
০২ মার্চ, ২০২৬ ১০:০১
বরগুনায় এক হাজার ৬৫০ বস্তা সিমেন্টবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার তিনদিন পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ডুবে থাকা জাহাজটি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধের জেরে উদ্ধার কার্যক্রমে গড়িমসি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নৌযানটি ডুবে থাকায় খাকদন নদীতে চলাচলরত ছোট-বড় নৌযানের ক্ষেত্রে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে নৌবন্দরের ৩০০ মিটারের মধ্যে পণ্যবাহী কার্গো ডুবির ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে নীরব নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১ মার্চ) কার্গো জাহাজটির মালিক ও মাঝি মো. শমসের ঘরামী অভিযোগ করেন, সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. ইউনুস খান ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তিনি কার্গোটি উদ্ধারে বাধা দিচ্ছেন। এছাড়াও ওই ব্যবসায়ী বরগুনা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের নদীবন্দর এলাকার কাঁচাবাজার সংলগ্ন খাকদন নদীতে নোঙর করা অবস্থায় ‘এমভি মা-বাবার দোয়া’ নামের কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় তাৎক্ষণিক বিষয়টি তেমন জানাজানি হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার ‘অগ্রণী ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ইউনুস খান এক হাজার ৯০০ বস্তা বসুন্ধরা সিমেন্ট পরিবহনের জন্য ‘এমভি মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ছোট কার্গো জাহাজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। পরে বাগেরহাটের মোংলা থেকে সিমেন্টবোঝাই করে জাহাজ চালিয়ে বৃহস্পতিবার বরগুনার পণ্য পরিবহন ঘাটে আসেন জাহাজ মালিক শমসের ঘরামী।
এরপর জাহাজ থেকে সিমেন্ট মালিকের ঘাট শ্রমিকরা ২৫০ বস্তা সিমেন্ট উত্তোলনের পর কাজ বন্ধ রাখেন। পরে ওইদিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাকি এক হাজার ৬৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ঘাটে নোঙর করা জাহাজটি ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক ও মাঝি শমসের ঘরামী বলেন, জাহাজ নিয়ে ঘাটে এসে সিমেন্ট মালিককে জানালে শ্রমিকরা সিমেন্ট উত্তোলন শুরু করেন। অন্য সকল জায়গায় একদিনের মধ্যে জাহাজ খালি করা হলেও এখানে প্রথমদিন জাহাজের সামনে থেকে ২৫০ বস্তা সিমেন্ট উত্তোলন করায় পেছনের দিকে বেশি ওজন থেকে যায়। পরে তাদের বিষয়টি জানালে পেছন থেকে বস্তা সরিয়ে সামনের দিকে সমান করার কথা বললেও তারা তা করেনি। পরে আমি জাহাজে থাকাকালীন রাত তিনটার দিকে জাহাজটি ডুবে যায়।
তিনি আরও বলেন, অন্য আরেকজনের সঙ্গে আমি টাকা ঋণ নিয়ে জাহাজটি নির্মাণ করেছি। এখন একদিকে জাহাজটি উদ্ধার করার সামর্থ্যও আমার নেই, অপরদিকে সিমেন্ট মালিক মো. ইউনুস খান থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও ক্ষতির বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ উদ্ধার করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন সিমেন্ট মালিক।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটি উদ্ধারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. ইউনুস খান বলেন, সম্পূর্ণ মাঝির গাফিলতির কারণে জাহাজটি ডুবে গেছে। বিষয়টি থানায় অবহিত করেছি। থানা থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধারের আগে আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। জাহাজের ভেতরে যে বস্তাগুলো আছে তা কী করবেন, কোথায় ফেলবেন সে সিদ্ধান্ত নেন। আমি এ আলোচনার জন্য তাদের ডেকেছি, কিন্তু তারা আসেনি। তবে ডুবে যাওয়া জাহাজটি উঠাতে আমরা কখনো কাউকে নিষেধ করিনি। আমি চাই জাহাজ ওঠানোর পর প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান করা হোক। জাহাজে থাকা সিমেন্ট ডুবে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডুবে থাকা জাহাজটির কারণে ঘাট ও চলাচলরত নৌযান ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে বরগুনা বাজার শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. জালাল মোল্লা বলেন, সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. ইউনুস খান থানায় অভিযোগ করলেও ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি জাহাজটি উদ্ধার করতে দিচ্ছেন না। তিনদিন ধরে জাহাজটি ঘাট এলাকায় ডুবে আছে। প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ছোট-বড় নৌযান এ ঘাটে আসে। জাহাজটি ঘাট ও নদীর মাঝখানে ডুবে থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বরগুনা নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কার্গো জাহাজ ডুবির বিষয়টি আজ আমাকে অবহিত করা হয়েছে। এর আগে জানানো হয়নি। এছাড়াও তারা নিজেরা জাহাজটি উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জেনেছি। তবে অন্য সব নৌযান চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ডেকে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পণ্য মালিকের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জাহাজ মালিকের সঙ্গেও কথা বলে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল টাইমস
ডুবে যাওয়া সিমেন্টবোঝাই কার্গো জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
বরগুনায় এক হাজার ৬৫০ বস্তা সিমেন্টবোঝাই কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার তিনদিন পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি ডুবে থাকা জাহাজটি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধের জেরে উদ্ধার কার্যক্রমে গড়িমসি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নৌযানটি ডুবে থাকায় খাকদন নদীতে চলাচলরত ছোট-বড় নৌযানের ক্ষেত্রে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এদিকে নৌবন্দরের ৩০০ মিটারের মধ্যে পণ্যবাহী কার্গো ডুবির ঘটনা ঘটলেও এ বিষয়ে নীরব নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১ মার্চ) কার্গো জাহাজটির মালিক ও মাঝি মো. শমসের ঘরামী অভিযোগ করেন, সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. ইউনুস খান ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় তিনি কার্গোটি উদ্ধারে বাধা দিচ্ছেন। এছাড়াও ওই ব্যবসায়ী বরগুনা সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের নদীবন্দর এলাকার কাঁচাবাজার সংলগ্ন খাকদন নদীতে নোঙর করা অবস্থায় ‘এমভি মা-বাবার দোয়া’ নামের কার্গো জাহাজটি ডুবে যায়। গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটায় তাৎক্ষণিক বিষয়টি তেমন জানাজানি হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরগুনার ‘অগ্রণী ট্রেডার্স’ নামের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মো. ইউনুস খান এক হাজার ৯০০ বস্তা বসুন্ধরা সিমেন্ট পরিবহনের জন্য ‘এমভি মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি ছোট কার্গো জাহাজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। পরে বাগেরহাটের মোংলা থেকে সিমেন্টবোঝাই করে জাহাজ চালিয়ে বৃহস্পতিবার বরগুনার পণ্য পরিবহন ঘাটে আসেন জাহাজ মালিক শমসের ঘরামী।
এরপর জাহাজ থেকে সিমেন্ট মালিকের ঘাট শ্রমিকরা ২৫০ বস্তা সিমেন্ট উত্তোলনের পর কাজ বন্ধ রাখেন। পরে ওইদিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে বাকি এক হাজার ৬৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ঘাটে নোঙর করা জাহাজটি ডুবে যায়।
ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিক ও মাঝি শমসের ঘরামী বলেন, জাহাজ নিয়ে ঘাটে এসে সিমেন্ট মালিককে জানালে শ্রমিকরা সিমেন্ট উত্তোলন শুরু করেন। অন্য সকল জায়গায় একদিনের মধ্যে জাহাজ খালি করা হলেও এখানে প্রথমদিন জাহাজের সামনে থেকে ২৫০ বস্তা সিমেন্ট উত্তোলন করায় পেছনের দিকে বেশি ওজন থেকে যায়। পরে তাদের বিষয়টি জানালে পেছন থেকে বস্তা সরিয়ে সামনের দিকে সমান করার কথা বললেও তারা তা করেনি। পরে আমি জাহাজে থাকাকালীন রাত তিনটার দিকে জাহাজটি ডুবে যায়।
তিনি আরও বলেন, অন্য আরেকজনের সঙ্গে আমি টাকা ঋণ নিয়ে জাহাজটি নির্মাণ করেছি। এখন একদিকে জাহাজটি উদ্ধার করার সামর্থ্যও আমার নেই, অপরদিকে সিমেন্ট মালিক মো. ইউনুস খান থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। এছাড়াও ক্ষতির বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ উদ্ধার করা যাবে না বলেও জানিয়েছেন সিমেন্ট মালিক।
ডুবে যাওয়া কার্গো জাহাজটি উদ্ধারে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. ইউনুস খান বলেন, সম্পূর্ণ মাঝির গাফিলতির কারণে জাহাজটি ডুবে গেছে। বিষয়টি থানায় অবহিত করেছি। থানা থেকে বলা হয়েছে, উদ্ধারের আগে আপনারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। জাহাজের ভেতরে যে বস্তাগুলো আছে তা কী করবেন, কোথায় ফেলবেন সে সিদ্ধান্ত নেন। আমি এ আলোচনার জন্য তাদের ডেকেছি, কিন্তু তারা আসেনি। তবে ডুবে যাওয়া জাহাজটি উঠাতে আমরা কখনো কাউকে নিষেধ করিনি। আমি চাই জাহাজ ওঠানোর পর প্রয়োজনে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে, কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে সে বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান করা হোক। জাহাজে থাকা সিমেন্ট ডুবে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডুবে থাকা জাহাজটির কারণে ঘাট ও চলাচলরত নৌযান ঝুঁকিতে রয়েছে জানিয়ে বরগুনা বাজার শ্রমিক সমিতির সভাপতি মো. জালাল মোল্লা বলেন, সিমেন্ট ব্যবসায়ী মো. ইউনুস খান থানায় অভিযোগ করলেও ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি জাহাজটি উদ্ধার করতে দিচ্ছেন না। তিনদিন ধরে জাহাজটি ঘাট এলাকায় ডুবে আছে। প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে ছোট-বড় নৌযান এ ঘাটে আসে। জাহাজটি ঘাট ও নদীর মাঝখানে ডুবে থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বরগুনা নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কার্গো জাহাজ ডুবির বিষয়টি আজ আমাকে অবহিত করা হয়েছে। এর আগে জানানো হয়নি। এছাড়াও তারা নিজেরা জাহাজটি উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জেনেছি। তবে অন্য সব নৌযান চলাচলে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছি।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জাগো নিউজকে বলেন, থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে ডেকে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। পণ্য মালিকের প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। জাহাজ মালিকের সঙ্গেও কথা বলে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
বরিশাল টাইমস
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:৩৭
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:২৬
২৪ মে, ২০২৬ ১৫:০৪
২৪ মে, ২০২৬ ১৪:৪০

২২ মে, ২০২৬ ১৪:২৮
বরগুনায় অবৈধভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের সময় দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়। এ সময় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় একটি নদীতে উদ্ধারকৃত ওই পোনা অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলার পৌর বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে রেণু পোনার ওই ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বরগুনার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহন করছিলেন কিছু অসাধু চক্র। ওই চক্রগুলোকে ধরতে গোপনে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় দুটি ট্রাকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের খবর জানতে পায় তারা।
বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত রেণু পোনা বরগুনার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকার বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। তবে এ সময় জড়িত কাউকে আটক করতে না পারলেও ট্রাকের দুই চালককে আটক করা হয়।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদে মৎস্য অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে এসব অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, নদী থেকে প্রাকৃতিকভাবে চিংড়ির পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি চিংড়ি পোনা ধরার সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা নষ্ট হয়, যা পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকার অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত রেণু পোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারির তথ্য বা লাইসেন্স আমরা পাইনি। অভিযানে আটক দুই ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বরগুনায় অবৈধভাবে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের সময় দুটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়। এ সময় প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয় একটি নদীতে উদ্ধারকৃত ওই পোনা অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের খেজুরতলার পৌর বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকা থেকে রেণু পোনার ওই ট্রাক দুটি জব্দ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই বরগুনার বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহন করছিলেন কিছু অসাধু চক্র। ওই চক্রগুলোকে ধরতে গোপনে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি শুরু করেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) সদস্যরা।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরগুনার পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় দুটি ট্রাকে অবৈধভাবে চিংড়ির রেণু পোনা পরিবহনের খবর জানতে পায় তারা।
বিষয়টি জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২২৭ ড্রাম রেণু পোনা উদ্ধার করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত রেণু পোনা বরগুনার বড়ইতলা ফেরিঘাট এলাকার বিষখালী নদীতে অবমুক্ত করা হয়। তবে এ সময় জড়িত কাউকে আটক করতে না পারলেও ট্রাকের দুই চালককে আটক করা হয়।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়ত আমাদে মৎস্য অভিযান চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে এসব অভিযান চলছে।
এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, নদী থেকে প্রাকৃতিকভাবে চিংড়ির পোনা আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একটি চিংড়ি পোনা ধরার সময় প্রায় ৪৯৮টি অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা নষ্ট হয়, যা পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকায় সরকার অনুমোদিত দুটি চিংড়ি হ্যাচারি রয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত রেণু পোনার ক্ষেত্রে কোনো বৈধ হ্যাচারির তথ্য বা লাইসেন্স আমরা পাইনি। অভিযানে আটক দুই ট্রাক চালকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

২০ মে, ২০২৬ ২০:৪০
বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকা থেকে মাছ ধরার সময় ১৭ জেলেসহ একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের ট্রলার অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। ১২ জেলের নাম পাওয়া গেলেও ৫ জনের নাম জানা যায়নি।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বিয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টা থেকে ১১ টার মধ্যের কোন এক সময় এ অপহরনের ঘটনা ঘটে। তবে কোন বাহিনী অপহরণ করেছে তা জানা যায়নি।
অপহনকৃত জেলেরা হলো, ট্রলার মালিক মো. মাসুম, মো. ইব্রাহিম (৩৮). ইয়াসিন (২৪), মো. হোসেন, তাওহীদ (২২), মো. সেলিম, মো. ইয়াসিন (১৮), মো. জাকির মুন্সি (৫৫), মো. হানিফা (৩৫), হৃদয় (২৪), সুমন (৩০)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপর এক জেলের নাম জানা যায়নি। তবে সকল জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অপহৃত জেলেদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবারে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ থেকে ৩ দিন আগে নামবিহীন কাঠের তৈরি ৩টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার রুহিতা এলাকা থেকে জেলেরা গভীর সাগরে মাছ শিকার করতে যান। গতকাল মঙ্গলবার রাতে (আনুমানিক রাত ৯টা থেকে ১২টার মধ্যবর্তী সময়ে) সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় একদল সশস্ত্র জলদস্যু ওই ট্রলারগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে থাকা জেলেদের জিম্মি করে ১২ জন জেলেসহ একটি ট্রলার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গভীর বনের দিকে চলে যায়। তবে জলদস্যুরা জেলে ও ট্রলারটিকে কোথায় নিয়ে গেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলোতে কান্নার রোল পড়েছে। স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা ভেবে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে ১৭ জেলেসহ একটি ট্রলার জলদস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। জেলেদের উদ্ধারে মৎস্যজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জিম্মি জেলেদের উদ্ধার এবং দস্যুদের দমনে দ্রুত অভিযান শুরু হবে বলে আশা করছেন তারা।
কোস্টগার্ডের মুঠোফোন থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। জেলেদের উদ্ধারে মংলা এবং পাথরঘাটা কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, অপহরণের খবর আমরা জানতে পেরেছি আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।
বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকা থেকে মাছ ধরার সময় ১৭ জেলেসহ একটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের ট্রলার অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। ১২ জেলের নাম পাওয়া গেলেও ৫ জনের নাম জানা যায়নি।
বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বিয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টা থেকে ১১ টার মধ্যের কোন এক সময় এ অপহরনের ঘটনা ঘটে। তবে কোন বাহিনী অপহরণ করেছে তা জানা যায়নি।
অপহনকৃত জেলেরা হলো, ট্রলার মালিক মো. মাসুম, মো. ইব্রাহিম (৩৮). ইয়াসিন (২৪), মো. হোসেন, তাওহীদ (২২), মো. সেলিম, মো. ইয়াসিন (১৮), মো. জাকির মুন্সি (৫৫), মো. হানিফা (৩৫), হৃদয় (২৪), সুমন (৩০)। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অপর এক জেলের নাম জানা যায়নি। তবে সকল জেলের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা গ্রামে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অপহৃত জেলেদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাদের পরিবারে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও ট্রলার মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ থেকে ৩ দিন আগে নামবিহীন কাঠের তৈরি ৩টি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার রুহিতা এলাকা থেকে জেলেরা গভীর সাগরে মাছ শিকার করতে যান। গতকাল মঙ্গলবার রাতে (আনুমানিক রাত ৯টা থেকে ১২টার মধ্যবর্তী