Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.
Google AdSense
This is a demo ad. Your live ads will be displayed here once AdSense is properly configured.

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১৫
বরিশাল নগরীতে প্রেমিক যুবকের বাসায় সাজনিদা কবির আনিকা নামের যুবতী খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম শহরের বগুড়া রোডের রাফি মঞ্জিল নামক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এর আগেই প্রেমিক যুবক মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) পালিয়ে গেছেন। শহরের অভ্যন্তরে আবাসিক ফ্ল্যাটে এই খুনের ঘটনা আশ-পাশের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করেছে। বিশেষ করে রাফি মঞ্জিল নামক ৬ তলা ভবনের অপর ফ্ল্যাটগুলোর বাসিন্দা বেশিমাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
পুলিশ এবং বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পেগাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য মহসিন কবিরের মেয়ে সাজনিদা কবির আনিকার সাথে ঝালকাঠির কাটপট্টির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম হিমুর হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল। সানজিদা নামক মেয়েটি মাঝে মঝ্যেই হিমুর বরিশালের বগুড়া রোডের ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। রাফি মঞ্জিলের ৬ তলার এই ফ্ল্যাটটিতে হিমুর বৃদ্ধ মাও বসবাস করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে মেয়েটি হিমুর বাসায় আসেন। বিকেল ৩টার দিকে খবর থানায় খবর যায় হিমু তার প্রেমিকাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। এই খুনের ঘটনার পর প্রেমিক পুরুষ হিমুর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারনা করছে, নিজেদের মধ্যেকার সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে যুবতীকে হত্যা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার একটি সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত মইনুলকে আটক বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার আগে বিস্তার কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল-মামুন উল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, প্রাণবিয়োগান্তের ঘানাটিতে প্রাথমিকভাবে খুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। এবং এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তরুণীর প্রেমিক মইনুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান ইতিমধ্যে শুরু করেছে।’
বরিশাল নগরীতে প্রেমিক যুবকের বাসায় সাজনিদা কবির আনিকা নামের যুবতী খুন হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম শহরের বগুড়া রোডের রাফি মঞ্জিল নামক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে লাশটি উদ্ধার করে। এর আগেই প্রেমিক যুবক মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) পালিয়ে গেছেন। শহরের অভ্যন্তরে আবাসিক ফ্ল্যাটে এই খুনের ঘটনা আশ-পাশের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করেছে। বিশেষ করে রাফি মঞ্জিল নামক ৬ তলা ভবনের অপর ফ্ল্যাটগুলোর বাসিন্দা বেশিমাত্রায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
পুলিশ এবং বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পেগাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক সেনা সদস্য মহসিন কবিরের মেয়ে সাজনিদা কবির আনিকার সাথে ঝালকাঠির কাটপট্টির মিল্টন আকনের ছেলে মইনুল ইসলাম হিমুর হৃদয়ঘটিত সম্পর্ক ছিল। সানজিদা নামক মেয়েটি মাঝে মঝ্যেই হিমুর বরিশালের বগুড়া রোডের ওই বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। রাফি মঞ্জিলের ৬ তলার এই ফ্ল্যাটটিতে হিমুর বৃদ্ধ মাও বসবাস করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে মেয়েটি হিমুর বাসায় আসেন। বিকেল ৩টার দিকে খবর থানায় খবর যায় হিমু তার প্রেমিকাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে। এই খুনের ঘটনার পর প্রেমিক পুরুষ হিমুর মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারনা করছে, নিজেদের মধ্যেকার সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে যুবতীকে হত্যা করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করার একটি সন্দেহ করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযুক্ত মইনুলকে আটক বা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ার আগে বিস্তার কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল-মামুন উল ইসলাম বরিশালটাইমসকে জানান, প্রাণবিয়োগান্তের ঘানাটিতে প্রাথমিকভাবে খুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তরুণীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। এবং এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তরুণীর প্রেমিক মইনুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান ইতিমধ্যে শুরু করেছে।’

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:৪৬

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:০৮
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের৯ নম্বর ওয়ার্ডের মলুহার গ্রামের তালুকদার হুলায় কবিরের বাড়ির সামনে একটি মাদ্রাসার নিচতলায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারের ডিলার মোঃ আমান নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখানে একটি দোকান স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে আসছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মোবাইল কোর্ট (
ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করেন বানারীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। এ সময় অভিযুক্ত ডিলার মোঃ আমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জিএমএ মুনীব জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে অবৈধ মজুদ বন্ধে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৪২
বহু অঘটন পটিয়াসী বরিশালের ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের পরিচালক জহিরুল ইসলামের এবার অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মালিকাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের নামের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চৌর্যবৃত্তির এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য উপাত্ত্ব মিডিয়ায় তুলে ধরেছে। এর কিছুদিন আগে জহিরুল ইসলামের অতীতের বেশকিছু নোংরা কাহিনী মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আয়েশা আক্তার নামের এক বিবাহিত তরুণীর সাথে হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করলে ওই নারীর স্বামী ঝালকাঠিতে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় জহির এবং তার নবাগত স্ত্রী আয়েশাকে অভিযুক্ত করে সাবেক স্বামী।
ঝালকাঠির সেই মামলার খবর পত্রিকায় প্রকাশ হলে জহির বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এবং অনলাইন নিউজপোর্টাল বরিশালটাইমসের প্রকাশক হাসিবুল ইসলামসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর অন্তত ১৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আলোচিত ওই মামলায় জহির তার বড় স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকেও অভিযুক্ত করেছেন। সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার ডিডাব্লিউএফ প্রতিষ্ঠানপ্রধান জহিরুলের অর্থ কেলেংকারির বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লিনিক প্রাক্টিসের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো রসিদ ছাড়াই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দাবি করে এই টাকা শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।
অন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, পরিচালক জহিরুল ইসলামের অধীনে থাকা আনোয়ারা, রাজধানী ও পটুয়াখালীর জহির-মেহেরুন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী অন্তু বিশ্বাস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমরা যখন প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি, তখন থিওরিক্যাল আলাপের পর আমাদের ক্লিনিক প্রাক্টিসে বের হতে হয়। তখন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেমো দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের ব্যাচ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়, এটা শুধু আমাদের কলেজ না বাকি কলেজের থেকেও নিয়েছে।
আরেক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, আমাদের সবার কাছ থেকে ক্লিনিক প্রাক্টিস বাবদ ১২ হাজার টাকা নেয়। প্রথমে আন্দোলন করার পর বলছে ফেরত দিবে। আমরা যখন টাকা আনতে গেছি তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা শেবাচিমে দিয়েছি।
বৃহস্পতিবার সকালে সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করে অর্থ ফেরত চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। তখন কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরতদের অবহিত করে, এই টাকা পুরোটা প্রশিক্ষণ বাবদ শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালককে দেওয়া হয়। এরপরে শিক্ষার্থীরা শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন। তখন পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং জানান, তিনি ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে শেবাচিমের দায়িত্বগ্রহণ করেছেন। সুতরাং তদন্ত না করে পূর্বের বিষয়টি নিয়ে কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে ডিডাব্লিউএফ যে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত তা শিক্ষার্থীদের সাথে স্বল্প সময়ের আলোচনায় অনুমান করেন পরিচালক। এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে পূর্বের করা সকল চুক্তি বাতিল করার আশ্বাসও রাখেন।
