
০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৪:৪৮
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কৃষক পরিবারের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে স্থানীয় শ্রমিকদল নেতা ফরিদ চৌকিদারের নেতৃত্বাধীন একটি দল। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত একটি ছোট মাছের ঘের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছিলেন আলমগীর মুসুল্লি। গত পরশু ঘেরটির মাছ নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আলমগীরের সঙ্গে স্থানীয় নূরজামাল হাওলাদারের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় শ্রমিক দল নেতা ফরিদ চৌকিদার, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজিব, যুবদল নেতা নাজমুলসহ ১৫–২০ জনের একটি দল কৃষক পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ঘরের বিদ্যুতের মিটার ভাঙচুরসহ ঘরে লুটপাটও করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আলমগীর মুসুল্লি বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। নূরজামাল হাওলাদার টাকা দিয়ে ওদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা করিয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় আলমগীর মুসুল্লি, তার স্ত্রী ময়না বেগম, দুই ছেলে হাসান ও হাবিব এবং ভাই আল-আমিন আহত হন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাসান, হাবিব ও ময়না বেগমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আহত হাসান বলেন, আমরা শুধু ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা পরিকল্পিতভাবে দল বেঁধে এসে আমাদের মারধর করেছে, ঘরও ভাঙচুর করেছে।
হাবিব বলেন, সেদিন বিকেলেই তারা আমাদের হুমকি দিয়েছিল। পরে সন্ধ্যায় এসে হামলা চালায়। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে ফরিদ চৌকিদার এলাকায় নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ফরিদ বিভিন্ন জায়গায় টাকার বিনিময়ে ‘বটবাহিনী’ নিয়ে মারামারি করে থাকে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নূরজামাল হাওলাদার বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
অভিযুক্ত ফরিদ চৌকিদার বলেন, আমি মারধর করিনি। মারামারির ঘটনা শুনে ছাড়াতে গেছি। এসময় আমিও মারধরের শিকার হয়েছি। টাকা পয়সা নিয়ে মারধরের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যান।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে কৃষক পরিবারের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে স্থানীয় শ্রমিকদল নেতা ফরিদ চৌকিদারের নেতৃত্বাধীন একটি দল। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় একই পরিবারের ছয়জন আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়িবাঁধের বাইরে অবস্থিত একটি ছোট মাছের ঘের দীর্ঘদিন ধরে ভোগ করে আসছিলেন আলমগীর মুসুল্লি। গত পরশু ঘেরটির মাছ নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আলমগীরের সঙ্গে স্থানীয় নূরজামাল হাওলাদারের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে বুধবার সন্ধ্যায় শ্রমিক দল নেতা ফরিদ চৌকিদার, স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা রাজিব, যুবদল নেতা নাজমুলসহ ১৫–২০ জনের একটি দল কৃষক পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ঘরের বিদ্যুতের মিটার ভাঙচুরসহ ঘরে লুটপাটও করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আলমগীর মুসুল্লি বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। নূরজামাল হাওলাদার টাকা দিয়ে ওদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা করিয়েছে। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় আলমগীর মুসুল্লি, তার স্ত্রী ময়না বেগম, দুই ছেলে হাসান ও হাবিব এবং ভাই আল-আমিন আহত হন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, হাসান, হাবিব ও ময়না বেগমের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আহত হাসান বলেন, আমরা শুধু ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টা জানতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা পরিকল্পিতভাবে দল বেঁধে এসে আমাদের মারধর করেছে, ঘরও ভাঙচুর করেছে।
হাবিব বলেন, সেদিন বিকেলেই তারা আমাদের হুমকি দিয়েছিল। পরে সন্ধ্যায় এসে হামলা চালায়। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে ফরিদ চৌকিদার এলাকায় নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ফরিদ বিভিন্ন জায়গায় টাকার বিনিময়ে ‘বটবাহিনী’ নিয়ে মারামারি করে থাকে।
অভিযোগ অস্বীকার করে নূরজামাল হাওলাদার বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
অভিযুক্ত ফরিদ চৌকিদার বলেন, আমি মারধর করিনি। মারামারির ঘটনা শুনে ছাড়াতে গেছি। এসময় আমিও মারধরের শিকার হয়েছি। টাকা পয়সা নিয়ে মারধরের বিষয়টিও তিনি এড়িয়ে যান।
নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