সময়ে) সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় একদল সশস্ত্র জলদস্যু ওই ট্রলারগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়। দস্যুরা ট্রলারে থাকা জেলেদের জিম্মি করে ১২ জন জেলেসহ একটি ট্রলার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গভীর বনের দিকে চলে যায়। তবে জলদস্যুরা জেলে ও ট্রলারটিকে কোথায় নিয়ে গেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ জেলে পরিবারগুলোতে কান্নার রোল পড়েছে। স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা ভেবে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের কটকা এলাকা থেকে ১৭ জেলেসহ একটি ট্রলার জলদস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। জেলেদের উদ্ধারে মৎস্যজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জিম্মি জেলেদের উদ্ধার এবং দস্যুদের দমনে দ্রুত অভিযান শুরু হবে বলে আশা করছেন তারা।
কোস্টগার্ডের মুঠোফোন থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। জেলেদের উদ্ধারে মংলা এবং পাথরঘাটা কোস্টগার্ড যৌথভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপস পাল বলেন, অপহরণের খবর আমরা জানতে পেরেছি আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি।

২০ মে, ২০২৬ ২০:৩০
বরগুনার সদর উপজেলায় হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ছয় সদস্য। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর উপজেলার জাকিরতবক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্র জানায়, একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জহিরুলকে ধরতে ডিবির একটি দল অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় আসামির স্বজন ও সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ডিবির এক এএসআই ও পাঁচ কনস্টেবল আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এএসআই অনিক এবং কনস্টেবল প্রিন্স, মাহমুদ, অমিত, আব্দুল্লাহ ও সবুজ। পরে তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং গুলিবিদ্ধ হন পুলিশ সদস্য লিটন ফরাজী, তার বাবা আব্দুর রশিদ ফরাজী ও ভাই রাব্বি ফরাজী। গুরুতর আহত আব্দুর রশিদ ফরাজী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর মারা যান। পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
সেই মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদে মঙ্গলবার রাতে তাকে ধরতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। হামলার ঘটনার পর সদর থানা ও পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল আসামিসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।”
বরগুনা ডিবির ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া জহিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বরগুনার সদর উপজেলায় হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ছয় সদস্য। এ ঘটনায় মূল আসামিসহ মোট পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার গভীর রাতে সদর উপজেলার জাকিরতবক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্র জানায়, একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জহিরুলকে ধরতে ডিবির একটি দল অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় আসামির স্বজন ও সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ডিবির এক এএসআই ও পাঁচ কনস্টেবল আহত হন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এএসআই অনিক এবং কনস্টেবল প্রিন্স, মাহমুদ, অমিত, আব্দুল্লাহ ও সবুজ। পরে তাদের বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশ জানায়, গত বছরের ১৭ অক্টোবর জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যের বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং গুলিবিদ্ধ হন পুলিশ সদস্য লিটন ফরাজী, তার বাবা আব্দুর রশিদ ফরাজী ও ভাই রাব্বি ফরাজী। গুরুতর আহত আব্দুর রশিদ ফরাজী ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর মারা যান। পরে এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়।
সেই মামলার অন্যতম আসামি জহিরুল দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদে মঙ্গলবার রাতে তাকে ধরতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। হামলার ঘটনার পর সদর থানা ও পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূল আসামিসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।”
বরগুনা ডিবির ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া জহিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গেও জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পৃথক একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.