন অভিযোগ তার। তিনি আরো দাবি করেন, মন্দিরের বাউন্ডারি ওয়ালের ভিতর তাদের নাম ভুলবশত কিছু জমি বিএস জরিপে রেকর্ডভূক্ত হয়। কাগজপত্র বিহারের নামে থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র বিএস জরিপের বলে শতবর্ষের মন্দিরের জমি দখলের হীন পায়তারা করছে।
এবিষয়ে কথা বলতে নাসির হাওলাদার এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বার বার ফোন কেটে দিচ্ছেন। যার কারণে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
পটুয়াখালী জেলা রাখাইন বুড্ডিস্ট ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন সভাপতি এমং তালুকদার বলেন, রাখাইনদের প্রার্থনা ঘর সীমা বৌদ্ধ বিহারের জমি দখলের জন্য সামসুল আলম ও নাসির গংরা দীর্ঘদিন ধরে চেস্টা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা এর বিচার দাবি করছি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত সীমা বৌদ্ধ বিহার পর্যটক দর্শনার্থীদের প্রবেশে বন্ধ ঘোষণা করেন তারা।
এবিষয়ে মহিপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ শামীম হাওলাদার জানান, বিহার সভাপতিকে মারধর ও হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৩২
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গর্ভবতী নারীকে মারধর, গর্ভপাত ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোঃ সোহাগ শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮। মঙ্গলবার রাতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর তানিয়া বেগম ও তাঁর স্বামীর ওপর লোহার রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান অভিযুক্তরা। এ সময় তাঁদের মারধর করে আহত করার পাশাপাশি তানিয়া বেগমের কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
হামলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তানিয়া বেগমকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাঁর সাত মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তানিয়া বেগম বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহাগ শিকদারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গর্ভবতী নারীকে মারধর, গর্ভপাত ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোঃ সোহাগ শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৮। মঙ্গলবার রাতে বরিশালের বাকেরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর তানিয়া বেগম ও তাঁর স্বামীর ওপর লোহার রড ও কাঠের লাঠি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান অভিযুক্তরা। এ সময় তাঁদের মারধর করে আহত করার পাশাপাশি তানিয়া বেগমের কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।
হামলায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তানিয়া বেগমকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তাঁর সাত মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে নবজাতকের মৃত্যু হয় বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তানিয়া বেগম বাদী হয়ে কলাপাড়া থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৮-এর একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোহাগ শিকদারকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৪৬
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চরমোন্তাজে একই দিনে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একজনের জন্ম হয়েছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে নদীর মধ্যে স্পিডবোটে, অন্যজনের জন্ম হয়েছে বাড়িতে স্থানীয় ধাত্রীর সহায়তায়। এ ঘটনায় দ্বীপাঞ্চলে জরুরি প্রসূতিসেবা ও চিকিৎসকসংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এ দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চরমোন্তাজের বাসিন্দা সোহেল ও জিনিয়া বেগমের সন্তান প্রসবের জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্বজনেরা স্পিডবোটে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় ২০ মিনিট চলার পর নদীর মাঝখানে স্পিডবোটেই সন্তান প্রসব করেন জিনিয়া। পরে নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর আগেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পরিবার।
জিনিয়া বেগমের ভাই মো. বাচ্চু বলেন, সকাল থেকেই আমার বোনের প্রসবব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকলে স্পিডবোটের খবর দেওয়া হয়। কিন্তু সময়মতো স্পিডবোট ঘাটে না আসায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নদীর মাঝখানে স্পিডবোটেই সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। এরপর বোনকে বাড়িতে নিয়ে আসি। তিনি অসুস্থ থাকায় স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজের ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়ের মো.সজীব ও বিথী আক্তার আক্তারের নবজাতকের মৃত্যু হয় দুপুর ১টার দিকে। বিথীর মা মালা বেগম জানান, সকাল থেকেই তার মেয়ের প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরে ব্যথা তীব্র হলে স্থানীয় একজন চিকিৎসককে দেখানো হয়। তিনি বিথীকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে যাওয়ার মতো টাকা না থাকায় তাঁরা যেতে পারেননি।