প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তাকে একাধিকবার হোটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায় জহিরুল ইসলাম কত মস্তবড় টাউট বা প্রতারক।
বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা জহিরুল এক সময় হেলথ কেয়ারের ওষুধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ক্রোড়পতি বনে যান। এবং বরিশাল-বরগুনা-পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক নার্সিং কলেজ গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক আইন অমান্য করে একটি ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করে আসছেন।
জহিরের এই অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ বাসন্তী রাণী সাংবাদিকদের বলছেন, পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এবং পরক্ষণে তারা দলবেধে শেবাচিম পরিচালকের কাছে গেছে। সেখান থেকে ফেরার পরেও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই বিষয়টি মীমাংসা হবে।
বরিশালের বেসরকারি নার্সিং কলেজের এই অনিয়ম-দুর্নীতির জানতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরিশালের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।’
বহু অঘটন পটিয়াসী বরিশালের ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের পরিচালক জহিরুল ইসলামের এবার অর্থ আত্মসাতের একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। তার মালিকাধীন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণের নামের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানের চৌর্যবৃত্তির এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল শহরের সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানটিতে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য উপাত্ত্ব মিডিয়ায় তুলে ধরেছে। এর কিছুদিন আগে জহিরুল ইসলামের অতীতের বেশকিছু নোংরা কাহিনী মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আয়েশা আক্তার নামের এক বিবাহিত তরুণীর সাথে হৃদয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করলে ওই নারীর স্বামী ঝালকাঠিতে একটি মামলা করেন। সেই মামলায় জহির এবং তার নবাগত স্ত্রী আয়েশাকে অভিযুক্ত করে সাবেক স্বামী।
ঝালকাঠির সেই মামলার খবর পত্রিকায় প্রকাশ হলে জহির বরিশাল প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন এবং অনলাইন নিউজপোর্টাল বরিশালটাইমসের প্রকাশক হাসিবুল ইসলামসহ বরিশাল-পটুয়াখালীর অন্তত ১৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আলোচিত ওই মামলায় জহির তার বড় স্ত্রী মেহেরুন্নেছাকেও অভিযুক্ত করেছেন। সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই এবার ডিডাব্লিউএফ প্রতিষ্ঠানপ্রধান জহিরুলের অর্থ কেলেংকারির বিষয়টি বেশ আলোচনায় আসল।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লিনিক প্রাক্টিসের জন্য তাদের কাছ থেকে কোনো রসিদ ছাড়াই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা দাবি করে এই টাকা শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়।
অন্দোলনরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, পরিচালক জহিরুল ইসলামের অধীনে থাকা আনোয়ারা, রাজধানী ও পটুয়াখালীর জহির-মেহেরুন নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী অন্তু বিশ্বাস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আমরা যখন প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করি, তখন থিওরিক্যাল আলাপের পর আমাদের ক্লিনিক প্রাক্টিসে বের হতে হয়। তখন শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ডেমো দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের ব্যাচ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়, এটা শুধু আমাদের কলেজ না বাকি কলেজের থেকেও নিয়েছে।
আরেক আন্দোলনরত শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, আমাদের সবার কাছ থেকে ক্লিনিক প্রাক্টিস বাবদ ১২ হাজার টাকা নেয়। প্রথমে আন্দোলন করার পর বলছে ফেরত দিবে। আমরা যখন টাকা আনতে গেছি তখন কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, এটা শেবাচিমে দিয়েছি।
বৃহস্পতিবার সকালে সিঅ্যান্ডবি রোডস্থ প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করে অর্থ ফেরত চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। তখন কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরতদের অবহিত করে, এই টাকা পুরোটা প্রশিক্ষণ বাবদ শেবাচিম হাসপাতাল পরিচালককে দেওয়া হয়। এরপরে শিক্ষার্থীরা শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা করেন। তখন পরিচালক ব্রি. জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনির সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এবং জানান, তিনি ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে শেবাচিমের দায়িত্বগ্রহণ করেছেন। সুতরাং তদন্ত না করে পূর্বের বিষয়টি নিয়ে কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।
তবে ডিডাব্লিউএফ যে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জর্জরিত তা শিক্ষার্থীদের সাথে স্বল্প সময়ের আলোচনায় অনুমান করেন পরিচালক। এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সাথে পূর্বের করা সকল চুক্তি বাতিল করার আশ্বাসও রাখেন।
প্রশিক্ষণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি তাকে একাধিকবার হোটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি। ফলে কিছুটা হলেও অনুমান করা যায় জহিরুল ইসলাম কত মস্তবড় টাউট বা প্রতারক।
বরগুনার আমতলীর বাসিন্দা জহিরুল এক সময় হেলথ কেয়ারের ওষুধ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ক্রোড়পতি বনে যান। এবং বরিশাল-বরগুনা-পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক নার্সিং কলেজ গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক আইন অমান্য করে একটি ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠানও পরিচালনা করে আসছেন।
জহিরের এই অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজ অধ্যক্ষ বাসন্তী রাণী সাংবাদিকদের বলছেন, পুরো টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ইতিপূর্বে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। এবং পরক্ষণে তারা দলবেধে শেবাচিম পরিচালকের কাছে গেছে। সেখান থেকে ফেরার পরেও শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, শিগগিরই বিষয়টি মীমাংসা হবে।
বরিশালের বেসরকারি নার্সিং কলেজের এই অনিয়ম-দুর্নীতির জানতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরিশালের পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও অপরপ্রান্ত থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।’
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নে অবৈধভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের৯ নম্বর ওয়ার্ডের মলুহার গ্রামের তালুকদার হুলায় কবিরের বাড়ির সামনে একটি মাদ্রাসার নিচতলায় এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারের ডিলার মোঃ আমান নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখানে একটি দোকান স্থাপন করে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে আসছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মোবাইল কোর্ট (
ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনা করেন বানারীপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জি. এম. এ. মুনীব। এ সময় অভিযুক্ত ডিলার মোঃ আমানকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জিএমএ মুনীব জানান, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে অবৈধ মজুদ বন্ধে নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
বরিশালের গৌরনদীতে কোনো এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা দিয়ে আসার বিষয়টি নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন মোঃ ইব্রাহিম খলিল (৬০) নামে এক কথিত ডাক্তার।
রোগী দেখার সময় তিনি ফোনে এক চিকিৎসক ‘স্যার’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন, যা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভুরঘাটা বাজার সংলগ্ন একটি ফার্মেসিতে সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন তিনি। বাকি সময় নিজ বাসা ইল্লায় বসেই রোগীদের চিকিৎসা দেন। চোখের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা তার কাছে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে দেখা গেছে, ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশন প্যাডের ওপরের অংশে ডান পাশে ইব্রাহিম খলিলের নাম এবং বাম পাশে এফ আর হাবীবের নাম উল্লেখ রয়েছে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রমের ধরন ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর প্যাডে থাকা এফ আর হাবীবের নাম ও নম্বর মার্কার দিয়ে মুছে ফেলেন ইব্রাহিম খলিল।
