দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে বরগুনার বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের। ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে এসব সড়কে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
তবে বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে এসব সড়ক সংস্কার করতে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। আর এ কারণেই একসঙ্গে করা যাচ্ছে না সব সড়কে সংস্কার।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় মোট ৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। প্রতি তিন বছর পরপর এ সড়কগুলো সংস্কারের প্রয়োজন হলেও মেলে না পর্যাপ্ত বরাদ্দ। জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমানে জেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এ সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় মাত্র ৬০-৭০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব।
আর এ কারণেই অর্থ সংকটে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া খানাখন্দেভরা সব সড়কের সংস্কার করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে এলজিইডি। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার বেশিরভাগ আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আমতলী-তালতলী সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে বরগুনা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক এবং গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কেরই জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচ ঢালাই। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সড়কের কোনো সংস্কার করা হয়নি। এতে সড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়ে যানবাহন চলছে হেলেদুলে।
অনেক জায়গায় আবার যাত্রী নামিয়ে খানাখন্দ পার হতে হয় গাড়ি চালকদের। দিনের পর দিন এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া বিভিন্ন গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে এবং ভাঙা সড়কে চলাচলের কারণে প্রায় সময় সড়কে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে তালতলী উপজেলায় কয়কটি পর্যটন কেন্দ্র থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ঘুরতে আসেন পর্যটকরা। তবে এ উপজেলায় প্রবেশের জন্য ৩৮ কিলোমিটারের আঞ্চলিক সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় বর্তমানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়ছেন, অপরদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে রত্না দাস নামে এক যাত্রী বলেন, এই সড়কটি তালতলীতে যাওয়া-আসার একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
খানাখন্দের কারণে ছোট বাচ্চা অথবা বৃদ্ধ যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে যাতায়াতের সময় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সে ভোগান্তি তো আমাদের। সবার ভালোর কথা চিন্তা করে হলেও সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
মো. মাসুদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্ষার সময় সড়কের খানাখন্দে পানি জমে থাকে। এতে ছোট-বড় গর্তগুলো বোঝা যায় না। আর এ কারণেই অনেক সময় গাড়ি গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মো. মিলন সিকদার নামে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমরা দৈনিক গাড়ি চালিয়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় করি। কিন্তু এ সড়কে গাড়ি চালিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে অনেক সময় মেরামত করতে হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ অবস্থায় অতিরিক্ত টাকা খরচের কারণে এখন আমাদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।
তালতলী উপজেলায় সোনাকাটা ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রার চরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র এবং রাখাইন পল্লী থাকায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে তালতলীতে প্রবেশের প্রধান সড়কটির বর্তমানে বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।
তালতলীতে পর্যটক নিয়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক মো. শাহজাহান বলেন, তালতলীতে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র আছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের কারণে অনেক সময় আমাদের গাড়ি আটকে যায়। এ কারণে অনেক সময় আমাদের প্রোগ্রাম পরিবর্তনও করতে হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, যাতে এ সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হয়।