মালা বেগম বলেন, আমি চরমোন্তাজের স্থানীয় চিকিৎসকদের অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু কেউ আমার কাছে আসেননি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়েও কোনো চিকিৎসক পাইনি। পরে স্থানীয় ধাত্রী আসমা বেগমের সহায়তায় বাড়িতে সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু আমার নাতিকে বাঁচানো যায়নি। সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো যেত।
চরমোন্তাজ ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নটিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেখানে প্রসূতিসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ইলিয়াস হোসাইন জানান, ইউনিয়নে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্বাভাবিক প্রসব হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রসবের প্রায় সবই বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে ইউনিয়নে প্রায় ১৬০ জন গর্ভবতী মা রয়েছেন।
ইলিয়াস হোসাইন বলেন, সরকার নির্ধারিত জনবলের অভাবে গর্ভবতী মায়েরা প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার (এফডব্লিউভি) পদ থাকলেও দুটিই শূন্য। এ কারণে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে পরিবার কল্যাণ সহকারীর তিনটি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লোকবল না থাকায় ওই কর্মীকেও কেন্দ্রে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৭.৮.ও ৯ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা পরিবার কল্যাণ সহকারী রুবি আক্তার রুপা বলেন, গর্ভকালীন সময়ে তিনি বিথী আক্তারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তবে নবজাতকের মৃত্যুর খবর জানেন না। খোঁজ নেবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিথীর মা মালা বেগম দাবি করেন, রুবি আক্তার রুপা কখনো তার মেয়েকে দেখতে আসেননি। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে রোগী আমাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি; তারা চরমোন্তাজে চলে গেছেন। চরমোন্তাজের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল দেওয়ার চেষ্টা করব।
স্থানীয়রা জানান, চরমোন্তাজ থেকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নদীপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। তাদের দাবি, যাত্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং জরুরি প্রয়োজনে সব সময় স্পিডবোটও পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, রাঙ্গাবালী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় চিকিৎসার জন্য গলাচিপার ওপর নির্ভর করতে হয়।
একই দিনে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চরমোন্তাজের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত জনবল নিয়োগ, নিরাপদ প্রসবসেবা, প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন চরমোন্তাজে একই দিনে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। একজনের জন্ম হয়েছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে নদীর মধ্যে স্পিডবোটে, অন্যজনের জন্ম হয়েছে বাড়িতে স্থানীয় ধাত্রীর সহায়তায়। এ ঘটনায় দ্বীপাঞ্চলে জরুরি প্রসূতিসেবা ও চিকিৎসকসংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় গর্ভবতী মায়েরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এ দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চরমোন্তাজের বাসিন্দা সোহেল ও জিনিয়া বেগমের সন্তান প্রসবের জন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্বজনেরা স্পিডবোটে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশে রওনা হন। প্রায় ২০ মিনিট চলার পর নদীর মাঝখানে স্পিডবোটেই সন্তান প্রসব করেন জিনিয়া। পরে নবজাতকের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর আগেই এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পরিবার।
জিনিয়া বেগমের ভাই মো. বাচ্চু বলেন, সকাল থেকেই আমার বোনের প্রসবব্যথা শুরু হয়। ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকলে স্পিডবোটের খবর দেওয়া হয়। কিন্তু সময়মতো স্পিডবোট ঘাটে না আসায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে নদীর মাঝখানে স্পিডবোটেই সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি। এরপর বোনকে বাড়িতে নিয়ে আসি। তিনি অসুস্থ থাকায় স্থানীয় চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজের ভাসমান মান্তা সম্প্রদায়ের মো.সজীব ও বিথী আক্তার আক্তারের নবজাতকের মৃত্যু হয় দুপুর ১টার দিকে। বিথীর মা মালা বেগম জানান, সকাল থেকেই তার মেয়ের প্রসবব্যথা শুরু হয়। পরে ব্যথা তীব্র হলে স্থানীয় একজন চিকিৎসককে দেখানো হয়। তিনি বিথীকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে যাওয়ার মতো টাকা না থাকায় তাঁরা যেতে পারেননি।
মালা বেগম বলেন, আমি চরমোন্তাজের স্থানীয় চিকিৎসকদের অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু কেউ আমার কাছে আসেননি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়েও কোনো চিকিৎসক পাইনি। পরে স্থানীয় ধাত্রী আসমা বেগমের সহায়তায় বাড়িতে সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু আমার নাতিকে বাঁচানো যায়নি। সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো যেত।
