পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাধুবাদ।
অনেকটা বিলম্বে হলেও বরিশালবাসীর প্রত্যাশিত ‘ বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) গঠন হতে যাচ্ছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে একাধিকবার বউক গঠনে উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হলেও এর সপক্ষে দাবি উত্থ্যাপিত ছিল। বিচার-বিশ্লেষণ শেষে উপদেষ্টা পরিষদ ‘বউক’ গঠনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে, যা বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তুলে ধরেন। এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশ পূরণের পথে। খুশির এ খবরে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজনৈতিক সুশীলসমাজসহ সর্ব শ্রেণি-পেশার মানুষ। নগর পরিকল্পনায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক ব্যক্তিও সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছেন।
পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বরিশাল শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং আবহাওয়াগত দিক থেকে নিরাপদ একটি নগর গড়তে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) অগ্রণী ভূমিকা রাখবে, যা মানুষের দীর্ঘদিনে প্রত্যাশা ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যার গুরুত্ব অনুধাবন করেছে, মূল্যয়ন করতেও ভুল করেনি। সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বরিশাল শহরকে কাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে এবং উদ্যোক্তাদের প্রলুব্ধ করবে।
জানা গেছে, ১৮৬৯ সালে বরিশাল টাউন কমিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পায়, পরবর্তীতে ১৮৭৬ সালে বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটিতে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে বরিশাল শহরকে একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০২ সালে “বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন ২০০২” এর মাধ্যমে পৌরসভা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তৎসময়ে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক) গঠনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার উদ্যোগ নিলেও একপর্যায়ে থেমে যায় বা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের মেয়াদে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক) ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজও শুরু করে। এতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হলেও পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বরিশাল শহরে ২০১৬ সালে ‘নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করে। তবে সেখানে রয়েছে জনবলসংকট। ত্রিশটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ৫৮ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল সিটিতে দুজন নগর পরিকল্পনাবিদসহ ৬জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কাজ চলছে এই বিভাগের।
শহর নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এমন অন্তত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, এর আগে বরিশাল নগরের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান, নকশা তৈরি করলেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সে অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করেন না। অপরিকল্পিত এই নগরায়নের কারণে শান্ত-স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীরের জনপদটি ক্রমশই বিবর্ণ হয়ে পড়ছে, হারাচ্ছে জৌলুশ। বিশেষ করে নদী-খাল দখলের মচ্ছপে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে কবি জীবনানন্দের প্রাণের বরিশালের পরিবেশ-প্রকৃতি। এমন বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার বউক গঠনে উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসার দাবি রাখে।
‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ অধ্যাদেশ অনুমোদনে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারও। তিনি শনিবার অপরাহ্নে জানান, বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে সরকার। এমন খুশির সংবাদ এই অঞ্চলের মানুষকে অভিভুত করেছে, মন্তব্য করেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক এই সাংসদ।
বউক গঠনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শেষ কার্যক্রম শুরু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বরিশালের সুশীলসমাজ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, ‘একটি নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে এখন পরিবেশ, প্রতিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনাসহ প্রাকৃতিক বিষয়গুলো যুক্ত থাকতে হবে। এর বাইরে কিছু হলে সেই উন্নয়ন নগরবাসীর জন্য অপউন্নয়নে পর্যবসিত হবে। এর জন্য জনপ্রতিনিধি, পানি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে থাকা আবশ্যক। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, নাগরিক সমাজের সমন্বয় করে কমিটি করা গেলে এর সুফল মিলবে।
‘উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের উদ্যোগকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন বরিশাল নগর-পরিকল্পনাবিদ মিলন মন্ডল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নগর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তার ভাষায়, বরিশাল নগরকে এখনো পরিকল্পিত আদর্শ নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনামাফিক এগোনো ও সদিচ্ছা। মূল শহরের বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার এখন আর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নগরকে যানজটমুক্ত করতে সিটি সার্কুলার রোড করা যেতে পারে। একই সঙ্গে খালগুলো খনন করে হাঁটার পথ ও পাড়ে গাছ লাগানো গেলে নগরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এসব খাল যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের পর বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ স্থানীয় প্রশাসন থেকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যাবে। যেমন ঢাকার দুই সিটি এলাকায় ভবনের নকশা, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বেশ কিছু কাজের ক্ষমতা রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) হাতে।