এ ছাড়া জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিলের ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও বাসায় চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেবার বাইরে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। অথচ তিনি নিয়মিত রোগী দেখে ওষুধ প্রদান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বললে ইব্রাহিম খলিল বলেন, 'আমি এমবিবিএস ডাক্তার না। বাংলাদেশ স্টেট মেডিকেল থেকে প্যারামেডিকেল কোর্স করেছি। রোগী এলে মাঝে মাঝে আমার ‘স্যার’-কে ফোন করি, তিনি যেভাবে চিকিৎসা দিতে বলেন, আমি সেই অনুযায়ী ওষুধ দেই।' তিনি জানান, তার ওই স্যারের নাম এফ আর হাবীব, যিনি ঢাকার একটি আই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এফ আর হাবীব বলেন,'তিনি মাঝে মাঝে ফোন করেন। তখন কিছু পরামর্শ দিই, তবে সব সময় নয়।'এই দুই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরাসরি রোগী না দেখে ফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয় বলে মনে করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে এমন পদ্ধতি রোগীর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রচলিত চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী বলেও মত দিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, 'অনেকেই তাকে চিকিৎসক মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি চিকিৎসক নন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের চিকিৎসায় সামান্য ভুলও স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া ফোনের মাধ্যমে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি রোগীকে অন্ধত্ববরণও করা লাগতে পারে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি চিকিৎসা দিলে তা আইনত দণ্ডনীয়।
এ বিষয়ে বরিশালের সিভিল সার্জন এস এম মনজুর-এ-এলাহী বলেন, 'এমবিবিএস ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমেও পল্লী চিকিৎসকের এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার অধিকার নেই।
বরিশালের গৌরনদীতে কোনো এমবিবিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে চোখের চিকিৎসা দিয়ে আসার বিষয়টি নিজেই অকপটে স্বীকার করেছেন মোঃ ইব্রাহিম খলিল (৬০) নামে এক কথিত ডাক্তার।
রোগী দেখার সময় তিনি ফোনে এক চিকিৎসক ‘স্যার’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন, যা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভুরঘাটা বাজার সংলগ্ন একটি ফার্মেসিতে সপ্তাহে তিন দিন রোগী দেখেন তিনি। বাকি সময় নিজ বাসা ইল্লায় বসেই রোগীদের চিকিৎসা দেন। চোখের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা তার কাছে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীদের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিবেদকের হাতে আসা একাধিক প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
একই সঙ্গে দেখা গেছে, ব্যবহৃত প্রেসক্রিপশন প্যাডের ওপরের অংশে ডান পাশে ইব্রাহিম খলিলের নাম এবং বাম পাশে এফ আর হাবীবের নাম উল্লেখ রয়েছে। এতে চিকিৎসা কার্যক্রমের ধরন ও দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর প্যাডে থাকা এফ আর হাবীবের নাম ও নম্বর মার্কার দিয়ে মুছে ফেলেন ইব্রাহিম খলিল।
এ ছাড়া জানা গেছে, ইব্রাহিম খলিলের ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও বাসায় চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক সেবার বাইরে যাওয়ার কোনো অনুমতি নেই। অথচ তিনি নিয়মিত রোগী দেখে ওষুধ প্রদান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বললে ইব্রাহিম খলিল বলেন, 'আমি এমবিবিএস ডাক্তার না। বাংলাদেশ স্টেট মেডিকেল থেকে প্যারামেডিকেল কোর্স করেছি। রোগী এলে মাঝে মাঝে আমার ‘স্যার’-কে ফোন করি, তিনি যেভাবে চিকিৎসা দিতে বলেন, আমি সেই অনুযায়ী ওষুধ দেই।' তিনি জানান, তার ওই স্যারের নাম এফ আর হাবীব, যিনি ঢাকার একটি আই হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এফ আর হাবীব বলেন,'তিনি মাঝে মাঝে ফোন করেন। তখন কিছু পরামর্শ দিই, তবে সব সময় নয়।'এই দুই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরাসরি রোগী না দেখে ফোনে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নয় বলে মনে করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে এমন পদ্ধতি রোগীর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রচলিত চিকিৎসা নীতিমালার পরিপন্থী বলেও মত দিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, 'অনেকেই তাকে চিকিৎসক মনে করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিন্তু তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি চিকিৎসক নন এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চোখের মতো সংবেদনশীল অঙ্গের চিকিৎসায় সামান্য ভুলও স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। সরাসরি পরীক্ষা ছাড়া ফোনের মাধ্যমে পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি রোগীকে অন্ধত্ববরণও করা লাগতে পারে।
এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ ফকরুল ইসলাম মৃধা বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি চিকিৎসা দিলে তা আইনত দণ্ডনীয়।
এ বিষয়ে বরিশালের সিভিল সার্জন এস এম মনজুর-এ-এলাহী বলেন, 'এমবিবিএস ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অডিও বা ভিডিও কলের মাধ্যমেও পল্লী চিকিৎসকের এ ধরনের ওষুধ দেওয়ার অধিকার নেই।