চরমোন্তাজ ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষের বসবাস। ইউনিয়নটিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেখানে প্রসূতিসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ইলিয়াস হোসাইন জানান, ইউনিয়নে প্রতি মাসে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি স্বাভাবিক প্রসব হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব প্রসবের প্রায় সবই বাড়িতে অদক্ষ ধাত্রীদের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে ইউনিয়নে প্রায় ১৬০ জন গর্ভবতী মা রয়েছেন।
ইলিয়াস হোসাইন বলেন, সরকার নির্ধারিত জনবলের অভাবে গর্ভবতী মায়েরা প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এবং একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার (এফডব্লিউভি) পদ থাকলেও দুটিই শূন্য। এ কারণে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে পরিবার কল্যাণ সহকারীর তিনটি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র একজন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লোকবল না থাকায় ওই কর্মীকেও কেন্দ্রে বসে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৭.৮.ও ৯ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা পরিবার কল্যাণ সহকারী রুবি আক্তার রুপা বলেন, গর্ভকালীন সময়ে তিনি বিথী আক্তারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তবে নবজাতকের মৃত্যুর খবর জানেন না। খোঁজ নেবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিথীর মা মালা বেগম দাবি করেন, রুবি আক্তার রুপা কখনো তার মেয়েকে দেখতে আসেননি। এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবা উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে রোগী আমাদের গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি; তারা চরমোন্তাজে চলে গেছেন। চরমোন্তাজের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল দেওয়ার চেষ্টা করব।
স্থানীয়রা জানান, চরমোন্তাজ থেকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নদীপথে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। তাদের দাবি, যাত্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে এবং জরুরি প্রয়োজনে সব সময় স্পিডবোটও পাওয়া যায় না। অন্যদিকে, রাঙ্গাবালী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় চিকিৎসার জন্য গলাচিপার ওপর নির্ভর করতে হয়।
একই দিনে দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চরমোন্তাজের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দ্রুত জনবল নিয়োগ, নিরাপদ প্রসবসেবা, প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী পরিচর্যা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

০২ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:৩০
২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে পটুয়াখালীর দুমকির বিভিন্ন নদ-নদীতে মা ইলিশ শিকারের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে জেলেরা জাল-নৌকা মেরামত ও সরঞ্জাম সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের সব অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে ইলিশ ধরা, পরিবহন, সংরক্ষণ, বাজারজাত ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে দুমকির পায়রা, পান্ডব, পাতাবুনিয়া ও লোহালিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জেলেরা গোপনে নদীতে নামার পরিকল্পনা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোহালিয়া নদীর বাহেরচর, আংগারিয়া, পাতাবুনিয়া, জেলেপাড়া, পাংসিঘাট, পায়রা নদীর পশ্চিম আঙ্গারিয়া, লেবুখালী, আলগি, হাজিরহাট ও রাজগঞ্জ এলাকার জেলেপল্লিগুলোতে ইতোমধ্যে শতাধিক নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, বিকল্প কর্মসংস্থান বা পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় তারা বাধ্য হচ্ছেন ইলিশ শিকারে নামতে। সরকারের পক্ষ থেকে ভিজিএফ চাল বরাদ্দ থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলেও দাবি তাদের।
অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, মা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে জাল-নৌকা জব্দসহ আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই দুটো টিম করেছি নিয়মিত তদারকির জন্য। যেসব এলাকায় এসব জেলেদের তৎপরতা বেশি সেই জেলে এলাকাগুলোতে আমরা ইলিশ নিধন সম্পর্কিত লিফলেট বিতরণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও তাদের কাউন্সেলিং করেছি। তারপরেও যদি কেউ এই নির্দেশনা অমান্য করে মাছ ধরতে যায় তাহলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যদি আমাদের কোনো লোকজনও যুক্ত থাকে তবে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা নিশ্চিত না করা গেলে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে একদিকে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩৪
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২১:৩১
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৪৫
১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫৩