
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:৪৬
বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কদিন আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অনুমোদিত একটি বিলের ভাউচার নিয়ে বরিশাল নগরের সদর রোডের একটি ফুলের দোকানে গিয়ে দেখিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এই বিল তারা করেছেন কিনা। ফুল দোকানের মালিক মো. ইভান সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, ‘না না। আমরা এই বিল করিনি।’
এই বিলের ভাউচারে একটি ফুলের তোড়া বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ইভান বলেন, ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রায়ই আমার দোকান থেকে ফুলের তোড়া নেয়। যার বিল সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। তবে ফুলের তোড়া নেওয়ার সময় শিল্পকলা একাডেমি বিলের খালি পাতা নেয়। আমার ধারণা, খালি পাতায় পাঁচ হাজার টাকা বসিয়ে দিয়েছেন শিল্পকলার কর্মকর্তারা। ফুলের তোড়ার বিল আমরা ৫০০ টাকাই করি।’
তাহলে কেন বিলের খালি পাতা দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইভান বলেন, ‘ক্রেতা ধরে রাখতে এইটুকু সুযোগ দিতে হয়। না হয় পরে তারা আর ফুল কিনতে আসবে না।’
একইভাবে এক হাজার ৮০০ টাকার আরেকটি বিল ভাউচারে ১৮ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। এভাবে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অসিত বরণ দাশগুপ্ত অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে জানা গেছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হিসেবে অসিত বরণ দাশগুপ্ত গত ১২ জানুয়ারি যোগ দেন। এরপর থেকে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সর্বশেষ রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলনে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এক হাজার ৮০০ টাকা করে ২৬টি সংগঠনে ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কালচারাল কর্মকর্তা সেখানে ১৮ হাজার টাকা করে চার লাখ ৬৮ হাজার টাকার বিল করেন বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক সংগঠক জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার বাবদ অতিরিক্ত বিল করে টাকা আত্মসাৎ করছেন অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩০ জুন জেলা কালচারাল কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নোটিশে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয় সাময়িক সময়ের জন্য এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। এতে শিল্পকলা একাডেমিতে দায়িত্বরত প্রশিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কালচারাল কর্মকর্তা হাসানুর রশীদ শিল্পকলায় নিযুক্ত ১২ জন প্রশিক্ষকের ২০২৪-২৫ সালের চুক্তিনামা নবায়ন করে যেতে পারেননি। তবে প্রশিক্ষকরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। নবায়নের জন্য কয়েক দফায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে গেছেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সুরাহা হয়নি। তাদের অভিযোগ, অসিত বরণ দাশগুপ্ত প্রশিক্ষক নিয়োগ নিয়েও দুর্নীতি করছেন।
ইতিমধ্যেই অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে লিখিত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গত ১ জুলাই বরিশালের গণমাধ্যমকর্মী মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় অভিযোগপত্রটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ওয়ারেছ হোসেন, বরিশালের জেলা প্রশাসক ও শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং দুদকের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এইচএম আক্তারুজ্জামানের বরাবর দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে মুহম্মদ ইমন খন্দকার উল্লেখ করেন, অসিত বরণ দাশগুপ্ত ২০১৩ সালে কালচারাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ ও বর্তমানে বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালে সিলেটে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা স্মারকলিপি দেন। ২০২৪ সালে সিলেটে তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়। ২০২৫ সালে তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সরকারি রেস্ট হাউজে পরিবারসহ মাসের পর মাস অবৈধভাবে বসবাস করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে হলরুম ভাড়ার টাকা গোপন রেখে তা ব্যক্তিগতভাবে এবং স্থানীয় ও সাধারণ ফান্ডের ২৯ লাখ টাকার একটি বড় অংশ তুলে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে পুরো প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগকারী মুহম্মদ ইমন খন্দকার বলেন, ‘বরিশাল একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। এখানে কোনও দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হতে পারে না। অসিত বরণ বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে কলুষিত করছেন। তার কর্মকাণ্ড জুলাই-আগস্ট চেতনার পরিপন্থি। এজন্য তার বিরুদ্ধে সব দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার শাস্তি দাবি করছি।’
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাব্বির নেওয়াজ সাগর বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি ফ্যাসিবাদের দোসর ছাড়া সবার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান হবে এটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু আমরা আশাহত হয়েছি। অসিত বরণ সিলেট ও হবিগঞ্জে কালচারাল অফিসার থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড আগের মতো। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে আমরাও তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো।’