১৫ জুন, ২০২৬ ১৯:০০
গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার সোহাগ প্যাদার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’
গলাচিপা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ সোহাগ প্যাদাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৪ জুন) রাতে পুলিশের একটি টিম গলাচিপা পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসা থেকে তাকে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে নাশকতাবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তিনি মৃত বাদশাহ প্যাদার ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহাগ প্যাদা নিষিদ্ধ ঘোষিত পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন।
পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে পৌর এলাকার টিঅ্যান্ডটি রোডে অভিযান চালিয়ে তাকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার সোহাগ প্যাদার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

১৫ জুন, ২০২৬ ১৫:০৪
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি।
সেতুর মূল কাঠামোর বেশিরভাগ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ হয়ে উঠেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেতুর আশপাশের সড়কে কাদা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করতেও দেখা দেয় নানা প্রতিবন্ধকতা।
স্থানীয় কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যায় না।
মাছ ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় অনেক গাড়ি আসতে চায় না। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। দ্রুত ব্রিজের কাজ শেষ হলে এলাকার অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতিতে চলছে প্রকল্পের কাজ। মাঝে কয়েক দফা কাজ বন্ধও ছিল। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, কিছু কারিগরি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ অবশিষ্ট কাজ শেষ করে সেতুটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেতুটি চালু না হওয়ায় হতাশ স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি ফিরে আসবে।

১১ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৪
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) এবং শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই নারীর করা মামলায় পরে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টমটমের ওপর এক নারীর হাত বেঁধে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। মারধরের শিকার ওই নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটম থামিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে নির্যাতনে যুক্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন এবং দশমিনা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী লিপি আক্তারকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ আছে, এ সময় লিপি আক্তারের শ্বশুর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হেলাল মৃধার মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলালের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত অবস্থায় হেলাল মৃধা বলেন, ওই নারীর চিৎকার শুনে তিনি এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি থামান। তখন টমটমে থাকা শাহ জামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিপি আক্তার বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী শাহ জামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসবৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিপি আক্তারের ভাষ্য, গতকাল সকালে মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গতকালও তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় লিপি আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী শাহ জামাল (৩৫) এবং শ্বশুর মোসলেম মৃধাকে (৭০) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই নারীর করা মামলায় পরে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, টমটমের ওপর এক নারীর হাত বেঁধে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। মারধরের শিকার ওই নারী চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি টমটম থামিয়ে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে নির্যাতনে যুক্ত দুই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন এবং দশমিনা থানা-পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নারীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের হেফাজতে নেয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী লিপি আক্তারকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল মৃধা (৬৫) আহত হন। অভিযোগ আছে, এ সময় লিপি আক্তারের শ্বশুর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে হেলাল মৃধার মাথায় আঘাত করেন। এতে হেলালের মাথা ফেটে যায় এবং তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহত অবস্থায় হেলাল মৃধা বলেন, ওই নারীর চিৎকার শুনে তিনি এবং আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে টমটমটি থামান। তখন টমটমে থাকা শাহ জামাল ও তাঁর বাবা মোসলেম মৃধা তাঁদের ওপর চড়াও হন এবং হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আটক করে পুলিশে খবর দেন।
দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন লিপি আক্তার বলেন, তাঁর দুই ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। তাঁর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এর পর থেকে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল। স্বামী শাহ জামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা প্রায়ই তাঁর ওপর নির্যাতন চালাতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিসবৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
লিপি আক্তারের ভাষ্য, গতকাল সকালে মারধরের একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় টমটমে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে স্বামী শাহ জামাল দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে প্রথম স্ত্রী লিপি আক্তারের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। গতকালও তাঁকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে স্বামী ও শ্বশুর কোথাও নিয়ে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে।’
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.