পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের শুঁটকি পল্লী, নদী ও সাগরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এক ব্যস্ত কর্মচাঞ্চল্যের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কচা নদীর তীর ঘেঁষে সারি সারি বাঁশের মাচা, বাতাসে ভেসে আসা শুকনো মাছের গন্ধ আর শ্রমিকদের কর্মব্যস্ত হাতের শব্দে দিনভর মুখর থাকে এই এলাকা। শীত এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় শুঁটকি পল্লীটি।
নদী ও বঙ্গোপসাগর কাছাকাছি হওয়ায় সদর উপজেলার পাড়েরহাটে একটি মৎস্য বন্দর গড়ে ওঠে।
এই বন্দরের পাশেই চিথলিয়া গ্রামে শুঁটকি পল্লীর সূচনা। বন্দরে আসা সামুদ্রিক মাছ থেকেই তৈরি হয় শুঁটকি। সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দক্ষিণে কচা নদীর তীরে পাঁচটি বাসা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই শুঁটকি পল্লী। এখানে ৫ থেকে ৭ জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। মৌসুমভেদে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেন। কেউ বন্দর থেকে মাছ এনে পরিষ্কার করছেন, কেউ বড় মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানি মিশিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত। শুকিয়ে যাওয়া শুঁটকি বস্তায় ভরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বাজারজাত করার জন্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে পাড়েরহাটে একটি বাসা দিয়ে শুঁটকির ব্যবসা শুরু হয়। পরে তা বাড়তে বাড়তে ৮ থেকে ১০টি বাসায় পৌঁছালেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে পাঁচটি বাসা রয়েছে। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, মধু ফ্যাপসা, চাপিলাসহ ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। শীতকালে এসব মাছ বেশি ধরা পড়ে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুঁটকির মানও ভালো থাকে। গরমে শুঁটকির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় শীত মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে পল্লীটি। মাছের মান অনুযায়ী প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, তারা কোনো ধরনের ওষুধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করেই শুঁটকি তৈরি করেন। নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি হওয়ায় বাজারে তাদের শুঁটকির চাহিদা বেশি।
চিথলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, মৌসুমের শুরুতে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। জেলেরা সরাসরি মাছ এনে বিক্রি করেন, সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। ইলিশ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়, যা ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়।
চার বছর ধরে এখানে কাজ করা শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, এখানে কোনো কীটনাশক বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয় না। রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা বেশি।
আরেক ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, বর্তমানে এখানে পাঁচটি বাসায় প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তবে টিউবওয়েল, একটি সেতু ও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসা আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত।
প্রতি বছর এই শুঁটকি পল্লী থেকে ১০০ টনের বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্টরা সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস এখানে শুঁটকি কার্যক্রম চলে এবং উৎপাদন পদ্ধতি নিরাপদ। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে তদারকি বাড়বে এবং এখানকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।

২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:৩৯
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতির কারণে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা সম্ভব না হওয়ায় জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মানিক পশারী মারা যান। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর জামাতা ফারুক হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক আত্মগোপনে ছিলেন। এতদিন তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার সকাল ১১টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর শহর অতিক্রমের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। তাঁরা মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মরদেহটি জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে নিয়ে যায়।
এদিকে গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য খোঁড়া কবর ভরাট করে দেওয়া এবং এলাকা ঘিরে রাখার অভিযোগও উঠেছে। বাইরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পাড়েরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জালাল হোসেন বলেন, “মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মানিক পশারী। তাই স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে দিতে চান না। কবর ঘিরে রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বলেন, তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।
তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে জামায়াত নেতার এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ লাইন্সের ভেতরে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মরদেহ দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, তাঁরা মানিক পশারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পারিবারিক ও মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত কোথায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার।
পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতির কারণে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা সম্ভব না হওয়ায় জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে গার্ড অব অনার দিয়ে মরদেহ রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে মানিক পশারী মারা যান। তিনি প্রায় দুই মাস ধরে অসুস্থ ছিলেন। তাঁর জামাতা ফারুক হোসেন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক আত্মগোপনে ছিলেন। এতদিন তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, শনিবার সকাল ১১টার দিকে মানিক পশারীর মরদেহ নিয়ে পিরোজপুর শহর অতিক্রমের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। তাঁরা মরদেহ ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মরদেহটি জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে নিয়ে যায়।
এদিকে গ্রামের বাড়িতে দাফনের জন্য খোঁড়া কবর ভরাট করে দেওয়া এবং এলাকা ঘিরে রাখার অভিযোগও উঠেছে। বাইরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
পাড়েরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি জালাল হোসেন বলেন, “মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মানিক পশারী। তাই স্থানীয়রা তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে দিতে চান না। কবর ঘিরে রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।”
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে বলেন, তাঁকে কোনোভাবেই গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না এবং পিরোজপুরের মাটিতে তাঁর মরদেহ দাফন করতে দেওয়া হবে না।
তবে মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় নিয়ে জামায়াত নেতার এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ লাইন্সের ভেতরে মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
মরদেহ দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, তাঁরা মানিক পশারীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পারিবারিক ও মামলাসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে হত্যা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেন মানিক পশারী। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলায় তিনি ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ দাফনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত কোথায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার।