লেখক গবেষক সাইফুল আহসান বুলবুল, নাট্যমের সংগঠক বাসুদেব ঘোষ, রিপন গুহ এবং শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের অনিমেষ লিটুসহ একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী জানিয়েছেন, অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের শেষ নেই। তিনি যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসনও জানে। তারা বলছে তদন্ত করছে। তবে কতদূর এগিয়েছে তা জানা নেই। আমাদের পক্ষ থেকে দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে অসিত বরণের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে পরবর্তী কর্মকর্তা এ ধরনের দুর্নীতি করার আগে শতবার চিন্তা করেন।
অভিযুক্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
এক হাজার ৮০০ টাকার বিল ১৮ হাজার টাকা এবং ৫০০ টাকার ফুলের বিল পাঁচ হাজার টাকা কীভাবে দেখানো হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি কারা করেছে, তা আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কালচারাল কর্মকর্তা অসিত বরণের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উপমা ফারিসাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৮ আগস্ট থেকে তারা কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপমা ফারিসা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানি না। নতুন যোগ দিয়েছি। তবে আজ থেকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয় নিয়ে কাজ করবো।’
বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কদিন আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অনুমোদিত একটি বিলের ভাউচার নিয়ে বরিশাল নগরের সদর রোডের একটি ফুলের দোকানে গিয়ে দেখিয়ে জানতে চাওয়া হয়, এই বিল তারা করেছেন কিনা। ফুল দোকানের মালিক মো. ইভান সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেন, ‘না না। আমরা এই বিল করিনি।’
এই বিলের ভাউচারে একটি ফুলের তোড়া বাবদ পাঁচ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ইভান বলেন, ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রায়ই আমার দোকান থেকে ফুলের তোড়া নেয়। যার বিল সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। তবে ফুলের তোড়া নেওয়ার সময় শিল্পকলা একাডেমি বিলের খালি পাতা নেয়। আমার ধারণা, খালি পাতায় পাঁচ হাজার টাকা বসিয়ে দিয়েছেন শিল্পকলার কর্মকর্তারা। ফুলের তোড়ার বিল আমরা ৫০০ টাকাই করি।’
তাহলে কেন বিলের খালি পাতা দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ইভান বলেন, ‘ক্রেতা ধরে রাখতে এইটুকু সুযোগ দিতে হয়। না হয় পরে তারা আর ফুল কিনতে আসবে না।’
একইভাবে এক হাজার ৮০০ টাকার আরেকটি বিল ভাউচারে ১৮ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। এভাবে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অসিত বরণ দাশগুপ্ত অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে জানা গেছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিসার হিসেবে অসিত বরণ দাশগুপ্ত গত ১২ জানুয়ারি যোগ দেন। এরপর থেকে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। যা নিয়ে বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সর্বশেষ রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলনে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এক হাজার ৮০০ টাকা করে ২৬টি সংগঠনে ৪৬ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কালচারাল কর্মকর্তা সেখানে ১৮ হাজার টাকা করে চার লাখ ৬৮ হাজার টাকার বিল করেন বলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক সংগঠক জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খাবার বাবদ অতিরিক্ত বিল করে টাকা আত্মসাৎ করছেন অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩০ জুন জেলা কালচারাল কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত নোটিশে সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয় সাময়িক সময়ের জন্য এ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি। এতে শিল্পকলা একাডেমিতে দায়িত্বরত প্রশিক্ষকরা ক্ষুব্ধ হন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক কালচারাল কর্মকর্তা হাসানুর রশীদ শিল্পকলায় নিযুক্ত ১২ জন প্রশিক্ষকের ২০২৪-২৫ সালের চুক্তিনামা নবায়ন করে যেতে পারেননি। তবে প্রশিক্ষকরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। নবায়নের জন্য কয়েক দফায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে গেছেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা সুরাহা হয়নি। তাদের অভিযোগ, অসিত বরণ দাশগুপ্ত প্রশিক্ষক নিয়োগ নিয়েও দুর্নীতি করছেন।
ইতিমধ্যেই অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে লিখিত অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। গত ১ জুলাই বরিশালের গণমাধ্যমকর্মী মুহম্মদ ইমন খন্দকার হৃদয় অভিযোগপত্রটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ওয়ারেছ হোসেন, বরিশালের জেলা প্রশাসক ও শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং দুদকের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. এইচএম আক্তারুজ্জামানের বরাবর দাখিল করেন।
অভিযোগপত্রে মুহম্মদ ইমন খন্দকার উল্লেখ করেন, অসিত বরণ দাশগুপ্ত ২০১৩ সালে কালচারাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে সিলেট, হবিগঞ্জ ও বর্তমানে বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালে সিলেটে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা স্মারকলিপি দেন। ২০২৪ সালে সিলেটে তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়। ২০২৫ সালে তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। বরিশালে যোগদানের পর থেকেই সরকারি রেস্ট হাউজে পরিবারসহ মাসের পর মাস অবৈধভাবে বসবাস করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে হলরুম ভাড়ার টাকা গোপন রেখে তা ব্যক্তিগতভাবে এবং স্থানীয় ও সাধারণ ফান্ডের ২৯ লাখ টাকার একটি বড় অংশ তুলে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া জনসাধারণের প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে পুরো প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগকারী মুহম্মদ ইমন খন্দকার বলেন, ‘বরিশাল একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। এখানে কোনও দুর্নীতিবাজের ঠাঁই হতে পারে না। অসিত বরণ বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে কলুষিত করছেন। তার কর্মকাণ্ড জুলাই-আগস্ট চেতনার পরিপন্থি। এজন্য তার বিরুদ্ধে সব দুর্নীতির অভিযোগে বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে তার শাস্তি দাবি করছি।’
বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের আহ্বায়ক সাব্বির নেওয়াজ সাগর বলেন, ‘জুলাই পরবর্তী বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি ফ্যাসিবাদের দোসর ছাড়া সবার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান হবে এটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু আমরা আশাহত হয়েছি। অসিত বরণ সিলেট ও হবিগঞ্জে কালচারাল অফিসার থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা সুযোগ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তার কর্মকাণ্ড আগের মতো। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষ থেকে আমরাও তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। এ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো।’
লেখক গবেষক সাইফুল আহসান বুলবুল, নাট্যমের সংগঠক বাসুদেব ঘোষ, রিপন গুহ এবং শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটারের অনিমেষ লিটুসহ একাধিক সাংস্কৃতিক কর্মী জানিয়েছেন, অসিত বরণ দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের শেষ নেই। তিনি যোগদানের পর থেকেই নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসনও জানে। তারা বলছে তদন্ত করছে। তবে কতদূর এগিয়েছে তা জানা নেই। আমাদের পক্ষ থেকে দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে অসিত বরণের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে পরবর্তী কর্মকর্তা এ ধরনের দুর্নীতি করার আগে শতবার চিন্তা করেন।
অভিযুক্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তা অসিত বরণ দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। আমি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
এক হাজার ৮০০ টাকার বিল ১৮ হাজার টাকা এবং ৫০০ টাকার ফুলের বিল পাঁচ হাজার টাকা কীভাবে দেখানো হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি কারা করেছে, তা আমার জানা নেই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক ও শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কালচারাল কর্মকর্তা অসিত বরণের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উপমা ফারিসাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৮ আগস্ট থেকে তারা কাজ শুরু করেছেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক উপমা ফারিসা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানি না। নতুন যোগ দিয়েছি। তবে আজ থেকে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল কর্মকর্তার অভিযোগের বিষয় নিয়ে কাজ করবো।’

১৯ মার্চ, ২০২৬ ২২:৩৬
ইসলাম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী শনিবার (২১ মার্চ)। ঈদের দিন বরিশালসহ দেশের আট বিভাগেই কোনো না কোনো অঞ্চলে বৃষ্টি এবং সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২ ধরে সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কালবৈশাখি ঝড়। এ ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২/১ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়ে সাবাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়েও সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে আরিচায়, ৫৮ মিলিমিটার। ঢাকায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাঙ্গামাটিতে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’
ইসলাম ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে আগামী শনিবার (২১ মার্চ)। ঈদের দিন বরিশালসহ দেশের আট বিভাগেই কোনো না কোনো অঞ্চলে বৃষ্টি এবং সঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত ২ ধরে সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কালবৈশাখি ঝড়। এ ধারা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২/১ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়ে সাবাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়েও সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে আরিচায়, ৫৮ মিলিমিটার। ঢাকায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল রাঙ্গামাটিতে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।’

১৯ মার্চ, ২০২৬ ১৮:৫৯
বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারে মতো এবারে এখানে মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এজন্য কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন প্রধান ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে কাজের অগ্রগতি দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এ সময় সিটি প্রশাসক বলেন, বরিশালের সব থেকে বড় ঈদের জামায়াত হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ৫-৭ হাজার লোকের সমাগম হবে। সরকারি কর্মকর্তাসহ সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নগরীর প্রধান ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। সুষ্ঠুভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে খাবার পানি, টয়লেট ও মেডিক্যাল টিমের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলায় হাজারের বেশি মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ ও উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে হবে সকাল আটটায়।
নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদে প্রথম জামাত সকাল আটটায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ১০টায়, জামে এবায়েদুল্লাহ মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সাড়ে আটটায় ও দ্বিতীয় জামাত ১০টায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম সকাল সাড়ে ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সাড়ে ৯টায়। মডেল মসজিদে সকাল আটটায়।
পোর্ট রোডের কেরামতিয়া জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়, পুলিশ রাইন্স জামে মসজিদে প্রথম জামাত সাড়ে ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে আটটায়, নুরিয়া স্কুল ঈদগাহ ময়দানে প্রথম জামাত ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং আঞ্জুমানে হেমায়েত ইসলাম (গোরস্থান) ঈদগা ময়দানে সকাল সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে।
বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমবারে মতো এবারে এখানে মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এজন্য কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন প্রধান ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে কাজের অগ্রগতি দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এ সময় সিটি প্রশাসক বলেন, বরিশালের সব থেকে বড় ঈদের জামায়াত হেমায়েতউদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে ৫-৭ হাজার লোকের সমাগম হবে। সরকারি কর্মকর্তাসহ সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নগরীর প্রধান ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। সুষ্ঠুভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে খাবার পানি, টয়লেট ও মেডিক্যাল টিমের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
এ ছাড়া জেলায় হাজারের বেশি মসজিদ ও ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করবেন মুসল্লিরা। সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ ও উজিরপুরের গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদে হবে সকাল আটটায়।
নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদে প্রথম জামাত সকাল আটটায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ১০টায়, জামে এবায়েদুল্লাহ মসজিদে প্রথম জামাত সকাল সাড়ে আটটায় ও দ্বিতীয় জামাত ১০টায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রথম সকাল সাড়ে ৮টায় ও দ্বিতীয় জামাত সাড়ে ৯টায়। মডেল মসজিদে সকাল আটটায়।
পোর্ট রোডের কেরামতিয়া জামে মসজিদে প্রথম জামাত সকাল ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়, পুলিশ রাইন্স জামে মসজিদে প্রথম জামাত সাড়ে ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে আটটায়, নুরিয়া স্কুল ঈদগাহ ময়দানে প্রথম জামাত ৭টায় ও দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় এবং আঞ্জুমানে হেমায়েত ইসলাম (গোরস্থান) ঈদগা ময়দানে সকাল সকাল সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে।

১৯ মার্চ, ২০২৬ ১৩:৩৩
বরিশালের বাবুগঞ্জে আগুনে পুড়ে শিশু রাইসা মনির হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযুক্ত দুজন আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে।
বৃহস্পতিবার ভোরে বাবুগঞ্জ থানায় তারা নিজেদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আত্মসমর্পণকারী হলেন মামলার প্রধান আসামি সিফাত সিকদার (১৩) এবং তার বাবা জালাল সিকদার (৪৫)।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেসামুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা ভোর ৬টার দিকে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার দুপুরে বাড়ির পাশে রাইসার পথরোধ করে সিফাত সিকদার তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা রাইসাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে, পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়।
রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার গত মঙ্গলবার বাবুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর বুধবার এলাকাবাসী বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক আধাঘণ্টা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
এতে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন এবং পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ আত্মসমর্পণকারী আসামিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বরিশালের বাবুগঞ্জে আগুনে পুড়ে শিশু রাইসা মনির হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযুক্ত দুজন আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা সম্পর্কে বাবা ও ছেলে।
বৃহস্পতিবার ভোরে বাবুগঞ্জ থানায় তারা নিজেদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আত্মসমর্পণকারী হলেন মামলার প্রধান আসামি সিফাত সিকদার (১৩) এবং তার বাবা জালাল সিকদার (৪৫)।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেসামুল ইসলাম জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চাপ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা ভোর ৬টার দিকে আত্মসমর্পণ করেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত রোববার দুপুরে বাড়ির পাশে রাইসার পথরোধ করে সিফাত সিকদার তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা রাইসাকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে, পরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত সাড়ে ১১টায় তার মৃত্যু হয়।
রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম হাওলাদার গত মঙ্গলবার বাবুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর বুধবার এলাকাবাসী বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক আধাঘণ্টা অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন।
এতে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ সহ এলাকার বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন এবং পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা করেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় স্তরে গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ আত্মসমর্পণকারী আসামিদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.