বরিশাল থেকে তালতলীর নিদ্রার চরে ঘুরতে আসা আপন নামে এক পর্যটক বলেন, ফেসবুকে তালতলী নিদ্রার চরের বিভিন্ন সৌন্দর্যের ভিডিও দেখে ঘুরতে এসেছি। কিন্ত রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। এখান থেকে যাওয়ার পরে কেউ যাদি জানতে চায় তাদেরকে রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থাই বলতে হবে। সরকার যদি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করে তাহলে এখানকার পর্যটন শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটবে।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, বরগুনাতে যে পরিমাণ গ্রামীণ সড়ক আছে তা সংস্কারে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। এ কারণে গুরুত্ব বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কের কাজ আমরা করতে পারলেও বাকি কাজ পরবর্তী বছরের জন্য থেকে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা চলমান আছে।
আমতলী-তালতলী সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সড়কটির কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। আমতলী থেকে তালতলীর সোনাকাটা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যে অংশটি জরুরি মেরামত প্রয়োজন সে অংশের জন্য একটি বাজেট ঢাকায় পাঠিয়ে অনুমোদন পেয়েছি। দ্রুতই কাজ শুরু হবে এবং ওই সব জায়গায় মানুষের ভোগান্তি কমবে।

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫১
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বরগুনার তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য পায়রা (বুড়িশ্বর) নদীতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে নদীর পানি, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, নদীতে বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কালো ধোঁয়াও জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব দূষণ বন্ধ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁরা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়ালভাঙ্গা এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি’ আয়োজিত মানববন্ধনে দুই শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলে অংশ নেন।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) ও ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’-এর তালতলী শাখার সমন্বয়ক আরিফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মো. বাবুল হাওলাদার, কামাল চৌকিদার, সুলতানা মিয়াসহ স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী জেলেরা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বরিশাল ৩৫০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশসম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে অটোরিকশা ও নৌকায় করে নদীতে ফেলছে বলে তাঁদের দাবি। এভাবে বর্জ্য ফেলার ফলে পায়রা নদীর পানির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।
বক্তাদের ভাষ্য, নদীর পানিদূষণের প্রভাব পড়ছে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির জলজ প্রাণীর ওপর। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রতিবেশব্যবস্থা ও মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলেদের আয় কমছে। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়ছে। দীর্ঘদিন এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে নদীনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে উদ্বেগ জানান তাঁরা।
নদীদূষণের পাশাপাশি বায়ুদূষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া স্থানীয় জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। এ ছাড়া নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলেও দাবি করেন বক্তারা।
কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে পায়রা নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ, দূষণের উৎস ও প্রকৃত কারণ শনাক্তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অভিযোগের তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। নদীর পানি, ইলিশসহ অন্যান্য মৎস্যসম্পদ এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপও কামনা করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ নষ্ট করে ও নদীর পানি দূষিত করে কাউকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
বরগুনায় এক কোটি টাকার চাঁদাবাজির মামলায় কালবেলার প্রতিনিধি সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের সময় হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।
এদিকে সাংবাদিক আসাদ সবুজের জামিন শুনানি মঙ্গলবার হওয়ার কথা থাকলেও বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা।
সাংবাদিককে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে হেনস্তা, অমানবিক আচরণ ও পুলিশ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ গত ৩ অক্টোবর বরগুনায় গিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এসআই হারুন অর রশিদকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সুপার কুদরত ই খুদা এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে সুভাষ ঘোষের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলায় আসাদ সবুজসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এতে এক কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসাদ সবুজকে হ্যান্ডকাফ পরানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেতৃবৃন্দ বরগুনায় গিয়ে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। পরে বাদীর উপস্থিতিতে শুনানির জন্য তা বুধবার পুনর্নির্ধারণ করা হয়।
