
০৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:১৫
বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি আহত হয়েছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম সরোয়ার হিরু দুপুরের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলে বাসার সামনেই ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল উপস্থিত হলে তারা তাকে উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেয়। দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত গোলাম সরোয়ার হিরু বলেন, ‘পাথরঘাটা বাজারে যাওয়ার সময় তিন-চারজন দুর্বৃত্ত এসে আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছি। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসায় চিকিৎসক এনে চিকিৎসা নিচ্ছি।’
এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
এদিকে, পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সজিবসহ একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেন, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং রয়েছে এবং নিজেদের দ্বন্দ্ব আড়াল করতে বিএনপির ওপর দোষ চাপানো হতে পারে।
অন্যদিকে, পাথরঘাটা কে.এম. মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় দলের একাধিক নেতাকর্মী গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
উল্লেখ্য, গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০১৩ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। দল পরিবর্তন ও নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বরাবরই আলোচিত।
বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনি আহত হয়েছেন।সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নিজ বাসার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন পাথরঘাটা থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম সরোয়ার হিরু দুপুরের খাবার খেয়ে বাসা থেকে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলে বাসার সামনেই ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হলে তার শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তাক্ত জখম হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে জামায়াতে ইসলামীর একটি মিছিল উপস্থিত হলে তারা তাকে উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেয়। দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত গোলাম সরোয়ার হিরু বলেন, ‘পাথরঘাটা বাজারে যাওয়ার সময় তিন-চারজন দুর্বৃত্ত এসে আমাকে লোহার পাইপ দিয়ে মারধর করে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পেয়েছি। নিরাপত্তার স্বার্থে বাসায় চিকিৎসক এনে চিকিৎসা নিচ্ছি।’
এসআই মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
এদিকে, পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সজিবসহ একাধিক নেতাকর্মী দাবি করেন, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং রয়েছে এবং নিজেদের দ্বন্দ্ব আড়াল করতে বিএনপির ওপর দোষ চাপানো হতে পারে।
অন্যদিকে, পাথরঘাটা কে.এম. মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় দলের একাধিক নেতাকর্মী গোলাম সরোয়ার হিরুর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান।
উল্লেখ্য, গোলাম সরোয়ার হিরু বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি ১৯৯৬ সালে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০১৩ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি করেন। দল পরিবর্তন ও নানা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বরাবরই আলোচিত।

০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:২৭
আমতলীতে বাসচাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের খানকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কসংলগ্ন আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে অবস্থিত খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্স। সড়কে চলাচল করা গাড়ি থেকে চাঁদা/সহায়তা নিয়ে খানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়া চলে। খানকার খাদেমরা ওই সহায়তার টাকা সড়ক থেকে তুলে নেন। আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা সড়কে ফেলে রাখা সহায়তার টাকা তুলছিলেন। এ সময় একটি বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন খাদেম।
খবর পেয়ে আমতলী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন স্বর্ণা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন নুরুল হক মৃধা।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহত নুরুল হক মৃধার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামে। নিহতের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০৭
বরগুনার পাথরঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়েছে, আর বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে সদর ইউনিয়ন থেকে একাধিক রোগী কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসে, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পদ্মা, রুহিতা ও হাড়িটানা এলাকায় একটি সাদা-কালো বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে ঘুরে মানুষের ওপর আক্রমণ করে।
পদ্মা এলাকার বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার জানান, তাঁদের পরিবারের তিনজনকে কামড় দিয়ে কুকুরটি হাড়িটানার দিকে চলে যায়। অন্যদিকে, হাড়িটানা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাহিন বলেন, তাঁর চাচা আবুল কালামের ওপরও একই কুকুরটি হামলা চালায় এবং তাঁর গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস জানান, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কুকুর নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগসহ মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

০৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৪৫
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি এখন ঝুঁকি ও দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে অন্তত ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলেও ১৮ ফুট প্রশস্ত সরু রাস্তার কারণে পরিবহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই সড়কটি বরগুনা, মির্জাগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন অন্তত ৩০০ যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য পণ্যবাহী যান এখানে চলাচল করে।
পায়রা সেতুতে ওজন সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় ৩০ টনের বেশি ভারী ট্রাকগুলো বিকল্প হিসেবে এই সরু সড়কটি ব্যবহার করছে। এতে সড়কের ব্রিজ ও কালভার্টগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৮টি স্থানে ওজন মাপার স্কেল থাকলেও বরগুনায় কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। চালক সাইফুল ইসলাম জানান, বরগুনা থেকে বরিশাল যেতে ৫১টি বিপজ্জনক বাঁক পার হতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল দ্রুত ওজন স্কেল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই বরগুনা উন্নয়নে পিছিয়ে। একটি প্রশস্ত ও নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সমীক্ষা চলছে।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনে গতি আনতে এই মহাসড়কের আধুনিকায়ন এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
আমতলীতে বাসচাপায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা। আজ সোমবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে আমতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের খানকার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কসংলগ্ন আমড়াগাছিয়া নামক স্থানে অবস্থিত খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্স। সড়কে চলাচল করা গাড়ি থেকে চাঁদা/সহায়তা নিয়ে খানকার শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, থাকা-খাওয়া চলে। খানকার খাদেমরা ওই সহায়তার টাকা সড়ক থেকে তুলে নেন। আজ সকালে ফজরের নামাজ পড়ে খাদেম মো. নুরুল হক মৃধা সড়কে ফেলে রাখা সহায়তার টাকা তুলছিলেন। এ সময় একটি বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন খাদেম।
খবর পেয়ে আমতলী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক সাবিনা ইয়াসমিন স্বর্ণা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন নুরুল হক মৃধা।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নিহত নুরুল হক মৃধার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামে। নিহতের পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বরগুনার পাথরঘাটায় বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়েছে, আর বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়ে বাড়িতে চলে গেছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাখাল বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে সদর ইউনিয়ন থেকে একাধিক রোগী কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসে, যার মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের পদ্মা, রুহিতা ও হাড়িটানা এলাকায় একটি সাদা-কালো বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে ঘুরে মানুষের ওপর আক্রমণ করে।
পদ্মা এলাকার বাসিন্দা হিরু জমাদ্দার জানান, তাঁদের পরিবারের তিনজনকে কামড় দিয়ে কুকুরটি হাড়িটানার দিকে চলে যায়। অন্যদিকে, হাড়িটানা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সাহিন বলেন, তাঁর চাচা আবুল কালামের ওপরও একই কুকুরটি হামলা চালায় এবং তাঁর গালের মাংস ছিঁড়ে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় ভুক্তভোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে ভ্যাকসিন কিনছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ দাস জানান, বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কুকুর নিধন দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই কুকুর নিয়ন্ত্রণে ভ্যাকসিন প্রয়োগসহ মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্যাকসিনের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরগুনা-বাকেরগঞ্জ-বরিশাল আঞ্চলিক মহাসড়কটি এখন ঝুঁকি ও দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে অন্তত ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত হলেও ১৮ ফুট প্রশস্ত সরু রাস্তার কারণে পরিবহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে।
কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া এই সড়কটি বরগুনা, মির্জাগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। প্রতিদিন অন্তত ৩০০ যাত্রীবাহী বাসসহ অসংখ্য পণ্যবাহী যান এখানে চলাচল করে।
পায়রা সেতুতে ওজন সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় ৩০ টনের বেশি ভারী ট্রাকগুলো বিকল্প হিসেবে এই সরু সড়কটি ব্যবহার করছে। এতে সড়কের ব্রিজ ও কালভার্টগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২৮টি স্থানে ওজন মাপার স্কেল থাকলেও বরগুনায় কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। চালক সাইফুল ইসলাম জানান, বরগুনা থেকে বরিশাল যেতে ৫১টি বিপজ্জনক বাঁক পার হতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল দ্রুত ওজন স্কেল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহেল হাফিজ বলেন, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেই বরগুনা উন্নয়নে পিছিয়ে। একটি প্রশস্ত ও নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের দাবি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে সমীক্ষা চলছে।
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও পর্যটনে গতি আনতে এই মহাসড়কের আধুনিকায়ন এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।