২০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১৬
পূজার আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নেমে এলো বিষাদ। পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। নদীতে স্বজনকে হারিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারী। পূজা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ট্রলারে ওঠেন। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশাপাশি ৬টি মোটরসাইকেল ছিল বলে জানা গেছে।
ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী এবং তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।
পূজার আনন্দ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই নেমে এলো বিষাদ। পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালিগঙ্গা নদীতে যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন শিশুটির মা। নদীতে স্বজনকে হারিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠী ও নেছারাবাদের ভরতকাঠী ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবার নিয়ে এলাকায় বেড়াতে এসেছিলেন নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর বেপারী। পূজা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য তাঁরা ট্রলারে ওঠেন। ট্রলারটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রীর পাশাপাশি ৬টি মোটরসাইকেল ছিল বলে জানা গেছে।
ঘাট ছাড়ার পরপরই ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী সাঁতরে ও স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হন। তবে শংকর বেপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী এবং তাঁদের মেয়ে নিখোঁজ হন। পরে উদ্ধার অভিযানে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা। নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। রাতের পরিস্থিতি বিবেচনায় উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে মঙ্গলবার সকালে পুনরায় অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৩৪
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
পিরোজপুরের নাজিরপুরে অবৈধভাবে সার বিক্রির অপরাধে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করার পর এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে সার ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দীঘিরজান বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা।
আহত কর্মকর্তার নাম বিপুল কুমার মল্লিক (৪৬)। তিনি নাজিরপুরে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। অভিযুক্ত বাবুল মোল্লার (৫৫) বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে দীঘিরজান বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে ওই বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন বিপুল কুমার মল্লিক।
এ সময় বাবুল মোল্লার দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে দুই বস্তা ইউরিয়া, সাড়ে তিন বস্তা ডিএপি, এক বস্তা এমওপি ও পাঁচ বস্তা টিএসপি সার পাওয়া যায়। লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযোগে বলা হয়, অভিযান শেষে কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর বিপুল কুমার মল্লিক বাজারে কেনাকাটা করতে যান। এ সময় বাবুল মোল্লা তাঁর পথরোধ করেন। মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করার জেরে তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।
নাজিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা এশা বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়া সার বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা ও সার জব্দ করা হয়। আমরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বাবুল মোল্লা আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবিব বলেন, দীঘিরজান বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মোল্লার দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, অভিযান শেষে চলে আসার পর কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তাকে ওই ব্যবসায়ী মারধর করেছেন বলে তিনি শুনেছেন। অফিস খোলার পর বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’

১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১৬:১২
পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের শুঁটকি পল্লী, নদী ও সাগরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এক ব্যস্ত কর্মচাঞ্চল্যের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। কচা নদীর তীর ঘেঁষে সারি সারি বাঁশের মাচা, বাতাসে ভেসে আসা শুকনো মাছের গন্ধ আর শ্রমিকদের কর্মব্যস্ত হাতের শব্দে দিনভর মুখর থাকে এই এলাকা। শীত এলেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় শুঁটকি পল্লীটি।
নদী ও বঙ্গোপসাগর কাছাকাছি হওয়ায় সদর উপজেলার পাড়েরহাটে একটি মৎস্য বন্দর গড়ে ওঠে।
এই বন্দরের পাশেই চিথলিয়া গ্রামে শুঁটকি পল্লীর সূচনা। বন্দরে আসা সামুদ্রিক মাছ থেকেই তৈরি হয় শুঁটকি। সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দক্ষিণে কচা নদীর তীরে পাঁচটি বাসা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই শুঁটকি পল্লী। এখানে ৫ থেকে ৭ জন ব্যবসায়ী শুঁটকি উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। মৌসুমভেদে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন শ্রমিক এখানে কাজ করেন। কেউ বন্দর থেকে মাছ এনে পরিষ্কার করছেন, কেউ বড় মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানি মিশিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত। শুকিয়ে যাওয়া শুঁটকি বস্তায় ভরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বাজারজাত করার জন্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে পাড়েরহাটে একটি বাসা দিয়ে শুঁটকির ব্যবসা শুরু হয়। পরে তা বাড়তে বাড়তে ৮ থেকে ১০টি বাসায় পৌঁছালেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে পাঁচটি বাসা রয়েছে। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, মধু ফ্যাপসা, চাপিলাসহ ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। শীতকালে এসব মাছ বেশি ধরা পড়ে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুঁটকির মানও ভালো থাকে। গরমে শুঁটকির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় শীত মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে পল্লীটি। মাছের মান অনুযায়ী প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার জানান, তারা কোনো ধরনের ওষুধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার না করেই শুঁটকি তৈরি করেন। নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি হওয়ায় বাজারে তাদের শুঁটকির চাহিদা বেশি।
চিথলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, মৌসুমের শুরুতে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। জেলেরা সরাসরি মাছ এনে বিক্রি করেন, সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। ইলিশ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়, যা ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয়।
চার বছর ধরে এখানে কাজ করা শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, এখানে কোনো কীটনাশক বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয় না। রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা বেশি।
আরেক ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, বর্তমানে এখানে পাঁচটি বাসায় প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তবে টিউবওয়েল, একটি সেতু ও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসা আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত।
প্রতি বছর এই শুঁটকি পল্লী থেকে ১০০ টনের বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্টরা সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত বলেন, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস এখানে শুঁটকি কার্যক্রম চলে এবং উৎপাদন পদ্ধতি নিরাপদ। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে তদারকি বাড়বে এবং এখানকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৩৯
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৬
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৩১
২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