
১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ১৪:৩৯
'নদী টিকলে টিকবে দেশ,নদী দখল ও দূষণকারীদের চিহ্নিত করুন, মৎস্য সম্পদ ও প্রকৃতি বাঁচাতে নদী দুষন ও দখলমুক্ত চাই, উপকূল বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ চাই' নানা শ্লোগান নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস'র বাস্তবায়নে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইজ বাজারে কয়েক শতাধিক মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগির আলম, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, পদ্মা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জয়নাল সরকার প্রমুখ।
এ সময় শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, উপকূলের রক্ষাকবচ বেড়িবাঁধ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে নদী দুষন, দখল ও নদীর তলদেশ উচ্চতা হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি লবনাক্ত পানির কারনে উপকূলের কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবছর জলোচ্ছ্বাসে কম-বেশি প্রাণহানিও হচ্ছে। পরিকল্পিত এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে এসব ক্ষতি থেকে মুক্তি মিলবে উপকূলবাসীর। টেকসই বেড়িবাঁধ এখন সময়ের দাবি।
'নদী টিকলে টিকবে দেশ,নদী দখল ও দূষণকারীদের চিহ্নিত করুন, মৎস্য সম্পদ ও প্রকৃতি বাঁচাতে নদী দুষন ও দখলমুক্ত চাই, উপকূল বাঁচাতে টেকসই বেড়িবাঁধ চাই' নানা শ্লোগান নিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় মানববন্ধন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিএনআরএস'র বাস্তবায়নে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের পদ্মা স্লুইজ বাজারে কয়েক শতাধিক মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছগির আলম, পাথরঘাটা উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন, পদ্মা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জয়নাল সরকার প্রমুখ।
এ সময় শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, উপকূলের রক্ষাকবচ বেড়িবাঁধ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে নদী দুষন, দখল ও নদীর তলদেশ উচ্চতা হওয়ায় জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পাশাপাশি লবনাক্ত পানির কারনে উপকূলের কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিবছর জলোচ্ছ্বাসে কম-বেশি প্রাণহানিও হচ্ছে। পরিকল্পিত এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে এসব ক্ষতি থেকে মুক্তি মিলবে উপকূলবাসীর। টেকসই বেড়িবাঁধ এখন সময়ের দাবি।

১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৫৬
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম পাইকারি ইলিশ বাজার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে চরম ইলিশ সংকট।
জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না অধিকাংশ ফিশিং বোট। ফলে বাজারে সামুদ্রিক ইলিশের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এই সময়টিতে বাজারে ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বৈশাখ উপলক্ষে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে করে নদীর ইলিশই এখন একমাত্র ভরসা, আর সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে।
বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। এমনকি জাটকাও বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ দরে।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার ও ফিশিং মার্চেন্ট মোস্তফা আলম জানান, সকালে সাগর থেকে আসা একটি ট্রলারে কিছু ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া গেলেও সেগুলো কয়েকদিন আগে ধরা হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে, প্রতি মণ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী ইমরান খান বলেন, বৈশাখকে ঘিরে বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় যে অল্প মাছ আসছে, তা পাইকাররা খোলা ডাকেই কিনে নিচ্ছেন এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে কার্যত কোনো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিএফডিসি মার্কেটের একাধিক আড়তদার জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবছর এই সময়ে যেখানে জমজমাট ব্যবসা থাকে, সেখানে এবার তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আগামী ইলিশ মৌসুমেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বৈশাখের আমেজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে দেশের বৃহত্তম পাইকারি ইলিশ বাজার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে দেখা দিয়েছে চরম ইলিশ সংকট।
জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না অধিকাংশ ফিশিং বোট। ফলে বাজারে সামুদ্রিক ইলিশের সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর এই সময়টিতে বাজারে ইলিশের ব্যাপক সরবরাহ থাকলেও এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
বৈশাখ উপলক্ষে চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে করে নদীর ইলিশই এখন একমাত্র ভরসা, আর সেই ইলিশ বিক্রি হচ্ছে অস্বাভাবিক উচ্চ দামে।
বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম উঠেছে ১ লাখ ১৫ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকায়। ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায়। এমনকি জাটকাও বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা মণ দরে।
পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার ও ফিশিং মার্চেন্ট মোস্তফা আলম জানান, সকালে সাগর থেকে আসা একটি ট্রলারে কিছু ছোট আকারের ইলিশ পাওয়া গেলেও সেগুলো কয়েকদিন আগে ধরা হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে, প্রতি মণ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ী ইমরান খান বলেন, বৈশাখকে ঘিরে বাজারে প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় যে অল্প মাছ আসছে, তা পাইকাররা খোলা ডাকেই কিনে নিচ্ছেন এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন বড় শহরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। স্থানীয় বাজারে কার্যত কোনো ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিএফডিসি মার্কেটের একাধিক আড়তদার জানান, সরবরাহ সংকটের কারণে তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবছর এই সময়ে যেখানে জমজমাট ব্যবসা থাকে, সেখানে এবার তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব আগামী ইলিশ মৌসুমেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই মাছের বাজারে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। বৈশাখের আমেজেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

০৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৫
বরগুনার মাঠজুড়ে এখন তরমুজের সমারোহ। পরিপুষ্ট তরমুজ যেন হাসিমুখে উঁকি দিচ্ছে মাঠের চারদিকে। আবহাওয়ায় অনুকূল হওয়ায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই ভালো দামের আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নে নেমেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। উদ্বেগ আর হতাশা ঘিরে ধরছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার হাজারো তরমুজ চাষিদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনও হয়েছে ব্যাপক। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারজাতকরণে সংকট তৈরি হওয়ায় লাভের মুখ দেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, রমজান মাসে আগাম তরমুজ বিক্রি করতে পারা কিছু কৃষক লাভবান হলেও বর্তমানে অধিকাংশ কৃষক পড়েছেন বিপাকে। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় ক্ষেতের তরমুজ সময়মতো বাজারজাত করতে পারছেন না তারা। এতে একদিকে যেমন ফসল নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দামও কমে গেছে।
তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের কৃষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি বছরে প্রায় আট একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রতি একরে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পরিবহন সংকটে তরমুজ বাজারে নিতে পারছি না। অনেক তরমুজ ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চললে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব।
আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল লতিফ মাতুব্বর বলেন, ধারদেনা করে তরমুজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু পরিবহন সংকটে এখন বিনিয়োগের টাকা ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার তরমুজ চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, আগে সহজেই ট্রাক পাওয়া গেলেও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। যে অল্পসংখ্যক পরিবহন পাওয়া যাচ্ছে, তার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ। আগে ঢাকায় তরমুজ পাঠাতে যেখানে ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগত, এখন সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে তরমুজ ক্রয়ে পাইকাররাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বরগুনা শহরের আড়তদার মো. শাহীন বলেন, পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় বাজারে তরমুজের চাপ বেড়ে গিয়ে দাম কমে গেছে।
আরেক আড়তদার মো. মনিরুল আলম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার আবার চাঙ্গা হতে পারে। কিন্তু এখন চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে।
স্থানীয় সমাজসেবক আবু সালেহ শান্ত বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় পরিবহন সংকট প্রকট। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপুল পরিমাণ তরমুজ ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাবে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, জ্বালানি সংকটের কথা মিছ ইনফরমেশন দেওয়া হয়েছে। চাষিরা স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার অনেক চাষি ও পাইকারকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য প্রত্যায়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বিশেষ করে তরমুজ পরিবহনের জন্য পাম্প ও পয়েন্ট থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রত্যায়ন সংগ্রহ করতে পারবেন।
বরগুনার মাঠজুড়ে এখন তরমুজের সমারোহ। পরিপুষ্ট তরমুজ যেন হাসিমুখে উঁকি দিচ্ছে মাঠের চারদিকে। আবহাওয়ায় অনুকূল হওয়ায় এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই ভালো দামের আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। কিন্তু সেই রঙিন স্বপ্নে নেমেছে অনিশ্চয়তার ছায়া। উদ্বেগ আর হতাশা ঘিরে ধরছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার হাজারো তরমুজ চাষিদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনও হয়েছে ব্যাপক। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারজাতকরণে সংকট তৈরি হওয়ায় লাভের মুখ দেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা জানান, রমজান মাসে আগাম তরমুজ বিক্রি করতে পারা কিছু কৃষক লাভবান হলেও বর্তমানে অধিকাংশ কৃষক পড়েছেন বিপাকে। জ্বালানি সংকটের অজুহাতে পরিবহন সংকট দেখা দেওয়ায় ক্ষেতের তরমুজ সময়মতো বাজারজাত করতে পারছেন না তারা। এতে একদিকে যেমন ফসল নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দামও কমে গেছে।
তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের কৃষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি বছরে প্রায় আট একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রতি একরে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন পরিবহন সংকটে তরমুজ বাজারে নিতে পারছি না। অনেক তরমুজ ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চললে আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব।
আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কৃষক মো. আব্দুল লতিফ মাতুব্বর বলেন, ধারদেনা করে তরমুজ চাষ করেছিলাম। কিন্তু পরিবহন সংকটে এখন বিনিয়োগের টাকা ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার তরমুজ চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, আগে সহজেই ট্রাক পাওয়া গেলেও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। যে অল্পসংখ্যক পরিবহন পাওয়া যাচ্ছে, তার ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ। আগে ঢাকায় তরমুজ পাঠাতে যেখানে ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা লাগত, এখন সেখানে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। এতে তরমুজ ক্রয়ে পাইকাররাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বরগুনা শহরের আড়তদার মো. শাহীন বলেন, পাইকাররা আসতে পারছেন না। ফলে স্থানীয় বাজারে তরমুজের চাপ বেড়ে গিয়ে দাম কমে গেছে।
আরেক আড়তদার মো. মনিরুল আলম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজার আবার চাঙ্গা হতে পারে। কিন্তু এখন চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতির মুখে।
স্থানীয় সমাজসেবক আবু সালেহ শান্ত বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় পরিবহন সংকট প্রকট। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিপুল পরিমাণ তরমুজ ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাবে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) উপপরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, জ্বালানি সংকটের কথা মিছ ইনফরমেশন দেওয়া হয়েছে। চাষিরা স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিয়ে পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার অনেক চাষি ও পাইকারকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য প্রত্যায়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকরা স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে বিশেষ করে তরমুজ পরিবহনের জন্য পাম্প ও পয়েন্ট থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল সংগ্রহের প্রত্যায়ন সংগ্রহ করতে পারবেন।

০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২৭
আমতলীতে বাসচাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের খানকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কসংলগ্ন আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে অবস্থিত খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্স। সড়কে চলাচল করা গাড়ি থেকে চাঁদা/সহায়তা নিয়ে খানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়া চলে। খানকার খাদেমরা ওই সহায়তার টাকা সড়ক থেকে তুলে নেন। আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা সড়কে ফেলে রাখা সহায়তার টাকা তুলছিলেন। এ সময় একটি বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন খাদেম।
খবর পেয়ে আমতলী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন স্বর্ণা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন নুরুল হক মৃধা।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহত নুরুল হক মৃধার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামে। নিহতের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমতলীতে বাসচাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের খানকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কসংলগ্ন আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে অবস্থিত খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্স। সড়কে চলাচল করা গাড়ি থেকে চাঁদা/সহায়তা নিয়ে খানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়া চলে। খানকার খাদেমরা ওই সহায়তার টাকা সড়ক থেকে তুলে নেন। আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা সড়কে ফেলে রাখা সহায়তার টাকা তুলছিলেন। এ সময় একটি বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন খাদেম।
খবর পেয়ে আমতলী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন স্বর্ণা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন নুরুল হক মৃধা।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহত নুরুল হক মৃধার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামে। নিহতের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.