বউক গঠন করে বরিশাল শহরকে মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল করার সরকারের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিকদের পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজও ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে। এনিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক আনিসুর রহমান স্বপন বলেন, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃক্ষ’ বরিশাল শহরকে কাঠামোগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত করবে। এবং বরিশাল হবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নিরাপদ নগরী।’

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:০৪
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে রাতের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমুদ্রবন্দরের সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সাগরে এই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।’
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের কারণে রাতের মধ্যে বরিশাল-পটুয়াখালীসহ দেশের ১৫ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে সংস্থাটি। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ রাত ১টার মধ্যে বরিশাল, পটুয়াখালী, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সমুদ্রবন্দরের সতর্কবার্তায় আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সাগরে এই নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।’

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫০
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাতশর অধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। যাদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে স্বজন ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন তার একমাত্র কারণ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ’
তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশ ষড়যন্ত্রে যখন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘটানো হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি, তখন বিএনপির অবস্থাও করুণ। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, আপনাকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে দুটি নাবালক সন্তানসহ সংসারের হাল। অন্যদিকে গোটা বিএনপি পরিবারের হাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচার হটানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া আপষহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দিসারী ছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাইনা। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন প্রমুখ।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে অর্থাৎ আওয়ামী লীগের বিএনপির সাড়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। সাতশর অধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছিলেন। যাদের স্বজনেরা এখনো তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে জায়নামাজে বসে স্বজন ফেরার প্রতীক্ষায় থাকে। গতকাল রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বরিশালের গৌরনদীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির দিশারি হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পেরেছিলেন তার একমাত্র কারণ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার মতো স্ত্রী। জিয়াউর রহমানের প্রতিটি কাজের ছায়াসঙ্গী ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ’
তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশ ষড়যন্ত্রে যখন জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের শিকার ঘটানো হয়। তখন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গৃহবধূ। নাবালক দুইটি সন্তান নিয়ে যখন পরিবারের হাল ধরেছিলেন তিনি, তখন বিএনপির অবস্থাও করুণ। তখন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা বলেছিলেন, আপনাকে বিএনপির হাল ধরতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে দুটি নাবালক সন্তানসহ সংসারের হাল। অন্যদিকে গোটা বিএনপি পরিবারের হাল ধরে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও স্বৈরাচার হটানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়া আপষহীন নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের মানুষের জন্য মুক্তির দিসারী ছিলেন।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা জুলাইকে ছোট করে দেখতে চাইনা। জুলাই বিপ্লব সফল হয়েছে বিগত ১৬ বছর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের যে সূচনা হয়েছিল তার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে।’
আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপন প্রমুখ।

১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৫
আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ইং, সোমবার ভাষা সৈনিক মরহুম শেখ এ মালেকের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল-এ ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে নাট্যকর্মী, সমাজসেবক ও দক্ষ সংগঠক এবং সাংবাদিক ছিলেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। এছাড়া বরিশালের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ট। কর্ম জীবনে তিনি বরিশাল প্রধান ডাকঘরের প্রধান পোস্টমাস্টার (এপিএমজি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একাধারে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক খাদেম পত্রিকার সহসম্পাদক, শের-ই বাংলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি, সাহিত্য পরিষদ, পাবলিক লাইব্রেরী, ফোকলোল, নাট্য নিকেতন, শিল্পকলা একাডেমি, মুকুল ফৌজসহ নানা সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি একে স্কুল ও বি এম কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৪১-৪৭ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক সম্মুখ সক্রিয় সৈনিক। এবং তিনি ব্রিটিশের বিরুদ্বে কালো পতাকা উত্তলোনকারী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বরিশাল জেলা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ১১ মার্চ ফকিরবাড়ি রোডের জনসভা থেকে আন্দোলরত অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, বিএম কলেজের ভিপি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ আবদুর রব ও ঝালকাঠি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শেখ আবদুছ শুকুর (অনারারি মেজিস্ট্রেট) তাদেরই বড় ভাই হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল ওয়াপদার টর্চার সেলে নিয়ে যায় এবং তার ওপর নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। স্বাধীনতার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমানতগঞ্জ রেডক্রসের তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজ গ্রাম শেখেরহাটে বহু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পোস্ট অফিস, লঞ্চ/স্টিমার ঘাট, টেলিফোন অফিস, পুলিশ ফাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ অন্যতম। রোকেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রাথমিক কার্যক্রম নিজ কাচারি বাড়িতে শুরু করেন। এককথায় শেখেরহাটের উন্নয়নমূলক কাজে তার সক্রিয় ভূমিকা আজো প্রবাদপ্রতিম। শেখেরহাটের আনজিৎ শাহ (র:) এর মাজারের আধুনিকায়নে তার ভূমিকা অনন্য। সদালাপি, সদাহাস্যোজ্জ্বল শেখ আবদুল মালেক কারও কাছে মালেক ভাই, কারো মালেক দা হিসাবে বিশেষ পরিচিত ছিলেন।
আজকের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল ও শেখের হাটে (রাজপাশা) নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আরএসএম মাদ্রাসা, মসজিদে কোরাআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পরিবার সকল শুভাকাঙ্খি ও স্বজনদের কাছে মরহুমের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।’
আজ ১৮ আগস্ট ২০২৬ইং, সোমবার ভাষা সৈনিক মরহুম শেখ এ মালেকের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০২ সালের এই দিনে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল-এ ৭৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি একাধারে নাট্যকর্মী, সমাজসেবক ও দক্ষ সংগঠক এবং সাংবাদিক ছিলেন। প্রখ্যাত সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। এছাড়া বরিশালের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সাথে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ট। কর্ম জীবনে তিনি বরিশাল প্রধান ডাকঘরের প্রধান পোস্টমাস্টার (এপিএমজি) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে তিনি একাধারে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি, সাপ্তাহিক খাদেম পত্রিকার সহসম্পাদক, শের-ই বাংলা স্মৃতি সংসদের সভাপতি, সাহিত্য পরিষদ, পাবলিক লাইব্রেরী, ফোকলোল, নাট্য নিকেতন, শিল্পকলা একাডেমি, মুকুল ফৌজসহ নানা সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি একে স্কুল ও বি এম কলেজে অধ্যয়ন করেন। ১৯৪১-৪৭ ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক সম্মুখ সক্রিয় সৈনিক। এবং তিনি ব্রিটিশের বিরুদ্বে কালো পতাকা উত্তলোনকারী। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বরিশাল জেলা সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ১১ মার্চ ফকিরবাড়ি রোডের জনসভা থেকে আন্দোলরত অবস্থায় তিনি গ্রেপ্তার হন। ১৯৭১ সালে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি, বিএম কলেজের ভিপি মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট শেখ আবদুর রব ও ঝালকাঠি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ঝালকাঠি আইনজীবী সমিতির সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট শেখ আবদুছ শুকুর (অনারারি মেজিস্ট্রেট) তাদেরই বড় ভাই হওয়ায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে বরিশাল ওয়াপদার টর্চার সেলে নিয়ে যায় এবং তার ওপর নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালায়। স্বাধীনতার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত আমানতগঞ্জ রেডক্রসের তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিজ গ্রাম শেখেরহাটে বহু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। পোস্ট অফিস, লঞ্চ/স্টিমার ঘাট, টেলিফোন অফিস, পুলিশ ফাড়ি, স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ অন্যতম। রোকেয়া খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার লক্ষে প্রাথমিক কার্যক্রম নিজ কাচারি বাড়িতে শুরু করেন। এককথায় শেখেরহাটের উন্নয়নমূলক কাজে তার সক্রিয় ভূমিকা আজো প্রবাদপ্রতিম। শেখেরহাটের আনজিৎ শাহ (র:) এর মাজারের আধুনিকায়নে তার ভূমিকা অনন্য। সদালাপি, সদাহাস্যোজ্জ্বল শেখ আবদুল মালেক কারও কাছে মালেক ভাই, কারো মালেক দা হিসাবে বিশেষ পরিচিত ছিলেন।
আজকের এই মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পৈতৃক বাড়ি “শেখের হাট লজ” আমানতগঞ্জ, বরিশাল ও শেখের হাটে (রাজপাশা) নিজেদের প্রতিষ্ঠিত আরএসএম মাদ্রাসা, মসজিদে কোরাআন খতম, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর পরিবার সকল শুভাকাঙ্খি ও স্বজনদের কাছে মরহুমের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।’

১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ১৮:০৬
পরিকল্পিত নগরায়নের লক্ষে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাধুবাদ।
অনেকটা বিলম্বে হলেও বরিশালবাসীর প্রত্যাশিত ‘ বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) গঠন হতে যাচ্ছে। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে একাধিকবার বউক গঠনে উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হলেও এর সপক্ষে দাবি উত্থ্যাপিত ছিল। বিচার-বিশ্লেষণ শেষে উপদেষ্টা পরিষদ ‘বউক’ গঠনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে, যা বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তুলে ধরেন। এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশ পূরণের পথে। খুশির এ খবরে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজনৈতিক সুশীলসমাজসহ সর্ব শ্রেণি-পেশার মানুষ। নগর পরিকল্পনায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একাধিক ব্যক্তিও সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়ন চেয়েছেন।
পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, বরিশাল শহরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং আবহাওয়াগত দিক থেকে নিরাপদ একটি নগর গড়তে ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ (বউক) অগ্রণী ভূমিকা রাখবে, যা মানুষের দীর্ঘদিনে প্রত্যাশা ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যার গুরুত্ব অনুধাবন করেছে, মূল্যয়ন করতেও ভুল করেনি। সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত বরিশাল শহরকে কাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে এবং উদ্যোক্তাদের প্রলুব্ধ করবে।
জানা গেছে, ১৮৬৯ সালে বরিশাল টাউন কমিটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত পায়, পরবর্তীতে ১৮৭৬ সালে বরিশাল মিউনিসিপ্যালিটিতে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৮৫ সালে বরিশাল শহরকে একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০২ সালে “বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (সংশোধন) আইন ২০০২” এর মাধ্যমে পৌরসভা বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হয়। তৎসময়ে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক) গঠনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার উদ্যোগ নিলেও একপর্যায়ে থেমে যায় বা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার তাদের মেয়াদে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক) ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজও শুরু করে। এতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হলেও পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বরিশাল শহরে ২০১৬ সালে ‘নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করে। তবে সেখানে রয়েছে জনবলসংকট। ত্রিশটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ৫৮ বর্গ কিলোমিটারের বরিশাল সিটিতে দুজন নগর পরিকল্পনাবিদসহ ৬জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে কাজ চলছে এই বিভাগের।
শহর নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এমন অন্তত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, এর আগে বরিশাল নগরের পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান, নকশা তৈরি করলেও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সে অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করেন না। অপরিকল্পিত এই নগরায়নের কারণে শান্ত-স্নিগ্ধ কীর্তনখোলা তীরের জনপদটি ক্রমশই বিবর্ণ হয়ে পড়ছে, হারাচ্ছে জৌলুশ। বিশেষ করে নদী-খাল দখলের মচ্ছপে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে কবি জীবনানন্দের প্রাণের বরিশালের পরিবেশ-প্রকৃতি। এমন বাস্তবতায় অন্তর্বর্তীকালীন ইউনূস সরকার বউক গঠনে উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসার দাবি রাখে।
‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ অধ্যাদেশ অনুমোদনে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির বর্ষীয়ান নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারও। তিনি শনিবার অপরাহ্নে জানান, বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে সরকার। এমন খুশির সংবাদ এই অঞ্চলের মানুষকে অভিভুত করেছে, মন্তব্য করেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক এই সাংসদ।
বউক গঠনের প্রক্রিয়া শিগগিরই শেষ কার্যক্রম শুরু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বরিশালের সুশীলসমাজ। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়কারী রফিকুল আলম বলেন, ‘একটি নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে এখন পরিবেশ, প্রতিবেশ, পানি ব্যবস্থাপনাসহ প্রাকৃতিক বিষয়গুলো যুক্ত থাকতে হবে। এর বাইরে কিছু হলে সেই উন্নয়ন নগরবাসীর জন্য অপউন্নয়নে পর্যবসিত হবে। এর জন্য জনপ্রতিনিধি, পানি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বরিশাল নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে থাকা আবশ্যক। সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, নাগরিক সমাজের সমন্বয় করে কমিটি করা গেলে এর সুফল মিলবে।
‘উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের উদ্যোগকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন বরিশাল নগর-পরিকল্পনাবিদ মিলন মন্ডল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নগর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। তার ভাষায়, বরিশাল নগরকে এখনো পরিকল্পিত আদর্শ নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পনামাফিক এগোনো ও সদিচ্ছা। মূল শহরের বিশেষ করে বাণিজ্যিক এলাকার রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার এখন আর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নগরকে যানজটমুক্ত করতে সিটি সার্কুলার রোড করা যেতে পারে। একই সঙ্গে খালগুলো খনন করে হাঁটার পথ ও পাড়ে গাছ লাগানো গেলে নগরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ সুরক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি এসব খাল যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।
বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত হওয়া গেছে, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠনের পর বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ স্থানীয় প্রশাসন থেকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে চলে যাবে। যেমন ঢাকার দুই সিটি এলাকায় ভবনের নকশা, জমির শ্রেণি পরিবর্তনসহ বেশ কিছু কাজের ক্ষমতা রাজউকের (রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) হাতে।
বউক গঠন করে বরিশাল শহরকে মানুষের নিরাপদ আবাসস্থল করার সরকারের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিকদের পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজও ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছে। এনিয়ে প্রতিক্রিয়ায় বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক আনিসুর রহমান স্বপন বলেন, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃক্ষ’ বরিশাল শহরকে কাঠামোগত উন্নয়নের দিকে ধাবিত করবে। এবং বরিশাল হবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন নিরাপদ নগরী।’