মামলার শুনানিতে আসাদ সবুজের পক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ বারী মতিন এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের ও অ্যাডভোকেট বাবুল দাস উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেপ্তারের নামে যে আচরণ করা হয়েছে, তা অমানবিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল বরগুনায় গিয়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিজমা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের দাবি, এলাকার কয়েকটি হিন্দু পরিবারের কয়েক কোটি টাকার জমি দখলের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে জমি দখল ও মামলাটি সাজানোর অভিযোগের বিষয়ে মামলার বাদী সুভাষ ঘোষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।
বরগুনার উপকূলজুড়ে প্রতিদিনই দৃশ্যপট বদলে দিচ্ছে নদী ও সাগরের ভাঙন। কোথাও জোয়ারের পানিতে হারিয়ে যাচ্ছে সৈকতের অংশ, কোথাও ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়ছে ঝাউগাছ। আবার কোথাও বেড়িবাঁধের মাটি সরে গিয়ে বাড়ছে জনপদ প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা। দীর্ঘদিনের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক ও জীবিকার নানা অবলম্বন হারাচ্ছেন উপকূলের মানুষ।
বরগুনা সদর, তালতলী, পাথরঘাটা ও আমতলী উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে সঙ্কুচিত হচ্ছে নলটোনা ইউনিয়ন। অন্যদিকে সাগরের ভাঙনে ক্রমেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তালতলীর শুভসন্ধ্যা সৈকত ও সংলগ্ন ঝাউবন। ঢেউয়ের আঘাতে বালু সরে গিয়ে অনেক গাছের শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও গাছ উপড়ে পড়েছে, আবার কোথাও সৈকতের অংশ চলে গেছে পানির নিচে। লালদিয়া চরেও দেখা দিয়েছে ভাঙনের তীব্রতা। পর্যটনের সম্ভাবনাময় এসব এলাকা রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
নদী ও সাগরঘেঁষা বেড়িবাঁধ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। অস্বাভাবিক জোয়ার, ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপের সময় দুর্বল বাঁধ দিয়ে পানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে বা উপচে পানি ঢুকে পড়লে দ্রুত প্লাবিত হয় বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। লবণাক্ত পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎস।
স্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়, অস্বাভাবিক জোয়ার এবং ভূমিক্ষয়ের সম্মিলিত প্রভাবেই বরগুনার উপকূলের ঝুঁকি বাড়ছে। শুধু বাঁধ মেরামত করে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদী-সাগরের গতিপথ, ভাঙনের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদ চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঝাউবন, ম্যানগ্রোভসহ প্রাকৃতিক প্রতিরোধব্যবস্থা রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, “বরগুনার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আমরা সাধ্যমতো বাঁধ সুরক্ষার চেষ্টা করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই বরগুনার জন্য কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ফলে এক মৌসুমে মেরামত করা বাঁধ পরের মৌসুমেই আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।
পরিবেশবিদদের মতে, বরগুনার উপকূল রক্ষায় এখনই সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা, টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ভাঙন পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল সংরক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের জন্য আগাম সুরক্ষা পরিকল্পনা নিতে হবে। অন্যথায় উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ও জীবিকার ওপর ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

১৮ আগস্ট, ২০২৫ ১৩:১৬
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে বরগুনার বিভিন্ন গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের। ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে এসব সড়কে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
তবে বরগুনার স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য মতে এসব সড়ক সংস্কার করতে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। আর এ কারণেই একসঙ্গে করা যাচ্ছে না সব সড়কে সংস্কার।
এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় মোট ৬ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের মধ্যে ২ হাজার ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। প্রতি তিন বছর পরপর এ সড়কগুলো সংস্কারের প্রয়োজন হলেও মেলে না পর্যাপ্ত বরাদ্দ। জনদুর্ভোগ কমাতে বর্তমানে জেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে।
তবে এ সংস্কারের জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা। প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ সীমিত হওয়ায় মাত্র ৬০-৭০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ করা সম্ভব।
আর এ কারণেই অর্থ সংকটে অধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া ছাড়া খানাখন্দেভরা সব সড়কের সংস্কার করা সম্ভব হয় না বলে জানিয়েছে এলজিইডি। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলার বেশিরভাগ আঞ্চলিক সড়কেরও বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আমতলী-তালতলী সড়কটির বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে বরগুনা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক এবং গ্রামীণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সড়কেরই জায়গায় জায়গায় উঠে গেছে পিচ ঢালাই। দীর্ঘদিন ধরেই এসব সড়কের কোনো সংস্কার করা হয়নি। এতে সড়কের বিভিন্নস্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়ে যানবাহন চলছে হেলেদুলে।
অনেক জায়গায় আবার যাত্রী নামিয়ে খানাখন্দ পার হতে হয় গাড়ি চালকদের। দিনের পর দিন এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়া বিভিন্ন গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে এবং ভাঙা সড়কে চলাচলের কারণে প্রায় সময় সড়কে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে তালতলী উপজেলায় কয়কটি পর্যটন কেন্দ্র থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিনই ঘুরতে আসেন পর্যটকরা। তবে এ উপজেলায় প্রবেশের জন্য ৩৮ কিলোমিটারের আঞ্চলিক সড়কটির অধিকাংশ জায়গায় বর্তমানে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বিপাকে পড়ছেন, অপরদিকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
আমতলী-তালতলী আঞ্চলিক সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের মধ্যে রত্না দাস নামে এক যাত্রী বলেন, এই সড়কটি তালতলীতে যাওয়া-আসার একমাত্র প্রধান সড়ক। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
খানাখন্দের কারণে ছোট বাচ্চা অথবা বৃদ্ধ যারা আছেন তাদেরকে নিয়ে যাতায়াতের সময় যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে সে ভোগান্তি তো আমাদের। সবার ভালোর কথা চিন্তা করে হলেও সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
মো. মাসুদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বর্ষার সময় সড়কের খানাখন্দে পানি জমে থাকে। এতে ছোট-বড় গর্তগুলো বোঝা যায় না। আর এ কারণেই অনেক সময় গাড়ি গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। মো. মিলন সিকদার নামে স্থানীয় এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমরা দৈনিক গাড়ি চালিয়ে ৭০০-৮০০ টাকা আয় করি। কিন্তু এ সড়কে গাড়ি চালিয়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙে অনেক সময় মেরামত করতে হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ অবস্থায় অতিরিক্ত টাকা খরচের কারণে এখন আমাদের সংসার চালাতেই কষ্ট হয়।
তালতলী উপজেলায় সোনাকাটা ইকোপার্ক, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, নিদ্রার চরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র এবং রাখাইন পল্লী থাকায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তবে তালতলীতে প্রবেশের প্রধান সড়কটির বর্তমানে বেহাল দশার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের।
তালতলীতে পর্যটক নিয়ে আসা একটি প্রাইভেটকারের চালক মো. শাহজাহান বলেন, তালতলীতে বেশ কয়েকটি পর্যটনকেন্দ্র আছে। এসব পর্যটনকেন্দ্রে যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দের কারণে অনেক সময় আমাদের গাড়ি আটকে যায়। এ কারণে অনেক সময় আমাদের প্রোগ্রাম পরিবর্তনও করতে হয়। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই দাবি, যাতে এ সড়কটি দ্রুত মেরামত করা হয়।
বরিশাল থেকে তালতলীর নিদ্রার চরে ঘুরতে আসা আপন নামে এক পর্যটক বলেন, ফেসবুকে তালতলী নিদ্রার চরের বিভিন্ন সৌন্দর্যের ভিডিও দেখে ঘুরতে এসেছি। কিন্ত রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। এখান থেকে যাওয়ার পরে কেউ যাদি জানতে চায় তাদেরকে রাস্তাঘাটের খারাপ অবস্থাই বলতে হবে। সরকার যদি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করে তাহলে এখানকার পর্যটন শিল্পেরও উন্নয়ন ঘটবে।
এ বিষয়ে বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, বরগুনাতে যে পরিমাণ গ্রামীণ সড়ক আছে তা সংস্কারে যে পরিমাণ বরাদ্দের প্রয়োজন, সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই কম। এ কারণে গুরুত্ব বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কের কাজ আমরা করতে পারলেও বাকি কাজ পরবর্তী বছরের জন্য থেকে যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করে বরাদ্দের পরিমাণ বাড়াতে আমাদের চেষ্টা চলমান আছে।
আমতলী-তালতলী সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সড়কটির কিছু অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। আমতলী থেকে তালতলীর সোনাকাটা পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কারের জন্য একটি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যে অংশটি জরুরি মেরামত প্রয়োজন সে অংশের জন্য একটি বাজেট ঢাকায় পাঠিয়ে অনুমোদন পেয়েছি। দ্রুতই কাজ শুরু হবে এবং ওই সব জায়গায় মানুষের ভোগান্তি কমবে।